April 19, 2026
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ‘মওদুদ আহমদের’ গুলশানের বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। এর আগে তাকে সপরিবারে উচ্ছেদ করা হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রোববার সকাল নয়টার দিকে সেখানে তাদের লোকবল পাঠায়। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ওই এলাকায়। সাধারণ মানুষকে ওই স্থানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
এ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ওয়ালিউর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই বাসাটি মওদুদ আহমদের না। এ ছাড়া রাজউকের নথিতে এই বাড়ির কোনো নকশা ছিল না। নকশা অনুমোদনহীন। এ কারণে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছে। বাড়িটি নিয়ে এরপর কী করা হবে বা নতুন ভবন করা হবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমরা জানি না।
আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করা গুলশান ২ নম্বরের ১৫৯ নম্বর বাড়িটি ৭ জুন ছাড়তে হয় মওদুদ আহমদকে। রাজউকের সম্পত্তি শাখা বাড়িটি বুঝে নেয়। বাড়ি থেকে মালামাল সরানোর কাজ চলার মধ্যেই ওই দিন সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেট কারে করে মওদুদ আহমদ সেখান থেকে চলে যান। ওই বাড়ির মালামাল গুলশান-২-এর ৫১ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়ির ছয়তলা ভবনে মওদুদ আহমদের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট : পুশিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি ) শহীদুল হক বলেছেন, ‘অল্প কিছু টাকা বা সময় বাঁচানোর জন্য বাস ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চের ছাদে চড়ে নিজের জীবন বিপন্ন করবেন না। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। প্রত্যেক নাগরিককে এই বিষয়টি চিন্তা করতে হবে।’
শনিবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাচঁপুরে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আজিপি এসব কথা বলেন। সকালে রংপুরে ট্রাক উল্টে ১৭ যাত্রী নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘ঈদের আগে বা পরে যখন রাস্তা কিছুটা ফ্রি থাকে, তখন দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। যাত্রীরা দ্রুত বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ির ছাদে ও মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন করে। যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা টার্মিনাল বা স্টাডিং পয়েন্টে চেষ্টা করি। কিন্তু পথে পথে বিভিন্ন পয়েন্টে চালকরা অতিরিক্ত টাকার জন্য যাত্রী তোলে। খালি ট্রাক নিয়ে ড্রাইভার ঘুরে বেড়ায় যাত্রী তোলার জন্য। কিন্তু যেখানে আমাদের নজরে আসে আমরা এগুলো বন্ধ করি।’
আইজিপি বলেন, ‘মহাসড়কে গাড়ির চাপ অনেক বেশি থাকার কারণে অনেক জায়গায় যানবাহনের চলাচল ধীরগতি। কিন্তু র্দীঘ যানজটে আটকা পড়ে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে এমন পরিস্থিতি এবার নেই। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় সেতুতে উঠতে এবং ঢাকা রাজশাহী মহাসড়কের সিরাজগঞ্জে একটি নির্মাণাধীন সেতুর কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে কোনও যানজট নেই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি শহীদুল হক বলেন, ‘ঈদের আগে ও পরের তিন দিন মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ না করার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সবাই মানে নাই। তবে পচনশীর দ্রব্য বা এক্সপোর্ট পণ্য জাতীয় অর্থনীতির জন্য চলাচলে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এছাড়া যেসব নরমাল পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে, সরু রাস্তার কারণে তাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখা যাচ্ছে না। আবার মহাসড়কের পাশে ডাম্পিংয়ে জায়গাও নেই। এছাড়া এসব হাজার হাজার ট্রাকের বিরুদ্ধে মোটর ভ্যাহিক্যাল আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও কঠিন কাজ। তাই ট্রাক মালিক সমিতির দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অনুরোধ করবো, সরকারের পক্ষ থেকে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলার জন্য।’
ঈদে যারা ঢাকা ছাড়ছেন তাদের বাড়ি-ঘরের নিরাপত্তার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘ঢাকার শহরের বড় বড় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব সিকিউরিটি আছে। পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থায় চেক পোস্ট, মেবাইল টিম, পেট্রোল টিমসহ ব্যক্তিগত ও এরিয়া সিকিউরিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ঈদে ঢাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
এ সময় আইজিপির সঙ্গে উপাস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. সফিকুল ইসলাম, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : ভয়ঙ্কর প্রতারণা। টার্গেট কম বয়সী সুন্দরী নারী। পারিবারিক, আর্থিক অবস্থা জানার পরই শুরু হয় আসল খেলা। শিকারির মতো জাল ছড়িয়ে দেয়া হয় তাদের ঘিরে। নানা কৌশলে বিদেশে পাচার করা হয় তাদের। অল্প শ্রমে, অল্প সময়ে বেশি আয়, বাসা কিংবা ক্লিনিকের কাজের কথা বলে আকৃষ্ট করা হয়। প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে বাধ্য করা হয় যৌনকর্মে। এতে বাধা দিলে মারধর করা হয়। ইলেকট্রিকের শক দেয়া হয়। এ চক্রের ফাঁদে পড়ে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে কোনো কোনো নারীকে। বাধ্য হয়েই বিদেশের মাটিতে যৌনকর্মকে ব্যবসা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন নারীদের অনেকে।
সূত্রমতে, প্রলোভনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারীদের পাচার করা হচ্ছে। বাসায় কাজের নামে তাদের অনেককেই যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার করে। এমনকি একই পরিবারের বাবা, ছেলে, ভাইসহ সকল পুরুষ সদস্যদের কাছেই নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে নারীকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পতিতার দালালদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। আবাসিক হোটেলে রেখে যৌনকর্ম করানো হয় এই নারীদের দিয়ে।
অনুসন্ধানে এরকম কয়েক নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাড়ি মাদারীপুরে। গত ১৪ই মার্চ সৌদি আরবে পাঠানো হয় তাকে। বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বাসার কর্তা শুরুতেই তার দিকে অবাক দৃৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তাকে গোসল করে বিশ্রাম নিতে বলা হয়। নতুন কাপড় দেয়া হয়। রাত নামতেই এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। তার আগমন উপলক্ষে বাসায় জমে উঠে আড্ডা। একে একে ধর্ষণ করে পাঁচ জন। বাধা দিলে বেদম প্রহার করা হয়। অসুস্থ হয়ে যান তিনি। এভাবে একেক রাতে একেক বাসায়, হোটেলে পাঠানো হয় তাকে। বাধা দিলে তারা জানায়, ‘টাকার বিনিময়ে কেনা হয়েছে তোমাকে। আমরা যা বলি তাই করতে হবে।’ গত ৩০শে মে বড় বোনের কাছে ফোনে নির্যাতনের এই করুণ কাহিনী জানান তিনি।
দেশের দালালরা গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি পাঠানোর নামে বিক্রি করে দিয়েছে নারী শিকারি চক্রের কাছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন স্বজনরা। কিন্তু দালালর দাবি করছে, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই টাকা দিতে পারলে তাকে ফিরিয়ে দেবে তারা। এ বিষয়ে গত ১৩ই জুন তার বড় বোন বাদী হয়ে আদালতে মানবপাচার আইনে পিটিশন মামলা করেছেন।
ওই নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শিকারির মতো জাল ফেলেছিল চক্রের সদস্য মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুরের জসিম। ওই নারীর মা, বাবা অসুস্থ। সংসারের হাল ধরতে চান তিনি। এর মধ্যেই প্রস্তাবটি দেয় জসিম। ‘দেশে এতো কষ্ট করার চেয়ে বিদেশে গেলে অনেক ভালো আয় করতে পারবে। বিদেশে যেতে বেশি টাকার দরকার হবে না। রাজি থাকলে অল্প টাকাতেই বিদেশে পাঠানো যাবে। অ্যারাবিয়ানের বাসায় কাজ। মাস শেষে শুধু টাকা আর টাকা। অল্প দিনেই বাড়িতে ঘর-বাড়ি হবে।’ প্রলোভনে পা দেন তিনি। জসিম, ফিরোজপুরের মঠবাড়ির ফুলবাড়িয়ার হুমায়ূন ও যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচার ফরিদ ওই তরুণীকে ঢাকায় নিয়ে আসে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড়ের বশির আহমেদের বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়। ওই সময়ে বিমানের ভাড়া হিসেবে তার বড় বোনের কাছ থেকে আরো ৩৫ হাজার টাকা নেয় তারা। মতিঝিলের বিডিএক্স ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিটি নিয়ে সৌদি আরবে পাঠানো হয় তাকে।
একইভাবে প্রলোভনে পা দিয়ে ওমানে গিয়েছিলেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার
শান্তিনগরের এক নারী। শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। কুমিল্লার দাউদকান্দির আবদুল কাদিরের মাধ্যমে ওমানে গিয়েছিলেন তিনি। গত বছরের ২৪শে ডিসেম্বর ফোনে তার বোন হোসনে আরাকে বলেছিলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। প্রতি রাতেই আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন করে। এক, দু’জন না। একের পর এক ওরা অনেকে…। আমি মরে যাব। আমাকে বাঁচাও বুবু।’ পরদিন ২৫শে ডিসেম্বর তার লাশ উদ্ধার করে ওমান পুলিশ।
২০১৪ সালের ২১শে অক্টোবর আট নারীকে বিদেশে পাচার করে শরিয়তপুরের সিরাজ শিকদার। লেবাননে পাঠানোর কথা বলে পাঠানো হয় সিরিয়ায়। মামুদ ও আবু আহমদ নামে চক্রের দুই সদস্য তাদের নিয়ে যায় একটি অফিসে। ওই অফিসে আরো ১৫ বাংলাদেশি নারী ছিল। ওই অফিসেই তাদের যৌনকাজে লিপ্ত হতে চাপ দেয়া হয়। হুমকি দিয়ে বলা হয়, তোমাদের টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। কাজ না করলে প্রাণে মারা হবে।
নির্যাতিতারা জানান, সুন্দরী ও কম বয়সীদের বেশি চাহিদা সেখানে। সুন্দরীদের পতিতালয়ে আর একটু বেশি বয়সীদের কৃতদাসী হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয় ছয় মাস ও এক বছরের জন্য। নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে গত বছরের ১১ই অক্টোবর দেশে ফিরেন এক নারী। পরে তিনি এই চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তিনি জানান, যৌনকাজে লিপ্ত হতে না চাইলে মারধর করা হতো, ইলেকট্রিক শক দেয়া হতো। লোহার রড গরম করে ছ্যাঁকা দেয়া হতো। প্রতিরাতেই একেক নারীকে পাঠানো হয় একেক স্থানে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সহেলি ফেরদৌস বলেন, নানা প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা নারীদের পাচার করে। সাধারণত প্রতারিত হওয়ার পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এক্ষেত্রে অপরাধীরা যদি দেশে থাকে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু বিদেশে থাকলে তা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বিদেশে যাওয়ার আগে বিদেশগামী নারীকে সচেতনভাবে খোঁজ নিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান তাকে পাঠাচ্ছে তা সরকার অনুমোদিত কি-না। কোথায়, কিভাবে পাঠাচ্ছে তা জেনে বিদেশে যাওয়া উচিত। কোনো প্রকার সন্দেহ করলে পুলিশের সহযোগিতা নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি।
উৎসঃ মানব জমিন
সূত্র : আমাদের সময় ডটকম।
অনিয়মই যেনো নিয়ম ঢাকা চিড়িয়াখানায়। সঠিক পরিচর্যার অভাব তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে রয়েছে প্রাণীদের খাবার নিয়ে নানা টাল-বাহানা। বরাদ্দ পরিমাণের চেয়ে কম দেয়া, এমনকি সময় মত খাবার দেয়ার নিয়মও মানা হচ্ছে না। অবশ্য এসব অনিয়ম-দুর্নীতির দায় অস্বীকার করছে কর্তৃপক্ষ।
বেলা প্রায় ১২টা। খাবারের জন্য হাহাকার। দর্শনার্থীর দেয়া একটি আম নিয়ে কাড়াকাড়ি জাতীয় চিড়িয়াখানার এই উল্লুকগুলোর মাঝে। প্রতিদিন কেবল সকালেই খাবারের বরাদ্দ। তাও মানা হচ্ছে না সঠিকভাবে। সকাল গড়িয়ে তখন দুপুর। অবশেষে, খাবার এলো।
তবে হরিণের খাবারের পাতটি তখনো শূন্য। পাশের খাঁচার বানরের জন্য বরাদ্দ কলার কিছু পরিমাণ ভাগ্যে জুটলো তাদের। তারও ঘণ্টাখানেক পর খাঁচায় থাকা শতাধিক হরিণের জন্য এলো মাত্র এক বস্তা সবজি। একই অবস্থা ময়ূরের খাঁচায়ও।
চিড়িয়াখানার কর্মচারীরা বলেন, ‘স্যারেরা যে অনুযায়ী বলছে আমরা তাই করি। আজ একটু দেরি হয়েছে অন্য জায়গায় কাজ ছিল তাই। রোজা রমজানের দিন তো তাই দেরি’
একটু সামনে এগোতেই বানরের খাঁচা। প্রথমটি বানরশূন্য দেখে অবাক হলেও, পরে বোঝা গেলো কারণ। হয়তবা স্বজাতির এই মৃতদেহে বিচলিতরা আশ্রয় নিয়েছে পাশের খাঁচাটিতে। ফ্লেমিংগোর খাঁচার সামনের নির্দেশিকায় লিখা জলাশয়ে বাস। যদিও ভিতরে নেই পানির ছিটেফোঁটাও। আর হায়েনার খাঁচার সামনে মাংস নিয়ে চলছে এমন সূক্ষ্ম কারচুপি। পরে সময় সংবাদের ক্যামেরার টের পেয়ে বালতি রেখেই চলে যান এই কর্মচারী। কিন্তু দূরে যেতেই খানিকটা বাদে এসে নিয়ে গেলেন রেখো যাওয়া সেই মাংসের টুকরো।
বাঘ, কুমির, ভাল্লুক কিংবা বানর। উচ্ছলতা নেই কারো মাঝে। অবোলা এই প্রাণীগুলোকে খাবারের জন্য প্রতিনিয়তই চেয়ে থাকতে হয় চিড়িয়াখানার খাবার পরিবেশনকারীর দিকে। এমন পরিস্থিতি হতাশ করেছে দর্শনার্থীদেরও।
তারা বলেন, ‘সকালের খাবার দেয় না।তারা দুপুর বারোটার খাবার দেয়। এটা অমানবিক। বাঘ না বিড়াল বুঝা যায়না। খাবারের অভাবে হাটতে পারে না ঠিকমত। নিথর হয়ে পড়ে গেছে সব জীব।’
এক দর্শক প্রশ্ন করে বলেন জাতীয় চিড়িয়াখানার যে বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার সেটা কি এখানে আছে।
এতসব অনিয়মের ভিড়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে দায়সারা বক্তব্য কিউরেটরের।
তিনি বলেন, আমি মানব না অনিয়ম হচ্ছে। খাবার পর্যাপ্ত দেওয়া হয়। সকাল আট অথবা সাড়ে আটটার মধ্যে দেওয়া হয়। তারপরেও আমি দেখবো অনিয়ম হচ্ছে কিনা।’
আন্তর্জাতিক মান মেনে কোন প্রাণীর জন্যে কি পরিমাণ খাবার সরবরাহ করতে হবে তার কোন তালিকা এখানে নেই। সেই সঙ্গে চলছে নিম্নমানের ও অপর্যাপ্ত খাবার পরিবেশন। দিনের পর দিন চলে আসা এই অনিয়ম ও দুর্নীতির শাস্তির নজির চোখে পরে না। তবে শাস্তি ও তদারকির চেয়ে প্রয়োজন একটু আন্তরিকতা ও আর ভালবাসার অনুভূতির।
নোয়াখালীর জেলা জজ কোটের জজসহ ৬টি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বিচারক সংকটে দেখা দিয়েছে মামলা জট। এতে বারবার আদালতে গিয়ে বিমুখ হয়ে ফিরছেন বিচার প্রার্থীরা। তবে বিচারকের শূন্যতা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবলিক প্রসিকিউটর।
গত ১৫ই জানুয়ারিতে অবসরে যান নোয়াখালী জেলা জজ। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে আদালতের ৪ জন সহকারী জজ ও একজন ম্যাজিস্ট্রেটের পদ। এতে দিনের পর দিন আদালতে এসে বিচার না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মামলার বাদী-বিবাদী।
স্বল্প সংখ্যক বিচারক দিয়ে বিপুল সংখ্যক মামলা চালাতে গিয়ে আদালতে সৃষ্টি হচ্ছে মামলা জট। এ অবস্থায় মামলার চাপ কমাতে জরুরী ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হক বলেন, ‘আইনমন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক দিন পর্যন্ত আমাদের জেলা জজ এবং স্পেশাল পাচ্ছি না।’
তবে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এটিএম মহিব উল্যাহ বলছেন, বিচারক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট এবং আইনমন্ত্রণালয়ের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। কিন্তু বিচারক সংকটের কারণে এখনো পর্যন্ত পোস্টিং পাওয়া যাচ্ছে না।’
বর্তমানে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ অধীনস্থ আদালতসমূহে প্রায় ৩ হাজার ৫শ’ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ঢাকায় পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের মৃত্যদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে হাই কোর্ট।
আলোচিত এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানি করে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রায় দেয়।
বিস্তারিত আসছে
পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাঁদের মেয়ে মৃত্যুদÐাদেশপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আগামীকাল সোমবার ঘোষণা করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের সম্পূরক কার্যতালিকায় আগামীকাল রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে গত ৭ মে শুনানি শেষে এ বিষয়ে যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানান হাইকোর্ট।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
আদালতে ঐশীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির বলেন, গত ১২ মার্চ ঐশীর আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। আজ শুনানি শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন তাঁর রায় ঘোষণা করা হবে।
চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদÐাদেশ পাওয়া তাঁদের মেয়ে ঐশী রহমানের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে হাইকোর্টে হাজির করা হয়। ওই দিন আদালতে হাজির করার পর খাস কামরায় নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
ওই দিন আদালত বলেন, একটি মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঐশী রহমান হত্যার সময় মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিলেন এবং বংশগতভাবে তাঁরা মানসিক রোগী। তাঁর দাদি, চাচারা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। সেই মেডিকেল রিপোর্টের সত্যতা যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করতে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে ঐশী রহমান হাইকোর্টে আপিল করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে মেয়ে ঐশী রহমানকে ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর দুবার মৃত্যুদÐাদেশ দেন আদালত। প্রত্যেক মৃত্যুদÐের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে দুই বছর কারাদÐাদেশ দেওয়া হয়েছে। একটি মৃত্যুদÐ কার্যকর হওয়ার পর অন্যটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।
একই সঙ্গে ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছর কারাদÐাদেশ ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে এক মাসের কারাদÐাদেশ দেওয়া হয়।
মামলার অপর আসামি আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ঢাকার ৩ নম্বর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
ওই দিন বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ ঐশীর প্রকৃত বয়স প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর সে যে সাবালিকা, এটাও প্রমাণিত হয়েছে।’ আসামিপক্ষ ঐশীর বয়সের পক্ষে যা যুক্তি দিয়েছে, তা যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেন আদালত।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘ঘটনার দিন ঐশী নেশাগ্রস্ত ছিল। তাঁর ক্রিমিনাল ইনটেন্ট (অপরাধ সংঘটনের ইচ্ছে) ছিল। হঠাৎ করেই কোনো উত্তেজনা ছিল না, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সে তাঁর বাবা-মাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে। সে সুকৌশলে কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে।’
২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার দিন বিকেলে পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করেন ওই দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান।
২০১৪ সালের ৯ মার্চ ঐশীকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আবুল খায়ের। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ৪৯ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সূত্র : আরটিভি
মেডিক্যালের ফরেনসিক প্রতিবেদনে যাই আসুক না কেন, রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ঘটনা প্রমাণের জন্য পুলিশের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আইনগতভাবেই আসামিদের ধর্ষক হিসাবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের শিকার তরুণী ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত নাঈম আশরাফের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনও এখন পুলিশের হাতে। ইতিমধ্যেই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ধর্ষণের মামলায় জব্দ করা সব আলামতের প্রতিবেদন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া না গেলেও সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদারকি কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘মেডিক্যালে ধর্ষণের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে মোটেও ভাবছি না। কারণ আমরা আগেও বলেছি ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এখনও বলছি, ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণের জন্য যেসব তথ্য প্রমাণ দরকার তার সবই পেয়েছি। এছাড়া আমরা সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছি। এখন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সবাই আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যেও মিল পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও কিছু তথ্য-প্রমাণ তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে রয়েছে, যার মাধ্যমে মামলার তদন্তের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ধর্ষণের ঘটনার আলামত ধরা পড়েছে। এছাড়া এক্সপার্টদের সুপারিশেও বিষয়টির সত্যতা উঠে এসেছে। তাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক প্রতিবেদন নিয়ে মোটেই বিচলিত নন পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
তদন্তকারী একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনার দীর্ঘদিন পর দুই তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাবে না—এটা আমরা আগেই জানতাম। বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেই নিশ্চিত হয়েছিলাম। তার মানে এই নয় যে ওই দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হননি। তিনি আরও বলেন, এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া সব আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও তাদের হাতে আছে। কাজেই বিচার প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই আসামিদের পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে মামলায় জব্দ করা বিভিন্ন আলামতের পরীক্ষা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-র পরীক্ষাগারে। ধর্ষণের শিকার একজন শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত পোষাক ও ধর্ষণে জড়িত মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে হালিমের নমুনা ডিএনএ টেস্টের ম্যাচিং রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা ৬টি মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। রেইনট্রি হোটেল থেকে জব্দ করা সিসিটিভি সার্ভার মেশিন ও হোটেলে অবস্থানের নথিপত্রও তারা পরীক্ষা করে ধর্ষণের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ঘটনার এক মাস ১০ দিন পর ভিকটিমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে আসেন। কিন্তু, দেরিতে আসায় ইনজুরির তেমন কোনও চিহ্ন ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘তবে তারা ধর্ষিত হয়েছেন কিনা সে ব্যাপারেও কিছু বলবো না। আমরা প্রতিবেদনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।’ বৃহস্পতিবার (১ জুন) দুপুরে ডা. সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।
গত ২৮ মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। ঘটনার এক মাস ৭ দিন পর গত ৬ মে তারা বনানী থানায় মামলা করেন। এ মামলার পাঁচ আসামি সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, বিল্লাল ও রহমত আলীকে ঢাকা, সিলেট ও মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আসামিরা আদালতে ঘটনায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
গোপালগঞ্জে দেড় যুগ আগে এক গ্রাম্য মহাজনকে হত্যার দায়ে পাঁচজনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নাজির আহমেদ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন – জাকারিয়া শাপু, আলীউজ্জামান খোকন মাস্টার, শাহাদত হোসেন, হেমায়েত উদ্দিন ও শাজাহান। তাদের মধ্যে শাপু ও শাজাহান পলাতক।
পাঁচজনকে সর্বোচ্চ সাজার আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
এ আদালতের এপিপি শহীদুজ্জামান পিকু জানান, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আর ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তিনজনকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে, তা না হলে আরও ছয় মাস জেল খাটতে হবে তাদের।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ১৭ জনের মধ্যে তিনজন পলাতক। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তিনজনের মধ্যে দুইজন পলাতক।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামের মহাজন সিরাজুল হক ছিরু মোল্লাকে ১৯৯৯ সালের ১০ অক্টোবর কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ওইদিন দুপুরে জুমার নামাজ পড়ে ছিরু মোল্লা নৌকায় বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা নৌকায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
ছিরুর স্ত্রী আমেনা বেগম পরদিন ৩৭ জনের বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিশ্বাবাসীর চোখ কিছুদিন আগেও আমাদের চারপাশের সাগরের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাকিয়ে থাকতে থাকতে অনেকেরই চোখ ভিজে গেছে নোনা জলে। যারা ‘মানুষ’ তারা এসব দেখে কাঁদে। সাগর আর এই মানুষগুলোর মধ্যে কি অদ্ভুত মিল। সাগরের পানি লবণাক্ত, মানুষের চোখের জলও তাই।
আবার অনেকেই আছেন, তাঁরা অর্থের লোভে মানুষকে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। বিপন্ন মানুষগুলোকে জিম্মি করে কেউ কেউ টাকা আদায় করে। এরাও মানুষ বা মানুষের মতো। এদের মূল্যাবোধের সংকট এতটাই তীব্র যে, এরা বোঝে না, মানুষ মরে গেলে লাশ ভিন্ন অন্য কোনো পরিচয় তার থাকে না। একইভাবে যারা বিপন্ন, তাদেরও ‘মানুষ’ ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় খোঁজা উচিত নয়। কিন্তু সম্প্রতি দেখলাম, সাগরে ভাসছে মানুষ। অথচ মানবতা সেখানে নিরব।
কিছু মানুষ নৌকায় চেপে সাগর পাড়ি দিয়েছে উন্নত জীবনের সন্ধানে। এদের বেশির ভাগই পাশের দেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। অনেকেই আমাদের বাঙালি। দুটি দেশের কেউই এই অসহায় মানুষগুলোর সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। এমন কি সরকারও। মিয়ানমার তো রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকারই করে না। ইতিহাসকে অস্বীকার করার রাজনীতি যে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, এমন দৃষ্টান্ত নিকট অতীতে কমই দেখা গেছে। এর মধ্যে আমাদের সরকার কেন যে জাতিগত সমস্যা আর ধর্মীয় অপপ্রচারকে গুরুত্ব দিয়েছে, তা বোধগম্য নয়। বিপন্ন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় অনুসন্ধান করতে যাওয়াটা রাজনীতি ছাড়া আর কী হতে পারে?
জাতিগত প্রশ্নে একই ভূখণ্ডের অধিবাসী হয়েও যেখানে আমরা ‘বাঙালি’ আর ‘বাংলাদেশির’ তর্কের সমাধান করতে পারিনি, সেখানে কীভাবে ভিন্ন একটি দেশের সঙ্গে আমরা এ সমস্যার সমাধান করবো। কয়েক বছর আগে জাপানে ইমিগ্র্যান্ট সমসা নিয়ে এক সভায় অংশগ্রহণ করে একটি খুব সুন্দর যুক্তি আমি খুঁজে পেয়েছি, যা কোথাও বলার সুযোগ হয়নি। জাপানের ৬৪টি জেলা কিন্তু সমানভাবে উন্নত না। সমানভাবে কর্মসংস্থানও নেই। যে কারণে এক জেলার মানুষ অন্য জেলায় যায় কাজের সন্ধানে। একইভাবে এক দেশের মানুষ যায় অন্য দেশে উন্নত জীবন ধারণের আশায়। এতে অন্যায় বা দোষের কিছু নেই।
জাপানীরা এখন এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যায় বেশি টাকা আয়ের উদ্দেশে কাজ করার জন্য। কিন্তু এক সময় তারাও নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যেত কাজের সন্ধানে। তারাও অভিবাসী হিসেবে বসবাস করেছে ভিন্ন দেশে। ভাগ্যক্রমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এখন অনেকেই এখানে আসে কাজের সন্ধানে। শুরুতে জাপানে অভিবাসীদের ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে এতটা কড়াকড়ি নিয়ম ছিল না। এখন যতটা কড়াকড়ি। এর জন্য অভিবাসীরাই দায়ী। তারপরও মানুষ আসছে জাপানে। জাপানে আসার জন্য দেশে মানুষ লাখ লাখ টাকা ধার-দেনাও করে। কারণ সবার ধারণা, জাপানে আসলে লাখ লাখ টাকা রোজগার করতে পারবে খুব সহজে। আর তাদের মনে স্বপ্নের জাল বুনে দেয় মানবপাচারকারী দালালচক্র।
কয়েক বছর আগে বাংলাভিশনে আমার ছোট একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম, আমাদের দেশের মানুষ খুব সরল প্রকৃতির। তাদের খুব সহজে বোকা বানানো যায়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে জমিজমা বিক্রি করে তারা দেশান্তরি হয়। তাও কি না, কাঠের তৈরি নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিয়ে। উন্নত জীবনের হাতছানি মানুষকে এতটা দুঃসাহসী করতে, এ যেন চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য। এমন চিত্রনাট্য রচনার ক্ষেত্র বন্ধ হওয়া উচিত। সেজন্য দরকার দেশের অভ্যন্তরে কাজের ক্ষেত্র বাড়ানো। তা না হলে মানুষ যে কোনো উপায়ে দেশ থেকে বের হবার পথ খুঁজতেই থাকবে। সেটা আকাশ বা সাগর, যে পথই হোক।
সাগর পথে একসময় পাশের দেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও অনেক বাঙালি জাপানে এসেছে জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে বা বসে। ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তাঁরা ঝুঁকি নিতে কার্পণ্য করেনি। এখনো যে যেভাবে পারছে, জাপানে আসছে। এখনো মানুষ মনে করে, জাপান বুঝি টাকার খনি। কিছুদিন আগেই দেখেছি, জাপানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিউজিক কনসার্ট আয়োজনের কথা বলে ১৭২ জনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার কিছুদিন পরে জাপানের পত্রিকায় একটি সংবাদ চোখে পড়লো, অন্য একটি চক্র জাহাজে চাকরি দেবার কথা বলে বাংলাদেশ থেকে ২৪ জনকে জাপানে নিয়ে এসেছে মোটা টাকার বিনিময়ে। আসার পরেরদিন সবাই এক সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য ইমিগ্রেশনে তাদের কাগজপত্র জমা দিতে গেলে পুলিশ তাদের সবাইকে আটক করে ফাটকে পুরে দিয়েছে। এসব ঘটনা অহরহ এখানে ঘটছে, যা আমাদের মোটেও কাম্য না।
আর যারা জাপান আসার যোগ্যতা বা সামর্থ্য রাখে না, তারাই কেবল নৌকায় করে মালয়েশিয়া বা সিংগাপুরে পাড়ি জমায়। এরা যে কোন উপায়ে গেলে সমস্যা হবার কথা নয়। গিয়ে যদি কোন ধরনের বিপদে না পড়ে। বিপদের পরলে জাত-মান-কূল সবই যাবে। আর যদি যাবার পর যথাযথ কাজ করার সুযোগ পায়, তাহলে এরা হয়ে যায় মানবসম্পদ। এদের উপার্জনকেই সরকার গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে বিদেশি রেমিট্যান্স বলে। সুতরাং এই মানবসম্পদ যেন কোনো দেশে ভুল পথে গিয়ে কোনো ধরনের বিপদে না পড়ে এবং দেশের যাতে কোন বদনাম না হয়, সে জন্য সরকারকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুষগুলো যেভাবে দালালের খপ্পরে পরে বিপদে পড়ছে, সেটা দেখে কষ্ট পাওয়া ছাড়া আমাদের মতো সাধারণ মানুষের আর কী করার আছে? শুধু বলতে পারি, মানুষের এমন ভুল ভাঙানোর জন্য আমাদের দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখা জরুরি। সচেতন করতে হবে, মানুষ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে পাড়ি না জমায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সম্প্রতি দেশে প্রচার হয়েছ বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে লোক আনা হবে জাপান। কোনো একটি পত্রিকাতেও পড়েছি এমন একটি সংবাদ। এই সংবাদ পড়ে অনেকেই জাপান আসার সেই সুযোগ খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে। আর এই সুযোগে এক শ্রেণির দালালও সক্রিয় হয়ে গেছে। তারা তাদের কৌশল যথারীতি প্রয়োগ করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
জাপানের বেলায় এমন ছোটখাটো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। লোকদের কাছ থেকে দশ পনেরো লাখ টাকার বিনিময়ে লোক আনছে। এদের আনার পর কি হচ্ছে? সবাই কি আর সোনার হরিণ ধরতে পারছে?
জাপান উন্নত দেশ আর এখানকার উপার্জনও তুলনা মূলক ভাবে বেশি। তাই এই দেশে আসার জন্য দালালদের চাহিদাও বেশি। যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি আর মোটা অংকের টাকা পরিশোধের সামর্থ আছে তারাই কেবল জাপান আসার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু যাদের দ্বারা এই ডিমান্ড পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই তারা স্বপ্ন দেখে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড কিম্বা সিংগাপুর আর ইন্দোনেশিয়া যাবার। এতে বিদেশ যেতে আগ্রহীর সংখ্যাও বেড়ে যায়। যে জন্য সহজে অনেক লোকের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে সক্ষম এই দালালেরা। কিস্তু এর কোন নির্দিষ্ট নিয়ম কানুনের বালাই নেই। নেই এসব তদারক করার সৎ লোকও। টাকার গন্ধ যেখানে আছে এবং সহজে টাকা রোজগারের পথ যেখানে খোলা, সেখানে সবই বদলে যায় ধর্ম আর আদর্শের কাছে। এই ক্ষেত্রে বলা যায়, যে যায় লংকায় সেই হয় রাবন।
সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখলাম সাগরে ভেসে বিদেশ পাড়ি দেবার বেশ কিছু করুণ চিত্রের ছবি। ছবির মানুষ গুলো তাদের পরিশ্রমের ফলে তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাগ্য পরিবর্তনের চিন্তা করেই অন্ধের মতন ঝাপ দিয়েছিল এই পথে বিদেশ পাড়ি দেবার জন্য। আর তাদের এই চিন্তা সফল হলে দেশ পেতো রেমিটেন্স আর দেশই হতো বেশি লাভবান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লোক গুলো বিপদে পরে গেল। অথচ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে না আমাদের দেশ বা সরকার।
এখানে কে রোহিঙ্গা আর কে বাংগালি সে বড় কথা নয়। কথা হচ্ছে সাগরে ভাসমান বিপদের পরা ওরা মানুষ। ওদেরকে প্রথম মানবতার কারণেই উদ্ধার করতে হবে তারপরে না হয় জাতি ধর্ম বিচার করা। বিষয়টি অতি সম্প্রতি আলোচনায় কম আসলেও এর স্থায়ী কোন সমাধান এখন পর্যন্ত হয়নি। সাময়িকভাবে কিছু কিছু দেশ মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত দেখালেও সময় সীমা তারা বেধে দিয়ে বলেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার কথা। যেহেতু জাহাজে বাংলাদেশিও সংখ্যায় কম ছিল না সুতরাং আমাদের দেশকেই এগিয়ে আসা উচিৎ ছিল আগে। তাহলে আমাদের বর্তমান সরকারের অনেক ভালো কাজের মধ্যে এটিও যোগ হতো মানবিক দিক থেকে।
সম্প্রতি এই ধরনের সমস্যা আমাদের বাংলাদেশিদের নয় শুধু, পুরো মানবজাতির উপরই যেন বইছে এমন কোন না কোন ঘটনার প্রতিফলন। তবে অতি সম্প্রতি যে করুণ চিত্র আমরা দেখতে পেলাম, এর সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সাথে জড়িত মূলহোতাদের যথাযথ শাস্তি দিয়ে এর স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দেশ থেকে যেন এই ভাবে আর কোন লোক বাইরে যেতে না পারে এবং বিদেশেও গিয়েও যেন সহজ সরল লোক গুলো কোন ধরনের বিপদে না পরে।
দেশ থেকে বাইরে যাবার এই হিরিক দেখে বাইরের দেশের মানুষ হাসতে পারে। পারে দেশের আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দুর্বলতার কথা অনুমান করতেও। সুতরাং আমাদের যত অর্জন তা যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল করতে হবে অবশ্যই। তা না হলে এভাবেই যেন ভাসবে মানুষ সাগরে আর হাসবে মানুষ এসব দেখে বিশ্বময়।