May 7, 2026
ঢাকা: শেয়ারবাজারে মুনাফার কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে এ খাতের কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ব্যাংক খাতের কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২১১ কোটি ৬২ লাখ টাকার। যা ডিএসই’র মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। খাতভিত্তিক লেনদেনের হিসাবে মাসটিতে ব্যাংক খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে পঞ্চম স্থানে।
জুলাই মাসে ব্যাংকের শেয়ারের মোট লেনদেন ছিলো ৫১৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যা ডিএসই’র মোট লেনদেনের মাত্র ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, শেয়ারবাজারের প্রাণ হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক খাতের অবদান ২০১১ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তবে আগস্টে এসে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্যাংক খাত।
এক সময় শেয়ারবাজারে লেনদেনে ব্যাংক খাতের অবদান ৩০ শতাংশের ওপরে ছিলো। আগস্টে এসে তা সাড়ে ৯ শতাংশের মতো হয়েছে। সে হিসেবে আগের অবস্থানের তুলনায় লেনদেনে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংক খাতের অবদান।
শেয়ারবাজারে ২০১১ সালে মোট লেনদেনের ৩০ শতাংশই ছিলো ব্যাংক খাতের দখলে। ব্যাংক কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ায় এর পর থেকেই কমতে থাকে ব্যাংকের লেনদেন। ২০১২ সাল ব্যাংক খাতের অবদান দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশে। আর ২০১৪ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৯ শতাংশে।
শেয়ারবাজার বিশেজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক খাতের শেয়ার যতো বেশি লেনদেন হবে শেয়ারবাজার ততো বেশি শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে। কারণ, এ খাতের কোম্পানিগুলো বড় অঙ্কের মুলধনি কোম্পানি হওয়ায় এর শেয়ার নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ খুবই কম।
তারা বলছেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে ব্যাংক যে পরিমাণ মুনাফা করেছিলো এবং বিনিয়োগকারীদের যে লভ্যাংশ দিয়েছিলো তা পরবর্তী সময়ে দিতে পারেনি। যে কারণে ব্যাংক খাতের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোর দাম যে পর্যায়ে নেমেছে তার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। বর্তমানে শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতের প্রায় প্রতিটি কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগের উপযুক্ত।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া ও ব্যাংক ঋণের চাহিদা কমায় ২০১১ সালের পরে ব্যাংকের মুনাফা কমছে। আর মুনাফা কমায় ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি মানুষের আস্থাও কমেছে। তবে শেয়ারবাজারে অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দাম যে পর্যায়ে নেমেছে তার কোনো যুক্তি সঙ্গত কারণ নেই।
তিনি বলেন, চলতি বছরের অর্ধ বছরে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় সবক’টি ব্যাংক মুনাফা করেছে। এ মুনাফার প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভালো। সে কারণেই হয়তো ব্যাংক খাতের শেয়ারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক রিসার্চ কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে ২০১১ সালের পর থেকেই শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতের অবদান কমেছে। অথচ এক সময় শেয়রবাজারের উত্থান-পতন নির্ভর করতো ব্যাংকের শেয়ারের দামের ওপরে।
তার মতে, ব্যাংকের শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিলে শেয়ারবাজারের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করলে শেয়ারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
এদিকে তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগস্টে শেয়ারবাজারে লেনদেনে শীর্ষ স্থান দখল করেছে প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশই এ খাতের দখলে। এরপরেই রয়েছে জ্বালানি খাত। মোট লেনদেনে এ খাতের অবদান ১৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা ওষুধ খাতের অবদান ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর বস্ত্র খাতের অবদান ১১ দশমিক ১০ শতাংশ।
এছাড়া বাকি সবক’টি খাতের অবদান ১০ শতাংশের নীচে। এর মধ্যে ৫ শতাংশের ওপরে আছে মাত্র একটি খাত। বাকিগুলোর অবদান ৩ শতাংশ বা তার নিচে। ৫ শতাংশের ওপরে থাকা খাদ্য খাতের অবদান ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
অন্য খাতগুলোর মধ্যে বিবিধ খাতের অবদান ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, সিমেন্ট খাতের অবদান ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আর্থিক খাতের ৩ দশমিক ২১ শতাংশ, সেবা ও আবাসন ২ দশমিক ০৩ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ভ্রমণ ২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, পাটের দশমিক ১৮ শতাংশ, কাগজ ও মুদ্রণ দশমিক ৩১ শতাংশ, আইটি দশমিক ৭৯ শতাংশ, বিমা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, চামড়া ১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং সিরামিক খাতের অবদান ১ দশমিক ০২ শতাংশ।
ঢাকা: এতোদিন সরকারি মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত ছিল দুই টাকার কয়েন। কিন্তু দুই টাকার ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সরকার পাঁচ টাকার কয়েনকে সরকারি মুদ্রা ঘোষণা করতে সংসদে একটি বিল উত্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ কয়েনজ অর্ডার-১৯৭২ সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পরে বিলটি পরীক্ষাপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য ৩০ কার্য দিবসের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭২ সালে দ্য বাংলাদেশ কোইনেজ অর্ডার দীর্ঘ ১৭ বছর পর ১৯৮৯ সালে সংশোধন করে ২ টাকাকে সরকারি মুদ্রা করা হয়। এর আগে সর্বোচ্চ এক টাকার মুদ্রা সরকারি মুদ্রা হিসেবে পরিচিত ছিল। ইতোমধ্যে ২৬ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ২ টাকার ক্রয় ক্ষমতাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে বর্তমানে আইনের অধিকতর সংশোধনের মাধ্যমে ৫ টাকার নোটকে সরকারি মুদ্রায় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট অর্থের যোগান অপরিবির্তত থাকবে। এ কারণে মূল্যস্ফীতিজনিত প্রভাব হবে না।
বিলে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৪-৭৫ সালে বাজারে প্রচলিত মোট অর্থের মধ্যে সরকারি মুদ্রার পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে যা দশমিক নয় শুন্য শতাংশে নেমে এসেছে। ৫ টাকা মূল্যমানের নোট ও কয়েনগুলোকে সরকারি মুদ্রায় রূপান্তর করা হলে সরকারি মুদ্রার পরিমাণ বাজারে প্রচলিত মোট মুদ্রার ১ দশমিক পাঁচ শূন্য শতাংশে উন্নীত হবে।
ঢাকা: বিদেশী টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ডাউনলিংক ফি বেশি হওয়ায় ভারতীয় ক্যাবল অপারেটররা বাংলাদেশী চ্যানেল প্রদর্শনের আগ্রহী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
দশম জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রবিবার বিকেলে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান।
হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের বিষয়ে ভারতীয় দর্শকদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই। তবে বিদেশী টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ডাউনলিংক ফি বেশি হওয়ায় ভারতীয় ক্যাবল অপারেটরেরা এ বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন না। বিষয়টি ভারতীয় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশসমূহের টিভি চ্যানেলগুলো যাতে সহজে ভারতে সম্প্রচার করা যায় সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্ক ফোরামে উত্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে দূরদর্শনের একটি চ্যানেলে ডিটিএইচ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিটিভির অনুষ্ঠান প্রচারের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। সে অনুসারে দূরদর্শন ও বিটিভির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলমান আছে।
তিনি আরও বলেন, বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার ব্যবস্থা ফ্রি টু এয়ার হওয়ায় উপর্যুক্ত প্যারামিটার এর মাধ্যমে স্যাটেলাইটের সাহায্যে বর্তমানে ভারতসহ পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশের দর্শকরা দেখতে পাচ্ছেন। যে কোনো ভারতীয় দর্শক বা ক্যাবল অপারেটর ডাউনলিংকের মাধ্যমে বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান উপভোগের সুবিধা পাচ্ছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ভারতের ৩২টি পে চ্যানেল এবং ৮টি ফ্রি চ্যানেল সম্প্রসারিত হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক: ১৫ জুন। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডিউটি করছিলেন শ্রীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম। ওই সময়ই একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা অনিক। সিগন্যাল দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র চাইতে গেলেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন অনিক। ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে থাকেন, ‘তুই আমাকে চিনিস না? তোরে এ থানায় পাঠাইছে কে? দেখে নিব।’ এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্য জহিরুলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যান অনিক। পরে অনিককে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সামসুজ্জামানকে ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের প্রকাশ্য হুমকি দেন সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। এর মাত্র তিন দিন পর ১৮ জুন চোরাই
মোটরসাইকেলসহ শ্রীনগর বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক ব্যক্তিকে আটক করেন শ্রীনগর থানার এসআই রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ অপরাধে এসআই রেজাউলকে শ্রীনগর বাজার থেকে লাউড স্পিকারে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের কথিত এপিএস শ্রীনগর উপজেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সুজন। পরে তার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ওই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।
এত গেল কেবল একটি এলাকার চিত্র। শুধু আসামি গ্রেফতার কিংবা ছাড়িয়ে নেওয়া নয়, পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন নিয়োগের জন্য ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কাজ না হলেই সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। নানা ধরনের অভিযোগ আনছেন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের অন্তঃকোন্দলের কারণে সংঘটিত ঘটনাগুলোর জন্য রীতিমতো বিব্রত র্যাব-পুলিশ। এর বাইরে দলীয় পরিচয় বহনকারী অপরাধীদের অবৈধ অস্ত্র কিংবা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের হাতে হাতে আটক করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিব্রতবোধ করছেন।
এক পর্যায়ে তাদের ছেড়ে দিতেও বাধ্য হচ্ছেন। এসব বিষয় সরকারের উচ্চ পর্যায় অবহিত হওয়ার পরও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। স্থবিরতা চলে এসেছে বাহিনীর অপারেশনের ক্ষেত্রে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে আইনের শাসন বলে কিছু থাকবে না। দলীয় পরিচয় বিবেচনা করে অপরাধীকে দেখা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুলিশে নিয়োগে নানা অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে র্যাব-পুলিশ হতাশ এটা ঠিক নয়। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৭ আগস্ট রাজধানীর হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আরজু র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পরই পাল্টে যেতে থাকে চিত্র।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাসুদ রানাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার জন্য আবেদন করেন নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানা। পরে আদালত ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, হাজারীবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলামকে ওই থানা থেকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা হতাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, সত্যিই খুব অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। কোনো অপরাধের তদন্ত নিয়ে কাজ করলেই পদে পদে বাধা। দলীয় লোক হলে তো কথাই নেই।
খোদ এমপি কিংবা দলের কোনো প্রভাবশালী নেতার ফোন। তাদের কথা অনুযায়ী কাজ না করলে মুহূর্তেই ওই অফিসারকে জামায়াত-শিবির কালিমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা সত্যিই খুব কষ্টের। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়া এলাকায় মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভূঁইয়া ও ছাত্রলীগ কর্মী আজিবর শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের নেপথ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-২) সাইফুজ্জামান শিখর এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ। মূলত এ দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরায় সংঘাত ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়। দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে রীতিমতো বিব্রতবোধ করেন র্যাব-পুলিশের সদস্যরা। প্রায় একই অবস্থা ঝিনাইদহ জেলায়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল হাই (বর্তমান সংসদ সদস্য) এবং আওয়ামী লীগ নেতা শৈলকুপা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান নায়েব জোয়ার্দারের মধ্যকার দ্বন্দ্বে রীতিমতো বিব্রত পুলিশ প্রশাসন। এর বাইরে এমপি গ্রুপের শৈলকুপা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ওরফে সোনা শিকদারের তদবিরে রীতিমতো অতিষ্ঠ জেলা পুলিশ।
এর বাইরে সম্প্রতি শেষ হওয়া কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশ এবং স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, কক্সবাজার ও মৌলভীবাজার জেলায়ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি এবং আওয়ামী লীগের নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
অনেক এমপি সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে তাদের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ মার্চ রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী কেরামত আলী ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী কামরুন নাহার লাভলী। সংবাদ সম্মেলনে একাত্মতা প্রকাশ করে মুঠোফোনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জিল্লুল হাকিম।
পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে বেশির ভাগ অভিযোগই এসেছে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে। একটি জেলার নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, ওই জেলার একজন সংসদ সদস্য ৫০ জনকে নেওয়ার জন্য তালিকা দেন পুলিশ সুপারকে (এসপি)।
নিয়োগ কমিটির কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ৫০ জনের মধ্যে ছয়জনের বাড়িই অন্য জেলায়। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তাদের চাকরি দেওয়ার জন্য তালিকা পাঠানো হয়। এ জন্য মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। বিষয়টি ধরা পড়ায় এবং যোগ্যতা না থাকায় তালিকার অনেকের চাকরি হয়নি।
চাকরি না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলার এসপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অপরাধ বিশেষজ্ঞ শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সরকারের উচিত এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা। অপরাধী যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে অপরাধী হিসেবে দেখতেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। এতে জনপ্রিয়তা বাড়বে, কমবে না। সৌজন্য…..বাংলাদেশ প্রতিদিন
নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। প্রার্থী হলে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগকারী বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর এই আসন থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করবেন।

নির্বাচন কমিশন রবিবার টাঙ্গাইল-৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে। উপনির্বাচনের তারিখ এখনও ঘোষণা করেনি ইসি। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য লতিফ সিদ্দিকী। এমনকি তিনি টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেবেন না বলেও ২ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের জানান।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের বরাত দিয়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদ আহমদ জানান, এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হবে। নেতাকর্মীরা যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী থাকেন তাহলে স্যার (বঙ্গবীর) সিদ্ধান্ত নেবেন।
নয় দিনের দিল্লি সফর শেষে রবিবার দেশে ফেরেন কাদের সিদ্দিকী। দেশে ফিরেই মন্ত্রীত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া বড় ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গুলশানের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কাদের সিদ্দিকী ২৮ আগস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশ নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সূত্রে জানা গেছে, এ সপ্তাহেই দলের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ঐহিত্যবাহী সিদ্দিকী পরিবারের বসবাস টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী উপজেলাতে হলেও কাদের সিদ্দিকী সব সময় টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) থেকে নির্বাচন করেন। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা কাদের সিদ্দিকী এই টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকেই ১৯৯৯ সালে পদত্যাগ করেছিলেন। একই বছর ১৫ নভেম্বর সেখানে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্যাপক ভোট কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেন।
ঢাকা: কলেজছাত্র রিয়াদুল করিম বেসরকারি একটি মোবাইল টেলিকম অপারেটরের সিমকার্ড ব্যবহার করেন ভয়েস কলের জন্য। একই মোবাইল ফোন সেটে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক মোবাইল অপারেটরের সিমকার্ড ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত থাকেন। অপারেটর ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ভয়েস ও ডাটাচার্জ এবং নেটওয়ার্কজনিত কারণে একাধিক সিম ব্যবহার করেন বেশির ভাগ গ্রাহকই।
সম্প্রতি, একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকরা একাধিক টেলিকম অপারেটেরের সিমকার্ড ব্যবহার করছেন বলে তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারি হিসাবে সর্বশেষ জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি মোবাইল টেলিকমের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটি ৮৭ লাখ। আর ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ কোটি সাত লাখ সাত হাজার। মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন গ্রুপ স্পেশাল মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন-জিএসএমএ’র ‘এশিয়া-প্যাসিফিক মোবাইল ইকোনমি-২০১৫’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে ইউনিক বা একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছয় কোটি ৭০ লাখ।
জিএসএমএ’র তথ্য অনুযায়ী, এ দেশের মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ মানুষ প্রকৃত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী। প্রতিবেদনে একজন ব্যক্তির একাধিক সিমকার্ড থাকলেও তাকে একক ব্যবহারকারী হিসেবেই গণ্য করে তার একটি সিম কার্ডই বিবেচনায় নেওয়া হয়।
জিএসএমএ এবং সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে বলা যায়, দেশের প্রত্যেক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী গড়ে দুটি সিম কার্ডের মালিক। দুইয়ের অধিক সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেশি। মোবাইল ফোন অপারেটররাও বলছে, একজন ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহার করেন।
গ্রাহকরা জানান, অপারেটর ভেদে কল ও ডাটাচার্জের ভিন্নতা, নেটওয়ার্ক সুবিধার কারণে তারা একাধিক সিম ব্যবহার করেন। মোবাইল ফোন নম্বর পোর্টেবিলিটি (মোবাইল ফোনের নম্বর একই রেখে এক সার্কেল থেকে অন্য সার্কেলের গ্রাহক হওয়ার) সুবিধা না থাকায় একাধিক সিম ব্যবহারের প্রবণতাও বেশি। আর বেশির ভাগ হ্যান্ডসেটে ডুয়েল সিম ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে।
জিএসএমএ’র তথ্যমতে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৪০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ। এক বছরে একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ২ শতাংশ।
জিএসএমএ’র প্রতিবেদনে বাংলাদেশে একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী বাড়াতে ও মোবাইল ফোন সংক্রান্ত সেবাগুলোকে সহজ করতে কর ব্যবস্থায় সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়। একেকটি মোবাইল ফোন কিনতে মোট খরচের ১৮ শতাংশ যায় কর সম্পর্কিত খরচে।
তবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের হিসাবে এই হার আরো প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
আমদানি শুল্কসহ অন্যান্য কর হার কমানো হলে তা জনগণের মোবাইল ফোন প্রাপ্তিকে আরো সহজতর করবে বলে জিএসএমএ’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জিএসএমএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের একক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম হলেও তা অপারেটরদের জন্য সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ২০২০ সাল পর্যন্ত অপারেটরদের আয়ে ৪-৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল বাজারগুলোতে একক ব্যবহারকারী বাড়ানোর সুযোগ এখনো আছে।
মোবাইলে ফোনে করহার সম্পর্কে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন বিজনেসম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিজামউদ্দিন বলেন, প্রতিটি মোবাইল সেট আমদানিতে ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ শুল্ক সংক্রান্ত খরচ পড়ে। এর মধ্যে ভ্যাট ১৫ শতাংশ, ট্যাক্স ৫ শতাংশ, এআইটি ১ শতাংশ এবং অন্যান্য ৭৫ শতাংশ।
প্রতিটি ফোনসেটের জন্য তারা ফ্ল্যাট রেটে শুল্ক দাবি করে আসছেন।
ঢাকা: হ্যাপি নামের ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে উদ্ধার করেছে মিরপুর ২ নম্বরের স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটির গায়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। চোখ ফোলা। শিশুটির অভিযোগ, সে জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের বাসায় গৃহকর্মী ছিল। শাহাদাত ও তার স্ত্রী তার ওপর নির্যাতন করেছে।

Bangladesh cricketer Shahadat Hossain reacts after taking a catch to dismiss Pakistan batsman Sami Aslam during the first day of the second cricket Test match between Bangladesh and Pakistan at The Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on May 6, 2015. AFP PHOTO/ Munir uz ZAMAN (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)
এ ঘটনায় মিরপুর থানার ওসি মাহবুব হোসেন জানান, ‘ক্রিকেটার শাহাদাত রোববার দুপুরের দিকে থানায় এসে কাজের মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর ওই গৃহকর্মী উদ্ধার হলে, ওই গৃহকর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী তার উপর নির্যাতন চালাতেন ‘।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনার পর শাহাদতের মিরপুরের বাসায় পুলিশ গেলে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি, সে বাসা থেকে পালিয়েছে। তিনি আরও জানান, রাতে শাহাদাতের বাসায় আবারও অভিযান চালানো হবে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, হ্যাপিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ওসি মাহবুব হোসেন আরো জানান, এ বিষয়ে একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে, শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মাত্র ১২৯ ডলারে (বাংলাদেশী টাকায় ১০ হাজারের একটু বেশি) পিসি (পার্সোনাল কম্পিউটার) স্টিক আনছে আসুস, যা আকারেও হবে সবচেয়ে ছোট। ভিভোস্টিক নামের ওই স্টিকে থাকবে উইন্ডোজ-১০ ভার্সন চালানোরও সুবিধা।
পকেটে বহনযোগ্য এই এইচডিএমআই (হাই-ডেভিনিশন মাল্টিমিডিয়া ইন্টারফেস) পিসি স্টিকটি কোনো টিভি বা সামঞ্জস্যপূর্ণ মনিটরে সংযোগ দিলেই একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটারের কাজ করবে। ছোট্ট এ স্টিকে যেমন থাকছে ২ জিবি (গিগাবাইট) র্যাম (র্যানডম অ্যাক্সেস মেমোরি) তেমনি থাকছে ৩২ জিবি ডাটা সংরক্ষণের ক্ষমতা। পাশাপাশি থাকছে দুটি ইউএসবি (ইউনিভার্সাল সিরিয়াল বাস) পোর্ট এবং হেডফোন ব্যবহারের সুবিধা।
৭০ গ্রাম ওজনের এই স্টিকের দৈর্ঘ্য হবে মাত্র ১৩৮ মিলিমিটার, প্রস্থ হবে ৩৪ মিলিমিটার এবং উচ্চতা হবে ১৫ মিলিমিটার। ব্লুটুথ-৪ এর সুবিধাসম্পন্ন এই স্টিকে থাকছে ১১এন ওয়াই-ফাই সুবিধা। আসুস এসব তথ্য প্রকাশ করলেও স্টিকটি কবে নাগাদ বাজারে আসছে সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি। সূত্র : দ্য ভার্জ ডটকম।
খুলনা প্রতিনিধি : খুলনার শিশু রাকিব হত্যা মামলায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন মহানগর হাকিম মো. ফারুখ ইকবাল। তিন আসামির উপস্থিতিতে রবিবার অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ২২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন বিচারক।
মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. আব্দুল হালিম জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় মামলার তিন আসামি মো. শরিফ, তার মা বিউটি বেগম ও মিন্টু খানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের উপস্থিতিতেই আদালত খুলনা থানার মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী মোশতাক আহমেদের বক্তব্য শুনে ১৯০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। তিনি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করতে নথিপত্র মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন। ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে।
গত ৩ আগস্ট রাতে খুলনার টুটপাড়ায় মো. শরিফের মোটর গ্যারেজে নিয়ে শিশু রাকিবকে মলদ্বারে নল ঢুকিয়ে পেটে কমপ্রেসারের হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহত রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২৫ আগস্ট এজাহারভুক্ত তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মো. শরিফ তার মা বিউটি বেগম ও মিন্টু খানকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এ তিন আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
কোপা আমেরিকায় ব্যর্থ হওয়ার হতাশা কাটিয়ে জয়ে ফেরার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে ব্রাজিলের। তবে আক্রমণভাগের একের পর এক ব্যর্থতায় কোস্টা রিকার বিপক্ষে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয়টি ১-০ গোলের বেশি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির রেড বুল অ্যারেনায় শনিবার রাতে আন্তর্জাতিক এই প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক হাল্ক। একমাত্র গোলটি তিনিই করেন।
কোপা আমেরিকার গত আসরে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার হতাশা নিশ্চিতভাবেই তাড়া করে ফিরছে ব্রাজিলকে। সামনে আবার ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব শুরু। তাই পুরনো ব্যর্থতা ভুলে প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ে নামার আগে জয়ের পথে ফেরাটা খুব জরুরি ছিল কার্লোস দুঙ্গার দলের।
সমস্যা অবশ্য লেগেই ছিল, ম্যাচের দুদিন আগে চোট পাওয়ায় নেইমারের খেলা নিয়ে শঙ্কা জাগে। আশঙ্কা সত্যি করে বার্সেলোনার এই তারকা ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই প্রথম একাদশ নামান দুঙ্গা।
তাতে অবশ্য প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ ধরে রাখতে কোনো সমস্যা হয়নি ব্রাজিলের। দশম মিনিটে গোলও পেয়ে যায় তারা। বল পায়ে ডি বক্সে ঢুকে কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন হাল্ক।
এরপর ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় ধরেই একের পর একে আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে চমক জাগানো কোস্টা রিকা মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণ করলেও বেশিরভাগ সময় নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের।
৩৮তম মিনিটে দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল পেতে পারতেন হাল্ক। প্রতি আক্রমণ থেকে ক্ষিপ্র গতিতে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের এই ফরোয়ার্ড, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলে নিয়ন্ত্রণ হারান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর তিনটি ভালো সুযোগ পায় ব্রাজিল। কিন্তু কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
৪৮তম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন মার্সেলো। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে দ্বিতীয় সুযোগ পান হাল্ক, এক জনকে কাটানোর পর সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। কিন্তু তার দুর্বল শট ঠেকাতে কোনো সমস্যা হয়নি পেমবেরতোনের।
এর পাঁচ মিনিট পর বাঁ দিক থেকে ডি বক্সে ঢুকে আড়াআড়ি দৌড়ে দুই জনের বাধা এড়িয়ে এই অর্ধের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি তৈরি করেছিল মার্সেলো। কিন্তু এবারও ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার।
দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ৫৬তম মিনিটে নিজেদের প্রথম সুযোগেই বল জালে জড়ান ব্রায়ান রুইস। কিন্তু রেফারির অফ সাইডের সিদ্ধান্তে সমতায় ফেরা হয়নি কোস্টা রিকার, যদিও টিভি রিপ্লেতে এই স্ট্রাইকার অফসাইডে ছিলেন না বলেই মনে হয়।
৬৭তম মিনিটে মাঝ মাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাকাকে নামান কোচ দুঙ্গা। একই সঙ্গে তিনি ফিলিপে কৌতিনিয়োকেও বদলি নামান। ব্রাজিলের আক্রমণের ধারও বাড়ে।
ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া ব্রাজিল ৭৭তম মিনিটে গোলটি পেয়ে যেতেও পারত। দগলাস কস্তা জালে বল জড়িয়েছিলেনও, অফ সাইডের কারণে সেটা বাতিল হয়ে যায়। রিপ্লেতে এই অফ সাইডের সিদ্ধান্তও ‘বিতর্কিত’ মনে হয়।
চোট কাটিয়ে ওঠা দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমারকে ৮১তম মিনিটে মাঠে নামান কোচ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচের বাকি অংশের অধিকাংশ সময়ই কোস্টা রিকার রক্ষণে চাপ ধরে রাখে নেইমার-কাকারা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, ফলে প্রথমার্ধের ওই একমাত্র গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কার্লোস দুঙ্গার দল।