পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার মানে অন্যের ধানক্ষেত মাড়িয়ে যাওয়া নয় : আল্লামা শফী

হাটহাজারী: কিছু মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হেফাজতের দেয়া ৮৪ জনের তালিকা ধরেই একে একে ব্লগার হত্যা করা হচ্ছে মর্মে মনগড়া নিউজ করে ব্লগার হত্যার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামকে জড়ানোর অপপ্রয়াস লক্ষ করা যাচ্ছে বলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি বলেন, আল্লাহ-রাসূলের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কটূক্তি এবং ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে যেন মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সরকার কঠোর আইন পাস করে।IMG_5627

যাতে ধর্মকে কেন্দ্র করে মানুষে মানুষে বিদ্বেষ, হিংসা, প্রতিশোধপরায়ণতা ও সহিংসতা জন্ম না নেয়। হেফাজতের ১৩ দফার মূল উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিরাজমান সুন্দর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান ও পারস্পরিক মমতাবোধ যেন নষ্ট না হয়। যে কারণেই হেফাজতের ১৩ দফার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। হেফাজত কোনো অবস্থাতেই আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও সহিংস পরিস্থিতি সমর্থন করে না বলেই বারবার ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে।
হেফাজত আমির বলেন, কারো ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যঙ্গ করা, ঘৃণা ছড়ানো, হেয় করা কোনো অবস্থাতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, যেমন স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার থাকা মানে অন্যের ধানক্ষেত মাড়িয়ে যাওয়া নয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে যে ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা দেয়া হয়, তা মাসিক আল-বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল-ইহসান পত্রিকার সম্পাদক ও আনজুমানে আল-বাইয়্যিনাতের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম আরিফের নেতৃত্বে দেয়া হয়েছিল।
তিনি হেফাজতে ইসলামের কেউ নন ও ওই বৈঠকে হেফাজতের কোনো নেতা অংশ নেননি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকসহ প্রায় সব গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা হেফাজত দিয়েছিল বলে যে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদী ও তাদের দোসররাই এমন মিথ্যাচারে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে হেফাজত আমির আরো বলেন, আমাদের ১৩ দফার মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল, ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস ও সে আইনের আওতায় বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেয়া। যাতে কেউ কোনো সম্প্রদায় বা ব্যক্তি বিশেষের অনুভূতিতে আঘাত হেনে দেশ ও সমাজে শান্তি বিনষ্ট করার অপপ্রয়াস চালাতে না পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু মহল থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতারও একটা সীমা আছে। অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে কেউ হেয় করতে পারে না। অন্যের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে মশকরা করা যায় না। কারো ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যঙ্গ করা, ঘৃণা ছড়ানো কোনো অবস্থাতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়।

বিবৃতিতে হেফাজত আমির আরো বলেন, হেফাজতে ইসলামসহ এ দেশের ওলামা-মাশায়েখ, কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা শান্তিতে বিশ্বাসী। কারণ ইসলাম আমাদের শান্তি, সাম্য, সহনশীলতা ও ইনসাফের শিক্ষা দেয়। আমরা কখনোই আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়া বা কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত সহিংস কর্মকাণ্ড সমর্থন করি না। হেফাজতে ইসলাম খুন, গুম, অপহরণসহ সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে। আমরা চাই, ব্লগার হত্যাসহ সব ধরনের বিচারবহির্ভূত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

হেফাজত আমির ইসলাম অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোয় জড়িত ব্লগারদের কিছু মিডিয়ায় বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা বলে পরিচিত করার প্রয়াসের উল্লেখ করে বলেন, এটাও ধর্ম অবমাননাকারীদের প্ররোচিত করার শামিল। তিনি বলেন, দেশের শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশ থেকে ইসলামি সংস্কৃতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রেরই অংশ

পরিবেশ দূষণের কথা বলে পবিত্র ঈদুল আজহায় পাড়া-মহল্লায় কোরবানি দেয়ার চিরাচরিত ইসলামি ঐতিহ্য বন্ধ করে এর পরিবর্তে বিশেষ বিশেষ এলাকা বেছে নিয়ে এক স্থানে সব পশু কোরবানি দেয়া ও নিবন্ধিত লোকের মাধ্যমে পশু জবাইয়ের বিধি জারির সরকারি উদ্যোগের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটাকে দেশ থেকে ক্রমান্বয়ে ইসলামি সংস্কৃতি ও চেতনাবোধ ধ্বংসের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। গতকাল সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, শুধু পাড়ামহল্লা থেকে কোরবানির সংস্কৃতিকে সরিয়ে দেয়া নয়, যানজটের অজুহাত খাড়া করে পশুর হাটে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে কোরবানিদাতাদের জন্য পশু ক্রয়েও সঙ্কট তৈরির ষড়যন্ত্র চালুর চেষ্টা চলছে। তিনি সরকারের প্রতি পবিত্র কোরবানির ঐতিহ্যবিরোধী কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে করে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাবে।
বিবৃতিতে হেফাজত আমির আরো বলেন, ইসলামের অন্যতম নিদর্শন ও ওয়াজিব বিধান পবিত্র কোরবানি নিয়ে ইহুদি, ব্রাহ্মণ্যবাদি ও ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্য চক্র দীর্ঘ দিন ধরে গভীর চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। এ লক্ষ্যে আমাদের প্রতিবেশী বৃহৎ দেশটি দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে গরু রফতানি কড়াকড়িভাবে বন্ধ রেখেছে। কয়েক দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, তাদের মন্ত্রীরা বাংলাদেশে গরুর গোশতের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় বেজায় খুশি হয়েছেন। পবিত্র কোরবানি নিয়ে ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা থাকতে পারে, এমন সংবাদ থেকেও তা সহজে অনুমান করা যায়।

আল্লামা শফী বলেন, পবিত্র কোরবানি নিয়ে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ না তুলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিত, পশুবর্জ্য অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেয়া এবং জনগণকে কোরবানির পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে উদ্বুদ্ধ করে প্রচারণা চালানো। কিন্তু তা না করে সংবাদ সংস্থা ও ইসলামবিদ্বেষী চক্রের পরিবেশ দূষণের খোঁড়া অজুহাতকে সামনে এনে পবিত্র কোরবানির চিরাচরিত ঐতিহ্যকে সঙ্কোচিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

Posted in জাতীয় | Comments Off on স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার মানে অন্যের ধানক্ষেত মাড়িয়ে যাওয়া নয় : আল্লামা শফী

‘আর যৌথ প্রযোজনা নয়’

মেহেদী হাসান বাবু: ‘কিং খান’ শাকিবের সঙ্গে ‘বদলে যাওয়া’ অপু আর পশ্চিমবঙ্গের ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তের মারদাঙ্গা অ্যাকশন – ‘সম্রাট’ সিনেমাটির টিজারে দেখা মিললো এসবের। ‍মুক্তি পেয়েই অনলাইনে ঝড় তুলেছে টিজারটি। দেড় মিনিটের টিজারে চোখে পড়লো লন্ডন, মালয়েশিয়া আর বাংলাদেশের নানা লোকেশন। খলচরিত্র মিশা সওদাগরকে নানা কুকর্মের ছক কষতে দেখা গেল। ইন্দ্রনীল আবির্ভূত হলেন মারমুখী ভূমিকায়, যেন কিসের অভিযানে নেমেছেন তিনি। এরপরই এলেন অপু। মোহনীয়া অপুকে বলিউডের কোনো নায়িকার তুলনায় কম গ্ল্যামারাস মনে হয়নি। সবশেষে অন্য রকম এক অবতারেই দেখা গেল শাকিব খানকে। ক্ষ্যাপাটে এই গ্যাংস্টারের ইচ্ছেতেই যেন হতে হবে সবকিছু।

apu+++shakib+(2)
ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ লিখেছেন, “দিন যাচ্ছে, ‘সম্রাট’-এর টিজার নিয়ে সাড়া যেন তত বাড়ছে।এই সাড়া- প্রতিক্রিয়ার কোনো সংজ্ঞা হয় না। ঋণী হয়ে গেলাম। এই প্রশংসার পথটা তৈরি করে দিতে অকৃপণ পরিশ্রম করেছেন শাকিব খান, তিনি কেন দেশের এক নম্বর সুপারস্টার আর ভালো অভিনেতা, এই টিজার ছাড়ার পর শিরায় শিরায় বুঝে ফেলেছি। সম্রাট চরিত্রে তাকে ছাড়া অন্য কারও কথাই ভাবিনি। ভুল যে করিনি, সবার প্রশংসাতেই বোঝা যাচ্ছে। আমার ওপর আস্থা রেখে এক্সপ্রেশন, অভিনয়ের ঢঙ, সাজগোজ সবকিছুতে পরিবর্তন এনেছেন শাকিব খান। এজন্য তার প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ।” রাজ ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি সিনেমার প্রধান অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে।

“অপু বিশ্বাসকেও ধন্যবাদ। তাকেও নতুন অবয়বে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, তিনি সহযোগিতা করেছেন মনোযোগী ছাত্রীর মতো। মিশা সওদাগরের তো তুলনা হয় না ! তাকেও ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে। বলিউড আর কলকাতার বাংলা ছবিতে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও ‘সম্রাট’-এর জন্য সময় বের করেছেন তিনি। বন্ধুর মতো মিশেছেন আমার সাথে।” ‘সম্রাট’ সিনেমার টিজার নিয়ে অনলাইনে আলোচনার ঝড় বইছে। পর্তুগাল প্রবাসী রাজু কর্মকার লিখেছেন, “অবশেষে বাংলা সিনেমাতে একটা বড় পরিবর্তন আসছে। আমার মনে হচ্ছে, এবার সত্যিই পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে যাওয়া যায়। টিজারটি দেখার পরে মনে হল এ সিনেমাটি আমাদের সবার হলে গিয়ে দেখা উচিত। সিনেমাটি বিনোদনমূলক হবে বলেই আশা করছি।”

সিনেমাভক্তদের ফেইসবুক গ্রুপ বাংলা চলচ্চিত্রের সদস্য মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন লিখেছেন, “আমাকে কখনও শাকিব খানের সিনেমাগুলো হলে টানেনি। তবে এখন শাকিব খানের একটি মুভি দেখার জন্য আমি অপেক্ষায় আছি। ‘সম্রাট’ সিনেমার টিজার দেখলাম। আমি শাকিব খানের ভক্ত না। কিন্তু শাকিব খান যদি এরকম সিনেমা করে তাহলে আমাদের আর যৌথ প্রযোজনার সিনেমা করা লাগবে না। সত্যি শাকিব খান একাই আমাদের ইন্ড্রাস্টি, আমাদের সেই সোনালি অতীতে ফিরিয়ে নিতে পারবে।”

একই গ্রুপের সদস্য জান্নাতুল নাইম পিয়াল লিখেছেন, “সিনেমাটির টিজার যারা দেখেছেন, প্রায় সবাই মুগ্ধ। একটা কথা মানতেই হবে, ‘দুই পৃথিবী’ বা ‘লাভ ম্যারেজে’র শাকিব খানের সাথে ‘আরও ভালোবাসবো তোমায়’ বা ‘সম্রাটে’র শাকিব খানের আকাশ পাতাল তফাৎ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খান নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বাংলা চলচ্চিত্রের পালাবদল শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরেই।”

Posted in বিনোদন | Comments Off on ‘আর যৌথ প্রযোজনা নয়’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ভালো চলছে উল্লেখ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক বলে কোনো কিছু নেই। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। সম্ভাবনা নেই মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও।

1413461463_thakurgaon_pic_220141016182848
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ ভালো চলছে। শেখ হাসিনা যথাসময়ে নির্বাচন দেবেন। মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জহির রায়হান মিলনায়তনের শাখা ছাত্রলীগ ওই সেমিনারের আয়োজন করে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

Posted in জাতীয় | Comments Off on তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের রাজৈরে পিকআপের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈরের সাধুরব্রিজ এলাকায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।Madaripur-Accident20150811121247

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়া থেকে বরিশালগামী পণ্যবাহী একটি পিকআপ সাধুরব্রিজ এলাকায় রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পিকআপের ড্রাইভার নিহত ও হেলপার গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেবার পথে তারও মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন, আবদুল আলিম (২৬) ও আবদুল ওয়াহিদ (৩৭)। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বলে পুলিশ জানায়। ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক দুটি আটক করা হয়েছে।

রাজৈর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ভুইয়া জানান, নিহত ড্রাইভারের পকেটে থাকা পণ্যের একটি রশিদ দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Posted in সারা দেশ | Comments Off on মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

সিরাজের ফাঁসি, আকরামের আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের সিরাজ মাস্টার(কসাই সিরাজ) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- ও , খান আকরাম হোসেনকে আমৃত্যু কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যর বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, সৈয়দ হায়দার আলী, জেয়াদ আল মালুম, সায়েদুল হক সুমন উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজ মাস্টারের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান ও খান আকরামের পক্ষে ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১ টা ৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়।
মোট ১৩৩ পৃষ্টা রায়ের প্রথমাংশ পাঠ করেন সদস্য বিচারপতি বিচারপতি আনোয়ারুল হক। দ্বিতীয়াংশ পাঠ করেন অপর সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম.ইনায়েতুর রহিম।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এই দুইজনকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশি প্রহরায় ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়।

গত ৫ আগস্ট সিরাজ মাস্টার(কসাই সিরাজ)ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্যে করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলার তিনজন আসামির মধ্যে আব্দুল লতিফ তালুকদার গত ২৮ জুলাই অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান।
লতিফ তালুকদারের মৃত্যু হওয়ায় তার মামলার কার্যক্রমও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় এদিন।
গত ২৩ জুন উভয়পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষামাণ রাখা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী ও ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন।
সিরাজ মাষ্টারের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান ও খান আকরাম হোসেন ও লতিফ তালুকদারের পক্ষে ব্যারিস্টার মীর সারোয়ার হোসেন চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন।
গত ২১ জুন অভিযোগের উপর যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন আসামিপক্ষ।
গত ১৫ জুন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। গত ২৯ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
যত অভিযোগ: মানবতাবিরোধী অপরাধে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ ও খান আকরামের বিরুদ্ধে হত্যা,ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মোট ৭ অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগগুলো হল:photo-1439267837
অভিযোগ ১: গণহত্যা, হত্যা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগঃ ১৯৭১ সালের ১৩ মে ততকালীন বাগেরহাট মহকুমার রাজাকার বাহিনীর ডেপুটি কমা-ার সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে রজব আলী ফক্রি এবং ৫০/৬০ জন রাজাকার বাগেরহাট জেলার রঞ্জিতপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর লুট এবং অগ্নিসংযোগ। এসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪০-৫০ জন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা।
অভিযোগ ২: গণহত্যা, হত্যা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগঃ বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার ডাকরার কালীমন্দিরে ভারতের শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই-তিন হাজার লোক। ১৯৭১ সালের ২১ মে বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ততকালীন বাগেরহাট মহকুমার রাজাকার বাহিনীর ডেপুটি কমা-ার সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে রজব আলী ফক্রি এবং ৫০/৬০ জন রাজাকার তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৬০০-৭০০ জনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ডাকরা গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর লুট এবং অগ্নিসংযোগ।
অভিযোগ ৩: হত্যা, অপহরণ, আটক এবং নির্যাতনঃ ১৯৭১ সালের ১৮ জুন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর থানার বেসরগাতী, কান্দাপাড়া এলাকায় ততকালীন বাগেরহাট মহকুমার রাজাকার বাহিনীর ডেপুটি কমা-ার সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন পাক সেনা এবং ৩০/৩৫ জন রাজাকার হামলা চালিয়ে ২০ জন নিরীহ নিরস্ত্র লোককে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ও পরে ১৯ জনকে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ ৪: অপহরণ এবং হত্যাঃ ১৯৭১ সালের ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ততকালীন বাগেরহাট মহকুমার রাজাকার বাহিনীর ডেপুটি কমা-ার সিরাজ মাস্টারের নেতৃত্বে ১০০/১৫০ জন রাজাকার সদর থানার চূলকাঠি বাজার, চূলকাঠি, ঘনশেম্পুর এবং এর পার্শ্ববর্তি এলাকায় হামলা চালিয়ে ৪২টি বাড়ি লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় সাতজন নিরস্ত্র মানুষকে আটক এবং নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ ৫: অপহরণ এবং হত্যাঃ ১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বর দুপুর ৩টায় সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম এবং লতিফ তালুকদার এবং ৫০/৬০ জন রাজাকার কচুয়া থানার শাখারিকাঠি বাজারে হামলা চালিয়ে ৪০জন হিন্দুসহ ৪২ জনকে আটক, নির্যাতন ও পরে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় অনেক বাড়ির মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
অভিযোগ ৬: অপহরণ এবং হত্যাঃ ১৯৭১ সালের ২২ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকাল আনুমানিক ৫টা পর্যন্ত সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম এবং লতিফ তালুকদার টেংরাখালি গ্রাম থেকে সতিশ চন্দ্র ম-ল, কচুয়া গ্রাম থেকে বাবু খান, হাজরাখালি গ্রাম থেকে নজ্রুল ইসলাম শেখ, বাড়ুইখালি গ্রাম থেকে মনিন্দ্র নাথ সাহা, চর টেংরাখালি গ্রাম থেকে হাসেম আলি শেখকে আটক ও পরে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ ৭: অপহরণ এবং হত্যাঃ ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টায় জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার তেলিগাতীতে খান আকরাম এবং লতিফ তালুকদার তাদের সঙ্গীয় রাজাকারদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান শিকদারকে আটক, নির্যাতন ও পরে গুলি করে হত্যা করা হয়।

Posted in জাতীয় | Comments Off on সিরাজের ফাঁসি, আকরামের আমৃত্যু কারাদণ্ড

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ডিমের ৪ টি অজানা অসাধারণ ব্যবহার!

ডিম খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার তাতে সন্দেহ নেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, ভিটামিন এ ডি, বি৬ ইত্যাদি যা দেহের সুরক্ষায় অনেক বেশি কার্যকরী। তবে ডিম শুধুমাত্র শারীরিক সুস্থতাতেই নয়, সৌন্দর্য চর্চায় আরও অনেক বেশি কার্যকরী। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়েছে কিংবা চুল পড়ে যাচ্ছে? সবকিছুর সমাধান করে ফেলতে পারবেন ডিমের সাহায্যে। বিশ্বাস হচ্ছে না? আজকে চলুন জেনে নেয়া যাক এমনই অসাধারণ অজানা কিছু ব্যবহার যা সত্যিই অবাক করবে আপনাকে।
১) ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে1083064130_1357303416

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে অনেকেই অনেক অ্যান্টিএইজিং ক্রিম ও নানা কেমিক্যাল সমৃদ্ধ মাস্ক ব্যবহার করে থাকেন। এর চাইতে ব্যবহার করুন সহজলভ্য এবং কার্যকরী ডিমের মাস্ক। একটি ডিমের সাদা অংশে কয়েক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এরপর এতে দিন ক্লে, যদি ক্লে দিতে না চান তাহলে চন্দনগুঁড়ো মেশাতে পারেন। মুখ, গলা ও ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। এই মাস্কটি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহারে বেশ ভালো ফলাফল পাবেন।
২) ত্বকের মরা কোষ দূর করতে

ত্বকের উপরে মরা কোষ জমলে ত্বক অনেক কালচে হয়ে যায় এবং ত্বকের আসল সৌন্দর্য হারাতে থাকে। এই সমস্যা সমাধান করে দেবে ডিম। কয়েকটি ডিমের খোসা ব্লেন্ডারে দিয়ে একেবারে মিহি গুঁড়ো করে নিন। এরপর তা একটি বাটিতে নামিয়ে নিয়ে এতে মেশান মধু ও লবণ। ভালো করে মিশিয়ে এই পেস্টটি পুরো দেহের ত্বকে আলতো ম্যাসাজ করে নিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। খুব সহজেই ত্বকের মরা কোষ দূর হয়ে যাবে।
৩) নখের ভঙ্গুরতা দূর করতে

খুব সহজেই নখ ভেঙে যায়? একটি কাজ করুন। ১/৪ কাপ দুধের মধ্যে ১ টি ডিমের কুসুম খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে হাত ডুবিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। নিয়মিত ব্যবহারে নখ মজবুত হবে এবং নখ সংক্রান্ত সমস্যা দূর হবে।
৪) চুলের ঘনত্ব বাড়াতে

চুল পড়ে একেবারেই পাতলা হয়ে গিয়েছে? এই সমস্যার সমাধানও করবে ডিম। একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে এতে একটি মাঝারি আকারের লেবু চিপে দিন। এবারে খুব ভালো করে ফেটিয়ে ফেনা করে ফেলুন। এই মিশ্রণটি চুলের গোঁড়ায় ঘষে লাগান এবং পুরো চুলে লাগিয়ে নিন ভালো করে। আধা ঘণ্টা এভাবে রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার ব্যবহারে চুল পড়া কমে যাবে এবং চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে।

Posted in লাইফস্টাইল | Comments Off on সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ডিমের ৪ টি অজানা অসাধারণ ব্যবহার!

‘সিডাব’-এর সম্মানিত সদস্য হলেন শাবনূর

বিনােদন ডেস্ক: ১০ আগস্ট সোমবার সিনে ডিরেক্টরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সিডাব) সম্মানিত সদস্য পদ লাভ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। এর আগে তিনি সহকারী চিত্রপরিচালক সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করলে আজ কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে সম্মানিত সদস্য পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিডাবের সভাপতি এস আই ফারুক বলেন, ‘চিত্রনায়িকা শাবনূর ছবি পরিচালনা করবেন, এটা আমরা অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি। গতকাল তিনি আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদের জন্য আবেদন করেন। আমাদের সমিতির নিয়ম অনুযায়ী আমরা কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ে এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি।

11060167_903484539723839_4672064606477742581_n
নতুন সদস্য গ্রহণের জন্য চলতি মাসে আমাদের সমিতিতে মোট ২৬ জন আবেদন করেছেন, এর মধ্যে ২৫ জনের ইন্টারভিউ আমরা নিয়েছি। পরে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হবে। চিত্রনায়িকা শাবনূর আমাদের অনেক প্রিয় একজন অভিনেত্রী। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অনেক অবদান আছে। সেই বিবেচনায় তাঁকে সম্মানিত সদস্য পদ দেওয়ার পক্ষে কমিটির সবাই মত দিয়েছেন। তাঁকে এই সম্মান দিতে পেরে আমরা নিজেরাও সম্মানিত বোধ করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাবনূর বলেন, ‘চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আমার নেই। গল্প গুছানোর কাজ করছি। নিজে পরিচালনায় আসব কি না এখনো বলতে পারছি না। তবে প্রযোজনা করব। আর পাশাপাশি পরিচালনার কাজটা শিখতে চাই, এই কারণে সিডাবের সদস্য পদ নিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, কেউ যদি চলচ্চিত্র পরিচালনা করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই সহকারী চিত্রপরিচালক সমিতির সদস্য হয়ে এফডিসিতে কাজ শিখতে হবে। আমার ছবির বিষয়ে বলব, গল্প গুছানোর কাজ শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেব।’

দীর্ঘ বিরতির পর গত ১ আগস্ট লাইট-ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। বদিউল আলম খোকনের ‘পাগল মানুষ’ ছবির একটি গানের শুটিংয়ে অংশ নেন তিনি এই দিন। তাঁর বিপরীতে অংশ নেন ছবির নায়ক শাহের খান। গানটির শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ছবির কাজ। আগামী কোরবানির ঈদে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে প্রযোজনা সংস্থার।

Posted in বিনোদন | Comments Off on ‘সিডাব’-এর সম্মানিত সদস্য হলেন শাবনূর

স্বামীকে সুপথে আনতে স্ত্রীর করণীয়

ইসলাম ডেস্ক: আপনার স্বামী যদি হন এমন একজন, যিনি নামাজ পড়েন না, অথবা দাড়ি শেভ করেন, অশালিন গান শোনায় অভ্যস্ত, খারাপ সিনেমায় আসক্ত, সবসময় নোংরা ভাষায় কথা বলেন, অথবা যদি হয় সেন্টিমেন্টাল বা গোঁয়ার টাইপের, কিংবা কৃপণ প্রকৃতির, অথবা এমন বহু রকমের দোষে দুষ্ট। আর আপনি তার এসব আচরণ বদলাতে চান। প্রাণপণে কামনা করেন, যেনো সে শুধরে যায়। যন্ত্রণায় আর পরিতাপে দগ্ধ হয়ে আপনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন− কীভাবে আমি তার ওপর প্রভাব খাটাতে পারি? কী করে তাকে আমি শোধরাতে পারি? তাকে বদলাতে পারি? তাকে ভালো করে, সুস্থ করে সুপথে ফিরিয়ে আনতে পারি? তাহলে আপনার জন্যে এই টিপসগুলো অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।

১. নিজে ত্রুটিমুক্ত থাকুন: আপনি যেসব দোষ আপনার স্বামীর দেহ-মন কিংবা আচরণ থেকে বদলে ফেলতে চান, প্রথমত আপনাকে সে-সব আচরণ থেকে অবশ্যই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোক্রমেই সে সব আচরণ যেনো না হয়, সে জন্যে সাবধান থাকুন।

২. তাকে বলুন, সে একজন ভালো মানুষ: এটা আপনাকে ও আপনার স্বামীকে সব রকমের মনমালিন্য থেকে দূরে রাখবে। তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তার দোষগুলো তার সামনে উপস্থাপন না করে বরং কৌশলে বোঝানোর চেষ্টা করুন, তার এ কাজটি করা তেমন ভালো হয় নি।

৩. চূড়ান্ত সময় বেঁধে দেবেন না: অনেকবার হয়তো ভেবেছেন চূড়ান্ত কোনো সময় বেঁধে দেবেন। ভেবেছেন বলবেন, ‘যদি এটা বন্ধ না হয়, তাহলে কিন্তু চললাম, নিজের পথ বেছে নিলাম।’ এভাবে সময় বেঁধে দিয়ে সম্পর্ক আদৌ ঠেকানো যায় না। আপনি যদি সত্যিই সম্পর্ক অথবা সংসার টিকিয়ে রাখতে চান, তাহলে এহেন ‘শেষ কথা তত্ত্ব’ থেকে বেরিয়ে আসুন।

৪. তাকে ভালো বই পড়তে দিন: হ্যাঁ, ভালো বই তাকে পড়তে দেয়া একটি অসাধারণ কাজ হবে। তবে এটা তাকে সরাসরি দিলে, সে অন্যকিছু ভাবতে পারে। তাই ভালো কিছু বই তার চারপাশে রেখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। তার শোবার ঘরে, গাড়ির সামনের বক্সে কিংবা ড্রয়িংরুমেও রাখতে পারেন। তবে তাকে পড়তে অনুরোধ করবেন না।

৫. ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা পরিহার করুন: ‘তোমার আচরণ অসহনীয়। আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো’এ ধরনের হুঁশিয়ারি কিছুটা ক্ষমতায়নের কাজ করে। ভাবখানা এমন যেন পুরো ব্যাপারটির নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে চলে আসছে। কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন আখেরে এর পরিণতি কী। মনে রাখবেন, পরিবারে পুরুষ তার থেকে ক্ষমতাধর কাউকে সহ্য করে না।1909511_278076252395500_5649183999536333785_o

৬. তার সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করুন: স্বামী অথবা সঙ্গীটি যদি আরেকটি সম্পর্ক বজায় রাখেন, আসক্ত হন, পরিবারের চেয়ে কর্মক্ষেত্র অথবা অন্যত্র বেশি আগ্রহী হন, তাহলে বুঝতে হবে সে নিজের ভেতরে সুখী হবার প্রেরণা পাচ্ছে না। সে জানে, তার কাজটি ভুল। তার যে অনুতাপ হয় না, তা নয়। সমস্যা হলো, তার মনের ভেতরে সুপথে আসার, শুদ্ধ হওয়ার তাগিদ নেই। সঙ্গীকে সুপথে আসতে প্রাণিত করতে তার সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করতে হবে।

৭. প্রমাণ করুন, আপনি তার একান্ত অনুগত: নারীর ভালোবাসায় পুরুষ গলে যাবে ঠিকই, কিন্তু সেজন্য নারীকে হতে হবে এমন নম্র ও শান্ত এবং এতটা ধীমতি ও প্রণতিপরায়ণা যে, পুরুষ অনুভব করে যেনো আপনি তার ‘একান্ত অনুগত’ এবং ‘তার বাসনায় পরিচালিত’। আপনি তার হাতের থেকেও বেশি অনুগত হয়ে যান এবং তার দিবাস্বপ্নের চেয়ে অধিক সজাগ থাকুন।

৮. তাকে বেশি বেশি সময় দিন: স্বামীর আচরণ ভালো লাগছে না বলে তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন না। এতে সে আরো মন্দ লোকদের দলে ভিড়ে যাবার সুযোগ পাবে। তার কাছাকাছি থাকুন। তাকে আপনার কাজে সহায়তা করার সুযোগ দিন। বোঝান, সে ছাড়া আপনার একদম ভালো লাগে না। এ চেষ্টায় একবার নিরত হলেই পেয়ে যাবেন তাকে প্রভাবিত করার চাবিকাঠি।

৯. আপনিই আগে ক্ষমা চান: দাম্পত্যে ঝগড়া কার হয়না বলুন? কিন্তু ঝগড়া হলেই গাল ফুলিয়ে বসে থাকবেন না, কিংবা স্বামীর থেকে নিজেকে আলাদা করে নেবেন না। নিজের দোষ কম হোক অথবা বেশি, নিজেই উদ্যোগী হয়ে ক্ষমা প্রাথনা করুন। যদি স্বামীর দোষ হয়ে থাকে, তাহলেও তাকে দোষারোপ করবেন না। তাতে সে কখনও আপনার কাছে ক্ষমা চাইতে পারবে না।

১০. রাগের কারণ বুঝতে চেষ্টা করুন: বিয়ের পর আবিষ্কার করলেন আপনার স্বামী মাঝেমধ্যে রেগে যান। প্রথম থেকেই এ ব্যাপারে সচেতন হোন। রাগের কারণ বুঝতে চেষ্টা করুন। তারপর তাকে জানান যে, এখন আর সে একা নয়, আপনিও তার সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করতে পারেন।

মনে রাখবেন, নারীকে সৃষ্টি করা হয় নি পুরুষের মাথার অংশ থেকে, যেনো সে মর্যাদায় পুরুষকে ছাড়িয়ে না যায়। পুরুষের পায়ের অঙ্গ থেকেও সৃষ্টি করা হয় নি তাকে, যেনো সে পুরুষের কাছে অবহেলার পাত্র না হয়। নারীকে বের করা হয়েছে পুরুষের পাঁজর থেকে, যেনো সে থাকে তার বাহুর নীচে, হৃদয়ের কাছে। যেনো পুরুষ তাকে ভালোবাসতে পারে এবং তার থেকে ভালোবাসা পেতেও পারে। নারীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা এমন চমৎকার এক ঝরনার উৎসরণ ঘটাতে পারে, যার পরশ পেলে অনায়াসে গলে যাবে পুরুষের মস্তিষ্ক। যেমন পানির গভীরতা পাথরকেও নরম করে ফেলে এবং গলিয়ে দেয়। কেবল ভালোবাসার মাধ্যমেই জেগে উঠবে তার হৃদয়, তার বিবেক। ঘুম ভাঙবে তার চেতনার। সচেতন হবে সেতার সম্পদ ও ভবিষ্যতের ভাবনায়।

Posted in লাইফস্টাইল | Comments Off on স্বামীকে সুপথে আনতে স্ত্রীর করণীয়

রাজধানীতে বসছে ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট

ঢাকা: এবছর রাজধানীতে ১৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১০টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ছয়টি পশুর হাট বসবে। এছাড়াও থাকছে গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট। দক্ষিণে গতবারের ১১টি হাটের মধ্যে এবার একটি হাট বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরে গতবারের সাতটি হাটের মধ্যে পাঁচটি বাতিল করে নতুন করে আরও চারটি হাট বসানো হচ্ছে।maxresdefault

রাজধানীতে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এবার উত্তরের পশুর এসব হাট নগরীর ভেতর থেকে বিভিন্ন পাশে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি’র সম্পত্তি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। এবার উত্তরের হাটগুলো হলো- খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গার অস্থায়ী পশুহাট, মিরপুর সেকশন-৬ (৬ নম্বর ওয়ার্ড)-এর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের মধ্যবর্তী সেতুসংলগ্ন খালি জমি, কুড়িল ফাইওভার সংলগ্ন পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফুট প্রশস্ত সড়কের বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের পর থেকে সড়কের দুই পাশের কাঁচা অংশের খালি জমি, মিরপুর সেকশন-১১ এর বাউনিয়া বাঁধসংলগ্ন খালি জমি ও রায়েরবাজার কবরস্থান সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চল পুলিশ লাইনের নির্ধারিত খালি জমি।

সূত্র জানায়, উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকার কাছাকাছি গতবার কিছু পশুর হাট বসানোর কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। সেজন্য এবার পাঁচটি হাটের স্থান বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও হাসপাতাল সংলগ্ন হাট, উত্তরা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারিধারা জে ব্লকের খালি জায়গা, উত্তরা ১১ ও ১৩নং সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদসংলগ্ন খালি জায়গা এবং বনানী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন খালি জায়গার অস্থায়ী পশুর হাট।

এবার দক্ষিণের পশুর হাটগুলো হলো- ঝিগাতলা-হাজারীবাগ মাঠ, লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, খিলগাঁও মেরাদিয়া বাজার, সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ, উত্তর শাহজাহানপুর রেলগেট বাজার সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, কমলাপুরের গোপীবাগ ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, লালবাগের মরহুম হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ ও সংলগ্ন এলাকা এবং কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে বুড়িগঙ্গা বাঁধ সংলগ্ন জায়গা।

অন্যদিকে. এবার আরমানিটোলা খেলার মাঠে পশুর হাট বসানো হবে না বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির সম্পত্তি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা খালিদ আহমেদ। উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য গত ২১ জুলাই দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর থেকে গত রোববার (০৯ আগস্ট) পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের ফরম বিক্রি শেষ হয়। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে এ দরপত্র বাক্স খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির সম্পত্তি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোরবানি উপলক্ষে পশুর হাটের কারণে নগরবাসীর যেন যানজটসহ অন্যান্য ভোগান্তিতে না পড়তে হয়, সেজন্য এবার পাঁচটি পশুর হাটের স্থান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে নগরীর পাশে চারটি বাজার বসানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, ডিএসসিসি এলাকার হাটগুলোর জন্য গত ২৭ জুলাই দরপত্র আহ্বান করা হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের দরপত্র বিক্রি শেষ হচ্ছে। এরপর ১২ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দরপত্র জমা এবং বেলা আড়াইটায় দরপত্র বাক্স খোলা হবে বলে জানিয়েছেন খালিদ আহমেদ।

Posted in ব্যবসা-অর্থনীতি | Comments Off on রাজধানীতে বসছে ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ডিজিটাল সমাধান দিল বুয়েট

ঢাকা: বর্তমান পদ্ধতিতে প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকি বেশি। প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে বিতরণ পর্যন্ত ৩৯টি ধাপ রয়েছে। ধাপগুলোর মধ্যে একটি প্রশ্নপত্র ২২৫ জনের হাত ঘোরে। একজন যদি একটি শব্দও মুখস্থ করে তাতেও পুরো প্রশ্ন আয়ত্ত করা সম্ভব। তাই ছাপানো পদ্ধতির বিকল্প চিন্তা করার সময় এসেছে। আর ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পর্যন্ত একমত।

BUET_EME_Building
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো যায় এমনই একটি ‘ডিজিটাল প্রশ্ন পদ্ধতি’র মডেল উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগ (সিএসই)। সোমবার একটি সেমিনারে মডেলটি তুলে ধরা হয়। ডিজিটাল প্রশ্ন পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মার্ট প্রিন্টিং সলিউশন’। বুয়েটের সিএসই মিলনায়তনে বেসরকারি সংগঠন ‘জার্নি’র সহযোগিতায় ‘পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রোধে ডিজিটাল প্রশ্ন পদ্ধতির উদ্যোগ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মডেল উপস্থাপন করেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা আকবর।

বুয়েটের উপস্থাপিত মডেলে বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষার জন্য একটি সেন্ট্রাল সার্ভার থাকবে। এতে থাকবে কয়েক সেট প্রশ্ন। এই সার্ভারের অধীনে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র করা হবে। এসব কেন্দ্রে ট্যাব, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিন থাকবে। এরপর পরীক্ষার আগের রাতে কেন্দ্রে থাকা ট্যাব বা কম্পিউটারে পৌঁছে যাবে প্রশ্ন। তবে এটা খোলার জন্য লাগবে পাসওয়ার্ড, যা পরীক্ষার দুই ঘণ্টা আগে সরবরাহ করা হবে। প্রশ্ন ডাউনলোড করে শুরু হবে প্রিন্ট।

একেক কালার পেজে বিভিন্ন প্রশ্নের সেট প্রিন্ট করা হবে। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রিন্টিং-প্রক্রিয়া সমাপ্ত হবে। এর পরের ঘণ্টায় প্যাকেট করা প্রশ্ন পৌঁছে দেওয়া হবে প্রতিটি কেন্দ্রে। প্রতিটি ধাপেই নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের কার্যক্রম মনিটর করা হবে। দুই থেকে তিন ঘণ্টায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এতে ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

বুয়েটের উপস্থাপিত এই মডেলের সঙ্গে উপস্থিত সবাই একমত পোষণ করলেও এ পদ্ধতির আরো উন্নয়ন ঘটাতে বলেছেন সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা। কারণ দুই থেকে তিন ঘণ্টায় বেশির ভাগ কেন্দ্রেই প্রশ্ন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি কেন্দ্রেই এ প্রশ্ন ছাপার কথাও উঠে এসেছে। আবার কেউ কেউ মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের কথা বলেছেন। তবে সবাই একমত হয়েছেন, এ ব্যাপারে আরো সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে একবার কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। শিক্ষা বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সরকারি কর্ম কমিশন, শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ যারা পাবলিক পরীক্ষা নেয় তাদের একত্র হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সেমিনারে শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা অর্থ সংকট। ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া একটি ব্যয়বহুল ব্যাপার। তবে এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেলে সমস্যা থাকবে না। আর আমাদের ম্যানুয়াল পদ্ধতি ছেড়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্পও নেই। তবে জেলায় জেলায় প্রশ্ন প্রিন্ট করে পরীক্ষা নেওয়া হলে জটিলতা তৈরি হবে। কারণ অনেক কেন্দ্রেই সকালে প্রশ্ন ছেপে তা পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তাই যে কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে, সে কেন্দ্রে প্রিন্ট করতে হবে। তবে এর আগে একটি প্রশ্নব্যাংক থাকতে হবে।’

প্রযুক্তিবিদ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. কায়কোবাদ বলেন, ডিজিটালাইজ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হলে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁসের আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে প্রযুক্তির দক্ষ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি প্রশ্নই চার পাতার। পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী আছে- এমন কেন্দ্রের সংখ্যাও অনেক। সে ক্ষেত্রে এত প্রিন্ট করতে গেলে প্রতিবার প্রশ্ন ছাপাতে একাধিক প্রিন্টার ব্যবহার করতে হবে। তাতে খরচ বেড়ে যাবে। তাই নির্দিষ্ট এলাকায় প্রেস করার কথা ভেবে দেখতে হবে।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই বুয়েটের এ পদ্ধতিতে পাঁচটি জেলায় প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছি। আগামী ২৮ আগস্ট আরো ১৭ জেলায় একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এক কেন্দ্রে ১০ থেকে ১২ হাজার পরীক্ষার্থীও ছিল। তাদের প্রশ্ন ছাপাতে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।’

ব্যানবেইজের পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘আগামী তিন-চার বছর পর সবই আইটি-নির্ভর হয়ে যাবে। সে জন্য প্রস্তুতি নিতে আমাদের আজ থেকেই শুরু করতে হবে। আর ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে খরচের কথা বলা হচ্ছে সমন্বিতভাবে করা হলে তা কমে আসবে। আর সব শিক্ষকই যাতে প্রশ্ন করতে পারেন, এ জন্য প্রশ্ন ব্যাংক থাকতে হবে।’

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা ইকরাম বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সম্ভব। এর বিকল্প কিছু নেই। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন প্রণয়ন ও বিতরণের বিষয়টি আমাদের এখনই ভাবতে হবে।’
সেমিনারে সবার শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সবার সমন্বিত উদ্যোগেই এই প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল পদ্ধতির বিকল্প নেই।’

সেমিনারে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্বাস প্রমুখ।কালের কন্ঠ

Posted in জাতীয় | Comments Off on প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ডিজিটাল সমাধান দিল বুয়েট

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud