April 19, 2026
হবিগঞ্জ : পাহাড়, টিলা, হাওর আর খালবিলের জেলা হবিগঞ্জ। প্রায় প্রতিটি পাহাড়-টিলা চা গাছে ঢাকা। এ চায়ের দেশের নতুন অর্থকরী ফসল শিম। হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও মাধবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ সবজির চাষ হচ্ছে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু শিমের মাচা। এসব মাচায় থোকা থোকা ফুল। অধিক লাভ হওয়ায় কৃষক দিন দিন ঝুঁকছেন শিম চাষের দিকে। ফলে প্রতি বছরই এ সবজি চাষ বাড়ছে। এখানকার শিম যাচ্ছে মালয়েশিয়া, ভারত, মিয়ানমারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। হবিগঞ্জে আশ্বিনা, কাকিয়া, বোয়ালগাদা, বারি-১, বারি-২ সহ কয়েকটি জাতের শিম চাষ বেশি হয়। মে থেকে জুনে আগাম শিম চাষ শুরু হয়। মৌসুমের শিম চাষ শুরু হয় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে। বীজ বপনের ৯০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। শুরুতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
শিমচাষি মহিব উল্লাহ জানান, ১৯৯৮ সালে তিনি শিম চাষ শুরু করেছেন। অধিক লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই আবাদ বাড়াচ্ছেন। কৃষক এমদাদুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমিতে শিম আবাদে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তিনি কমপক্ষে ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এখানে উচ্চফলনশীল জাতের বীজের অভাব রয়েছে। ফলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া কঠিন হচ্ছে। চাষি মোঃ রমজান মিয়া জানান, পানির অভাবে শেষ সময়ে শিমের উৎপাদন কমে যায়। ব্যাংকগুলোর কাছে ধরণা দিয়েও ঋণ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে চাষাবাদ করতে হয় বলে অভিযোগ অনেক কৃষকের। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহ আলম বলেন, ‘শিম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। এ কারণে এ সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষক। প্রতি বছর হবিগঞ্জে শিমের আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। উঁচু এলাকায় সেচ দিতে পারলে শিম চাষ আরও বাড়বে।’
কৃষিঋণ বিতরণে ৭ ব্যাংকের অবস্থান শূন্যঢাকা: চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে মোট ঋণ বিতরণ করেছে তিন হাজার ৮৮২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে বিতরণকৃত এ ঋণ গত অর্থবছরের (২০১৩-১৪) একই সময়ের তুলনায় পাঁচ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো এ খাতে মোট ঋণ বিতরণ করেছিল চার হাজার ১২২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের চার মাসে সাতটি ব্যাংক কোনো প্রকার ঋণই বিতরণ করতে পারেনি।
এ চার মাসে কোনো ঋণ বিতরণ না করা ব্যাংকগুলোর পাঁচটি বিদেশি মালিকানার ব্যাংক ও দুটি নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক। অন্যদিকে সব মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশও ঋণ বিতরণ করেনি ১৩টি ব্যাংক। আর লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশের নিচে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা রয়েছে ২২টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চার মাসে ঋণ বিতরণ না করা ব্যাংকগুলো হলো- বিদেশি মালিকানার ব্যাংক আল-ফালাহ, কমার্সিয়াল ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। আর নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক দুটি হলো ফারমার্স ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংক। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশেরও কম ঋণ বিতরণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মধ্যে একটি এবং বেসরকারি ৩৯টি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটি। ব্যাংকগুলো হলো- রূপালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রখাতের চার ব্যাংক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) ও বিশেষায়িত দুই ব্যাংক(বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক)-এর মোট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নয় হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম চার মাসে এ ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে দু’হাজার ১৫০ কোটি টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ তাদের লক্ষ্যমাত্রার ২৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। বিদেশি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে ছয় হাজার ৪১০ কোটি টাকা। প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে এক হাজার ৭৩২ কোটি টাকা, যা তাদের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ২৭ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী তফসিলভুক্ত সব ব্যাংকে তাদের মোট ঋণ বিতরণের ২.৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ করতে হবে। যদি কোনো ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণে ব্যর্থ হয় তাহলে তার প্রভিশন (সাধারণ সঞ্চিতি) থেকে ওই পরিমাণ টাকা কেটে রাখা হয়।
প্রতিবেদক : চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আমন চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে শনিবার (১৫ নভেম্বর)। সরকারি এ সংগ্রহ অভিযান চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
খাদ্য, পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রতিকেজি ৩২ টাকা দরে তিন লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ করবে সরকার।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ) বেনজামিন হেমব্রোম বলেন, শনিবার থেকে চলতি বছরের আমন সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ জন্য মিল মালিকদের সঙ্গে খাদ্য অধিদফতরের চুক্তি করা হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ‘খাদ্য, পরিকল্পনা ও পরিধারণ’ কমিটির সভায় আমন সংগ্রহ মূল্য ও পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, এবার প্রতিকেজি আমন ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৮ টাকা এবং প্রতিকেজি চালের উৎপাদন খরচ ২৮ টাকা।
গত বছর প্রতিকেজি ধানের উৎপাদন ব্যয় ছিল ১৭ টাকা দুই পয়সা ও চালের ২৫ টাকা ৪২ পয়সা। গত মৌসুমে প্রতিকেজি ৩০ টাকা দরে সাড়ে তিন লাখ টন আমন চাল সংগ্রহ করে সরকার।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১২ নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে ১৩ রাখ ৩৯ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১১ লাখ ২২ হাজার টন ও গম দুই লাখ ১৭ হাজার টন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এবার এক কোটি ৩২ লাখ টন আমন উৎপাদিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত বছর মোট উৎপাদন ছিল এক কোটি ৩০ লাখ টন। যদিও এবার আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক কোটি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার টন।
ঢাকা: দেশের উৎপাদিত শাক-সবজি, আলু, পান পাতা, ফলমূলসহ ভেজিটেবল পণ্যের ব্যাকটেরিয়ামুক্ত উৎপাদন ও রপ্তানিযোগ্য করার বিষয় পরীবিক্ষণ ও সুপারিশ তৈরি করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত এসব পণ্য রপ্তানিতে বাধা দূর করতে সোমবার (১০ নভেম্বর) বাণিজ্য সচিবকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কৃষিসচিব, শিল্পসচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন প্রতিনিধি। সবিচালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশে উৎপাদিত শাক-সবজি, আলু ও পান পাতা ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বাংলাদেশে উৎপাদিত ও রপ্তানি করা শাক-সবজি, আলু ও পান পাতা, ফলমূলসহ ভেজিটেবলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, রোগ-বালাই ও পোকামাকড় দূর করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন জানিয়েছেন, সীমানা নির্ধারণের জটিলতার কারণে ঝুলে আছে ঢাকার সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচন। সীমানা নির্ধারণের পর তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই নির্বাচন দেয়া হবে। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর একটি রেস্তোরাঁয় ‘প্রার্থী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও ফলাফল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ শীর্ষক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, সীমানা নির্ধারণের কাজটি স্থানীয় সরকারের হাতে। তারা ডিসিসির সীমানা নির্ধারণ করলে ওয়ার্ডগুলোর ভোটার নির্বাচন করা হবে। এরপরই ডিসিসি নির্বাচন দেয়া হবে। ভুয়া ভোটারের বিষয়ে রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, আগের দিনের মতো ভুয়া ভোটার এখন কাল্পনিক। নির্বাচন কমিশন এখন প্রযুক্তিগতভাবে অনেক উন্নত। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবল দরকার। ওয়ার্কশপের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের জন্য তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইউনিয়ন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের ইভিএমের ব্যবহার চলছে। আমাদের দেশেও এখন ব্যবহার হচ্ছে। তবে বেশ কিছু নির্বাচনে কয়েকটি মেশিন বিকল হয়ে যায়। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এ সমস্যা হয়। এ সমস্যা আর যাতে না হয়, সে ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া ইউনিয়নগুলোর নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য তাদের আইন বা বিধি সংশোধনের প্রয়োজন। তাই তাদের বিধি সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান সিইসি। ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনে সরকার পতন হলে অন্তর্বর্তী নির্বাচন দেয়ার প্রস্তুতি আছে কি না—জানতে চাইলে যেকোনো সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের বলে জানান তিনি। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব বেগম জেসমিন টুলি, বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ, জেলা প্রশাসক আবদুল হান্নান, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাস চন্দ্র সরকার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
ঢাকা: সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটার তথ্যে গড়মিল বেড়েই চলছে। এতে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা, ফরম পূরণকারীর চেয়ে বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশের হালনাগাদ কার্যক্রমে বর্তমানে ২১৩টি উপজেলায় নিবন্ধনের কাজ চলছে। এরইমধ্যে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ছবি তোলাসহ রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। তবে অনেক উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনের কাজও শেষ হয়েছে।
যেসব উপজেলায় কাজ সম্পন্ন হয়েছে এর মধ্যে নেত্রকোণার কলমাকান্দা, রাঙ্গামাটির লংগদু, কক্সবাজারের উখিয়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কুমিল্লার মেঘনা, লাকসাম, কুড়িগ্রাম সদর, রাজিবপুর, রৌমারী, খুলনার কয়রা, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা সদর, জামালপুরের মেলান্দহ, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, ঝালকাঠির রাজাপুর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, ভূয়াপুর, নওগাঁর আত্রাই, ধামুরইরহাট, পোরশা, নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর, বরিশালের আগৈরঝাড়া, মুলাদি, বান্দরবানের লামা, বাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগর, ভোলার বোরহানউদ্দিন, মানিকগঞ্জের ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, লৌহজং, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, যশোরের বাঘারপাড়া, রংপুরের তারাগঞ্জ, রাঙামাটির কাপ্তাই, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, সাতক্ষীরার আশাশুনি, দেবহাটা, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও শরিয়তপুরের জাজিরাসহ মোট ৪৪টি উপজেলায় ভোটার তথ্যে গড়মিল পেয়েছে ইসির জাতীয় পরিপয়পত্র নিবন্ধন (এনআইডি) অণুবিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন শাখা।
এ শাখার দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই উপজেলাগুলোয় ২ নম্বর ফরম পূরণ অপেক্ষা নিবন্ধন সংখ্যা বেশি। তাই বিষয়টি সংশোধন করা প্রয়োজন। ২ নম্বর ফরম হচ্ছে সেই ফরম যা, ভোটার হতে হলে প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে পূরণ করতে হয়। ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় এ ফরমেই সম্ভাব্য ভোটারের প্রাথমিক তথ্য লিপিবন্ধ করেন। এরপর ছবি তোলে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিষয়টি তেমন ব্যাপক কিছু নয়। কোনো ভুল যদি হয়ে তা করণিক ভুল। কেননা, ভোটার ফরম পূরণের চেয়ে নিবন্ধন বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জমির উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমার এখানে মোট নিবন্ধন হয়েছে ২ হাজার ৮৮৭জনের। প্রথমে ফরম পূরণ করা হয়েছিলো ২ হাজার ৫০০ জনের। অনেককে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাওয়া যায়নি। তখন পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে তাদের তথ্য আনা হয়েছিলো। তাই এসব নাগরিকের নিবন্ধনও পরেই করা হয়েছে। গত মাসে ৪টি উপজেলাতে গড়মিল ধরা পড়েছিলো। গত ২৭ জুলাই ওই ভুল ঠিক করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছিলো ইসি। কিন্তু এবার সে সংখ্যা আরো বেড়েছে। এই ৪৪ উপজেলা কর্মকর্তাকেও আগের মতো সঠিক তথ্য পাঠাতে বলেছে ইসি।
ওই নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন ইসির এনআইডি অণুবিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। ইসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১৩ উপজেলায় বর্তমানে মোট ভোটার রয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৭২ হাজার ৫৩৭ জন। এর ৫ শতাংশ হিসাব ধরে হালনাগাদ কার্যক্রমে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৮জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৬ জন নিবন্ধন ফরম পূরণ করেছেন। আরো ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬০৯ জনের তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। যারা বাড়িতে তথ্য সংগ্রহের সময় ছিলেন না কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তথ্য দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এ পর্যায়ে যত ফরম পূরণ হয়েছে, তার শতকরা হার ৬ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। যা লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত মোট ভোটার লক্ষ্যমাত্রাকে নাও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, যাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ফরম পূরণ করা হয়েছে, তারা ছবি তোলে নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন না করলে মোট ভোটার ১৬ লাখের খুব বেশি হবে না।
…..বাংলানিউজ
ডেস্ক রিপোর্ট: ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের চিকিৎসা খরচ বাবদ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) গুনতে হয়েছে ২৭ লাখ ৯ হাজার ২৭২ টাকা। এতে কমিশনারদের চিকিৎসা ভাতা বরাদ্দের অতিরিক্ত ১৪ লাখ টাকা বেশি খরচ হয়েছে ইসি’র। ইসি সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র জানায়, সাবেক কমিশনারদের চাহিদা অনুযায়ী কমিশন এ অর্থ পরিশোধ করে। গত অর্থ বছরে কমিশারদের চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ টাকা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বিল পরিশোধ করতে গিয়ে কমিশনকে এ বছর গুণতে হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থ বছরে সাবেক কমিশনারদের মধ্যে মুনসেফ আলী নিয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৮২ টাকা। আবু হেনা দু’দফায় চিকিৎসা বিল উত্তোলন করেছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪৬ টাকা। এটিএম শামছুল হুদা তিন দফায় নিয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ১১১ টাকা। এছাড়া অন্যান্য কমিশনারেরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বিল উত্তোলন করেছেন। ইসির সমন্বয় শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ‘সাবেক নির্বাচন কমিশনারেরা হাইকোর্টের বিচারপতিদের প্রাধিকার বিধিমালা অনুযায়ী আজীবন চিকিৎসা ভাতা ভোগ করছেন। এ সুবিধা ভোগ কমিশনের কোনো আইন অনুযায়ী নয়।’ সূত্র আরও জানায়, সাবেক কমিশনারদের এ বিল উত্তোলনে কোন প্রকার যাচাই-বাচাই করা হয় না। এই বিল অনুমোদনেরও প্রয়োজন হয় না। ইসির সমন্বয় শাখায় হাসপাতাল বা ফার্মেসির ক্যাশ মেমো জমা দিলেই অর্থ শাখা তা পরিশোধ করে দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাবেক এ কমিশনারেরা নিজেদের পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তানদের চিকিৎসা বিলও নিজ নামে উত্তোলন করে থাকেন। কোন সময়সীমা নির্ধারিত না থাকায় যে কোন সময় তারা বিল জমা দিতে পারেন। অনেকে এক মাসে দুই থেকে তিনবার বিল নেয়ার রেকর্ডও সৃষ্টি করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেলিম ওসমান। ১৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪০টির বেসরকারি ফলাফলে সেলিম ওসমান পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৯৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী (স্বতন্ত্র) এস এম আকরাম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪২৯ ভোট। সহিংসতার অভিযোগ থাকায় বাকি কেন্দ্রটির ভোট বাতিল করা হয়েছে। এদিকে কারচুপি আর ব্যাপক ভোট জালিয়াতির মধ্যে শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর) আসনের উপনির্বাচন। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে একটানা বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে কেবল বন্দরের ভোটার দুই লাখ ১০ হাজার ৯৬ জন। শহরের ভোটার এক লাখ ৪১ হাজার ৩০৯ জন। এতে বন্দরের ভোটেই নির্ধারিত হবে প্রার্থীর ভাগ্য। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বন্দরের ৮৯টি কেন্দ্র ও শহরের ৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে খুন, গুম ও সন্ত্রাসের কারণে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে প্রথম থেকে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করছে নির্বাচন কমিশন। তবে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অন্তত দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে যেকোন ফলাফল মেনে নেবেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী।
অন্যদিকে একটি কেন্দ্র দখল করাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের উপ-কমিশনারকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন বিতর্কিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব মহল শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। খোদ নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জকে স্পর্শকাতর জায়গা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ওসমান পরিবারের হুমকি-ধামকির কারণে অনেকে কমিশনে চিঠি দিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনে কারচুপি ও কেন্দ্র দখল নিয়ে শামীম ওসমানের একটি গোপন বৈঠকের সংবাদ প্রকাশ হয়। বৈঠকের বিভিন্ন বক্তব্যের অডিও প্রকাশ হলে সংশিøষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
বড় ধরণের সহিংসতা বা অনিয়ম না হলেও জাল ভোট পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাল ভোট দেয়ার অপরাধে র্যাব দুইজন অপরাধীকে আটক করে। তারা নাসিম ওসমানের সমর্থক বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জেলার পুলিশ সুপার বলেছেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি সকালে কম থাকলেও পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: দশম জাতীয় সংসদের বরিশাল-৫ আসনে নবনির্বাচিত এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ শপথ নিয়েছেন। সংসদ ভবনে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড, শিরীন শারমিন চৌধুরী নবনির্বাচিত এমপিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। সংসদের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল মকবুলের পরিচালনায় শপথ অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ আ. স. ম. ফিরোজ , হুইপ মো. শহিদুজ্জামান সরকার , হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল: বরিশাল-৫ সদর আসনের উপ-নির্বাচনে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রয়াত সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে জেবুন্নেছার পক্ষে দলীয় মনোনয়ন জমা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপি।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মীর মো. শাহজাহান বলেন, ‘মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী তিন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীসহ দুই জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আজ মনোনয়ন জমা দানের শেষ দিন ছিল। এরপর ১৪ মে যাচাই-বাছাই হবে। ২১ মে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
উল্লেখ্য, এ আসনে তিন লাখ ৪২ হাজার দুইশ’ ২৮ জন ভোটার ১২ জুন নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান করবেন। নির্বচনী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।