May 25, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : সংবিধান সম্মতভাবে বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবার তা দেবে। একাদশ নির্বাচনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ‘নো রিটার্ন পজিশন’-এ থাকবে না ক্ষমতাসীনরা। সংবিধানের মধ্য থেকে ছাড় দেওয়ার আভাস মিলছে অনেক নেতার মুখ থেকেই। অনেক সুযোগ রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। সেই ছাড় কী ধরনের হতে পারে, তা এখনও পরিষ্কার করেননি তারা। তবে নো রিটার্ন পজিশনে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে নেতারা বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশে এবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। বিভিন্ন উপায়ে সেই বার্তাও ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে আন্তর্জাতিক দেনদরবার আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎপর থাকবে। এর ফলে ‘নো রিটার্ন পজিশন’ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে আওয়ামী লীগ সরকার।
আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার ও দলের এ অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে নেতারা বলতে অপারগতা প্রকাশ করলেও নানাভাবে আভাস দিয়ে যাচ্ছেন। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকরা আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, পাল্টাচ্ছে পরিবেশ-পরিস্থিতিও।
সংবিধান সম্মতভাবে এগিয়ে আসলে বিএনপিকে ছাড় দেওয়া হবে, মাঠে-ঘাটে এমন বার্তাও দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। বিএনপি নির্বাচনের বাইরে যে থাকবে না, এটা ক্ষমতাসীনরা নিশ্চিত। দলীয় ফোরামে শেখ হাসিনা নেতাদের অবহিত করেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। ফলে প্রস্তুতিতে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে তার নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।
দলীয় ফোরামের বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দলের প্রায় সবগুলো সভাতেই নেতাদের অবহিত করেন যে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে। ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন এবার হবে না।তাই সবাইকে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে আসতে হবে। নাম প্রকাশ না করে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানের ভেতরে কোনও ফাঁকফোকর থেকে থাকলে সেটুকু পাবে বিএনপি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সংবিধানের ভেতরে থাকা সকল সুযোগ-সুবিধা সব রাজনৈতিক দলই পাবে। আওয়ামী লীগ সংবিধান সমুন্নত রেখে কাজ করবে।’
নীতি-নির্ধারকরা জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সর্বত্র প্রস্তাব থাকবে সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। সংবিধানই হবে অন্যতম প্রস্তাব।
জানা গেছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ করার যে কথা শোনা যাচ্ছে, সেখানেও আওয়ামী লীগ সংবিধানের বিষয়টি তুলে ধরবে। তারা মনে করে, রাষ্ট্রপতিও যদি এমন কোনও আয়োজন করেন সেখানেও তারা সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাই বলবেন। আর সংবিধানের ভেতরে থেকে নির্বাচন হওয়া মানেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকে যদি সমঝোতার সুযোগ থাকে, সেক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আওয়ামী লীগের ভেতরে রয়েছে। আর এটা মেনে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসলে অন্য বিষয়গুলোও সমাঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সহায়ক সরকারের নামে সংবিধান ও শেখ হাসিনার প্রস্তাবের বাইরে গিয়ে বিএনপি অনড় থাকলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।
একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুসরণ করেই নির্বাচন হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নাই। ফলে সংবিধান অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা সব রাজনৈতিক দলই পাবে।’
দলটির আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনে করে আগামী নির্বাচন অবশ্যিই অংশগ্রহণমূলক হবে। আর সেই নির্বাচন হবে সংবিধান সম্মতভাবে। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে সংবিধানই হবে একমাত্র সমাধান। সেখানে যার যে অধিকার, তা নিশ্চয়ই নিশ্চিত করবে বর্তমান সরকার।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় হেল্প ডেস্ক খোলার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। মন্ত্রীর নির্দেশে দেশের সব জেলায় হেল্প ডেস্ক খোলা হচ্ছে। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা পরীক্ষিৎ চৌধুরী স্বক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপিত্ততে আরও জানানো হয়, ‘একইসঙ্গে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধির ব্যথা প্রশমনে প্রতিটি হাসপাতালে প্রয়োজনে জয়েন্ট পেইন ক্লিনিক বা আর্থালজিয়া ক্লিনিক খোলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখান থেকে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি বা ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হবে। দেশের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালেও এই সেবা দেওয়া হবে।
রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব হাসপাতালের পরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের কাছে মন্ত্রীর এই নির্দেশনা পৌঁছে দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
এর আগে চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষণের জন্য পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার (চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) খোলা হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতরে। এ ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করার জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আওতায়। চিকিৎসক ও সাধারণ জনগণের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য সার্বক্ষণিক হটলাইনও চালু করা হয়েছে। যার ফোন নম্বর হচ্ছে ০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯৩৭-০০০০১১। চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য www.iedcr.gov.bd লিংকটি ভিজিট করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসুসহ ছয়জন ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত সচিবের পদমর্যাদায় কর্মরত আরও তিন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করেছে সরকার। সোমবার (১০ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
অতিরিক্ত সচিব থেকে পদোন্নতি পাওয়া ৯ সচিবদের মধ্যে রয়েছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. কায়কোবাদ, বিসিএস প্রশাসন অ্যাকাডেমির রেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইসতিয়াক আহমেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, ভারপ্রাপ্ত বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম, পরিকল্পনা কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মোস্তফা কামাল উদ্দীন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়াকে সচিব করা হয়েছে।
রেওয়াজ অনুযায়ী এদেরকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে ওএসডি করা হয়। পরে আলাদা আদেশে সবাইকে আগের দফতরেই পদায়ন করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট :সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রামপাল বিষয়ে সরকার কোনও মিথ্যাচার করছে না। ইউনেস্কো কিছু ছোট ছোট শর্ত দিয়েছে। দেশ, জনগণ ও পরিবেশের স্বার্থে সরকার সেগুলো পূরণ করবে। একেবারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে- এটি সত্য নয়। বিএনপির অভ্যাসই হলো মিথ্যাচার ও কান্নাকাটি করা। তারা পুরনো সেই রেকর্ড বাজিয়েই চলেছে। আওয়ামী লীগ মিথ্যাচারের রাজনীতি করে না। যা প্রকাশ্য দিবালোকের মতো সত্য, সেই কথাটিই আমরা বলছি।’
রবিবার (৯ জুলাই) সকালে দলের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার আগে যশোরের রাজারহাট মোড়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘করাপশান ইজ অ্যা ওয়ে অব লাইফ অ্যাক্রস দ্য ওয়ার্ল্ড! দুর্নীতি ছিল, কিন্তু অনেক কমিয়েছি।’
তিনি নিজ মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘এখন টেন্ডার হয় ইলেক্ট্রনিক টেন্ডারের মাধ্যমে; সেকারণে এখানে টেম্পারিংয়ের কোনও সুযোগ নেই। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সৎ; তার সততার কারণে অনেক সেক্টরে দুর্নীতি কমানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ অনেকটা অমূলক।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব পার্সেন্টেজ, কমিশন এবং প্রমোশনে কোনও অর্থ নেয় না। যদি কোনও মন্ত্রণালয়ের সচিব দুর্নীতিমুক্ত থাকেন, সেক্ষেত্রে ওই মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি অটোমেটিক্যালি ৫০ পার্সেন্ট কমে যায়।’
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘দেশে পদ্মাসেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট কিংবা মেট্রো রেলের প্রকল্প নিয়ে কই বিদেশিরা তো প্রশ্ন তুলছে না!’
বাংলাদেশের সড়কে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগের যে রাস্তা ছিল চার লেনের, এখন আলটিমেটলি তা হচ্ছে আট লেনের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সার্ভিস লেন। বিদেশিরা আগের সেই চার লেনের রাস্তার হিসেব দিচ্ছে। আমরা তাদের এ বিষয়ে বুঝিয়েছি। তাছাড়া আমাদের দেশের মাটির অবস্থাটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। অনেক নিচু জমি উঁচু করা লাগে।’
বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বসে বসে প্রেস ব্রিফিং করে আর কান্নাকাটি করে, তাদের কর্মীদের জন্যে কষ্ট হয় বলে। কিন্তু তারা তো আমাদের হাজার হাজার কর্মীকে হত্যা করে রক্ত স্রোত বইয়ে দিয়েছে। আমাদের কাঁদতে কাঁদতে এখন চোখের পানি শুকিয়ে গেছে।’
সূত্র : বাংরাট্রিবিউন।
নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রেখেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে চায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।এ লক্ষ্যে দল দু’টি একটি সমঝোতার কৌশলও খুঁজছে। এক্ষেত্রে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে দল দু’টি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। তবে পরিচয় উদ্ধৃত হয়ে কোনও নেতা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বিএনপি নেতারা বলছেন, কোনোভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবেন না তারা। খালেদা জিয়ার আসন্ন সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনায় দশম জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি থাকতে পারে। আর এটি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেও। তাদের মতে, সংসদ ভেঙে দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা অক্ষুণ্ন থাকবে।
তবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মত দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। তাদের যুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে যদি নির্বাচনের দিকে আওয়ামী লীগ যায়, তাহলে মাঠের নেতাদের মনোবল ভেঙে যাবে। ভোটের আগেই নৈতিক পরাজয় ঘটবে।
সংবিধানের আলোকেই নির্বাচন হবে, ক্ষমতাসীন দলের অনড় অবস্থানের কারণে ইতোমধ্যেই বিএনপির উপলব্ধি এই মুহূর্তে সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচনে যেতে হবে তাদের। তবে আন্দোলনের কথাও ক্ষীণস্বরে বলছেন তারা। সংবিধান থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে, এ নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে মরিয়া দলটি। গত ১ জুলাই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যও ইঙ্গিতবহ। ওইদিন এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, যেখানে এই সরকারের কোনও ভূমিকা থাকবে না।’
সংবিধানের ৫৭ ধারার ৩ উপধারায় বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনও কিছুই অযোগ্য করিবে না।’ অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ততক্ষণ পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনিই ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। আর এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আওয়ামী লীগের কোনও কোনও নেতা সংসদ ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধান সম্মতভাবে আগামী নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে কোনও আপস হবে না। সংবিধানসম্মত মানে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন। এ নিয়মকে আমরা ধরে রাখব।’
এদিকে ‘সংবিধানের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এই সংবিধানে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছিল না?’ এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের ইচ্ছাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ১৯৯১ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে দিয়ে প্রধান করে নির্বাচন করা হয়েছিল, সেভাবে এবারও হবে।’ তার ভাষ্য, ‘সরকার চাইলে পারবে, সংবিধান সংশোধন করবে।’
সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে দুই দলের সমঝোতা সম্পর্কে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ‘এটাও সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, আমাদের নির্বাচনে আনাও সরকারের দায়িত্ব।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষমতাসীন দলের দুই শীর্ষনেতা বলেন, ‘সমঝোতা হতে পারে সংসদের মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী তিন মাস আগে নয়, তিন মাস পরে নির্বাচন হবে, তা নিয়েই। কারণ পরবর্তী তিন মাস পরে নির্বাচন হলে সংসদ থাকবে না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা থাকবে ঠিকই। সংসদ থাকবে না সংবিধানের ভেতরে থাকা এই অনুচ্ছেদ নিয়ে হয়ত ছাড় দেওয়া-নেওয়ার একটি পরিবেশ তখন তৈরি হতে পারে।’
প্র
সঙ্গত, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ এ বলা আছে, সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং
(খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনও কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।
এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, ‘সংবিধানের মধ্যে থেকেই একাধিক প্রস্তাব তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। সংবিধানের ১২৩-এর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ অবসানের আগে ও পরে দু’ভাবেই নির্বাচন করার সুযোগ আছে। বিএনপি ওই ধারাই পর্যালোচনা করে দেখছে।
ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা বলেন, ‘‘বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাব সংবিধান মেনেই দিতে হবে। তারা যদি মনে করে, সেটাই সহায়ক সরকার তার অধীনে নির্বাচনে আসবে তাতে ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ বিএনপিকে।’’
নীতি-নির্ধারকরা আরও বলছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রস্তাব হলো সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। আর সংবিধানের ভেতরে থেকে নির্বাচন হওয়া মানেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন। নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকে যদি সমঝোতা সুযোগ থাকে সেক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আওয়ামী লীগের ভেতরে রয়েছে। আর এটা মেনে বিএনপি নির্বাচনে এলে অন্য বিষয়গুলো সমাঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সহায়ক সরকারের নামে সংবিধান ও শেখ হাসিনার বাইরে গিয়ে সহায়ক সরকারের নামে অনড় থাকলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার কোনও পদক্ষেপ নেবে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সংবিধানসম্মতভাবেই নির্বাচন হবে, এটাই থাকবে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব। এর বাইরে আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে আর কোনও প্রস্তাব নেই, থাকবেও না।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘সংবিধান সম্মতভাবে শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। বিএনপি যদি এই নিয়মে নির্বাচনে আসতে রাজি হয়, সেটাকে তারা সহায়ক সরকার নাম দিতে পারে।’
বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে শেখ হাসিনাকে রেখেই নির্বাচনের বিষয়টিকে না বললেও ভেতরে-ভেতরে তাকে মেনে নিয়েই প্রস্তুতি চলছে। এর বাইরে বিএনপির সামনে আপাতত কোনও বাস্তবতা নেই বলেই দলটির নেতারা মনে করেন। দলের এক প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে শাশ্বত। তাদের বাদ দিয়ে কিছু চলবে না। আমরা আলোচনায় বিশ্বাসী। তবে সরকার না মানলে আন্দোলনে যেতে পারি। আর নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রয়োজন আছে কিনা, সেটিও ভাবা যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়ার হিসেবে স্থায়ী কমিটির প্রবীণ এক সদস্য বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন—এই তিন বিভাগকে নিউট্রাল রোল প্লে করতে হবে। এসব বিভাগে কোন পার্টির লোক বসবে, দ্যাট ইজ ডিফারেন্স, এই তিনটি বিভাগ যদি নিউট্রাল ওয়েতে কাজ করে, তাহলে বিএনপি উইন। যেকোনও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে এই তিনটি পদে দেওয়া যেতে পারে। খালেদা জিয়ার হাতে থাকবে না, শেখ হাসিনারও না। বিষয়টি দুই পার্টির জন্যই মঙ্গল।’
শেখ হাসিনাকে রেখেই সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদী কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। আওয়ামী লীগ তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সার্ভে করেছে। ওই সার্ভে তারা দেখেছে তাদের অবস্থা ভালো না। জনগণ জানিয়েছে, তারা নিজেরা ভোট দিতে চায়। যে ভোট গণনা করে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। এজন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে।’
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সহায়ক সরকারের মূল কনসেপ্ট হচ্ছে দলীয় সরকারের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা। আর আমরা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকব না। কয়েকটি প্রস্তাব দেব।’
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে ফোন করে ৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল। বাংলা ট্রিবিউন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হয়। নয়তো প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হয়। দেশের মানুষের যে উন্নতি হওয়ার কথা ছিল সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সহায়তায় এলিট শ্রেণি গড়ে ওঠে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতা দখরকারীরা ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চালায়।
এসময় আওয়ামী লীগ প্রধান আরও বলেন, দখলকারীরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাজপথে আন্দোলন করা আওয়ামী লীগ ও দলটির অনুসারিদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। তাই অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। কারণ অতীতের শিক্ষা ছাড়া ভবিষ্যতের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর অত্যাচারের কথাও মনে রাখতে হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট : টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের জন্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ খুব সহজ হবে না বলে ভোটের দুই বছর আগে থেকেই সেই বাধা পেরোতে কৌশল নিয়ে কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
প্রয়োজনে জোট সম্প্রসারণের আভাস দিয়ে তিনি বলছেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগের কৌশলগত পরিবর্তন হতে পারে। তবে ‘শেকড়’ থেকে তারা কখনও সরবেন না।
এছাড়া দলীয় কোন্দল নিরসন, প্রার্থী মনোনয়নের জন্য একাধিক জরিপ, তৃণমূলের মতামত গ্রহণ এবং সমালোচিত সংসদ সদস্যদের শুদ্ধ হতে সময় বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে হিসেবে রেখে এসব কৌশল নিলেও ভোটে আসতে দলটির দেওয়া শর্তের বিষয়ে অনমনীয় আওয়ামী লীগ।
ওবায়দুল কাদেরের ভাষায়, “এই সব আস্কারা দিলে দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে ভোটে নারাজ বিএনপি জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আড়াই বছরের মাথায় ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আসেন ওবায়দুল কাদের।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা-ঘাটে উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তাদের কাজ নিয়ে জবাবদিহি ও জনগণের বক্তব্য শোনায় আলোচিত কাদের এরইমধ্যে দেশের অনেক এলাকায় দলীয় সভায় অংশ নিয়েছেন।
সেই অভিজ্ঞতা এবং দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সেতুভবনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।
নির্বাচনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদের মধ্যে কার কী অবস্থা তা নিয়ে জরিপ হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সংস্থা, এর মধ্যে বেসরকারি সংস্থাও আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে একটি, পেশাজীবীদের পক্ষ থেকেও একটা জরিপ চলছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার জরিপ তো আছেই।
শুধু জরিপ নয়, দলীয় পর্যায়েও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্লোজলি মনিটর’ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
“ময়মনসিংহ-বরিশাল ছাড়া সব কটিতে প্রতিনিধি সভা করা হয়েছে। আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছি, আগামী দিনের প্রার্থীদের নিয়ে চিন্তাভাবনা প্রকাশ করছে, এর মধ্য দিয়ে তাদের মতামত জানতে পারছি।
“নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে একটা চয়েস দেওয়া হবে প্রার্থী বাছাইয়ে, এখন তৃণমূলে প্রার্থী বাছাইয়ের নিয়ম আছে তিনজন পর্যন্ত নাম পাঠাতে পারে, যেটা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তৃণমূলের একটি পছন্দ থাকবে। সেই চয়েসটাও জরিপের সাথে মিলিয়ে প্রার্থীবাছাই করে মনোনোয়ন দেওয়া হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশে শত শত ‘গোপন আটক’ আর ‘গুম’র অভিযোগকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ‘নেতিবাচক প্রচারণা’ দাবি করলেও সংস্থাটি তাদের অভিযোগকে সত্য বলে দাবি করেছে। ‘তিনি আমাদের কাছে নেই: বাংলাদেশে গোপন আটক আর গুম’ শিরোনামে প্রকাশিত এইচআরডব্লিউ-এর বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছে ওই মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা। নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা বাংলাদেশের উদ্দেশে বলছে, সত্য বললেই তাকে নেতিবাচক প্রচারণা বলা যায় না।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এইচআরডব্লিউ-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে কয়েকশ’ মানুষ গুম কিংবা গোপন আটকের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিরোধী নেতাও রয়েছেন। সংস্থাটির প্রতিবেদনে অন্তত ৯০ জনের তথ্য রয়েছে, যারা কেবল ২০১৬ সালেই গুম হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে এক সপ্তাহ বা একমাস গোপন স্থানে আটকে রাখার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে এরকম ৪৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাদের কাছে তথ্য থাকার দাবি করে সংস্থাটি বলছে, এরকম আটক ২১জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে আর নয়জনের কোন তথ্যই আর জানা যায়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময়ও আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা করেছে এই সংগঠনটি। তাদের বর্তমান প্রতিবেদনটিও সেই প্রচারণার অংশ।’ এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এইচআরডব্লিউ তাদের বিবৃতিতে বলছে, ‘না বাংলাদেশ, সত্য বলার মানে ‘নেতিবাচক প্রচারণা’ নয়।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা আছে। তারা এসব নিয়ে কিছু বলে না। তারা (এইচআরডব্লিউ) এত গায়ে পড়ে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আসে কেন?’
বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছে এইচআরডব্লিউ। তারা বাংলাদেশের বক্তব্যের সত্যতা অস্বীকার করে বলছে, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘ কখনও বাংলাদেশের কথিত গুমের ব্যাপারে কিছু বলেনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, তাদের মতোই গুম-সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা জাতিসংঘ ওয়ার্কিং গ্রুপের ক্ষেত্রেও বারবার অভিযোগগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে ‘কঠোর সতর্কতা’ জারি করেছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ নানা কারণে আমাদের দেশে মানুষ গুম হয়। কোনো সময় ব্যবসায়িক কারণে, যখন দেনা হয়ে যায় তখন লুকিয়ে থাকে। কখনো বা সামাজিক কারণে লুকিয়ে থাকে। কখনোবা বড় বড় অপরাধী যখন দেখে, পাপের ভার এমনই হয়ে গেছে যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার খোঁজ শুরু করেছে, সেই সময় সে আত্মগোপনে যায়।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এগুলো যদি গুম বলতে হয় তাহলে ‘গুমের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হবে’। তার দাবি, ‘গুমের যে খবর আছে, এর অধিকাংশই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করেছে। যারা ব্যবসায়িক কারণে গুম হয়েছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করেছে।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি, তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ হাজির করেছে তারা। ডিবি, র্যাব কিংবা প্রশাসনের নামে তাদের কোথায় থেকে কখন কীভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর স্বজনদের পক্ষ থেকে এদের খোঁজ জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক রাখার কথা অস্বীকার করেছে। বিনা বিচারে দিনের পর দিন আটক রাখার পর এদের কাউকে কাউকে আদালতে হাজির করা হয়েছে আদালতে, কাউকে কাউকে চুপ থাকার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ গুম বা ‘ক্রসফায়ার’-এর শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে নিখোঁজ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ একশজনেরও বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেখানে পুলিশের কাছে করা অভিযোগ ও অন্যান্য আইনি কাগজপত্রও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এসব ঘটনায়
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও গ্রহণ করে না পুলিশ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে এসব অভিযোগ তদন্ত করার আহবান জানিয়ে এইচআরডব্লিউ বাংলাদেশ সরকারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় না নিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
একাত্তরের গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামার মরদেহ আজ মঙ্গলবার সকালে কাতার এয়ারওয়েজ সহযোগে ঢাকায় পৌঁছেছে।
সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মামার মরদেহ সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হবে।
দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদুল জামিয়ায় নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে জন্মস্থান রূপনগরে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক মামা গত ৩০ জুন শুক্রবার দুপুরে কাতারের রাজধানী দোহারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। গত ২৮ এপ্রিল শহিদুল হক মামা ঢাকা থেকে সুইডেন যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কাতারের ওয়াকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
শহীদুল হক মামা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষি ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।
সোমবার রায় ঘোষণার পর এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ রায়ের বিরুদ্ধে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া না জানাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না।’
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনাকালে বৈঠকে একজন প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক মন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনমন্ত্রীকে তার সচিবালয়স্থ কক্ষে ডেকে নিয়ে এ নির্দেশনা দেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায় প্রধানমন্ত্রী এ সময় আইনমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা। হলে তিনি কী পরামর্শ দিয়েছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব।’
এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বিচারপতিদের অপসারণে সামরিক সরকারের করা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আদালত কেন সাংঘর্ষিক মনে করছেন না, তা আমার বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ একটি সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়ে আমাদের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করব।’
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিচারপতি অপসারণের পদ্ধতি কী? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব গণতান্ত্রিক দেশেই বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা যার কাছে আছে, আমরা সেটিই প্রবর্তন করেছিলাম। আমাদের এখানে সেটিই হবে। তবে তা রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। ভিন্ন কিছু একটা হবে।’
এদিকে, সোমবার শহীদ মিনারে প্রয়াত করুণাময় গোস্বামীর মরদেহে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে।’
সংবিধান অনুযায়ী সংসদে প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ (অভিশংসন) করা গেলে বিচারপতিকে কেন অপসারণ করা যাবে না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। এই রায়কে সুপ্রিম কোর্টে বহাল রাখার সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে মনে করেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমরা প্রেসিডেন্টকেও ইমপিচ করতে পারি। যদি প্রেসিডেন্টকে পারি, হোয়াই নট চিফ জাস্টিস অ্যান্ড আদার জাস্টিস? এটা হচ্ছে আমার স্পষ্ট বক্তব্য।’
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, পলিটিক্স ইজ দ্য নোবেলিস্ট প্রফেশন। ইটস আ ডিফিকাল্ট প্রফেশন, ভেরি কমপ্লেক্স প্রফেশন। এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এই রায়টি জনগণের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী ও বাহাত্তরের সংবিধানের স্পিরিটেরও বিরোধী। তবে আমরা মনে করি না যে এই আইনের মাধ্যমে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হবে।’
অন্য এক প্রতিক্রিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টিও সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সার্বভৌম সংসদের সিদ্ধান্ত আদালত বাতিল করতে পারে না। সংসদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা বিষয়টি নিয়ে আবারও সংসদে কথা বলব।