May 2, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মুখোশ পরা দুর্বৃত্তদের ছোড়া অ্যাসিডে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধদের মধ্যে সুরুজ আলম খান (৩৫) ডান হাতে, তার স্ত্রী মাহফুজা আক্তার সুবর্ণার (২৮) মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে, তাদের সন্তান সানজিদা সুলতানা রিমা (৯) ডান হাতে এবং সুবর্ণার বোন নিলুফার আত্তার (৩২) ডান হাতে দগ্ধ হয়েছেন।
সুর্বণা জানান, তিনি স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। ভোরে ঘরের দরজা খোলা থাকা অবস্থায় মুখোশ পরা দুই যুবক ঢুকে অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তার স্বামী ওই যুবকদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সুর্বণা অভিযোগ করেন, পারিবারিক কলহ থাকায় এ ঘটনায় তার স্বামী জড়িত থাকতে পারেন।
রুপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যক্তিগত অস্ত্রের ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে এ সম্পর্কিত একটি সমন্বিত নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী রোববার (১০ এপ্রিল) খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করতে সভা ডাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানা খান কামাল বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহারের একটি নীতিমালা আছে। যেটি ২০১০ সালে করা হয়। তবে তাতে কিছু সংযোজন করা জরুরি। তাই সমন্বিত একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে সূত্র বলছে, নীতিমালাটি বিস্তারিত। এখানে ব্যক্তি পর্যায়ে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হবে। অন্যদিকে, অস্ত্রের ব্যবহার কোন কোন ক্ষেত্রে করা যাবে সেটিও সুনির্দিষ্ট করে বলা থাকবে।

জানা যায়, অস্ত্রের লাইসেন্স নীতিমালায় জেলা প্রশাসকদের কাছে ক্ষমতা পুনর্বহাল থাকলেও অস্ত্র নিতে আগ্রহী প্রার্থীর সাক্ষাৎ প্রক্রিয়ায় একটি নির্ধারিত পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। যাতে সারাদেশে একই পদ্ধতি মানা হয়।
বিদ্যমান নীতিমালাতে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নেয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন নীতিমালাতে সেটি প্রাতিষ্ঠান পর্যায়ে কিভাবে করা যায় সেটি রাখা হয়েছে। আবার প্রতিষ্ঠানের আওতায় কারা আসবে সেটিও স্পষ্ট থাকবে নীতিমালাতে। অর্থাৎ কোন কোন প্রাতিষ্ঠান এই ক্যাটাগরিতে অস্ত্রের লাইসেন্স পাবেন সেটি বলা আছে।
জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমরা অস্ত্রের লাইসেন্স, ব্যবহার ও নবায়নে আরো বেশি সর্তকতা আনতে চাই। কেউ যাতে অস্ত্রের অন্যায় ও যথেচ্ছা ব্যবহার না করতে পারে সেটি বন্ধ করার সময় এসেছে। আবার অনেকে ব্যক্তিগত লাইসেন্স এর অস্ত্র বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করছেন। সব মিলিয়ে আমরা আর যার তার হাতে ব্যক্তিগত লাইসেন্সের অস্ত্র তুলে দিতে চাই না।
তবে বিদ্যমান নীতিমালাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র বলছে, রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে নীতিমালাতে উপস্থাপন করা হবে। গত এক বছর ধরে নীতিমালাটি নিয়ে কাজ করে একটি খসড়া প্রণয়ন করে কমিটি। এখন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে কমিটি অনুমোদন করলে সেটি পরবর্তী ধাপে যাবে। তোলা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
গত বছর সংসদ সদস্য পিনু খানের পুত্র বখতিয়ার রনি রাজধানীর ইস্কাটনে দুই রিকসাচালককে গুলি করে হত্যা করেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার জড় ওঠে।
উৎসঃ জাগো নিউজ
ফ্যাশন মানে কী বাহারি রঙের দামি পোশাক আর কড়া মেকআপ নিজেকে সাজিয়ে রাখা? মোটেও তা নয়। নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টার আরেক নামই হলো ফ্যাশন। রুচি আর ব্যক্তিত্বকে সময়ের উপযোগী পোশাক-সাজসজ্জায় যিনি ধারণ করতে জানেন তাকেই আমরা বলতে পারি ফ্যাশন সচেতন বা স্টাইলিস্ট। হালকা সাজে সাধারণ পোশাকেও একজন হয়ে উঠতে পারে অনন্য ও অসাধারণ।
নিজেকে ফ্যাশনেবল করে তোলার জন্য হাল ফ্যাশনে কি ধরণের পোশাক পরছেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পোশাকের রঙ আর দেহাবয়বের সঙ্গে মানানসই রুচিশীল পোশাক। সেই সঙ্গে যেখান অবস্থান তার পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গেও পোশাকের সঙ্গতি থাকতে হবে। পাশাপাশি নিজেকে ফ্যাশনেবল করে তুলতে শরীরের আকার-আকৃতির, বডিশেপ বুঝে নির্বাচন করতে হবে পোশাক
আসুন জেনে নেয়া যাক, কখন কোথায় কেমন রঙের আর কী ধরনের পোশাক মানানসই হবে এবং দেহের সঙ্গে কোন পোশাকে আপনাকে ভালো মানাবে।
ফ্যামিলি পার্টিতে একটু তুলনামূলক উজ্জ্বল রঙের পোশাকই আপনাকে বেশি ভাল মানাবে। গ্রীষ্ম কালে রাতে অনুষ্ঠান থাকলে হালকা রঙের পোশাক আপনারে বেশি ভাল মানাবে। এক্ষেত্রে হালকা মেরুণ, গাঢ় আকাশী, ম্যাজেন্ডা, সিলভার, বটল গ্রিন, ডিপ পিঙ্ক রঙের পোশাক এক্ষেত্রে পরতে পারেন। বাইরে বেড়াতে গেলে কয়েকটা দিন সেখানে কাটাতে হবে। তাই ট্রাভেলের হস্য হালকা রঙের পোশাকই সবচেয়ে উপযোগী। এছাড়াও বাইরে ঘুরতে বেড়িয়ে যদি হালকা রঙের পোশাক পরেন তবে এতে আপনাকে অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত বলে মনে হবে।
অফিস যাওয়া মানেই যাতায়ের ঝক্কি। তাই এক্ষেত্রেও হালকা রঙের পোশাকই ভাল। কারণ গরম আবহাওয়া আপনাকে বিধ্বস্ত করে তুলতে পারে৷ সেক্ষেত্রে সাদা, আকাশী, ঘিরে, হালকা গোলাপী, ইত্যাদি রঙকে বেশি প্রাধান্য দিন৷ অফিসে ফরমাল পোশাক পরতে হলেও সেক্ষেত্রেও এই রংগুলো হতে পারে আইডিয়াল।
শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে ফরমাল পোশাকই বেশি উপযোগী। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যাম্পাসে সময় থাকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। তাই হালকা রঙের পোশাক পরলে এক্ষত্রে আপনাকে যেমন মানাবে তেমনই আপনি আরামও বোধ করবেন। এক্ষেত্রে হালকা সবুজ,সাদা, ছাই, গোলাপী, ঘিরে রঙের পোশাক পড়তে পারেন৷ হালকা রঙের পোশাক পরলে গরম আবহাওয়া হলেও আপনার গরমে অস্বস্তি কম অনুভব হবে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে আড্ডা মারা মানেই একটি উৎসবের মত। কিন্তু আড্ডা মূলত সন্ধ্যাবেলাতেই জমে। তাই সেক্ষেত্রে একটু উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা যেতেই পারে। তবে সাদা বা ক্রিম রঙও হতে পারে আইডিয়াল। এছাড়াও তুতে, হলুদ, হালকা সবুজ, বাদামী রঙের পোশাক বেশ ভাল মানায়।
ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলতে পোশাক কিনতে গিয়ে অনেক সময় দোটানায় ভোগেন। অনেকেই আছেন পোশাক নির্বাচনে নিজের শারীরিক গড়নের কারণে সঠিক পোশাকটি ক্রয় করতে পারেন না। সঠিক আকৃতি ও নকশা মেনে পোশাক পরলে ফ্যাটি-স্লিম সবধরনের মেয়েকেই যে কোনো পোশাকেই মানাবে। তবে মোটা মেয়েরা সবধরনের পোশাক পরতে পারেন না। সব সময় কনফিউশনে থাকেন যে, আসলে পোশাকটি মানিয়েছে কিনা! এসব কনফিউশন দূর করার জন্য শরীরের গঠন অনুযায়ী পোশাক নির্বাচনে বিশেষ কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখুন।
মনে রাখতে হবে গায়ের রং, উচ্চতা ও ওজনের সঙ্গে মানানসই পোশাক আপনার রুচি আর ব্যক্তিত্বে পরিচয় বহন করবে। পোশাক নির্বাচনের আগে নিজের শীরের গড়ন বুঝে নিন। তারপর পোশাক নির্বাচন করুন। যেমন: অনেকের পায়ের থাই খানিকটা মোটা হতে পারে। চুড়িদার বা টাইট সেলোয়ার না পরে পাতিয়ালা ব্যবহার করতে পারেন৷এড়িয়ে চলতে হবে লেগিংস।
যাদের হাত মোটা তারা লং হাতা বা থ্রি কোয়ার্টার স্লিভ জামা পড়ুন। স্লিভলেস বা ছোট হাতা একেবারেই পরবেন না। শাড়ির ক্ষেত্রে আপনার শরীরের গড়ন মোটা হলে কুঁচি কম দিয়ে আঁচল বড় রাখুন। চেহারা স্লিম হলে শাড়িতে সরু করে অনেকগুলো কুঁচি দিয়ে পরুন।
যারা একটু মোটা তারা সবসময় লম্বালম্বি সরু স্ট্রাইপের পোশাক বেছে নিন। দেখতে ভালো লাগবে এমনকি লম্বাও দেখাবে বেশ।যাদের শরীর নিচের চেয়ে উপরের অংশ বেশি মোটা, তারা একটু লং আর ডিপ রঙের পোশাক পরুন। মেচিং করা পোশাক ভালো মানাবে। ব্লাউজের ক্ষেত্রে ছোট প্রিন্ট বা স্ট্রেট চেক কাটের থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজ পরুন। যাদের কাঁধ চওড়া তারা ব্লাউজ বা চুড়িদারে ভি শেপের গলা দিতে পারেন। এতে আপনাকে বেশি মোটা বলে মনে হবে না।
যাদের উচ্চতা খুব বেশি নয়, তারা বেশি ঢোলা দেখা যায় এমন সালোয়ার বা প্যান্ট পরবেন না। খাটো পোশাক তাদের জন্য একেবারেই বেমানান। তারা সেমি লং টাইপের পোশাক বেছে নিন। চিকন ও লম্বা মেয়েরা আড়াআড়ি স্ট্রাইপ বা বড় প্রিন্টের পোশাক বেছে নিন। এ ধরনের পোশাক তাদের বেশ মানাবে।
যশোর প্রতিনিধি: সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীকে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নতুন যে মাত্রা যোগ হয়েছে তাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবাহিনীর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনতে হবে।
বুধবার দুপুরে যশোরে বিমানবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি এই বাহিনী প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই বাহিনী সে সময়ে মাত্র তিনটি যুদ্ধ বিমান নিয়ে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়েছিল। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবোর্চ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকতে বিএএফ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন, দেশপ্রেমিক সেনারা তাদের জীবন উৎসর্গ করবে, কখনও আত্মসর্মপণ করবে না।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএএফ উচ্চ কারিগরিভিত্তিক বাহিনী। তাদের পেশাগত দক্ষতার সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ফলে বিমান বাহিনীর সদস্যদেরকে জাতির সেবায় নিজেদেরকে দক্ষ আদর্শ সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর সৈন্য ও কর্মকর্তাদেরকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দিতে বিমান বাহিনী একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি মনে করি বিমান বাহিনীর জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের এবং জনগণের উন্নয়নের জন্য আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির ২১০তম রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট বাংলাদেশের প্রথম আইএসও সনদপ্রাপ্ত বিমান ওভারহোলিং প্রতিষ্ঠান। এই ইউনিট নিজস্ব কারিগরি জনবলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২২টি পিটি ৬ বিমানের ওভারহোলিং কাজ সম্পন্ন করে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় করেছে। চীনের জিলিন এভিয়েশন কার্যদক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ এই ইউনিটকে ‘সার্টিফিকেট অব প্রফেশনাল এক্সিলেন্স’ প্রদান করেছে। এ সব ধারাবাহিক অর্জন ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মতিউর রহমান ঘাঁটি ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করেছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আজ সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বিমান ঘাঁটির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছুলে বিমান বাহিনী প্রধান মার্শাল আবু এসরার এবং বিএএফ বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির কমান্ডার এয়ার কমোডর মো. শফিকুল আলম তাকে অভ্যর্থনা জানান।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পরে বিমান বাহিনী প্রধান মার্শাল আবু এসরার এবং প্যারেড কমান্ডার উইং কমান্ডার আরিফ আহমেদ দিপুকে সঙ্গে নিয়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন।
নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত পাঁচ খুনের ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তান হারানো শফিকুল ইসলামের ভাগ্নে মাহফুজকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ৮০ দিন পর বুধবার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের নারায়ণগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিম শহীদুল ইসলামের আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বুধবার পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন তার কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে একথা জানান। ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে একজনই সংশ্লিষ্ট। এই হত্যাকাণ্ড যে সংঘটিত করেছে তাকে (ভাগ্নে মাহফুজ) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি পুলিশ সুপার হিসেবে একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তদন্তের জন্য ক্রসচেক করা এমনভাবে করেছি, যাতে কোনো প্রকারের মিথ্যার বা লুকানোর আশ্রয় নেওয়ার কোনো পথ না থাকে। “প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছেও মনে হয়েছিল একজনের পক্ষে পাঁচ জনকে খুন করা কি সম্ভব? কিন্তু পরবর্তীতে তদন্তে ও সাক্ষ্য প্রমাণে আমরা দেখলাম, অপরাধী তীক্ষ্ণ বুদ্ধি প্রয়োগ করে একে একে পাঁচ জনকে হত্যা করেছে। এমনকি চাবিও তার দেখানো জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
১০ পাতার অভিযোগপত্র থাকলেও কেস ডকেট মোট ২০০ পৃষ্ঠার বলেও তিনি জানান। এ সময় মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল ও পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন। গত ১৬ জানুয়ারি শহরের দুই নম্বর বাবুরাইল এলাকায় শফিকুলের বাড়িতে দুই শিশুসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। পরদিনই মাহফুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন নিহতরা হলেন শফিকুলের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৪০), ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), শ্যালক মোশাররফ হোসেন মোরশেদ (২৫) ও ছোট ভাই শরীফের স্ত্রী লামিয়া (২৫)।
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতি বছর বাংলা নববর্ষে সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও নগরবাসীকে ফুল ও বাতাসা বিতরণ করে শুভেচ্ছা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ(ডিএমপি)। তবে এবারের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বড় পরিসরে ঢাকা মহানগরাবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, গত বছর পহেলা বৈশাখকে ঘিরে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। সরকার পুলিশকে জনবান্ধব মানসিকতা তৈরিতে আরো বেশি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে উৎসাহিত করে আসছে। তাই এবারের বাংলা নববর্ষেই বড় পরিসরে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী লাঞ্ছিতের ঘটনা দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। এর চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে প্রায় এক বছর হতে যাওয়া ওই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা তো দূরের থাক গ্রেফতারই করতে পারেনি পুলিশ।
তবে এবার বাংলা ১৪২২ সালকে বিদায় ও নববর্ষ ১৪২৩ বরণকে কেন্দ্র করে যাতে আর কোনো ধরণের আপত্তিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকেই নজরদারি করছে ডিএমপি।
এবার বাঙালির এ প্রাণের উৎসবকে ঘিরে রমনা পার্কসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুরোটাই ঢেকে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা চাদরে। শুধু রাজধানী ঢাকাই নয় এ উপলক্ষে সারাদেশই নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যৌথভাবে কাজ করছে সব সংস্থা।
সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম, অবজারভেশন পোস্ট ও চেকপোস্ট। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি থাকছে গোয়েন্দা দলের সদস্য, বোমা ডিসপোজাল টিম ও মেডিক্যাল টিম।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা শুধু নিরাপত্তা বিধান করলেই চলবে না, নগরবাসীর সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। নববর্ষই হবে এর পাথেয়। আর সেজন্যই এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, প্রতি নববর্ষেই ডিএমপি নগরবাসীকে ফুল ও বাতাসা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসছে। তবে তা সংক্ষিপ্ত পরিসরে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বড় পরিসরে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি নির্দেশ করেছেন কি না জানা নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক: পহেলা বৈশাখে বর্ণিল মুখোশ নিষিদ্ধ না হলেও রমনা বটমূল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ গেট বন্ধ হবে ৫টার বদলে ৪টায়। এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় এর ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানান। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায় কখনওই মুখোশ পড়া হয় না। সবাই মুখোশ হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তবে বাইরের কেউ যাতে মুখোশ পড়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ না নিতে পারে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অনেকের জন্য বিরক্তির কারণ। অনেকেই এটি নিষিদ্ধ করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।’
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীতে নিরাপত্তাজনিত কোনও হুমকি নেই, জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সুনির্দিষ্ট কোনও হুমকি না থাকলেও সকলের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
পহেলা বৈশাখের দিন রাজধানীর রমনা বটমূল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান- এই দুটি জায়গাকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিকেল ৪ টার মধ্যে এগুলোর প্রবেশ গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। ৫ টার মধ্যে বাইরের সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
ফেনী প্রতিনিধি : ফেনীতে চুরির অভিযোগে বিবস্ত্র করে এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন শহরের কালিপাল দশমী ঘাট ব্যবসায়ী প্রদীপ, সবুজ, দোকানের দুই স্টাফসহ ৫ জন। তবে ঘটনার মূল হোতা মহিন ভূঁইয়া ও অর্জন দাস পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনার পর ফেনীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার নামাজের পর ফেনী শহরের কালীপাল দশমী ঘাট এলাকার প্রদীপের গ্রিল দোকান ও ফারুকের স্যানিটারি দোকান থেকে লোহার জিনিসপত্র চুরি করার অভিযোগে ওই টোকাই কিশোরকে প্রদীপ ও মহিন ভূঁইয়া ও অর্জন দাস আটক করে। আটকের পর স্থানীয় লোকজন স্যানেটারি দোকানের মালিক ফারুকে খবর দেয়। পরে চুরির অপরাধে বিবস্ত্র করে গায়ে বস্তা বেঁধে নির্যাতন করে। ঘটনার সময় মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে কে বা কারা নির্যাতন চালানোর চিত্র ফেসবুকে আপলোড করে। ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার ফেনীতে তোলপাড় শুরু হয়। এর পর থেকে পুলিশ ও এলাকাবাসী ওই কিশোরকে খুঁজে পায়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লাল রঙের পাঞ্জাবি পরা শহীদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি থেকে ফেনী যাচ্ছিলাম। তখন ওই কিশোরকে বেঁধে পেটানোর দৃশ্য দেখে কিছুক্ষণের জন্য ওখানে দাঁড়াই। ওই কিশোরকে চুরির অভিযোগে প্রথমে বিবস্ত্র করা হয়। এরপর লাঠি ও রড দিয়ে তাকে পেটানো হয়। এতে ওই কিশোর আহত হয়। তার পর থেকে ওই যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মো. শাহীনুজ্জমান জানান, পুলিশ এ ঘটনায় দোকান মালিক প্রদীপ, সবুজ, দোকানের দুই স্টাফসহ ৫ জনকে আটক করেছে। তবে ছবিতে নির্যাতনকারী ঘটনার মূল হোতা মহিন ভূঁইয়া ও অর্জন দাস পলাতক রয়েছে। ও কিশোরের সন্ধান করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের এমপি রানাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের আদালত এ পরোয়ানা জারি করেন।
দেশের আর একটি মানুষও যাতে আগুনে পুড়ে মারা না যায়, সে জন্য পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব মেডিকেল কলেজে বার্ন ইউনিট চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে রাজধানীর চানখারপুলে শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, নিমতলী ট্রাজেডির পর বার্ন ইন্সস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়টি তার মাথায় আসে।
এরপর বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনকালে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় ঢামেকের বার্ন ইউনিট অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছে। অনেককে বাঁচানো যায়নি।
২০১৩ থেকে চলা গত বছর পর্যন্ত এই পরিস্থিতির পর বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সস্টিটিউট স্থাপনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আর যাতে একটি মানুষও আগুনে পুড়ে মারা না যায়, সে লক্ষ্যেই ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা বড়লোক তারা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবেন, তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
৫২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ের ইনস্টিটিউটটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হবে।
অত্যাধুনিক এ ইনস্টিটিউটটি নির্মাণের পর এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫`শ দগ্ধ রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ইনস্টিটিউট থেকে বছরে ১০-১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরী করা হবে।
ইনস্টিটিউটটি নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্দিষ্ট সময়ে এ কাজ শেষ করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক।
বর্তমানে সারাদেশের ১৮টি মেডিকেলের মধ্যে ৯টিতে বার্ন ইউনিটের সুবিধা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য সব মেডিকেল বার্ন ইউনিট চালু করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর সঙ্গে বার্ন ইউনিট ও ইন্সস্টিটিউটের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ থাকবে বলেও জানান তিনি।
দেশের জন্যে যা কলাণকর তা করেই যাবো ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢামেকের পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভেঙ্গে নতুন অত্যাধুনিক ভবন তৈরি করা হবে।
রাজশাহী ও চট্টগ্রামে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন কর হবে।দেশী-বিদেশী উন্নত হাসপাতালগুলোর মধ্যে ডিজিটাল আন্তঃ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিশেষায়িত হাসপাতালের সংখ্যা খুবই কম। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায়ে এসে আমরা বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইন্সস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেই।
তবে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে সেসবের অনেককিছু বন্ধ করে দিয়েছিল অভিযোগ করেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৬ লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে দগ্ধ হন। তাদের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে দেড় হাজার ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ সার্জন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ৫২ জন সেই সেবা দিচ্ছেন। ইনস্টিটিউট হলে প্রয়োজনে আটশ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে বলে সামন্ত লাল জানান।
বার্ন ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নির্মিত হবে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। দুই তলা বেইজমেন্টসহ মোট ১২ তলা বহুতল ভবন হবে তিনটি ব্লকে। একটি ব্লকে বার্ন, একটিতে প্লাস্টিক ও অন্যটিতে একাডেমিক ভবন হবে।
১৯৮৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয়টি বেড নিয়ে বার্ন বিভাগ চালু করেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। অধ্যাপক সামন্ত লালের চেষ্টায় ২০০৩ সালে সেটি ৫০ বেডের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসেবে কাজ শুরু করে।
২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর বার্ন ইউনিটের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ইউনিটের বেড বেড়ে প্রথমে ১০০ ও পরে ৩০০ হয়।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে দেশগুড়ে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হাজার হাজার রোগী এই বার্ন ইউনিট থেকেই চিকিৎসা নেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
গত বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানের একটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।