April 15, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর বানানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১৩ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। আসামিদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শফিউল আজম এ দিন ধার্য করেন। গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।
ওই ঘটনার ৪০ দিন পর গত ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পর্যায়ক্রমে মামলার ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে এখন তারা কারাগারে আছেন।
মামলার শুনানি উপলক্ষে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
আদালতে আসামিরা (১৬৪ ধারা) জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মামলার নথিতে সংযুক্ত করেন।
এর আগে গত ১৯ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।
সূত্র : পরিবর্তন ডটকম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশে শত শত ‘গোপন আটক’ আর ‘গুম’র অভিযোগকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ‘নেতিবাচক প্রচারণা’ দাবি করলেও সংস্থাটি তাদের অভিযোগকে সত্য বলে দাবি করেছে। ‘তিনি আমাদের কাছে নেই: বাংলাদেশে গোপন আটক আর গুম’ শিরোনামে প্রকাশিত এইচআরডব্লিউ-এর বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছে ওই মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা। নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বাংলাদেশের উদ্দেশে বলছে, সত্য বললেই তাকে নেতিবাচক প্রচারণা বলা যায় না।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এইচআরডব্লিউ-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে কয়েকশ’ মানুষ গুম কিংবা গোপন আটকের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিরোধী নেতাও রয়েছেন। সংস্থাটির প্রতিবেদনে অন্তত ৯০ জনের তথ্য রয়েছে, যারা কেবল ২০১৬ সালেই গুম হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে এক সপ্তাহ বা একমাস গোপন স্থানে আটকে রাখার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে এরকম ৪৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাদের কাছে তথ্য থাকার দাবি করে সংস্থাটি বলছে, এরকম আটক ২১জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে আর নয়জনের কোন তথ্যই আর জানা যায়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময়ও আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা করেছে এই সংগঠনটি। তাদের বর্তমান প্রতিবেদনটিও সেই প্রচারণার অংশ।’ এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এইচআরডব্লিউ তাদের বিবৃতিতে বলছে, ‘না বাংলাদেশ, সত্য বলার মানে ‘নেতিবাচক প্রচারণা’ নয়।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা আছে। তারা এসব নিয়ে কিছু বলে না। তারা (এইচআরডব্লিউ) এত গায়ে পড়ে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আসে কেন?’
বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছে এইচআরডব্লিউ। তারা বাংলাদেশের বক্তব্যের সত্যতা অস্বীকার করে বলছে, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘ কখনও বাংলাদেশের কথিত গুমের ব্যাপারে কিছু বলেনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, তাদের মতোই গুম-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা জাতিসংঘ ওয়ার্কিং গ্রুপের ক্ষেত্রেও বারবার অভিযোগগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে ‘কঠোর সতর্কতা’ জারি করেছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ নানা কারণে আমাদের দেশে মানুষ গুম হয়। কোনো সময় ব্যবসায়িক কারণে, যখন দেনা হয়ে যায় তখন লুকিয়ে থাকে। কখনো বা সামাজিক কারণে লুকিয়ে থাকে। কখনোবা বড় বড় অপরাধী যখন দেখে, পাপের ভার এমনই হয়ে গেছে যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার খোঁজ শুরু করেছে, সেই সময় সে আত্মগোপনে যায়।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এগুলো যদি গুম বলতে হয় তাহলে ‘গুমের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হবে’। তার দাবি, ‘গুমের যে খবর আছে, এর অধিকাংশই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করেছে। যারা ব্যবসায়িক কারণে গুম হয়েছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করেছে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ হাজির করেছে তারা। ডিবি, র্যাব কিংবা প্রশাসনের নামে তাদের কোথায় থেকে কখন কীভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর স্বজনদের পক্ষ থেকে এদের খোঁজ জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক রাখার কথা অস্বীকার করেছে। বিনা বিচারে দিনের পর দিন আটক রাখার পর এদের কাউকে কাউকে আদালতে হাজির করা হয়েছে আদালতে, কাউকে কাউকে চুপ থাকার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ গুম বা ‘ক্রসফায়ার’-এর শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে নিখোঁজ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ একশজনেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেখানে পুলিশের কাছে করা অভিযোগ ও অন্যান্য আইনি কাগজপত্রও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এসব ঘটনায়
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও গ্রহণ করে না পুলিশ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে এসব অভিযোগ তদন্ত করার আহবান জানিয়ে এইচআরডব্লিউ বাংলাদেশ সরকারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় না নিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট : যশোর থেকে উদ্ধারের পর কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহারকে ঢাকার আদাবর থানায় আনা হয়েছে। তার স্ত্রী ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, ফরহাদ মাজাহারকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার পরে ফরহাদ মজহারকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগরে খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে উদ্ধার করা হয় ফরহাদ মজহারকে। স্বজনেরা অভিযোগ করেন, গতকাল ভোরে কে বা কারা ফরহাদ মজহারকে রাজধানীর শ্যামলীর হক গার্ডেনের বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গেছে।
আদাবর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুজিত কুমার সাহা জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি দল ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। তাঁকে আদাবর থানায় নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্ধার করার পর গতকাল দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে খুলনার ফুলতলা থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ফরহাদ মজহারের ব্যাগে মোবাইল ফোনের চার্জার, শার্টসহ বেড়াতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া গেছে। ব্যাগ দেখে বোঝা যায় যে তিনি স্বেচ্ছায় ভ্রমণে এসেছেন। তিনি সুস্থ আছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, অপহরণ নাটক সাজানো হয়েছিল বলে মনে হয়।
আদাবর থানায় সাধারণ অভিযোগ (জিডি) হওয়ায় রাতেই ফরহাদ মজহারকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম আলো
ডেস্ক রিপোর্ট : বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আনিসুল হক বলেন, ‘বিচারপতিদের অপসারণে সামরিক সরকারের করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আদালত কেন সাংঘর্ষিক মনে করছেন না তা আমার বোধগম্য নয়। বিচারপতি অপসারণের বিষয়ে সংসদের হাতে যে ক্ষমতা ছিল সেটি ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত। আজ আপিল বিভাগ একটি সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়ে আমাদের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। এখনও আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় পায়নি। রায় পেলে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করবো।’
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিচারপতি অপসারণের পদ্ধতি কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব গণতান্ত্রিক দেশেই বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা যার কাছে আছে আমরা সেটিই প্রবর্তণ করেছিলাম। আমাদের এখানে সেটিই হবে।’
আপনারা যেটি করতে চাচ্ছেন এবং সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তা সাংঘর্ষিক হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংঘর্ষিক হবে না। তবে ভিন্ন কিছু একটা হবে। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলেই করণীয় চূড়ান্ত হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে কিনা-প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। রায় পাওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো।’
সংবিধান অনুযায়ী সংসদে প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ (অভিশংসন) করা গেলে বিচারপতিকে কেন অপসারণ করা যাবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে সুপ্রিম কোর্টের বহাল রাখার সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে মনে করেন না আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ্য এই নেতা বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমরা প্রেসিডেন্টকেও ইমপিচ করতে পারি। যদি প্রেসিডেন্টকে পারি, হোয়াই নট চিফ জাস্টিস অ্যান্ড আদার জাস্টিস? এটা হচ্ছে আমার স্পষ্ট বক্তব্য।’
সোমবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা জেনেছি, আপিল বিভাগ আমাদের আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায়কে বলা রেখেছে। আমি মনে করি না, সুপ্রিম কোর্ট সঠিক জাজমেন্ট দিয়েছে। আমরা এটা নিয়ে সংসদেও কথা বলব।’
‘জাতীয় সংসদ জাতিকে যেভাবে প্রতিনিধিত্ব করে, আইনজীবী ও বিচারবিভাগ জাতিকে ওইভাবে প্রতিনিধিত্ব করে না’— মন্তব্য করে সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই সংসদ হচ্ছে হাউস অব দ্য ন্যাশন। আমাদের সংবিধানেও সংসদের কাছে সবাই অ্যাকউন্ট্যাবল। সংসদের কাছ সবার জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সংসদের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকবে। আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানের মূল স্পিরিটও ছিল এটা। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। আমি মনে করি, মূল স্পিরিটে আমাদের থাকা উচিত। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সংসদের কাছে জুডিশিয়ারি অ্যাকাউন্ট্যাবল। কেউ এর বাইরে নয়।’
সাবেক মন্ত্রী রাজ্জাক বলেন, ‘যুক্তরষ্ট্রের সিনেটে একক মেজরিটি থাকলে বিচারপতিকে চাকরিচ্যুত করা যায়। আমরা সেখানে দুই-তৃতীংশ মেজরিটির কথা বলেছি। দুই-তৃতীয়াংশ তো কম কথা নয়। ইচ্ছা করলেই তো সংসদ যে কারও বিরুদ্ধে এটা করতে পারবে না।’
সংসদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের ঢালাও মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ড. রাজ্জাক বলেন, ‘বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা সৎ নন। তারা দুর্নীতিপরায়ণ, আদর্শে বিশ্বাসী নন। আমেরিকা-ভারতে দুইশ বছর আগে আমরা কী দেখেছি? এসব দেশের সিনেমাগুলো দেখলেও তার চিত্র পাবেন। ধীরে ধীরে এই অবস্থার উন্নতি ঘটছে। এখনও ভারতের সিনেমা দেখলে বুঝতে পারবেন, তাদের রাজনীতিবিদদের কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়। ঢালাওভাবে এরকম অভিযোগ দেওয়া ঠিক নয়।’ দুয়েকজনের মধ্যে দোষ-ত্রুটি থাকলেও তার জন্য সবাইকে নৈতিকতাবিবর্জিত ও দুর্নীতিপরায়ণ আখ্যা দিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. রাজ্জাক বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, পলিটিক্স ইজ দ্য নোবেলিস্ট প্রফেশন। ইটস আ ডিফিকাল্ট প্রফেশন, ভেরি কমপ্লেক্স প্রফেশন। এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’
আপিল বিভাগের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই রায়টি জনগণের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী এবং বাহাত্তরের সংবিধানের স্পিরিটেরও বিরোধী। তবে আমরা মনে করি না যে এই আইনের মাধ্যমে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হবে।’
এই রায় নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে জানানো প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সার্বভৌম সংসদসের সিদ্ধান্ত আদালত বাতিল করতে পারে না। সংসদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা বিষয়টি নিয়ে আবারও সংসদে কথা বলবো। ১৯৭২ সালের সংবিধানে মূল কাঠামোর আলোকে আমরা এটা তৈরি করেছি।’
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখায় হতাশ হয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলো আপিল খারিজ।
এ রায়ের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিনি হতাশ। আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মাহবুবে আলম বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল হয়নি, শূন্যতা বিরাজ করছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রয়েছে। এ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আজ সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলো আপিল খারিজ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় দেন।
বেঞ্চের অপর ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
রায়ের পর রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে না। আগের মতোই বিচার বিভাগই বিষয়টি দেখবে।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, এ জে মোহাম্মদ আলী।
ষোড়শ সংশোধনী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর ১১ তম দিনে গত ১ জুন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর আজ এ রায় দেওয়া হলো।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর চলতি বছরের ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১ জুন শেষ হয়।
এর আগে গত ৭ মার্চ আপিল বিভাগ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন, যাঁদের মধ্যে ১০ জন আদালতে মতামত উপস্থাপন করেন। এঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও এম আই ফারুকী ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেন। অপর অ্যামিকাস কিউরি আজমালুল হোসেন কিউসি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর দুজন মত উপস্থাপন করেননি।
সূত্র : প্রথম আলো।
ডেস্ক রিপোর্ট : সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রয়েছে। এ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আজ সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলো আপিল খারিজ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় দেন। আজ সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে এজলাসে আসেন বেঞ্চের বিচারপতিরা। সাড়ে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চের অপর ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
রায়ের পর রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে না। আগের মতোই বিচার বিভাগই বিষয়টি দেখবে।
রায় ঘোষণার সময় এজলাসে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, এ জে মোহাম্মদ আলী।
ষোড়শ সংশোধনী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর ১১ তম দিনে গত ১ জুন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর আজ এ রায় দেওয়া হলো।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর চলতি বছরের ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১ জুন শেষ হয়।
এর আগে গত ৭ মার্চ আপিল বিভাগ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন, যাঁদের মধ্যে ১০ জন আদালতে মতামত উপস্থাপন করেন। এঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও এম আই ফারুকী ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেন। অপর অ্যামিকাস কিউরি আজমালুল হোসেন কিউসি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর দুজন মত উপস্থাপন করেননি।
স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, জঙ্গি নির্মূল করা যায়নি তবে শক্তি ভেঙে দেয়া গেছে। জঙ্গিবাদকে সমূলে ধ্বংস করতে হলে দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।
রবিবার রাজধানীতে পুলিশ সদর দফতরে অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক জঙ্গি আমাদের অভিযানে নিহত হয়েছে, অনেকে গ্রেফতার আছে। তাদের আর শক্তি নেই ধ্বংসাত্মক কিছু করার।
‘রাজীব গান্ধীসহ নব্য জেএমবি নেতাদের নাম পুলিশের কাছে দুই বছর আগেই এসেছিল’- জাতীয় দৈনিকের এমন খবরের কথা উল্লেখ করে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, এ বিষয়ে হয়তবা পুরো পুলিশ বাহিনী জানতো না, পুলিশ বাহিনী জেনে পদক্ষেপ নেবে না এমন ঘটনার কোনো কারণ নেই।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অর্থের উৎস সম্পর্কিত অংশ পুনঃতদন্তের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন আপিল বিভাগেও খারিজ হয়ে গেছে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ রোববার কিছু পর্যবেক্ষণসহ এই আদেশ দেয়।
এর ফলে খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হাই কোর্টের আদেশই বহাল থাকছে এবং নিম্ন আদালতে স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা থাকছে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদিন এবং মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন জাকির হোসেন ভূঁইয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।
খালেদার আইনজীবীদের ভাষ্য, মামলায় যে টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে তা সৌদি আরব থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে। কিন্তু তাদের নথি অনুযায়ী ওই টাকা এসেছে কুয়েত থেকে। মামলার এ অংশটির পুনঃতদন্ত চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া।
তার ওই আবেদন গত ২ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে খারিজ হলে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু ৯ মার্চ হাই কোর্টেও তা খারিজ হয়ে যায়। আপিল বিভাগে ওই আদেশই বহাল থাকল।
দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, “খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে হাই কোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ তাতে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে সেই আদেশ বহাল রেখেছে। পর্যবেক্ষণে এ মামলার অর্থের উৎস সংক্রন্ত নথির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা থাকতে পারে।”
অন্যদিকে খালেদার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “আপিল বিভাগ অর্থের উৎস সংক্রান্ত নথির বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ বিচারিক আদালতকে আমলে নিতে হবে।”
এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে পরের বছর ৫ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৎকালীন তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
খালেদা জিয়া, সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ এ মামলায় জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এছাড়া কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন এই মামলাটি আত্মপক্ষ সমর্থন পর্যায়ে রয়েছে। একই আদালতে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাও বিচারাধীন।
সূত্র : বিডিনিউজ২৪।
মধ্যরাতে রাজধানীর গ্রিন রোডে কেউ নেই। সহকর্মীর অসুস্থতার খবরে এই রাতে পায়ে হেঁটে হাসপাতালে যাচ্ছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন। নির্জন রাস্তায় একা চলতে কিছুটা ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে ভয় আরও বেড়ে যায় তার। দেখছিলেন অদূরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কম বয়সের কয়েকজন যুবক কিছু একটা করছে।
তাদের দেখে রাস্তায় বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া ছিনতাইকারী বা সন্ত্রাসীদের কথা মনে পড়ে তার। কিন্তু এই পুরো রাস্তায় কারও চলাচল না থাকলেও সোহরাব মনে সাহস পেলেন আশপাশের প্রতিটি বাড়িতে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের দেখে। কাছাকাছি আসার পর যুবকদের দু’একজনকে সামনে এগুতে দেখে সাহস নিয়ে তিনি তাদের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করেন, ‘এই তোমরা কি কিছু বলবা?’ তার এই সাহসী প্রশ্নে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পাশ কেটে চলে যায় যুবকের দল। সোহরাবও কোনও ঝামেলা না বাড়িয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে।
রাতের নির্জন নগরীতে এমন অসংখ্য সোহরাবের মনে সাহস যোগাচ্ছেন বাড়িতে বাড়িতে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা। মধ্যরাতে একা একা চলাচল করতে হলেও তেমন নিরাপত্তাহীন মনে করছেন না অনেকে। বাসা-বাড়িতে থাকা নিরাপত্তারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল সাহস যোগাচ্ছে তাদের।
পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ সড়কে থাকেন। তিনি জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুছিয়ে বাসায় ফিরতে প্রায় দিনই রাত দেড়টা থেকে দুইটা বাজে। আসাদগেট পর্যন্ত বাসে আসলেও বাকি রাস্তাটা যান পায়ে হেঁটে।
ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আসাদগেট থেকে যাওয়ার সময় একবারের জন্যও ভয় কাজ করে না। কারণ আসাদগেট পার হয়ে একটু সামনে এগুলেই পুলিশের চেকপোস্ট। এরপর প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে সিকিউরিটি গার্ড। চলার পথে কখনও নিজেকে ‘ইনসিকিউর’ মনে হচ্ছে না। কারণ কিছু হলে অন্তত পাশের বাড়ির গার্ডরা ছুটে আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আট-দশ বছর আগেও বাড়িতে বাড়িতে এ ধরনের নিরাপত্তারক্ষী রাখার প্রবণতা ছিল নাল। হাতেগোনা কিছু বাড়ি ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষী রাখা হতো। এছাড়া অধিকাংশ বাড়িই থাকতো অরক্ষিত। নিজেরাই গেইট খুলে বাড়িতে ঢুকতেন বা বেরুতেন। দিন দিন জনগণের সচেতনা বেড়ে যাওয়ায় ও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িতে বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী রাখার শুরু করেন নগরের সচেতন লোকজন।
এছাড়া পুলিশও নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী রাখা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ভাড়াটিয়া ফরম পূরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করছে পলিশ বিভাগ।
এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ি থানার এসআই বিল্লাল আল আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিং হলো থানাধীন এলাকায় সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে কিছু মানুষকে সিলেক্ট করা। এলাকায় কোনও ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে তারা সবার আগে পুলিশকে জানিয়ে সহায়তা দেয়। আর এলাকা সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখবে এরা। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন তৈরি হয়।’
আর বিট পুলিশিং সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি থানা এলাকা বেশ কয়েকটি ইউনিটে ভাগ করা হয়। এর প্রতিটি ইউনিটকে বলা হয় বিট। আবার প্রতিটি বিটে পুলিশের একজনকে ইনচার্জ করা হয়। তারা জনগণের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেন। জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেন। এলাকার সমস্যা নিয়েও আলোচনা করা হয়।’
এসআই বিল্লাল আল আজাদ জানান, এই বিট পুলিশিংয়ে প্রতিনিয়ত বাড়িগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়। অনুরোধ করা হয় বাড়িতে যেন সিকিউরিটি গার্ড রাখা হয় ও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। সময়মতো ভাড়াটিয়া ফরম পূরণ করে জমা দিতেও তাড়া দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কাজ করার পর এই অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।
বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী থাকলে অপরাধ কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে যায় বলে জানান তিনি।
বাড়িগুলোতে নিরাপত্তারক্ষী থাকায় অপরাধ অনেকটা কমে আসে বলে মনে করেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবুল হাসান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী রাখার ব্যাপারে আমরা সবসময় বাড়ির মালিকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। তাদের নিজেদের স্বার্থেই এটা দরকার। এছাড়া পাড়া-মহল্লাগুলোতে নিয়মিত টহল রয়েছে পুলিশ-র্যাবের। তাদের পাশাপাশি বাড়িগুলোতে নিরাপত্তারক্ষী থাকলে বাড়ির সঙ্গে মহল্লাও নিরাপদ থাকে।