April 19, 2026
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদন নাকচ করে তাদেরকে জেলেগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদুল হকের আদালতে তাদের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন তাদেরকে আদালতে হাজির করে রিজভীকে তিনটি মামলায় ২৭ দিন ও দুদুর ছয় মামলায় ৬০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি চায় পুলিশ। একইসঙ্গে আসামিরপক্ষের আইনজীবীরা তাদের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিনের উভয় আবেদন নাকচ করে জেলেগেটে জিজ্ঞাসাবাদের ওই আদেশ দেন।
বিগত হরতাল-অবরোধের সময় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা ও নাশকতার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল।
জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ: একটা সময় ছিল, যখন কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষকরা শুধুমাত্র বোরো ফসল ছাড়া আর অন্য কোনো কিছুই আবাদ করতেন না। সারা বছরে এই একটি মাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভর করতে হতো হাওরের মানুষদের। অথচ সেই দিন আজ বদলেছে। হাওরের কৃষকরা, এক ফসলি ধানের পরও জমিতে আবাদ করছেন দেশি মরিচ। কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে শুধুই মরিচের আবাদ চোঁখে পড়বে। এখানকার শতাধিক পরিবার মরিচ চাষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। এখানকার মাটি মরিচ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই মরিচ চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কলমা ইউনিয়নের কাকুরিয়া, হালালপুর, সাপান্ত, বাজুরীসহ বিভিন্ন গ্রামে এবার মরিচ চাষ করেছেন কৃষকরা।
মরিচ চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবহাওয়া ভালো থাকায় ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে তা রোদে শুকিয়ে বস্তাবন্দি করে রাখছেন। কিছু মরিচ পারিবারিক কাজে রেখে বাকি মরিচ ভালো দামে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। এতে মরিচ চাষী পরিবারগুলো স্বচ্ছলতার মুখ দেখছে।
pic;-2কথা হয় হালপুর গ্রামের মরিচ চাষি সুজন সরকারের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গার মধ্যে দেশি মরিচের চাষ করে দশ মণ শুকানো লাল মরিচ হয়েছে। এই মরিচ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করি প্রায় ৬০ হাজার টাকা। সেই অনুপাতে লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার উপরে।
সুজন বলেন, ‘কম পরিশ্রম এবং অল্প পুঁজি লাগে মরিচ চাষে। আগামীতে আরও বেশি জায়গা নিয়ে মরিচ চাষের কথা বলেন তিনি।’
একই অবস্থা সান্ত গ্রামের কৃষক আজিজুল হকের। এবার ৫০ শতাংশ জায়গায় মরিচ চাষ করেছেন তিনি। এখনও ক্ষেত থেকে সম্পূর্ণ মরিচ তুলে রোদে শুকানো হয়নি তার।
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকলে ক্ষেতের সব মরিচ উঠানো সম্ভব হবে। মরিচের বাজার দর আগের চেয়ে এবছর ভালো। তাই লাভের আশার কথা বলছেন তিনি।
এ গ্রামের আরেক মরিচ চাষী নবীন সরকার জানান, আমি এ বছরই প্রথমবার দুই একর জমিতে দেশি মরিচ চাষ করেছি। আশা করছি ৯০ মণ শুকানো মরিচ তুলতে পারব। যার দাম হবে ৫ লাখ টাকার মতো।
তিনি বলেন, ‘ধানের থেকেও মরিচ চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়।’
জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাড়াও হাওরের ইটনা, মিঠামইন, নিকলী ও তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেশি মরিচের চাষ হয়ে থাকে। এখানকার উৎপাদিত মরিচের সুখ্যাতি রয়েছে। রান্নার কাজে অন্যান্য শুকানো মরিচের তুলনায় মরিচ লাগে কম এবং তরকারি স্বাদও ভাল লাগে। এ মরিচের গুণাগুণের কারণে দেড় ইঞ্চি থেকে দুই ইঞ্চি লম্বা লাল টুকটুকে মরিচের কদর গৃহিণীদের কাছে অনেক বেশি।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অমিতাভ দাস জানান, কিশোরগঞ্জের হাওরে প্রচুর মরিচ চাষ হয়েছে। আগামীতেও মরিচ চাষ যেন অব্যাহত থাকে, সেজন্য স্থানীয় উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে মরিচ চাষিদের যথাযথ সহায়তার কথা বলেন তিনি।
ফিচার ডেস্ক : পৃথিবীতে কিছু অঞ্চলে আজও নারীর মন জয় করার জন্য লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়। বেশিদিন আগের কথা নয়, ২০১৪ সালেও স্পেনে এক নারীর মন জয় করার জন্য ১৭জন পুরুষ বেদম লড়াই বাধিয়ে দিয়েছিল। শুধু স্পেন নয়, আফ্রিকার অনেক দেশে এখনও বেশ উৎসাহের সঙ্গে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ফরাসি আলোকচিত্রী ক্রিস্টোফার কেস্টারিকার হেকিয়েন্দা লজ থেকে দুই ষাড়ের লড়াইরত অবস্থার কিছু ছবি তোলেন। ছবিগুলো দেখতে নান্দনিক হলেও, লড়াইয়ের মূল কারণ ছিল মূলত এক গাভী। এই দুই ষাড়ের মধ্যে কে ওই গাভীর সঙ্গে মিলিত হবে এই নিয়ে লড়াই বেধে গিয়েছিল। আর ক্রিস্টোফার নিরাপদ দূরত্ব থেকে পুরো লড়াইটি ক্যামেরাবন্দী করেন এবং তার কল্যাণে আজ আমরা এই অভূতপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করতে পারছি।
গত বছরের এপ্রিল মাসে ক্রিস্টোফার এই ছবিগুলো তুলেছিলেন। পরবর্তীতে কার্টারস নিউজ এজেন্সির মারফত গোটা বিশ্বে ছবিগুলো ছড়িয়ে যায়। ক্রিস্টোফারের তোলা ছবিতে যে দুটি ষাড়কে লড়াইরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, নিঃসন্দেহে তাদের দেখে মনে হচ্ছে যেন আস্ত দুটো পাহাড় একে অপরের সঙ্গে তুমুল লড়াই করছে।
লড়াই সম্পর্কে বলতে গিয়ে আলোকচিত্রী বলেন, ‘আমরা উদ্যানে ঘুরছিলাম কিছু পাখির ছবি তোলার জন্য। তখন সময় প্রায় বিকেলের শেষ ধাপ। আমরা যখন ষাড়দের দেখি তখন তারা লড়াই করছিল। তারা একে অপরকে ভয়ানকভাবে আক্রমন করছিল। আমাদের হিসেব অনুযায়ী প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে চলছিল ওই লড়াই। আমি মাত্র ২০ মিটার দূর থেকে পুরো লড়াইটা দেখি, কারণ আপনি নিশ্চিত জানেন না যে আপনি কাছে গেলে তারা কি আচরণ করে। আপনার উপস্থিতি পুরো দৃশ্যটিকে নষ্টও করে দিতে পারে।’
টানা পাঁচ মিনিটের লড়াই শেষে অবশ্য দুই ষাড়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ষাড়টিই জিতে যায়। জিতে যাওয়া পরবর্তী সময়ে বিজয়ী ষাড়টি গাভীটির মনোরঞ্জনে কি করেছিল তা দেখার আর সৌভাগ্য হয়নি ক্রিস্টোফারের। তবে প্রকৃতির মাঝে যে অভিযোজিত হওয়ার সবগুলো কার্যকারণ পর্যাপ্ত আকারে মজুদ আছে, তা এই দুই ষাড়কে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
জেলা প্রতিনিধি; বগুড়া: বাংলা নতুন বছরের শুরু থেকেই দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে বগুড়া অঞ্চলের বোরো চাষীদের দ্রুত ধান কাটার জন্য আগাম সতর্কতা জারি করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পাকা ধানের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে কৃষকদের সাবধান করতেই এ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় চলতি বোরো মওসুমে চার লাখ ৫৯ হাজার ৬০৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ১১ হাজার ৭৫১ টন। বৃষ্টির পানি ও সেচের মাধ্যমে জমিতে প্রয়োজন মত পানি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করায় বোরোর ফলনও ভালো হয়েছে। পাকা ধানে ভরে উঠছে মাঠের পর মাঠ। কিন্তু কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গল ও বুধবার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসেব পাওয়া না গেলেও চার জেলার লক্ষাধিক হেক্টর জমির ধান কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের মনোবল শক্ত রেখে দ্রুত পাকা ধান কেটে নিতে প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে মাইকিং করে বোরো চাষীদের সতর্ক করা হচ্ছে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বোরো চাষীরা জানান, অধিকাংশ জমির ৮০/৯০ শতাংশ ধান পেকেছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা ধান কাটার উদ্যোগ নিয়েছে। ঝড় বা শিলাবৃষ্টি অথবা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে যাবে। সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতেই কৃষি বিভাগ আগাম সতর্কতামূলক পরামর্শ দিচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এস এম আবুল হোসেন বাংলামেইলকে জানান, কয়েক দফা কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। চলতি মওসুমে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির প্রভাব থাকায় চাষীদের সম্ভাব্য ক্ষতির কথা চিন্তা করে কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে। যাদের জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকেছে তাদের ধান কেটে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘গতর আর পুঁজি খাটাইয়া শস্য ফলাই আমরা, আর লাভ খায় ব্যাপারীরা।’ অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই কথাগুলো বলছিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মরিচচাষি শাহজাহান মিয়া।

তিনি জানান, রোববার ঘিওরের বরঙ্গাইল হাটে তিনি ১০০ কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৬০০ টাকা। মরিচ তুলতে তার খরচ হয়েছে ৪০০ টাকা। প্রতি কেজিতে ভ্যানভাড়া এক টাকা হিসেবে পরিবহন খরচ হয়েছে ১০০ টাকা। সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিশ্রমিক, সেচ ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে ওই পরিমাণ মরিচে তার খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। তাতে মরিচ বিক্রি করে তার লোকসান হয়েছে ৯০০ টাকা।
শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে ৬-৭ টাকা দরে মরিচ কিনে ব্যাপারীরা বিক্রি করছে ১৫-১৬ টাকা দরে। আর খুচরা বাজারে সেই মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে।’
একই উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের মরিচচাষি আ. রউফ দেওয়ান জানান, বর্তমান সময়ে মরিচের দাম কম থাকায় কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারের এই অবস্থার কারণে অনেক কৃষক খেত থেকে মরিচই তুলছেন না। এতে অনেক কৃষকের মরিচ খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আলিমুজ্জামান মিয়া জানান, এ বছর জেলায় ৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে গড় উৎপাদন ধরা হয়েছে ১০ টন। এ বছর উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন না। তা ছাড়া মধ্যবর্তী দালালরা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে মরিচ কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে।
স্বস্থ্য ডেস্ক: গ্রীষ্মকালের গরম সবাই যতোই অপছন্দ করুক না কেন, এই মৌসুমের ফলমূলকে অপছন্দ করার ক্ষমতা কারো নেই। আম, কাঁঠালের মৌসুম এই গ্রীষ্মকে তাই একেবারে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার কিছুই নেই। গ্রীষ্মে সকলের সব চাইতে প্রিয় এবং সহজলভ্য ফল হচ্ছে আম। এখনই বাজারে উঠা শুরু করেছে কাঁচা আম। আমাদের অতি প্রিয় এই ফল আম, কাঁচা বা পাকা যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন তা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের গুণ আরও অনেক বেশি। আসুন তবে জেনে নেয়া যাক কাঁচা আমের কিছু স্বাস্থ্যউপকারিতা সম্বন্ধে।
চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কাঁচা আম
কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ যা আমাদের চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করে। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে কাঁচা আম আমাদের চোখের নানা সমস্যা এবং ভিটামিন এ এর অভাব জনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করে।
হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায় কাঁচা আম
কাঁচা আম আমাদের শরীরের রক্তের সুগারের মাত্রা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এটি খারাপ কলেস্টোরলের বিরুদ্ধে কাজ করে কার্ডিওভ্যস্কুল্যার সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করে। এছাড়া কাঁচা আমের বিটা ক্যারোটিন হৃদপিণ্ডের যে কোন সমস্যা থেকে আমাদের দূরে রাখে।
অ্যাসিডিটি সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে
অনেকের খাওয়ার সময়ের হেরফের হলে, ভাজাপোড়া জাতীয় কিছু খেলে পরে অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা আম এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। অ্যাসিডিটি শুরু হলে খানিকটা কাঁচা আম খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
কাঁচা আমে নানা ভিটামিন এবং পটাশিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে ফাইবার। ফাইবার সমৃদ্ধ এই কাঁচা আম কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
দাঁতের সুরক্ষায় কাঁচা আম
কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। ভিটামিন সি আমাদের দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। কাঁচা আম খেলে এর ভিটামিন সি আমাদের দাঁত এবং মাড়ির সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করতে সাহায্য করে।
রক্ত সল্পতা দূর করে
কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। আয়রনের অভাবে আমরা অনেকেই রক্ত স্বল্পতা রোগে ভুগে থাকি। কাঁচা আমের আয়রন আমাদের দেহের আয়রনের অভাব পুরনে কাজ করে। ফলে রক্ত স্বল্পতা দূর হয়।
ওমর ফারুক : সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশে ব্যাপকভাবে গরু পালনের মাধ্যমে দুধ, ঘি, ছানা, মাখন ও গো-মাংসসহ সব চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণি উৎপাদন বিভাগের সহকারি পরিচালক আজিজুর রহমান। দেশের সাধারণ
মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে দেশীয় চাহিদা মেটাতে ঘরে-ঘরে গো-খামার প্রতিষ্ঠা করতে সরকারি উদ্যোগের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে গরু রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের পর ব্যাপক চাহিদা মেটাতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কোনো পরিকল্পনা আছে কী না সে বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের সময় ডটকমকে তিনি একথা বলেন।
গরুকে জাতীয় মাতা আখ্যা দিয়ে ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধ ও বাংলাদেশে গরু রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। বাংলাদেশিদের গরু খাওয়া বন্ধ করতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) গরু পাচার রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশিদের গো-মাংস খাওয়া বন্ধ করা।
এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিবছর ভারত থেকে ২৫ লাখ গরু বাংলাদেশে রফতানি হয়। যার বাজারমূল্য ৩৯ হাজার কোটি টাকা। গরু রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে দেশটি এই মোটা অংকের রাজস্ব হারালেও বাংলাদেশ যদি গরুতে স্বনির্ভর হতে পারে তবে এই অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ হবে। সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গরু পালনের উদ্যোগ নিলে এই খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সে জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের।
প্রাণি উৎপাদন বিভাগের সহকারি পরিচালক বলেন, ঢাকার সাভার, বগুড়ার শেরপুর, বরিশালের কাশিপুর, রাজশাহি, চট্টগ্রাম ও সিলেটে একটি মাহিষ ও ৭টি সরকারি গো-প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবছর সেখান থেকে গরুর নতুন জাতের উদ্ভাবনসহ কয়েক লাখ গরু উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি খামারের সংখ্যা কয়েক হাজার। সেখান থেকেও উৎপাদিত হচ্ছে অসংখ্য গরু। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খামারের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে গরুর উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে পল্ট্রি শিল্প দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি পেলেও পল্ট্রির দাম আছে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। এই কাজ এক দিনে সম্ভব হয়নি। আশির দশকে সরকারি উদ্যোগে কাজ শুরু করে তার ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে সরকারি উদ্যোগে ঘরে-ঘরে গরু পালনের নির্দেশ দেওয়া হলে খুব দ্রুত দেশের গরুর চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।
জনবহুল এই দেশে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবের কথা তুলে ধরে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও বর্ণনা করেন তিনি। গো-খাদ্য কমমূল্যে পাওয়া সম্ভব হলেও সরকারের টেন্ডার নীতির কারণে দশ টাকার খাদ্য বিশ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। ঘাস উৎপাদনের জন্য বহু একর সরকারি জায়গা খালি থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত ঘাস উৎপাদন হচ্ছে না। সর্বোপরি রাজনৈতিক কারণেও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাপকভাবে বাধার সম্মুখিন হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে গরু সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : হাঁপিয়ে ওঠা গরমে একটু স্বস্তি এনে দিয়েছে চৈত্রের বৃষ্টি। সোমবার পৌনে ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরবাসীর জন্য এই বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে আসে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আমচাষীদের কাছে এই বৃষ্টি শুধু স্বস্তিই নয়, যেন তাদের কাছে জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। জেলার আমচাষীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খরার কারণে আমের গুটি ঝড়ে পড়ছিল। এই গুটি ঝরা বন্ধে বাগান মালিকরা সেচ পাম্পের মাধ্যমে গাছের গোড়ায় প্রতিদিন সেচ দিচ্ছিলেন। ফলে তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার আম ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আলী জানান, ‘আমের গুটি হওয়ার পর যে মুকুলগুলো শুকিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো বৃষ্টির ফলে ঝরে যাবে এবং আমের গুটিগুলো এখন দ্রুত বড় হবে। একই সঙ্গে বোটাও শক্ত হবে। ফলে গুটি ঝরে পড়া বন্ধ হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘সোমবারের বৃষ্টির শুরুতে কিছুক্ষণ যে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায় তাতে কিছু আমের গুটি ঝড়ে গেছে। তবে এ বৃষ্টির ফলে অন্তত বাকি যে গুটিগুলো থাকবে সেগুলোর বোটা অনেক শক্ত হবে। ফলে ভবিষ্যতে এই আমের গুটি ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকাংশে দূর হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যায় জেলায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের ফলে আম ছাড়াও মৌসুমী ফল ও সবজিচাষীরা উপকৃত হবে। তবে এখনো জেলার অন্তত ২০ শতাংশ জমির গম মাঠে রয়েছে। ওই গমক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হবে। এর বাইরে সকল ফসলেরই কম-বেশী উপকার হবে।’
সৌজন্য… দ্য রিপোর্ট

ঢাকা: উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অনেকটা বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে তা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা চত্বরে তিন দিনব্যাপী জেলা কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা-২০১৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। কৃষি উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উম্মোচন করেছে। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কৃষি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করেছে।’ তিনি বলেন, ‘খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অনেকটা বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে তা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কৃষি প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।’ এ সময় কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রতি এ অঞ্চলের উপযোগী ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে কৃষি প্রযুক্তির বিষয়ের অবদানের কথা তুলে ধরে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের তাগিদ দেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। খুলনা উপকূলীয় কৃষি উন্নয়নে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পাশাপাশি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।