May 25, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : গণমাধ্যমে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব যেভাবে প্রচার করা হয়েছে, বাস্তবে তা নয় বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘এই রোগের মহামারি রূপ ধারণ করার প্রশ্নই উঠে না।’
শনিবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু সম্পর্কিত বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় মেয়র সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।
সভায় সাঈদ খোকন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক,স্বাস্থ্যসচিব সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.আবুল কালাম আজাদ, বিএমএ সভাপতি ডা.মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের ডা. টিটু মিয়া, অধ্যাপক কবিরুল বাশার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় চিকুনগুনিয়া রোগের ধরন ও গতিবিধি বুঝতে সময় লাগলেও প্রাদুর্ভাবের কয়েকদিন পরই মাঠে নেমেছে সিটি করপোরেশন। তবে মশক নিধনসহ চিকুনগুনিয়া বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সিটি করপোরেশন। আর সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসাসেবা দিতে সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল টিম বাসায় পৌঁছে যাবে।’ তবে নতুন নতুন ভাইরাস ও রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার বলে মনে করেন মেয়র সাঈদ খোকন।
একই সুরে কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ কমেছে। মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন প্রকার মশা চিহিৃত করে তাদের প্রকৃত প্রজননস্থান ও বাহিত ভাইরাস এবং তাদের দ্বারা সৃষ্ট রোগসমূহ নিয়ে গবেষণা করতে হবে।’
মশা বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘দেশে ১২৩ প্রকারের মশা রয়েছে। তবে চার থেকে পাঁচ প্রকারের মশাই বেশ আলোচিত। বাকি অনেক মশার ক্ষতিকারক দিক ও গতিবিধি এখন পর্যন্ত বের করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা দরকার। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে প্রাদুর্ভাব হওয়া সংক্রামক রোগসমূহ মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি থাকতে হবে। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতাসমূহ তাই বলে দিচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর ২ হাজার বাসায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকার মশার নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। পরবর্তীতে এই পর্যবেক্ষণমূলক কাজের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’
সূত্র : বিডিনিউজ২৪।
ডেস্ক রিপোর্ট : সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে আইনমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবাদের মুখে আইনমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা লালমনিরহাট জেলা শাখা আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০১৭-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল সোবহান চৌধুরী এসব কথা বলেন। শহরের পুরাতন জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এই ধারায় মামলা করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। তাই এই ধারাটি নিয়ে সারাদেশে তো বটেই, বিশেষ করে সাংবাদিক মহলেও প্রতিবাদ হচ্ছে। আমাদের সেই প্রতিবাদের মুখে আইনমন্ত্রী ধারাটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।’
ইকবাল সোবহান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি মুক্ত গণমাধ্যম চান। সেখানে এই ৫৭ ধারা বাতিল হবে। কোনও কালা কানুন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিশুদের গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের আধুনিক ডিজিটাল কর্মমুখী শিক্ষা দিতে হবে যেন তারা এই শিক্ষা নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে। এসব বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে যেন দেশে জঙ্গিবাদ মাথা চারা দিতে না পারে।’ জেলা শিশু-কিশোর মেলার সভাপতি মোড়ল হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে ইকবাল সোবহান প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ ও লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতিরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মিয়া মনসফ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছির মোহাম্মদ, শিশু-কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় প্রধান পৃষ্ঠপোষক মীর মোশাররফ হোসেন, লালমনিরহাট শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক কবি ফেরদৌসী বেগম বিউটি প্রমুখ।
পরে তিনি লালমনিরহাট জেলা পরিষদের নতুন মিলনায়তনে রংপুর বিভাগীয় (আট জেলার সব পৌরসভার) পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সমাবেশেও বক্তব্য রাখেন।
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্বে সম্মানজনকভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে আপনারা সেজন্য দোয়া করবেন। আমাদের এতিম দুই বোন ও আমাদের নাতি-নাতনিদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা যেন সুস্থ থাকতে পারি।’ শনিবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্প থেকে ‘হজ ২০১৭’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব বলেন।
যারা এ বছর হজ পালন করতে যাচ্ছেন তাদেরকে দেশের জনগণের জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারকে গিয়ে দোয়া পড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িতদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইসলাম পবিত্র ধর্ম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম ধর্মে নারীদের সবচেয়ে বেশি অধিকার রয়েছে। সুতরাং এই ধর্মকে কলুষিত করার মতো কোনও কাজ করবেন না।’
শেখ হাসিনার দাবি, এমন দিনও গেছে এ দেশের মানুষ একবেলা খেতে পারেনি। তার সরকার মানুষকে দু’বেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না। দোয়া করবেন প্রত্যেক মানুষকে যেন ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে পারি। কেউ গৃহহীন থাকবে না, প্রত্যেক ঘরে আলো জ্বলবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি করে দেওয়া হচ্ছে, আগামীতেও এটা অব্যাহত থাকবে। আপনাদের যেন আমরা আরও সেবা করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান। নিজেদের দুই বোনকে এতিম উল্লেখ করে ওই ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ডেস্ক রিপোর্ট : হজ যাত্রীদের বিমানের বর্ধিত ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
শুক্রবার দুপুরে হজ ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। হজ যাত্রীদের বিমানের টিকিটে আবগারি শুল্ক ও সৌদি আরব বিমানবন্দরে বর্ধিত টার্মিনাল ভাড়া বাবদ মাথাপিছু ৩ হাজার টাকা কোরে পরিশোধ করবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার পর আজ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ধর্মমন্ত্রী।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে হজ প্যাকেজ অনুমোদন হবার পর গত ৬ জুলাই অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা যুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার।
সূত্র : সময়টিভি।
ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তারা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ডকুমেন্টস বানিয়েছে। বিভিন্ন ঘটনা ফটোশপের মাধ্যমে কারসাজি করে বিদেশি দূতাবাসগুলোসহ বিদেশের বিভিন্ন সংস্থাকে পটিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সেন্টিমেন্ট তৈরি করতে চাচ্ছে।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর একাধিক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের চেষ্টা হচ্ছে। ছোটখাট ইস্যুকে বড় করে ফায়দা হাসিল করতে চায় তারা। সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় নির্বাচন সন্নিকটে। সেই হিসেবে প্রস্তুতিতে পিছিয়ে আছে আওয়ামী লীগ।’
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করে নাজেহাল হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তারিক সালমানের পক্ষে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা করে শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে ইউএনও প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হুবহু ছবি আজ পর্যন্ত কেউ আঁকতে পারেনি। আমরাও যেগুলো ব্যবহার করি ওইসব ছবিতেও কিছু খুঁত থাকে। হুবহু হয় না, আমি তো জানি।’ ছবি বিতর্কের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হলে এসব মন্তব্য করেন তিনি। গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ঘটনাটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া শিশুটি যে ছবি একেঁছে, তা খারাপ আকেঁনি। শিশুদের কল্পনায় বঙ্গবন্ধু যেভাবে ফুটে উঠেছেন তা তারা প্রকাশ করেছে, আর ওই ছবি ব্যবহার করে ইউএনও’র কার্ড ছাপানোর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়েছে এটিই বড় ব্যাপার। প্রশংসনীয় এই উদ্যোগকে বিতর্কিত করা হয়েছে।’ বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে ইউএনও’র নাজেহালের ঘটনাটি নিয়ে ভীষণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘ছবি ব্যবহার করা নিয়ে যারা এটা করেছে, তারা নিশ্চয়ই দলের ও সরকারের জন্যে ভালো কিছু করেনি।’ তিনি বলেন, ‘যে বিচারক সরকারি একজন কর্মকর্তাকে জেলে পাঠিয়েছেন তিনি হয়তো নিজে অতিউৎসাহী হয়ে এটা করেছেন, অথবা কারও ফোন পেয়ে প্রভাবিত হয়েছেন। এখন খুঁজে বের করতে হবে সেই ফোন কার ছিল। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে বিভাগীয় অনুমতি লাগে। তিনি কি তা নিয়েছেন-আমার প্রশ্ন।’
সূত্র জানায়, ইউএনও’র এ ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আর এ প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। গণভবনের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানায়। ওই সূত্র আরও জানায়, ইউএনও নাজেহালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রী অনেক পরে অবগত হয়েছেন। এটা জেনে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই হস্তক্ষেপ করেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিকৃত ছবি ব্যবহারের অভিযোগে বরিশালে দায়ের করা একটি মামলায় আগৈলঝাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমান নাজেহাল হন।
আগৈলঝাড়া উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮-তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিশুর আঁকা দু’টি ছবি ব্যবহার করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭-এর আমন্ত্রণপত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।
আমন্ত্রণপত্রের প্রচ্ছদে (ফ্রন্ট কাভার) ওই প্রতিযোগিতায় ‘গ’ গ্রুপে প্রথম হওয়া আগৈলঝাড়া এসএম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতির্ময়ের আঁকা মুক্তিযুদ্ধের রণক্ষেত্রের একটি ছবি এবং শেষ প্রচ্ছদে (ব্যাক কাভার) ‘খ’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী আগৈলঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অদ্রিজা করের আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
শিশুদের সৃজনশীল ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ব্যবহার করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আমন্ত্রণপত্রটি ডিজাইন করা হয়।
আমন্ত্রণপত্রটি ছাপা হওয়ার পর শেষ প্রচ্ছদে জাতির পিতার প্রতিকৃতিটি বেমানান মনে হওয়ায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭-এর আমন্ত্রণপত্রটি সংশোধন করে পুনরায় ছাপা হয়। সংশোধিত আমন্ত্রণপত্রে জাতির পিতার প্রতিকৃতিটি প্রচ্ছদে ও মুক্তিযুদ্ধের রণক্ষেত্রের ছবিটি শেষ প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়।
বাংলা ট্রিবিউন থেকে নেয়া।
ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপির কারো মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, তা পৃথিবীর কোনো দেশে ঘটেনি বলে মন্তব্য করলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতন্ত্র বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি আরও বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আন্দোলনে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে বিএনপি। এই কর্মকাণ্ড কোনো গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় পড়ে? গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একক দায়িত্ব সরকারের নয়, এ দায়িত্ব সবার।
ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী বছরের মধ্যে সারাদেশে সাড়ে ১৯ হাজার স্কুলভবন নির্মিত হবে। উপজেলা পর্যায়ে চারতলা, জেলা পর্যায়ে আটতলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে দশ তলাভবন নির্মিত হবে।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ’র) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কথা জানিয়েছেন।
পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা-২০১৬-তে ডিআরইউ সদস্যদের কৃতি সন্তানদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদানের এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডিআরইউ’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সহ সভাপতি আবু দারদা জুবায়ের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জিলানী মিল্টন ও দপ্তর সম্পাদক নয়ন মুরাদসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী।
ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জিয়া তার পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির পথ পরিষ্কার করতেই ঠান্ডা মাথায় কর্নেল তাহেরকে হত্যা করে। কর্নেল তাহের হত্যাকাণ্ড একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
শুক্রবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তাহের দিবস উপলক্ষে জাসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
জাসদ সভাপতি বলেন, জিয়া আর কর্নেল তাহেরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। জিয়া বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ঠেলে দিতে চেয়েছিল। তাহের বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ঠেলে দেয়ার বিপরীতে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালিত করার জন্য ৭৫ এর ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, গণ আজাদী লীগের সভাপতি অ্যাড. এস কে সিকদার, ন্যাপ এর সহ-সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর আহবায়ক রেজাউর রশিদ প্রমুখ।
দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. রবিউল আলম, শহীদ কর্নেল তাহেরের অনুজ ও জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ও সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান শহীদ কর্নেল তাহের এর সহযোগী ফ্লাইট সার্জেন্ট রফিকুল হক বীর প্রতীক প্রমুখ।
জিয়া ও তাহেরের যে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল সেই বিরোধ এখনো অবসান হয়নি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বেগম জিয়া ও বিএনপি জিয়ার পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি বহন করছে। আর আমরা জাসদ, ১৪ দল তাহেরের মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি বহন করছি। রাজনীতির মাঠ থেকে রাজাকারদের বিদায় করতে হবে। রাজাকাররা বাংলাদেশে আর কোন দিনই ক্ষমতায় আসবে না। রাজাকার মুক্তিযোদ্ধার মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা আর হবে না। সরকারেও মুক্তিযোদ্ধা থাকবে, বিরোধী দলেও মুক্তিযোদ্ধা থাকবে।
দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভোর ৬ টায় জাসদ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে কর্নেল তাহেরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান। জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম এর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের ৪১তম বার্ষিকীতে গতকাল সকাল ১১টায় নেত্রকোনার পূর্বধলায় তার সমাধীতে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও শহীদ কর্নেল তাহেরের সহধর্মীনী মিসেস লুৎফা তাহের এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সাদিক হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে কার্ড ছাপানোর অভিযোগে একজন ইউএনও গ্রেফতারের ঘটনায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত ছিলেন বিস্মিত।
বৃহস্পতিবার পত্র-পত্রিকায় এই খবর দেখে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তারাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। ঘটনার পরপরই তাঁরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসি বাংলার রাতের অধিবেশন- পরিক্রমায় মাসুদ হাসান খানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সরাসরি দেয়া এই সাক্ষাৎকারে এইচ টি ইমাম বলেন, “আমরা সবাই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ যত কর্মকর্তা ছিলেন, এটি দেখে আমরা সকলেই বিস্মিত হয়েছি। যে ব্যক্তি এই মামলা করেছেন, আমরা মনে করি তিনি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ করেছেন।”
এইচ টি ইমাম জানান, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একজন ইউএনওকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার এই ছবিটি দেখান।
এইচ টি ইমাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ছবিটি দেখে তিনি বিস্মিত হলেন। “প্রধানমন্ত্রী বললেন, ক্লাস ফাইভের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এই অফিসার সুন্দর একটি কাজ করেছেন। এবং সেখানে যে ছবিটি আঁকা হয়েছে, সেটি আমার সামনেই আছে, আপনারা দেখতে পারেন। এবং এই ছবিটিতে বিকৃত করার মতো কিছু করা হয়নি। এটি রীতিমত পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এই অফিসারটি রীতিমত পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। আর সেখানে উল্টো আমরা তার সাথে এই করেছি, এই বলে প্রধানমন্ত্রী তিরস্কার করলেন। বললেন, এটি রীতিমত নিন্দনীয় “
প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীকে কিভাবে গ্রেফতার করা হলো, কোনরকম অনুমোদন ছাড়া? এ প্রশ্নের উত্তরে এইচ টি ইমাম বলেন, “এটি করা যায় না। কারণ ইউএনও হচ্ছেন উপজেলা পর্যায়ে সরকারের সবচেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁকে কোন শাস্তি দিতে হলে বা তার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা কোন রকম কিছু করতে হলে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।”
এইচ টি ইমাম এই ঘটনার জন্য বরিশালের ডিসি, এসপিকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “পুলিশ যে ব্যবহার করেছে এই ছেলেটির (ইউএনও) সাথে, যেভাবে তাকে নিয়ে গেছে, এ নিয়ে ওখানকার ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, এদের প্রত্যেককে আমি দায়ী করবো। এদের বিরুদ্ধেও আমাদের বোধহয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
কিভাবে পুলিশ এরকম একটি মামলা নিল আর জেলা জজই বা কিভাবে এই মামলা গ্রহণ করলেন, সেটা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, “এই ঘটনায় মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে তিনিও তাদের সাথে একমত।”
“আমাদের অফিসারটিকে যেন হেনস্থা করার জন্য পুলিশ যেভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে, এই পুরো ঘটনায় যেরকম তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েছে, আমি তার সাথে সম্পূর্ণ একমত।”
এইচ টি ইমাম বলেন, “ঘটনাটি শোনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন, যে ব্যক্তি এই মামলা করেছে, সে কে?”
মামলা দায়েরকারী ব্যক্তি সম্পর্কে সাথে সাথে তাঁরা খোঁজ খবর নেন, একথা জানিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, “এই লোক পাঁচ বছর আগেও আওয়ামী লীগে ছিল না। দলের ভিতরে ঢুকা পড়া এই ‘অতি উৎসাহীরাই’ এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, এই চাটুকাররাই আমাদের ক্ষতি করছে” বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, “এই ঘটনার পিছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, এই অফিসারের বিরুদ্ধে হয়তো তাদের কোন ক্ষোভ ছিল। তাঁকে অপমানিত করা ছিল তাদের লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত বিভিন্ন সার্ভিসের মধ্যে একটি অসন্তোষ সৃষ্টি করা। আর তৃতীয়ত, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।”
দলের মধ্যেও ক্ষোভ:
এ ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং দলটির সমমনাদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
দলটির সমমনাদের অনেকে বলেছেন, এক শ্রেণীর চাটুকার বিভিন্ন সময়ই এ ধরনের মামলা করে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে।
অনেকে আবার বলেছেন, শেখ মুজিবের নাম ব্যবহার করে অতিউৎসাহী অনেক ব্যক্তি এবং অনেক ভূঁইফোড় সংগঠনের কর্মকাণ্ড তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
বরিশালে আওয়ামী লীগের একজন নেতা এবং সেই জেলার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু আদালতে মামলাটি করেন গত ৭ জুন।
তাতে অভিয়োগ করা হয়েছে, জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমত্রণপত্রে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে ছাপা হয়েছে।
অভিযুক্ত করা হয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমানকে। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।
মামলার শুনানিতে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত প্রথমে ওই নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। গত বুধবার এই নির্দেশ দেয়ার দুই ঘন্টা পর আদালত তাকে জামিন দেয়।
একটি শিশুর আঁকা ছবি আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল। মামলার বাদির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার পক্ষের আইনজীবী এবং সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খোকন বলছিলেন, “কার্ডের উপরে এবং ভিতরে বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি নাই। কার্ডের পিছনে একবারে নিচে ছবি ছাপা হয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। সে কারণে আমরা মামলা করেছি।”
বরিশালে এমন মামলা করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগেরই সমমনাদের অনেকে সামাজিক নেটওয়ার্কে তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন।
তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণজাগরণ মঞ্চের একজন সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ছবিটা এঁকেছে একটা শিশু। একটা শিশুর ছবি যে স্বাভাবিকভাবে রিয়েলিস্টিক ছবি হয় না, এই ধারণাটাই তাদের নাই। এর সাথে চাটুকারিতার মিশ্রণে তারা এই মামলা করেছে।”
কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, “সারা দেশে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই দলকে, নেত্রীকে এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনরকম চাটুকারিতা করা যায় কি না। এই অতিউৎসাহীদের শুধু দল থেকেই নয়, সমাজ থেকেই এদের বিতাড়িত করা প্রয়োজন।”
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও অনেকে এই মামলার বিষয়কে ভালভাবে নেননি। দলটির নেতাদের অনেকে মনে করেন, এখন মামলার পিছনে অতি উৎসাহ কাজ করেছে।
আবার দলটির অনেকে বলেছেন, শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে অতি উৎসাহী এবং ৫০টির মতো সংগঠন কাজ করে থাকে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বিভিন্ন সময় দলে আলোচনা হলেও তাদের থামানো যাচ্ছে না।
এ নিয়ে দলের ভিতর ক্ষোভও রয়েছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বিবিসিকে বলেছেন, “একটি শিশু তার কল্পনা শক্তি দিয়ে অনেক কিছু করতে পারে বা ভুল করতে পারে। কিন্তু একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শিশুর আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভুল করতে পারেন না।”
এদিকে, সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান মনে করেন, অতি উৎসাহ থেকে বরিশালে মামলাটি হয়েছে এবং সেটি আওয়ামী লীগেরই ক্ষতি করছে। বিবিসি