May 4, 2026
নিউজ ডেস্ক: বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার ৫ জানুয়ারি আজ। দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক ঘটনাবহুল দিন। ২০১৪ সালের এই দিনে দেশী-বিদেশী নানা ধরনের অনুরোধ ও চাপ আমলে না নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে বাইরে রেখেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নব্বই সালে স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর এই প্রথমবার দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ‘একতরফা’ এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ জোট। তার আগেই ১৫৩টি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করা হয়, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এর আগে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিবাদে টানা হরতাল-অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে বিএনপি জোট। এতে দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নির্বাচন ইস্যুতে সংলাপ হলেও কোনো ধরনের সমঝোতায় আসতে পারেনি। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরে ছয় মাসের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক আরেকটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবেÑ এমন আশ্বাস দেয় সরকারপক্ষ। জাতিসঙ্ঘের অনুরোধে বিএনপি জোটও সেই আশ্বাসে কিছুটা সম্মতি দেয়। ফলে ‘ভোটারবিহীন’ এ নির্বাচনের পরও বিএনপি জোট আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে দল গোছানোর কাজে মনোযোগ দেয়। তবে নির্বাচনের দুই বছর পার হলেও সরকার নতুন কোনো নির্বাচনের ব্যবস্থা করেনি। উল্টো তারা এ নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ দাবি করে পাঁচ বছর সাংবিধানিক মেয়াদের অজুহাত দেখিয়ে বিরোধীদের দমন-পীড়নে মনোযোগ দেয়। এখন তাদের টার্গেট পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা।
দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট বিক্ষোভ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। অন্য দিকে এ দিনকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস দাবি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোটও আনন্দর্যালি, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
নব্বইয়ের পর নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হয়। এ ব্যবস্থায় পরপর চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বিলুপ্তির আদেশ দেন। তবে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে পরবর্তী দুই মেয়াদে এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বহাল রাখা যেতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সেই পর্যবেক্ষণের তোয়াক্কা না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকার বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সরকারপক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিরোধীপক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনড় থাকলে দেশব্যাপী চরম অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। সরকারের দমন-পীড়নসহ রাজনৈতিক হানাহানিতে কয়েক শ’ মানুষ প্রাণ হারায়। জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর আহ্বান ও নানা চাপ সত্ত্বেও কোনো পক্ষই সিদ্ধান্ত ও আন্দোলন থেকে সরে আসেনি। পরে জাতিসঙ্ঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর মধ্যস্থতায় সংলাপে সম্মত হয় উভয়পক্ষ। সেখানেও কেউ কাউকে ছাড় না দিলে কোনো ধরনের সমঝোতা সম্ভব হয়নি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহতের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ওই দিন হরতাল আর সহিংসতার মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটারবিহীন ও সহিংসতার নির্বাচন
সহিংসতা, কেন্দ্র পোড়ানো, কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই, ভাঙচুর, নির্বাচনী কর্মকর্তা হত্যা, মারধর এবং পুলিশের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ৫ জানুয়ারির ওই একতরফা নির্বাচন। এতে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। ফাঁকা কেন্দ্রে ছিল জালভোটের মহোৎসব। ওই দিন সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার লাখ নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যের উপস্থিতিতে ১১ জেলায় সহিংসতায় নিহত হয় ১৯ জন। এর মধ্যে ১৫ জনই মারা গেছে পুলিশের গুলিতে। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার দিক থেকেও ওই নির্বাচন অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে মারা গেছে ১২৩ জন। ভোটকে কেন্দ্র করে এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এর আগে দেখা যায়নি।
ভোটের আগের দিন আগুনে পুড়েছে ১১১টি ভোটকেন্দ্র। নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই হয়েছে, কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে নির্বাচনী কর্মকর্তাকে। ভোটের দিনও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা হয়েছে ৬৯৭ কেন্দ্রে। ৩৬টি আসনের ৫৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
এর আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান ১৫৩ জন। ৫৯ জেলায় বাকি ১৪৭ আসনে যে চার কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগই ভোট দিতে যাননি। দেশের ৩৯টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। আবার ১৬টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ থেকে ৬৩টি। আবার কোনো কোনো কেন্দ্র বেলা ২টা পর্যন্ত কোনো ভোট না পড়লেও পরবর্তী ২ ঘণ্টার মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ভোট পড়ে।
নির্বাচনে কত ভোটার ভোট দিয়েছেন, তার হিসাব ওই রাত ১টা পর্যন্ত দেয়নি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দুই দিন পর নির্বাচন কমিশন ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দাবি করে। তবে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা জানায়, নির্বাচনে ১৫ থেকে ২০ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি। অন্য দিকে বিএনপি দাবি করে নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে মাত্র। এমন একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থাও বিস্ময় প্রকাশ করে।
নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক সমাপনীতে (পিএসসি) এ বছর পাসের হার ৯৮.৫২ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে পাসের হার ৯৮.৭৪ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে পাসের হার ৯৯ শতাংশ, সিলেট বিভাগে পাসের হার ৯৬.৭৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে পাসের হার ৯৮.৯৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে পাসের হার ৯৮.৪১ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে পাসের হার ৯৮.৩০ শতাংশ,ও রংপুর বিভাগে পাসের হার ৯৮.৫৬ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।
বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সমাপনীর ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। পরে বেলা দেড়টায় সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জেএসসি-জেডিসির ফল বিস্তরিত জানাবেন। সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষার্থীরা মোবাইল, ইন্টারনেটে ফল জানতে পারবেন।
নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই চারটি পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয় আজ সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষাগুলোর ফল প্রকাশ করবে।
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে বেলা দেড়টায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২২ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ নভেম্বর। এই দুটি পরীক্ষায় ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
অন্যদিকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৩ জন। এ বছর ১ নভেম্বর ওই পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষ হয় ১৮ নভেম্বর। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে, মুঠোফোনে খুদেবার্তার মাধ্যমে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: পৌরসভা নির্বাচনের ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল আটটা থেকে দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোট নেওয়া শুরু হয়। কোনো বিরতি ছাড়াই এই ভোট নেওয়া চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। ভোটে ২০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ ও বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের মধ্যে।
বিকেল চারটার পর শুরু হবে ভোট গণনা। সবশেষে ফলাফল ঘোষণা। যেসব এলাকায় ভোট হচ্ছে, সেখানে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। 
গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই নির্বাচন সারা দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় আজকের ভোট নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবারই নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা মুখোমুখি হচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২০টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এসব দলের মেয়র পদের প্রার্থী সংখ্যা ৬৬০ জন। বাকি ২৮৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৩৪ পৌরসভায় সাধারণ কাউন্সিলরের দুই হাজার ১৯৩টি পদের জন্য আট হাজার ৭৪৬ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ৭৩১টি পদের জন্য দুই হাজার ৪৮০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৭১ জন প্রার্থী বর্তমানে মেয়র পদে আছেন। এগুলোসহ আওয়ামী লীগের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা ৩০টির বেশি পৌরসভায় সহিংসতা হতে পারে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজশাহী ও রংপুরের পৌরসভাগুলোতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
২৩৪টি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সব কটিতে, বিএনপি ২২৩টি, জাতীয় পার্টি ৭৪টি, জাসদ ২১টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি আটটি পৌরসভায় প্রার্থী দিয়েছে। অন্যরা অন্যান্য দলের।
সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয়ই প্রায় সব পৌরসভায় বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ২০০ থেকে ২২০টি পৌরসভায় জেতার কথা বলছে। যদিও পুলিশের গোপন জরিপ বলছে, আওয়ামী লীগ ১২৮ ও বিএনপি ৪৯টিতে জিততে পারে। ৩৮টি পৌরসভায় দুই পক্ষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
বিএনপি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা না বললেও দলটির পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য আছে। একটি হচ্ছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ৮০ শতাংশ পৌরসভায় দলটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। আরেকটি বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচন যদি অর্ধেক সুষ্ঠু হয়, তাহলে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদি শহরে আইএস জঙ্গী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের পুনর্দখল নিয়েছে ইরাকি সেনাবাহিনী। রামাদিতে এটিই ছিল আইএস জঙ্গিদের সর্বশেষ ঘাঁটি, যেখান থেকে তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই করে আসছিল। খবর বিবিসি ও আইআরআইবির।

ইরাকের সন্ত্রাস-বিরোধী ইউনিটের মুখপাত্র শাবাহ আন-নুমান জানিয়েছেন, আইএসের কাছ থেকে (রোববার) গর্ভমেন্ট কম্পাউন্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে। এটি ছিল রামাদিতে দায়েশ সন্ত্রাসীদের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি।
শাবাহ আন-নুমান বলেন, সরকারি ভবনটি সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে, সেখানে কোনো সন্ত্রাসীর উপস্থিতি নেই।” তিনি জানান, ভবনের ভেতরে ঢোকার আগে পুরো কমপ্লেক্সে পেতে রাখা বোমা ও মাইন পরিষ্কার করতে হবে। শাবাহ আন-নুমান জানান, অপারেশন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, কিছুক্ষণের মধ্যে সেনারা সেখানে প্রবেশ করবে।
সন্ত্রাস-বিরোধী ইউনিটের মুখপাত্র বলেন, এ কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার অর্থই হচ্ছে রামাদিতে আইএস পরাজিত হয়েছে। এখন শহরের কোথাও যদি কোনো সন্ত্রাসী লুকিয়ে থাকে তাহলে সেসব এলাকা মুক্ত করার প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানান, কমপ্লেক্সের যেখানে-সেখানে বহু দায়েশ সন্ত্রাসীর লাশ পড়ে রয়েছে। ইরাকি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় তারা নিহত হয়েছে।
পাঁচ দিন আগে রামাদি শহর মুক্ত করার চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়েছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে ইরাকি বাহিনী বিমান থেকে লিফলেট ফেলে বেসামরিক নাগরিকদের রামাদি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
চলতি বছর ইরাকে আইএসের বড় দখল রামাদি। বাগদাদ থেকে মাত্র ৫৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত সুন্নী অধ্যুষিত এই শহরটি পুনরুদ্ধার আইএসের বিরুদ্ধে ইরাকি বাহিনীর সবচেয়ে বড় সাফল্য। ২০১৪ সালে আইএস ইরাকের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করে নেয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এত তীব্র লড়াই করেনি। ইরাকি বাহিনীর যৌথ কমান্ডের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ইয়াহয়া রাসুল বলেন, শুক্রবার রাতে সৈন্যরা রামাদির হজ এলাকায় ঢুকে পড়ে। প্রদেশটির প্রশাসনিক ভবনগুলো সেখানেই অবস্থিত। আগের দিন সেনাবাহিনী প্রায় এক কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছিল। বিমান হামলার মাধ্যমে জঙ্গিদের পেতে রাখা ফাঁদ ও বিস্ফোরক ধ্বংস করায় পদাতিক বাহিনীর এগোনো সহজ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে: গাজীপুরে একটি জঙ্গি আস্তানায় র্যাবের অভিযানের সময় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় একজন র্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত গাজীপুর মহানগরের যুগীতলায় একটি পরিত্যক্ত ভবনে এই অভিযান চালায় র্যাব। ভোররাতে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করাতে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
অভিযান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, অভিযান চলাকালে ভবনে উপস্থিত জঙ্গিরা র্যাবের উপর বোমা নিক্ষেপ করে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় দুই জঙ্গি নিহত হয়।
জঙ্গিদের বোমা হামলায় র্যাবের একজন সদস্যও আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জেএমবির সাংগঠনিক বই উদ্ধার করেছে র্যাব।
র্যাবের দাবি, জঙ্গিরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বোমা নিক্ষেপ করলে র্যাব গুলি চালায়। পরে রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শেষে ভবনের ভেতরে গিয়ে দুটি মৃতদেহ দেখতে পায়। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নিহত দুজন জেএমবি সদস্য। নিজেদের বোমার আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে র্যাব ধারণা করছে।
স্পাের্টস ডেস্ক: পেসার মোহাম্মদ আমিরকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(পিসিবি) প্রধান শাহরিয়ার খান জানিয়েছেন, আমির থাকায় ক্যাম্প বর্জনকারি দুই ক্রিকেটার আজহার আলী এবং মোহাম্মদ হাফিজ শনিবার ক্যাম্পে ফিরেছেন। 
স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে পাঁচ বছর ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত আমিরের সঙ্গে একত্রে অনুশীলন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার ক্যাম্প ত্যাগ করেন সাবেক টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ ও বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক আজহার আলী। এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানান হয়, শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ওই দুই ক্রিকেটার। তবে কোন শাস্তি নয়, পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের নিজস্ব হস্তক্ষেপে হাফিজ এবং আজহার ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,‘বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। উভয়েই আমার কথা শুনেছে এবং নিঃশর্তভাবে অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছে। এছাড়া আমির দলে ফিরলে তাকে সমর্থ যোগাবে।’
প্রসঙ্গত, আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজকে সামনে রেখে এ ক্যাম্প আয়োজন করেছে পিসিবি।
সৌজন্যে: বাসস
বিনােদন ডেস্ক: বছরের ষষ্ঠ সিনেমা হিসেবে শত কোটির ক্লাবে অন্তভূক্তির্ ঘটেছে শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে’ সিনেমাটির। তবে ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ এবং ‘প্রেম রাতান ধান পায়ো’র চেয়ে অনেকটা ঢিমে তালেই ১০০ কোটির মাইলফলক ছুঁতে পেরেছে ‘দিলওয়ালে’। বক্স-অফিস দৌড়ে এবার বন্ধু সালমান খানের কাছে হারতেই হলো শাহরুখকে। ভারতে ১০০ কোটি রুপি আয় করতে সালমান খানের ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ এবং ‘প্রেম রাতান ধান পায়ো’র লেগেছিল মাত্র তিন দিন। সেখানে দুর্দান্ত সূচনা সত্ত্বেও প্রথম দুদিনের পর ‘দিলওয়ালে’র আয়ের রেখা নিচের দিকেই নামতে থাকে। অবশেষে সপ্তাহের শেষ দিনে এসে ভারতের বাজারে শত কোটি রুপি আয় করেছে রোহিত শেঠি পরিচালিত ‘দিলওয়ালে’।
বাণিজ্য বিশ্লেষক তারান আদার্শের টুইট থেকে মিলবে সিনেমাটির প্রতিদিনের আয়ের হিসাব।
“দিলওয়ালে, শুক্র ২১ কোটি, শনি ২০.০৯ কোটি, রবি ২৪ কোটি, সোম ১০.০৯ কোটি, মঙ্গল ৯.৪২ কোটি, বুধ ৮.৭৯ কোটি, বৃহস্পতি ৯.২৬ কোটি। সর্বমোট ১০২.৬৫ কোটি।”
‘দিলওয়ালে’র মূল লড়াইটা অবশ্য একই দিনে মুক্তি পাওয়া ঐতিহাসিক প্রেমকাহিনি নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘বাজিরাও মাস্তানি’র সঙ্গেই চলছে। ভক্তরা মনে করেছিলেন, ৫ বছর পর আবারও রূপালি পর্দায় ফেরা চিরসবুজ জুটি শাহরুখ-কাজলের দৌরাত্ম্যে হার মানবেন দিপিকা-রানভির-প্রিয়াঙ্কা। সিনেমা মুক্তির প্রথম দুদিনেও এমনটাই মনে হচ্ছিল, সাফল্যের শেষ হাসিটা হাসতে যাচ্ছে শাহরুখ-কাজলের প্রেমের আখ্যান। কিন্তু হঠাৎ করেই কমতে শুরু করে ‘দিলওয়ালে’র টিকিট বিক্রি এবং দর্শক সংখ্যা। অন্যদিকে দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে মারাঠা সেনানায়ক পেশোয়া বাজিরাও আর তার দ্বিতীয় স্ত্রী মাস্তানির প্রেমকাহিনি ‘বাজিরাও মাস্তানি’র।
ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে শাহরুখের মন্তব্যে সৃষ্ট বিতর্কের প্রভাবেই ‘দিলওয়ালে’র সাফল্যে ভাঁটা পড়েছে বলে ধারণা করছেন নির্মাতারা। ইতোমধ্যেই পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিনে ভারতের বাজারে আয়ে ‘দিলওয়ালে’ কে টপকেছে ‘বাজিরাও মাস্তানি’।
নিউজ ডেস্ক: মাত্র এক সেকেন্ডেই পানি বিশুদ্ধকরণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য পলিমার আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এয়ার ফ্রেশনার ও সাইক্লোডেক্সট্রিন ব্যবহার করে মাত্র এক সেকেন্ডেই পানি শুদ্ধকরণের প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণওয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রফেসর ইউল ডিচটেলের নেতৃত্বে আবিষ্কৃত সাইক্লোডেক্সট্রিনযুক্ত কার্বনের পলিমার ২০০-এর অধিক বার ব্যবহার করা যাবে। ওই কার্বন পানিতে ভাসমান জীবানু নিমিষেই শোষণ করে নেবে। এটা ব্যবহারে খুবই সহজবোধ্য ও দামে সস্তা। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ঢাকা: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখনও মেলার প্রধান ফটক ও রাস্তা নির্মাণের কাজ বাকি আছে। স্টল, প্যাভিলিয়ন নির্মাণেও ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। মাসব্যাপী এ মেলা শুরু হচ্ছে ১ জানুয়ারি। ফলে উদ্বোধন পর্যন্ত অনেক কাজ অসমাপ্ত থেকে যাবে। এ প্রসঙ্গে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সচিব ইউসুফ আলী জানান, স্টল ও অবকাঠামো নির্মাণের শেষ সময়ের কাজ চলছে। বাকি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, মেলার প্রস্তুতির অগ্রগতিও অনেক ভালো। সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে। জানা গেছে, এ বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ১৪টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৪৬টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন ক্যাটাগরিতে মোট স্টল থাকবে ৩৪৭টি। জেনারেল, রিজার্ভ ও বিদেশী এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট প্যাভিলিয়ন থাকবে ১১২টি। এছাড়া থাকবে ৫৬টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২৬টি ফুড স্টলসহ পাঁচটি রেস্তোরাঁ।
সরেজমিন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, স্টল ও মাঠের অবকাঠামো নির্মাণকাজে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকান মালিক ও নির্মাণ শ্রমিকরা। বিশেষ প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টলসহ সৌন্দর্য বর্ধনে কর্মরত শ্রমিকদের তৎপরতা দেখা গেছে। এ বছর মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নের ভাড়া ১৫ লাখ, সাধারণ প্যাভিলিয়নে ভাড়া ১০ লাখ, বিদেশী প্যাভিলিয়নের জন্য ১১ লাখ ২৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিনি প্যাভিলিয়ন ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা এবং স্টল ১ লাখ ৯৫ হাজার থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। রেস্তোরাঁর জন্য ভাড়া ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইপিবির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তবে বিদেশী জোনে কোনো রেস্তোরাঁ রাখা হয়নি।
এ বছর দর্শনার্থীদের জন্য একটি রাস্তা বাড়ানো হয়েছে মেলার মাঠে। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আগের বছরের তুলনায় বেশি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সংরক্ষিত স্টল থাকছে। এ বছর নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৩৬টি স্টল বরাদ্দ থাকছে। জানা গেছে, এবারের বাণিজ্য মেলার ব্যয়ের বাজেট হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। গত বছর এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মেলায় বাংলাদেশসহ অংশ নিচ্ছে বিশ্বের মোট ২১টি দেশ।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ভারতের সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা (ইন্ডিয়ান ট্রেড প্রমোশন অর্গেনাইজেশন-আইটিপিও)। ভারতের পণ্যের পরিচিতি বাংলাদেশে তুলে ধরা ও জন্যই দেশটির এ উদ্যোগ।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মেলায় ২১টি দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছে- ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, জাপান, চীন, হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রিটেন, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাস, ঘানা ও মরোক্কো। এদের প্যাভিলিয়ন থাকছে ৩৯টি। আর জেনারেল স্টল ২৬৬টি। এছাড়া মেলায় থাকছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ফুড কোর্ট, ইকো পার্ক, ই-শপ, ই-পার্ক এবং শিশুপার্ক, পর্যাপ্ত টয়লেট, এটিএম বুথ, মসজিদ, পোস্ট অফিস, প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকছে অটিজম সেন্টার, মাদার কেয়ার সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এছাড়া ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকছে।
বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মতো। মেলার চারদিকে ভিআইপি গেটসহ মোট চারটি গেট করা হয়েছে। প্রবেশের টিকিট বড়দের জন্য ৩০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
ইপিবির সূত্র জানায়, মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। মাঠে থাকছে ৮০টি সিসি ক্যামেরা। পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকবেন।