May 7, 2026
ঢাকা: বঙ্গবন্ধু সেদিন শিশুর মতো কেঁদেছিলেন। খুব কাছে থেকে সে কান্না যারা শুনেছেন, জাতির পিতাকে সন্তানের জন্য কান্নায় ব্যাকুল হতে দেখেছেন- তাদের চোখের অশ্রুও সেদিন বাঁধ মানেনি। শুধু বঙ্গমাতার দু’চোখ ছিল অশ্রুহীন। অসীম বেদনা হৃদয়ের গভীরে চেপে রাখাই যে তাঁর সহজাত। সেদিন তাঁর মুখও ছিল বড় কিছু হারানোর বেদনায় বিমূঢ়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরর ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই দিনের কথা মনে করে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনও অশ্রুসজল হয়ে উঠলেন। ফিরে গেলেন পঁচাত্তরে।

0তিনি বলেন, ‘সেদিন ছিল ৩০ জুলাই ১৯৭৫। বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দুই শিশু সন্তান পুতুল ও সজিব এবং ছোট মেয়ে শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে বিদায় দিলেন বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা। সেদিন আমিও তাদের সাথে ছিলাম। বঙ্গবন্ধু সেদিন শিশুর মতো কেঁদেছিলেন! আর বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব অব্যক্ত বেদনায় বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলেন!”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া সেসময় পশ্চিম জার্মানির কার্লসরুয়ে শহরের আণবিক গবেষণা কেন্দ্রে আণবিক রিঅ্যাক্টর বিজ্ঞানে গবেষণায় ব্যস্ত ছিলেন। সেদিন শেখ হাসিনা দুই শিশু সন্তান এবং ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বসবাসের জন্য জার্মানি চলে যান।
কন্যাদের বিদায় দিয়ে যে বেদনা ফুটে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর চোখে-মুখে সেসময় তাঁকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা ছিল না ফরাসউদ্দিনের।
তিনি বলেছিলেন, এতো খুশির খবর। মেয়ে স্বামীর কাছে যাচ্ছে। সন্তানেরা যাচ্ছে তাদের বাবার কাছে। তবু কেন আপনারা এতটা ভেঙে পড়ছেন?
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “বাবারে, তুমি বুঝবা না, আমার ভেতরটা বেদনায় নীল হয়ে গেছে!’
পিতৃসম বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ের সেই আকুল কান্নাকে ফরাসউদ্দিন সিলেটের প্রচলিত প্রবাদের সাথে তুলনা করেন, “বিদেশে বিপাকে যদি ব্যাটা মারা যায়, পাড়া পড়শি জানার আগে- আগে জানে মায়।” তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ব্যাপারটা হয়েছে উল্টো। তাই বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা দু’জনই বিষন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইয়ে লিখেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সে সময়কার উপাচার্য ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর অনুরোধ এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অসুস্থতার কারণে আরও কয়েকটি দিন ঢাকায় থেকে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু জার্মানি থেকে স্বামী ড. ওয়াজেদের ফোনে যাওয়ার সিদ্ধান্তই ঠিক থাকে।
বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন, বঙ্গমাতার কাছে পুত্রসম ফরাসউদ্দিন দুই বোনের এই চলে যাওয়াকে ‘দৈব সৌভাগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সেদিন বাংলাদেশ থেকে চলে না গেলে তারাও হয়তো এই নির্মমতার শিকার হতেন! আমরাও আজকের এই বাংলাদেশ পেতাম না! ’
জাতির জনকের কাছ থেকে যে পিতৃস্নেহ তিনি পেয়েছেন সেই স্নেহের স্পর্শ আজও তাকে আবেগ আপ্লুত করে। অশ্রুসিক্ত করে। বঙ্গমাতার স্নেহের উল্লেখ করে ফরাসউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, তাঁর স্নেহ কোনোদিন ভোলার নয়। তাঁদের হারানোর শোকাবহ সেই দিনগুলির স্মৃতি এতোটা বছর বয়ে বেড়াচ্ছি! এ যে কী কষ্টের বলে বোঝাতে পারবো না!” –বাসস
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে আত্মনিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে মুক্তমত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারকে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে (এইচআরডব্লিউ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্লগাররা তাদের বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ আগস্ট ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আবারো সবার নিরাপত্তা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। নীলাদ্রি ব্লগে নিলয় নীল নামে লিখতেন। এ বছরে তিনি চতুর্থতম ব্লগার, যাঁকে চরমপন্থীরা হত্যা করেছে। তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থন করে লেখালেখি করতেন। এই চারজনই চরমপন্থী সংগঠনের ৮৪ ব্লগার হত্যার তালিকায় ছিলেন। এ তালিকায় ব্লগারদের ইসলামবিরোধী ও ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে, হত্যার হুমকি পাওয়ার পর ব্লগাররা পুলিশের কাছে অভিযোগ করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তার বদলে আত্মনিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে মনে রাখা উচিত, সংবিধানকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে, জনগণের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্লগার হত্যায় দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে লেখার জন্য ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
নীলাদ্রি মুক্তমনা ও ইস্টিশন ব্লগে নারী অধিকার, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে এবং ধর্মীয় চরমপন্থার সমালোচনা করে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। ফেসবুকেও তিনি নিলয় নীল নামে ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ানে নিজ বাসায় ব্লগার নীলাদ্রিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নীলাদ্রিকে ‘আল্লাহ’র শত্রু’ আখ্যা দিয়ে এ হত্যার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম। এ ঘটনার কয়েক মাস আগে হত্যার হুমকি পেয়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করেননি।
২০১৫ সালে নীলাদ্রি চতুর্থ ব্লগার ও পঞ্চম ব্লগার, যাঁকে হত্যা করা হলো। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। মার্চে রাজধানীর বেগুনবাড়ীতে বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার সময় ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে হত্যা করা হয়। মে মাসে সিলেটে অন্তত রায়কে হত্যা করে উগ্রবাদীরা।
গাজীপুর প্রতিনিধি: যুদ্ধাপরাধ মামলায় ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে ঢাকা আনার পথে একটি প্রিজন ভ্যান গাজীপুরে দুর্ঘটনায় পড়ে এক আসামিসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের দ্বিতীয় ফটকের কাছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নাওজোড় মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক মো. কাওছার আহাম্মেদ জানান, ময়মনসিংহের ফুবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী প্রিজন ভ্যানটির সঙ্গে নেত্রকোণা পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন- আসামি আমজাদ আলী ও রিয়াজ উদ্দিন ফকির, ভ্যানের চালক কনস্টেবল মেহেদী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল ওয়াসিম, হাবিলদার নুরুদ্দীন ও নায়েক মুস্তাফিজ।
দুর্ঘটনার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে নায়েক মুস্তাফিজকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে এ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাসুদ রানা জানান।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানা জারির পর মঙ্গলবার ফুলবাড়িয়ার কেশরগঞ্জ গ্রাম থেকে আমজাদ এবং ভালুকজান গ্রাম থেকে রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করার জন্য বুধবার সকালে তাদের ওই প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় আনা হচ্ছিল। ফুলবাড়িয়া থানার পরিদর্শক ওয়াহিদও ওই ভ্যানে ছিলেন।
দুর্ঘটনায় বাসের কেউ আহত হননি বলে মহাসড়ক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ, সমমনা ও কয়েকটি শরিক দলকে নিজ দলে একীভূত করা, ১৫ আগস্ট নিজের জন্মদিন পালন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে প্রায় এক বছর পর ২০ দলীয় জোটের বৈঠক আহ্বান করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আজ রাত ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। বৈঠকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিগত আন্দোলনের ব্যর্থতা, পরবর্তী করণীয়, দলে একীভূতসহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে জোট নেত্রী খালেদা জিয়া শিগগির লন্ডন সফরের আগে জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়ে যেতে পারেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিনের এ বৈঠকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচি নির্ধারণ করতে জোটের শীর্ষ বৈঠক ডেকেছেন চেয়ারপারসন। এছাড়া ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে লন্ডনে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হবে নেত্রীর। তার আগে জোট শরিকদের সঙ্গে এ পরামর্শ বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ১৫ বা ১৬ আগস্ট যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দল ও জোটের করণীয় নিয়ে আলোচনা করবেন বিএনপিপ্রধান। এ সফর সামনে রেখেই আজ জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি নেত্রী।
সূত্র জানায়, ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিএনপি জোটের টানা অবরোধ-হরতাল কোনো কাক্সিক্ষত ফল বয়ে আনেনি বলে মনে করেন জোট নেতারা। তারা বলেছেন, ওই হরতাল-অবরোধের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে জোটের কোনো বৈঠক ডাকা হয়নি। তিন মাসের এই ‘বড় আন্দোলন’ কার্যত ব্যর্থ হওয়ার পর জোটের বৈঠক না ডাকায় পরবর্তী করণীয় নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন শরিকরা। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন শরিক দলের অনেক নেতা।
অন্যদিকে, বিগত আন্দোলনে ২০ দলের শরিকদের কোনো ‘দৃশ্যমান’ ভূমিকা না থাকায় জোট ভাঙার পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপি নেতারা। গত ২৮ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই জোট ভাঙার পক্ষে মত দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাজাহান ওমর।
তিনি জোট ভেঙে দিয়ে জোটের দলগুলোকে বিএনপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার আহ্বান জানাতে খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় জোটের অন্যতম শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম এর প্রতিবাদ জানান।
অবশ্য জোটের দ্বিতীয় বৃহৎ শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘ দিনের টানাপড়েন চলে আসছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতাদের একের পর এক ফাঁসিসহ বিভিন্ন সাজার বিষয়ে জোটের প্রধান দল বিএনপি কোনোই প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এ নিয়ে জামায়াতের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে জোটের বিগত দিনের আন্দোলনেজামায়াতের নেতাকর্মীদের সেভাবে রাজপথে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ বিএনপির। অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের মতে, জোটের প্রধান দল বিএনপিকেই যেখানে রাজপথে দেখা যায় না, সেখানে অন্য শরিকরা কেন প্রাণ দিতে যাবে?
জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের রায় এবং কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার এই বিষয়গুলো ছাড়াও জামায়াত ত্যাগ করতে বিএনপির ওপর দেশি-বিদেশি চাপের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক গুরুত্ব পায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিবর্গ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খালেদা জিয়ার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে সিপিবিসহ বাম ধারার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারাও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে জোট থেকে জামায়াতকে সরানোর আহ্বান জানান। দেশি-বিদেশিদের এই চাপের প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়া কয়েকটি বিদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক মিল নেই বলে জানান। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির গাঁটছড়াকে ‘সাময়িক’ বলেও পক্ষগুলোকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন খালেদা জিয়া।
অন্যদিকে জোটে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনের এক সভায় ধর্মীয় রাজনীতির বিপক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, শুধু ধর্মকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক দল হতে পারে না। এ অবস্থায় জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতি না পাওয়ার পর জোট ভাঙা বা জামায়াতকে সরানো হচ্ছে কি-না তা নিয়ে সব মহলে ব্যাপক গুজব-গুঞ্জরণের মধ্যে হঠাৎ জোটের শীর্ষ বৈঠক ডাকলেন খালেদা জিয়া। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক মহলে শরিকদের সঙ্গে বিএনপি নেত্রীর আজকের বৈঠক নিয়ে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির ক্রীড়া নৈপুণ্যে ইউয়েফা সুপার কাপ ফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সেভিয়াকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে বছরের চতুর্থ শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট
বার্সেলোনা। খেলা শুরুর মাত্র ৩ মিনিট পর প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন সেভিয়ার এভার বানেগা। তবে ৪ মিনিট পরই খেলায় সমতা আনেন লিওনেল মেসি।
১৫ মিনিটে গোল ব্যবধান দ্বিগুন করেন মেসি। প্রথমার্ধের খেলার প্রায় শেষ পর্যায়ে ৩-১ এর ব্যবধান গড়েন বার্সার রাফিনহা। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরই প্রতিপক্ষের জালে আরো একটি গোল জড়ান লুইস সুয়ারেজ। ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে হোসে আনোনিও রেইস, কেভিন গামেইরো ও ইয়েভেন কোনোপ্লিয়াঙ্কার গোলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেভিয়া। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। বাড়তি সময়ের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে মেসির ফ্রি-কিক থেকে পেদ্রো রদ্রিগেসের গোলে বছরের চতুর্থ শিরোপাটি জিতে নেয় লুইস এনরিকের দল বার্সা।
আবু-সুফিয়ান: অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল সিনেমা পরিচালনা ও প্রযোজনা করবেন শাবনূর। কিন্তু করছেন করছেন বলেও করা হচ্ছে না তাঁর। অবশেষে এতদিনে খবরটি আলোর মুখ দেখলো। কেননা শাবনূর গত ১০ ই আগস্ট বিএফডিসির সহকারি পরিচালকদের সংগঠন সিডাব-এর সদস্য হলেন।

স্বাভাবিকবাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, পরিচালনা বাদ দিয়ে সহকারি পরিচালক হচ্ছেন কেন তিনি। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই গুণী অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘পরিচালক হতে হলে প্রথমে পরিচালনা শিখতে হবে। আর সেজন্য সহকারি পরিচালক হিসেবে কোনো পরিচালকের কাছ থেকে সিনেমা নির্মাণের বিষয় আশয় শিখে নিতে চাই। আর এই কাজটা করবো আমার প্রযোজিত ছবির পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেই।’
একই সঙ্গে ছবি প্রযোজনা ও সহকারি পরিচালক হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন শাবনূর। তবে কবে? শাবনূর বলেন, ‘ছবির গল্প গুছানোর কাজ চলছে। গল্প শেষ হলেই ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবো।’
এদিকে শাবনূর গত ৯ আগস্ট সিনে ডিরেক্টরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সিডাব) এর সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষাপটে তাঁকে ১০ই আগস্ট সম্মানিত সদস্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য প্রায় ২ বছর পর শাবনূর গত ১লা আগস্ট ‘পাগল মানুষ’ ছবির জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
বিনোদন ডেস্ক: ক্রিকেটার রুবেল হোসেন এবং আলোচিত মডেল নাজনীন আকতার হ্যাপিকে নিয়ে লেখালেখি আর সমালোচনা এমনিতে কম হয়নি। যারা হ্যাপিকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং করছেন তাদের মুখে এবার তালা ঝোলাবেন বলে মন্তব্য করলেন হ্যাপি। মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেয়া স্ট্যাটাসে এমন কথায় বললেন
তিনি। হ্যাপি লিখেছেন…`আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন, সব সমালোচকের মুখে তালা ঝোলাবো। এমন কিছু ঘটবে যা কেউ ভাবতেও পারবে না! তখন দেখব কোন মুখে কি নিয়ে, কে কি বলে! ভাবতেই হ্যাপী হ্যাপী লাগছে!` এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দেশ ছেড়ে চলে যাবেন বলে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন হ্যাপি। পরে সেদিনই আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বলেন, `চলে যাবো চিন্তা করছি, তবে আর কিছুদিন পর। ভিসাটা তাড়াতাড়ি দিলেই হয়।`
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে এলে তা সুখকর হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। সোমবার পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার উসকানি ও মদদে আন্দোলনের নামে বাংলাদেশের মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। পেট্রলবোমার আগুনে আহত অনেকে এখনো ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন। আর তিনি নিজে চিকিৎসা নিতে লন্ডনে আসছেন। যেখানেই খালেদা, সেখানেই তাকে প্রতিহত করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তারা বলেন, আপনি মানুষের লাশের ওপর দিয়ে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে লন্ডনে আসবেন, এখানকার প্রবাসী বাঙালিরা আপনাকে স্বাগত নয়, ধিক্কার জানাচ্ছে। খালেদা জিয়াকে ‘আগুনসন্ত্রাসী’ ও ‘জঙ্গিবাদের মদদদাতা’ বলে উল্লেখ করে তারা আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে প্রতিহত করার মাধ্যমে বাঙালিরা প্রমাণ করবে যুক্তরাজ্য কোনো সন্ত্রাসীকে স্বাগত জানায় না।
উল্লেখ্য, চিকিৎসার জন্য লন্ডন যেতে ভিসার আবেদনপত্র জমা দেয়াসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আবেদনপত্র জমা দেন তিনি। তবে খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়ার সময়সূচি এখনো ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সস্ত্রীক জেএফকে এয়ারপোর্টে পৌঁছান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জেএফকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান নিউইয়র্ক সফররত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদফতর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ডা. রফিক চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ এর সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান প্রমুখ।
বিমানবন্দর থেকে ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি হোটেলে চলে যান। হোটেলে তাকে অভ্যর্থনা জানান নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকা। উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্যারোটিড আর্টারি ব্লকেজ ও হার্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতিসহ তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিনের পরপরই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান।
নিউজ ডেস্ক: নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় ওরফে ব্লগার নিলয় নীল হত্যাকাণ্ডে ‘বাঁহাতি’ আবদুল করিম ওরফে জাবের এবং তার দুই সহযোগী ফাহিম ও হাসিব অংশ নেয় বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এর মধ্যে জাবের গত ১২ মে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডেও জড়িত ছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার ভাতিজার’ সূত্র ধরে জাবেরসহ তিন খুনির ব্যাপারে অনেকটা অগ্রসর হওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এছাড়া আরও দুজন নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এদিকে ঘটনার দিন শুক্রবার গোড়ানের ওই বাসায় খুনের পরপরই উপস্থিত মিঠু ওরফে মিঠুনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে গোয়েন্দা পুলিশ। আর মঙ্গলবার নিহত ব্লগার নিলয়ের স্ত্রী আশামণি ও তার বোন তন্বীকে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আশামণির এক আত্মীয়ের বাসায় ডিবি পুলিশের একটি টিম তাদের সঙ্গে কথা বলে খুনিদের চেহারার বর্ণনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এমনকি তাদের কয়েকজনের ছবি দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
যেভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে
নিহত নিলয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন পূর্ব গোড়ানের একটি সরুগলির ১৬৭ নম্বর হোল্ডিংয়ে পাঁচতলা বাড়ি হক মঞ্জিল- এ থাকতেন। বাড়ির মালিক শামসুল হক দোতলায় থাকেন। বাড়িটিতে কোনো নিরাপত্তাকর্মী নেই।
নিলয়ের স্ত্রী আশামনি বলেন, নিলয় গত শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বাসায় ঢুকে গোসল করে শোবার ঘরে বসে ছিলেন। এর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বাইরে থেকে কড়া নাড়ার শব্দে তিনি দরজা খুলে দেন। ওই সময় এক যুবক বাসা ভাড়া নেবে বলে দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে ২০-২১ বছর বয়সী জিন্সের প্যান্ট পরা এক যুবক দরজা খুলতেই বাসায় ঢোকেন। তিনি বাসা ভাড়া নেবেন বলে নিজ থেকেই দু’বার পুরো ফ্ল্যাট ঘুরে দেখেন। তখন আমি বলি, ‘আমরা তো বাসা ছাড়ছি না, বাসা ভাড়া নেবেন কীভাবে? বাড়িওয়ালাকেও তো এ বিষয়ে কিছু বলিনি।’
আশামনি বলেন, ‘এ সময় ওই যুবক বলেন- বাড়িওয়ালাই আমাকে দেখে যেতে বলেছেন বলে হাতে মোবাইলেও যেন কী যেন করছিলেন। আমি বিষয়টি ড্রয়িংরুমে আমার স্বামীকে জানাতে যাই।’
এইমধ্যে আরো তিন যুবক বাসায় ঢোকেন। এরমধ্যে একজনের মুখে দাঁড়িও ছিল। তারা ভেতরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন। তিনজন যুবকের হাতে রামদা ও একজনের হাতে পিস্তল ছিল।
নিলয়ের স্ত্রী বলেন, ‘আমি ওই যুবককে চলে যেতে বললে সে পিস্তল বের করে আমাকে ভয় দেখায়।
এরপর আমি নিলয়কে ঘটনাটি বললে সে এগিয়ে আসে। নিলয় বেরিয়ে যেতে বলতেই তারা তাকে দেখামাত্রই ওই চারজন রামদা দিয়ে কোপাতে শুরু করে। এ সময় তারা নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার স্লোগান দিচ্ছিল।’
তিনি বলেন, ‘একজন আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বারান্দায় রেখে ভেতর থেকে দরজা লক করে দেয়। একইভাবে অন্য রুম থেকে তন্বীকেও এখানে নিয়ে আসে। পরে এক সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায় তারা।’
আশামনি বলেন, ‘বারান্দায় আমি বারবার বাঁচাও, বাঁচাও বলে চিৎকার দিলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।’
সন্দেহভাজ খুনিচক্র
ব্লগার নিলয়কে হত্যার পরপরই তদন্তের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে জঙ্গী কার্যক্রমের উপন নিয়মিত নজর রাখে এমন সংস্থাগুলো দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর খুনের ধরণ ও ঘটনাস্থলে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বলে তদন্তু শুরু হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লম্বা ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বাঁহাতি জাবের বেশির ভাগ সময় সাইকেলে চলাফেরা করে। নিলয় হত্যায় বাঁহাতের কোপের যে একাধিক চিহ্ন রয়েছে সেগুলো তার বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর পল্লবীতে ২০১৩ সালে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভন হত্যাকাণ্ডের সময় নিহতের বাসার সামনে যে কয়েকজন খুনি ক্রিকেট খেলছিল তাদের মধ্যে জাবের অন্যতম।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিলয় হত্যাকাণ্ড শেষে খুনিদের চলে যাওয়া লক্ষ্য করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
এর মধ্যে ‘শ’ আদ্যাক্ষরের একজন নারীও রয়েছেন। তিনি জানান, খুনিরা যখন চলে যায় তখন সবার আগে নিচে নামে বেশ লম্বা ও স্বাস্থ্যবান এক যুবক। তার বাঁহাতে তিনি ছুরি দেখেছেন। এমনকি ওই যুবক সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় যখন হাত উঁচিয়ে ‘নারায়ে তাকবির’ বলেছে, তখনও সে বাঁহাত ওপরে তুলেছে।
নিলয় হত্যাকাণ্ডে জাবেরের সঙ্গে ফাহিম ও হাসিব নামে দুজনও অংশ নেয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা। যে কোনো কাজে জাবেরের সঙ্গে ওই দুই যুবককে সব সময় দেখা যায় বলেও তারা জানান। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী। তবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়ারা অনেক সময়ই ছদ্মনাম ব্যবহার করে জানায় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার রাজধানীর পূর্ব গোড়ানের ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বর বাসায় আসা চারজন খুনির যে বর্ণনা গোয়েন্দারা পেয়েছেন তার মধ্যে বাঁহাতি আবদুল করিম ওরফে জাবের ছাড়াও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকজন। এরা হলেন- সাদ আল নাহিন, কাওসার হোসেন, কামাল হোসেন, কামাল সর্দার, কাওসারের ভাই নবীর হোসেন, আবদুল্লাহ ওরফে হাসিব ও রেজওয়ানুল আজাদ রানা। রানা ব্লগার রাজীব হত্যার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের দলে আরও একজন আবদুল করিম আছে বলে জানা গেছে। জড়িত সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বলে সন্দেহ করছে আইনশৃংখলা বাহিনী।
র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, সবকিছু মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তিগত তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। খুনের ঘটনায় উগ্রপন্থী কায়দা ও কৌশল প্রয়োগ হলেও নেপথ্যে কিছু আছে কিনা সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি।
ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র প্রথম সেমিস্টারের (২০১৪ সালে) ছাত্র সাদ আল নাহিনের দেয়া তথ্যে বাঁহাতি খুনি আবদুল করিম ওরফে জাবেরের বর্ণনা পাওয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওই যুবক কয়েকটি ভাষায় কথা বলতে পারে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ছাত্র ছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একটি স্লিপার সেলের সূত্র ধরে কাজ করছে। পাশাপাশি তদন্তে যেসব বিষয় আসছে সবকিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সবগুলো ব্লগার খুন একই সূত্রে গাঁথা। প্রত্যেকটি খুনের ধরন তা একই রকমের। তাছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আগের গ্রেপ্তারকৃতরা জড়িত ও নেপথ্যের আরও অনেকের নাম বলেছে। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে। সূত্র: যুগান্তর