May 7, 2026
আরিফুর রহমান : ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গর্ব করলেও এর সামান্যই ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। যেমন যানজট কমাতে পারে ইন্টারনেট। কিন্তু তা কিভাবে? বিবিসি বাংলাকে এ প্রসঙ্গে বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেছেন, আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে যাতে বিস্তৃতি লাভ করে এর জন্য এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। যেমন ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে যে সুযোগ সুবিধাগুলো দেশে হওয়া উচিত তা কিন্তু হচ্ছে না।

ইন্টারনেট ব্যবহারে যানজট কমতে পারে। এব্যাপারে তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে ঢাকা শহরের যানজট কমেনি। অথচ মোবাইল ব্যাংকিং এবং অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ যে সব ক্ষেত্রে মানুষের অধিক পরিমাণে যাতায়াতের প্রয়োজন হয় সে ধরনের কাজ ইন্টারনেট’এর মাধ্যমে করা গেলে মানুষের যাতায়াত অতটা প্রয়োজন পড়বে না। এর প্রত্যক্ষ ফর পড়বে যানজট হ্রাসের পক্ষেই। কারণ ইন্টারনেটে যে কাজ ঘরে বসে করা যায় মানুষ সে কাজের জন্যে পয়সা ও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে ঘরের বাইরে রাস্তায় বের হবে না। ইন্টারনেটের এমন বিবিধ ব্যবহার সম্ভব হলে যাতায়াত অনেকটাই কমে যেত কিন্তু সেটা হয়নি।
তিনি বলেন, অনেকেই বলে থাকেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যারা বেশির ভাগ সময় তরুণ তারা যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ইন্টারনেট শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, নিজের কাজকে সহজ করে তোলার জন্যেও।
সারা দেশে মানুষের কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেবার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে কিন্তু সঠিকভাবে কি ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে, বিবিসি বাংলার এ প্রশ্নের জবাবে ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, আমার মনে হয় সেটা হচ্ছে না। আমরা ভৌত অবকাঠামো তৈরি করে চলেছি একদম গ্রাম-গ্রামান্তর পর্যন্ত। কিন্তু এই ভৌত অবকাঠামো ব্যবহার করে ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করার জন্য মানুষের মধ্যে যে ধরনের উৎসাহ, আগ্রহ কিংবা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা সেখানে মনে হয় ঘাটতি আছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের মানটা কোন পর্যায়ে আছে সে প্রসঙ্গে ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, আমাদের দেশ সীমিত সম্পদের দেশ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যথেষ্ট বরাদ্দ পায়না। আমাদের লাইব্রেরীর সুবিধা, গবেষণার সুবিধার ঘাটতি আছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারতাম তাহলে আমাদের ছেলে মেয়েরা ইন্টারনেটে যে বড় সংগ্রহশালা রয়েছে তার থেকে উপকৃত হতে পারত। এজন্য আমি মনে করি বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সেবা আরও বেশি করে দেয়া উচিত, তাহলে সেটা কার্যকর হত।
ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্যে বাংলাদেশের মানুষের যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় সেটা কতটা সংগতিপূর্ণ এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কায়কোবাদ বলেন, বেশিরভাগ মানুষ ইন্টারনেট সেবা নিয়ে থাকে মোবাইল, টেলিফোন’ এর মাধ্যমে। আমাদের মত সীমিত সম্পদের দেশে মানুষের যে আয় তা দিয়ে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট খুব সহজে ব্যবহার করতে পারেনা। তবে এটা মনে রাখতে হবে আমাদের মত দেশে ইন্টারনেটকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। ইন্টারনেট আমাদের কল্যাণে দেশের কল্যাণে ব্যবহার করি সেটা সরকারের মাথায় থাকতে হবে।
উল্লেখ্য বাংলাদেশে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইন্টারনেট সপ্তাহ ২০১৫। ৫ থেকে ১১ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি বিভাগীয় শহর ঢাকা,সিলেট ও রাজশাহীতে বড় প্রদর্শনী হবে।
শরণার্থীদের জন্য দরজা খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রিয়া। দেশটির সরকার বলছে, শরণার্থী ও অভিবাসীরা সেদেশে থাকতে পারবে বা চাইলে জার্মানিতেও যেতে পারবে।
এই ঘোষণার পর, অভিবাসীদের অস্ট্রিয়া সীমান্তে পৌঁছে দিতে বাস সেবা চালু করেছে হাঙ্গেরি। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই শরণার্থী আর অভিবাসীদের অস্ট্রিয়া সীমান্তে পৌঁছে দিতে শুরু করেছে হাঙ্গেরি সরকারের তত্ত্বাবধানে বিশেষ বাসগুলো।
এর আগে মরিয়া শরণার্থীরা পুলিশের লাইন ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে, পায়ে হেটেই প্রধান সড়ক ধরে অস্ট্রিয়ার দিকে হাটতে শুরু করে।
অভিবাসীদের গ্রহণ করতে অস্ট্রিয়া প্রস্তুত বলে, সেদেশের সরকারের একজন মুখপাত্র ঘোষণা দেয়ার পরপরই হাঙ্গেরি ঘোষণা দেয় যে, তারা শরণার্থীদের সীমান্তে পৌঁছে দেবে।
বুদাপেস্টে রেলস্টেশনে অপেক্ষা এবং পুলিশের সাথে একটানা কয়েকদিন মুখোমুখি অবস্থানের পরও অস্ট্রিয়া বা জার্মানি যাবার অনুমতি পাননি এই শরণার্থীরা। বরং তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন করানোর চেষ্টা করছিলো কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু কর্তৃপক্ষের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে, নিজেদের নাম নিবন্ধনের তোয়াক্কা না করেই তারা পায়ে হেটেই অস্ট্রিয়া সীমান্তের দিকে রওয়ানা দিয়েছে।
এদের একজন বিবিসিকে বলেছেন, সীমান্তে না পৌছা পর্যন্ত তারা হাঁটতে থাকবেন।
এদিকে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া, ইরান ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্য থেকে ইউরোপের প্রত্যেক দেশকেই সর্বোচ্চ দুইলাখ অভিবাসীকে স্থান দেয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা।
কিন্তু বাধ্যতামূলকভাবে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে রাজি নয় মধ্য ইউরোপের দেশগুলো। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিকান, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি। যদিও ওই প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় কমিশন।
রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর পাংশায় ডাকাতি মামলার দুই আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।পাংশা থানার ওসি আবু সামা মো. ইকবাল হায়াৎ বলছেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার পূর্ব পাট্টা বিলবিহারী গ্রামে গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর খাঁ (৩৫) পাংশা থানার মৌরাট ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের জালাল খাঁর ছেলে। আর কামাল হোসেনের (৪৭) বাড়ি ওই থানার কসবাজাইল ইউনিয়নের শান্তিখোলা গ্রামে; বাবার নাম জিয়ারত মণ্ডল।
এর মধ্যে ওমর খাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি, খুনসহ বিভিন্ন অভিযোগে চারটি এবং কামালের বিরুদ্ধে পাংশা থানার সাবেক ওসি মিজানুর রহমান হত্যাসহ ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, রাতে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পূর্ব পাট্টা বিলবিহারী গ্রামের একটি মেহেগণি বাগানে অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ।
“সেখানে উপস্থিত ডাকাতদের সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ডাকাতদের সহযোগীরা পালিয়ে গেলে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।” গুলিবিদ্ধ ওমর ও কামালকে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি। তার দাবি, এই অভিযানে তিনি নিজে ও চার পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ওয়ানশুটার গান, একটি একনলা বন্দুক ও পাঁচটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তিবিশ্বে এক প্রতিষ্ঠানের অন্য প্রতিষ্ঠানকে কিনে নেওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। নতুন নতুন স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেক জায়ান্টদের কিনে নেওয়া তো হরহামেশাই ঘটে যাচ্ছে। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক নানা দিকের কারণে অনেক সময় বড় বড় কোম্পানিগুলোও বিক্রি হয়ে যায় অন্য কোনো কোম্পানির কাছে। মটোরোলা এবং নকিয়া যার বড় প্রমাণ। তবে খুব বেশি চাপে না থেকেও কোনো কোম্পানির নিজে থেকেই বিক্রি হয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করার ঘটনা একটু বিরল বটে। তেমনটিই ঘটলো বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পিসি নির্মাতা তাইওয়ানের এসারের বেলায়। এসারের প্রতিষ্ঠাতা স্ট্যান শিহ জানিয়েছেন, এসারকে কোনো কোম্পানি কিনে নিতে চাইলে তাতে আপত্তি নেই এসারের। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আগ্রহী কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ হয়নি এসারের। আগ্রহীদের এসার কিনে নিতে বড় অংকের অর্থ খরচ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন স্ট্যান শিহ।
ক্রমেই পিসি বাজার অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠায় অনেক পিসি নির্মাতাই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না। কিছুদিন আগে আরেক পিসি নির্মাতা ডেলের বিক্রি হয়ে যাওয়ার আলোচনাও সাড়া ফেলেছিল প্রযুক্তিবিশ্বে। এসারের বিক্রি হয়ে যাওয়ার অনাপত্তির সংবাদও তেমনি সাড়া ফেলেছে। এর পেছনে অবশ্য ভূমিকা রেখেছে এসারের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি। চলতি বছরের জুলাই মাসে এসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এসারের পিসি বিক্রি কমে গেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। আবার চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গার্টনারের হিসাবে পঞ্চম স্থানে থাকা এই পিসি নির্মাতার দখলে ছিল পিসির ৬.৭ শতাংশ বাজার। গার্টনার জানাচ্ছে, আগের বছর একই সময়ে এসারের দখলে ছিল ৭.৬ শতাংশ বাজার। ফলে এসারের পড়তি অবস্থার কথা সহজেই অনুমেয়। এর প্রভাব পড়েছে তাদের রাজস্ব আয়েও। এই বছরের প্রথম ছয় মাসেই এসারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৮৯ কোটি তাইওয়ানিজ ডলার (প্রায় ৯ কোটি মার্কিন ডলার)। এই সময়ের রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম। কাজেই নিজেদের বিক্রি হওয়ার প্রস্তাবে এসারের আপত্তি না থাকার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পাচ্ছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
তবে স্ট্যান শিহ এসারের বিক্রির সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনাপত্তি জানালেও এসার যে শীঘ্রই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি তা নাও হতে পারে। শিহ’র বক্তব্যের পরেও এসারকে কিনে নিতে আগ্রহী কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম না পাওয়াই তার প্রমাণ দেয়। পিসির এই পড়তি সময়ে নাজুক অবস্থায় থাকা এসারকে কিনতে তেমন কেউ আগ্রহী হবে না বলেও মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
নিইজ ডেস্ক: সৌদি আরবে জ্বালানি তেলের দাম এখন পানির চেয়েও কম। ১ লিটার বোতলজাত ফিল্টার পানি আরবে বিক্রি হয় ১ রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ টাকায়। আর পেট্রল বিক্রি হয় প্রতি লিটার ১১ টাকায়। ১ লিটার কেরোসিনের দাম এ দেশে সাড়ে ৫ টাকা। পৃথিবীর ৫০ শতাংশ তেলের মজুদ উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলোর মধ্যে এই সৌদি আরবে। তেল বিক্রি করে এ দেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে।
১৯৩০-এর দশকে তেল উত্তোলন শুরু করে দেশটি। পাশাপাশি হাতের নাগালে রেখেছে গাড়ির দামও। ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার রিয়ালে (১ রিয়াল ২২ বাংলাদেশি টাকা) চলনসই গাড়ি কেনা যায় আরব উপসাগরের এই দেশে। এ দেশে ১ লিটার বোতলজাত দুধ কিনতে পাওয়া যায় ২২ টাকায়। তায়েফের বাসিন্দা ইসমাইল খন্দকার জানান, তিনি তিন মাস আগে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮২ হাজার টাকায় জাপানের তৈরি টয়োটা স্টারলেট কার কিনেছেন। অবসর সময়ে ভাড়ায় খেটে বাড়তি আয় করতে পারছেন। এ দেশে সীমিত পরিসরে পাবলিক বাস সার্ভিস আছে বটে। কিন্তু সেটাও বেশ জনপ্রিয়। সৌদি আরবের গণযান বলতে বোঝায় ব্যক্তিগত প্রাইভেট গাড়ি। আরও আছে ভাড়ায় ট্যাক্সি সার্ভিস। তবে ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে গাড়ি ভাড়া নিয়ে নিজেই ড্রাইভ করা যায় এখানে। তবে লাইসেন্সটা হতে হবে এ-দেশীয়। আর এ-দেশীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া মানে ড্রাইভিং স্কুলে ভর্তি। প্রতিদিন ১৫ রিয়ালে ১ ঘণ্টা করে ২২ ঘণ্টার কোর্স। প্রতি জনের জন্য পৃথক শিক্ষক। কোর্স শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে হয়। সে পরীক্ষায় পাস করাটা খুব একটা সহজও নয়। বাংলাদেশে আমরা গাড়ির ডান দিকে স্টিয়ারিং দেখতে অভ্যন্ত হলেও এখানকার গাড়িগুলোর স্টিয়ারিং বামে। গাড়ি চলে রাস্তার ডান দিক ঘেঁষে। সবকিছু নিয়মের মধ্যে এমনভাবে বাঁধা যে, ট্রাফিক পুলিশের দরকার হয় না। সিগন্যাল দেখেই যান চলাচল করে এখানে। সবাই নিজের কাঁধেই তুলে নেন ট্রাফিক রুলস মেনে চলার দায়িত্ব। শহর এলাকায় কোনো পথচারীকে রাস্তা পার হতে দেখলে আপনাতেই চালক গাড়ি থামিয়ে দেন। কদাচিৎ শোনা যায় হর্নের শব্দ। বাংলাদেশের রাস্তায় এমন নিয়ম প্রতিষ্ঠা হতে কত সময় লাগবে কে জানে! এ ছাড়া মক্কা শহরের বাঙালি গলির আশপাশের রাস্তাগুলো অনেকটা পুরনো ঢাকার রূপ নিলেও শৃঙ্খলার ব্যত্যয় চোখে পড়ল না কোথাও।এ অংশে পিচঢালা রাস্তা কম। ছোট ছোট ইটের সুন্দর গাঁথুনিতে এগুলোকে রাস্তা নয়, বাড়ির লন ভাবতেই ভালো লাগে। মার্কেটগুলোর পার্কিং লট মূল মার্কেটেরই সমান। তবে সেখানে ভাড়া গুনতে হবে ঘণ্টা হিসাবে। নতুন শহর আর হাইওয়ের অধিকাংশ সড়ক চার লেনের। লেন বিভক্তকারী চিহ্ন হিসেবে এখানে সাদা রঙের ব্যবহার করা হয়নি। বসানো হয়েছে ইস্পাতের ছোট ছোট চাকতি। লেন পরিবর্তনের সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে সেগুলোর ঘষা বেশ টের পাওয়া যায়। প্রশস্ত রোড ডিভাইডারগুলোয় খেজুর গাছের সারি। বিদেশি গাছ লাগানোর প্রবণতা কমই চোখে পড়ে। আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঝোলানো সবুজ বোর্ডের সাদা নির্দেশক জানিয়ে দেয় গন্তব্যের দিশা। জনে জনে জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই। রোড সাইন দেখেই গন্তব্যে যেতে পারবেন যে কোনো যান চালক।
বাঁশ সংগ্রহ করতে রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সাজেকের বনে গিয়েছিলেন কালাচান চাকমা। সেটি এক বছরের বেশি আগের ঘটনা। বনে বাঁশ খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বন্য প্রাণীর দুটি বাচ্চা দেখতে পান কালাচান। এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলেন, দূরে মরে পড়ে আছে একটি ভালুক। মৃত মা-ভালুকের বাচ্চা দুটি তখনো জীবিত। তাদের নিয়ে কালাচান এলেন বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যার তুলাবানে, তাঁর বাড়িতে। পরে একটি বাচ্চা মারা যায়। আরেক বাচ্চাকে এরপর থেকে লালনপালন শুরু করেন কালাচান। নাম দেওয়া হয় তার ‘হিরো’। বছর খানেক পরে সেই ভালুক-শিশু হিরো গায়েগতরে অনেকটাই বেড়ে উঠেছে। বনের এই প্রাণীকে আর ঘরে রাখা সম্ভব নয় বুঝে বন বিভাগকে খবর দিয়েছেন কালাচান। আজ শুক্রবার বন বিভাগ তাকে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে বিপন্ন প্রজাতির এই ভালুক (এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার) পাওয়ার সংবাদে পরিবেশবাদী এবং বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ এক বড় খুশির খবর।
হিরোর বয়স এখন এক বছর দুই মাস। জুমচাষি কালাচান জানান, হিরোকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর শিশুর মতোই লালনপালন করেছেন। দুধ খেতে দিয়েছেন। তবে মানুষকে যাতে ক্ষতি না করে, এর জন্য সব সময় বেঁধে রেখেছেন দড়ি বা শিকলে। এখন দৈনিক তিনবেলা খাবার দিতে হয়। ভাত, ফল ও বিভিন্ন সবজি রান্না করে খাওয়ানো হয় বলে তিনি জানান।
এখন পরিবারের সদস্যই হয়ে গেছে হিরো। কালাচান বলছিলেন, ‘আমাকে এবং আমাদের পরিবারের সদস্যদের দেখলে চিনতে পারে। তবে আমাদের বাইরে কাউকে দেখলেই সে তেড়ে আসে।’
দিন দিন বড় হচ্ছে হিরো। আরও বড় হলে তাকে আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আর ওর খাবারের খরচ বহন করাও কৃষক কালাচানের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এসব বিবেচনায় কালাচান ভালুকটিকে ছেড়ে দিতে চান। এ খবর পৌঁছায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়ার কাছে। ওই বিভাগের পক্ষ থেকে বাঘাইছড়িতে পাবলাখালী বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি প্রকল্পের অংশ এটি। মো. জাকারিয়া বলছিলেন, ‘ভালুক পাওয়ার সংবাদ শুনে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করি। তাঁরা ভালুকটি উদ্ধারের আশ্বাস দেন। ভালুকটি যেখানে রাখা হয়েছে, সেখানে উপযুক্ত পরিবেশ নেই। তা ছাড়া বন আইনে বন্য প্রাণী এভাবে রাখা বেআইনি।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল খান জানান, বাংলাদেশ এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার, সান বিয়ার ও স্লোথ বিয়ার—এই তিন প্রজাতির ভালুকের আবাসস্থল। এর মধ্যে স্লোথ বিয়ারের সন্ধান মেলেনি বহুকাল। সান বিয়ারও দুর্লভ। কালেভদ্রে মেলে ব্ল্যাক বিয়ার। এর অস্তিত্বও এখন চরম বিপন্ন। পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা ব্ল্যাক বিয়ারের আবাসস্থল।
মনিরুল খান বলেন, পাহাড়সহ সব জায়গার প্রাকৃতিক বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। তখন এমন এক বিপন্ন প্রাণী পাওয়া সত্যিই খুশির খবর। যে অঞ্চলে তাকে পাওয়া গেছে, সেই অঞ্চলটির সুরক্ষা দরকার।
বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক কাজল তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ভালুকের মালিক স্বেচ্ছায় ভালুকটি বন বিভাগকে দান করবেন। আজ শুক্রবার ভালুকটিকে সেখান থেকে নিয়ে গাজীপুরের সাফারি পার্কে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বন বিভাগ বলছে, সাফারি পার্কে হিরো পাবে তার প্রজাতির কয়েকজনকে। সে জন্যই সেখানে নিয়ে যাওয়া।
ডেস্ক রিপোর্ট : রাত ৯টা ২০ মিনিটে মাছরাঙা টিভিতে প্রচারিত হবে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক দোস্ত দুশমন।
এরই মধ্যে ধারাবাহিকটির ৫০তম পর্ব পেরিয়েছে। এতে অভিনয় করছেন শবনম ফারিয়া। ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় ও ঈদের কাজ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
‘দোস্ত দুশমন’ ৫০তম পর্ব পেরোল। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
বেশ সাড়া পাচ্ছি। এই ধারাবাহিকটি একটু অন্য রকম। কাজ করেও ভালো লাগছে। আমার মনে হয়, এই ধারাবাহিকে তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে আমার জুটিটা মানুষ পছন্দ করেছে। তৌসিফের সঙ্গে প্রথম অভিনয় করেছি অ্যাট এইটিন দৌড়ের ওপর টেলিছবিতে। তারপর বেশ কয়েকটি নাটক, টেলিছবি ও ধারাবাহিকে জুটি হয়ে কাজ করেছি। আমাদের জুটিটা মানুষ পছন্দ করছে। এটাই তো বড় কারণ।
আপনাদের দুজনের ‘রুমডেট’ নাটকটি নিয়ে তো বেশ সমালোচনা হয়েছিল। এটা নিয়ে মন্তব্য কী?
যত দূর জানি, নাটকটির প্রমো দেখার পর সমালোচনা বেশি হয়েছিল। কিন্তু পুরো নাটক দেখার পর সবাই অনেক ইতিবাচক মন্তব্য করেছে। বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের মতো ব্যাপারটা আমার মনে হয় প্রথমবার কেউ নাটকের বিষয়বস্তু হিসেবে নিয়েছে। একই সঙ্গে নাটকটিতে এই প্রজন্মের বাস্তবতা নিয়ে কথা হয়েছে। তাই এটা দেখে যদি একটু পরিবর্তন আসে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
ঈদের কাজের ব্যস্ততা কেমন?
এবারের ঈদে নাটকের একটা লম্বা তালিকা হবে। গত রোববার আবু হায়াত মাহমুদের মেঘের কোলে সূর্য হাসে নামে একটি নাটকে অভিনয় শুরু করেছি। নাটকে আমাকে নাচতে হবে, কিন্তু আমি একদমই নাচতে পারি না। এ জন্য অনেকবার মহড়া করতে হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে আছে।
মাগরিবের ফরয এবং সুন্নাতের পর কমপক্ষে ছয় রাকআত এবং সর্বাপেক্ষা বিশ রাকআত নফলকে আওয়াবীনের নামায বলা হয়। হাদিসে এই ছয় রাকাত আওয়াবীনের ফযিলতের বার বছরের ইবাদত করার সওয়াব অর্জিত হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। অপর এক হাদিসে বিশ রাকআত পাঠ করলে জান্নাতে আল্লাহ তার জন্য একটা ঘর তৈরি করবেন বলা হয়েছে।![]()
এ নামাযটির ব্যাপারে কয়েকটি হাদিস
হযরত হুযাইফা (রা) বলেন “আমি নবীজি (সা)-র কাছে এসে তার সাথে মাগরীবের সালাত আদায় করলাম। তিনি মাগরীবের পরে ইশার সালাত পর্যন্ত নফল সালাতে রত থাকলেন।” সহীহ হাদিস। (ইবনু আবী শাইবা, মুসান্নাফ, নসাঈ, সুনানুল কুবরা)।
অন্য হাদীসে আনাস (রা) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম মাগরীব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে সজাগ থেকে অপেক্ষা করতেন এবং নফল সালাত আদায় করতেন।”
হযরত হাসান বসরী বলতেন, ইশার মধ্যবর্তী সময়ের নামাযও রাতের নামায বা তাহাজ্জুদের নামায বলে গণ্য হবে। (বাইহাকী, আস সুনানুল কুবরা)।
আওয়াবীনের নামাযের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি
অনেকে বলেন, সালাতুদ দুহাই (চাশতের নামায) হল আওয়াবীনের নামায। সুতরাং মাগরিবের পরের নফল নামাযকে আওয়াবীনের নামায বলা ভুল। এবং এই নামাযের কোনো ভিত্তি নেই। তাদের ধারণাটি ভুল।
চাশতকে আওয়াবীনের নামায বলা হলে এ একথা বলাও কি অপরিহার্য যে, মাগরিবের পরের নফল নামাযও আওয়াবীনের নামায হবে না? বা সেটাকে আওয়াবীনের নামায বলা ঠিক হবে না? এটা তো ফজর মাগরিবের মতো ওয়াক্তের সাথে সম্পৃক্ত কোনো নাম নয় যে, এক নাম দুই নামাযের জন্য হতে পারবে না। সালাতুল আওয়াবীনের অর্থ কী? এর অর্থ হল, যারা খুব বেশি আল্লাহমুখী হয় তাদের নামায। তাছাড়া অনেক সাহাবী-তাবেয়ীন থেকে সহীহ সনদে মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময় নফল পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত।
নামাযটি নিয়ে একটি ভুল ধারণা
কারো কারো ধারণা, আওয়াবীনের নামায নির্দিষ্টভাবে ছয় রাকাত। অতএব যদি কেউ আওয়াবীন পড়তে চায় তাহলে তাকে ছয় রাকাতই পড়তে হবে। অন্যথায় পড়বে না। এমন ধারণা অবশ্যই পরিহারযোগ্য। এখানে মাগরিবের পর দুই রাকাত সুন্নতের পর দুই রাকাত, চার রাকাত, ছয় রাকাত যত রাকাত ইচ্ছা কেউ পড়তে পারে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে এমন কোনো রাকাত সংখ্যা নেই যার বিপরীত করাটা গুনাহ বা মাকরূহ! এক হাদীসে তো এসেছে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের পর থেকে ইশা পর্যন্ত নামায পড়েছেন। সহীহ ইবনে খুযাইমা,
নামাযের নিয়ত
আমি দুই রাকাত আওয়াবীনের নিয়ত করছি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের এইদিনে রমনা গ্রিনে এক সম্মেলনের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাগো দল থেকে বিএনপি গঠন করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছরের চড়াই উৎরাইয়ের পথপরিক্রমায় বিএনপি আজ দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল। ১৯ দফা কর্মসূচির আলোকে প্রতিষ্ঠার পাঁচ মাসের মাথায় ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০০টি
আসন লাভ করে। এ দলের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে সেনাবাহিনীর একটি বিপথগামী গ্রুপের হামলায় জিয়াউর রহমান নিহত হন। বিএনপি দেশ শাসন করেছে ১৮ বছর। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। পাঁচ বছরের দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালের অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। ওয়ান-ইলেভেনের পটপরিবর্তনের পর বিএনপিকে বড় ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মুক্তি পেলেও চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য চলে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ২০০৮ এর ৯ম জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছে দলটি। বর্তমানে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও একাধিক মামলার আসামি। নেতাকর্মীদের একাংশ কারাগারে আরেক অংশ আত্মগোপনে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আজ ৩৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতে যাচ্ছে বিএনপি। নানান চড়াই-উৎরাই পার করে ৩৭ বছরে পা রাখায় বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ন্যাশনার ডেমোক্রেটিক পার্টি- এনডিপি।
এদিকে ৫ই জানুয়ারির ‘তামাশা’র নির্বাচনের পর গণতন্ত্র এখন মৃতপ্রায় মন্তব্য করে সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, জনগণের কাছ থেকে ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেয়া মৌলিক-মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন এখন জরুরি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পথ প্রশস্ত করবেন। বিএনপি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়া এক বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জনগণের ক্ষমতায়নে ভূমিকা পালন করার জন্য এদিনে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের যে রাজনীতি তিনি সূচনা করেছিলেন- তা বাকশালীয় একদলীয় রাজনীতি-উত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রে জনগণের কাছে সমাদৃত হয়েছে। তাই এদেশের জনগণ বারবার এ দলকে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিএনপি সর্বদা জনগণের রাজনৈতিক দল হিসেবে সকল জাতীয়-রাজনৈতিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশেও দেশের গণতন্ত্র যতবার বিপন্ন হয়েছে বা গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত এসেছে- বিএনপি সবসময় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরশাসন- গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির চ্যালেঞ্জকে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দেশ ও জনগণের সেবায় বিএনপি আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে ইন্শাআল্লাহ। খালেদা জিয়া বলেন, আজ দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশবিরোধী নানা চুক্তি ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে চলেছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশজুড়ে গণহত্যা. গুম, গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মহোৎসব চলছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করার জন্য নির্লজ্জ দলীয়করণের চূড়ান্ত রূপ দিতে বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কছে ন্যস্ত করার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী করার জন্যই এই আইন পাস করা হয়েছে। এটি পাস হওয়ার ফলে নিপীড়িত মানুষের আইনি প্রতিকার পাওয়ার শেষ ভরসাটুকুও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জনপ্রশাসন আজ্ঞাবহ হওয়ার কারণেই স্থবির হয়ে পড়েছে। যাতে জনমতের প্রতিফলন না ঘটে সেইজন্য গণমাধ্যমের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে জাতীয় সমপ্রচার নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি মূলত এই অবৈধ সরকার কর্তৃক মানুষের বাক, ব্যক্তি ও চিন্তার স্বাধীনতাকেই অপহরণ করা। জনগণের অধিকার আদায়, তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা আবারও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ। খালেদা জিয়া এ দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
কর্মসূচি: বিএনপি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এছাড়া একই দিনে বিকাল ৩টায় কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট কাউন্সিল হলে বিএনপি’র উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র, পোস্টার ও লিফলেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশব্যাপী বিএনপির সব ইউনিটে সকাল ৬টায় দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং স্থানীয় সুবিধানুযায়ী দলের জেলা ও মহানগরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ইউনিটগুলো দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশে মঙ্গলবার থেকে ইন্টারনেট গেটওয়েগুলো প্রতি এমবিপিএস (মেগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাবে ৬২৫ টাকায়, যার মূল্য ছিল ১ হাজার ৬৮ টাকা। তবে এই দাম কমানোর ফলে কোন সুবিধা পাবেন না সাধারণ গ্রাহকেরা। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এই সুবিধা কার্যকর হবে। এই দাম প্রযোজ্য হবে কেবল ১০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ স্ল্যাবের ক্ষেত্রে।
গ্রাহক পর্যায়ে দাম কমানোর বিষয়টি নির্ভর করবে ইন্টারনেট গেটওয়ে ও ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের ওপর। দেশে ইন্টারনেটের দাম নিয়ে ব্যবহারকারীরা বরাবরই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক উথান্ট রব্বানি বলছিলেন এই দাম কমলেও সাধারণ গ্রাহকেরা কোন সুবিধা পাবেন না। ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডইউথ বাংলাদেশে কিনে থাকেন বড় বড় সার্ভিস প্রোভাইডাররা।
তাই এর প্রথম সুবিধাটা পাবে আইআইজি অপারেটররা। সেখান থেকে স্থানীয় ভাবে যারা ইন্টারনেটের কানেকশন দিয়ে থাকেন যাদেরকে ‘ক্যাটাগরি-এ আইএসপি’ বলা হয় তারা কিনে থাকেন। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সব সময় একটা অভিযোগ করে থাকেন যে পরিমাণ টাকা তারা দেন সেই মানের ইন্টারনেটের গতি পান না।
সেখানে বাধা টা আসলে কোথায়? মি. রব্বানি বলছেন ‘ক্যাটাগরি-এ আইএসপি’ অর্থাৎ যারা পাড়া-মহল্লায় বাসা বাড়িতে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে থাকেন তাদের সার্ভিসের কারণে ইন্টারনেট গতি হারাচ্ছে। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন তারা ১ এমবি ব্যান্ডউইথ ১০ জনের মধ্যে ভাগ করে দিচ্ছে। এটাকে বলা হয় ‘কনটেনশন রেশিও’।
এর ফলে ১ এমবিপিএস একই সময়ে দশজন ব্যবহার করছে যাতে করে ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক ভাবেই তারা ভাল পাবে না। যদি ‘ক্যাটাগরি-এ আইএসপি’ পুরো ১ এমবি এক জনের জন্যই বরাদ্দ করে তাহলে ভাল গতি পাবে গ্রাহকেরা। আর গতি না থাকার এটাই মুল কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সুত্রঃ বিবিসি