May 7, 2026
শিশু রাজন হত্যা
সিলেট: শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যাকারী কামরুলকে ‘পলাতক’ দেখিয়েই দাখিল হচ্ছে অভিযোগপত্র। আগামী সপ্তাহেই চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এতে সৌদি আবরে আটক কামরুল ইসলামকে পলাতক এবং গ্রেফতার হওয়া অপর ১২ আসামিকে অভিযুক্ত দেখানো হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আপাতত গ্রেফতার ও পলাতক ১৩ আসামিকে নিয়েই প্রস্তুত হচ্ছে অভিযোগপত্র। তবে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কথা নিশ্চিত করলেও, কবে নাগাদ তা আদালতে দাখিল করা হচ্ছে- সে সম্পর্কে মুখ খুলতে নারাজ সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, শিশু রাজন হত্যা মামলায় এ যাবত গ্রেফতার হওয়া ১২ আসামি ও সৌদিতে থাকা কামরুল ইসলামকে নিয়ে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সৌদি আরবে আটক কামরুলকে ছাড়াই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। তবে অভিযোগপত্রে কামরুলকে আসামি দেখানো হবে।
এদিকে, শিশু রাজন হত্যা মামলায় এ যাবত ১২ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অপর আসামি কামরুল ইসলাম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে সৌদি আরবে আটক হয়।
মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলো- মুহিত আলম, তার স্ত্রী লিপি বেগম, ইসমাইল হোসেন আবলুছ, ফিরোজ মিয়া, আসমত উল্লাহ, চৌকিদার ময়না মিয়া, আলী হায়দার, নুর মিয়া, দুলাল আহমদ, আয়াজ আলী, তাজ উদ্দিন বাদল ও রুহুল আমিন।
এদের মধ্যে ৮ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- মুহিত আলম, তার ভাই আলী হায়দার, ভিডিওচিত্র ধারণকারী নুর মিয়া, আয়াজ আলী, দুলাল আহমদ, চৌকিদার ময়না মিয়া, ফিরোজ আলী ও আসমত উল্লাহ।
এছাড়া এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন- মহানগরীর জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও জাকির হোসেন।
শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা ও গাফিলতির কারণে পুলিশের তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়। পাশাপাশি প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত হওয়ায় মামলাটির তদন্ত মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
অপরদিকে, নিহত রাজনের বাবা-মার প্রতি সমবেদনা জানাতে বাড়িতে যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
তারা সবাই রাজনের অন্যতম হত্যাকারী কামরুল ফিরিয়ে আনা, দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এরমধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া দৃশ্যমান আর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন রাজনের বাবা।
রোববার (৯ আগস্ট) সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
০৮ জুলাই সকালে রাজনকে পিঠিয়ে হত্যার পর বেলা পৌনে ১টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) শিশু রাজনের মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়। এদিন জনতা ধাওয়া করে মুহিত আলমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। রাজনকে হত্যার নির্মম নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ হওয়ার পর সিলেটসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঢাকা: স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করে ৬/৭ সপ্তাহের সময়ের আবেদন জানিয়েছেন মামলা দু’টির প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
মামলা দু’টির শুনানিতে সোমবার (১০ আগস্ট) আদালতে যাননি খালেদা। তার আইনজীবীরা মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদনে উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। স্বাস্থ্যগত কারণে আদালতে আসতেও পারেননি তিনি। তাই ৬/৭ সপ্তাহের সময় প্রয়োজন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সোয়া পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ওই দুই দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে।
দুই মামলায়ই এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন বাদী ও প্রথম দুদকের উপ-পরিচালক সাক্ষী হারুন-অর রশিদ। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে আসামি খালেদা জিয়া ও জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে জেরা করেছেন তাদের আইনজীবীরা। সোমবার বাকি আসামিদের পক্ষে জেরার দিন ধার্য রয়েছে।
একইসঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলারও বাদী ও প্রথম সাক্ষী হারুন-অর রশিদের জেরাও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি মোট ছয়জন। খালেদা ছাড়া অন্য পাঁচজন হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক, বাকিরা জামিনে আছেন।
অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান জামিনে আছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
দুই মামলারই বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।
জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।
গত বছরের ১৯ মার্চ এ দুই দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় ও বিশেষ জজ আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়। খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে চার্জ গঠন করা হয় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর আট আসামির বিরুদ্ধেও।
গত বছরের ৭ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত বিশেষ মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত বিশেষ মামলার বিচারিক কার্যক্রম ঢাকার মেট্রোপলিটন দায়রা জজ আদালত ভবনের পরিবর্তে ঢাকা মহানগরের বকশীবাজার এলাকার কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে চালানোর আদেশ জারি করে।
নানা কারণ দেখিয়ে মামলা দু’টির শুনানির জন্য নির্ধারিত ৭২ কার্যদিবসের মধ্যে সোমবারসহ ৬০ কার্যদিবসই অনুপস্থিত থেকেছেন খালেদা জিয়া, উপস্থিত হন মাত্র ১২ দিন।
বিনোদন ডেস্ক :
মনে হচ্ছে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের মাঝে নতুন এক ভক্তের খোঁজ পেলেন কঙ্গনা রনৌত। কীভাবে? জানাচ্ছেন তার নতুন ছবি ‘কাট্টি বাট্টি’র পরিচালক নিখিল আদভানি। তার কাছে ছবিটির জন্য কঙ্গনাকে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সল্লুই।
নিখিল জানান, চিত্রনাট্যটি দেখে খুবই ভালো লেগেছে সালমানের। এরপর পায়েল চরিত্রের জন্য কঙ্গনাই যুতসই হবে বলে মনে করেন তিনি। ওইদিন গভীর রাতে তিনি ফোন করেন ২৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে। কঙ্গনা তখন নিউইয়র্কে। সালমান তাকে জানান, পায়েল চরিত্রটি সম্ভবত তাকে ভেবেই লেখা। এরপর মুম্বাই ফিরে আসার পর তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়ে যান ছবিটিতে।
‘কাট্টি বাট্টি’ ছবিতে কঙ্গনার সহশিল্পী ইমরান খান। এটি মুক্তি পাবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর। এর এক সপ্তাহ আগেই মুক্তি পাবে নিখিল আদভানি পরিচালিত ‘হিরো’। এটি প্রযোজনা করেছেন সালমান। নিখিলের পরিচালনায় ‘সালাম-এ-ইশক’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ৪৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা। তাই তাদের সম্পর্কটা দারুণ।
এদিকে সময় ফাঁকা নেই বলে সালমানের সঙ্গে ‘সুলতান’ ছবিতে কাজ করার সুযোগ খুঁইয়েছেন কঙ্গনা। এর প্রস্তাব পাওয়ার আগেই বিশাল ভরদ্বাজের ‘রঙ্গুন’ ছবি হাতে নিয়ে ফেলেছেন তিনি। তবুও ‘সুলতান’ নিয়ে তার সঙ্গে আলাদা করে বসেছিলেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। কিন্তু লাভ হয়নি।
বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিল্পী সমির বাউলের নাতনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। ২ বছরের এই শিশুর নাম সাউদা। তার চিকিৎসার ব্যয় সংগ্রহ করতে অনুষ্ঠিত হবে লালনগীতির আসর। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সভাপতিত্ব করবেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।
১২ আগস্ট বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মঞ্চে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লালন সাঁইজির বাণী পরিবেশন করবেন খ্যাতিমান বাউল শফি মন্ডল, সমির বাউল, আরিফ বাউল, রিংকু, বিউটি, লায়লা, মৌসুমী, তুলি, ভট্টো, হামিদা ও পূজাসহ আরো বাউল শিল্পীবৃন্দ।
টিকেটের মূল্য ধরা হয়েছে ২ হাজার, ১ হাজার, ৫শ ও ২শ টাকা। টিকেট পাওয়া যাবে কফি হাউজ, শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা, ফ্যাসন হাউজ ব্যাঙ, আজিজ মার্কেট, সালিমাবাদ টেলিকম, জুবলি মার্কেট, বাংলাবাজার, লালন একাডেমি, মিরপুর শাহ আলী দরবার শরিফে।
বিনোদন ডেস্ক :
‘গজিনি’র প্রেম সত্যি হলো অাসিনের জীবনে! সাত বছর আগে বলিউডে নিজের প্রথম ছবিটিতে ভারতের শীর্ষ এক মোবাইল কোম্পানির মালিক সঞ্জয় সিংহানিয়ার প্রেমে পড়েছিলো তার অভিনীত চরিত্র। কে জানতো, এর কয়েক বছর পর সত্যি সত্যি তেমন একজন শিল্পপতিকেই জীবনসঙ্গী করবেন তিনি! ভারতের শীর্ষ মোবাইল কোম্পানি মাইক্রোম্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতা রাহুল শর্মার সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়তে যাচ্ছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী।
ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ৩৬ বছর বয়সী রাহুলের সঙ্গে আরও আগেই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলতে চাইছিলেন আসিন। কিন্তু নিজের নতুন ছবি ‘অল ইজ ওয়েল’-এর কাজ হাতে থাকায় তা ঝুলিয়ে রেখেছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই তারকা। এ ব্যাপারে অবশ্য বরাবরই মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিলেন তিনি। আর এমনিতেই পেশাদারি জায়গার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনকে মোটেই মেলাতে দেখা যায় না তাকে।
বিয়ে প্রসঙ্গে আসিন বলেছেন, ‘এখন আমার হাতের সব কাজ একে একে শেষ করছি। ফলে ব্যক্তিজীবনে আরও বেশি সময় দিতে পারবো। এ ছাড়া দুই বছর আগে থেকেই নতুন কোনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি না।’
আসিনের ‘খিলাড়ি ৭৮৬’ ছবির সহশিল্পী বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেন রাহুল শর্মা। কয়েক বছর আগে মাইক্রোম্যাক্সের মডেল হন অক্ষয় ও টুইংকেল খান্না দম্পতি।
এদিকে আগামী ২১ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে আসিনের ‘অল ইজ ওয়েল’। উমেশ শুক্লার পরিচালনায় এতে আরও আছেন অভিষেক বচ্চন, ঋষি কাপুর ও সুপ্রিয়া পাঠক।
বিনোদন ডেস্ক :
বৃষ্টি ভিজছেন বালাম। বাঁ-হাত ভর্তি উল্কি। কখনও সুইমিং পুলে আধো ডুবে আছেন। মুখে আছে- ‘তুই ছাড়া সবই মেঘে ঢাকা/তুই ছাড়া যেন সবই ফাঁকা’। এটা তার নতুন গান। গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) ইউটিউবে এর ভিডিও উন্মুক্ত হয়েছে। এতে তার সঙ্গে মডেল হয়েছেন শাওন প্রিয়াঙ্কা।
ভিডিওটির নির্দেশনা দিয়েছেন তাপস ও মুন্নি দম্পতি। এতে সহযোগী সৃজনশীল পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন ইলাজার ইসলাম ও রম্য খান।
জানা গেছে, মোবাইল ফোন রবির মিউজিক স্টেশনে ৮০৮০৪ ডায়াল করলেও শোনা যাবে গানটি। গুনগুন করতে চাইলে রবি মোবাইল থেকে ৪৯৩৯৩৭৪ লিখে পাঠাতে হবে ৮৪৬৬ নম্বরে
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : ৫০ ভাষার সুবিধা নিয়ে ট্রান্সলেটর অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড দুই অপারেটিং সিস্টেমেই এটি ব্যবহার করা যাবে।
চলতি সপ্তাহে উন্মুক্ত অ্যাপটি স্মার্টফোন, ট্যাব ছাড়াও চলবে স্মার্টওয়াচে।
ব্যবহারকারী যে শব্দটি অনুবাদ করতে চান তা লিখে বা উচ্চারণ করলে এটি দ্রুত ট্রান্সলেট হয়ে পর্দায় ভেসে উঠবে। ট্রান্সলেট হওয়া শব্দটি কপি ও পেস্ট করতে পারবেন ব্যবহারকারী।
অনুবাদ সুবিধায় স্থান পাওয়া ৫০টি ভাষার মধ্যে রয়েছে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, হিব্রু, চীনা, ইতালিয়ান, জাপানিজ, স্প্যানিশ ও রাশিয়ান।
অনেক আগে থেকেই বিং ওয়েবসাটের মাধ্যমে মোবাইল ও ডেস্কটপের জন্য তৈরি আলাদা অ্যাপে উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের ট্রান্সলেটর সেবা দিয়ে আসছে মাইক্রোসফট। এছাড়া স্কাইপে ট্রান্সলেটর প্রোগ্রামের মাধ্যমেও অনুবাদের সুবিধা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে মাইক্রোসফটের নতুন এ অ্যাপ ২৭ ভাষা সার্পোট করা গুগল ট্রান্সলেটরকে একরকম ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক :
মহাকাশচারীরা এতদিন পেটপুজো করতেন বাসী খাবার দিয়ে। যা সরবরাহ করা হতো পৃথিবী থেকে। কিন্তু তাদের খাবার টেবিলে যোগ হতে যাচ্ছে মুখোরোচক খাবার। যে খাবার পৃথিবী থেকে পাঠানো নয়। এসব খাবার মহাকাশেই উৎপাদনকরা হচ্ছে। বিশেষ করে টাটকা শাক-সবজি।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে ছোট আকারে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এসবই স্পেসশিপের মধ্যেই। এটি একটি ছোট আকারের গ্রিণ হাউজ। এটার নাম লাডা। এই গ্রিণ হাউজটিতে ২০০২ সাল থেকে চাষবাস করার জন্য গবেষণা করা হচ্ছে। মাইক্রোগ্যাভিটিতে চাষ করে ইতোমধ্যে সাফল্য পেয়েছেন মহাকাশচারীরা। তারা লাল রঙের লেটুস পাতা ফলাতে সক্ষম হয়েছেন।
মহাকাশচারীরা স্পেসস্টেশনে সবজি চাষের জন্য নতুন ধরণের একটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। এটাকে বলা হচ্ছে ‘ভেজ্জি’। গ্রিণ হাউজে চাষের জন্য বিশেষ আলো ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য লাল এবং নীল এলইডি বাতি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও তারা ২০১৪ সালেই মহাকাশে সবজি চাষ করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়। এসব সবজি পরীক্ষাগারে গবেষণা শেষে নাসা জানিয়েছে এগুলো খাওয়ার উপযোগী।
নাসা জানিয়েছে, পৃথিবী থেকে পাঠানো প্যাকেটজাত খাবার দুই থেকে তিন বছর ভালো থাকে। এদিকে নভোচারীদের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এসব সবজি বেশ কাজে দেবে বলে নাসা ধারণা করছে। বিশেষ করে টাটকা সবজি এবং ফল তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি যোগাবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবার মান পর্যবেক্ষণে সারাদেশে মনিটরিং টিম পাঠাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বিটিআরসি মনিটরিং টিম দেশের ১০০টি স্থানে সরেজমিনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের সেবার মান পর্যবেক্ষণ করবে।
বিটিআরসি জানায়, দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও গ্রাহকরা প্রায়ই উচ্চমূল্যের পাশাপাশি ধীরগতি নেট প্রাপ্তি, নেটওয়ার্ক সমস্যা, কল ড্রপ (কানেকশনের সময় কল কেটে যাওয়া), সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ব্যবহারের চেয়ে বেশি টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করে আসছেন।
বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম বিভাগের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, যে গতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে তা যথাযথ কিনা, কল ড্রপ বেড়েছে কিনা, বরাদ্দ করা তরঙ্গের অতিরিক্ত ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা- প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বর্তমানে রাষ্ট্রয়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটকসহ মোট ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটর সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার। আর ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা চার কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজার।
ছয়টি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে সিটিসেল ছাড়া থ্রি-জি সেবা দিচ্ছে পাঁচটি অপারেটর। থ্রি-জি সেবার মান নিয়েও গ্রাহকদের রয়েছে নানান অভিযোগ। অনেক জায়গায় থ্রি-জি’র মূল্য কাটা হলেও গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে টু-জি সেবা।
আগামী দেড় মাসব্যাপী নিয়ন্ত্রক সংস্থার একাধিক মনিটরিং টিম এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। এরপর অপারেটরগুলো যে পরিমাণ সুবিধা দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হচ্ছে কি না- তা নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে পর্যালোচনাও করা হবে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের পর্যবেক্ষণ করতে এসব মনিটরিং টিম পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র একজন কর্মকর্তা। খুব দ্রুতই মনিটরিং টিম মাঠে নামছে।
গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত অভিযোগ বক্সও স্থাপন করেছে বিটিআরসি। ‘কমপ্লেইন ফর ইন্টারনেট’ নামে বিটিআরসিতে গত এপ্রিলে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়।
লাইফস্টাইল ডেস্ক :
ভোলার মা। ছোট বেলা থেকে চারপাশের মানুষ তাকে এই নামেই ডাকতো। কিন্তু তার কোনো সন্তান নেই, কখনো বিয়েই হয়নি তার শারীরিক কিছু ত্রুটি রয়েছে (হিজড়া, তৃতীয় লিঙ্গ)। তারপরও সে মা। আসলেই সে মায়ের আদরে স্নেহে সবাইকে আপন করে নেয়।
অন্য অনেক হিজড়ার সঙ্গে তার জীবনের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কারণ সে পরিবার পেয়েছিল।
তার আসল নাম বেগম। কিন্তু এলাকার ছোট বড় সবার কাছেই সে পরিচিত ভোলার মা নামেই। ফরিদপুর জেলার বাহিরদিয়ায় তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারের অনেকগুলো ভাইবোন ছোট রেখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার বাবা মারা যায়।
অনেকগুলো ছেলেমেয়ে নিয়ে তার মা যখন কষ্টের সাগরে, তখন তাদের এক আত্মীয় ভোলার মাসহ তাদের পাঁচ ভাইবোনের দায়িত্ব নেয়। অন্য ভাই-বোনরা কিছুটা বড় হলে বিভিন্ন কাজ জোগাড় করে দেন সেই আত্মীয়। ছোট বোনটার বিয়েরও ব্যবস্থা করেন।
একে একে সবাই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেদের মতো সংসার গোছালেও রয়ে যায় ভোলার মা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আত্মীয়ের পরিবার ঢাকামুখী হওয়ায় এক সময় সে পরিবারে ভোলার মার প্রয়োজনীয়তাও কমতে থাকে।
সে তার পরিবারের সবাইকে আগলে রেখেছে সারা জীবন। নিজের ভাগের খাবারটুকু নিয়ে গেছে ছোটভাইটির জন্য।
আজ জীবনের শেষ দিকে এসে বড় অসহায় সে। কারণ ডাক্তার জানিয়েছে তার দুটি কিডনিই অকেজো। হাসপাতালে সব সময় রেখে দেখাশোনা করার জন্য তার পাশে আজ তেমন কেউ নেই। কারণ ভাইবোন সবারই দিন আনে দিন খায় অবস্থা।
দিনের পর দিন তাকে নিয়ে হাসপাতালে থাকলে নিজেদের ঘরে চুলা জ্বলবে না।
হিজড়া হওয়ার জন্য কখনো সে মন খারাপ করেনি। কিন্তু আজ কি সে ভাবছে যদি সে একজন পরিপূর্ণ নারী হতো? তবে তারও নিজের একটি সংসার থাকতো, হয়তো একটা ছেলেও হতো যারা নাম সত্যি সত্যি ভোলা…