May 4, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিজয় দিবসে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে মানুষের ভিড়। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাভার স্মৃতিসৌধ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তারপরই স্মৃতিসৌধে নেমে আসে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো লাখো মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দল বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশু ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে আসছেন। স্মৃতিসৌধের মূল ফটক থেকে সৌধ পর্যন্ত নানা রঙের ফুল ও ব্যানার নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে লাখ লাখ মানুষ। যেন বাঁধভাঙ্গা মানুষের ঢল স্মৃতিসৌধের পানে। স্মৃতিসৌধ এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য সাভারের পুলিশসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করতে ভোর ৫টা থেকে স্মৃতিসৌধ এলাকায় মিছিল নিয়ে আসছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও শ্রেণী-পেশার মানুষ। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে বিভিন্ন মহড়া দেয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ আশেপাশের এলাকা। আওয়ামী লীগ ও বিনপির নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে মিছিল করে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গাবতলী থেকে সাভার স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ নির্মাণ ও ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটনো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়াকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়া জামেহ এ ঘোষণা দেন।
জাম্বিয়ার মোট জনসংখ্যা ১৮ লাখ। দেশটির ৯০ শতাংশ জনগণই মুসলমান। ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় দেশটি।
শুক্রবার রাজধানী বানজুল থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে উপকূলীয় গ্রাম ব্রাফাতে একটি রাজনৈতিক র্যালি শেষে প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়া বলেন, ‘দেশের ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে আমি জাম্বিয়াকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি। জাম্বিয়া আর ঔপনিবেশিক আমলের আইনে চলবে না।’
তবে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও দেশটিতে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অধিকারও সুরক্ষিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়া।
তিনি বলেন, ‘পোশাকের ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে না। আমরা একটি ইসলামিক রাষ্ট্র হব, যেখানে সকল নাগরিক ও অনাগরিকের অধিকার রক্ষিত হবে।’
প্রসঙ্গত, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো প্রেসিডেন্ট জামেহর ব্যাপক সমালোচনা করে আসছে। ১৯৯৪ সাল থেকে জাম্বিয়ার ক্ষমতায় রয়েছেন তিনি।
বিনােদন ডেস্ক : বছর দু’য়েক আগেও টিভি পর্দায় নাটক ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দর্শক মাতিয়েছেন বিদ্যা সিনহা মিম। টিভিপর্দায় নিয়মিত কাজ করে অর্জন করেছেন ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা। ছোটপর্দায় দারুণ সাড়া জাগানোর পর এখন বড়পর্দায়ও নিজের দক্ষতার কথা জানান দিচ্ছেন এই লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মারুফ কিবরিয়া
কেমন আছেন? কেমন চলছে সব?
ভালো আছি। আর সবকিছুও ভালো চলছে। বিশেষত এখন সময়টাও যাচ্ছে বেশ।
এখন কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
একটি ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে কথা চলছে। তবে এখনই সব জানাতে পারছি না। কারণ ছবিটির নাম ঠিক হয়নি। অবশ্য শিগগিরই সব চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছি।
ক’দিন আগে ‘ব্ল্যাক’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। কেমন সাড়া পেলেন?
যৌথ প্রযোজনার এটাই আমার ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি। খুব নার্ভাস ছিলাম। কারণ শুধু বাংলাদেশে নয়, কলকাতায়ও ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। যে কারণে ভয় করছিল। কেমন হবে, দর্শক আমাকে কতটা গ্রহণ করবেন এসব নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলাম। তবে মুক্তির পর অনেকটা নার্ভাসনেস কেটে গেছে। সেসঙ্গে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। কারণ দুই দেশ থেকেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। দ্বিতীয় নরহড়থধসর-লব-শড়হড়সপ্তাহ প্রায় শেষ হতে চললো। এখনও হলগুলোতে সফলতার সঙ্গে ছবিটি চলছে। আমি নিজেও বিভিন্ন সিনেমা হল ঘুরে দেখেছি। যেমনটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার চেয়ে বেশি দর্শক ছবিটি দেখতে আসছেন। আসলে একটা ছবির সাফল্য নির্ভর করে দর্শক হলে গিয়ে তা দেখার ওপর। আর তখনই সে ছবির শিল্পীরা সার্থক হয়।
শুনলাম ‘ব্ল্যাক’-এর সিক্যুয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে?
এটা ঠিক আমি বলতে পারবো না। কারণ বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আর পুরো ব্যাপারটা প্রযোজক ভালো বলতে পারবেন।
অন্য কোন ছবি হাতে রয়েছে?
ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় ‘সুইট হার্ট’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। এছাড়া তানিয়া আহমেদের পরিচালনায় ‘গুড মর্নিং লন্ডন’ ছবির কাজ তো শেষ করেছি আগেই। তবে এটি মুক্তির ব্যাপারে কিছু জানি না।
নাটকে তো অভিনয় করছেন না। বিজ্ঞাপনের কাজও কি বন্ধ আছে?সরস৩-৬০০ী৩৭৫
না। নাটকের কাজ বন্ধ হলেও বিজ্ঞাপনের শুটিং চলছে। চলচ্চিত্রের কাজের মাঝে মাঝে কয়েকটি বিজ্ঞাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এইতো নতুন একটি কুকিজের বিজ্ঞাপনের কাজ করছি। এটি নিদের্শনা দিচ্ছেন মেহেদী হাসিব।
টিভি নাটকে কাজ করছেন না। নাটক কি দেখেন? এখনকার নাটক নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
আমার মাথায় সারাক্ষণ ফিল্ম ছাড়া আর কিছুই কাজ করে না। টিভি দেখার সময়টাই পাই না। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে তো সে ব্যাপারে জানাশোনার প্রয়োজন। তবে হ্যাঁ, আমি যদি দর্শকের জায়গা থেকে বলি কিংবা সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে খেয়াল করি এটুকু বলতে পারবো, আমাদের দর্শকরা টিভি নাটক নিয়ে কিছুটা বিরক্ত। এর কারণ অতিমাত্রায় বিজ্ঞাপন প্রচার। দর্শক টিভি দেখতে পারেন না। এ সমস্যা অনেক আগে থেকেই তো দেখে আসছি।
ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। টিভিপর্দার অভিজ্ঞতাটা চলচ্চিত্রে গিয়ে কতটুকু কাজে লাগিয়েছেন?
সরসটিভি মাধ্যম হলো অভিনয় শেখার একটা বড় জায়গা। লম্বা সময় ধরে সেখানে কাজ শিখেছি। অভিনয়টাকে নিজের মধ্যে আয়ত্ত্ব করেছি। আর সেটা কাজে লাগিয়েছি চলচ্চিত্রে। এখন চলচ্চিত্রে যে মিমকে দেখতে পাচ্ছেন তার বড় অবদান হলো টিভিপর্দা। আর আমার আজকের অবস্থানের পেছনে পুরো ক্রেডিটটা লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা। কারণ এখানেই তো আমার উত্থান।
কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবন কেমন যাচ্ছে?
কাজের বাইরে তো খুব একটা সময় তেমন পাই না। তবুও যেটুকু পাচ্ছি সেটা নিজের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভাগ করে নিই। খুবই ভালো সময় কাটাই তখন।
বিয়ে নিয়ে কোন পরিকল্পনা এখনও করেন নি?
বিষয়টা আপাতত ভাবনাতেই নেই। আর বিয়ের বিষয়টি তো সৃষ্টিকর্তার ওপর। তিনি যখন চাইবেন তখনই হবে। তাছাড়া আমি এ মুহুর্তে চলচ্চিত্রের কাজের প্রতি বেশি ডেডিকেটেড। ভালো কিছু ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে একটা অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই আমার এখন মূল টার্গেট।
কারও সঙ্গে প্রেম করছেন?
প্রেমের ব্যাপারেও কখনো ভেবে দেখিনি। আর আমি প্রেম করলেও সেটা কখনো লুকাবো না। কারও সঙ্গে সম্পর্ক হলে সেটা জানাবো।
মানবজমিন থেকে নেয়া
ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার ফল আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। তবে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির ওপর নির্ভর করছে ফল প্রকাশের দিনক্ষণ। ডিপিই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মো. আলমগীর জানান, প্রাথমিক এবং ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ফল প্রকাশের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠাবেন।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গত ২২ নভেম্বর শুরু হয়। শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। প্রাথমিকে ২৯ লাখ ৫০ হাজার ৯২৮ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার ১৫৮ জন অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৫৮ হাজার ৩২৭ জন এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ১৫৮ জন।
অপরদিকে, ইবতেদায়ীতে ৩ লাখ ৬ হাজার ১৯৩ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৮৮৪ জন অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২৫ হাজার ৪১৬ জন এবং ১৬ হাজার ৪৩২ জন ছাত্রী। উভয় পরীক্ষায় মোট ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার জন্য নিবন্ধন করে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
নিউজ ডেস্ক: অতীতের মতো অরাজনৈতিক নির্বাচন নয়। এবারের পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে রাজনৈতিক দল ও দলীয় প্রতীকনির্ভর। নির্বাচনের মাঠে আছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ ১৯টি দল। আছে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গলসহ অন্যান্য প্রতীক। এ কারণে এবারের পৌর নির্বাচন পরিণত হয়েছে দলগুলোর মর্যাদার লড়াইয়ে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর এই প্রথম এ ধরনের দলীয় নির্বাচন হতে চলেছে।
এবারের নির্বাচনে ১৯টা দল থাকলেও সারা দেশে অধিকাংশ পৌরসভায় মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। গতকাল শনিবার কমিশন সচিবালয় থেকে জানা যায়, তাদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২৩৪টির মধ্যে ২২৭টিতে আওয়ামী লীগের ও ২১৮টিতে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। আর জাতীয় পার্টি (জাপা) ৮১টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ফলে লড়াইটা মূলত অন্যান্য সময়ের মতো দুই বড় দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
মর্যাদার লড়াইয়ে জিততে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা অন্যতম বড় দল বিএনপি নিজেদের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিরঙ্কুশ করতে আজ রোববার শেষবারের মতো বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা চালাবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হচ্ছে আজ বিকেল পাঁচটায়। রিটার্নিং কর্মকর্তারা কাল সোমবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবেন। এর পরপরই প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে নেমে যাবেন প্রচারে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই দলেরই কমবেশি ৩০টি পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। এদের বেশির ভাগকে আজ নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে দুটি দল আশা করছে। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে তাঁদের দলে অস্বস্তি আছে। যেসব প্রার্থী শাস্তির তোয়াক্কা করছেন না, প্রয়োজনে দলীয় পদ ছেড়ে দেবেন—মূলত তাঁরাই এখনো নির্বাচনের দৌড়ে আছেন।
দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের ৭০ জনের বেশি স্থানীয় পর্যায়ের নেতা স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্র থেকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৭ জনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো হয়েছে। কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। গত রাতে আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা প্রথম আলোকে বলেন, আজ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০-১৫ জনকে সরানো সম্ভব হবে না। নির্বাচনের মাঠে এসব প্রার্থীর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলীয়ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে সব পৌরসভায় একক প্রার্থী রাখতে। আশা করি সেটা সম্ভব হবে।’
বিএনপিরও ৩০টি বেশি পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন বলে দলের নেতারাই বলছেন। এর মধ্যে ১৫টির মতো পৌরসভায় প্রার্থীদের শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকেরা আজও বিদ্রোহীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ব্যাপারে চেষ্টা করবেন। এতে কয়েকজনকে রাজি করানো সম্ভব হবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী নেতারা স্বতন্ত্রভাবে ৩৫টির মতো পৌরসভায় প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার জন্য স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্থানীয় নেতারা ব্যর্থ হবেন সেখানে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া হস্তক্ষেপ করবেন।
মেয়র পদে ১ হাজার ৫৬ জন: মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ১ হাজার ৫৬, কাউন্সিলর পদে ৯ হাজার ১৫৯ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৫১৩ জন। মেয়রদের মধ্যে রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থী ৬৭১ এবং স্বতন্ত্র ৩৮৫ জন।
এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে মেয়র পদে ১ হাজার ২১৪, কাউন্সিলর পদে ৯ হাজার ৭৪০ এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৬৭২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে ৮৯৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাতিলের তালিকায় মেয়র পদে রাজনৈতিক দলের ৩৯ এবং স্বতন্ত্র ১১৮ জন আছেন। কাউন্সিলর পদে ৫৮১ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৫৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
কমিশন সচিবালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী নেই। বাছাইয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম, গোপালগঞ্জ, সিলেটের গোলাপগঞ্জ, মৌলভীবাজার, চাঁদপুরের ছেংগারচর, ফেনী, ফেনীর পরশুরাম ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ আরও কয়েকটি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই সাতটি পৌরসভায়। তবে নাম জানাতে পারেনি কমিশন সচিবালয়।
পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১৯টি দল হলো আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, সিপিবি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এনপিপি, পিডিপি, খেলাফত মজলিস, এলডিপি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, তরীকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। প্রথম আলাে
বিনােদন ডেস্ক: চলতি প্রজন্মের আলোচিত নারী কন্ঠশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল। চ্যানেল আই-সেরাকন্ঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবার পর থেকে নিয়মিত গান করে চলেছেন তিনি। এরই মধ্যে নিজের একমাত্র একক অ্যালবামটির মাধ্যমে শ্রোতামহলে প্রশংসিত হয়েছেন। অ্যালবামের পাশাপাশি প্লেব্যাকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন এ শিল্পী। সেসঙ্গে স্টেজ শোও করছেন নিয়মিত। এখন নিজের নতুন একক অ্যালবামের কাজও করছেন। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও গানের নানা দিক নিয়ে আজকের ‘আলপন’-এ কথা বলেছেন কোনাল।
কেমন আছেন? দিনকাল কেমন কাটছে?
খুব ভালো আছি। আল্লাহুর রহমতে দিনকাল ভালো কাটছে। একটু ব্যস্ততার মধ্যে আছি। তবে সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে সময়।
ব্যস্ততা কি নিয়ে?
আমার প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। এখন নতুন এককের কাজ করছি। এরই মধ্যে চারটি গানের কাজ শেষ হয়েছে। বেশ কয়েকটি লেভেলের সঙ্গেও কথা হয়েছে অ্যালবাম নিয়ে। সব মিলিয়ে যেখান থেকে ভালো হয় সেখান থেকেই অ্যালবামটি প্রকাশ করবো।
অ্যালবামে কাজ কারা করছেন? গান কি ধরনের হচ্ছে?
বাপ্পা মজুমদার, ফুয়াদ আল মুক্তাদির, মুন ও ফুয়াদ নাসের বাবু সুর-সংগীত করছেন। বিভিন্ন ধরনের গান করছি। একেকটা এক এক স্টাইলে হচ্ছে। অ্যালবামে পথশিশুদের নিয়ে একটি গান করেছি। এর কথা ও সুর রচনা করেছি আমি। সংগীতায়োজন করছেন আমার বন্ধু সাব্বির।
কবে নাগাদ অ্যালবামটি প্রকাশ পাবে?
আসলে পুরো অ্যালবাম মানুষ এখন সেই অর্থে শোনে না। তাই গানগুলো ভিডিও সহ প্রকাশ করবো বলে ঠিক করেছি। জানুয়ারি থেকেই গান প্রকাশ শুরু করবো।
প্লেব্যাক-এর কি খবর?
আমি চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবার পরদিনই প্লেব্যাক করেছিলাম। এরপর অনেক প্লেব্যাকে করেছি। বিশেষ করে গত দুই বছরে নিয়মিত ভালো কিছু ছবিতে গান গেয়েছি। সম্প্রতি ইমন সাহার সুরে ‘আপন মানুষ’ ছবিতে কঁনকচাঁপা আপার সঙ্গে একটি গান করেছি। শওকত আলী ইমনের সুর ‘মেঘকন্যা’ ছবিতেও গান গেয়েছি। সহশিল্পী ছিলো ইমরান। সামনে আরও কিছু গান করার কথা রয়েছে।
স্টেজের পারফরমেন্স নিয়মিত চলছে?
বেছে বেছে শো করছি আমি। এর মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছি। ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে কলকাতা যাবো। চার দিনব্যাপি এ অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা, এলআরবিসহ অনেকেই পারফরম করবে।
সমসাময়িক অনেকের চেয়ে আপনাকে গান কম করতে দেখা যায়। এর কারণটা কি?
আসলে অনেকেই হয়তো দেখা গেছে মিশ্র অ্যালবামে গাইতে বললে সম্মানীটা নিয়ে গানটি গেয়ে দেয়। কিন্তু আমার কাছে অর্থের চেয়ে মানের গুরুত্বটা বেশি। তাই আমি আগে গান পাঠাতে বলি। তারপর শুনে পছন্দ হলেই শুধু গান করি। দাবি করি না যে আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পী। কিন্তু গান নির্বাচন করার স্বাধীনতা আমার আছে। আর আমি শুধু ভালো ও মানসম্পন্ন গান করতে চাই। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে খানিকটা ছাড় আমি দেই। কারণ আমার সিনিয়ররা আমাকে এটা বলেছেন। মানুষের কাছে পৌছানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো চলচ্চিত্র। ত্ইা চলচ্চিত্রে নিয়মিত গাইতে চাই।
অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন খারাপ। একজন তরুণ শিল্পী হিসেবে কিভাবে সময়টাকে মোকাবেলা করছেন?
আমরা এখন একটা চরাই-উতরাই সময় পার করছি। তবে এই সময়টা কেটে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। সামনে সুসময় আসবে। কারণ বিশ্বের খুব একটা জায়গায় এখন অ্যালবামের চল নেই। অনলাইনে এখন গান প্রকাশ পাচ্ছে। আমাদের দেশেও সেই ধারা শুরু হয়ে গেছে। আমি মনে করি অনলাইন মাধ্যমই আমাদের গানের ভবিষ্যত। এখন হয়তো অনলাইন থেকে আয়সহ বিভিন্ন বিষয় আমাদের কাছে অপরিস্কার। তবে সেটা পরিস্কার হলেই ভালো একটা সময় আসবে।
আপনার জীবনে গানের বড় উৎসাহ কার কাছ থেকে পেয়েছেন?
আমার বাবা ও মা। বাবা আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছেন। আর মা আমাকে নিজে গান শিখিয়েছেন। এর বাইরে পরিবারের সবার সহযোগিতাই আমি গানের ক্ষেত্রে সব সময় পেয়েছি।
মানবজমিন
নিউজ ডেস্ক: পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাইপর্বেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। ফেনীর তিন পৌরসভায় ‘অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড’ ঘটলেও নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ক্ষমতাসীন দল এক পৌরসভায় দুজন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পরও বিধি অনুযায়ী কারোরই প্রার্থিতা বাতিল করা হয়নি।
এ ছাড়া বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা নিয়েও কমিশনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা রক্ষা না করার অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা। কমিশন দাবি করেছে, এসব বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার মালিক রিটার্নিং কর্মকর্তা।
গত শনিবার ও গতকাল রোববার ২৩৪ পৌরসভায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়েছে। প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী বিএনপির মোট ১০ জন এবং আওয়ামী লীগ-মনোনীত তিনজন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। এসব পৌরসভার বেশির ভাগে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবল থাকা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনে ১৭৫টি পৌরসভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৫৯টি পৌরসভায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে। এ নিয়ে শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল কমিশন।
জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, অতীতেও এমন হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা কমিশনের নির্দেশ আমলে নিতে চান না। দলের মন্ত্রী-সাংসদদের কথামতো কাজ করেন। এর অন্যতম কারণ সরকার তাঁদের পদোন্নতি দিয়ে থাকে। কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন করালে এসব ক্ষেত্রে রাশ টানা যেত।
ফেনীতে ৩৪ কাউন্সিলর ও এক মেয়র পদে একজন করে প্রার্থী: ফেনী জেলার তিনটি পৌরসভার ৪৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি অভিযোগ করেছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। তবে তিন পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হতে পেরেছে বিএনপি।
এরপর গত দুই দিনের বাছাইয়ে পরশুরাম পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ফলে সেখানে এখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীই একমাত্র মাঠে আছেন। ফেনী পৌরসভায়ও বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে সেখানে জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থী এখনো আছেন। সর্বশেষ গতকাল ফেনী পৌরসভায় বিএনপি-সমর্থিত একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ফলে এই জেলায় এখন একজন মেয়র এবং ৩৪ জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেনী পৌরসভায় ২৪টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ১৭টি, পরশুরাম পৌরসভায় ১২টির মধ্যে ১০টি এবং দাগনভূঞা পৌরসভায় ১২টির মধ্যে ৭টিতে একজন করে কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন। এঁদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত।
ফেনীর এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির তথ্য জেনে গত বৃহস্পতিবার বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক। তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, বিষয়টি কমিশনের বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
গতকাল কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও প্রতিকারমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ফেনী থেকে একটি অভিযোগও আসেনি। যে কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি আপিল কর্তৃপক্ষ (জেলা প্রশাসক) অথবা আদালতে যেতে পারবেন।
কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে সন্তোষজনক মনে না হলে কমিশন ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনের যেকোনো পর্যায়ে সামগ্রিক নির্বাচন বন্ধ করে দিতে পারে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে কমিশন প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারে।
এ বিষয়ে এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে কোনো ঘটনাকে সন্দেহজনক মনে হলে বা সন্তোষজনক মনে না হলে কমিশন নির্বাচন বাতিল করে দিতে পারে। কিন্তু এই কমিশন সেটা করবে না।
আওয়ামী লীগের দুজন করে প্রার্থী: নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে বলা আছে, কোনো দল থেকে একজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। কোনো পৌরসভায় এক দলের একাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়লে সব কটি বাতিল হয়ে যাবে। বিষয়টি ২৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ একাধিকবার উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তা আইনটি মানেননি।
বরগুনার বেতাগীতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের সই নিয়ে বর্তমান মেয়র আলতাফ হোসেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম কবির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে আওয়ামী লীগ থেকে চিঠি দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে, তাদের প্রার্থী গোলাম কবির।
রিটার্নিং কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের চিঠি অনুযায়ী একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দলভিত্তিক মেয়র প্রার্থীদের তালিকায় দেখা গেছে, খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের তিনজন এবং মাগুরা সদর পৌরসভায় দুজন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা পাইকগাছায় সেলিম জাহাঙ্গীর এবং মাগুরায় খুরশিদ হায়দারের মনোনয়নপত্র বৈধ করে অন্যদেরটা বাতিল করে দিয়েছেন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা তা করতে পারেন না।
বিএনপির মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল: ফেনী সদর ও পরশুরাম, চাঁদপুরের ছেংগারচর এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ ১০ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ছেংগারচরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্রটি অসম্পূর্ণ থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
কিন্তু প্রার্থী সারোয়ারুল আবেদীন গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তিনি এসএসসি ও এইচএসসির সনদ সংযুক্ত করে দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের কেউ সেটা সরিয়ে ফেলে এখন বলছেন মনোনয়নপত্রটি অসম্পূর্ণ।
চৌদ্দগ্রামে বিএনপির প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে তাঁর মা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মেহেরুন্নেসা হক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে পুলিশি হয়রানির কারণে এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে টাকা বকেয়া থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও রাব্বানীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। বিষয়টি ঋণ খেলাপের আওতায় পড়ে কি না, সেটা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন আছে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের মনোনয়নপত্র বাতিল: নির্বাচনী আইনে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে প্রার্থীদের ১০০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক সই সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক বিদ্রোহী স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত দুই দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এমন শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন।
আইন অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১০০ ভোটারের সমর্থনসূচক সই নিয়ে তা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছেন। পরে এসব সমর্থনকারীই লিখিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সই করেননি। যে কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। কিন্তু রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাহিনুল ইসলামসহ একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী প্রথম আলোকে বলেছেন, দলীয় প্রার্থীরা ভোটার-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এটা করিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ তিনটি: কমিশন সচিবালয়ে এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি অভিযোগ জমা পড়েছে। দাউদকান্দি পৌরসভার নাজমা আক্তার ও শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেছেন, ৩ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষের লোকজন উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে আটকে রাখায় তাঁরা মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।
গতকাল অভিযোগ জমা দিয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ কে এম শফি আহমেদ। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়বস্তু জানা যায়নি।
নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কমিশন সচিবালয়ের আইন শাখায় পাঠানোর কথা। কিন্তু আইন শাখা থেকে জানা গেছে, সেখানে এখনো কোনো অভিযোগপত্র যায়নি।
তবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন গতকাল তিন সাংসদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। অভিযুক্ত সাংসদেরা হলেন হাচারনুর রহমান (বরগুনা-২), এম মালেক (ঢাকা-২০) ও শফিকুল ইসলাম (নাটোর-২)। সুত্র….প্রথম অলাে
নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ে মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে ধর্ষণের কারণ নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিমত জানতে চাইল বম্বে হাইকোর্ট। সেই সাধারণ মানুষ চন্দ্রকান্ত পালভ দাবি করলেন, ধর্ষণের জন্য মেয়েদের আঁটসাঁট পোশাকই দায়ী!
মুম্বইয়ে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ মামলার শুনানি হাইকোর্টে চলছিল শনিবার। বর্ষীয়ান চন্দ্রকান্ত একটি মামলার আবেদনকারী। বিচারপতি নরেশ পাটিল এবং বিচারপতি এস বি সুক্রের ডিভিশন বেঞ্চে তিনি জানান, মেয়েদের পোশাকই ধর্ষণের জন্য দায়ী। তাঁর কথায়, ইদানীং মেয়েরা জিনস, কুর্তা বা শর্ট স্কার্টের মতো আঁটসাঁট পোশাক পরে বাইরে বেরোন। সে কারণেই ধর্ষণের ঘটনা এত বেড়ে যাচ্ছে।
চন্দ্রকান্তের বক্তব্য শোনামাত্র প্রতিবাদ করেন আইনজীবীরা। সরকারপক্ষের দুই আইনজীবী তো বটেই, এমনকী, চন্দ্রকান্তের আইনজীবী রাজীব চহ্বাণও বলেন, একজন মহিলার পোশাকের সঙ্গে তাঁর উপর অত্যাচারের সম্পর্ক কী? এই যুক্তির প্রতিবাদ করছি আমরা। যিনি অত্যাচারের শিকার, এর ফলে তাঁর উপরেই দোষ চাপানো হচ্ছে। তাঁদের থামিয়ে দিয়ে বিচারপতি পাটিল বলেন, ওঁকে থামাবেন না। আমরা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই। তারপর এ বিষয়ে তাঁর মতামত বিস্তারিত জানান চন্দ্রকান্ত।
চন্দ্রকান্তের বক্তব্য জানার পরে রাজীবই তাঁর মক্কেলের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ধর্ষণের জন্য যদি পোশাকই দায়ী হয়, তাহলে তিন-চার বছরের শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে কেন? এর পরে শুনানি স্থগিত রাখেন বিচারপতি।
ধর্ষণের জন্য মেয়েদের পোশাক এবং আচরণকে দায়ী করে এর আগে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। এবার জানা গেল এক সাধারণ মানুষের একই দৃষ্টিভঙ্গি’র কথাও। প্রসঙ্গত, ওই সাধারণ চন্দ্রকান্ত মুম্বইয়ে মেয়েদের নিরাপত্তা চেয়ে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেইসঙ্গে দাবি করেছিলেন, মেয়েদের পোশাকবিধি চালু করার জন্য নির্দেশ দিক আদালত।
নিউজ ডেস্ক : নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাইকোর্টের দেওয়া তিন মাসের জামিনের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এতে আপাতত ফখরুলের মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নাশকতার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি আগামী ৩০ নভেম্বরের দিন ধার্য করা হয়। ওই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ দিন ধার্য করেন। মামলায় মির্জা ফখরুলের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। এর আগে মঙ্গলবার তার স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে রাজধানীর পল্টন থানায় পুলিশ বাদী হয়ে করা এই তিন মামলায় হাইকোর্ট তিন মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন জানান।
এই তিন মামলায় মির্জা ফখরুলের স্থায়ী জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর গত ১১ নভেম্বর শুনানি শেষ হয়। ১৬ নভেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য থাকলেও ফখরুলের মেডিকেল রিপোর্ট না আসায় ওই দিন হাইকোর্ট আদেশ দেয়া থেকে বিরত থাকেন। পরে মেডিকেল রিপোর্ট দেখে ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ২১ জুন এই তিন মামলায় হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফখরুলের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে এসব মামলায় তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। আপিল বিভাগ এই তিন মামলায় তাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। আত্মসমর্পণ করতে মির্জা ফখরুলকে আপিল বিভাগের বেঁধে দেয়া সময় ২ নভেম্বর শেষ হয়। ওইদিন আপিল বিভাগ তার আত্মসমর্পণের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ করেন। পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টের রুল শুনানি করতে নির্দেশ দেন।
গত ৩ নভেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে মির্জা ফখরুল আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। আদালত ওই আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অন্যদিকে জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য গত ৫ নভেম্বর আবেদন করেন ফখরুলের আইনজীবীরা। পরে ১১ নভেম্বর ওই রুলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে গত ৬ জানুয়ারি গ্রেফতার হন মির্জা ফখরুল। নাশকতার ৭ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর মধ্যে পল্টন থানায় গাড়ি পোড়ানো, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের তিন মামলায় গত ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পান মির্জা ফখরুল। এরপর পল্টন থানার দুটি ও মতিঝিল থানার এক মামলায় ১৮ জুন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। এসব আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও তার জামিন বহাল থাকে।