May 4, 2026
এম এ মনিক: মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে। আজ সকালে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মশিউর মালেক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আজই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমানের আদালতে মামলার গ্রহণ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলেছে বলে জানিয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকার একটি বাসায় প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ডিবি ১৯০ রাউন্ড গুলি, একটি এমকে ডাবলওয়ান স্নাইপার রাইফেল, বিস্ফোরক উপাদান ও সামরিক বাহিনীর পোশাক উদ্ধার করেছে। ডিবি বলছে, এর আগে নগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন সদস্যকে তাঁরা আটক করেছে। তাঁরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে আজ রোববার সকাল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ওই অভিযান চলে। আটক তিনজন হলেন, মো. নাঈম (২৫), মো রাসেল (২৪) ও মো. ফয়সাল (২৫)।
অভিযান পরিচালনাকারী নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. বাবুল আক্তার বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে নাঈমকে, নালাপাড়া থেকে ফয়সালকে ও কসমোপলিটন এলাকা থেকে রাসেলকে আটক করেন। তাঁরা তিনজনই চট্টগ্রামে জেএমবির প্রধান মো ফারদিনের সহযোগী। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়। দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে ডিবি। অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তার আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া এমকে ডাবলওয়ান স্নাইপার রাইফেলের নিশানা কখনো বিফল হয় না। দেড় হাজার গজ দূর থেকেও নিশানা ঠক রাখা যায়। জেএমবির হাতে এটি কীভাবে গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ ছয়টার দিকে আমানবাজার এলাকার ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসাটি দোতলা। বাসার নাম হাজী ইসহাক ম্যানসন। বাসার মালিক হাজী ইসহাক দোতলায় থাকেন। নিচতলায় দুটি ফ্ল্যাট। ডিবি বলছে, একটিতে জেএমবির প্রধান ফারদিন থাকতেন।
বাড়ির মালিক মো. ইসহাক বলেন, ছয় মাস আগে নাফিস নামে একজন ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মাসিক ছয় হাজার টাকায় বাসাটি ভাড়া নেন। কোরবানি ঈদের আগে নাফিসের স্ত্রী ও সন্তান ঢাকায় চলে যায়। মাঝে মাঝে নাফিস এই বাসায় আসতেন। জিজ্ঞেস করলে জানাতেন, বাসার কাজে পরিবার বাইরে আছে। ১০ দিন আগে নাফিস ওই বাসায় সর্বশেষ আসেন। তাঁদের কারও আচরণ দেখেই কোনো সন্দেহ হয়নি। গতকাল রাতে অভিযানের পর তাঁরা পুলিশকে বাসা থেকে অস্ত্র বের করতে দেখেছেন বলে জানান। ডিবি মনে করছে জেএমবির চট্টগ্রামের প্রধান মো. ফারদিনই নাফিস পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
ওই বাসার সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে ৮ থেকে ১০টি টিনের ঘর রয়েছে। সেখানকার ভাড়াটিয়ারা বলেন, তাঁরা কেউ কিছু জানতেন না। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নগরের সদরঘাট এলাকায় তহবিল সংগ্রহের জন্য ছিনতাই করতে গিয়ে গ্রেনেড বিস্ফোরণে জেএমবির দুই সদস্য নিহত হন। আহত হন ফারদিনসহ জেএমবির কয়েকজন সদস্য। বাবুল আক্তারের ভাষ্য, আটক হওয়া রাসেল সেদিন আহত জেএমবি সদস্যদের হাতে ব্যান্ডেজসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
লাইফ স্টাইল ডেস্ক: ভেষজ গুণাগুণের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই নিমপাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে স্বাস্থ্যরক্ষায়। পাশাপাশি রূপচর্চায়ও অতুলনীয় সহজলভ্য এ পাতা। ব্রণ দূর করা, ইনফেকশন দূর করা থেকে শুরু করে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে নিম। জেনে নিন রূপচর্চায় নিমপাতার ব্যবহার-
ত্বকের ইনফেকশন দূর করতে
নিমপাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল গুণাগুণ। ইনফেকশনসহ ত্বকের বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই দূর করে নিমপাতা।
ব্রণ দূর করতে
ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে নিম। কয়েকটি নিমপাতা বেটে রস সংগ্রহ করুন। দই মিশিয়ে নিমপাতার রস লাগান মুখে। কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন মুখ। নিমের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ ব্রণ দূর করবে।
শুষ্ক ত্বকের যত্নে
শুষ্ক ত্বকের জন্য নিম খুবই উপকারি। নিম পাউডারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা আঙুর বীজের তেল মেশান। মিশ্রণটি মুখ, হাত এবং পায়ে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। দূর হবে ত্বকের রুক্ষতা।
ব্ল্যাকহেডস দূর করতে
ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস দূর করে নিমপাতা। কমলার খোসা গুঁড়া করে নিম পাউডারের সঙ্গে মেশান। এ দুটো উপকরণ সমপরিমাণ মেশাবেন। এতে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে পাতলা পেস্ট তৈরি করুন। নাক ও আশেপাশে ঘষে ঘষে লাগান মিশ্রণটি। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
ঢাকা: ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে পুলিশ। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তাবকে নাকচ করেছে। ইসির একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে ইসির সঙ্গে বৈঠকে ঊর্ধ্বোতন ও মধ্যম পর্যায়ের কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এ সুপারিশ তুলে ধরেন।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়িত্ব অবহেলার জন্য কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তার ওপর অসন্তোস প্রকাশ করেছে।
রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনের এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বোতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা প্রশাসক(ডিসি), পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
বৈঠকে পুলিশ এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অনেক সাংবাদিক বুথের পাশে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে ভোটের কার্যক্রম সম্প্রচার করে থাকে যা ভোট গ্রহণে সমস্যা সৃষ্টি করে। এজন্য ভোটের দিন সাংবাদিকরা ভোট কেন্দ্রের বাইরে থেকে যাতে সংবাদ সংগ্রহ করে সেজন্য নিয়ম চালু করা উচিত।
সূত্র আরও উল্লেখ করে, বৈঠকে আরেক ঊর্ধŸতন পুলিশ কর্মকর্তা ভোটের দিন সাংবাদিকদের আচরণের ওপর বিশেষ নিয়মকানুন প্রণয়নের সুপারিশ করেন। অন্যথায় তা অতীতের ন্যায় ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করা এবং বাইরে অবস্থান করা নিয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে।
বৈঠকে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, মিডিয়ার একটা অংশ তাদের ব্যবসায়ীক নীতি অনুসারে সবসময় নেতিবাচক সংবাদগুলো তুলে ধরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক নির্বাচন কমিশনার ডেইলি স্টারকে জানান, এর প্রতিক্রিয়ায় ইসি বলে, কমিশন সাংবাদিকদের ওপর এমন ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। কারণ সংবাদমাধ্যম হাতেনাতে অনিয়ম খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করে।
তবে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রাকিবুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের ভোট কেন্দ্রের পাশে দীর্ঘক্ষণ না থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক একসাথে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করলে তা ভোটের কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে। তাই এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে সুযোগ দিতে কিছুক্ষণ থাকার পর ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করা উচিত।
এপ্রিলে ঢাকা ও চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা বাধার মুখোমুখি হন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকায় ইসি মনে করছে, কিছু পৌরসভায় নির্বাচন কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, গণমাধ্যম প্রায় প্রতিদিনই আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরছে। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এমন কিছুই হচ্ছে না। কোনটা সত্য? রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সংবাদ প্রতিবেদনের তদন্ত করা উচিত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারবৃন্দ বিগত কয়েক নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
সিইসি বলেন, বিগত নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্যের উপস্থিতিতে কয়েকটি ভোট কেন্দ্র আটকিয়ে রাখা ও ব্যালট ঠাসাঠাসির ঘটনা ঘটেছে। ভোটের দিন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে সাড়া দিতে হবে।
আরেক কমিশনার বলেন, বিগত নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্বারা নিয়মকানুন ভঙ্গের অভিযোগ থাকায় দেশে ও দেশের বাইরে উভয় জায়গায়ই তাদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে।
এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তা প্রস্তাব করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেহেতু মাঠ পর্যায়ে অবস্থান করে তাই তারা শোকেজ নোটিশ প্রদানে সাহস করতে নাও পারে। তাই ইসিকে শোকেজ নোটিশ দিতে হবে এবং এমপি ও মন্ত্রীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইন পদক্ষেপ নিতে হবে।
যদিও ইসি এ বিষয়ে কোন মনযোগ দেয়নি। ইসি বলে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এটা ঘনিষ্ঠভাবে নিরীক্ষণ করতে হবে, বিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কমিশনে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে ঊর্ধ্বোতন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক চরমপন্থা কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে উত্তরের জেলাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব করেন।
জঙ্গিরা নির্বাচনী প্রচারণার জনসমাগম স্থলে টার্গেট করতে পারে বলেও এক কর্মকর্তা সতর্ক করেন।
অপর গোয়েন্দা কর্মকর্তা সতর্ক করেন, সামনের দিনগুলোতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে দলীয় কোন্দল বাড়তে পারে।
বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এসময় তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের প্রচারণায় সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই।
ডেইলি স্টার থেকে অনুবাদ করেছেন মমিনুল ইসলাম।
বিনােদন ডেস্ক: চলচ্চিত্রে এক সময় ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে চিত্রনায়িকা পপিকে। তবে আগের মত আর সরব নন তিনি। অবশ্য ভালো কাজ করার ইচ্ছে এখনও রয়েছে তার। সম্প্রতি একটি বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুভেচ্ছাদূত হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। হয়েছেন এ কোম্পানীর প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল। নতুন বছরে করবেন আরও কিছু বিজ্ঞাপন। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত কয়েট ছবি। লম্বা সময় চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে রয়েছে তার নানা অভিজ্ঞতা। সেসব বিষয় নিয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কামরুজ্জামান মিলু
এখন কোথায় ? কিভাবে সময় কাটছে আপনার ?
এইতো একটু বাইরে আছি। চলচ্চিত্রের অবস্থা তো এখন আর আগের মতো নেই। কিভাবে ভালো সময় কাটবে !
সম্প্রতি একটি ফুড গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর হয়ে একটি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করলেন ? কতদিন পর এ কাজটা করলেন ?
প্রায় পাঁচ বছর পর মডেল হিসেবে এ বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করা হলো। কাজটি বেশ ভালোই হয়েছে। কাজটি করে আমারও ভালো লেগেছে। এখানে আমাকে মিউজিকের তালে নাচতেও দেখা যাবে। রোমানিয়া বিস্কুটের এ বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। নতুন এ প্রতিষ্ঠানটির একটি পণ্যের তিনটি বিজ্ঞাপনের জন্য মডেল হতে হবে। কয়েকদিন আগে এফডিসির ৪ নম্বর ফ্লোরে একটা বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ শেষ হল মাত্র। বাকি কাজগুলো নতুন বছরের প্রথম দিকেই হবে বলে জানি।
এ বছর তো শেষের দিকে, নতুন কোনো ছবিতে কাজ শুরু করছেন কি ?
ডিসেম্বরে শেষে ‘সোনাবন্ধু’ ছবির কাজটা শেষ করতে চাই। ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে মাহবুবা শাহরীনের ‘হতাই’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘সোনাবন্ধু’ ছবির শেষভাগের কাজ করব। এ ছবিতে আমার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন ডিএ তায়েব ও পরীমনি। আর আপাতত একটা নতুন ছবির কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তবে এ ছবি ও পরিচালকের নাম এই মুহূর্তে বলতে চাই না। কারণ ইদানিং শুটিং স্পটে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুর বিশ্বাস নেই। দেখা যাবে, নাম শোনার পর কম টাকায় নতুন কোনো অভিনেত্রীকে নিয়ে নেয়া হয়েছে। এই রকম অনেক ঘটনা হরহামেশাই হচ্ছে। তাই শুটিং স্পটে গিয়ে ক্যামেরার সামনে দৃশ্যধারনের পর জানাতে চাই।
আপনি তো টিভির জন্য বেশ কিছু কাজ করেছেন, এখনও করছেন। তাই চিত্রনায়িকা হিসেবে টিভিতে দর্শকরা আপনার চেহারা
বেশি দেখার করণে সিনেমা হলে আপনার অভিনীত কোনো ছবিতে তার প্রভাব পরছে না?
না। আমি এটা বিশ্বাস করিনা। বলিউডে তো শাহরুখ খান, দীপিকাসহ অনেক তারকারা টিভি শোতে গিয়ে হাজির হয়। তাদের অনেক অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তাদের তো চাহিদা কমেনি। এমনকি সালমান শাহ, মৌসুমী ও পূর্ণিমা টিভিতে কাজ করেছেন। তাদেরকে তো সিনেমা হলে মানুষ এখনও দেখতে ভীড় জমায়। আর আমি তো চলচ্চিত্রে আসার আগেই তারকা হয়েছি। কারণ লাক্স আনন্দ বিচিত্রার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরিচিতি পাই আমি। এরপর তো চলচ্চিত্র। তাই ছোটপর্দায় মুখ দেখানো নিয়ে আমি চিন্তিত না।
আপনার অভিনীত কি কি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
‘বিয়ে হলো বাসর হলো না’, ‘শর্টকাটে বড়লোক’, ‘দুই ভাইয়ের যুদ্ধ’ ও ‘পৌষ মাসের পিরিতি’ ছবিগুলো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এখন ছবির সংখ্যা বাড়লেও ভালো কাজ তেমন চোখে পড়ছে না। সেই আগের মতোই গল্প, গল্পের ধাঁচ। নতুন অনেক প্রযুক্তি এসেছে। কিন্তু আমরা বদলাতে পারিনি। তাই ছবির সংখ্যা কমিয়ে ভালো ছবির কাজই সামনে করার ইচ্ছে আছে।
অন্য প্রসঙ্গ, পপি বিয়ে করছেন কবে ?
বিয়ের খবরটা ঢাকঢোল পিটিয়েই দিতে চাই। তবে কবে দিতে পারব জানি না। আল্লাহর হুকুম হলেই বিয়ে হবে। বিয়ে নিয়ে ভাবি না। তবে এটুকু নিশ্চিত, সময় হলেই আমি সবাইকে জানিয়ে বিয়ের ঘোষণা দেব।
মানবজমিন
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে নিজ ঘরে পরিবার পরিকল্পনার এক নারী কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। তার নাম আলেয়া খাতুন স্বপ্না (৫০)। রোববার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শহরের দক্ষিণ কাচারী পাড়া নিহতের নিজ বাড়ি থেকে রশি দিয়ে হাত-পা বাধা তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আলেয়া মেলান্দহ পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাকরি করতেন।
দুই সন্তানের জননী নিহত আলেয়া খাতুন স্বপ্নার স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন। তিনি সোনালী ব্যাংক শ্রীপুর কুমারিয়া শাখার ম্যানেজার। চাকরির সুবাদে তিনি শ্রীপুর কুমারিয়া তার কর্মস্থলে থাকেন। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিন তিনিও বাড়িতে ছিলেন না। দুই মেয়ে মিমি ও জিমি । ছোট মেয়ে মিমি মায়ের কাছে থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। আর বড় মেয়ে জিমি ময়মনসিংহ থেকে ক্যান্টরম্যান্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছেন। ঘটনার দিন ছোট মেয়ে মিমি ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না।
মিমি জানায়, সে আর তার মা এক বাড়িতে পাশাপাশি রুমে থাকত। সকালে উঠে পাশের রুমে গিয়ে সে দেখতে পায় বিছানায় তার মায়ের হাত-পা বাধা লাশ এবং ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো। এরপর সে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পিলখানা বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই বাহিনী কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। তিনি আশা করেন, বিজিবির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কখনো এ ধরনের আত্মঘাতী সংঘাত যেন সৃষ্টি না হয় সে জন্য বিজিবির সদস্যদের সদাসতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আজ রোববার বিজিবি দিবস উপলক্ষে পিলখানায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বিজিবিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ যাতে বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে চলতে পারে, সেভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ইপিআরের দুঃসাহসী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। সে সময় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডকে ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁকে সেই ন্যক্কারজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল। সবার সহযোগিতায় সেদিনের সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। তিনি বলেন, সেই বিদ্রোহে জড়িত বিজিবির উচ্ছৃঙ্খল সদস্যদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার করে বিজিবিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাহিনী কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে এরকম আত্মঘাতী সংঘাত যেন না হয়, সে জন্য বিজিবির সদস্যদের সদাসতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
সীমান্তে দায়িত্বপালনে বিজিবি আগের চেয়ে অনেক বেশি সফলতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার কমেছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে।
বিজিবিকে আধুনিক করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো ১০০ নারী সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিজিবিতে আরও সদস্য নিয়োগ, বেতন-ভাতা বাড়ানো, ভিডিও কনফারেন্স, বিওপি, সোলার প্যানেল, বিএসএফ ও বিজিবির সম্পর্ক উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ, বিশেষ করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিনিময়সহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে, মর্যাদার সঙ্গে চলবে। সেভাবেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, বিজয় অর্জনকারী জাত কারও কাছে মাথা নত করবে না। ২০২১ সালে দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নতসমৃদ্ধ দেশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: পৌষের প্রথমভাগেই দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীতেও অনুভূত হচ্ছে শীতের প্রকোপ। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, আগামী ক’দিন এ তীব্রতা আরও বাড়তে থাকবে। পৌষ যতোই মাঘের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে, শীতের তীব্রতা ততোই বাড়তে থাকবে। আগামী অন্তত দিন দশেক শীত বাড়তে থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসগুলো। রাজধানী ঢাকাতেই ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস শীত পড়বে রোববার। দেশের কোনও কোনও স্থানে তা ৭-৮ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যাবে।
পৌষের আগ থেকেই সন্ধ্যার পর ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে হালকা শীত অনুভূত হলেও সপ্তাহখানেক ধরেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে ঘন কুয়াশা। দিনভর রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও রাতে তাপমাত্রা কমে সর্বত্র ভোরের দিকে কুয়াশা পড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার ও পরের দিন সোমবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামবে। মঙ্গলবার ও বুধবার তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও পরের সপ্তাহজুড়েই ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আবার ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করবে বলে জানাচ্ছে একাধিক আবহাওয়া পূর্বাভাস।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি) বলছে, আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা আরও ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। এতে বেড়ে যাবে শীতের তীব্রতাও। দিনের চেয়ে রাতের তাপমাত্রা কম থাকবে বলেও পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এরইমধ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল অঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
এমনকি শৈত্য প্রবাহ রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু অঞ্চলেও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বিএমডির তথ্য মতে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা রেকর্ড করা হয় নীলফামারীর ডিমলায়। আর সর্বোচ্চ তামপাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে। এখানকার তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকা: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট পৌর নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি জোট আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি নেতারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছেন বলে মন্তব্য করে হানিফ বলেন, বিএনপি নেতারা পৌর নির্বাচনে পথসভায় সরকার ও মন্ত্রীদের বিষয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। যা নির্বাচনের আচরণবিধির পরিপন্থী। আমরা নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাব। পাশাপাশি বিএনপি নেতাদের বলব, উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না।
চট্টগ্রাম নৌ-ঘাঁটির মসজিদে হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে তিনি বলেন, চোরাগোপ্তা হামলা কারা করছে, সেটা এখন পরিষ্কার। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে ও খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের বিচার বন্ধ করতে এই সব হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এ সব হামলার পেছনে একটাই শক্তি। সেটা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, দল থেকে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার নৌকার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করতে পারে, এমন জনপ্রিয় কেউ হয়ে ওঠেননি। তাই দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের বলব, তারা নির্বাচন থেকে সরে এসে দলীয় পদ ফিরে পেতে আবেদন করতে পারেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের যারা সহযোগিতা করবেন, তথ্য-প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কার্যনির্বাহী সদস্য এনামুল হক শামীম, এস এম কামাল প্রমুখ।
দিন কয়েক আগে পত্রিকায় একটি অদ্ভুত খবর পড়লাম। অদ্ভুত বললাম এ কারণে যে, সচরাচর পত্রিকাগুলো এমন খবর ছাপে না। আর ছাপবেই বা কেমনে কারণ এমন খবর তো সৃষ্টিই হয় না। খবরটি ছিল জনৈক সরকারি কর্মকর্তাকে তার সততা, কর্মদক্ষতা এবং কর্মে অসাধারণ সফলতার জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। অবাক করা তথ্য হলো কোনো ভুঁইফোড় সংগঠন কর্তৃক সম্মাননা জানানো হয়নি অথবা কর্মকর্তার নিজস্ব অর্থে হল ভাড়া করে এবং ভাড়া করা বক্তা এনে কোনো ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়নি। কর্মকর্তার নিয়োগকর্তা অর্থাৎ রাষ্ট্রই অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল। অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রধান প্রাণপুরুষ রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদ স্বয়ং উপস্থিত থেকে নিজ হাতে প্রজাতন্ত্রের সেই সৎ এবং সাহসী কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেছেন।
খবরে প্রকাশ মুনির চৌধুরী নামক কর্মকর্তা বর্তমানে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি নামক সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোম্পানি সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠাটির পুঞ্জীভূত অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অরাজকতা দূর করার জন্য সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে এবং যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় কর্মকর্তা মুনির চৌধুরীকে সেই টাস্কফোর্সের প্রধান করা হয়। টাস্কফোর্স অতি অল্পসময়ের মধ্যে দুর্নীতি এবং অনিয়ম রোধ, বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে— যার ফলশ্রুতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানটির আয় ৫০০ কোটি টাকা বেড়ে যায়। একটি সংস্থার এমন সফলতার পেছনে মানুষটিকে সম্মান জানানোর জন্য রাষ্ট্র যখন সম্মাননা প্রদানের ব্যবস্থা করল ঠিক তখনই প্রসঙ্গটি আমার নজরে এলো অন্য একটি কারণে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলার আগে জনাব মুনির চৌধুরী সম্পর্কে কিছু বলে নিই।
মুনির চৌধুরীর সঙ্গে আমার সরাসরি কোনো পরিচয় নেই। ২০১২ সালের শেষ দিকে একবার তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছিল তাও আবার ২-৩ মিনিটের জন্য। কিন্তু তার নাম আমি জানতাম বহুদিন আগে থেকেই। তিনি এক সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিয়োগ লাভের পরই তিনি বন্দরের বেদখল হওয়া ভূমি উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা মূল্যের বেদখল হওয়া সরকারি ভূ-সম্পত্তি উদ্ধার করে তিনি চট্টগ্রাম তো বটেই পুরো দেশেই হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। শিপিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিধায় আমি খুব ভালো করেই জানতাম, চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমি দখলকারী কারা এবং তাদের ক্ষমতার ভিত্তি কতটা মজবুত! ফলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যখন এত বড় একটি চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হলেন তখন সারা দেশের আরও অনেক মানুষের মতো আমিও তাকে ম্যাজিস্ট্রেট মুনির চৌধুরী নামেই হূদয়ের মণিকোঠায় শ্রদ্ধার আসনে বসিয়ে রাখলাম।
এখানে বলে রাখা ভালো, খুব অল্পসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সততা, নিষ্ঠা এবং ব্যতিক্রমী কর্মের কথা দেশবাসী জানতে পারে। ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট রোকনোদৌলার অভিযান কিংবা গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সড়ক যোগাযোগ ও ভৌতিক কাঠামোর উন্নয়নে এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী জনাব কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর অবদান অনেকের মতো আমিও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। নিজের মনের অবদমিত আকাক্সক্ষা, শিক্ষা-দীক্ষা এবং ধর্ম বোধের কারণে আমি সেই ছোটবেলা থেকেই সৎ এবং ভালো মানুষের ভালো ভালো কর্মগুলোর সন্ধান করে আসছি এবং নিজের অবস্থান থেকে যথাসম্ভব সাহায্য সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমার সেই অনুসন্ধিৎসু মনের কারণেই হয়তোবা মুনির চৌধুরীর বিভিন্ন সময়ের নানান তৎপরতার কথা আমার কাছে চলে এসেছে। তিনি যখন মিল্কভিটা অথবা পরিবেশ অধিদফতরে কর্মরত ছিলেন তখনও যথেষ্ট দক্ষতা এবং সাহস শক্তি নিয়ে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কতটা আপসহীন এবং আইন বাস্তবায়নে কতটা কঠোর ছিলেন তা নিম্নের ঘটনা থেকেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম।
আমি তখন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জনৈক বিদেশি শিল্পপতিকে আমার অফিসে নিয়ে এলো। ঢাকার নিকটবর্তী কালিয়াকৈরে বিদেশি শিল্পপতির রয়েছে সুবিশাল কম্পোজিট টেক্সাইল কারখানা। তিনি অভিযোগ করলেন, মাসখানেক আগে তার ফ্যাক্টরির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এমন কাজ করতেই পারে এবং সচরাচর করেও থাকে। ফলে আমি কোনো প্রশ্ন না করেই শিল্পপতির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়লাম। ড. হাসান মাহমুদ তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অন্যদিকে তৎকালীন সচিব মহোদয়ের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতার কথা হয়তো কেউ কেউ জানতেন। আমি প্রথমেই মন্ত্রীকে ফোন করার জন্য উদ্যত হলাম। ব্যবসায়ী বললেন, মন্ত্রীকে ফোন করে লাভ হবে না। আমরা অন্য একটি চ্যানেলে মন্ত্রীর অফিস গিয়ে তাকে দিয়ে বেশ কয়েকবার ফোন করিয়েছি— কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমরা আপনার কাছে এসেছি সচিব সাহেবকে দিয়ে তদবির করানোর জন্য।
ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি বেশ নড়েচড়ে বসলাম এবং খানিকটা আশ্চর্য হয়ে গেলাম। উৎসুক দৃষ্টি দিয়ে তার দিকে তাকালাম এবং বললাম মন্ত্রী কাকে ফোন করেছিলেন? তিনি জবাব দিলেন মুনির চৌধুরীকে! আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম, তিনি কি ম্যাজিস্ট্রেট মুনির চৌধুরী! তার উত্তর হ্যাঁ। আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার গভীরতা আন্দাজ করতে পারলাম এবং ব্যবসায়ীকে বললাম, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব অত্যন্ত সৎ, দক্ষ এবং সাহসী। আমি নিশ্চিত, আপনার ফ্যাক্টরিতে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। তা না হলে উনি হয়তো এত বড় ফ্যাক্টরি যা কিনা শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা বন্ধ করতেন না। আমি তাকে আসল ঘটনা বলতে বললাম এবং সবকিছু শোনার পর আমি ব্যবসায়ীটিকে বললাম, আমি নিশ্চিত, মন্ত্রণালয়ের সচিব সুপারিশ করলেও কাজ হবে না। আমার কথা শুনে তারা মন খারাপ করে গোমড়ামুখে তাকিয়ে রইলেন।
মুনির চৌধুরীর সঙ্গে আমার তখন পর্যন্ত কোনো পরিচয় ছিল না। এমনকি ভদ্রলোককে আমি কোনো দিন দেখিনি। কিন্তু তারপরও কেন জানি মনে হলো তিনি হয়তো আমাকে চেনেন এবং আমার সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করেন। আমি ব্যবসায়ী ভদ্রলোককে আরেক দফা জেরা করে প্রকৃত ঘটনা অবহিত হওয়ার চেষ্টা করলাম এবং মনে মনে ধারণা নিতে চেষ্টা করলাম, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমি যদি ম্যাজিস্ট্রেট মুনিরের চেয়ারে বসতাম তাহলে কি করতাম। এরপর আমি জনাব মুনির চৌধুরীকে ফোন করলাম এবং আমার পূর্ব ধারণা অনুযায়ীই তার কাছ থেকে যথাযথ সম্ভাষণ এবং আন্তরিকতাপূর্ণ ব্যবহার পেলাম। টেলিফোনের উদ্দেশ্য প্রকাশ করতেই তিনি ফটাফট বলে ফেললেন আলোচ্য ব্যবসায়ী কীভাবে পরিবেশের সর্বনাশ করছেন। কীভাবে আশপাশের দরিদ্র জমির মালিকদের টাকা ও ক্ষমতার জোর দেখিয়ে তাদের জমিতে নির্বিচারে ফ্যাক্টরির বর্জ্য ফেলছেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে এযাবৎ মন্ত্রীসহ কতজনকে দিয়ে ফোন করিয়েছেন। আমার যেহেতু মানসিক প্রস্তুতি ছিল সে কারণে তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি ফ্যাক্টরিটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে চান নাকি শর্ত সাপেক্ষে চালু করতে রাজি আছেন। তিনি আরেক দফা ব্যবসায়ীর স্বেচ্ছাচারিতা এবং আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর নানা ফিরিস্তি দিলেন এবং বললেন, সে তো আমাদের কোনো কথাই মানছে না। এই পর্যায়ে আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললাম যে, এবার অবশ্যই মানবেন। তবে সবকিছু তো একসঙ্গে সম্ভব হবে না, সময় দিতে হবে। আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যে করা সম্ভব এমন একটি শর্তের কথা বলুন যা বাস্তবায়িত হলে আপনি ব্যবসায়ীর সদিচ্ছা সম্পর্কে বিশ্বাস স্থাপন করবেন এবং গ্যাসলাইন চালু করে দেবেন। তিনি একটি ড্রেন তৈরির শর্ত দিলেন। ব্যবসায়ী রাজি হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ড্রেন নির্মাণ করে দিলেন এবং জনাব মুনির চৌধুরীও যথারীতি তার কথা রাখলেন।
উপরোক্ত ঘটনার পর আমার সঙ্গে আর কোনো দিন মুনির চৌধুরীর কথা বা দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। গত কয়েক দিন আগে পত্রিকায় যখন দেখলাম তিনি সরকার কর্তৃক সম্মানিত হয়েছেন এবং কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন তখন মনে হলো শিরোনাম প্রসঙ্গে কিছু লেখা উচিত। কারণ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা যদি ভালো কাজের প্রশংসা করতে না পারি এবং ভালো মানুষের প্রতি যথাসময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে না পারি তাহলে এই জমিনে ভালো মানুষ পয়দা হবে না। অন্যদিকে ঘুষখোর, অলস, অকর্মা এবং দুর্জন প্রকৃতির লোকদের যদি সমাজ ঘৃণাসহকারে প্রত্যাখ্যান এবং প্রতিরোধ না করে তবে ওদের বংশ বৃদ্ধি হবে মশা-মাছি প্রভৃতি নিকৃষ্ট পতঙ্গের চেয়েও বেশি সংখ্যায়।
আমাকে যদি আপনি প্রশ্ন করেন, কেন কিছু লোক শত প্রতিকূলতা, অভাব এবং অভিযোগের মধ্যে থেকেও দেশ ও সমাজ-সংসারের জন্য কাজ করে যেতে পারে? আমার ধারণা, মানুষ তার অন্তর্নিহিত সাহস, শক্তি, সততা, দক্ষতা, কৌশল, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং স্রষ্টার প্রতি অসীম নির্ভরতার কারণে প্রবহমান স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে ভালো ভালো কাজ করতে পারে। কিছু মানুষ ঘুষ, দুর্নীতি, ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো প্রভাব প্রতিপত্তি ছাড়াই ভালো কাজ করে। এটাই সর্বোত্তম পš’া। দ্বিতীয় পš’া হলো নিজের জীবনের অতীত অভিজ্ঞতা অথবা আত্মীয়স্বজনের প্রভাব অথবা কারও দ্বারা অত্যাচারিত বা অপমানিত হওয়ার কারণে কারও কারও জিদ চেপে যায় দৃষ্টান্তমূলক ভালো কাজ করার জন্য। অনেকে আবার সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে পেয়ে অথবা পরিস্থিতির চাপে পড়ে ভালো ভালো কাজ করে ফেলেন। তৃতীয় পš’ায় কিছু মানুষ ভালো কাজ করেন মূলত দুটি কারণে। প্রথমটি হলো নিজের ব্যক্তিগত সুনাম, সমৃদ্ধি, প্রচার, প্রপাগান্ডা এবং লাভের চিন্তা। মানুষ যখন মনে করে, মন্দ কাজ করার চেয়ে ভালো কাজ করলে তার লাভ বেশি হবে এবং বোনাস হিসেবে সুনাম-সমৃদ্ধি, পদ-পদবি পাওয়ার সুযোগ হবে তখন সে দুর্বার গতিতে ছুটতে আরম্ভ করে। দ্বিতীয়টি হলো— কিছু লোক ঘুষ খেয়ে ভালো কাজ করে। নিজের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা এবং মন্দ লোকদের শাস্তি দেওয়ার মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তি লাভের আকাক্সক্ষা থেকেও মানুষ ভালো কাজ করে থাকে।
আমি মনে করি, ভালো কাজ যেভাবেই হোক না কেন তা সর্বাবস্থায় প্রশংসার দাবি রাখে। কারণ ভালো কাজ যারা করেন তারা প্রথমত বুদ্ধিমান এবং পরিশ্রমী, তারা মানুষ হিসেবেও উত্তম এবং যে কোনো দেশ, জাতি এবং সমাজের জন্য মূল্যবান সম্পত্তি। তাদের সংখ্যা সব সময়ই কম থাকে। তাদের মনমানসিকতা সর্বদা স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। তারা লাজুক এবং অভিমানী। অন্যের দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হলে তারা প্রায়ই নিজেদের ওপর জুলুম করে নিজেই নিজেকে শেষ করে দেয়। তারা বঞ্চিত হলে অভিযোগ করে না, অত্যাচারিত হলে নালিশ করে না এবং বিপদে পড়লে কোনো প্রভাবশালীর দরজায় না গিয়ে দুর্ভোগকে মাথা পেতে নেওয়ার জন্য চুপ করে বসে থাকে। এ কারণে সভ্য দেশের সভ্য সমাজ সব সময় তাদের ভালো মানুষদের বেড়ে ওঠা এবং সংরক্ষণ ও শ্রীবৃদ্ধির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক, সমরনায়ক কিংবা সম্রাট ও শাহেনশাহবৃন্দ সফল হয়েছিলেন ভালো মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা, তাদের পরামর্শ গ্রহণ, তাদের সম্মান জানানো এবং ভালো মানুষের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করার কৃতিত্বের কারণে।
এবার শিরোনামের দ্বিতীয় অংশ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করে আজকের প্রসঙ্গের ইতি টানব। অন্যরা কেন ভালো কাজ করেন না অথবা কেন তারা মন্দ কাজ করেন? আসলে মন্দ কাজ করার জন্য বাহানার অভাব হয় না, মানুষের লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ভয়-ভীতি, অলসতা এবং ভোগের ইচ্ছে যখন ন্যায়নীতি, শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্ম-কর্ম, পিতা-মাতা এবং সন্তান-সন্ততি-পরিজনের ওপর প্রাধান্য পায় তখনই মানুষ মন্দ পথে পা বাড়ায়। কেউ কেউ মন্দ কাজ করেন তার ভেতরকার অন্তর্নিহিত অপরাধ প্রবণতার জন্য। অনেকের পরিবার, সমাজ এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ তাকে অন্যায়-অনিয়ম ও দুর্নীতি করার জন্য বাধ্য করে থাকে। কেউ কেউ আবার ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই কেবল অন্যের ক্রীড়নক বা হুকুমের দাস হিসেবে মালিকের ইচ্ছায় দুর্নীতি করে থাকেন।
দুর্নীতিবাজরা সব সময় হূদয়হীন, পাষাণ এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়ে থাকে; তাদের শরীর, মন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং পঞ্চইন্দ্রিয় যেন অপরাধের বিরাট এক কারখানা। সেখানে নতুন নতুন অপরাধ সংগঠনের জন্য রীতিমতো গবেষণা এবং পূজা-অর্চনা হয়ে থাকে। তারা কাউকে ভালোবাসেন না, এমনকি নিজেকেও নয়। তারা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, তাদের নিষ্ঠুরতার প্রথম শিকার হয়ে থাকেন তাদের আপন পিতা-মাতা, ভাইবোন এবং স্ত্রী-পুত্র-কন্যা। এরপর তারা নিজের ওপর জুলুম শুরু করেন অতিরিক্ত ভোগ, দখল, পানাহার এবং নৃত্য-সংগীত-ফুর্তি দ্বারা। অনেকে আবার সীমাহীন কৃপণতা, অবিশ্বাস, সন্দেহ এবং অহেতুক ভয় দ্বারা নিজের সর্বনাশ ঘটিয়ে ফেলেন। মন্দ কাজ, বদরাগ, অশ্লীলতা, পাগলাটে ভাব এবং চরিত্রহীনতার বাহারি অলঙ্কারে সজ্জিত হয়ে মন্দ লোকেরা পরিবার, সমাজ, সংসার এবং রাষ্ট্রকে জ্বালাতে থাকেন অমৃত্যু।
সবচেয়ে আজব করা তথ্য হলো, ভালো মানুষ জীবনের যে কোনো সময়ে মন্দ হয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন দুর্নীতি, অপরাধ এবং অন্যায় করার পর কেউ আর ভালো হতে পারেন না। এ কারণেই ভালোদের সংরক্ষণ এবং পরিচর্যা অত্যাবশ্যক। যা সমাজ, রাষ্ট্র সবারই কর্তব্য হওয়া উচিত।
লেখক : কলামিস্ট।