পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সোনালী ব্যাংকের ৫০২ শাখায় লেনদেন বন্ধ

45578852নিউজ ডেস্ক: সোনালী ব্যাংকের সার্ভারে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ কারণে সারা দেশে ব্যাংকটির এক হাজার ২০৭টি শাখার মধ্যে ৫০২টি শাখায় সব ধরনের লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের ট্রেজারি ব্যাংক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে লেনদেন করতে না পারায় এসব শাখার লাখ লাখ গ্রাহক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পেনশনভোগী, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, সাধারণ জনসাধারণ, আইএমই গ্রাহকেরা টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। লেনদেন বন্ধ হয়ে পড়ায় নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি অফিস আদালতেও লেনদেন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। শুধু গ্রাহকেরাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন না, এসব শাখার কর্মকর্তারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় নানা কথা শুনতে হচ্ছে, লেনদেন করতে না পারায় অনেক গ্রাহক চড়াও হচ্ছেন কর্মকর্তাদের ওপর। পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করছেন সার্ভার ঠিক হওয়ার অপেক্ষায়। সার্ভার বিকল হওয়ার বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের আইটি শাখার উপমহাব্যবস্থাপক শামীমুল হক আজ বুধবার বিকেলে নয়া দিগন্তকে জানান, সোনালী ব্যাংকের লেনদেন অধিকতর তদারকি করতে সার্ভার কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। চালু করা হয়েছে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম। নতুন একটি প্রযুক্তি চালু করাতে গত কয়েক দিন কোনো কোনো জায়গায় সমস্যা হয়েছে। তবে গতকাল বিকেল থেকে তা পুরোপুরি সচল হয়েছে। এখন আর কোথাও সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক আগে শাখাভিত্তিক ব্যাংকিং করত। অর্থাৎ সারা দিন লেনদেন শেষে সন্ধ্যায় সারা দিনের লেনদেনের তথ্য প্রধান অফিসকে জানানো হতো। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকদের তথ্যের ওপরই নির্ভর করতে হতো। আর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালু হওয়ায় প্রতিটি লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় অফিস জানতে পারবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় অফিস সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সার্ভার চালু করতে গিয়েই বিপত্তির মুখে পড়ে সোনালী ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর থেকে সার্ভার ডাউন হতে থাকে বিভিন্ন শাখায়। ২ জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনালী ব্যাংকের একটি থানার শাখা ব্যবস্থাপক গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, গত সাত দিন ধরে তারা রীতিমতো দোজখের মধ্যে কাটিয়েছেন। গ্রাহক আসছেন টাকা জমা দিতে, কেউ আসছেন প্রয়োজনে টাকা উত্তোলন করতে; কিন্তু কোনো লেনদেনই করতে তারা পারছেন না। অনেকেই মারমুখী হচ্ছেন। এই তো সার্ভার সচল হবে, এ কথা বলে সান্ত্বনা দেয়া হচ্ছে গ্রাহকদের। কিন্তু ক’দিন আর সান্ত্বনা দিয়ে রাখা যায়। এভাবেই তারা করছেন দিনাতিপাত। ৫টায় অফিস ছুটি হয়, কিন্তু সার্ভার সচল হওয়ার অপেক্ষায় রাত ১০-১১টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। শীতের রাতে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। জানা গেছে, সরকারের ট্যাক্স আদায় থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম বেশিরভাগ সম্পন্ন হয় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা, পেনশনভোগী, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বেশিরভাগ সেবামূলক কার্যক্রম হয় এ ব্যাংকের মাধ্যমে। এর বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখা থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকেরা এই ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে। এমন একটি ব্যাংকের পাঁচ শতাধিক শাখার লেনদেন বন্ধ হয়ে পড়ায় কার্যত সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিরা সোনালী ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেছেন। আমাদের রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি সংবাদদাতা সোহেল রানা জানান, রাজবাড়ী জেলার চারটি উপজেলায় সার্ভার বিকল হওয়ায় সোনালী ব্যাংকের সব লেনদেন এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। জানা গেছে, জেলার বালিয়াকান্দি, কালুখালী, গোয়ালন্দ ও পাংশা সোনালী ব্যাংক শাখায় ৩১ ডিসেম্বর থেকে সার্ভারে সমস্যা দেখা দেয়। বালিয়াকান্দি সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মো: আবু দাউদ হোসেন জানান, এ ব্যাংকে ১৬ হাজার অ্যাকাউন্ট ধারী রয়েছে। নিয়মিত লেনদেন করে ৯ হাজার গ্রাহক। ৩১ ডিসেম্বর থেকে সার্ভার সমস্যার কারণে লেনদেন করতে পারছি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ সংবাদদাতা মেহেদুল হাসান আক্কাছ জানিয়েছেন, সাত দিন ধরে অনলাইন ত্রুটির কারণে সোনালী ব্যাংকের গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্স শাখার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা হাসান মাহমুদ রিপন জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সোনালী ব্যাংকের সোনারগাঁও শাখায় চার দিন ধরে লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন করতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন। ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করতে না পেরে অনেক গ্রাহক, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি পর্যন্ত করতে পারছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন। এ সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না বলে ব্যাংক ব্যবস্থাপককে দোষারোপ করেছেন গ্রাহকেরা। সোনালী ব্যাংক সোনারগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন গতকাল বিকেল ৪টার পর সফটওয়্যারের যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধান হয়েছে বলে জানালেও গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। সোনারগাঁও পৌরসভার সচিব সামসুল আলম জানান, সোনারগাঁও পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব সোনালী ব্যাংক সোনারগাঁও শাখায় রয়েছে। সোনারগাঁও পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গত তিন দিন ধরে তাদের হিসাব থেকে বেতনের টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকের যাওয়া-আসা করছেন। টাকা উত্তোলন করতে না পেরে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, আজকের মধ্যে আমাদের বেতন উত্তোলন করতে না পারলে সব শিক্ষককে একত্রিত করে বিক্ষোভ মিছিল বের করব। কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা সৈয়দ বশির আহম্মেদ জানান, বেতনভাতা তুলতে না পেরে আর্থিকভাবে চরম সঙ্কটে পড়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দেখা দিয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে কেউ তা বলতে পারছেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে ব্যাংকের এ শাখা থেকে যোগাযোগ করা হলে তারা বারবার ধৈর্য্য ধরতে বলেন। মাসের প্রথমদিকে এক থেকে দেড় হাজার গ্রাহক প্রতিদিন বেতনের টাকা তুলতে আসেন। কিন্তু এ সপ্তাহে টাকা তোলার চেক জমা দিয়ে পোস্টিং না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিকক্ষ-কর্মচারীরা টাকা নিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। এ দিকে বিকাশ গ্রাহকেরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। জানা যায়, বিকাশের বিটুবির টাকা পিরোজপুর বিকাশ অফিস থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা না পাঠাতে পেরে টাকা শূন্য হয়ে পড়েছে কাউখালীর বিকাশ এজেন্টগুলো। বিকাশের গ্রাহকেরা টাকা ক্যাশ আউট করার জন্য বিভিন্ন এজেন্টদের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
নয়াদিগন্ত

Posted in ব্যবসা-অর্থনীতি | Comments Off on সোনালী ব্যাংকের ৫০২ শাখায় লেনদেন বন্ধ

আজ মধ্যরাতেই ফাঁসি কার্যকর

নিউজ ডেস্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ জাসদ নেতা হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামীর ফাঁসির রায় আজ 83330_186রাতেই কার্যকর হচ্ছে। যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামী আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও হাবিবুর রহমান হাবি যশোর কারাগারে কনডেম সেলে বন্দী রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আসামীদের ফাঁসি কার্যকর হবে বলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, তিনিসহ জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়েছেন। ফাঁসির রায় কার্যকর নির্বিঘ্নে করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, তিনজনের ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এক আসামীর পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সকাল ৮টায় জেল গেটে উপস্থিত হয়ে মরদেহ গ্রহণ করতে বলেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এদিকে ফাঁসি কার্যকর হবে এমন সংবাদে খুশি নিহতের পরিবার ও জাসদের নেতাকর্মীরা। ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় জাসদ কেন্দ্রীয় সভাপতি জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মন্ডল একদল সন্ত্রাসীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পরদিন সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগষ্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামীর ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেন। রায়ের বিরুদ্ধে আসামীপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগষ্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামীর মধ্যে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। অপর আসামী এলাজ উদ্দিন হাইকোর্টে মামলা চলাকালে মৃত্যুবরণ করেন। একই সাথে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামীর সাজা মওকুফ করে মহামান্য হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির তিন আসামী রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান হাবি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিলকারী ফাঁসির ৩ আসামীসহ ৯ জনের সাজা বহাল রাখেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান হাবির বাড়ি মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের রাজপুর রাজনগর গ্রামে। তার পিতার নাম ইসমাইল হোসেন। হাবিবুর রহমান হাবির ছোট ভাই হাসিবুর রহমান জানান, যশোর জেল কর্তৃপক্ষ আমাদের দেখা করার জন্য চিঠি দিয়েছিল। চিঠি পেলেও আমাদের পরিবারের কেউ দেখা করতে যায়নি। মিরপুর থানা পুলিশের একটি টিম তাদের বাড়িতে এসে আগামী শুক্রবার (৮ জানুয়ারী) সকালে তার ভাইয়ের লাশ গ্রহণ করতে বলেছে। ওই দিন সকালেই আমরা যশোর যাব লাশ আনতে। হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জাহানারা জানান, ফাঁসির খবর তারা পেয়েছেন। লাশ এনে এলাকায় দাফন করা হবে। অন্য দুই আসামী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি কুর্শা ইউনিয়নের কুর্শা গ্রামে। আর রাশেদুল ইসলাম ঝন্টুর বাড়ি একই ইউনিয়নের কুলপাড়া মল্লিকপুরে। মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামী পলাতক রয়েছে। তারা হলেন, মান্নান মোল্ল্যা, জালাল ওরফে বাশার, রওশন আলী, বাকের আলী ও জাহান আলী। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে ৫ জন গা ঢাকা দেন। এর মধ্যে মান্নান মোল্লা, জাহান ও জালাল ভারতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। রায় কার্যকর হচ্ছে এমন সংবাদে নিহতের পরিবার ও জেলার বিভিন্ন মহল নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। নিহত জাসদ নেতা এয়াকুব আলীর ছেলে ইউসুফ আলী রুশো জানান, আমার পিতাসহ যারা সেদিন নির্মমভাবে হত্যা হয়েছিলো তাদের খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে জানতে পেরেছি। এ খবরে আমরা খুব খুশি। ফাঁসি কার্যকরের মধ্যদিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা করছি। তবে এ রায় আরো আগে কার্যকর হওয়া উচিৎ ছিলো। কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন জানান, একজন নিঃস্বার্থ প্রচার বিমুখ নেতা ছিলেন কাজী আরেফ। সন্ত্রাস ও সম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়ায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল তাঁর। তাকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মহামান্য আদালত কর্তৃক ঘোষিত রায়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসী তথা কুষ্টিয়াবাসীরও কলঙ্কের দায়মুক্তি হবে।

হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে জাতীয় নেতা কাজী আরেফসহ ৫ জাসদ নেতা খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িতরা বিচারের আওতায় আসলেও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীরা আজও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাদের চিহ্নিত করতে পারেনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন বলেন, কাজী আরেফ হত্যাকান্ড কোন সাধারণ হত্যাকান্ড ছিল না। গভীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়। কাজী আরেফ একজন দুরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাকে হত্যার মধ্যদিয়ে একটি চেতনাকে ধবংস করা হয়। তাই এ ঘটনার পিছনে থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছেন, অর্থ দিয়ে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক এটা আমাদের চাওয়া। পরিকল্পনাকারী ও অর্থ সরবরাহকারী হিসেবে তৎকালিন বিএনপি নেতা হাবলু মোল্লার নাম এসেছিল। পরবর্তিতে বিএনপি জোট সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। এদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানানান তিনি। সে দিন যা ঘটেছিল সেদিন ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী। জনসভা পরিচালনাকারী হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী আমলা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি কারশেদ আলম স্মৃতিচারণ করে বলেন, তখন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা। আরেফ ভাই বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্য দুই থেকে তিন মিনিট দেয়ার পর হামলা শুরু হয়। জনসভা মঞ্চের পূর্ব পাশ থেকে এসে গুলি চালানো হয়। হামলায় ৯ জন অংশ নেয়। সবার হাতে ছিল ভারী অস্ত্র। তৎকালিন কুষ্টিয়া জেলা জাসদ সভাপতি লোকমান হোসেনকে উদ্দেশ্য করে প্রথম গুলি চালায় তারা। পরে জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলীও গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় কাজী আরেফ আহমেদ সন্ত্রাসীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা ওই সময় কাজী আরেফকে মঞ্চ থেকে নেমে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে কাজী আরেফকে প্রচন্ড গালমন্দ করেন তারা। কাজী আরেফ খুনিদের অনুরাধ করে বলেন, তোমরা আমাকে মার। কোথায় যেতে হবে বল আমি যাচ্ছি। কিন্তু অন্যদের মেরো না। পরে সন্ত্রাসীরা কাজী আরেফকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। তিনটি বুলেট লাগে তার শরীরে। মঞ্চের ওপর পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে এ মামলার অন্যতম স্বাক্ষী হন কারশেদ আলম। রায় কার্যকর হতে যাচ্ছে জেনে তিনিও আনন্দিত। তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় কার্যকর হচ্ছে জেনে ভাল লাগছে। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছিলাম এ রকম একটি দিনের জন্য। আমি দেখেছি কি নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিলো তাদের। এই হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন ঘটতে কাজী আরেফ আহমেদ তার জীবদ্দশায় শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত যে লড়াই করে গেছেন। মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সেই একই আদর্শ ও চেতনা লালন করতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েও এতটুকু বিচ্যুত হননি পরিবারের সদস্যরা। যে আদর্শিক চেতনায় তিনি একটা সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখার অপরাধে সন্ত্রাসীদের নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। সর্বশেষ এই রায় কার্যকরের মধ্যদিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পাবে এমনই প্রত্যাশা পরিবারের। মুক্তিযুদ্ধে কাজী আরেফের অবদান কাজী আরেফ আহমেদ মূলত একজন জনদরদী, আত্মমর্যাদাশীল, নির্লোভ মানুষ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্রশ্নে তিনি ছিলেন একরোখা ও জেদি। আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনই কাজী আরেফ আহমেদকে রাজনৈতিক কর্মী করে গড়ে তোলে। ১৯৬২ এর নভেম্বর এ সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ বাংলাদেশে স্বাধীন করার সিদ্ধান্তে এক মতে পৌঁছান। এটাই ৬২ এর নিউক্লিয়াস নামে পরিচিত। যার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে যুদ্ধের লক্ষ্যে একটি গোপন সংগঠন গড়ে উঠেছিলো। সারা দেশব্যাপী এ সংগঠনের তৎপরতা ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষিত হলে, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে কাজী আরেফ আহমেদ প্রথম সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেন। বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ১৯৭০ সালে গঠিত ‘জয় বাংলা বাহিনীর’ অন্যতম সংগঠকও ছিলেন তিনি। কাজী আরেফ আহমেদ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকার অন্যতম রূপকার। দীর্ঘদিন ধরে লালিত স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নসাধ ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তার সূচনালগ্নে কাজী আরেফ আহমেদ বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট’র অন্যতম নেতার ভূমিকা পালন করেন। এই বাহিনীর নেতা হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিম রণাঙ্গনের (বৃহত্তর পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা ও বরিশাল ) নেতৃত্ব দেন।
নয়াদিগন্ত

Posted in জাতীয় | Comments Off on আজ মধ্যরাতেই ফাঁসি কার্যকর

আমার ইচ্ছে করে না: মোশাররফ করিম

AMAR-ICCHE-KARENAবিনােদন প্রতিবেদক : মোশাররফ করিমের কোন কিছু করতে ইচ্ছে করে না। ভাত খেতে ইচ্ছে করে না, কাজ করতে ইচ্ছা করে না। প্রেম করে কিন্তু বিয়ে করতে ইচ্ছে করে না। বাবা-মা জোর করে শখের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এখানেও বিপত্তি। বিয়ে করে মোশাররফ করিমের বউ রেখে ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছা করে না। ‘আমার ইচ্ছে করে না’ নামের একটি নাটকে এমনই মজার রোগ হয়েছে অভিনেতা মোশাররফ করিমের। সালাম পাঠানের লেখা ও শামীম জামানের পরিচালনায় নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে সম্প্রতি।
নাটক প্রসঙ্গে মোশাররফ করিম বলেন, ‘ চরিত্রটি বেশ মজার। এরকম চরিত্র আগেও করেছি। তবে গল্প বলার ধরণটি ভালো লেগেছে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।’ অভিনেত্রী শখ বলেন, ‘মোশাররফ ভাইয়ের সঙ্গে অভিনয় সব সময় আনন্দের। এই কাজটি দেখে দর্শকও আনন্দ পাবে’
নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন আমিনুল হক হেলাল, মনিরা মিঠু, মৌসুমী সরকার প্রমুখ।

Posted in বিনোদন | Comments Off on আমার ইচ্ছে করে না: মোশাররফ করিম

দণ্ড কার্যকর সময়ের ব্যাপার মাত্র : আইনমন্ত্রী

ঢাকা: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো বাধা রইল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।bccnews24.com-01-51-561x330
বুধবার আপিল বিভাগ নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের পর অন্যান্য অপরাধীর সাজা যেভাবে কার্যকর হয়েছে, নিজামীর মৃত্যুদণ্ড তেমনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে।
তিনি আরো বলেন, আল বদর প্রধান নিজামী মুক্তিযুদ্ধের সময় যে জঘন্য অপরাধ করেছেন, আদালত তা আমলে নিয়েই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। এর মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।উৎসঃ আরটিএনএন

Posted in জাতীয় | Comments Off on দণ্ড কার্যকর সময়ের ব্যাপার মাত্র : আইনমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার জামায়াতের হরতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদ-াদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
এ রায় ‘নিজামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।Hortal

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ঠা-া মাথায় সরকারের নির্ধারিত ছকে হত্যা করে সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চায়। সরকারের জুলুম, নির্যাতন ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আমরা আগামীকাল ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপুর্ণ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’

এতে আরো বলা হয়, ‘ঘোষিত কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা এবং কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ ও পেশাজীবীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা দেশের আপামর জনতার প্রতি আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

Posted in জাতীয় | Comments Off on বৃহস্পতিবার জামায়াতের হরতাল

নিজামীর ফাঁসির দণ্ড বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধের আপিল মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
গত ৮ ডিসেম্বর নিজামীর আপিলের ওপর দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক প্রমুখ। নিজামীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন এস এম শাহজাহান ও শিশির মনির। এরপর আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার তারিখ ৬ জানুয়ারি ধার্য করেন।

141102165432_motiur_rahman_nizami_640x360_ap
নিজামীর আপিলের রায়টি জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পঞ্চম রায়। অপর চারটি রায় হয়েছে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, দুই সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে। এঁদের মধ্যে রায়ে ফাঁসি বহাল থাকায় মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার দণ্ড কার্যকর হয়েছে। সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা এক মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ২৮ মে ট্রাইব্যুনাল নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু করেন। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর এই মামলার রায়ে নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যাসহ চারটি অভিযোগে তাঁকে ফাঁসি ও চারটিতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, একাত্তরে নিজামী ছিলেন জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি। ছাত্রসংঘই পরে আলবদর বাহিনীতে পরিণত হয়, আর গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীই মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে বুদ্ধিজীবী নিধন চালায়। আলবদর বাহিনীর অপরাধ ও কৃতকর্মের দায়-দায়িত্ব নেতা হিসেবে নিজামীর ওপর বর্তায়।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, অথচ এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয়, স্বাধীনতার সক্রিয় বিরোধিতাকারী এমন এক ব্যক্তিকে এই রাষ্ট্রের মন্ত্রী করা হয়েছিল। তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা ছিল তৎকালীন সরকারের গুরুতর ভুল এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রমহারা দুই লাখ নারীর গালে সরাসরি চপেটাঘাত। এ ধরনের লজ্জাজনক কাজ গোটা জাতির জন্য অবমাননাকর।

নিজামী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আপিলের শুনানি শুরু হয়। ১১ কার্যদিবস শুনানি শেষে ৮ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। আজ রায় ঘোষণা করা হলো।

Posted in জাতীয় | Comments Off on নিজামীর ফাঁসির দণ্ড বহাল

নিজামীর চূড়ান্ত রায় বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর আপিল মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বুধবার।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ৮ ডিসেম্বর নিজামীর আপিল মামলার রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করে আদেশ দেয়।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন নিজামীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এ আপিলের শুনানি গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পরে ৩০ নভেম্বর নিজামীর আপিলের যুক্তিতর্ক শুরু করে ২ ডিসেম্বর আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করে। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে প্রমাণিত আটটি অভিযোগে সাক্ষ্য-প্রমাণ বিষয়ে তিন কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এর বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে আপিল বিভাগ এক আদেশে ৩০ নভেম্বর, ১ ও ২ ডিসেম্বর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য করে দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এরপর যুক্তিখণ্ডনের জন্য ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে দেয়া হয়। আপিল মামলাটির শুনানির শুরুতে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ কার্যদিবস মামলার পেপার বুক উপস্থাপন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সীমাহীন অপরাধ বলে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিই এ অপরাধের একমাত্র সাজা। ফাঁসি ছাড়া এর অন্য কোনো বিকল্প সাজা নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় দিয়েছে তা যেন বহাল থাকে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তিনি।

নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যাসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৮টি অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

প্রমাণিত চারটি অর্থাৎ সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়িসহ দু’টি গ্রামে প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে গণহত্যা ও প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ (২ নম্বর অভিযোগ), করমজা গ্রামে ১০ জনকে গণহত্যা, একজনকে ধর্ষণসহ বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ (৪ নম্বর অভিযোগ), ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে গণহত্যা (৬ নম্বর অভিযোগ) এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (১৬ নম্বর অভিযোগ) দায়ে নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়।76bbb9ebe7332ede4fd461d1f72ffe24

অন্য চারটি অর্থাৎ পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাওলানা কছিমুদ্দিন হত্যা (১ নম্বর অভিযোগ), মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে পাকিস্তানি সেনা, রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র (৩ নম্বর অভিযোগ), বৃশালিখা গ্রামের সোহরাব আলী হত্যা (৭ নম্বর অভিযোগ) এবং রুমী, বদি, জালালসহ সাত গেরিলা যোদ্ধা হত্যার প্ররোচনার (৮ নম্বর অভিযোগ) দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ৫ ও ৯ থেকে ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর আপিল দায়ের করেন তিনি। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেশ করে তাতে ১৬৮টি কারণ উল্লেখ করে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এ আপিলটি দাখিল করেন। ১২১ পৃষ্ঠায় মূল আপিল আবেদনের সঙ্গে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে। মূল আপিলে ১৬৮ টি গ্রাউন্ড পেশ করে দণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়েছে।

নিজামীর মামলাটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রায় হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ আপিল মামলার। ট্রাইব্যুনাল থেকে আপিল বিভাগে আসা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর মধ্যে এর আগে ৫ জনের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর গত বছরের ১১ এপ্রিল জামায়াতের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং ২১ নভেম্বর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

আপিল বিভাগের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ হলেও এখনও রিভিউ নিষ্পত্তি হয়নি।

এছাড়া শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যুবরণ করায় আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

Posted in জাতীয় | Comments Off on নিজামীর চূড়ান্ত রায় বুধবার

মীর কাসেমের আপিল শুনানির দিন নির্ধারণ বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধেরে দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার আসামিপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।মীর-কাসেম-আলী

আদালতে মীর কাসেমের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন তুহিন। রাষ্টপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল মুরাদ রেজা।

২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেন মীর কাসেমের আইনজীবীরা। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্র্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা জসিম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে হত্যার দায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে রায় প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে ৭ বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অপরদিকে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ থেকে মীর কাসেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

Posted in জাতীয় | Comments Off on মীর কাসেমের আপিল শুনানির দিন নির্ধারণ বুধবার

যুক্তরাষ্ট্রের সাকিব-শিশির

মেয়েসন্তানের জন্মের পর উম্মে আহমেদ শিশিরকে খুব একটা প্রকাশ্য হতে দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তেমন একটা সরব হননি। দীর্ঘদিন পর ফেসবুকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার স্বামী সাকিব আল হাসানের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে শিশিরকে।6437_10156335150895394_939247601993525826_n

বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকের অফিশিয়াল ফ্যান পেজে প্রকাশ করেন সাকিব।

ছবিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাস্তায় জ্যাকেট পরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন সাকিব ও শিশির। ব্যস্ততম মার্কেটের পাশে জনাকীর্ণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোলা ছবিটিতে দুজনকে বেশ সাবলীল মনে হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর স্ত্রীর সঙ্গে পাবলিক প্লেসে তোলা ছবিটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সাকিব-ভক্তরা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ছবিটিতে লাইক পড়েছে তিন লাখ ১৭ হাজার ৪৬৮টি। মন্তব্য পড়েছে চার হাজার ২০টি। আর ছবিটি শেয়ার করেছেন এক হাজার ৭৭৬ জন।

স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গত ২৮ ডিসেম্বর মাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান সাকিব। এর এক সপ্তাহ পর স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার।

Posted in খেলাধুলা | Comments Off on যুক্তরাষ্ট্রের সাকিব-শিশির

বনানীতে ৬ বছরের শিশু ধর্ষিত

rape02ঢাকা: রাজধানীর বনানী থানার মহাখালী দক্ষিণ পাড়ায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার শিকার শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির মা জানান, তিনি গার্মেন্টসে চাকুরি করেন এবং শিশুটির বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। শিশুটি মহাখালীর একটি স্কুলে নার্সারিতে পড়ে। সোমবার সকালে মা-বাবা কাজে গেলে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া লুৎফর (২২) শিশুটিকে বাসায় ডেকে নেয় এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি আহত অবস্থায় বাসায় আসে এবং দুপুরে তার বাবা বাসায় ফেরার পর ঘটনা জানায়। তার মা-বাবা বিকালে বনানী থানায় অভিযোগ নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে লুৎফর পালাতক আছে।

Posted in সারা দেশ | Comments Off on বনানীতে ৬ বছরের শিশু ধর্ষিত

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud