May 4, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক: পৌরসভা নির্বাচনের ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল আটটা থেকে দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোট নেওয়া শুরু হয়। কোনো বিরতি ছাড়াই এই ভোট নেওয়া চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। ভোটে ২০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ ও বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের মধ্যে।
বিকেল চারটার পর শুরু হবে ভোট গণনা। সবশেষে ফলাফল ঘোষণা। যেসব এলাকায় ভোট হচ্ছে, সেখানে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। 
গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই নির্বাচন সারা দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় আজকের ভোট নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবারই নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা মুখোমুখি হচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২০টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এসব দলের মেয়র পদের প্রার্থী সংখ্যা ৬৬০ জন। বাকি ২৮৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৩৪ পৌরসভায় সাধারণ কাউন্সিলরের দুই হাজার ১৯৩টি পদের জন্য আট হাজার ৭৪৬ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ৭৩১টি পদের জন্য দুই হাজার ৪৮০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৭১ জন প্রার্থী বর্তমানে মেয়র পদে আছেন। এগুলোসহ আওয়ামী লীগের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা ৩০টির বেশি পৌরসভায় সহিংসতা হতে পারে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজশাহী ও রংপুরের পৌরসভাগুলোতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
২৩৪টি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সব কটিতে, বিএনপি ২২৩টি, জাতীয় পার্টি ৭৪টি, জাসদ ২১টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি আটটি পৌরসভায় প্রার্থী দিয়েছে। অন্যরা অন্যান্য দলের।
সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয়ই প্রায় সব পৌরসভায় বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ২০০ থেকে ২২০টি পৌরসভায় জেতার কথা বলছে। যদিও পুলিশের গোপন জরিপ বলছে, আওয়ামী লীগ ১২৮ ও বিএনপি ৪৯টিতে জিততে পারে। ৩৮টি পৌরসভায় দুই পক্ষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
বিএনপি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা না বললেও দলটির পক্ষ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য আছে। একটি হচ্ছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ৮০ শতাংশ পৌরসভায় দলটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। আরেকটি বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচন যদি অর্ধেক সুষ্ঠু হয়, তাহলে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।