May 25, 2026
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আমাদের দেশে কোনো মাদক তৈরী হয়না। সব পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসে। কিন্তু এরপরও মাদকের গ্রাস থেকে আমরা মুক্তি পাচ্ছিনা। ফলে আমাদের যুব সমাজ পথ হারাচ্ছে। ’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভারত সরকারের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিলের সব কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে। এবং অন্যান্য মাদকও তারা নিয়ন্ত্রণ করবেন। ‘
রবিবার দুপুরে নগরীর অ্যাড. তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে মাদক বিরোধী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াবা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমাদের যুবসমাজের কাছে ইয়াবা একটি ভয়ংকর নেশায় পরিণত হয়েছে। তাই এটির ওপর আমরা সর্ব্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে যাচ্ছি। খুব দ্রুত আইনের মাধ্যমে আমরা সেটা ব্যবস্থ্যা করতে পারবো।
বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি, নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, সালাহ উদ্দিন আহমেদ এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থি ছিলেন দি ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ এর সভাপতি শিল্পপতি আমিনুল হক শামীম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, জেলা আ’লীগের সভাপতি অ্যাড. জহিরুল হক খোকা, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু, মহানগর আ’লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলসহ প্রমুখ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে যাবো এবং ২০৪১-এ উন্নত বাংলাদেশ হবে। এমন বাংলাদেশকেই এখন আমরা স্বপ্ন দেখছিএবং হৃদয়ে ধারন করি। সেখান থেকে যদি মাদকের কারনে আমাদের পথ হারিয়ে যায়, স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায় সেই দু:খের সীমা থাকবেনা। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। ’
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যতই প্রভাবশালী হোক তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। সকলকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে সচেতন থাকারও আহবান জানান তিনি।
অনেকটা হতাশা নিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পরও কোথায় যেনো সেই শক্ত গিড়টা ফসকে যাচ্ছে। সেজন্যই জনগণকে উদ্বুদ্ধ এবং সচেতন করার লক্ষ্যে বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মাদক বিরোধী সমাবেশ করছি।
মাদক বিরোধী আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী শামীম এন্টারপ্রাইজ প্রা: লিমিডের বেনাপোল এবং কক্সবাজারের দুটি এসি বাস উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে মন্ত্রী পুলিশ লাইন্সে পুলিশ ব্যারাক-২ এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য রিকশা প্রদান করেন।
সূত্র : বাংলাদেশে প্রতিদিন।
নিশ্চয় সবার মনে আছে। গত বছরের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের দিনে জঙ্গিদের গুলিতে গৃহিণী ঝর্ণা রানী ভৌমিক মারা গিয়েছিলেন। এসময় তিনি নিজ বাসায় ছেলেদের জন্য রান্না করছিলেন। তাঁর দুই ছেলে, বাসুদেব ভৌমিক ও শুভদেব ভৌমিক। ছোট ছেলে ক্লাস সিক্সে পড়াশোনা করলেও বড় ছেলে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করে এমবিএ’তে অধ্যয়নরত ছিলেন। পারিবারিক অবস্থাও সচ্ছল না। তাদের বাবাও ছিলেন বেকার। চর শোলাকিয়া এলাকায় এক শতাংশ জমিতে ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর তুলে তারা বসবাস করতেন।
মাতৃহীন পরিবারটির অসহায়ত্ব এবং দুরাবস্থার কথা বর্ণনা করে নিহত ঝর্ণা রানীর বয়োবৃদ্ধ স্বামী গৌরঙ্গ ভৌমিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরিবারটির জন্য সহায়তা ও বড় ছেলের চাকরির জন্য একটি আবেদন করেন। যথাযত নিয়মে চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।
বলে রাখা ভালো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিদিন এই রকম শত শত আবেদনপত্র প্রক্রিয়া করা হয় এবং সম্মতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপনের আগে, আবেদনগুলোর মূল্যায়ন করে কাকে কী সহায়তা করা যায় সেই পরিমাণটি আবেদনপত্রের উপরে উল্লেখ করে দেয়া হয়। ঝর্ণা রানীর পরিবারের আবেদনের উপরেও উল্লেখ ছিল ২ লক্ষ টাকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত সম্মতির পর
আবেদনপত্রগুলো কার্যালয়ের এসাইনমেন্ট অফিসারের কাছে ফেরত আসে। এর মধ্যে একটি আবেদনপত্রের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিজ লেখা, “দুই লক্ষ টাকা মাত্র, মানে একটি চাকরি দেয়া নয়। ”
এবং ২০ লাইনের আবেদনপত্রটির ১৮ নম্বর লাইনটি কালো কালির কলম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজের হাতে আন্ডারলাইন করা, যেখানে চাকরি চাওয়ার কথাটি উল্লেখ আছে।
অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু কন্যা আবেদনপত্রটির প্রতিটি শব্দ পড়েছেন। যে কাজটি তিনি সবকিছুর ক্ষেত্রেই করে থাকেন। মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি শব্দ দেখেন এবং পড়েন।
আজ সকালে এর বাস্তবায়ন ঘটেছে। জঙ্গি হামলায় নিহত ঝর্ণা রানীর ছেলে বাসুদেব ভৌমিক বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছ থেকে চাকরির নিয়োগপত্রটি গ্রহণ করেছেন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সহকারী অফিসার পদে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এই সময় হাস্যোজ্জ্বল বাবা গৌরঙ্গ ভৌমিক এবং ছোট ভাই শুভদেব ভৌমিক তার সঙ্গে ছিলেন।
যারা কথায় অন্যদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার তুলনা করেন, কথায় কথায় সমালোচনা করেন তাদেরকে বলি, এতটা নির্দয় হবেন না, করলে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। নয়তো এক সময় জাতির কাছে আপনাদের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এমন মহানুভব এবং বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের জন্য গর্বের। জনগণের জন্য দিনরাত কাজ করতে বয়স কিংবা ক্লান্তি কোনোটাই তাঁকে ক্ষান্ত করতে পারেনি।
(লেখকের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)
ডেস্ক রিপোর্ট :পর্যটন বিষয়ে প্রতিবেদনের জন্য এ বছর বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ১০ জনকে পর্যটন সাংবাদিক ফেলোশিপ দিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের হাতে ফেলোশিপের সনদ ও সম্মানি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘পর্যটন বিকাশে সাংবাদিকদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি সম্ভব। সাংবাদিকরা পর্যটনের বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।’
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটনে আমরা বিনিয়োগের অভাব অনুভব করছি। এ খাতে বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ভারত, মালায়শিয়া সরকারিভাবে বিনিয়োগ করছে, দেশের ব্র্যান্ডিং এ কাজ করছে। আমরা সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। বিনিয়োগের নজর দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি। বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট নিয়েছি, সেক্ষেত্রে ট্যুরিজমে মেগা প্রজেক্ট নেওয়া সম্ভব। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে গার্মেন্টের কাছাকাছি পৌঁছে যাব।’
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ট্যুরিজম এগিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের সমালোচনায় আমাদের সহায়তা হবে। পর্যটনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এ বছর ফেলোশিপের জন্য ২৬টি আবেদন জমা হয়। এর মধ্যে দশ জনকে ফেলোশিপ দেওয়া হয়। ফেলোশিপ পেয়েছেন— বাংলা ট্রিবিউনের চৌধুরী আকবর হোসেন, ঢাকা ট্রিবিউনের ইশতিয়াক হোসাইন, বৈশাখী টিভির রিতা নাহার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের শফিউল্লাহ সুমন, বণিক বার্তার মনজুরুল ইসলাম, দা ইন্ডিপেন্ডেন্টের তারেক মোরতাজা, আর টিভির জুলহাস কবীর, ডেইলি সানের সোহেল হোসেন পাটওয়ারি, এসএ টিভির নিয়ামুল সাদেক ও চ্যানেল ২৪ এর সাদ বিন শফিক।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও পর্যটন) মো. ইমরান, ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক নিখিল রঞ্জন রায়, মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক তৌফিক রহমান, সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল ইসলাম বুলু, ট্যুরিজম বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতার হোসেন, এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি নাদিরা কিরণ, সাধারণ সম্পাদক তানজিম আনোয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : আইনমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘কারো কাছে যদি মনে হয় প্রধান বিচারপতির বক্তব্য রাজনৈতিক, তাহলে আমি বলবো বিচার বিভাগের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাব।’
সদ্য অবসরে যাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নারী বিচারকদের পথ প্রদর্শক হচ্ছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। পৃথিবীর যেকোন দেশের চেয়ে আমাদের দেশে নারী বিচারকেরা অগ্রগামী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এ দেশ এবং বিচার বিভাগের ইতিহাসের অংশ। তিনি এদেশের বিচার বিভাগের অহংকার। তাকে অনুসরণ করে অনেক নারী এই পেশায় এসেছেন। আজ তাই দেশে ২৪ শতাংশ নারী বিচারক রয়েছেন।’
অনুষ্ঠানে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, আমি আমার বিচারিক জীবনে ন্যায়বিচার করে গেছি। কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা অবহেলায় ভুল বিচার করিনি।’
নারী বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নারী বিচারকেরা মনে রাখবেন বিচারকের জীবন মানেই ন্যায় বিচারের দায়িত্ব কাঁধে নেয়া। আর এই দায়িত্ব পালন করা খুব কঠিন ও পরিশ্রমের।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে উচ্চ আদালতে নারী বিচারপতির সংখা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মহিলা জজ এসোসিয়েশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ও দেশের নারী বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা শুধু উচ্চ আদালতেরই প্রথম নারী বিচারপতি ছিলেন না। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রথম নারী বিচারক।
নাজমুন আরা সুলতানা ফতোয়া বিষয়ক মামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকার আমলে বাদপড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ বিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিচারক ছিলেন।
১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ জেলা আদালতে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ (সহকারি জজ) হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৯০ সালে জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। তিনিই দেশের প্রথম নারী জেলা জজ।
২০০০ সালের ২৮ মে নাজমুন আরা সুলতানা হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০২ সালের ২৮ মে হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। চ্যানেল আই
ডেস্ক রিপোর্ট : সামনের বছর থেকে গ্যাস সরবরাহ ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।
শনিবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এর আয়োজনে ‘এনার্জি সিকিউরিটি ২০৩০: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটি’ সেমিনারে একথা বলেন তিনি।
তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, “শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ; আমাদের একটি ট্রান্সমিশন সিস্টেম রয়েছে। তবে গ্রাহকদের মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে একে আরো উন্নত করা প্রয়োজন।
শিল্পোৎপাদন এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সামনের বছর গ্যাস সরবরাহ ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে বছরের প্রথম ছয় মাস ৫০০ এমএম সিএফটি এবং পরবর্তী ৬ মাসে আরো পাঁচশ- মোট ১ হাজার এমএম সিএফটি গ্যাস যোগ হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরো উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে একসময় ৩০ শতাংশ সিস্টেম লস ছিল, তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে তা সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান সরকার শিল্পোদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত। বর্তমান সরকারের সময়েই একাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও একাধিকবার এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাসের সরবরাহ ২৭শ এমএম সিএফটি। এর মধ্যে ১৭শ এমএম সিএফটি গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. আবুল কাসেম খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি এম তাজুল ইসলাম, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ড. মুশফেকুর রহমান এবং ডিসিসিআই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট : আজ শনিবার থেকে শুরু হলো ২৭টি দেশের দুই দিনব্যাপী ‘ঢাকা পানি সম্মেলন ২০১৭’। পানি সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খনন করা হচ্ছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। পানি সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে-টেকসই উন্নয়নে পানি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘লবণাক্ত পানি প্রবণ এলাকায় পুকুরের পানি ফিল্টার করে লবণাক্ততা দূর করা হয়েছে। সাতহাজার পুকুর এবং গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬’শ টি। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে ৪ হাজার ৭’শ টি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী ঢাকার জন্য যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় নতুন খাল খনন করা হচ্ছে এবং পুরাতন খাল সংস্কার এবং জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বড় বড় আবাসিক এলাকায় জলাধার তৈরি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনেরও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’
বিভাগীয় শহরগুলোর উন্নয়নে যে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনাসহ সকল বিভাগীয় শহরে নিরাপদ পানি ভূ-উপরিস্থ পানি থেকে নিশ্চিত করার কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। নাব্যতা হ্রাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা এক’শ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২ হাজার এক’শ আমি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় আগামী এক’শ বছরে পানির প্রাপ্যতা বার ব্যবহার এবং প্রতিবেশগত বিষয় সমূহ বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তাসহ এসডিজির সাতটি অভিষ্ঠ লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই সম্মেলনে ২৭টি দেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ৮২ জন বিদেশি প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করবেন।
নিরাপদ পানির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১ নম্বর লক্ষ্য হচ্ছে সরাসরি পানির সঙ্গে সম্পৃক্ততা। এসডিজি ৬ এর অধীনে ছয়টি পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্যও আটটি ইন্ডিকেটর নির্ধারণ করা হয়েছে। এসডিজি ৬ ছাড়াও এসডিজির আরও সাতটি লক্ষ্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ডেস্ক রিপোর্ট : ভূমি পুনঃ উন্নয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে বদলে গেছে সিঙ্গাপুরের চিত্র। এই পদ্ধতি কিংবা এর কাছাকাছি মডেল অনুসরণ করে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার অনেক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। একই পদ্ধতির অনুসরণে পুরান ঢাকাকে বদলে দিতে চায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ জন্য পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পুরান ঢাকার বংশালের একটি জায়গাকে। এ জন্য ধারণাপত্র (কনসেপচুয়াল প্ল্যান) তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছে সংস্থাটি।
এই পদ্ধতিতে কোনো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার খণ্ড খণ্ড প্লটগুলোকে একত্র করে ভূমি পুনঃ উন্নয়নের (ল্যান্ড রি-ডেভেলপমেন্ট) মাধ্যমে ব্লকভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
রাজউক জানায়, ধারণাপত্রটি তৈরি করছে তাদের নগর পরিকল্পনা শাখা। এর অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার বংশালে ৩০ বিঘা ও ১০ বিঘা আয়তনের দুটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। কাল রোববার সেখানে জরিপ পরিচালনা করা হবে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজধানীর নতুন ড্যাপের (বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা) প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভূমির পুনঃ উন্নয়ন বা ল্যান্ড রি-ডেভেলপমেন্টের বিষয়টি নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অনেকখানি নতুন ধারণা। পুরান ঢাকার অধিকাংশ প্লটের আয়তন আধা কাঠা থেকে দেড় কাঠার মধ্যে। এত ছোট প্লটে ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেওয়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, এসব প্লটসংলগ্ন সড়কগুলোও অনেক সরু। এই অবস্থায় প্লটগুলোকে একত্র করে যদি তিন বিঘা, পাঁচ বিঘা আয়তনের একেকটি ব্লক তৈরি করা যায়, তাহলে সেখানে নতুন করে নির্মিত বহুতল ভবনে প্রত্যেকে একাধিক ফ্ল্যাট পেতে পারেন। জমির পরিমাণ ও সড়কের জন্য ছেড়ে দেওয়া জায়গার অনুপাত হিসাব করে কে কতটা ফ্ল্যাট পাবেন, সেটা নির্ধারণ করা হবে। সেই সঙ্গে ব্লকের মধ্যেই উন্মুক্ত স্থান, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার, বিনোদনকেন্দ্রসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধার সংস্থান করাটাও সহজ হবে। বিদ্যমান কাঠামো ঠিক রেখে যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
নতুন ড্যাপ প্রণয়নের জন্য এলাকাভিত্তিক জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভূমি পুনঃ উন্নয়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ২ মে পুরান ঢাকার হরনাথ ঘোষ সড়কের বাচ্চু সরদার ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ড্যাপ প্রণয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রাজউক ও দুই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বকশীবাজার, চাঁদনীঘাট, চকবাজার, মৌলভীবাজার, পুরোনো জেলখানা এলাকা, ইসলামবাগ, রহমতগঞ্জ ও বাবুবাজার এলাকার পাঁচজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। সেখানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুরান ঢাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভূমি পুনঃ উন্নয়নের সুপারিশ তুলে ধরা হলে জনপ্রতিনিধিসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রথমে একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা প্রমাণের তাগিদ দেন।
এ বিষয়ে নতুন ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ভূমি পুনঃ উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য কোনো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। আর পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে ভূমির মালিক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের মতামতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভূমি পুনঃ উন্নয়নের মাধ্যমে ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকাকে যে আমূল বদলে দেওয়া যায়, তার উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুরের প্রসঙ্গ টানেন নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। রাজউকের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভব এবং এটার সম্ভাবনাও আছে। আজকে আমরা সিঙ্গাপুরের যে অবস্থা দেখি, তার শতভাগ ল্যান্ড রি-ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে হয়েছে। চীনের বেইজিংসহ বেশ কিছু জায়গাতেও এটা হয়েছে। আজ হোক কাল হোক ক্রমান্বয়ে গোটা পুরান ঢাকাকে এভাবে নবায়ন করতে হবে।’
বংশালে ভূমি পুনঃ উন্নয়নের এই পাইলট প্রকল্পের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাফিজা খাতুন। পুরান ঢাকা বিষয়ে একজন গবেষক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তিনি এই প্রকল্পের বিষয়ে বলেন, সিঙ্গাপুরের বাইরে জাপান ও মালয়েশিয়ার অনেক ঘনবসতিপূর্ণ জায়গাকে এই পদ্ধতি কিংবা এর কাছাকাছি মডেল অনুসরণ করে নতুন করে সাজানো হয়েছে। কিন্তু এই পদ্ধতির সবচেয়ে কঠিন অংশ হচ্ছে কমিউনিটির সবাইকে একসঙ্গে একই প্রক্রিয়ায় অংশী করে তোলা। পুরান ঢাকার মতো একটা জায়গাকে ঢেলে সাজাতে এর থেকে কার্যকর কোনো পদ্ধতি নেই।
এই প্রকল্পের সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি নিজেও বিষয়টি নিয়ে উৎসাহী। এটি সফল হলে বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনার পরিসরে তা এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
সূত্র : প্রথম অালো।
ডেস্ক রিপোর্ট : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী বছর থেকে আর জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না। তিন ঘণ্টার মধ্যেই সব পানি নেমে যাবে। তবে বিষয়টি অসম্ভব বলে মনে করছেন বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক ম ইনামুল হক।
বৃহস্পতিবার ‘ঢাকা পানি সম্মেলন ২০১৭’ উপলক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আগে কখনো এত পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি বলে ঢাকার পানি নিরসনের জন্য দীর্ঘ কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় এই উদ্যোগ
নেওয়া হচ্ছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অবশ্য বলছেন, এত বৃষ্টি হওয়ার পরও গতকাল বুধবার তিন ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাওয়ায় বোঝা যায় ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রয়েছে।
ওই অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘এবারের বৃষ্টি ছিল নজিরবিহীন। কখনোই সচিবালয়ের ভেতরে এত পানি জমে থাকতে দেখিনি। তবে এত বৃষ্টি হওয়ার পর তিন ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেছে। তাতে বোঝা যায়, ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে জনগণকে সচেতন হতে হবে। ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ফেলা যাবে না।’
২৯ ও ৩০ জুলাই আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ২৭টি দেশ এতে অংশ নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।
তিন ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাবে বলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী যে আশাবাদের কথা বলেছেন, সে বিষয়টি সোজাসুজি অসম্ভব বলে মনে করছেন ম ইনামুল হক। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য আগে যেসব খাল ছিল, সেগুলো ভরাট করে ঘরবাড়ি-দালান করা হয়েছে। রাস্তা হয়েছে। এগুলো খাসজমি, যা কিনা ইজারা বা দালান করা বা ভরাট করার কথা নয়। ওয়াসা খালের পথ ধরে নয়, রাস্তা ধরে কালভার্ট অথবা পাইপ ড্রেনেজ নির্মাণ করেছে। এসব ড্রেন সোজাসুজি পথে যায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে আগের খালগুলো দখল ও ভরাটমুক্ত করে, ঠিকমতো নকশা করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ করতে বেশ কয়েক বছর লাগবে। আর ওয়াসা বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তা বিগত আট বছরে হয়নি। আগামী কোনো দিনই হবে না। বরং সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রকৃতি যে আপদই ডেকে আনুক না কেন, জনগণ সচেতন থাকলে সবকিছুই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’ বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী কারিগরি দক্ষতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট আইডিইবি এবং কারিগরি-ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ভোসিপিএসসি’র যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ। আগাম বন্যায় এবারে হাওর অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে উজানের ঢলের পানিতে বাংলাদেশের ব্যাপক এলাকা বন্যায় প্লাবিত এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় ধসে জানমালের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এসব দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছি এবং করে যাচ্ছি।’
উপস্থিত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও সততার ওপর নির্ভর করছে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। কাজের সঠিক মান নিয়ন্ত্রণে আপনারা কোনোভাবেই আপোস করবেন না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে প্রযুক্তির গণমুখী ব্যবহার জীবনমানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে আবারও উন্নত দেশগুলোতে ক্রমেই কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বাড়ছে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা। বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ মানুষের বয়স ২৪ বছর বা তার নিচে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সদ্ব্যবহার করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের আগে দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ছিল শতকরা এক দশমিক আট ভাগ। সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনায় তা এখন শতকরা ১৪ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এ শিক্ষা ২০২০, ২০৩০ এবং ২০৪০ সালে ২০, ৩০ এবং ৫০ ভাগে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার । আমরা জাপান, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ উন্নত দেশের মতোই কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী শিক্ষায় রূপান্তর করতে সচেষ্ট রয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে দেশে ৩টি মহিলা পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটসহ ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বেসরকারি পর্যায়ে সরকার অনুমোদিত ৪৬৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে। সরকারি প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় শিফট চালু রয়েছে। বাকি ২৩ জেলায় আমরা বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। বিভাগীয় শহরে আরও ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মহিলা কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে। ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দক্ষ মাবসম্পদ সৃষ্টির কার্যক্রম চালু আছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তিই একটি দেশ ও জাতির সামষ্টিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা ও প্রায়োগিক দক্ষতার সমন্বয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’
ডেস্ক রিপোর্ট : ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ (ফাইল ফটো)বাংলাদেশে ভূমি অফিসগুলো ডিজিটালাইজড করায় দুর্নীতি অনেকটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী শামসুল রহমান শরীফ। তিনি বলেন, ‘ডিজিটালাইজড ভূমি অফিসের দুর্নীতি রোধে সরকার কাজ করছে। ফলে দুর্নীতি অনেকটা কমেছে।’
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয়দিনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
শামসুল রহমান শরীফ বলেন, ‘আমি ডিসিদের ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতিগুলো কঠোরভাবে মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে জনগণকে ভূমি সংক্রান্ত সেবা দিতে বলেছি। এছাড়া ভূমি অফিসে গেলে ঘুষ না দিতে আমি জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি ডিসিদের উদ্দেশ করে আরও বলেন, ‘ডিসিরা প্রভু না, জনগণের সেবক। এটি মনে রেখে কাজ করুন।’