May 7, 2026
বিনােদন ডেস্ক: আজ ৬ সেপ্টেম্বর। ১৯৯৬ সালের এই দিনে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। মাত্র তিন বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি অভিনয় করেছেন ২৭টি ছবিতে। তাঁর প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। তাঁর বেশির ভাগ ছবিই দারুণ ব্যবসাসফল হয়েছিল। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের কাছে স্টাইল আইকন হয়ে উঠেছিলেন সালমান।
তাই ১৯ বছর পরও সালমান এখনো বাংলা ছবির দর্শকের কাছে জনপ্রিয়। সালমান শাহর স্মরণে আজকের দিনে চলচ্চিত্রমহল এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থাকে নানা আয়োজন। সালমানের ১৪টি ছবিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন শাবনূর। তিনি মনে করেন, সালমান শাহ তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন।
নায়িকা শাবনূর বলেন, ‘আসলেই আমি অনেক ভালো একজন বন্ধু পেয়েছিলাম। একজন সহকর্মী পেয়েছিলাম। প্রতিবছর এই দিনটা এলে মনটা ভারী হয়ে যায়, তাঁকে তো আমি আমার অস্তিত্বে অনুভব করি। আজ বাংলাদেশের মানুষ আমাকে এক নামে চেনে। অনেকেই নায়িকা শাবনূর হতে চায়। কিন্তু শাবনূর হতে গেলে সালমানের মতো একজন সহশিল্পীও লাগে। সহশিল্পী যেমন অভিনয় করবে, তার প্রভাব নিজের কাজেও পড়বে। আমি খুব লাকি ছিলাম যে সালমানের মতো একজন শিল্পী পেয়েছিলাম। আর আমি অনেক দুঃখী একটা মেয়ে যে এমন একজন বন্ধুকে হারিয়েছি।’
১৯৯৩ সালের ঈদুল ফিতরের সময় মুক্তি পেয়েছিল সোহানুর রহমান সোহানের ব্যবসাসফল ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। এটি বাংলা ছবির ইতিহাসের রেকর্ড গড়া একটি ব্যবসাসফল ছবি। পরিচালক ও প্রযোজক ভারত থেকে মূল ছবির প্রযোজক ও পরিচালকের অনুমতি নিয়েই ছবিটি তৈরি করেন।
প্রথম সাক্ষাতেই দর্শক নড়েচড়ে বসল নতুন সুদর্শন তরুণ নায়ক সালমানকে দেখে। এর পর যতই ছবির গল্প এগোতে থাকে, ততই যেন সালমানকে দর্শকের ভালো লাগতে থাকে। সে সঙ্গে ভালো লাগতে থাকে সালমান-মৌসুমী জুটিকে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির সুপারহিট সালমান-মৌসুমী জুটির দ্বিতীয় সুপারহিট ছবি শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘অন্তরে অন্তরে’।
এ দুটি ছবি সুপারহিট হওয়ার সুবাদে সালমান-মৌসুমী জুটির চাহিদা তখন আকাশচুম্বী। ঠিক তখনই কী এক অজানা কারণে সালমান-মৌসুমী আর জুটি বাঁধতে রাজি হননি। তাঁরা দুজনেই নিজেদের অভিনয় প্রতিভা চেনাতে সিদ্ধান্ত নিলেন যে আর একসঙ্গে কোনো ছবিতে অভিনয় করবেন না।
ফলে পরিচালকরা বেশ বিপাকে পড়ে যান, কারণ ওই সময় মৌসুমী ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সব অভিনেত্রীই ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে সালমানের সিনিয়র, যাঁরা তখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। বিশেষ করে চম্পা ও দিতি। এঁদের সঙ্গে জুটি করেও লাভ হবে না। মৌসুমীবিহীন সালমান হয়ে পড়েন একা।
প্রয়াত অভিনেতা ও পরিচালক জহিরুল হক তখন সিদ্ধান্ত নেন, ইন্ডাস্ট্রির আরেক নতুন মুখ ‘শাবনূর’কে দিয়ে সালমানের সঙ্গে ছবি বানাবেন। ‘তুমি আমার’ ছবিটি সালমান শাহ ও শাবনূর জুটির প্রথম কাজ। এই ছবির সাফল্যের পরপরই পরিচালক জহিরুল হক সালমান-শাবনূর জুটিকে নিয়ে সত্তরের দশকের খান আতাউর রহমানের সুপারহিট ছবি ‘সুজন সখী’র (ফারুক-কবরী) রিমেক বানানোর ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীকালে তিনি শেষ করে যেতে পারেননি।
ছবিটির শুটিং শুরু করার পরপরই পরিচালক জহিরুল হক মৃত্যুবরণ করেন, যার ফলে ছবিটির কাজ থেমে যায়। পরে পরিচালক তমিজ উদ্দিন রিজভী ছবিটির কাজ শেষ করে পরিচালক জহিরুল হকের নাম দিয়েই ছবিটি মুক্তি দেন।
মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে প্রয়াত সালমান যেসব খ্যাতিমান ও গুণী পরিচালকের ছবিতে কাজ করেছিলেন তাঁদের নাম ও ছবির তালিকা—সোহানুর রহমান সোহান (কেয়ামত থেকে কেয়ামত), শিবলী সাদিক (অন্তরে অন্তরে, আনন্দ অশ্র“, মায়ের অধিকার), জহিরুল হক (তুমি আমার, সুজন সখী), গাজী মাজহারুল আনোয়ার (স্নেহ), শফি বিক্রমপুরী (দেনমোহর), দিলীপ সোম (মহামিলন), এম এম সরকার (চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেমপিয়াসী), বাদল খন্দকার (স্বপ্নের পৃথিবী), হাফিজউদ্দিন (আঞ্জুমান), দেলোয়ার জাহান ঝন্টু (কন্যাদান), মালেক আফসারী (এই ঘর এই সংসার), এম এ খালেক ( স্বপ্নের পৃথিবী), জীবন রহমান (প্রেমযুদ্ধ), মোহাম্মদ হাননান (বিক্ষোভ), মোহাম্মদ হোসেন (প্রিয়জন), মতিন রহমান (তোমাকে চাই), শাহ আলম কিরণ (বিচার হবে), জাকির হোসেন রাজু (জীবন সংসার), তমিজ উদ্দিন রিজভী (আশা ভালোবাসা) ।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়ার অপসারণ দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছে সরকার সমর্থক শিক্ষকদের একাংশ। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ও উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি শেষে এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।
গত ১২ এপ্রিল শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে সরকার সমর্থিত শিক্ষকদের একাংশ। পরে তাঁরা ভিসির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করেন।
এদিকে, ভিসির পক্ষের শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কিছু মাত্রা চলছে।
পাবনার আটঘরিয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ভরতপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম খান সালাউদ্দিন (২৪)। তিনি চাঁদভা ইউনিয়নের ভরতপুর খাঁ পাড়া গ্রামের কেএম মেহেদী হাসান খানের ছেলে। আটঘরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যুবকের বাবা-মা বেঁচে নেই। ভরতপুর গ্রামে দাদা সেকেন্দার আলী খানের (স্থানীয় পীর) বাড়িতে থাকতেন তিনি। সকাল ৮ দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা দরজা খুলে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি।
নিউজ ডেস্ক : গিনেস বুকে নাম উঠানো বিশ্বের সবচেয়ে খাটো ব্যক্তি চন্দ্র বাহাদুর ডাঙ্গি ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামোয়ায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।
পাগো পাগো’র লিন্ডন বি. জনসন ট্রপিকাল মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তবে কোন রোগে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানানো হয়নি।
নেপালের নাগরিক চন্দ্র বাহাদুরের উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৫ ইঞ্চি। দেশটির রাজধানী কাঠমাণ্ডু থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে একটি প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করতেন তিনি।
২০১৩ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে বিশ্বের সবচেয়ে খাটো ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ছবি তোলার জন্য বিদেশ ভ্রমণে বের হন তিনি। একই বছর বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি সুলতান কোসেনের সঙ্গে ছবি তোলেন চন্দ্র বাহাদুর।
ঢাকা: বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কনজুমারস অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ক্যাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।
শামসুল আলম বলেন, সরকার সম্পুর্ণ অযৌক্তিক ও বেআইনিভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। আমরা প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টাকে দাম কমানোর জন্য খোলা চিঠি দিয়েছি। তাতে কোন সাড়া পাইনি। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আবেদন করব। বিইআরসি যদি দাম না কমায় তাহলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে।
ক্যাবের এই উপদেষ্টা বলেন, এর আগেও একবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো। তখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে স্থগিত করা হয়। ক্যাব আশা করছে এবারও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বেআইনিভাবে দাম বাড়ানোর এই আদেশ প্রত্যাহার করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি প্রতিবারেই বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। গত ২৭ আগস্ট যখন দাম বাড়ানো হয় তার আগের দিনও বিইআরসি জানত না, এমন তথ্য দিয়ে এই ক্যাব উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি উপদেষ্টা বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক করেন, আর তার পরদিনই দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে।
বিইআরসির অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে, এমন মত দিয়ে তিনি বলেন, এতে ক্যাব হতাশ ও উদ্বিগ্ন। শামসুল আলম বলেন, গ্যাস খাত আগে থেকেই মুনাফায় রয়েছে। বিইআরসির আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। কোন কোম্পানি যদি মুনাফায় থাকে তাহলে কোন অবস্থাতেই তারা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারবে না। কিন্তু তারপর বেআইনি প্রস্তাবগুলো আমলে নিয়েছিলো বিইআরসি।
আমরা তখনই বিরোধীতা করেছিলাম। কিন্তু তারপরও বিইআরসি দাম বাড়িয়েছে, বলেন শামসুল আলম। বিদ্যুৎ খাতও মুনাফায় যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে থাকার পরেও কৃত্রিমভাবে ঘাটতি দেখানো হচ্ছে বলে মত দেন তিনি। আগে যখনই তেলের দাম বেড়েছে, তখনই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন তেলের দাম কমছে, তাহলে এখন কেন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে? প্রশ্ন শামসুল আলমের। তিনি বলেন, আমরা দাম বাড়ানোর আদেশের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছি।
ক্যাবের সামাজিক আন্দোলনের ধরণ কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুল আলম বলেন, আমরা আগেই বলেছি বেআইনিভাবে দাম বাড়ালে ভোক্তারা বিদ্যুৎ বিল দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যে আইনে বিইআরসি পরিচালিত হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে দাম বাড়ানোর গণশুনানির দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আদেশ দিতে হবে। কিন্তু সাত মাস পরে আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিইআরসি এটা করতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ক্যাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য এম মোসাব্বের হোসেন, ড. শাহনাজ চৌধুরী প্রমুখ।
বিনােদন ডেস্ক: ফিগার ঠিক রাখতে শিল্পা শেঠির পর এবার ইয়োগার ভিডিও করছেন মডেল ও অভিনেত্রী পুনম পান্ডে। তবে মুক্তির আগেই এই ইয়োগার ঝলক দেখালেন পুনম। ইউটিউবে প্রকাশ করল এই ইয়োগা ভিডিওর টিজার। পুনমের শরীর যে অনেকেরই ঈর্ষার কারণ, সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই পুনমের পরামর্শ তার মতো ফিগার পেতে রোজ করো ইয়োগা। সেই কারণেই এই ভিডিও আসছেন তিনি। তবে কাউন্ডডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে আজ ৫ সেপ্টেম্বর রিলিজ হবে পুনমের সেই ইয়োগা ভিডিও। এদিকে বলিউডে তৈরি হচ্ছে হেলেনের বায়োপিক, যেখানে হেলেন নাম ভূমিকায় দেখা যাবে পুনমকে।
বিনোদন ডেস্ক: ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তির ৫০ দিন পূর্ণ করলো কবির খানের পরিচালনায় চলতি বছরে বলিউডে ইতিহাস সৃষ্টি করা সুপারস্টার সালমান খানের ছবি ‘বাজরাঙ্গি ভাইচজান’। মুক্তির সাত সপ্তাহেও ছবিটি দুর্দান্ত দাপট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
জানা গেছে, স্বগৌরবে মুক্তির পঞ্চাশতম দিন অতিবাহিত করলো ‘দাবাঙ্গ’ খ্যাত অভিনেতা সালমান খান ও কারিনা কাপুর অভিনীত ছবি ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’। শূধু তাই না, ছবিটি মুক্তির সপ্তম সপ্তাহে এসেও আয় করেছে ৭২ লাখ রূপি; যা কিনা বলিউডের নতুন কোনো মুক্তি পাওয়া টাটকা ছবিও প্রথম সপ্তাহে আয় করতে ব্যর্থ। এদিক থেকে বলা যায়, পুরো দাপট নিয়েই বাজরাঙ্গি ভাইজান এগিয়ে যাচ্ছে তার চূড়ান্ত লক্ষে। যদিও এরইমধ্যে বলিউডের ইতিহাসে অলটাইম হিটের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ছবিটি।
‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’-এর পঞ্চাশতম দিনে ট্রেড অ্যানালিস্ট তারান আদর্শ টুইট করে বলেন, সপ্তম সপ্তাহে এসেও ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ আয় করেছে ৭২ লাখ রুপি। আর এ পযৃন্ত শুধুমাত্র ভারতেই ছবিটি আয় করেছে ৩২০.৩৪ কোটি রুপি।
পাকিস্তানের একটি ছোট্ট মেয়ে ভারতে হারিয়ে যাওয়া এবং তাকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’-এর কাহিনী গড়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সুপারস্টার অভিনেতা সালমান খান ছাড়াও ছবিটিতে অভিনয় করেছেন কারিনা কাপুর, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী এবং ছোট্ট পাকিস্তানি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে ভারতীয় ছবির দর্শকদের আবেগে ভাসিয়েছেন হারশালি মালহোত্রা।
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন শাম্মী আক্তার সুমি (৩০)। প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স পাস করেন। ছিলেন নাট্যকর্মীও। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন কর্মজীবনে। অংকন শেখানোর পাশাপাশি সুমি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছিলেন। তবে স্বামীর কথায় সেই ব্যবসা গুটিয়ে যোগ দেন শিক্ষকতায়। চাকরি নেন মিরপুরের মনিপুর স্কুলের অংকন শিক্ষিকা হিসেবে। ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন সহপাঠী হাবিবুর রহমান সুমনকে (৩০)। তাকে নিয়ে সুখের সংসার শুরু করেছিলেন প্রাণবন্ত মেয়ে সুমি। তবে সেই স্বপ্নের সংসারেই প্রাণ দিতে হলো তাকে! অপরাধ ছিল একটাই- সুমির গায়ের রঙ কালো। স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই সুমিকে শোনাতো সেই কথা। গলাটিপে হত্যা করে তার মা হওয়ার স্বপ্নকে। একে একে চার বার সুমির গর্ভের সন্তান নষ্ট করেছিল পাষণ্ড স্বামী। জড়িয়ে পড়ে আরেক নারীর সঙ্গে পরোকিয়া সম্পর্কে। শেষ পর্যন্ত সুমিকে ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণাই দেয় স্বামী সুমন। এই মানসিক অত্যাচার থেকে বাঁচতে শেষে নিজেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুমি।
রাজধানীর মিরপুরে মনিরপুর স্কুলের শিক্ষিকা সুমির রহস্যঘেরা মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। সুমির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ডায়েরিতে মিলেছে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অনেক আলামত। গত ৫ জুলাই মনিপুরের ভাড়া বাসা থেকে সুমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই সুমির বড় বোন সেলিনা বেগম মিরপুর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৫ জুলাই সুমনকে দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে গত দুই মাসেও শেষ হয়নি চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকাজ। এখনো পাওয়া যায়নি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট।
সুমির স্বজনরা অভিযোগ করছেন, সুমন ও তার পরিবারের লোকজনের মানসিক নির্যাতনে সুমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। তার এই মৃত্যুর জন্য সুমন স্পষ্টতই দায়ী। তবে আইনজীবীর ছেলে সুমনকে রক্ষা করতে এখন একটি মহল উঠে-পড়ে লেগেছে। আত্মহত্যায় প্ররোচণার অনেক আলামত থাকলেও তদন্তকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলছে। আমরা আসামি গ্রেপ্তার করেছি। তবে এখনো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘আত্মহত্যার প্ররোচণার তেমন কোনো আলামত আমরা পাইনি। তবে বাসার মেইন গেটটি বাইরে থেকে বন্ধ ছিল।’
সুমির বড় ভাই সোবহান বাচ্চু বলেন, ‘সুমনের সঙ্গে সুমির অশান্তি শুরুর বিষয়টি সুমনের পরিবারও খুব ভালভাবেই জানতেন। এক বন্ধুর সঙ্গে ফেসবুক চ্যাটিংয়ে এ নিয়ে সুমির দীর্ঘ আলোচনার স্ক্রিন শটও আছে। সুমনের পরকীয়ার তথ্যও আছে। সুমনের মা সুমির বোন সুখির কাছে ঘটনার দিনও বলেছেন, সুমি তাকে বলেছে ‘আমি তাহলে আপনাদের ছেড়ে চলেই যাই। আমাকে বরিশাল পৌঁছে দিয়েন।’
বাচ্চু আরো বলেন, ‘সুমিকে চার বার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া সুমনের টিনটিন নামে একজন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড বিমর্ষ থাকতো সুমি। এ নিয়ে বন্ধুদের কাছে অনেক আক্ষেপ করেছে।’
তিনি বলেন, সুমন ও তার স্বজনরা বলত- সুমনের বেবি প্রয়োজন হলে কোথাও থেকে ফর্সা ও স্বাস্থ্যবান বেবি দত্তক নেবে। সুমির গর্ভের সম্ভাব্য কালো ও রোগা বেবি তাদের দরকার নেই।
তবে সুমনের বাবা আইনজীবী আব্দুল মান্নান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সুমিকে কালো বলা বা তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করা, এসব কিছুই আমরা করিনি। আর সুমনের কোন পরকীয়া নেই। সুমি অনেক জেদি মেয়ে ছিল। সেই ধরনের কোন জেদ থেকেই আত্মহত্যা করতে পারে।’

এদিকে সুমির ফেসবুক ও ডায়েরিতে অনেক মর্মস্পর্শী আলামত পাওয়া গেছে। ফারহানা নাসরিন স্বাতী নামের একজনের সঙ্গে চ্যাটিং স্ক্রিন শটে সুমি লিখেছেন, ‘তোর ভাইয়ের প্রেম হয়েছে টিনটিন নামের এক মেয়ের সাথে…এটা নিয়ে ঝামেলা।’ গত বছরের ২১ জুলাইয়ের ওই চ্যাটিংয়ে দেখা গেছে, সুমি আরও লিখেছেন, ‘গত দুই মাস ধরে আমাদের প্রবলেম চলছে, কাল ওই মেয়ের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে বেড়ায়, ডিনার করে বাড়ি আসেনি, ফোনও বন্ধ রাখছে।’
গত ৩০ মার্চ একই ব্যক্তির সঙ্গে চ্যাটিংয়ে সুমি এও লিখেছেন, ‘আমি বোধহয় আর পারব না তোর ভাইয়ের সঙ্গে থাকতে, সেও থাকতে চায় না’। নোটবুকে সুমি লিখেছেন, ‘…আমি নিজেকে এক জড়বস্তুর স্থানে নিয়ে এসেছি সুমনের জীবনে। আমি প্রবলেম ছাড়া আর কিছুই ছিলাম না ওর জীবনে এটা এতদিনে বুঝতে পারলাম। কষ্টে বুকটা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে…।’ মা হওয়ার তীব্র ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘মা হতে চাই আমি…কি হাস্যকর এইসব ভাবি আমি…আমার যে কখনো মা হওয়া হবে না…’। লেখায় সুমি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বহুবার এমআর করানোর ফলে বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্বজনরা জানান, চার বছর আগে ২০১১ সালে তাদের সুমি ও সুমনের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনার আগেই কোচিং সেন্টারে ক্লাস করার সময় থেকে ২০০৩ সালে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুমির বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। আর সুমনের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির পূজারভাঙ্গায়। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সুমন বড়। ছোট ভাই সুজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কমর্রত। আর বোন মুনিরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিক। ৩ ভাই ৪ বোনের মধ্যে সুমি সবার ছোট। সুমি চারুকলা থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স এবং সুমন অনার্স পাস করেন। সুমি লেখাপড়া শেষে রাজধানীর নাখালপাড়া এলাকায় পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন। তবে সুমনের কথায় মিরপুরে চলে যান। চাকরি নেন মনিপুর স্কুলে।
ঢাকা: সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীকে (৭০)। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে সেখানে নেওয়া হবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বেলা ১১টার পর এ জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছি। এখান থেকে বিমান বন্দর নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন মন্ত্রী। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। সঙ্গে স্ত্রী ও ছোট মেয়ে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম। মহসিন আলীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকাল পৌনে দশটার কিছু আগে সিঙ্গাপুর থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা পৌঁছে।
এর আগেও বাইপাস সার্জারি হয়েছে সৈয়দ মহসিন আলীর। এছাড়াও তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
শুভ জন্মাষ্টমী। মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। জন্মাষ্টমী বা কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। এর অপর নাম কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়। শাস্ত্রীয় বিবরণ, জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী ৩২২৮ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংশের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। তিনি বাসুদেব ও দেবকীর অষ্টম পুত্র। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দেবকীর দাদা কংস, তাদের পিতা উগ্রসেনকে বন্দি করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। একটি দৈববাণীর মাধ্যমে কংস জানতে পারেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের হাতে তার মৃত্যু হবে। কংস এই দৈববাণী শুনে দেবকী ও বসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের প্রথম ছয় পুত্রকে হত্যা করেন। দেবকী তার সপ্তম গর্ভ রোহিণীকে প্রদান করলে, বলরামের জন্ম হয়। এরপরই শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। কৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে প্রমাদ গুনেন বসুদেব ও দেবকী। জন্মরাত্রেই দৈব সহায়তায় কারাগার থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে বসুদেব তাকে গোকুলে তার পালক মাতাপিতা যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন। 
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মনুষ্য সমাজে যখন হানাহানি, রক্তপাত, সংঘর্ষ, রাজ্য লোভে রাজন্যবর্গের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ পরিস্থিতি বর্তমান, ঠিক সেই সৃষ্টি স্থিতি-প্রলয়ের যুগ সন্ধিক্ষণে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব অনিবার্য হয়ে পড়ে। ঘোর অমানিশার অন্ধকারে জন্মগ্রহণ করায় কৃষ্ণের গায়ের রং শ্যামল, অন্য অর্থে ধূসর, পীত, কিংবা কালো। শ্রী কৃষ্ণের জীবনী পাঠ ও কর্মকাণ্ড মানব সমাজকে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে বিশ্ব সমাজকে আবদ্ধ করার শিক্ষা দেয়। চলার পথের পাথেয় হিসেবে তার দর্শন ও প্রেমের বাণী মানবসমাজে চলার পথে পালন করে অনন্য ভূমিকা। শুধু দুষ্টের দমনই নয়, এক শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন তথা জন্মাষ্টমী নিয়ে আসে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এক শুভ আনন্দময় বার্তা। শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য। মানুষে মানুষে বিভেদ ও বৈষম্য অবসানে শ্রী কৃষ্ণের আদর্শ অনুকরণীয়। নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষকে রক্ষায় তিনি পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অন্ধকার সরিয়ে আলোয় আলোয় ভরিয়ে তোলেন পৃথিবীকে। নানা লীলার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে প্রকাশিত করেন, একদিকে দুষ্টের দমনে তার কঠোর রূপ, অন্যদিকে প্রেমের মূর্ত প্রকাশ গোটা মানবজাতিকে শান্তি ও সত্যের পথ দেখায়। জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় উৎসব। এক সময় ঢাকাবাসী এ উৎসব পালন করলেও এখন তা সর্বত্র আনন্দ, উৎসব ও আড়ম্বরভাবে পালন করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন এ দিনে উপাবাসে সপ্ত জন্মকৃত পাপ বিনষ্ট হয়। আর তাই এ দিনটিতে তারা উপবাস করে লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পূজার্চ্চনা, আরাধানা, জন্মাষ্টমীর মিছিল, শোভাযাত্রা ইত্যাদি।
এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন পালিত হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি এবারও জন্মাষ্টমী উদযাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে দুদিনের কর্মসূচি পালন করবে। এ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার দেব, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক নারায়ন সাহা মনিসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, আজ সকালে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ঐতিহ্যবাহী গীতাযজ্ঞ, বিকালে ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা এবং রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের শোভাযাত্রা আরও নতুন আঙ্গিকে এবং সমৃদ্ধ দৃশ্যপটে আয়োজিত হবে বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিকালে বিশাল শোভাযাত্রা ঐতিহ্যগতভাবে ঢাকেশ্বরী-পলাশীর মোড়, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, শহীদ নূর হোসেন স্কোয়ার, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায় সাহেব বাজার পেরিয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। ১১ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মতবিনিময় সভায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ দশকের অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভের পাশাপাশি, সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন বন্ধ, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার, যথাযথ জাতীয় মর্যাদায় জন্মাষ্টমী পালন, এ উপলক্ষে বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রধান প্রধান সরকারি ভবন আলোকসজ্জিতকরণ, প্রধান প্রধান সড়কে জাতীয় পতাকা ও শুভেচ্ছা বাণী সজ্জিতকরণসহ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কারাগার, হাসপাতাল, অনাথ আশ্রম-এতিমখানায় সবার জন্য উন্নত খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।