পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

এক লিটার পেট্রল ১১ পানি ২২ টাকা

Posted on September 4, 2015 | in আন্তর্জাতিক | by

নিইজ ডেস্ক: সৌদি আরবে জ্বালানি তেলের দাম এখন পানির চেয়েও কম। ১ লিটার বোতলজাত ফিল্টার পানি আরবে বিক্রি হয় ১ রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ টাকায়। আর পেট্রল বিক্রি হয় প্রতি লিটার ১১ টাকায়। ১ লিটার কেরোসিনের দাম এ দেশে সাড়ে ৫ টাকা। পৃথিবীর ৫০ শতাংশ তেলের মজুদ উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলোর মধ্যে এই সৌদি আরবে। তেল বিক্রি করে এ দেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে।11988387_10153673329687125_942906670932670203_n

১৯৩০-এর দশকে তেল উত্তোলন শুরু করে দেশটি। পাশাপাশি হাতের নাগালে রেখেছে গাড়ির দামও। ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার রিয়ালে (১ রিয়াল ২২ বাংলাদেশি টাকা) চলনসই গাড়ি কেনা যায় আরব উপসাগরের এই দেশে। এ দেশে ১ লিটার বোতলজাত দুধ কিনতে পাওয়া যায় ২২ টাকায়। তায়েফের বাসিন্দা ইসমাইল খন্দকার জানান, তিনি তিন মাস আগে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮২ হাজার টাকায় জাপানের তৈরি টয়োটা স্টারলেট কার কিনেছেন। অবসর সময়ে ভাড়ায় খেটে বাড়তি আয় করতে পারছেন। এ দেশে সীমিত পরিসরে পাবলিক বাস সার্ভিস আছে বটে। কিন্তু সেটাও বেশ জনপ্রিয়। সৌদি আরবের গণযান বলতে বোঝায় ব্যক্তিগত প্রাইভেট গাড়ি। আরও আছে ভাড়ায় ট্যাক্সি সার্ভিস। তবে ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে গাড়ি ভাড়া নিয়ে নিজেই ড্রাইভ করা যায় এখানে। তবে লাইসেন্সটা হতে হবে এ-দেশীয়। আর এ-দেশীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া মানে ড্রাইভিং স্কুলে ভর্তি। প্রতিদিন ১৫ রিয়ালে ১ ঘণ্টা করে ২২ ঘণ্টার কোর্স। প্রতি জনের জন্য পৃথক শিক্ষক। কোর্স শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে হয়। সে পরীক্ষায় পাস করাটা খুব একটা সহজও নয়। বাংলাদেশে আমরা গাড়ির ডান দিকে স্টিয়ারিং দেখতে অভ্যন্ত হলেও এখানকার গাড়িগুলোর স্টিয়ারিং বামে। গাড়ি চলে রাস্তার ডান দিক ঘেঁষে। সবকিছু নিয়মের মধ্যে এমনভাবে বাঁধা যে, ট্রাফিক পুলিশের দরকার হয় না। সিগন্যাল দেখেই যান চলাচল করে এখানে। সবাই নিজের কাঁধেই তুলে নেন ট্রাফিক রুলস মেনে চলার দায়িত্ব। শহর এলাকায় কোনো পথচারীকে রাস্তা পার হতে দেখলে আপনাতেই চালক গাড়ি থামিয়ে দেন। কদাচিৎ শোনা যায় হর্নের শব্দ। বাংলাদেশের রাস্তায় এমন নিয়ম প্রতিষ্ঠা হতে কত সময় লাগবে কে জানে! এ ছাড়া মক্কা শহরের বাঙালি গলির আশপাশের রাস্তাগুলো অনেকটা পুরনো ঢাকার রূপ নিলেও শৃঙ্খলার ব্যত্যয় চোখে পড়ল না কোথাও।এ অংশে পিচঢালা রাস্তা কম। ছোট ছোট ইটের সুন্দর গাঁথুনিতে এগুলোকে রাস্তা নয়, বাড়ির লন ভাবতেই ভালো লাগে। মার্কেটগুলোর পার্কিং লট মূল মার্কেটেরই সমান। তবে সেখানে ভাড়া গুনতে হবে ঘণ্টা হিসাবে। নতুন শহর আর হাইওয়ের অধিকাংশ সড়ক চার লেনের। লেন বিভক্তকারী চিহ্ন হিসেবে এখানে সাদা রঙের ব্যবহার করা হয়নি। বসানো হয়েছে ইস্পাতের ছোট ছোট চাকতি। লেন পরিবর্তনের সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে সেগুলোর ঘষা বেশ টের পাওয়া যায়। প্রশস্ত রোড ডিভাইডারগুলোয় খেজুর গাছের সারি। বিদেশি গাছ লাগানোর প্রবণতা কমই চোখে পড়ে। আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঝোলানো সবুজ বোর্ডের সাদা নির্দেশক জানিয়ে দেয় গন্তব্যের দিশা। জনে জনে জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই। রোড সাইন দেখেই গন্তব্যে যেতে পারবেন যে কোনো যান চালক।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud