May 7, 2026
নিউজ ডেস্ক: বিনামূল্যের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের সুযোগ নিতে এসে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের অসতর্কতায় তাদের পকেটের টাকা গচ্চা যাচ্ছে অযথা।
এ মাসেই বিনামূল্যে পরিচয়পত্র সংশোধন ও ডুপ্লিকেট কার্ড নেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে। আর এ সময়ের মধ্যেই সেবা দিতে হবে লাখো নাগরিককে, যার দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।
নাগরিকদের ভোগান্তির কথা একরকম স্বীকার করেই নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা তাগিদ দিলেন প্রকল্প বিকেন্দ্রিকরণের বিষয়ে।
আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভোটার তালিকা প্রকল্প কার্যালয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শত শত মানুষ নিজেদের পরিচয়পত্রে থাকা ভুল সংশোধন ও ডুপ্লিকেট পরিচয়পত্রের জন্য অপেক্ষমান, যাদের বেশিরভাগই কাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
গাজীপুর থেকে আসা মো. জাহাঙ্গীর যেমন বললেন, “আমার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু ভোটার তালিকা ও পরিচয়পত্রে নাম রয়েছে শুধু জাহাঙ্গীর। আমার জন্মতারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ৮৩ সাল, আইডি কার্ডে রয়েছে৭৩ সাল। এ দোষ কি আমার? কমিশনের দোষ এখন আমার ওপর চাপানো হচ্ছে। দুই দিন ধরে ঘুরছি, কিছু করতে পারছি না।”
এই ভুক্তভোগী জানান, ডাটা এন্ট্রি কে করেছে, কেন ভুল হলো- তা জানা নেই তার।
“তবে বিদেশে ভিসা নিতে গিয়ে এক শব্দের নাম ও পাসপোর্ট করতে গিয়ে জন্মতারিখ নিয়ে বেঁধেছে বিপত্তি। এখন প্রতিদিন টাকা-পয়সা খরচ করে এসেও কূলকিনারা নেই।”
জাহাঙ্গীর জানান, ভোটার হতে ঝামেলা না হলেও সংশোধন করতে এসে রীতিমতো ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গত বছর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এমন দুজন জানালেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। কবে নাগাদ তারা আইডি পাবেন-এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যও তাদের জানা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, “লেমিনেটেড কার্ড দেবে? শুনছি স্মার্টকার্ড দেবে- কিছুই জানি না। দেড় বছর ধরে আইডি কার্ড ছাড়া ঘুরছি, এ দায় কার? এখানে এসেছি অনেক টাকা খরচ করে, বললো জরুরি প্রয়োজনে কার্ড লাগবে- এমন আবেদন করতে। এ ধরনের লাখ লাখ লোক কার্ড পায়নি।”
একজন তরুণী জানান, নিজের পরিচয়পত্রে পিতার নামের ঘরে রয়েছে মাতার নাম, মাতার নামের ঘরে রয়েছে স্বামীর নাম।
“নিজেই ফরম পূরণ করার পরও এ ধরনের ভুল কেন হল? ডাটা এন্ট্রিতে ভুল করায় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হচ্ছে।”
বুধবার সকালেও আগারগাঁওয়ের ওই ভবনের নিচে কয়েকশ’ নাগরিককে লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম জমা দিতে দেখা যায়। বিকালে দেখা মিলল আরও কয়েকশ জন আছেন ডুপ্লিকেট কার্ড হাতে পাওয়ার অপেক্ষায়।
তথ্য সংশোধন ও নতুন পরিচয়পত্র নিতে আসা এই নাগরিকদের আবেদন নিয়েও চলছে এক ধরনের ব্যবসা।
বুধবার ভবনের সামনে অন্তত ডজনখানেক টেবিল বসিয়ে ফরম বিক্রি হতে দেখা গেল, যা কিনতে কাউকে খরচ করতে হচ্ছে ১০ টাকা, কাউকে ২০ টাকা। ফরম পূরণেও ব্যয় করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা একজন জানান, এক কর্মকর্তার সুপারিশে এসেছেন, তাই লাইনে না দাঁড়িয়ে ভোটার হওয়ার কাজটি করতে পারছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনার থেকে বিভিন্ন পেশাজীবীদের এমন সুপারিশ প্রতিদিন আসে এখানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকজন জানান, প্রকল্পের পরিচালক অপারেশন থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত সবার কাছে প্রতিদিন তদবির আসে। ইতোমধ্যে দুর্নীতি-অনিয়মের জন্য চার জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
“এখানে অব্যবস্থাপনা রয়েছেও বেশ। ভবনের ভেতরে-বাইরে মারামারি ঘটনাও ঘটেছে। প্রকল্পের লোকজন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রায়ই বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। দালালদের চিহ্নিত করে শাস্তির পাশাপাশি সঠিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিলে দুর্ভোগও কমবে,” বলেন এক কর্মকর্তা।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইডি কার্ডের সেবা নিতে দরকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। বিভাগ, জেলা ও উপজেলাওয়ারি ডেস্ক রাখতে হবে। অনিয়ম রোধে প্রকল্পের লোকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিনামূল্যে সেবা নিতেই ভিড়
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কমিউনিকেশন্স অফিসার আশিকুর রহমান জানান, নাগরিকদের স্মার্টকার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আইডি কার্ডের সংশোধন ও অন্যান্য সেবার জন্যে ফি কার্যকর হচ্ছে।
“এসব বিবেচনায় নিয়ে ভোটাররা তাদের পরিচয়পত্র সংশোধনের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনের আবেদনকারীর সংখ্যা গত কয়েকমাসের তুলনায় বেশ। অন্তত দু’হাজার নাগরিককে সেবা দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন।”
এ কর্মকর্তা জানান, সেবার কাজ চলমান থাকবে। তবে বিনামূল্যে সেবা নিতে পারবে এ মাস পর্যন্ত।
জানতে চাইলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, সারাদেশে সার্ভার স্টেশন স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পথে। কেন্দ্রের সঙ্গে সব স্টেশনের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। তা করতে পারলেই সেবার বিকেন্দ্রীকরণ করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে ৯ কোটি ৬২ লাখেরও বেশি ভোটার নিবন্ধিত রয়েছে। এরমধ্যে ৪৭ লাখেরও বেশি ভোটারের হাতে কোনো পরিচয়পত্র নেই।
সুত্র…বিডিনিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৪ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সভাকক্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তিবিষয়ক সাধারণ ভর্তি কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে এ বছর ইলেকটিভ ইংরেজি বিষয় থাকছে না বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
ভিসির সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রোভির্সি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইন্সটিটিউটের পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক জানান, এ বছর থেকে ভর্তি পরীক্ষায় ইলেকটিভ ইংরেজি বিষয় থাকছে না। ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যমসহ সব শিক্ষার্থীর জন্য একই প্রশ্ন হবে। প্রসঙ্গত এর আগে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা ইলেকটিভ ইংরেজিতে পরীক্ষা দিতেন।
এছাড়া গত বছর ইংরেজি বিভাগের ভর্তির জন্য ইলেকটিভ ইংরেজিতে উত্তর দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। পরে মাত্র ২ শিক্ষার্থী শর্ত পূরণ করে বিভাগটিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছিল।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৯ অক্টোবর শুক্রবার, চ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সাধারণ জ্ঞান ১০ অক্টোবর শনিবার, গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর শুক্রবার, চ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অংকন ১৭ অক্টোবর শনিবার, ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৩০ অক্টোবর শুক্রবার এবং ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৬ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে।
সভা থেকে জানানো হয়, উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় সর্বনিম্ন গ্রেড প্রাপ্তির শর্তাদি এবং বিভাগীয় শর্তাদি ভর্তি নির্দেশিকায় উল্লেখ থাকবে। ব্যাংক সার্ভিস চার্জ ও অনলাইন সার্ভিস ফিসহ ভর্তি পরীক্ষার ফি ৩৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। বিস্তারিত ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীকালে জানিয়ে দেয়া হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: আমার বিয়ের খবর আমিই জানি না! আমি এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে কথাও বলিনি। আর যতটুকু জানি আমার পরিবারের কেউ এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেননি। সত্যিই বিষয়টি দেখে খুব হতাশ হয়েছি। এভাবেই বিস্ময় প্রকাশ করলেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সিমলা।

সমপ্রতি ‘বিয়ে করছেন সিমলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এর সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হলে সিমলা জানান তিনি এ মুহূর্তে বিয়ে করছেন না। শুধু তাই নয়, তার পরিবার থেকেও এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিষয়টিকে গুজব বলেই আখ্যা দিলেন ‘ম্যাডাম ফুলি’ খ্যাত এ অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মা অসুস্থ দীর্ঘদিন ধরে। চ
লচ্চিত্রের কাজের পাশাপাশি তার পেছনে সময় দিচ্ছি। বিয়ে নিয়ে এখন কোন ভাবনাই নেই। আর তাছাড়া আমার পরিবারও এখন এ ব্যাপারে কোন কথা বলছেন না। বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। যারা সংবাদটি প্রকাশ করেছেন, কার কাছ থেকে জেনেছেন তা আমার জানা নেই। তাদের উদ্দেশে বলছি, কারও বিষয়ে সংবাদ করতে হলে অবশ্যই তার সঙ্গে কথা বলে যাচাই করা উচিত। এভাবে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা পুরো সমাজকে বিভ্রান্তিতে ফেলার কোন মানে হয় না।
উল্লেখ্য, শহিদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে সিমলার। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান। এরপর বেশ কয়েকটি হিট ছবির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। তবে নতুনদের ভিড়ে নিজেকে বেশি দিন ধরে রাখতে পারেননি। অবশ্য এখন আবার ফিরছেন ভিন্ন মেজাজে। ‘ম্যাডাম ফুলি টু’ ছবি নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। আর তাতে অভিনয় করবেন সিমলা। ছবিটি পরিচালনা করছেন আশিকুর রহমান আশিক।
স্বাস্থ্য ডেস্ক: পেঁয়াজ ব্যবহার করে মাত্র একদিনেই কাশি সারিয়ে তোলা সম্ভব। সর্দিতেও পেঁয়াজ ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়। সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় কাঁচা ব্যবহারে। 
গবেষকরা জানান, পেঁয়াজের মধ্যে সালফার ও ফ্লাভোনয়েড নামক উপাদান থাকে। এসব উপাদান হৃদরোগে ভালো ফল দেয়। এ ছাড়া বাতরোগ উপশম এবং ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতেও এসব উপাদান ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধেও পেঁয়াজ কার্যকর।
সর্দিকাশি নিরাময়ে পেঁয়াজের দুটি খাদ্যপ্রণালি দিয়েছে হেলদি ফুড হাউস ডটকম।
১.
উপাদান :
এক কেজি পেঁয়াজ
তিন লিটার পানি
তৈরির পদ্ধতি
পেঁয়াজের ওপরের খোলস ও দুই পাশ পরিষ্কার করুন। প্রতিটি পেঁয়াজ চার টুকরো করুন। কাটা পেঁয়াজ একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে তিন লিটার পানি দিন। পাত্রটি চুলায় নিয়ে উত্তপ্ত করুন। পানি অর্ধেক না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিতে থাকুন। আগুন থেকে নামিয়ে মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। কয়েকবার নেড়ে দিন। স্বাদের জন্য এর মধ্যে মধু বা লেবুর রস দেওয়া যেতে পারে।
ব্যবহারবিধি
দিনে দুবার দেড় গ্লাস করে পান করুন।
২.
উপাদান
দুটি মাঝারি আকৃতির অর্গানিক আপেল
দুটি মাঝারি আকৃতির পেঁয়াজ
১৪টি আখরোট (বাদাম)
প্রস্তুত প্রণালি
পেঁয়াজ ধুয়ে পরিষ্কার করুন। প্রতিটি পেঁয়াজ চার টুকরোয় ভাগ করুন। আপেলও ধুয়ে চার টুকরোয় ভাগ করুন। আখরোট ভেঙে নিন। একটি পাত্রে সব উপাদান নিয়ে পানি দিন। পাত্রটিকে চুলোর আগুনের ওপর দিন। পানি অর্ধেক না হওয়া পর্যন্ত চুলায় রাখুন। পরে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। স্বাদের জন্য মধু বা লেবুর রস দিতে পারেন।
ব্যবহারবিধি
দিনে তিনবার এক কাপ করে সেবন করুন।
ঢাকা: প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে হামলা- পাল্টা হামলার কিংবা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মত কোনও ঘটনা নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। কারণ বিরোধীদল এতটাই নিষ্ক্রিয় যে রাজপথ থেকে গলিপথে কোথাও তাদের উপস্থিতি নেই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের কোনো কোনো নেতাকর্মী আধিপত্য বিস্তার, চাঁদা ও অবৈধ আয়ের ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এরফলে খুনোখুনি ঘটছে। সার্বিক পরিসিস্থিতে দলটির সহেযাগী সংগঠনগুলোই এখন আওয়ামী লীগের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।
সহযোগী সংগঠনগুলোর অতি সাম্পতিকালের কয়েকটি নেতিবাচক ও খুনোখুনির ঘটনা আওয়ামী লীগের শীর্ষমহল রীতিমত শংকিত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১১ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এক সভায় শঙ্কার বিষয়টি আর গোপন রাখেননি। তিনি বলেছেন, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনার একটি আবহাওয়া আওয়ামী লীগ নেকাকর্মীরাই তৈরি করেছিল। মাঝে মাঝে আমার ভয় হয় সুযোগ সন্ধানীরা আবার নতুন কোন খেলায় মেতে ওঠে কিনা? নেতাকর্মীদের খাইখাই স্বভাব ত্যাগ করতে হবে বলে জানান আশরাফ।
0তার মুখ এমন বক্তব্য আগে শোনা যায়নি। গত কিছুদিনের মধ্য আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো অতি ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড ঘটিয়েছে। ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংর্ঘেষ মাগুড়াতে মায়ের পেটের শিশুজখম হয়েছে। রাজধানীতে কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা গুলি করে হত্যা করেছে সৈনিক লীগের এক নেতাকে। যুবলীগের এক নেতা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে শুল্ক কর্মকর্তাদের মারধর করেছে। শুল্ক গুদাম থেকে পণ্য লুটপাটের ঘটনা ঘটালেও এখন পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে না প্রশাসন না দলের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজ দলের হাতেই খুন হয়েছেন কয়কজন।
ঢাকা মহানগর যবলীগ দক্ষিণের নেতা বায়েজিদ মিল্কিকে হত্যা করেছে একই সংগঠনের নেতারা। এই ঘটনায় আসামী হয়েছেন যুবলীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আরিফ ও মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টিপু। এই হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী যুবলীগ নেতা তানেক কথিত ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। টেন্ডারবাজি নিয়ে বিরোধে স্বচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংর্ঘষ একাধিকবার গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাকালীন সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মিডিয়ায়।
মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের ছেলে রনির হাতে দুজন নিরীহ লোকের হত্যাকান্ড আওয়ামী লীগের তিলকে কালি এঁকে দিয়েছে। এছাড়া মাদক মানব পাচারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ দলীয় এক এমপির নাম বারবার আলোচনায় এসেছে। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের হাতে বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মীর মারধর ও হত্যার মত ঘটনা ঘটেছে। ফলে আওয়ামী লীগের অনেক সাফল্য এখন ম্লান হয়ে যাচ্ছে।আস
বিনােদন ডেস্ক: প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শোনা যাচ্ছে চলচ্চিত্রে আসছেন আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। খবরটি মিথ্যা নয় মোটেও। কিন্তু আসি আসি করে আসা হচ্ছে না তার। চলচ্চিত্রের জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি। কিন্তু ঠিক কি কারণে যেন ব্যাটে বলে মেলাতে পারছেন না। এতদিন বলেছেন গল্প ও চরিত্র মনের মতো হতে হবে। আর সেটাও পেয়েছেন বেশ কয়েকবার। এরই মধ্যে অনেক চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পেয়েছেন। গল্প পছন্দ হয়েছে, সঙ্গে চরিত্রও। তাহলে সমস্যা কোথায়? এমন
প্রশ্নের জবাবে প্রভা বলেন- হ্যাঁ, এটা ঠিক চলচ্চিত্রে আসার জন্য এতদিন মনের মতো গল্প ও চরিত্র খুঁজেছি। কিন্তু তার পাশাপাশি আরেকটি চাহিদা অনেক আগে থেকেই ছিল।
আর সেটা হলো বাজেট। কয়েক মাস ধরে যেসব ছবির প্রস্তাব পেয়েছি তার সব কটির গল্প ও চরিত্র পছন্দ হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে বাজেট ভাল না। আমি চলচ্চিত্রে সত্যিই আসতে চাই। তবে সেটা অবশ্যই বিগ বাজেটের ছবি হতে হবে। আর আমিও নিজেকে প্রস্তুত করেছি। এখন আর কোন সমস্যা নেই। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য যা যা করণীয় সব করছি। সব মিলিয়ে এখন ব্যাটে বলে শতভাগ মিলে গেলেই চলচ্চিত্রে নাম লেখাতে পারবো বলে আশা করছি। বিগ বাজেটের ছবিতে অভিনয় করবেন প্রভা। এটাই তার এখন নতুন মিশন। আর এ মিশন নিয়েই এগিয়ে চলেছেন জনপ্রিয় এ মডেল-অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন প্রভা- তবে কি টিভি নাটক থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি? এমন প্রশ্ন তো জাগতেই পারে প্রভা-ভক্তদের মনে। কিন্তু তাদের উদ্দেশে প্রভার সাফ জবাব- টিভি পর্দা দিয়ে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই দর্শক আমাকে চেনেন। এটা ছাড়ার কোন কারণ নেই।
চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা যদি বেড়েও যায় তারপরও চেষ্টা করবো নাটকের সঙ্গে থাকতে। বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন প্রভা। এর মধ্যে ‘দ্য ভিলেজ ইঞ্জিনিয়ার’ নাটকটিতে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছেন তিনি। এছাড়া আলভী আহমেদের পরিচালনায় ‘নষ্টনীড়’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। আর প্রভার শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। নতুন এ নাটক প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। সংলাপগুলো অন্য নাটক থেকে একটু আলাদা। তবে গল্পটা অসাধারণ। ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে বলে প্রায়ই শোনা যায়। তবে এ নাটক দেখলে হয়তো কোন নেতিবাচক মন্তব্য আর আসবে না তাদের মহল থেকে। এতটুকু নিশ্চিত করে বলতেই পারি। অন্য নাটকগুলোর চেয়ে এ ধারাবাহিকে অনেকটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাবে।
আশা করছি দর্শকের মন ভরবে নাটকটি দেখলে। এদিকে তার অভিনীত অরণ্য আনোয়ারের ‘দহন’ ধারাবাহিকটি প্রচার হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে সুমন আনোয়ারের ‘স্বর্ণলতা’ ও আলভী আহমেদের ‘শূন্য থেকে শুরু’। গেল রোজার ঈদে বিভিন্ন চ্যানেল একাধিক নাটকে দেখা গেছে প্রভাকে। ‘ঘোরলাগা অসময়’, ‘গহীনে তরঙ্গ’, ‘মেট্রোপলিটন প্রেম’, ‘আই লাভ ইউ’সহ আরও কয়েকটি প্রচার হওয়া নাটক ও টেলিছবি থেকে বেশ সাড়া পেয়েছেন বলেই জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রভা বলেন, ঈদে বিভিন্ন চ্যানেলের জন্য বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি। ঈদের আগে থেকে অনেক পরিশ্রম করেছি। এমনকি নাটকের কাজ করতে গিয়ে সিলেটে অসুস্থও হয়েছি।
তবে সেসব কষ্ট নিমিষেই মুছে গেছে যখন নাটকগুলো প্রচার হয়েছে। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই এত এত সাড়া পেয়েছি। এটা আসলেই খুব সৌভাগ্যের ব্যাপার। ঈদের নাটক থেকে বরাবর ইতিবাচক সাড়া পেয়ে এসেছি। তবে এবার একটু বেশি পেলাম। আশা রাখছি এ ধারাবাহিকতা আগামী কোরবানি ঈদেও বজায় রাখবো। আর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এরই মধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছেন প্রভা। ঈদ সামনে রেখে হারুন অর রশীদের পরিচালনায় ‘এখন সময় ৪টা ৪৫ মিনিট’ নামের একটি খণ্ড নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার: সম্পদ বিবরণী সংক্রান্ত দুদকের মামলায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ৩ বছরের কারাদ- দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের জেল দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদ্দার এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৩ই মার্চ সম্পদের বিবরণ দাখিলের জন্য মাহমুদুর রহমানকে নোটিশ দেয় দুদক। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় একই বছরের ১৩ই জুন গুলশান থানায় দুদকের উপ-পরিচালক নূর আহমেদ বাদি হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় একই বছরের ১৫ই জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ চলতি বছরের ২৮শে এপ্রিল মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
নিউজ ডেস্ক: নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় ওরফে ব্লগার নিলয় নীল হত্যার ঘটনায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর ছোট ভাই নজরুল হক নান্নুর ছেলে সাদ আল নাহিনকে আটক করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
নাহিনকে আটকের কথা ডিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার হয়নি। তবে নাহিনের বাবা দাবি করেছেন তার ছেলে আটক হয়েছে। নজরুল হক নান্নু বলেন, ‘জিজ্ঞাবাদের জন্য ডিবি পুলিশ আমার ছেলে নাহিনকে আটক করেছে। আমি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছি। দেখি কী হয়।’
সাদ আল নাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন এমবিএ-এর ছাত্র ছিল। ২০১৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তাকে আরো তিন সহযোগীসহ ওই বছরের ৩১ মার্চ গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ।
এরপর গত দুবছর ধরে নাহিন জেলে ছিল। গত ৪ মার্চ ব্লগার আসিফ হত্যাচেষ্টার মামলায় সাদ-আল-নাহিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে ডিবি পুলিশ। কিন্তু এর মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে যায় নাহিন।
নাহিন জেল থেকে বেরোনোর পরই একে একে ব্লগাররা নিহত হতে থাকে। এর মধ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্লগার অভিজিৎ রায়, ৩১ মার্চ ওয়াশিকুর রহমান বাবু, ১২ মে অনন্ত বিজয় দাস ও সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট নিলয় নীলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের ধরণ একই রকম।
ব্লগার নিলয় হত্যার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানয়, তাকে হত্যার ঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সন্দেহভাজন কয়েকজন সদস্যকে নজরদারির আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। আর এ হত্যাকাণ্ড এবিটি সংশ্লিষ্টরাই করেছে বলে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থাগুলো।
নিলয় হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজা নাহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পাশাপাশি তার দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে অভিযানও চলছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজা নিলয় হত্যায় জড়িত কিনা তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃংখলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, এবিটির খুনিদের একজন হলো সাদ আল নাহিন। সে এর আগেও ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যার জন্য তার গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ছিল বলে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেছিল।
যদিও নাহিনের দাবি, তাকে ভয় দেখিয়ে এই জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নাহিনকে আসিফ হত্যা চেষ্টা মামলা থেকে বাঁচাতে তদবির ও পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। চাপের কারণে আসিফ মহিউদ্দনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা সনদ পেতেও বেগ পেতে হয়েছিল।
এই অভিযোগের বিষয়ে গত ১ মার্চ সংবাদ মাধ্যমকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছিলেন, ‘এটা আমি জানি না।’
ভাতিজা নাহিন কীভাবে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়ালেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ও তো বাচ্চা ছেলে, পড়ালেখা করে। হয়তো পোলাপানের সঙ্গে মিশে এই রকম হলো কি না।’
এদিকে নিলয় হত্যা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাদ আল নাহিন এবিটিতে যোগদানের পর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে। ব্লগার আসিফ হত্যা চেষ্টায় জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দিলেও এ মামলায় সে জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। এর পর আবার পুরনো বৃত্তে জড়িয়ে ‘তথাকথিত জিহাদি চেতনায়’ উদ্বুদ্ধ হয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিলয় হত্যার পর পরই তারা সাদ আল নাহিনের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তার সন্ধ্যান পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে গোয়েন্দারা। নিলয় হত্যার বিষয়ে তার কাছে নানা তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব গোড়ানের ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বর বাসায় ব্লগার নিলয় খুনে যে চারজন খুনিরা বর্ণনা তারা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে সন্দেহভাজন বাঁ-হাতি আবদুল করিম ওরফে জাবেরের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এই জাবেরই নাহিনকে আসিফ হত্যা চেষ্টায়য় জড়িয়ে ছিল।
গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, ‘বাঁ-হাতি আবদুল করিম ওরফে জাবের এবং তার সহযোগী হাসিব ও ফাহিমকে গ্রেপ্তারে চলছে অভিযান। পাশাপাশি অন্যান্য সন্দেহভাজনদের কয়েকজনকে নজরদারিতে আনা হয়েছে।
আইনশৃংখলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবারের অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করলে কেউ কেউ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে। কিন্তু কেউ অভিযুক্ত হলে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে রেহাই নেই।
নাহিদ যেভাবে জঙ্গী
ডিবি সূত্র জানায়, নজরুল হক নান্নু কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের দাহিয়া ইউনিয়ের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি দুবার এ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতাও করেন।
নান্নুর ছেলে সাদ আল নাহিনের জম্ম ১৯৯১ সালের ১৩ ডিসেম্বর। প্রথমে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের বিবিএ (একাউন্টিং) বিভাগে ভর্তি হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর এমএলএম ব্যবসায় জড়িত হয়ে বেশী সময় দেয়ার কারণে এক সময় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়।
পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিবিএ-এর সার্টিফিকেট কিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন এমবিএতে ভর্তি হয়।
এ সময় নাহিন ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। এখানে থাকা অবস্থায় ২০১২ সালের মে মাসে এবিটির সাথে জড়িয়ে যায় সে।
২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার রহস্য উদ্ঘাটন চেষ্টার এক পর্যায়ে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয় নাহিন। তখন জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার তথ্য দেয়।
নাহিন জানায়, ২০১২ সালের মে মাসে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার দোকানদার নবীন (২৪), মানিক (২৫), ফাহিম (২২), কামাল (২৩), কাওছার (২৬) ও কামালদের (২৮) সাথে মিরপুর -১০ নম্বর গোলচত্বর মসজিদে নামাজ পড়ার সময় তার পরিচয় হয়।
তারা প্রায়ই একই সাথে নামাজ আদায় করত। মাঝে মধ্যেই ওই মসজিদে নামাজ শেষে ইসলামী বিষয়ে তারা আলাপ আলোচনা করত।
ওই সময় নবীনের মাধ্যমে আবদুল করিমের (২৫) এর সাথে তাদের পরিচয় হয়। তারা জানতে পারে আবদুল করিম ওরফে জাবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিষয়ে পড়াশোনা করে। সে ইসলামিক ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করত।
ওই বছরের জুলাই মাসের প্রথম শুক্রবারে জাবেরের সাথে তারা সবাই মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডের একটি মসজিদের খতিব জসিম উদ্দিন রাহমানীর সঙ্গে দেখা করে। সেখানে তারা তার ফতোয়া শুনে। তারপর হতে তার নিকট হতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জিহাদী বই এনে ফাহিম, নবীন, মানিক, কাওছার মিলে মিরপুর -১০ নম্বর মসজিদ এলাকায় বইগুলি বিক্রি করে ‘প্রকৃত’ ইসলাম প্রচারে উদ্বুদ্ধ হয়।
এরপর ওই বছরের নভেম্বর মাসে জাবেরের মাধ্যমে বসুন্ধারায় রানার সাথে তাদের পরিচয় ঘটে। ধর্মীয় আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জানতে পারে, জাবে রানার লোক এবং রানা শীর্ষস্থানীয় নেতা।
নাহিন আরো জানায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসের ২/৩ তারিখে জাবের তাদের এই দলটিকে জানায় যে, আসিফ মহিউদ্দীন নামে একজন ব্লগার ব্লগে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়। তাই তাকে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার। তখন তারা আলোচনা করে পরিকল্পনা তৈরী করে।
জাবের ৩ জানুয়ারি উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে আমাকে ও নবীনকে আসিফ মহিউদ্দীনের চেহারা, তার অফিস ও বাসা চিনিয়ে দেয়।
জাবের তাদের ছুরি ও সাইকেল কেনার জন্য তাদেরকে টাকা দেয়। পরে তারা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনের ফুটপাত থেকে তিনটি ছুরি কেনে এবং বংশাল হতে দুটি রেসিং সাইকেল কেনে।
পরে ৪ ও ১১ জানুয়ারি দু দফায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে আসিফ মহিউদ্দীনের অফিসের সামনে অবস্থান করলেও তার উপর আক্রমণ করতে ব্যর্থ হয় তারা। এ কারণে রানা ক্ষুদ্ধ হয়ে জাবেরকে গালাগালি করে।
এরপর ১৪ জানুয়ারি রাতে তার উপর আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয় নাহিন ও নবীন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রিকশা যোগে আসিফ তার অফিসের সামনে এসে পৌঁছায়। মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেওয়ার সময় তাকে নাহিন ও নবীন হামলা করে।
নাহিন প্রথমে ঘাড়ে একটি আঘাত করে। তখন আসিফ মহিউদ্দীন তার কোমড় জাপটে ধরে। তখন নাহিন তার মাথা ঘুরিয়ে দিয়ে তার পিঠে ছুরি দ্বারা আঘাত করে। আসিফের গায়ে শীতের মোটা কাপড় চোপড় থাকায় তার ছুরিটি বেকে যায়। এর ফাঁকে নবীনও ৩/৪ টি ছুরিকাঘাত করে।
আসিফ মহিউদ্দীন মাটিতে পড়ে গিয়ে চিৎকার করতে থাকে। তারা ভয় পেয়ে নাহিনের হাতের ছুরিটি সেখানে ফেলে দৌড়ে পালাতে থাকে। কিছুদূর গিয়ে রিক্সা নিয়ে আমরা উত্তরা আব্দুল্লাহ্পুর বাসস্ট্যান্ডে যায়। সেখান থেকে কনক বাসে উঠে মিরপুরে পৌছে তারা যে যার বাসায় চলে যায়।
নাহিন জানায়, পরদিন সকালে ফোন করে ঘটনাটি কৌশলে রানাকে ও জাবেরকে জানায়।
এক সপ্তাহ পরে তারা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর মসজিদে দেখা করে। এ সময় তারা সিদ্ধান্ত নেয় গুরুতর আহতহ আসিফকে ডাক্তার সেজে ঢুকে হার্টবিড অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করার ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলবে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
নাহিন ডিবিকে জানিয়েছিল, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের কালশিতে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে এবিটি সদস্যরা কুপিয়ে হত্যা করে। ওই বছরের ১ মার্চ এ ঘটনায় জড়িত দ্বীপসহ এবিটি সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়ে যায়। তখন ভয় পেয়ে তারা ঢাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
কিছু দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে মনে করে তারা ঢাকায় ফিরে আসে। নাহিনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকে। কিন্তু ৩১ মার্চ তারা ডিবির হাতে একে একে ধরা পড়ে। উৎসঃ অনলাইন বাংলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে সতেরো জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও তিনশ জন। বন্দরনগরী তিয়ানজিনে বিস্ফোরক দ্রব্যের একটি গুদামে এই ঘটনা ঘটেছে। চীনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পর পর দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। যার শকওয়েভ বা ধাক্কা পৌঁছে গিয়েছিল কয়েক
কিলোমিটার দুর পর্যন্ত। প্রথম বিস্ফোরণটির শক্তি ছিল তিন টন টিএনটির সমপরিমাণ। কিন্তু তার পরেরটির শক্তি ছিল ২১ টন টিএনটির মতো। চারপাশের বহু ভবন এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকগুলোতে ফাটল দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিস্ফোরণের পর আগুনের কুণ্ডলী রাতের আকাশকে একেবারে আলোকিত করে তোলে। বহু দূর থেকে যা দেখা গেছে। অনেকে ভেবেছেন ভূমিকম্প হচ্ছে। বহু মানুষজন আতঙ্কে বাইরে ছুটছিলেন। ওদিকে দিনের আলো ফোটার পর বোঝা যাচ্ছে চারপাশে বেশ কিছু ভবন গুড়িয়ে গেছে। দুমড়ে মুচড়ে পড়ে রয়েছে বহু কন্টেইনার। সকালেও আগুন জলতে দেখা গেছে। আশপাশে বিশাল এলাকা জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে তল্লাসি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরের হাসপাতালগুলো আহতদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানাচ্ছে বিবিসির সংবাদদাতা। এই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের আজকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দুজনকে এজলাসে বন্দী করে রাখার দণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে দেওয়া রুলের ওপর রায় দেওয়ার ধার্য দিন ছিল আজ। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টায় আদালত বসেন। এরপর রায় দেন আদালত।
রায়ে আদালত অবমাননা-সংক্রান্ত কিছু পর্যবেক্ষণ দেন আপিল বিভাগ। এর মধ্যে আদালত অবমাননা আইন সংস্কার এবং গণমাধ্যমের জন্য কিছু নির্দেশনারও কথা রয়েছে।
গত ১৬ জুলাই জনকণ্ঠ-এর ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা: পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি নিবন্ধের জন্য ২৯ জুলাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার রুল দেন আপিল বিভাগ। নিবন্ধটির লেখক স্বদেশ রায়।
৯ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে এ রুলের ওপর আংশিক শুনানি হয়। পরে ১০ আগস্ট আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে এ রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। ওই দিন আদেশের জন্য আজকের তারিখ ধার্য করেন সর্বোচ্চ আদালত।