May 25, 2026
সংবিধান অনুযায়ী সংসদে প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ (অভিশংসন) করা গেলে বিচারপতিকে কেন অপসারণ করা যাবে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে সুপ্রিম কোর্টের বহাল রাখার সিদ্ধান্তটি সঠিক বলে মনে করেন না আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ্য এই নেতা বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমরা প্রেসিডেন্টকেও ইমপিচ করতে পারি। যদি প্রেসিডেন্টকে পারি, হোয়াই নট চিফ জাস্টিস অ্যান্ড আদার জাস্টিস? এটা হচ্ছে আমার স্পষ্ট বক্তব্য।’
সোমবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা জেনেছি, আপিল বিভাগ আমাদের আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায়কে বলা রেখেছে। আমি মনে করি না, সুপ্রিম কোর্ট সঠিক জাজমেন্ট দিয়েছে। আমরা এটা নিয়ে সংসদেও কথা বলব।’
‘জাতীয় সংসদ জাতিকে যেভাবে প্রতিনিধিত্ব করে, আইনজীবী ও বিচারবিভাগ জাতিকে ওইভাবে প্রতিনিধিত্ব করে না’— মন্তব্য করে সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই সংসদ হচ্ছে হাউস অব দ্য ন্যাশন। আমাদের সংবিধানেও সংসদের কাছে সবাই অ্যাকউন্ট্যাবল। সংসদের কাছ সবার জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সংসদের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকবে। আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানের মূল স্পিরিটও ছিল এটা। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। আমি মনে করি, মূল স্পিরিটে আমাদের থাকা উচিত। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এই ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সংসদের কাছে জুডিশিয়ারি অ্যাকাউন্ট্যাবল। কেউ এর বাইরে নয়।’
সাবেক মন্ত্রী রাজ্জাক বলেন, ‘যুক্তরষ্ট্রের সিনেটে একক মেজরিটি থাকলে বিচারপতিকে চাকরিচ্যুত করা যায়। আমরা সেখানে দুই-তৃতীংশ মেজরিটির কথা বলেছি। দুই-তৃতীয়াংশ তো কম কথা নয়। ইচ্ছা করলেই তো সংসদ যে কারও বিরুদ্ধে এটা করতে পারবে না।’
সংসদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের ঢালাও মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ড. রাজ্জাক বলেন, ‘বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা সৎ নন। তারা দুর্নীতিপরায়ণ, আদর্শে বিশ্বাসী নন। আমেরিকা-ভারতে দুইশ বছর আগে আমরা কী দেখেছি? এসব দেশের সিনেমাগুলো দেখলেও তার চিত্র পাবেন। ধীরে ধীরে এই অবস্থার উন্নতি ঘটছে। এখনও ভারতের সিনেমা দেখলে বুঝতে পারবেন, তাদের রাজনীতিবিদদের কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়। ঢালাওভাবে এরকম অভিযোগ দেওয়া ঠিক নয়।’ দুয়েকজনের মধ্যে দোষ-ত্রুটি থাকলেও তার জন্য সবাইকে নৈতিকতাবিবর্জিত ও দুর্নীতিপরায়ণ আখ্যা দিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. রাজ্জাক বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, পলিটিক্স ইজ দ্য নোবেলিস্ট প্রফেশন। ইটস আ ডিফিকাল্ট প্রফেশন, ভেরি কমপ্লেক্স প্রফেশন। এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’
আপিল বিভাগের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই রায়টি জনগণের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী এবং বাহাত্তরের সংবিধানের স্পিরিটেরও বিরোধী। তবে আমরা মনে করি না যে এই আইনের মাধ্যমে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হবে।’
এই রায় নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে জানানো প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সার্বভৌম সংসদসের সিদ্ধান্ত আদালত বাতিল করতে পারে না। সংসদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা বিষয়টি নিয়ে আবারও সংসদে কথা বলবো। ১৯৭২ সালের সংবিধানে মূল কাঠামোর আলোকে আমরা এটা তৈরি করেছি।’
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখায় হতাশ হয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলো আপিল খারিজ।
এ রায়ের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিনি হতাশ। আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মাহবুবে আলম বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল হয়নি, শূন্যতা বিরাজ করছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রয়েছে। এ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আজ সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলো আপিল খারিজ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় দেন।
বেঞ্চের অপর ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
রায়ের পর রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে না। আগের মতোই বিচার বিভাগই বিষয়টি দেখবে।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, এ জে মোহাম্মদ আলী।
ষোড়শ সংশোধনী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর ১১ তম দিনে গত ১ জুন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর আজ এ রায় দেওয়া হলো।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর চলতি বছরের ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১ জুন শেষ হয়।
এর আগে গত ৭ মার্চ আপিল বিভাগ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন, যাঁদের মধ্যে ১০ জন আদালতে মতামত উপস্থাপন করেন। এঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও এম আই ফারুকী ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেন। অপর অ্যামিকাস কিউরি আজমালুল হোসেন কিউসি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর দুজন মত উপস্থাপন করেননি।
সূত্র : প্রথম আলো।
ডেস্ক রিপোর্ট : সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রয়েছে। এ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আজ সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালত বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হলো আপিল খারিজ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় দেন। আজ সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে এজলাসে আসেন বেঞ্চের বিচারপতিরা। সাড়ে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চের অপর ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
রায়ের পর রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে না। আগের মতোই বিচার বিভাগই বিষয়টি দেখবে।
রায় ঘোষণার সময় এজলাসে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, এ জে মোহাম্মদ আলী।
ষোড়শ সংশোধনী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর ১১ তম দিনে গত ১ জুন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর আজ এ রায় দেওয়া হলো।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর চলতি বছরের ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১ জুন শেষ হয়।
এর আগে গত ৭ মার্চ আপিল বিভাগ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন, যাঁদের মধ্যে ১০ জন আদালতে মতামত উপস্থাপন করেন। এঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও এম আই ফারুকী ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেন। অপর অ্যামিকাস কিউরি আজমালুল হোসেন কিউসি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর দুজন মত উপস্থাপন করেননি।
ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এখন দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার গৃহীত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতি তথা সার্বিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, যা অনুসরণযোগ্য।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূত মাজিদ হালিম রবিবার তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের সংসদীয় কার্যক্রম, বাণিজ্য সুবিধা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম।
মরক্কোতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল।
রাষ্ট্রদূত বলেন, মরক্কোর জাতীয় সংসদে ৩৯৫ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন- যার মধ্যে ৮১ জন নারী। এ সময় তিনি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৩৬তম আইপিইউ সম্মেলনে মরক্কোর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন এবং সম্মেলনের সফল আয়োজনের জন্য স্পিকারের প্রশংসা করেন।
দুই দেশের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, এতে করে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান এলাকা) নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় জোটের (বিএনএ) চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ থেকে ‘কিছুটা’ আশ্বাস পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বর্তমানে এই আসনের সাংসদ বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) এস এম আবুল কালাম আজাদ। গতকাল শনিবার এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হুদা এ কথা বলেন। তাঁর দাবি, তাঁর নিজ এলাকা ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ আসনটি চাচা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে ওই আসনের সাংসদ জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম।
এর আগে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’ নিয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন করবে। নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করবে না।
আগামী নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারই ক্ষমতায় থাকবে জানিয়ে নাজমুল হুদা বলেন, তবে নির্বাচনের ওপর ওই সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবে না। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কীভাবে—এর ব্যাখ্যা দিয়ে নাজমুল হুদা বলেন, ইচ্ছা করেলই রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনের অন্য কোনো সদস্যকে তাঁদের সুনির্দিষ্ট মেয়াদের আগে চাকরি থেকে অপসারণ করতে পারবেন না। শুধু অসদাচরণ প্রমাণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশেই একজন নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যায়। এর অর্থ হচ্ছে সম্পূর্ণ ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে। আর সরকার যাঁর অধীনেই থাকুক না কেন সংবিধান অনুযায়ী সব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালনে থাকবেন স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নয়।
ঘুষ ও দুর্নীতি কমাতে সচিবদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পে-স্কেলে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন যেহারে বেড়েছে, তা বিশ্বে বিরল। তাই জনগণ যেন সেবা পায় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। বেতন যেহেতু বেড়েছে তাই ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’
রবিবার সকাল ১০ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে সচিব কমিটির সঙ্গে মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। মিটিংয়ের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পরে সচিবদের বক্তব্য শোনেন। মিটিং এখনও চলছে।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে প্রথম মিটিং করেন। আজ দ্বিতীয় বারের মতো মিটিং চলছে।
সচিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অন্য দিক নির্দেশনাগুলো হলো- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার বাড়াতে হবে। বছরের শুরুতে এর গতি বাড়াতে হবে। বছরের শেষে কোনও তাড়াহুড়া করা যাবে না। অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন করতে হবে।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে সরকার প্রধানের ‘সৌজন্য সাক্ষাতের’ কর্মসূচি রয়েছে বলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়।
এর আগে গত ১৬ মে আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবন যান শেখ হাসিনা।
সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের আগে অথবা পরে সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
গত ১৬ মে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ওই মাসেই আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি কমিশনের ৬০ বছর পূর্তির সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রিয়া যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য সফরের মধ্যে মে মাসেই অস্ট্রিয়ার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ‘অ্যারাবিক ইসলামিক আমেরিকান হিস্টোরিকাল সামিট’ এ যোগ দেওয়া রয়েছে। পরে জুন মাসে দ্বিপক্ষীয় সফরে সুইডেন যান শেখ হাসিনা।
সাধারণ মানুষদের আইন মানানো যায়, কিন্তু আমরা যারা অসাধারণ তারা আইন মানতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। এজন্য গাড়ির মালিক, চালক, যাত্রী, পথচারী, শ্রমিক সবারই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ভিআইপিরা উল্টো পথে যায় বলেই যানজট সৃষ্টি হয়। এটি মানসিকতার বিষয়, এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।’
রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ঈদুল ফিতরের পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা ভিআইপিরাই উল্টো পথে বেশি গাড়ি চালাই। আমাদের ভিআইপিদের গাড়িতে লাল-নীল বাতিসহ যে হুটার ব্যবহার করা হয় তাতে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়। আমি আমার গাড়িতে সেটা ব্যবহার করি না। তবে আমাদের অনেকেই করেন। আমি তো তাদের নিষেধ করতে পারি না। এটি বন্ধ করার এখতিয়ার তো আমার নাই। তবে বিষয়টি আমি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করবো। লাল-নীল বাতি জ্বালিয়ে রাস্তায় দাপট দেখানোর কিছু নেই। আমি আসছি, আমি আসছি এই ধরনের জানান দেওয়ারও কিছু নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এবারের ঈদে স্বস্তিতে বাড়ি গেছে ও ফিরে এসেছে। তবে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি তা বলবো না। আমরা ৮০ ভাগ সফল হয়েছি। কোরবানির ঈদের রাস্তায় পশুর হাট বসবে। যেটা একটি বাড়তি চাপ। বিষয়টি মাথায় রেখে এবং এবারের ব্যর্থতা থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা আজ থেকেই কাজ শুরু করলাম।’
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতি বছরের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে অতিথিদের আপ্যায়নের তালিকায় ছিল সেমাই, মিষ্টি, ফিরনি, আমসহ আরও নানা মুখরোচক খাবার।
জানা গেছে, সারা বছর গণভবনের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকলেও ঈদের দিনে সেখানে থাকে না কোনো বিধিনিষেধ। আমন্ত্রণ না জানালেও গণভবনে সবাই থাকেন আমন্ত্রিত। এদিন সকাল থেকেই গণভবনে ফটকের সামনে তৈরি হয় ভেতরে যাওয়ার লাইন। এক পর্যায়ে ফটক খুলে দেওয়ার পর ভেতরে ঢুকে মানুষ।
ভেতরে সামিয়ানার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন। আর তার সামনে দিয়ে সারি বেঁধে হেঁটে শুভেচ্ছা জানাতে থাকে জনতা। এই কাতারে ধনী, গরিব, দলের নেতা-কর্মী সবাই এক। প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে ও হাত নাড়িয়ে তাদের শুভেচ্ছার জানান দেন। মাইকেও তিনি মাঝেমধ্যে কথা বলেন।
ঈদে প্রধানমন্ত্রী এবার পরেছেন সাদার ওপর সুতার কাজ করা দৃষ্টিনন্দন একটি তাঁতের শাড়ি। সাধারণের ভালবাসায় সিক্ত হতে প্রধানমন্ত্রীর এই আয়োজন থাকে দেড় ঘণ্টারও বেশি। এ সময় মঞ্চে তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং দুই নাতিও উপস্থিত ছিল। পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমও।
গণভবনে আগত অতিথিদের আপ্যায়নে নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের ব্যবস্থা ছিল। যার যত খুশি খেয়ে রসনা বিলাস করেছেন। এসব খাবারের মধ্যে ঈদের সকালের প্রচলিত সেমাই, মিষ্টি, ফিরনির পাশাপাশি ছিল ভেজিটেবল রোল, চিকেন পেটিসও। জ্যৈষ্ঠ মাসের জনপ্রিয় ফল আমও বাদ পড়েনি প্রধানমন্ত্রীর আপ্যায়নে।
সাধারণের ঈদ আপ্যায়নে আসেন রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এই পর্ব শেষে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক এবং বিচারপতিদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাহারা খাতুন, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ এই আয়োজনে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আগের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গজনবী রোডে অবস্থিত শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) শুভেচ্ছার নিদর্শন স্বরূপ ফুল, ফল এবং মিষ্টি পাঠিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর, প্রটোকল অফিসার খুরশিদ-উল-আলম এবং সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস আজ বিকেলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন।
মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ এবং পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় দিবস ও উৎসবে তাদের স্মরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ নির্মাণসহ তাদের পুনর্বাসনে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে মোহাম্মদপুরে ১৩ তলাবিশিষ্ট এই আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনে আবাসিক ফ্লাট ও দোকানসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ৮০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধারা এবং তাদের পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বাসস