May 7, 2026
শাহজাহান আকন্দ শুভ/ হাসান জাভেদ : তদবির, টেন্ডারবাজি আর আধিপত্য বিস্তারে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিবেশ ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোরাচালানের পণ্য আটক করতে যেয়ে মার খেতে হচ্ছে কাস্টমস কর্মকর্তাদের। প্রশাসন তা জেনেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এক যুবলীগ নেতার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পুরো প্রশাসন। বহুল আলোচিত এই যুবলীগ নেতার নাম বদরুল আলম শ্যামল। সোমবার দুপুরে তার নেতৃত্বে ৫০ জনের মতো সশস্ত্র ক্যাডার বিমানবন্দরের দুই কাস্টমস কর্মকর্তাকে বেদম মারধর করে বিমানের কুরিয়ার গোডাউন থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার পণ্য লুটপাট করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে র্যাব সদর দপ্তর ও বিমানবন্দর থানার ১০০ গজের মধ্যে।
এর আগেও একাধিকবার যুবলীগ নেতা বদরুল আলম শ্যামল কাস্টমস কর্মকর্তাদের মারধর করে কোটি কোটি টাকার পণ্য জবরদস্তি কুরিয়ার গোডাউন থেকে বের করে নিয়ে গেছেন। কিন্তু যুবলীগ নেতা বলে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ফের আরেকবার লুটপাটের ঘটনা ঘটান তিনি। এ ঘটনার পর কুরিয়ার গোডাউনে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শ্যামল যেসব পণ্য পেশীশক্তির বলে ধারাবাহিকভাবে কুরিয়ার গোডাউন থেকে বের করে নিয়েছেন, সেগুলোর বেশিরভাগই চোরাচালানির পণ্য। তার নেতৃত্বে যে ক্যাডার বাহিনী পণ্য চালান ছিনতাইয়ে অংশ নিয়ে থাকে, তাদের বেশিরভাগের কাছেই থাকে আগ্নেয়াস্ত্র। একাধিক মামলার দাগি আসামিও আছে এই গ্রুপে। রাষ্ট্রের প্রথমসারির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তালিকাভুক্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে যুবলীগ নেতার এই ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকা-ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দরের একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, যুবলীগ নেতা শ্যামল পুরো বিমানবন্দরকে একরকম ‘মগের মুল্লুক’ বানিয়েছেন। শুধু কাস্টমস নয়, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট অন্য প্রশাসনও তার কাছে জিম্মি। তবে এসব অভিযোগ খ-ন করে যুবলীগ নেতা শ্যামল বলেন, দলীয় পরিচয়ে আমি ব্যবসা করি না। এমনকি কারও ওপর হামলা-লুটপাটও পছন্দ করি না। ১৫-২০ বছর ধরে সৎভাবে ব্যবসা করছি। সোমবারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট এলাকার ছাত্রলীগ নেতা সুজন গোডাউনে গিয়ে গ-গোল পাকালে আমি থামাতে যাই। তখন সুজনের ক্যাডাররা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে আমার কুরিয়ার সার্ভিসের লোকজন প্রতিবাদ করে।
সোমবার দুপুরে যুবলীগ নেতা বদরুল আলম শ্যামল প্রায় ৫০ জন ক্যাডার নিয়ে বীরদর্পে শাহজালাল বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইড আমদানি শাখার কুরিয়ার শুল্কায়ন গোডাউনে প্রবেশ করেন। তার নেতৃত্বে ‘স্ট্রংরুম’ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার পণ্য ১০-১৫টি ট্রলিতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সহিদুজ্জামান সরকার ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন তাদের বাধা দেন। সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পাচারকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে ওই দুই কাস্টমস কর্মকর্তার ওপর হামলে পড়েন। তাদের বেদম মারধর করে ট্রলিভর্তি মালামাল নিয়ে চলে যান তারা। পরে আহত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর পুুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও পাচারকারীদের কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহত মোজাম্মেল হোসেন বলেন, যা ঘটেছে তা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেনেছে। তারা এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুই কাস্টমস কর্মকর্তাকে মারধর করে পণ্য লুটে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবারের ঘটনা সম্পর্কে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বদরুল আলম শ্যামল নামে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো সদস্য নেই। পরে শ্যামল সম্পর্কে তিনি যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনের কাছে জানতে চান। এ সময় ইসমাইল হোসেন বলেন, বদরুল আলম শ্যামল ভালো ছেলে। তবুও যুবলীগের নামে বিমানবন্দরে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
জানা গেছে, গত ২৮ জুলাইও ঢাকা কাস্টম হাউসে ঢুকে সহকারী কমিশনার কামরুল হাসানের হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন যুবলীগ নেতা বদরুল আলম শ্যামল। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করাতে না পেরে যুবলীগ নেতা শ্যামল ও তার ভাই প্রিন্স ১০-১২ ক্যাডার নিয়ে কামরুল হাসানের কক্ষে ঢুকে তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলাসহ হাত কেটে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আতঙ্কে ও ক্ষোভে বিমানবন্দরের আমদানি শাখার পণ্য ডেলিভারিসহ সব কার্যক্রম এক ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল। এর আগেও একবার কাস্টমস কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান সরকারকে লাঞ্ছিত করে একই পাচারকারী চক্র। চোরাচালান আটকাতে গিয়ে শুল্ক পরিদর্শক (এটিও) জয়দেব চন্দ্র মজুমদার লাঞ্ছিত হন।
সূত্র জানায়, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বদরুল আলম শ্যামল যোগ দেন বিএনপিতে। সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে না থেকেও লবিং-গ্রুপিং করে হয়ে যান বিমানবন্দর থানা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক দলের (জাসাস) সহ-সভাপতি। ক্ষমতার দাপটে ওই সময় বিমানবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখান তিনি। এরপর বিমানের অসাধু চক্রের হাত ধরে শুরু হয় তার অবৈধ কর্মকা-। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছোট ভাই প্রিন্সকে স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় করে তিনি জড়িয়ে পড়েন চোরাচালানে। নিজের ‘এসএমআই ওয়ার্ল্ডওয়াইড এক্সপ্রেস কুরিয়ার’ সার্ভিসের আড়ালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণ, আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেন। আর শ্যামল নিজে বিএনপির সঙ্গে থেকে ২০১১ সালের ২৪ জুন বিমানবন্দর থানা জাসাসের সহ-সভাপতি হন।
ভাই প্রিন্সসহ অন্যতম সহযোগী বিমানবন্দর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন, জসিম উদ্দিন তফাদার, মঞ্জুর হোসেন পাটোয়ারীকে সামনে রেখে চলে আসছিল তার এ অবৈধ ব্যবসা। এ সময় চোরাচালানের পণ্য বিমানবন্দরে আটকে গেলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে তা ছিনিয়ে নেওয়ার কাজ করত ইয়াসিন, জসিমউদ্দিন ও মঞ্জুর। জসিমউদ্দিন তফাদার ২০১২ সালের ৩ মে বিমানবন্দর শাখা যুবদলের সহ-সভাপতি হন। এর আগে ইয়াসিন জাসাসের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। এই তিনজনও দলবদল করে এখন ক্ষমতাসীন। আর তাদের ব্যবহার করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন শ্যামল।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ফের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বদরুল আলম শ্যামল নিজের পূর্বপরিচয় গোপন করে যুবলীগের নেতা বনে যান। একসময়ের বিএনপি নেতা এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়ে বিমানবন্দরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। রাজধানীর অনেক এলাকায় পোস্টার-ফেস্টুনও সাঁটিয়েছেন। সরকারি দলের পদবি পেয়ে সহযোগীদের পেছনে রেখে এখন নিজেই চোরাচালান সিন্ডিকেটের গডফাদার।
এ সময় ক্ষমতার একাধিপত্য দেখানোর কারণে তার সঙ্গে বিমানবন্দরের অপর চোরাচালান নিয়ন্ত্রক সিন্ডিকেট জসিম গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষও হয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৯ আগস্ট কার্গো গোডাউন থেকে লুটের মালামাল বণ্টন নিয়ে এই দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় মামলাও করে। তবে বর্তমানে উভয়পক্ষ একজোট হয়ে একচেটিয়া শাহজালাল বিমানবন্দরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
গত বছর ১৭ আগস্ট শ্যামলের সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে দুটি বিলাসবহুল চোরাই প্রাইভেটকার আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কিন্তু সেখানেও ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান বদরুল আলম শ্যামল। তখন ডিবি পুলিশের এসআই আবদুল আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, বদরুল আলম শ্যামল বলেছেন তিনি দীপু নামে আরেকজনের কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছেন। কিন্তু গাড়ির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আমাদের সময়
আনতর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি রাজ্যের ফার্গুসনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের বিপক্ষে এক বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আঠারো বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ আহত হবার পর সেখানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা টাইরন হ্যারিসের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন সরকারী কৌসুলিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসন শহরে পুলিশের গুলিতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউন নিহত হবার বছরপূর্তিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসেছিল তারই বন্ধু টাইরন হ্যারিস।
পুলিশ বলছে, ওই সমাবেশ থেকে প্রথম পুলিশের দিকে গুলি ছুড়েছিল এমন ছয় ব্যক্তির একজন হ্যারিস।
তবে, হ্যারিসের বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে নিরস্ত্র ছিল, এবং পুলিশ যখন হামলা চালায়, সে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাচ্ছিল।
এখন সরকারী কৌশুলিরা হ্যারিসের বিরুদ্ধে পুলিশে কাজে বাধা প্রধান এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এ্যাটর্নী জেনারেল লোরেটা লিঞ্চ ওই সহিংস হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
এটর্নি জেনারেল বলেছেন, আমরা সাম্প্রতিক মাস এবং বছরগুলোতে দেখছি, এধরণের সংঘাত যেকোনো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বার্তাকে পুরোপুরি আড়াল করে দিচ্ছে।
আমাদের এবং নিরাপত্তাবাহিনীতে যারা কাজ করেন, তাদের বিপজ্জনকভাবে মুখোমুখি করে দেয়।
অন্যদিকে, পুলিশের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হ্যারিস এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
রোববারের ওই সহিংস ঘটনার পর পুলিশ অন্তত পঞ্চাশ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এদের মধ্যে রয়েছেন নাগরিক অধিকার আন্দোলনকর্মী কর্নেল ওয়েষ্ট।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে ফার্গুসনের পুলিশ বাহিনীকে বিলুপ্ত করে দেবার আহ্বান জানিয়েছে বলে জানাচ্ছে সেখানকার গণমাধ্যম। বিবিসি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বিল থেকে বাবা ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চলনবিলে তাদের লাশ পাওয়া যায়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন আলতাফ হোসেন (৪০) এবং তাঁর শিশুপুত্র নাফিল (৬) ও শিশুকন্যা আনিকা (৮)।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আমিনুল ইসলামের জানান, নিহত আলতাফ হোসেন করিম দাঁড়ি কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক। এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে নৌকায় করে আলতাফ হোসেন বিলে মাছ ধরতে যান। এরপর তাঁরা পানিতে ডুবে যান। রাতে লাশ ভেসে ওঠে। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
শরীয়তপুর: রাতে খাবার খেয়ে এক কক্ষে শুয়ে ছিল শিশু দুই মেয়ে। অন্য কক্ষে আরেক শিশু মেয়েকে নিয়ে শুয়ে ছিলেন মা। আজ সোমবার সকালে বিছানায় দুই মেয়ের লাশ দেখে চিৎকার দেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামে। খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে পুলিশ এসে দুটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতরা হলো ওই গ্রামের লিয়াকত হোসেন মাদবরের মেয়ে সাদিয়া (৭) ও সামিয়া (৫)।
নড়িয়া থানা সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের কালিকাপ্রসাদ গ্রামের অটোরিকশাচালক লিয়াকত হোসেন মাদবর (৩৫) ও পারভিন আক্তার (২৮) দম্পতির তিন মেয়ে। সাত বছর বয়সী সাদিয়া, পাঁচ বছর বয়সী সামিয়া ও দেড় বছর বয়সী লামিয়া। গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে খাবার খেয়ে শিশুগুলো ঘুমিয়ে পড়ে। তাদের বাবা লিয়াকত রাত ১টার দিকে বাড়ি ফিরে মেয়েদের ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। সকালে তাদের মা পারভিন আক্তার মক্তবে পড়তে যাওয়ার জন্য সাদিয়া ও সামিয়াকে ঘুম থেকে জাগাতে যান। তাদের সাড়া না পেয়ে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে নড়িয়া থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ বেলা ১২টার দিকে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শিশুদের বাবা লিয়াকত মাদবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম আলী মিয়া বলেন, শিশু দুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাদের মারা যাওয়ার কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আজ সোমবার কালিকাপ্রসাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে শিশু দুটির মরদেহ রাখা। তাদের মা পারভিন আক্তার মাটিতে লুটিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাড়ির পাশে বাংলাবাজার গণকবরস্থানে তাদের দাফনের জন্য কবর প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারভিন আক্তার বলেন, ‘খাবার খেয়ে রাতে আমার মেয়ে দুটি ঘুমিয়ে ছিল। ছোট মেয়েকে নিয়ে আমরা আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে তাদের উঠতে দেরি দেখে আমি তাদের ডাকতে যাই। তাদের সাড়া না পেয়ে চিৎকার দেই।’
লিয়াকত হোসেন মাদবর বলেন, ‘রাতে একটু দেরিতে বাড়ি ফিরেছিলাম। সকালে আমার স্ত্রী মেয়ে দুটিকে মৃত অবস্থায় বিছানায় পায়। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে আল্লাহই জানেন।’
শরীয়তপুরের সহকারী পুলিশ সুপার তানভির হায়দার বলেন, শিশু দুটির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। শিশু দুটির বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান ছাত্র নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা নাই।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সোমবার বিকালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখন দেশের সাধারণ মানুষ ছাত্রসমাজকে বিশ্বাস করে কিনা সেটার উত্তর আমার জানা নাই। কিন্তু আমাদের সময়ে ছাত্রদের কথার মানুষ প্রচুর দাম দিত। তাদের কথা বিশ্বাস করত। তখন আমরা যারা ছাত্র ছিলাম, সাধারণ মানুষ তখন ছাত্রদের মনে করত দেবতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই আস্থা ও বিশ্বাস এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই।
তিনি বলেন, ’৭০-এর নির্বাচনে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রচারণার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন ছাত্রদের ওপর মানুষের আস্থা ছিল। এ কারণে ছাত্রদের কথায় এ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু এখন ছাত্রদের ওপর জনগণের সেই আস্থা নেই।
জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, ’৭০-এর নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু আমাদের বাড়িতে আসলেন। আমি তখন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমায় ডেকে বললেন, কালকে আমি ঢাকায় যাব। আর আগে একটা ছাত্রসমাবেশ করতে চাই। আমরা তার নির্দেশে পরের দিন ছাত্রসমাবেশ করি। কারণ তখন বঙ্গবন্ধু বলতেন, আমার এক শক্তিশালী হাত হল আওয়ামী লীগ। আরেক শক্তিশালী হাত হল ছাত্রলীগ। এরপর আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দিনের পর দিন ময়মনসিংহে প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে গেলাম এবং নৌকার দাওয়াত পৌঁছে দিলাম।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় ছাত্রমাজকে পছন্দ করতেন। তিনি বলতেন আমার এক পাশে আওয়ামী লীগ, আরেক পাশে ছাত্রলীগ। আমরা সবসময় বলি আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। কিন্ত সেই ছাত্র ও যুবসমাজ যদি সঠিকভাবে গড়ে না উঠে তাহলে আমাদের দেশের ভবিষ্যত অন্ধকার। তাই আমাদের এই ছাত্র ও যুবসমাজকে জাগিয়ে তুলে দেশের জনগণের জন্য কাজ করাতে হবে।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : যারা ব্লগারদের হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং যারা হযরত মুহাম্মদ (সা.), ধর্ম ও কোরআন নিয়ে যুক্তিহীনভাবে আঘাত করে ব্লগে লেখে তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। কারণ যারা যুক্তিহীনভাবে ধর্ম নিয়ে ব্লগে লেখে তারাও উগ্রবাদী।
রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম এ সব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কোনো দল জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করছে ডিবি। মামলা হস্তান্তরের পর সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিবি কর্মকর্তারা। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় নিলয়ের একটি ল্যাপটপ ও সিম্ফোনি মোবাইল ফোন খোয়া গেছে। নিজস্ব গুপ্তচর ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় এগুলো উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আনসার আল ইসলামের ই-মেইল ও ফেসবুক আইডি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা: ডিপি পুলিশের গাড়িতে আর ‘ডিবি’ লেখা থাকবে না বলে আদেশ জারি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মাশরুকুর রাহমান খালেক বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডিবি পুলিশ লেখা গাড়ি ব্যবহার করে অপরাধীরা ডাকাতি, ছিনতাই এমন কি অপহরণের মতো অপরাধা ঘটাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতেই এ আদেশ জারি করা হয়।’ এটি ঢাকা মহনগরী ডিবি পুলিশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বলেও জানান তিনি।
লালমনিরহাট: বাংলাদেশ ও ভারতীয় ভূখণ্ডে যুক্ত হওয়া বিলুপ্ত ১৬২ ছিটমহলের জমির পুরনো নথিপত্র বিনিময় করেছে উভয় দেশ। এসব নথির মধ্যে আছে এতদিন বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ১১১টি এবং ভারতের ভেতরে থাকা ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহলের পুরনো রেকর্ডসহ অন্যান্য কাগজপত্র।
সোমবার দুপুরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের চ্যাংরাবান্ধায় দুই দেশের যৌথ বৈঠক শুরুর আগে এসব নথি বিনিময় করা হয়। বৈঠকটি বেলা ১টায় শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৬টায়।
এ সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতে থাকা বিলুপ্ত ১১১টি ছিটমহলের জমির পুরনো নথি প্রদান করা হয়েছে বাংলাদেশকে। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতকে দিয়েছে এতদিন সেখানে থাকা ৫১টি ছিটমহলের জমির কাগজপত্র।
এর আগে দুপুরে বৈঠকে অংশ নিতে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সেখানে যাওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন- কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসকসহ অন্যরা।
ভারতের পক্ষে ছিলেন- কোচবিহারের ডিসি ডি উলাঙ্গা নাথানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কমিটির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
বৈঠক শেষে ফিরে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, বৈঠকে জমির নথি বিনিময় ছাড়াও বিলুপ্ত ভারতীয় ছিটমহলের যে ৯৭৯জন বাসিন্দা সেদেশে ফিরে যেতে নাম নিবন্ধন করেছেন তারা কবে কিভাবে যাবেন এবং যে সকল আবেদনকারী তাদের আবেদন বাতিল করার আবেদন করেছেন তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া ২০১১ সালের যৌথ জরিপে বাদ পড়াদের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
খুলনা: পৈশাচিক নির্যাতনে নিহত শিশু রাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি শরীফ ও সহযোগী মিন্টুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় খুলনার মহানগর হাকিম মো. ফারুক ইকবালের আদালতে তাদের হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাক আহমেদ।
এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে শরীফ ও মিন্টুকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় খুলনা সদর থানা পুলিশ।
গণপিটুনির শিকার এ দুই আসামি গত সোমবার (০৩ আগস্ট) থেকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত ৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলের হাওয়া দেওয়া কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ শিশু রাকিবের পায়ুপথে ঢুকিয়ে তার পেটে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটর্সের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম এবং সহযোগী মিন্টু মিয়াকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এর মধ্যে বিউটি বেগমকে বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) থেকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সলোমন দ্বীপপুঞ্জে সোমবার পর পর দুবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথমবার রিখটার স্কেলে ৬.৯ মাত্রার এবং পরে ৫.৭ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রথমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে ৬.৯ মাত্রার আঘাত হানে। এরপর ১০টা ২৪ মিনিটে আবার ৫.৭ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প
টি আঘাত হানে।
প্রথমবারের ভূকম্পনের কেন্দ্র ছিল সলোমন দ্বীপপুঞ্জ থেকে ১৭৩ কিলোমিটার দক্ষিণে দাদালির ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এরপর ১০টা ২৪ মিনিটে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের গিজো থেকে ১৮১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।
তবে প্যাসেফিক সুনামি সতর্ক কেন্দ্র জানাচ্ছে, এ ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো সতকর্তা জারি করা হয়নি।