May 25, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো চলচ্চিত্রে এগিয়ে যাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; এজন্য সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই ক্ষেত্রটাতে যেন আমরা পিছিনে না থাকি। এই ক্ষেত্রটায়ও যেন আমরা আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে পারি।
“এর জন্য, যা যা সহযোগিতা দরকার… আমি কথা দিচ্ছি, আমি করব।”
বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি সব কিছু ধারণ করে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরামর্শ দেন তিনি।
“আন্তর্জাতিকভাবেও যেন আমাদের এই শিল্পটা যেন মর্যাদা অর্জন করতে পারে; সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।”
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে চলচ্চিত্রেও নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও দক্ষতা অর্জনের জোর দেন সরকার প্রধান।
অনুষ্ঠানে ২৫টি ক্যাটাগরিতে ৩১ জন শিল্পী ও কলাকুশলীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অনেকবার নিয়েছেন, এবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ‘আজীবন সম্মাননা’ নিলেন অভিনেত্রী শাবানা; সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব খান ও মাহফুজ আহমেদ; সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন জয়া আহসান। সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে বাপজানের বায়োস্কোপ ও অনিল বাগচীর একদিন।
দক্ষ চিত্রনাট্য রচয়িতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চলচ্চিত্র নির্মাণে স্ক্রিপ্ট রাইটার দরকার। খুব দক্ষ স্ক্রিপ্ট রাইটার আমাদের প্রয়োজন, যার অভাব আমাদের আছে।”
এজন্য সাহিত্যিক ও শিল্পীদের এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, একটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে স্ক্রিপ্টটা কতটা দক্ষতার সঙ্গে নির্মাণ করা হল, যা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে, সেটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
“একটা সিনেমা দেখার পর তার রেশটা নিয়ে যেন ঘরে ফেরা যায়।”
এজন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হলকে আধুনিক করে দিতে চাই, যেন সিনেমা হলে দর্শক ফিরে আসে।”
চলচ্চিত্রে সেন্সর ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনের’ খসড়া প্রণয়নের কথাও বলেন তিনি।
“সেন্সরের নামে অনেক সময়, অনেক রকম সমস্যার সৃষ্টি করা হয়।”
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বলেন শেখ হাসিনা।
“অনলাইনে চলচ্চিত্র মুক্তির ব্যবস্থা চালু হলে চলচ্চিত্র দর্শক ও গবেষকদের আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে।” এবারে পুরস্কারপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা আপনাদের কাজের স্বীকৃতি, যা আপনাদের ভবিষ্যৎ পথ চলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
অনুষ্ঠানে শাবানা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিলেও অসুস্থতার জন্য ফেরদৌসী রহমান আসতে না পারায় তার পুত্রবধূ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারা যেন হারিয়ে না যান। সেজন্য, পুরস্কার দিয়ে অবদানটা স্মরণ করতে চাই।”
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব না খাটানোর আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
“শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার দেওয়া হয়, তখন আমি আশা করব এখানে কেউ কারও প্রভাব খাটাতে চেষ্টা করবেন না। সত্যিকারের শিল্পীর যেন মূল্যায়ন হয়, সত্যিকারের কলাকুশলীর যেন মূল্যায়ন হয়।”
“আমাদের ক্ষমতা আছে। সেই ক্ষমতার যেন অপব্যবহার না হয়; সেই অনুরোধটাই আমি করব। কেউ যেন এই ধরনের চাপ সৃষ্টি না করে,” বলেন শেখ হাসিনা।
২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
>> আজীবন সম্মাননা- শাবানা ও ফেরদৌসী রহমান
>> শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র -বাপজানের বায়োস্কোপ (প্রযোজক- মো.রিয়াজুল মওলা রিজু) এবং অনিল বাগচীর একদিন (প্রযোজক-আবুল খায়ের)
>> শ্রেষ্ঠ পরিচালক- মো.রিয়াজুল মওলা রিজু (চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ) ও মোরশেদুল ইসলাম (চলচ্চিত্র- অনিল বাগচীর একদিন)
>> শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র- চলচ্চিত্র ও প্রকাশণা অধিদপ্তর (একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি)
>> শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- শাকিব খান (চলচ্চিত্র-আরো ভালোবাসবো তোমায়) ও মাহফুজ আহমেদ (চলচ্চিত্র-জিরো ডিগ্রি)
>> শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- জয়া আহসান (চলচ্চিত্র-জিরো ডিগ্রি)
>> পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- গাজী রাকায়েত (চলচ্চিত্র- অনিল বাগচীর একদিন)
>> পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- তমা মির্জা (চলচ্চিত্র-নদীজন)
>> খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- ইরেশ যাকের (চলচ্চিত্র- ছুঁয়ে দিল মন)
>> শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী- যারা যারিব (চলচ্চিত্র- প্রার্থনা) ও প্রমিয়া রহমান (চলচ্চিত্র- প্রার্থনা)
>> শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক- সানী জুবায়ের (চলচ্চিত্র-অনিল বাগচীর একদিন)
>> শ্রেষ্ঠ গায়ক- সুবীর নন্দী (তোমারে ছাড়িতে বন্ধু, চলচ্চিত্র- মহুয়া সুন্দরী) ও এস আই টুটুল (উথাল পাতাল জোয়ার , চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ)
>> শ্রেষ্ঠ গায়িকা- প্রিয়াংকা গোপ (আমার সুখ সে তো, চলচ্চিত্র-অনিল বাগচীর একদিন);
>> শ্রেষ্ঠ গীতিকার- আমিরুল ইসলাম (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ)
>> শ্রেষ্ঠ সুরকার- এস আই টুটুল (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র-বাপজানের বায়োস্কোপ)।
>> শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার- মাসুম রেজা (বাপজানের বায়োস্কোপ)
>> শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার- মাসুম রেজা (বাপজানের বায়োস্কোপ) ও রিয়াজুল মওলা রিজু (বাপজানের বায়োস্কোপ)
>> শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার- হুমায়ূন আহমেদ (অনিল বাগচীর একদিন)।
>> শ্রেষ্ঠ সম্পাদক- মেহেদী রনি (বাপজানের বায়োস্কোপ)
>> শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক-সামুরাই মারুফ (জিরো ডিগ্রী)
>> শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক- মাহফুজুর রহমান খান (পদ্ম পাতার জল)
>> শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক- রতন কুমার পাল (জিরো ডিগ্রী)
>> শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা- মুসকান সুমাইকা (পদ্ম পাতার জল)
>> শ্রেষ্ঠ মেক আপম্যান- শফিক (জালালের গল্প)।
হুমায়ূন আহমেদের পক্ষে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই ছেলেকে নিয়ে শেখ হাসিনার হাত থেকে প্রয়াত স্বামীর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
অস্বচ্ছল চলচ্চিত্রশিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়মিত অনুদান দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিল্পী কলাকুশলী ট্রাস্ট ফান্ড আরও বড় আকারে করতে হবে। যেন কোনো শিল্পীকে কষ্ট পেতে না হয়; তার একটা সুব্যবস্থা আমি করে যেতে চাই।”
জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার বিশ্বাস, চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ এ নীতিমালার আওতায় উপকৃত হবেন।”
২০২১ সালের মধ্যে এফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী বলেন।
তিনি বলেন, বিএফডিসি স্কয়ার নির্মাণ কাজ চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু হচ্ছে। এর ফলে চলচ্চিত্রশিল্পী ও কলাকুশলীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হবে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহতম উল্লাহ ও তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে শাবানা তার অনুভূতির কথা জানান।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
ডেস্ক রিপোর্ট : “মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরবাসীর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দেন। গত দুই বছরে যেসব কাজ হয়েছে তা তিনি না চাইলে আগামী ১০ বছরেও করা সম্ভব হতো না”— বলছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের মোহাম্মদ হানিফ মিলনায়তনে চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসি মেয়রের ভাষ্য, “আমার দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই সংস্থার সব রাস্তাঘাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছিল। মজুদ ছিল না মশার ওষুধ। সড়ক বাতি জ্বলতো না ১০ ভাগও। দেনার দায়ে জর্জরিত ছিলাম। নগর ভবনের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমন একটি অবস্থা থেকে দায়িত্ব নিয়ে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশদ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নগরবাসীর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দেন। তা না হলে গত দুই বছরে যেসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছি তা এক দশকেও করা সম্ভব হতো না। এটা ডিএসসিসি’র জন্য বিরাট অর্জন।”
সাঈদ খোকন আরও বলেন, “আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল গুলিস্তান, মতিঝিল ও নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা। এক্ষেত্রে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। দুই বছরে মৌলিক সমস্যাগুলোর ৮০-৯০ ভাগ সমাধান করেছি। এবার আগামী বছর থেকে ‘স্মার্ট ঢাকা’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করবো।”
সোমবার ঢাকার এই মেয়রের দাবি— “শুধু ভৌগলিক সীমারেখার ওপর ভিত্তি করে বিভাজনের ফলে অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের আয়ের মাত্র ৩৫ ভাগ পায় ডিএসসিসি। আর ৬৫ ভাগ পায় ডিএনসিসি। বিপরীতে ডিএসসিসি’র ব্যয় ৬৫ ভাগ আর ডিএনসিসির ব্যয় ৩৫ ভাগ। বেশিরভাগ স্কুল-কলেজ হাসপাতাল, মাতৃসদন, অবকাঠামো এবং জনবল বেশি বলে ঢাকা দক্ষিণ অংশে ব্যয় বেশি। এ কারণে সংস্থাটির রাজস্ব আয় দিয়ে এর পরিচালনা ব্যয় মিটিয়ে উন্নয়নের জন্য সামান্য অর্থই উদ্ধৃত্ত থাকে।”
শান্তিনগরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান মেয়র। তার বিশ্বাস, আগামী মাস থেকে এ এলাকায় আর কোনও জলাবদ্ধতা দেখা যাবে না। শহরের অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ৩১০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার এবং ২৩৯ কি.মি. নর্দমা বানানো হয়েছে। এছাড়া ১৩৫ কি.মি. সড়ক ও ২৭ কি.মি. ফুটপাতের নির্মাণকাজ চলমান আছে। উদ্বোধন হয়ে গেছে পাঁচটি এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন)। এছাড়া ১৯টির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ আর ২৩টির নির্মাণকাজ চলছে। ১১টি অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৪৭টির নির্মাণ এবং ১৭টির সংস্কার চলমান আছে।
ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘৩১টি খেলার মাঠ এবং পার্কেও আধুনিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। পথচারী ও যানচলাচলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করে ইতোমধ্যে ধানমণ্ডির শেখ কামাল সরণি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত একটি মডেল রোড নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক এলইডি বাতি লাগানোর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। পুরো নগরী এখন আলোকিত। পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ফলে যানজট এখন অনেক সহনীয় মাত্রায় এসেছে। এছাড়া পুরান ঢাকায় অবৈধ কেমিক্যাল কারখানা অপসারণ করেছি।’
মেয়র জানান, মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ২৩টি বাস-বে নির্মাণ, গুলিস্তান এলিভেটেড ওয়ার্কওয়ে নির্মাণসহ নানা উদ্যোগের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে ‘জলসবুজে ঢাকা’ প্রকল্প। ৩০ কিলোমিটার প্রাইমারি সড়কের মিডিয়ানে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হোল্ডিং কর মওকুফসহ নির্ধারণ করা হয়েছে কবরের স্থান। আটটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং ৯টির নির্মাণ ও ১৭টির সংস্কার কাজ চলমান আছে। ডিএসসিসি এলাকায় চিকুনগুনিয়ার উপদ্রুব কমে আসতে শুরু করেছে বলে দাবি তার।
উন্নয়ন কাজে গতি ফেরাতে মাত্র সাত ঘণ্টায় ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে সক্ষম এমন অত্যাধুনিক কোল্ড মিলিং মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান ডিএসসিসি মেয়র। তার ভাষ্য, ‘এর মাধ্যমে পুরনো সড়কের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে নতুন সড়ক নির্মাণ সম্ভব। ফলে খরচ কমবে ৬০ শতাংশ। এছাড়া আধুনিক রোড মার্কার, ব্যাটিং প্লান্ট, জেট অ্যান্ড সাকার মেশিনসহ বহু যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়। কাজে স্বচ্ছতা আনতে শতভাগ ই-টেন্ডার চালু করা হয়েছে। নব-সংযুক্ত আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা, ফুটপাত, নর্দমা ও সড়ক বাতির কাজ শুরু হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী খান মোহাম্মদ বিল্লাল, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালাহউদ্দিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার প্রমুখ।
ডেস্ক রিপোর্ট : তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিকদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৪ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সভায় অনির্ধারিত আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চান তিনি।
এর আগে সভার আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বংলাদেশ সংবাদ সংস্থা আইন-২০১৭’র খসড়া প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেন তথ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে সম্প্রতি আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারায় সাংবাদিকদের নামে মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি ও আন্দোলন সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরেন হাসানুল হক ইনু। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ছিলেন এমন একাধিক মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীকে হাসানুল হক ইনু বলেছেন— ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে এই আইনের ৫৭ ধারা ব্যবহার করে অনেকেই সাংবাদিকদের নামে মামলা করছে। সেই মামলায় অনেক সাংবাদিক গ্রেফতারও হচ্ছেন। এই মামলা ও গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকরা আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন, রাস্তায় নামছেন। এই মামলার বিরুদ্ধে তারা নানা ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছেন ও তা পালন করছেন। সাংবাদিকরা এই আইনটি বাতিল চান বলেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন তথ্যমন্ত্রী।
এ সময় তথ্যমন্ত্রীর কাছে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, ‘এই ধারায় কতজন সাংবাদিকের নামে মামলা হয়েছে? এই মামলায় কতজন সাংবাদিক জেলে আছেন? সরকার কি কোনও সাংবাদিকের নামে এই ধারা ব্যবহার করে মামলা করেছে? যারা এই ধারা ব্যবহার করে সাংবাদিকদের নামে মামলা করেছে, তারা তো সরকারের কেউ নয়। এই মামলাগুলো যারা করেছেন, তারা তো ব্যক্তিগতভাবে করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘সাংবাদিকদের হয়রানির উদ্দেশে তো সরকার এই আইন করেনি। কেউ যদি ইচ্ছা করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু লেখে তাহলে কি হবে? কেউ যদি দেশের ক্ষতি করতে চায় তাহলে কি হবে? কেউ যদি দেশ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যা খুশি তাই লিখে দেয় তাহলে কি হবে? এসব অপরাধ ঠেকাতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আইন তো সাংবাদিকদের হয়রানির জন্য করা হয়নি? সরকার তো কোনও সাংবাদিকের নামেও মামলা করেনি।’
এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যই নিশ্চুপ ছিলেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনি এলাকায় একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। আমরা সবকিছু বিবেচনা করে দেখেছি, সেখানে এ ধরনের কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া যায় না। তাই আমরা সেই কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেইনি। এ কারণে ওই সংসদ সদস্য তার মালিকানায় থাকা একটি দৈনিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার নামে নানান কুরুচিপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।’
এরপর শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ যদি আপনার নামে রিপোর্ট প্রকাশ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার আপনার রয়েছে। কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাহলে তো আপনি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।’
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার -২০১৫ প্রদান করবেন ।
চলচিত্র শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বরুপ আজ বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনা নির্বাচিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লা সম্মানিত অতিথি হিসেবে এবং তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ স্বাগত বক্তব্য দেবেন।
তথ্য মন্ত্রনালয় গত ১৯ মে ২০১৫ সালের চলচিত্র শিল্পে ২৫টি ক্যাটাগরিতেঅসামান্য অবদান রাখার জন্য ৩১ জনের নাম ঘোষনা করে।
নির্বাচিতরা হচ্ছেন চিত্রনায়িকা শাবানা ও সংগীতজ্ঞ ফেরদৌসি রহমান। ‘বাপজানের বায়োস্কাপ’ ও ‘অনিল বাগচীর একদিন’ যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, ‘একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি’ শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, মো. রিয়াজুল মওলা রিজু এবং মোরশেদুল ইসলাম যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রধান চরিত্রে শাকিব খান ও মাহফুজ আহমেদ যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও জয়া আহসান শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করছেন।
এছাড়াও পুরস্কার পাচ্ছেন পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা গাজী রাকায়েত ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী তমা মির্জা, খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ ইরেশ যাকের, শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী যারা যারিব । শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার প্রমিয়া রহমান, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক সানী জুবায়ের, শ্রেষ্ঠ গায়ক যুগ্মভাবে সুবীর নন্দী ও এস আই টুটুল, শ্রেষ্ঠ গায়িকা প্রিয়াংকা গোপ, শ্রেষ্ঠ গীতিকার আমিরুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ সুরকার এস আই টুটুল, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার মাসুম রেজা, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার যুগ্মভাবে মাসুম রেজা ও মোঃ রিয়াজুল মওলা রিজু, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক মেহেদী রনি, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক সামুরাই মারুফ, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রতন কুমার পাল, শ্রেষ্ঠ পোষাক ও সাজ-সজ্জা মুসকান সুমাইয়া, শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান হিসেবে শফিক।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে প্রখ্যাত শিল্পীরা মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।
সূত্র : বাসস।
ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর দখল হওয়া বিভিন্ন খাল উদ্ধারে যৌথভাবে মাঠে নামছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রথমিকভাবে ঢাকার আশেপাশের ৩৪টি খালের প্রকৃত সীমানা চিহ্নিতকরণ, দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নাব্য নিশ্চিতে জোর দেয়া হবে বলে জানা গেছে। ঢাকা ওয়াসার মতে, খাল দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনে পাড় বাঁধাই ও খালের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে হবে। অন্যদিকে এ কাজে সাফল্য পেতে উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদেরও বড় পরিসরে যুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
মিরপুরের বাউনিয়া খাল ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। তবে সাইনবোর্ডের ভিড়ে এর দেখা পাওয়ায় মুশকিল। বদলে গেছে গতিপথ। স্থবির পানিপ্রবাহ। একই অবস্থা প্যারিস খালেরও। বহুতল ভবনের দেয়ালে চেপে ধরে আছে খালটিকে। সাংবাদিক খাল ভরাট গেছে বর্জ্যে। পাড় দখল করে উঠেছে কারখানা।
আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তাব দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তাতে সাড়া দিয়ে খাল উদ্ধারে কাজে শুরু করছেন উত্তর ঢাকার মেয়র। এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন দক্ষিণ ঢাকার মেয়র সাঈদ খোকন।
প্রায় একযুগ ধরে রাজধানীর ২৬টি খালের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ওয়াসার পরামর্শ, দখলমুক্ত রাখতে সীমানা নির্ধারণের পর বাঁধাই করতে হবে পাড়। নির্মাণ করতে হবে ওয়ার্কওয়ে। তবে, ওয়াসার সঙ্গে একমত নন নগর-পরিকল্পনাবিদেরা। নিয়মিত তদারকির কোনো বিকল্প দেখছেন না তারা।
ঢাকা উত্তরে ২৩ এবং দক্ষিণ সিটির আওতায় আছে ১১টি। উদ্ধারের পর তদারকি হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় উন্নতি হবে বলেও মনে করছেন তারা।
ডেস্ক রিপোর্ট :হজযাত্রীদের বিমানের টিকিটে বাড়তি ভাড়া আদায় ও সিডিউল বিপর্যয় এড়াতে এবার কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
টিকিটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
Bisk Club
সোমবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন শেষে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন (বিএইচ হারুন) উপস্থিত ছিলেন।
প্রতি বছরই হজ ফ্লাইটে সিডিউল বিপর্যয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, এবার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের এবার সতর্কতা আছে। তবে প্রতিবার যেটা হয়, তা হলো ফিরতি যাত্রায় সমস্যা। সৌদি বিমানবন্দরের টার্মিনালে ট্রেনগুলোতে হজযাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তারা গেট পান না।
তিনি আরও বলেন, বিমানের জট লেগে যায়। আমরা চেষ্টা করছি এবার যেন সে ধরনের কোনো সমস্যা না হয়। লিংক ডিউরেশনও যেন কমিয়ে আনা যায়, সে চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা ও আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে এবারের হজযাত্রার প্রথম ফ্লাইট যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সময় মতো ছেড়ে যাচ্ছে। এ জন্য শুকরিয়া।
তিনি বলেন, আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পূর্ণ হজ ফ্লাইট শেষ হবে। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর, শেষ হবে ৫ অক্টোবর। আজ ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে হজ ফ্লাইট যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে পূর্ণ যাত্রী নিয়ে সৌদি ও বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রা করবে এবং ফিরে আসবে।
এবার হজযাত্রায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হবে না। সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইটে অনিয়মিত ১৪৪টি এবং নিয়মিত হজ ফ্লাইট ৩৩। হজ পরবর্তী মোট ১৬৮টি ফ্লাইট চলবে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এর মধ্যে অনিয়মিত ১৩৯ এবং নিয়মিত ২৯।
এবারের মোট হজযাত্রী ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। হজ ফ্লাইট ও সিডিউল ফ্লাইটে ব্যালটি ৪ হাজার ৯০ জন। নন ব্যালটি ৫৯ হাজার ৫শ ১০ জন। ফলে নির্বিঘ্নে হজযাত্রা সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, আশা করছি আল্লাহর রহমতে নিয়মিত ফ্লাইট যথা সময়ে ছেড়ে যাবে। সবার জন্য দোয়া ও শুভকামনা করে হজযাত্রীদের বিদায় জানানো হয়েছে।
এদিকে, হজযাত্রীদের টিকিট বিশেষ করে সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ ওঠেছে। ২/৩টি এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করছে সৌদি এয়ারলাইন্স। এটা বন্ধে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী রাশেদ খান বলেন, আমরা এটা সৌদি এয়ার কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের টিকিটিং পলিসি আছে। সারা বছর যারা তাদের টিকেট বিক্রি করে তারাই হজযাত্রীদের টিকিট বিক্রি করছে। নির্ধারিত এজেন্সিই টিকিট বিক্রি করছে।
তবে বিমানের টিকিট বাবদ অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ মন্ত্রণালয় পায়নি বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের বিমান কর্তৃপক্ষকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের মনিটরিং আছে। বিমানের যাত্রীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তারা এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি।
বিমান বাংলাদেশের কিছু মধ্যবর্তী কর্মচারীদের যোগসাজশে মতিঝিল অফিসকেন্দ্রিক টিকিট সিন্ডিকেট সক্রিয়। এটা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমাদের টাস্কফোর্স কাজ করছে। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা।
বিনা টেন্ডারে ২৭ কোটি টাকার ট্রলিব্যাগের একটি টেন্ডার ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, যদি কোনো অভিযোগ আসে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি একটা প্ল্যান দিয়েছি। সে অনুযায়ী কোয়ালিটি মেইনটেইন করা হবে। এমপি হারুন সাহেব বিষয়টি দেখভাল করছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট : তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহারের ফলে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমে চাপ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এ কারণে এ ধারা বাতিলের দাবি উঠছে। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধারায় যেসব মামলা হয়েছে তার কোনটিই সরকার করেনি। ব্যক্তি পর্যায়ে এই ধারার অপব্যবহার করে মামলা করা হচ্ছে। আর যেই এই ধারায় মামলা করুক না কেন, এতে সংবাদ কর্মীসহ মুক্ত চিন্তার মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
রবিবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিইউজে) আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, এ ধারা সংশোধন করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে যে ধারাই আসুক, সেখানে যেন তার অপব্যবহারের সুযোগ না থাকে আমরা সে দাবিও জানিয়েছি। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ফেসবুক বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে যেন অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ত্রাস বা নাশকতা করা না যায় সেজন্য অবশ্যই আইন থাকতে হবে।’
সভায় বিইউজের সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাধারণ সম্পাদক জেএম রউফ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক লালু, বিএফইউজের সহ-সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য্য শংকর, যুগ্ম মহাসচিব জিএম সজল, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম নয়ন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আরিফ রেহমান প্রমুখ।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত চারদলীয় জোট সরকার ১৯৭৪ সালে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত শ্রম আইনটি বাতিল করে সাধারণ শ্রম আইনের আওতায় সাংবাদিকদের নিয়ে আসে। বর্তমান সরকার সেই আইনটি পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের শুধুমাত্র শ্রমিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখার কারণেই ১৯৭৪ সালে বিশেষ আইনটি করেছিলেন। এই আইন পুনর্বহালসহ আধুনিকায়নের মাধ্যমে তার প্রতি বর্তমান সরকার সম্মান জানাতে চায়। তিনি যুদ্ধাপরাধী মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা থাকার কোনও সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। অচিরেই তা গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। এই ওয়েজ বোর্ডে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকেও সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্ঠা বলেন, ‘কালো টাকার মালিকদের হাতে যখন গণমাধ্যম চলে যায়, তখন তারা সেটিকে জনস্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। ফলে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও সাংবাদিকতা নানাভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সকল ভেদাভেদ ভুলে নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে এবং দেশের স্বার্থে এক হওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : পশুর নদীর চ্যানেলের খনন কাজ শেষ হওয়ায় বঙ্গোপসাগরের ফেয়ারওয়ে বয়া থেকে মংলা বন্দরের জেটি পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার নৌপথ ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে। এতে দেশের সামুদ্রিক বন্দর মংলায় ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। এখন একসঙ্গে ৩৩টি দেশি-বিদেশি জাহাজ এখানে ভিড়তে পারছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরে জাহাজে পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এখন মংলা বন্দর ব্যবহারের কথা ভাবছে নেপাল, ভূটান ও ভারত।
মংলা বন্দরের হারবার বিভাগ জানিয়েছে— সুন্দরবন সংলগ্ন করমজল, জয়মনিরগোল ও হারবাড়িয়া নামক স্থানে নোঙর ফেলে পণ্য খালাস করতো দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো। বন্দরের প্রবেশদ্বারে পলি জমা পড়ায় বিদেশি নাবিকরা ঝুঁকির কারণে হারবাড়িয়া পর্যন্ত আসতে চাইতেন না।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলীর (নৌ) অতিরিক্ষ দায়িত্বে থাকা শওকত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতি বছর পশুর চ্যানেলে পলি জমতো ১ দশমিক ৪ ফুট। পশুর নদীর নাব্যতা না থাকায় ৯ মিটার গভীরতায় জাহাজগুলো বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারতো না। এ কারণে ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে পশুর চ্যানেলে নাব্যতা সৃষ্টির জন্য ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না হারবার কোম্পানি ৩৫ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করে।
এরপর চ্যানেলে পুনরায় নাব্যতা সংকট দেখা দিলে বিভিন্ন মহলের দাবিতে ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল একনেকের সভায় পশুর চ্যানেলে ড্রেজিং করার জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। পরবর্তীতে বেড়ে যায় এর ব্যয়। ২০১২ সাল থেকে খনন প্রক্রিয়া শুরু করে শেষ হয় ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর। এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ৩৪ লাখ ৮ হাজার মিটার পলি অপসারণ হয়েছে।
মংলা বন্দর (ছবি- সংগৃহীত)মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ওলিউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বন্দরের যাত্রার শুরুতে মংলা নালা ও পশুর নদীর সংযোগস্থলে নদীর গভীরতা ছিল ৩৫ ফুট। এখন জেটিসহ ফেয়ারওয়ে বয়ায় একসঙ্গে ৩৩টি জাহাজ ভিড়তে পারে। এছাড়া চারটি ট্রানজিট শিট ও দুটি ওয়ারহাউস রয়েছে। সেখানে ৬০ হাজার মেট্রিক টন মালামাল রাখার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া তিনটি কন্টেইনার ইয়ার্ড ও গাড়ি ইয়ার্ডে দুই হাজার গাড়ি রাখা সম্ভব।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান অর্থ ও হিসাররক্ষণ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬২৩টি জাহাজ আসা-যাওয়া করেছে। ড্রেজিংয়ের পর থেকে বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিচালক গোলাম মোস্তফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিজস্ব বন্দর না থাকায় কলকাতার হলদিয়া বন্দর ব্যবহার করে আসছে নেপাল ও ভূটান। এখন মংলা বন্দর ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে তাদের। এ নিয়ে তারা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।’
মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভূটানের আট সদস্যের প্রতিনিধি দল ২০১৩ সালের ১১ জুলাই বাংলাদেশ সফর করেন। সূত্র জানায়, আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে খরচ কমানোর লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মংলা বন্দর সফরের সময় সুবিধাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। ১৯৯৭ সালে নেপাল এই বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাতে সম্মতি জানায়।
১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মংলা বন্দরের মাধ্যমে ৬৩ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে নেপাল। ট্রাকযোগে বাংলাবন্দ চেকপোস্ট হয়ে এসব মালামাল নেওয়া হয় সেই দেশে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাধার পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৯ সালে নেপালের পক্ষ থেকে মংলা বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয় আবারও। কিন্তু পরবর্তীতে দেশটি এগিয়ে না আসায় উদ্যোগটি সাফল্যের মুখ দেখেনি।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : নির্ধারিত সময়ে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে গেছে প্রথম হজ ফ্লাইট। আজ সোমবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ৪১৮ জন হজযাত্রীকে নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-১০১১। এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন ও ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানান।
মন্ত্রণালয় ও বিমান সূত্রে জানা গেছে, আজ হজ ফ্লাইট বিজি-৩০১১ দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ৪১৮জন, বিজি-৭০১১ সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে ৪১৮ জন এবং সিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ৮টা ৪০ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে।
প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধনকালে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, এবারের প্রথম হজ ফ্লাইটে যাত্রীর সংখ্যা ৪১৮ জন।
চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও এ বছর যথারীতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। গত শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশকোনায় হজক্যাম্পে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ জানিয়েছেন, এ বছর হজ ফ্লাইট ও সিডিউল ফ্লাইটে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন (ব্যালটি ও নন-ব্যালটি) ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে জেদ্দা যাবেন। এসব হজযাত্রীকে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পারাপারের জন্য বিমান ইতোমধ্যেই নিজস্ব সুপরিসর বোয়িং ট্রিপল সেভেন উড়োজাহাজ প্রস্তুত রেখেছে। এছাড়া ৪০৬ আসনের লিজের বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজে হজযাত্রীদের পারাপার করা হবে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত সিডিউল ফ্লাইটেও কিছু হজযাত্রী পবিত্র ভূমিতে যাবেন। পবিত্র হজের গুরুত্ব ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি নিরবচ্ছিন্ন হজ কার্যক্রম পরিচালনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ডেস্ক রিপোর্ট : এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যারা পাস করেছে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা ফেল করেছে তাদেরকে পড়ালেখার প্রতি উৎসাহ দিতে হবে। তাদের পড়ালেখার প্রতি আরও মনোনিবেশ করতে হবে, তাদের আরও ভালো করতে হবে।’
রবিবার (২৩ জুলাই) সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আজ দুপুর ২টার পর শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও টেলিটক মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আমরা শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছিলাম। নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়তে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। আজকে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ কম। কিন্তু এ শিক্ষার প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে কম্পিউটার স্বপ্নের মতো ছিল। অনেকে চিনতোই না। আমরাই প্রথম কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছিলাম। এছাড়া বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারের জন্য ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় করেছিলাম। আমাদের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না, আমি প্রথম করেছি। দেশে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, আমি আরও চারটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছিলামা।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ছেলেমেয়েদের কাছে চাই- তারা পড়াশুনা করুক। তাদের শিক্ষার জন্য আমি বৃত্তি দিচ্ছি। ট্রাস্ট ফান্ড করেছি যাতে উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে। আমরা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ সবাই একই ধারার শিক্ষা নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন পরীক্ষার রেজাল্ট হলে পত্রপত্রিকা নানা কথা লেখে। তারা ভুলে যান আমরা ক্ষমতায় আসার আগে কতজন পাস করতো, আর এখন কতজন পাস করে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বহুমুখী শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। কারিগারি শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে টেক্সটাইল ও ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সারাদেশে ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি ৫ হাজার ২৭৫টি। এছাড়া লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গ্রামের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ১০টি ভাষার অ্যাপস তৈরি করে দিয়েছি, যাতে বিভিন্ন ভাষা শিখে তারা বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরাই প্রথম ৬০ দিনের মধ্যেই রেজাল্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আগে পরীক্ষার সময় ও ফল প্রকাশের সময়ের কোনও ঠিক ছিল না। আমরা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এনেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ভর্তির ফরম সংগ্রহ, চাকরির জন্য তথ্য বাতায়ন করে দিয়েছি। এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। ফলে ছোটছুটি করে সময় নষ্টের প্রয়োজন হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কত শতাংশ পাস বা ফেল করলো তা বিবেচ্য বিষয় না। শিক্ষার্থীদের আরও পড়তে হবে, পড়াশুনার প্রতি মন দিতে হবে। প্রতিদিন পড়ার জন্য কোন সময় ভালো সেটা বেছে নিতে হবে। অভিভাবকদের সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজের ছেলেমেয়েদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে, যেকোনও কথা যেন বলতে পারে তেমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গি পথে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তারা কোথায় যায়, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে কিনা সেটা দেখতে হবে। তাহলে তারা জঙ্গি পথে যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ দেশের দায়িত্ব এ ছেলেমেয়েদের নিতে হবে। ভালো বিজ্ঞানী, শিক্ষক হতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখনকার ছেলেমেয়েদের নেতৃত্ব দিতে হবে। অনেক রক্ত দিয়ে দেশটা স্বাধীন করেছি। বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদামপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। প্রতিটি মানুষ যে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। স্বাধীনতার পর সামরিক শাসকরা দেশকে ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। কয়েক বছর রিফুজি হিসেবে বিদেশে বাস করেছি। তখন বাংলাদেশের নাম শুনলে সবাই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতো।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় সঠিক মূল্যায়ন হওয়ায় এ বছর পাসের হার কম। সৃজনশীল উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন ও অবমূল্যায়ন নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে সরকার।
উল্লেখ্য, সারাদেশের পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন, পাস করেছে ৮ লাখ এক হাজার ৭১১ জন।