April 19, 2026
জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ: একটা সময় ছিল, যখন কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষকরা শুধুমাত্র বোরো ফসল ছাড়া আর অন্য কোনো কিছুই আবাদ করতেন না। সারা বছরে এই একটি মাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভর করতে হতো হাওরের মানুষদের। অথচ সেই দিন আজ বদলেছে। হাওরের কৃষকরা, এক ফসলি ধানের পরও জমিতে আবাদ করছেন দেশি মরিচ। কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের কলমা ইউনিয়নে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে শুধুই মরিচের আবাদ চোঁখে পড়বে। এখানকার শতাধিক পরিবার মরিচ চাষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। এখানকার মাটি মরিচ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই মরিচ চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কলমা ইউনিয়নের কাকুরিয়া, হালালপুর, সাপান্ত, বাজুরীসহ বিভিন্ন গ্রামে এবার মরিচ চাষ করেছেন কৃষকরা।
মরিচ চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবহাওয়া ভালো থাকায় ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে তা রোদে শুকিয়ে বস্তাবন্দি করে রাখছেন। কিছু মরিচ পারিবারিক কাজে রেখে বাকি মরিচ ভালো দামে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। এতে মরিচ চাষী পরিবারগুলো স্বচ্ছলতার মুখ দেখছে।
pic;-2কথা হয় হালপুর গ্রামের মরিচ চাষি সুজন সরকারের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গার মধ্যে দেশি মরিচের চাষ করে দশ মণ শুকানো লাল মরিচ হয়েছে। এই মরিচ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করি প্রায় ৬০ হাজার টাকা। সেই অনুপাতে লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার উপরে।
সুজন বলেন, ‘কম পরিশ্রম এবং অল্প পুঁজি লাগে মরিচ চাষে। আগামীতে আরও বেশি জায়গা নিয়ে মরিচ চাষের কথা বলেন তিনি।’
একই অবস্থা সান্ত গ্রামের কৃষক আজিজুল হকের। এবার ৫০ শতাংশ জায়গায় মরিচ চাষ করেছেন তিনি। এখনও ক্ষেত থেকে সম্পূর্ণ মরিচ তুলে রোদে শুকানো হয়নি তার।
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকলে ক্ষেতের সব মরিচ উঠানো সম্ভব হবে। মরিচের বাজার দর আগের চেয়ে এবছর ভালো। তাই লাভের আশার কথা বলছেন তিনি।
এ গ্রামের আরেক মরিচ চাষী নবীন সরকার জানান, আমি এ বছরই প্রথমবার দুই একর জমিতে দেশি মরিচ চাষ করেছি। আশা করছি ৯০ মণ শুকানো মরিচ তুলতে পারব। যার দাম হবে ৫ লাখ টাকার মতো।
তিনি বলেন, ‘ধানের থেকেও মরিচ চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়।’
জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাড়াও হাওরের ইটনা, মিঠামইন, নিকলী ও তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেশি মরিচের চাষ হয়ে থাকে। এখানকার উৎপাদিত মরিচের সুখ্যাতি রয়েছে। রান্নার কাজে অন্যান্য শুকানো মরিচের তুলনায় মরিচ লাগে কম এবং তরকারি স্বাদও ভাল লাগে। এ মরিচের গুণাগুণের কারণে দেড় ইঞ্চি থেকে দুই ইঞ্চি লম্বা লাল টুকটুকে মরিচের কদর গৃহিণীদের কাছে অনেক বেশি।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অমিতাভ দাস জানান, কিশোরগঞ্জের হাওরে প্রচুর মরিচ চাষ হয়েছে। আগামীতেও মরিচ চাষ যেন অব্যাহত থাকে, সেজন্য স্থানীয় উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে মরিচ চাষিদের যথাযথ সহায়তার কথা বলেন তিনি।