April 30, 2026
লাইফস্টাইল ডেস্ক :
ভোলার মা। ছোট বেলা থেকে চারপাশের মানুষ তাকে এই নামেই ডাকতো। কিন্তু তার কোনো সন্তান নেই, কখনো বিয়েই হয়নি তার শারীরিক কিছু ত্রুটি রয়েছে (হিজড়া, তৃতীয় লিঙ্গ)। তারপরও সে মা। আসলেই সে মায়ের আদরে স্নেহে সবাইকে আপন করে নেয়।
অন্য অনেক হিজড়ার সঙ্গে তার জীবনের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কারণ সে পরিবার পেয়েছিল।
তার আসল নাম বেগম। কিন্তু এলাকার ছোট বড় সবার কাছেই সে পরিচিত ভোলার মা নামেই। ফরিদপুর জেলার বাহিরদিয়ায় তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারের অনেকগুলো ভাইবোন ছোট রেখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার বাবা মারা যায়।
অনেকগুলো ছেলেমেয়ে নিয়ে তার মা যখন কষ্টের সাগরে, তখন তাদের এক আত্মীয় ভোলার মাসহ তাদের পাঁচ ভাইবোনের দায়িত্ব নেয়। অন্য ভাই-বোনরা কিছুটা বড় হলে বিভিন্ন কাজ জোগাড় করে দেন সেই আত্মীয়। ছোট বোনটার বিয়েরও ব্যবস্থা করেন।
একে একে সবাই সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেদের মতো সংসার গোছালেও রয়ে যায় ভোলার মা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আত্মীয়ের পরিবার ঢাকামুখী হওয়ায় এক সময় সে পরিবারে ভোলার মার প্রয়োজনীয়তাও কমতে থাকে।
সে তার পরিবারের সবাইকে আগলে রেখেছে সারা জীবন। নিজের ভাগের খাবারটুকু নিয়ে গেছে ছোটভাইটির জন্য।
আজ জীবনের শেষ দিকে এসে বড় অসহায় সে। কারণ ডাক্তার জানিয়েছে তার দুটি কিডনিই অকেজো। হাসপাতালে সব সময় রেখে দেখাশোনা করার জন্য তার পাশে আজ তেমন কেউ নেই। কারণ ভাইবোন সবারই দিন আনে দিন খায় অবস্থা।
দিনের পর দিন তাকে নিয়ে হাসপাতালে থাকলে নিজেদের ঘরে চুলা জ্বলবে না।
হিজড়া হওয়ার জন্য কখনো সে মন খারাপ করেনি। কিন্তু আজ কি সে ভাবছে যদি সে একজন পরিপূর্ণ নারী হতো? তবে তারও নিজের একটি সংসার থাকতো, হয়তো একটা ছেলেও হতো যারা নাম সত্যি সত্যি ভোলা…