April 19, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : হাঁপিয়ে ওঠা গরমে একটু স্বস্তি এনে দিয়েছে চৈত্রের বৃষ্টি। সোমবার পৌনে ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরবাসীর জন্য এই বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে আসে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আমচাষীদের কাছে এই বৃষ্টি শুধু স্বস্তিই নয়, যেন তাদের কাছে জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। জেলার আমচাষীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খরার কারণে আমের গুটি ঝড়ে পড়ছিল। এই গুটি ঝরা বন্ধে বাগান মালিকরা সেচ পাম্পের মাধ্যমে গাছের গোড়ায় প্রতিদিন সেচ দিচ্ছিলেন। ফলে তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার আম ব্যবসায়ী ইব্রাহিম আলী জানান, ‘আমের গুটি হওয়ার পর যে মুকুলগুলো শুকিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো বৃষ্টির ফলে ঝরে যাবে এবং আমের গুটিগুলো এখন দ্রুত বড় হবে। একই সঙ্গে বোটাও শক্ত হবে। ফলে গুটি ঝরে পড়া বন্ধ হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘সোমবারের বৃষ্টির শুরুতে কিছুক্ষণ যে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায় তাতে কিছু আমের গুটি ঝড়ে গেছে। তবে এ বৃষ্টির ফলে অন্তত বাকি যে গুটিগুলো থাকবে সেগুলোর বোটা অনেক শক্ত হবে। ফলে ভবিষ্যতে এই আমের গুটি ঝড়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকাংশে দূর হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যায় জেলায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের ফলে আম ছাড়াও মৌসুমী ফল ও সবজিচাষীরা উপকৃত হবে। তবে এখনো জেলার অন্তত ২০ শতাংশ জমির গম মাঠে রয়েছে। ওই গমক্ষেতের কিছুটা ক্ষতি হবে। এর বাইরে সকল ফসলেরই কম-বেশী উপকার হবে।’
সৌজন্য… দ্য রিপোর্ট