May 7, 2026
লাইফস্টাইল ডেস্ক :
লক্ষ্য করেছেন কি, সদ্য বিয়ে হয়েছে এমন দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়? বিশেষ করে নারীদের। এদের দেখা যায় খাওয়া শেষের পরও খাবার নষ্ট হবে এই চিন্তায় বাড়তি খাবারগুলোও খেয়ে নেয় যার পরিণতিতে ওজন বাড়তে থাকে।
আমাদের দেশের নারীরা স্বামী বা সন্তানের প্লেটের বাড়তি খাবারও খেয়ে নেন এজন্যও অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে যুক্ত হয়ে, ওজন বাড়তে পারে।
আর পুরুষরা সাধারণত বাড়িতে ভালো অংশটি যেমন মাছের মাথা, মুরগীর রানটাই খেয়ে থাকেন এবং বাইরের খাবারও বেশি সময় খান। এজন্য তাদের ওজনও বেড়ে যায়।
তবে বাড়তি ওজন কমিয়ে যদি ঝরঝরে ফিট আর সুন্দর ফিগারেই থাকতে চান তবে যা করতে হবে:
অনেকেরই অভ্যেস আছে প্রতিদিন বাড়ি ফেরার সময় বাইরের মুখরোচক খাবার নিয়ে আসেন। এসব তেলে ভাজা বা ফাস্টফুড খাবারের পরিবর্তে সন্ধ্যায় একবাটি ফল কেটে দু’জন মিলে খেতে পারেন।
বাইরের খাবার যদি খুব পছন্দের হয় তবে ছুটির দিনে রাতে একসঙ্গে বাইরে গিয়েই খান। বাইরে গিয়ে খাবারের অর্ডার দেওয়ার সময় যতটুকু খাবার তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারবেন ততটুকুই অর্ডার করুন।
মেইন ডিস আসার আগে সালাদ এবং ক্লিয়ার সুপ খেয়ে নিন। ডেজার্ট খেতে চাইলে একটি আইটেম নিয়ে ভাগ করে খান। ঘরে বা বাইরে খাবার যতোই পছন্দের হোক না কেন, নিজের ইচ্ছা বা কারও অনুরোধে অতিরিক্ত খাবেন না।
নিজের এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের। তাই বাড়ির রান্না স্বাস্থ্যসম্মত করতে রান্নায় তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন। মাংসের পরিবর্তে মাছের ওপর নির্ভরতা বাড়ান। আর প্রতিবেলায় খাবারে প্রচুর শাক-সবজি রাখুন। সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি সামনে আনতে পারলে দেখবেন পরিবারের অন্যরা ঝামেলা ছাড়া এগুলো খেয়ে আপনাকে এবিষয়ে সাহায্যই করবে।
একটি মজার বিষয় হচ্ছে নারীরা যখন বাইরে খান তখন খাবার ছোট পরিমাণে মুখে দেন এবং খুব ধীরে ধীরে অনেক সময় নিয়ে খান। এতে তাদের পরিমাণের চেয়ে কম খাবার খেলেও পেট ভরে যায়। কারণ আমরা যখন খুব দ্রুত খেতে থাকি তখন পেট ভরে যাওয়ার সংকেত আমাদের মস্তিস্কে পৌঁছতে বেশি সময় লাগে। এজন্য বেশি খাবার খাওয়া হয়। ধীরে ধীরে খেলে অনেক বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার স্পৃহা থাকে না বলেই বিশেষেজ্ঞরা পুরুষদেরও এমন নারীর মতো করেই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাড়তি ওজন মানেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, রক্তে কলেস্টরেলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, হতাশার মতো নানা ঝামেলা সব মিলে আমাদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
শরীরের সুস্থ থাকতে এবং ওজন ঠিক রাখতে প্রথমে খাবার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি তারপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিয়মিত অন্তত আধাঘণ্টা ব্যায়াম করা।
বন্ধু আপনাকেই বলছি, যদি আপনি বা আপনার প্রিয়জন বাড়তি ওজনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান তবে আজ থেকেই মেনে চলুন খুব সহজ এই পদ্ধতি।
ফিচার ডেস্ক : ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’। স্পেস স্টেশন থেকে জীবনানন্দকে পৃথিবী দেখালে হয়তো লাইনটি ঘুরিয়ে লিখতেন। বা লিখতেনই না!
পৃথিবীর আলো ঝলমলে সব শহর ও সুউচ্চ দালানগুলোকে ২শ ৪৯ মাইল উপর থেকে দেখলে মনে হবে নিছক রঙের কণা। সাগর-মহাসাগরগুলো আলতো তুলির আঁচড়। আর পাহাড়-পর্বত, বন-বাদাড়? সে বরং নিজেই দেখে নিন। হয়তো বলবেন, এ আর নতুন কী!
বলি, নতুনত্ব আছে। পৃথিবীর সাম্প্রতিক রূপ-রঙের ভিডিও ফুটেজ এসেছে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে। মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা সেটি পোস্ট করলে, আলাদা করে সম্পাদনা করেছেন দিমিত্রি পিসাঙ্কো নামে এক ভদ্রলোক। লুডোভিকো আইনাদি সঙ্গে আবার মনোহরা সঙ্গীতও যোগ করে দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে কেমন দাঁড়ালো বরং নিজেই দেখে নিন ভিডিওতে। তবে এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, ঘর অন্ধকার করে দেখলে মনেই হবে না আপনি স্পেস স্টেশনে বসে নেই!
প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় নতুন বোতলে পুরোনো মদ হিসেবে স্পেস স্টেশনের কিছু তথ্য দেওয়া যেতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) একটি বাসযোগ্য কৃত্রিম উপগ্রহ। পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সমন্বিত এ প্রকল্প ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস স্টেশন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। দুই লাখ ৪৫ হাজার ৭শ ৩৫ কেজি ভরের এ স্টেশনটির দৈর্ঘ্য ১শ ৯১ ফুট, প্রস্থ ১শ ৪৬ ফুট ও উচ্চতা ৯০ ফুট। এটি প্রতিদিন ১৫ দশমিক সাত বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
তাহলে আর দেরি না করে উড়াল দিন মহাগগন মাঝে..
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দেওঘরে একটি মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২০ জন।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ভোর ৫টার দিকে বৈদ্যনাথ মন্দিরে ভক্তের ভিড়ের চাপে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে ভক্তরা বৈদ্যনাথ মন্দিরে জড়ো হয়ে শিবের মাথায় গঙ্গাজল ঢেলে আচার পালন করেন।
ভোরে মন্দিরের বাইরে হাজার হাজার মানুষের লাইনের মধ্যে আগে যাওয়ার চেষ্টায় হুড়োহুড়ি শুরু হলে পদদলনের এই ঘটনা ঘটে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়।
দেওঘরের বৈদ্যনাথ মন্দিরে পদদলনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০০৭ সালে ওই ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে হিন্দুদের বিভিন্ন তীর্থস্থানে প্রতিবছরই ভিড়ের চাপে পদদলনের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়।
গত অক্টোবরে মধ্য প্রদেশের রত্নগড়ের এক মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মারা যায় ৯১ জন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ২০১১ সালে কেরালায় আরেক তীর্থে একইভাবে শতাধিক মানুষের প্রাণ যায়।
একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেল
ঢাকা: কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গত তিন দশকে মাত্র ৫৪ হাজার শ্রমিক বিদেশ পাঠাতে সক্ষম হয়েছে বিদেশে কর্মী নিয়োগকারী একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। যা এক বছরে কোনো বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির পাঠানো শ্রমিক সংখ্যার চেয়েও কম।
১৯৮৩ সালে বিদেশে ৪২ জন কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে পেশাদার, দক্ষ ও আধাদক্ষ এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ২৭টি দেশে কর্মী পাঠিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাহরাইন, ওমান ও মালদ্বীপ- এই পাঁচটি দেশে শ্রমিক পাঠাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এদের মধ্যে জর্ডান ও বাহরাইনে মহিলা শ্রমিক, দক্ষিণ কোয়িরা ও ওমানে দক্ষ, আধাদক্ষ পুরুষ শ্রমিক আর মালদ্বীপে কেবল পেশাজীবী (ডাক্তার) পাঠাচ্ছে বোয়েসেল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর কর্মকর্তাদের অপেশাদার মনোভাব এ প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ দিনেও এগুতে দেয়নি। অথচ স্বল্প খরচে বিদেশ যাওয়ার জন্য এ প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই।
বোয়েসেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ১৯৮৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ৫৩ হাজার নয়শ’ ৫৫ জন বাংলাদেশি কর্মীকে বিদেশে পাঠাতে পেরেছে বোয়েসেল। ২০১০ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা ২০ হাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বোয়েসেলের প্রথম ২৭ বছরের পরিসংখ্যান আটকে ছিল মাত্র ১৭ হাজার পাঁচশ’ ৭১ জনে। ২০১০ সালের পর থেকে বোয়েসেল তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিক পাঠাতে সক্ষম হয়। আর এতেই সুখের ঢেকুর তুলছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
তবে জনশক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বোয়েসেলের কর্মকাণ্ড মোটেই সন্তোষজনক নয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসিও প্রতিষ্ঠানটির উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, বোয়েসেল কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হলেও সরকার জনশক্তি. কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে শ্রমিক রফতানি করছে। অথচ বিএমইটির প্রধান কাজ জনশক্তি রফতানি প্রক্রিয়া মনিটরিং করা। আবার জিটুজি প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর সময়ও উপেক্ষা করা হয় বোয়েসেলকে। যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বোয়েসেলের প্রাধান্য পাওয়ার কথা সেখানে এ প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়েই করা হয়েছে সকল কাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বোয়েসেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হলেও নিজস্ব আয় থেকে এর সব ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। বিদেশগামী কর্মীদের থেকে নেওয়া সার্ভিস চার্জই তাদের আয়ের উৎস। তা থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য সব ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। এছাড়া প্রতিবছরই সরকারকে লভ্যাংশ এবং অর্জিত আয়ের রাজস্ব আদায় করতে হয়।
আবার জনবল নিয়োগসহ নতুন বাজার খোঁজার ক্ষেত্রে নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথাও শোনা যায় কর্মকর্তাদের কণ্ঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বোয়েসেল কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রামে ৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কথা উল্লেখ করা থাকলেও বর্তমানে আছেন ৪৮ জন। জরুরি ভিত্তিতে লোকবল চাওয়া হলেও তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকে দীর্ঘদিন।
ওই কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশে সরকারে প্রথম লিমিটেড কোম্পানি হল বোয়েসেল। যারা ৫১ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করার পর থেকে আজ অবধি দেওয়া ছাড়া সরকারের কাছ থেকে একটি পয়সাও নেয়নি। ডেভিডেন্ট বাবদ এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। একটু নজর দিলেই প্রতিষ্ঠানটি আরো বড় হতে পারে। কিন্তু সেদিকে নজর দেওয়ার যেন কেউই নেই।
এসব ব্যাপারে বোয়েসেলের জেনারেল ম্যানেজার ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, বোয়েসেলকে ব্যর্থ বলা যাবে না। কারণ, অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের হাত পা অনেকটাই বাঁধা। শ্রমিকের চাহিদার ক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরি সরকার এবং বিভিন্ন দূতাবাসের উপর নির্ভরশীল। আমরা বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মত ভিসা কিনতে পারি না। এর ফলে তাদের মত চাহিদা আমাদের কাছে আসে না। আবার নতুন বাজার খোঁজার জন্য যে পরিমান চেষ্টা-তদবির করা প্রয়োজন সেটাও আমরা করি না। কারণ, এজন্য নানা জটিলতা পোহাতে হয়। বিশেষ করে সরকারের অনুমতি পেতে হয়। যা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আর যখন অনুমতি পাওয়া যায় ততদিনে ওই দেশের চাহিদা আর থাকে না।
তবে তিনি বলেন, শুরুর দিকের বোয়েসেলের তুলনায় বর্তমান বোয়েসেল অনেক সফল। কারণ, শেষ পাঁচ বছরে আমরা যতো শ্রমিক পাঠিয়েছি তা প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ২৭ বছরে পাঠানো কর্মীর দ্বিগুণ। আশা করছি শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।
এদিকে বোয়েসেলের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেছেন, নতুন শ্রম বাজার খোঁজার অনুমতি চাইলে বোয়েসেলকে অপেক্ষা করানো হয়-এ অভিযোগ সত্য নয়। তাদেরকে বাজার খুঁজে শ্রমিক পাঠাতে হবে। এ বিষয়ে তারা যখনই অনুমতি চাইবে তখনই দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আমি সাক্ষাত করেছি। তারা যে কর্মযজ্ঞ দেখিয়েছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। বোয়েসেলকে কার্যকর করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য তাদের কাছে ৬ মাসের কর্মপরিকল্পনাও চেয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটিতে গতিশীল করা সম্ভব হবে।
ঢাকা: ২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬৯.৬০ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৭৮.৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার শতকরা ৮.৭৩ শতাংশ কমেছে।
মেধা নির্ধারণের মাপকাঠি জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার ৬০২ জন। ফলে গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে ২৭ হাজার ৭০৮ জন।
রোববার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ২০১৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেখান থেকেই এ তথ্য জানা যায়।
যদিও এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৪ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪ পরীক্ষার্থী। সে হিসাবে এবারে পরীক্ষার্থী কমেছে ৬৭ হাজার ৪৯০ জন। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও বেড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা। ৮৩০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন; যা গতবারের চেয়ে ২০১টি বেশি। পরীক্ষা কেন্দ্র গতবারের চেয়ে ৬৭টি বৃদ্ধি পেয়ে এবার ছিল ২ হাজার ৪১৯টি। এছাড়া বিদেশে ৭টি কেন্দ্র থেকে ২৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। বিদেশের কেন্দ্রগুলো ছিল- দোহা, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপলি, দুবাই এবং বাহরাইন।
ঢাকা: বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত নতুন করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলার হলরুমে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে ‘সাশ্রয় কর জ্বালানি-বাঁচাও সম্পদ, বাঁচাও ধরণী’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে প্রচুর অর্থের যোগান দিতে হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে সরকারকে অনেক অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হয়। এতে করে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া সরকারের নেওয়া গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। এই অর্থ আসবে কোথা থেকে? তাই মূল্য সমন্বয় করা দরকার।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি।
আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান এ আর খান, ভূ-তত্ত্ব জরিপ অধিফতরের মহাপরিচালক ড. নিহার উদ্দিন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. ইশতিয়াক আহমদ,জ্বালানি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিপিসির চেয়ারম্যান এএম বদরুদ্দোজা, পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসপি) প্রেকৌশলী মো. কামরুজ্জামান।
ঢাকা: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘এক বছর আগে আইন মন্ত্রণালয়ে একটি আইনের খসড়া জমা দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় তার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা জানি না, আইন মন্ত্রণালয় ওখানে বসে বসে ডিমে তা দিচ্ছে কি না।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অস্পৃশ্যতা এবং দলিত মানবাধিকার: রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়াটি একবছর আগে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইনটির বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আইনটি যেন দ্রুত পাস করা হয়।’
দেশে শিশু ও নারী নির্যাতনে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই মানবাধিকার কর্মী বলেন,‘ রাষ্ট্রকে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অতীতে ঝালকাঠির লিমনকে গুলি করার পরে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার দাবিতে মানবাধিকার কমিশনগুলো সোচ্চার ছিল। কিন্তু এখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়নি। এই জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো কিছুট নিশ্চুপ।’
বাংলাদেশ নাগরিক উদ্বেগ এবং বিডিইআরএম নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই সেমিনারের অোয়োজন করে।
সাভার প্রতিনিধি : পরকীয়ায় জড়িত সন্দেহে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিয়েছেন এক তরুণী। বৃহস্পতিবার ভোরে আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্বামী মো. মাসুমকে (২৮) সকালে স্থানীয় আসাদ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
ওই তরুণী পোশাক কারখানার কর্মী। আর মাসুম আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দু’জনেরই বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাসুমের ভাই সিদ্দিক জানান, চার বছর আগে মাসুম ও ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।
তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সন্দেহ করতেন পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত বলে। এই সন্দেহের জেরে ওই তরুণী এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ওই তরুণী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার সঙ্গে কারও পরকীয়া সম্পর্ক নেই। উনি (স্বামী) আদম ব্যবসায়ী। উনি পরকীয়ায় জড়িত।
স্বামী মাসুমও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, এ ব্যাপারে জানার জন্য স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদক : মাগুরায় যুবলীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে গর্ভের সন্তান গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সরকারকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ মা নাজমা বেগম ও শিশুটিকে দেখতে যান তিনি। পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপাকালে এ মন্তব্য করেন এরশাদ।
গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে ডাক্তাররা প্রথমে ‘বুলেটকন্যা’ ডাকলেও বাবার কাছ থেকে মেয়েটি নাম পেয়েছে ‘সুরাইয়া’।
ঢামেকে মা-শিশুর অবস্থার খোঁজ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকে এরশাদ বলেন, ‘মায়ের পেটে শিশু হত্যা চেষ্টার জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু তাদের বিচার হবে কিনা জানি না। সরকারের উচিত এ ঘটনার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

‘কেন এই ঘটনা ঘটছে, মাদকাসক্তি নাকি বিচারহীনতা। কারণ যাই হোক যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা জানে তাদের বিচার হবে না, মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।’
‘মায়ের পেটের শিশু নিরাপদ নয়, এটা আমরা ভাবতেও পারি না। আমরা কত বর্বর হয়ে গেছি। আমরা এখন আর মননশীল জাতি নই। এই সমাজের পরিবর্তন দরকার। ইনশাআল্লাহ পরিবর্তন আসবে,’ মন্তব্য করেন এরশাদ।
এরশাদ বলেন, ‘এখন অভিনব পন্থায় শিশুদের উপর বর্বর নির্যাতন হচ্ছে। এই অভিনব পন্থা কীভাবে এল? কত বর্বর মানুষ। মানুষ কিভাবে বাঁচবে, বাংলাদেশ কিভাবে বাঁচবে? যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তি দিন, ফাঁসি দিন। যাতে এমন নিষ্ঠুর ঘটনা আর কেউ ঘটাতে না পারে।’
এরশাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম নুরু, কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুল ইসলাম মিলন ও সুজন দে প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালুকে বাড্ডা থানার নাশকতা মামলায় পুনর্বিবেচনায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় ফালু অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই আদেশের পর ফালুকে পাঠানো হয়েছিল আদালতের গারদখানায়। পরে তার আইনজীবীরা ফালুকে ‘অসুস্থ বিবেচনায়’ ফের জামিনের আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করেন।
ঢাকা মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেজবার মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান ফালু। এই মামলার চার্জশিট আনা না পর্যন্ত তাকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। চার্জশিট আসার পর তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বাড্ডা থানা এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির নাশকতার এ মামলা দায়ের করেন। এরপর ২৭ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই আক্তারুজ্জামান সরকার ফালুসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।