May 25, 2026
ঈদকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে তৃণমূলের রাজনীতি। সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের এলাকায় যাকাতের অর্থ-বস্ত্র, চাল, চিনি-সেমাই বিতরণের মাধ্যমে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী আমেজ।
মানুষের হাতে পয়সা আসছে। সেটার হাতবদল হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়েছে তার ইতিবাচক প্রভাব। ঈদ উৎসবকে কাজে লাগিয়ে ‘গণসংযোগ’ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপি-নেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আসন্ন নির্বাচনে তাদের দলীয় নমিনেশন নির্ভর করছে এলাকায় তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, ইমেজ ও কর্মী-এলাকাবাসীর সমর্থনের ওপর। আগামী দিনের দলীয় রাজনীতি ও নির্বাচনে কার কি অবস্থান হবে সেটা ঈদ উপলক্ষে কর্মী সংযোগ, গণসংযোগ ইত্যাদির মাধ্যমে যাচাই করে নিতে চায় বড় বড় দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সর্বত্রই গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বামধারা ও ইসলামী ধারার দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি, ছাত্রলীগ-যুবলীগের আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী-সিনিয়র নেতারা ঈদ করবেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। তাদের এই ঈদ উৎসব কার্যত নির্বাচনী মাঠ ঝালাই প্রস্তুতির নামান্তর। ঈদ উপলক্ষে তারা দলের নেতাকর্মী-এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ-সামাজিক-সাংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানের সংগঠকদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং ভোটারদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। কেউ কেউ ঈদের আগেই এলাকায় সেটা শুরু করে দিয়েছেন।
ইতোমধ্যেই পাড়ায়-মহল্লায় ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে এমনকি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অধিকাংশ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে জেলা-উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের হাটবাজারগুলো বাড়িঘরের দেয়াল। এবার নেতারা ঈদের সবকিছুই করছেন কার্যত নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা মাথায় রেখেই। বিদেশ ভূঁইয়ে থেকে যারা ঈদ করতে দেশে ফিরেছেন তাদের রেমিট্যান্সও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদেশে ও ঢাকায় থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে অনেক পরিবারে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের ঢেউ।
নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণ না হলেও ঈদের উৎসবকে ইস্যু করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোনো পক্ষই পিছিয়ে নেই। জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নের হাট-বাজারের চিত্র দেখলে বোঝা যায় নৌকা ও ধানের শীষ উভয় পক্ষ্যই সমান তালে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির বর্তমান ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। শুধু এমপি-মন্ত্রীরাই নন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই এবার ঈদ উদযাপন করবেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা গ্রামে।
এ উপলক্ষে গণসংযোগ কর্মসূচিও দিয়েছেন। নেতাদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। তাদের পদচারণায় বেশ জমে উঠেছে গ্রামীণ ঈদ রাজনীতি। যারা এখনো কাজের চাপে ঢাকা ছাড়েননি তারাও ঈদের আগেই গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেতানেত্রীদের পক্ষে যাকাতের অর্থ-বস্ত্র, চাল, চিনি-সেমাই বিতরণে এরই মধ্যে ঈদের আমেজ নির্বাচনী উৎসবে রূপ নিয়েছে। বলা যায় এবার ঈদ উপলক্ষে ‘নির্বাচনের বাতাস’ গ্রামগঞ্জের পুরো চিত্র পাল্টে দিয়েছে। বাজার-হাটে সর্বত্রই নির্বাচনী শোরগোল। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে এই শোরগোল সবচেয়ে বেশি। নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা নিয়ে গোয়েন্দারা কি রিপোর্ট দিয়েছে, কোন মিডিয়ায় কোন নেতা প্রার্থী হতে পারেন বলে আগাম বার্তা দিয়ে রিপোর্ট করেছে, কোন নেতার প্রতি কেন্দ্রীয় কোন নেতার আশীর্বাদ বা বিরোধ রয়েছে, কারা প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন, কারা প্রার্থী হয়ে আসছেন, মনোনয়ন দৌড়ে কোন দলের কোন নেতা-নেত্রী বেশি এগিয়ে, কারা গ্রাম ও গ্রামের মানুষের প্রতি আন্তরিক, এমন নানা বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে গ্রামের হাটবাজার ও পাবলিক প্লেসে।
ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন ছাত্র লীগ, যুব লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগের নেতাদের মধ্যে দলীয় নমিনেশন প্রত্যাশায় বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ছাপিয়ে প্রচারণা চলছে তো অনেক আগ থেকেই। এতোদিন গর্তে লুকিয়ে থাকা বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই।
এতোদিন মনে হতো গ্রামের রাজনীতিতে শুধুই আওয়ামী লীগ আর নৌকা। বিএনপি ও ধানের শীষের লোকজন ছিল নীরব। পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। প্রতিকুল রাজনৈতিক আবহাওয়ার কারণে এতদিন বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পিছুটান লক্ষ্য করা গেলেও স¤প্রতি তারা বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। রমজানের শুরু থেকেই ইফতার ও বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়। জেলা-বিভাগ-উপজেলা শহরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ঈদ নিয়ে নির্বাচনী উৎসব উৎসব ভাব লক্ষ্যনীয়।
সংসদের এমপি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে সক্রিয়দের পাশাপাশি দীর্ঘদিন যারা এলাকাবিমুখ ছিলেন; নেতাকর্মীর ভয়ে যে এমপিরা এলাকায় যেতে ভায় পেতেন; তারা নির্বাচন সামনে রেখে ঈদ উপলক্ষ্যে নিজ নিজ এলাকায় পা রাখছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও গ্রামগঞ্জের নিজ ভোটারদের খুশি করতে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার কয়েকগুণ বেশি নগদ টাকা নিয়ে এলাকায় যাচ্ছেন ওই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ বকশিসের নামে অনেককেই দিচ্ছেন নগদ টাকা। এলাকায় প্রভাব রয়েছে এমন নেতাদের কাছে টানতে তাদের বকশিসের পরিমাণ একটু বেশি দিচ্ছেন।
সে টাকায় মফস্বল শহরের মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা হচ্ছে। সবমিলে নির্বাচনী আমেজে গ্রামীণ অর্থনীতিও এবার বেশ চাঙ্গা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অধিকাংশই ইতিমধ্যে প্রথমপর্ব জাকাতের কাজ শেষ করেছেন। পাশাপাশি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে এমনকি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি ও দলের নেতারা।
গ্রামগঞ্জে ঈদ উপলক্ষে চলছে এখন নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের কর্মকাণ্ডের সবকিছুই হয়ে গেছে নির্বাচন কেন্দ্রীক।
রাজধানী ঢাকার মতোই জেলা-উপজেলা শহর ও গ্রামে রমজান মাসে যেমন একাধিক ইফতার পার্টির আয়োজনের মাধ্যমে গণসংযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তারা যেমন কেন্দ্রের দায়িত্বশীল নেতাদের আশীর্বাদের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাদের মতামত নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছেন। ঈদ উপলক্ষে মন্ত্রী-এমপিরা নেতাকর্মীদের পাঞ্জাবী-পায়জামা, ঈদ বকশিস, সেলামী ইত্যাদির দিচ্ছেন। দলের অভ্যন্তরে যারা প্রতিপক্ষ তাদেরও কাউকে কাউকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।
হামলা মামলার কারণে দীর্ঘদিন দৌড়ের মধ্যে ছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ ঝামেলা এড়াতে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন অনেক সাবেক মন্ত্রী-এমপি। দীর্ঘ ১০ বছরে বিপর্যস্ত ওই নেতারা নির্বাচন উপলক্ষে ঈদ ইস্যুতে হঠাৎ করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। রাজধানী ঢাকার শুরু করে তৃণমূল সর্বত্রই এই চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। কিছু দিন আগেও যেখানে বিএনপি নেতা-নেত্রীরা দ্বিধাদ্বদ্ব ছিলেন সেখানে ঈদে বেশ দৃঢ় মনোবল নিয়ে হাজির হয়েছেন রাজনীতির মাঠে। নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে।
এ জন্য অবশ্য বেগম খালেদা জিয়ার ‘দৃঢ় বক্তব্য’ ও ‘ভিশন-২০৩০’ ভূমিকা রেখেছে। রমজান মাসজুড়েই ঢাকায় বিভিন্ন সংগঠনের ইফতার অনুষ্ঠানের খালেদা জিয়ার দৃঢ়চেতা বক্তৃতায় হতাশা কাটিয়ে নেতাকর্মীরা ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি সঞ্চয় করেছেন। কয়েক বছর ধরে ঈদে হয় কারাগার নয়তো, পালাতক থাকায় স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন বিএনপির অনেক নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি। নির্বাচনী হাওয়ার কারণে এবারের ঈদ হবে তাদের একটু ভিন্ন আমেজের। অন্যান্য বছর রাজনীতিতে হানাহানি ও ধরপাকড় থাকলেও এবার তুলনামূলক কম। বলা যায় রাজনীতি অনেকটাই স্থিতিশীল।
এতে অনে নেতাকর্মীই বাড়িঘরে ফিরেছে। এদিকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢেউ লাগায় এবার ঈদ অনেকটা রূপ নিয়েছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজে।
ঈদ সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ গোছাতে দলের সংসদ সদস্যসহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
ঢাকায় বসে না থেকে যার যার নির্বাচনী এলাকায় ছুটে যেতে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এরশাদের নির্দেশনা পেয়ে দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটেছেন। সংসদ সদস্য নন, কিন্তু আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টিকিটে নির্বাচন করতে চান, এমন সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেক আগেই ছুটে গেছেন এলাকার মানুষের সঙ্গে ঈদ করতে। এরশাদ নিজেও রমজানে নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর সফল করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
জিএম কাদের ও রওশন এরশাদও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে এসেছেন রমজান মাসে। নির্বাচন ইস্যুর কারণেই এবারের ঈদ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসঃ ইনকিলাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মনের উদারতা বিকশিত করার পাশাপাশি সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে। ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা-২০১৭ উপলক্ষে প্রদত্ব আজ এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) একটি স্মরণিকা প্রকাশ করেছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী এ উপলক্ষে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন,বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে। কারণ,ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘রথযাত্রা’ হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব। ইসকন প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে দেশের বড় বড় শহরগুলোতে রথযাত্রা উৎসব সফল করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করছে।
তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘আমি আশা করি, এই রথযাত্রা উৎসব জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মাধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ’
প্রধানমন্ত্রী রথযাত্রা উৎসব ২০১৭’র সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন।
প্রতিবেদক : বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটির ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা তার বাণীতে আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করবে।
বাণীতে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের অগণিত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভান্যুধায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ আজ আত্মপ্রত্যয়ী, বিশ্বে উন্নয়ন বিস্ময়। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, আমাদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশ যখন উন্নয়নের সোপানে এগিয়ে যাচ্ছে তখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির দোসররা অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। কোনো অশুভ শক্তিকে এই দেশে বিস্তার লাভ করতে দেওয়া হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী অপশক্তির মূলোৎপাটন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, এ দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ অতীতের মতো সকল অপশক্তিকে পরাজিত করে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত করবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে শহিদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের- যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ গণমানুষের এক বিশাল সংগঠনে পরিণত হয়েছে তাদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.২৪ শতাংশে। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার। রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। সাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ৫৫ লাখ মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন ধরণের ভাতা পাচ্ছেন। দেশের ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায়। দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ পাচ্ছেন। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১ বছর ৭ মাস।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ ও যোগাযোগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন জাতির পিতা তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরের সংগ্রামে নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তখনই ঘাতকেরা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালরাতে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৩রা নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও অবৈধ সেনাশাসকদের নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় জনগণের সংগঠন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। কিন্তু কোনো অপচেষ্টা কখনই সফল হয়নি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মী, সমর্থকেরা জীবন দিয়ে সকল প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছে, শক্তিশালী করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত সফল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগ সরকারই খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কারও মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। আওয়ামী লীগের এই পাঁচ বছরের শাসনামল জাতীয় ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অপশাসন, দমন পীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে পুনরায় বিজয় অর্জন করে।
বাণীতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গত সাড়ে আট বছরে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ।
বর্তমান সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য পরিচালনা করছি। বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস উল্লেখ কওে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২’র ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২’র আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪’র দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মাটি ও মানুষের দল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক এবং মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০’র নির্বাচনে বাঙালি জাতি আওয়ামী লীগের পক্ষে নিরঙ্কুশ রায় দেয়। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১’র ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা। গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে। গ্রেফতারের পূর্বে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ইপিআর-এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
বাণীতে জানানো হয়, বাঙালি জাতির মুক্তি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডে যা কিছু বিশাল অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। বাসস
রাজধানী ফাঁকা হতে শুরু করেছে বৃহস্পতিবার (২২ জুন) থেকে। এদিন সকালের দিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনোরকম অফিসে হাজিরা দিয়েই ছুটেছেন লঞ্চ, স্টিমার, বাস বা রেল ধরতে। কেউ কেউ গেছেন বিমানবন্দরের দিকেও। এ যাত্রা ছিল বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত। আর বিকালের পর তো কথাই নেই। অফিস শেষ করেই দে ছুট! ঘরমুখো মানুষদের বেশিরভাগই শুক্রবারের (২৩ জুন) মধ্যে রওনা দেবেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। কারণ শুরু হয়ে গেছে ঈদের ছুটি।
অনেকে ঝক্কি এড়াতে আগেই পরিবার ও স্বজনদের দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর যারা পরিবার নিয়ে শেষদিকে যাবেন বলে পরিকল্পনা ছিল, তারা বৃহস্পতিবার সকালের দিকেই সুযোগ বুঝে অফিসের হাজিরা বা টুকিটাকি কাজ শেষ করে বেরিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী, শ্যামলী, আরামবাগের বাস টার্মিনালের দিকে। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীতে এ দৃশ্য চোখে পড়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ রমজান) দিবাগত রাতে পালিত হচ্ছে শবে কদর। এ উপলক্ষে সরকারি একদিনের ছুটি কাল শুক্রবার (২৩ জুন)। পরদিন শনিবারও সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি। আর রবিবার ২৫ জুন থেকে শুরু হবে ঈদের তিন দিনের ছুটি। শেষ হবে ২৭ জুন মঙ্গলবার। এরপর দুই দিনের জন্য (বুধ ও বৃহস্পতিবার ২৮ ও ২৯ জুন) অফিস খুলবে। এরপর আবার দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার।
সচিবালয়ের এক কর্মচারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লাকসামে বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের অন্যদের আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি। টানা ৯ দিনের ছুটি শেষ করে ২ জুলাই অফিসে ফিরবো। ২৮ ও ২৯ জুন দুই দিনের জন্য বসকে ম্যানেজ করেছি। কোনও সমস্যা হবে না।’ কীভাবে ম্যানেজ করলেন জানতে চাইলে তিনি জানান, অন্য সময়ে বাড়তি কাজ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অতীতেও দেখা গেছে, ঈদ কোরবানির মতো বড় ধরনের উৎসবে সরকারি ছুটির আগে ও পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকলে তা যুক্ত করে কাটিয়ে থাকেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মাঝে এক-দুই দিনের জন্য অফিস খোলা থাকলেও অনেকেই তা ছুটি নিয়ে যান বা কখনও বসকে ম্যানেজ করে যান। সেই হিসাবে বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হলো ঈদের ছুটি। চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত। টানা ৯ দিনের জন্য ছুটির ফাঁদে পড়লো দেশ। মাঝের দুই দিনের জন্য কেউ ছুটি নিয়েছেন, কেউবা বসকে ম্যানেজ করে গেছেন। তবে অফিসে যাদের উপস্থিতি একেবারে না হলেই নয়, সরকারি এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই শুধু ওই দুদিন অফিস করবেন। আশা করা হচ্ছে, ২ জুলাই থেকে যথারীতি অফিস-আদালত সব স্বাভাবিকভাবে চলবে।
অনেকেই আশা করেছিলেন, সরকার হয়তো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার কথা ভেবে আগামী ২৮ ও ২৯ জুন নির্বাহী আদেশে ছুটি দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। গত ১৯ জুনের মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলেও তা বৈঠকে উপস্থাপিত হয়নি বলে ওইদিনই সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম।
এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ জুন বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। তবে ২৬ জুন ঈদ ধরে ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন ঈদের ছুটি নির্ধারিত আছে। ঈদের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ অফিস গেলে আজ বৃহস্পতিবার ২২ জুন। ২৩ জুন শুক্রবার শবে কদর। ২৪ জুন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, ২৫ থেকে ২৭ জুন ঈদের ছুটি এবং মাঝে ২৮ ও ২৯ জুন অফিস খোলা। ৩০ জুন শুক্রবার ও ১ জুলাই শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ ২৮ ও ২৯ জুন অফিস বন্ধ থাকলে ২৩ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ৯ দিন ছুটি কাটিয়ে ২ জুলাই থেকে অফিস শুরু হবে।
গত কয়েক বছর ধরেই ঈদের ছুটি বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক চলছে। গত বছর ঈদের ছুটি বাড়িয়ে তা আবার সাপ্তাহিক ছুটি শনিবারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। তখন অনেকেই বদলি ছুটির পরিবর্তে নৈমিত্তিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি সমন্বয়ের তাগিদ দেন। এ কারণেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাৎসরিক ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি থেকে ৬ দিন কেটে নিয়ে দুই ঈদের ছুটির সঙ্গে ৩ দিন করে যুক্ত করে ঈদের ছুটি বৃদ্ধি করা হবে। এ ছুটির সঙ্গে কাউকে ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে না। এছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঈদের ছুটি ভোগ করে বলে তাদের প্রধান দুইটি ধর্মীয় উৎসবে সরকারি ছুটির সঙ্গে দু’দিন করে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে।
প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির সময় যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, দুর্ঘটনা বৃদ্ধিসহ দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়। ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার পরবর্তী দুই-তিন দিন কর্মচারীদের উপস্থিতি কম থাকে। তা সত্ত্বেও অফিসের ইউটিলিটি সার্ভিস, লিফট, গাড়ি চালু রাখতে হয়। এ কারণে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও প্রয়োজনীয় জিনিসের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়।
এজন্য পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার তিন দিনের ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্য ধর্মাবলম্বীরা ঈদের ছুটি ভোগ করে বলে তাদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের সরকারি ছুটির সঙ্গে দু’দিন করে চার দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু এবার তা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সরকারি কর্মচারীদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সরকারি কর্মচারীগণ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবেন।’
শুক্রবার আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বোচ্চ ত্যাগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই সিভিল সার্ভিস সদস্যগণের মূল দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীগণের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির জন্য ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রবর্তন করেছি। ’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনে বিশ্বাসী। প্রশাসনের সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকারি কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছানোর জন্য সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্ভাবনী-উদ্যোগ গ্রহণ, আধুনিক নাগরিক সনদ প্রকাশ, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জনগণের অভিযোগ ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে পৌঁছানো ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের শুদ্ধাচার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জনপ্রশাসন কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সরকারের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে বাংলাদেশ জনপ্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই করতে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান সেবার সহজীকরণ, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
বাণীতে তিনি আগামীকাল আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণী দিয়েছেন ।
বুধবার দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মহিমান্বিত রজনী পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র লাইলাতুল কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরান লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়। আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন, ‘আমি কদর রাতে কোরান নাজিল করেছি।’ তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত অত্যধিক। আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনে হাজার মাসের চেয়েও বেশি ইবাদতের নেকি লাভের সুযোগ এনে দেয় এই রাত। এই মহিমান্বিত রজনী মানবজাতিকে আল্লাহ্ তা’য়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের অপার সুযোগ এনে দেয়।
আবদুল হামিদ বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ আমাদের পাথেয়। শবে কদরের এই পবিত্র রজনীতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের প্রার্থনা জানান রাষ্ট্রপতি।
পবিত্র শবে কদর সবার জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনুক, মহান আল্লাহর দরবারে এ কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসী এবং বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
বুধবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাইলাতুল কদর সিয়াম সাধনার মাস রমজান এর এক মহিমান্বিত রজনি। এই রাতে মানবজাতির পথ নির্দেশক পবিত্র আল-কোরআন পৃথিবীতে নাযিল হয়। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা আমাদের পার্থিব সুখ-শান্তির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির পথ দেখায়।
শেখ হাসিনা বলেন, কোরআনের বর্ণনা অনুসারে মহান আল্লাহ এই রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তার অসীম রহমত, বরকত ও মাগফিরাত।
এই পবিত্র রজনিতে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, অব্যাহত শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭ এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরে বেলা ২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
শফিউল আলম বলেন, ‘খসড়ায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত ইন্টারনেটভিত্তিক রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং এ জাতীয় অন্যকিছু অনলাইন গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে। এ আইনে অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনার জন্য একটি গাইডলাইন থাকবে। এ জন্য নিবন্ধন লাগবে। সম্প্রচার কমিশন এ নিবন্ধন দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন নামে একটি পৃথক আইন তৈরির কাজ চলছে। সেই আইনে কমিশনের কাজ ও গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা থাকবে। তবে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা আইন অনুযায়ী যেসব সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় তাদের অনলাইন ভার্সন থাকলে তাদের নিবন্ধন লাগবে না। তবে পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে কমিশনকে পত্রিকার অনলাইন ভার্সন সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। অনলাইনগুলোর কোড অব গাইডেন্স কমিশন তৈরি করবে। এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, তথ্য, ছবিসহ যেকোনও বিষয়ে যদি কারও আপত্তি থাকে, কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হয় তাহলে কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে। কমিশন ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে। নিষ্পত্তির বিষয়গুলো সম্প্রচার কমিশন আইনের বিধিমালায় উল্লেখ থাকবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার সঙ্গে অনলাইন নীতিমালা সামঞ্জস্য করা হবে। নিষ্পত্তিতে নির্দেশনা ও জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে।
কমিশন যেহেতু এখনও গঠন করা হয়নি তাই বিদ্যমান অনলাইনগুলো চলবে কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান অনলাইনের সংখ্যা ১৮শ’। এর তালিকা তৈরি করেছে তথ্যমন্ত্রণালয়। কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অনলাইন কাজ করবে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সংক্রান্ত সম্পূরক আইনগুলো অনলাইন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হবে।’
এছাড়া আজকের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজারে অতিবর্ষণে পাহাড় ধসে সেনা সদস্যসহ ১৬০ জন নিহত হওয়ায় শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
ভূমি ধসের ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া রাঙামাটি ও বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গত পরিবারের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলাসহ জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবাও দিচ্ছেন এ বাহিনীর সদস্যরা। রবিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক হাজার ৫০০ জনকে খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া তারা প্রায় সাত হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানিও বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়নের পক্ষ থেকে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। আগামীকাল থেকে ওই প্ল্যান্টের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাধানে সব শেল্টার সেন্টারে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হবে। সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল টিম প্রায় এক হাজার মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে। দুর্গত এলাকায় জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় আট হাজার লিটার তেল বিতরণ করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, রাঙামাটিতে মোট ১৯ টি শেল্টার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫০০টি পরিবারের দুই হাজার ১২৪ জন পাহাড়ি-বাঙালি আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনী সাতটি শেল্টার সেন্টারের সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যুব উন্নয়ন কমপ্লেক্স, মনোঘর ভাবনা কেন্দ্র, বাংলাদেশ সরকারি কলেজ ও গোধুলী আমানবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই সাতটি শেল্টার সেন্টারে এক হাজার ২২৬জন দুর্গত পাহাড়ি-বাঙালি আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের খাবার ও পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি সদস্যের জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম চাল ও ৪০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর তিনটি মেডিক্যাল টিম নিয়মিতভাবে এ সব শেল্টার সেন্টার পরিদর্শন করছেন এবং অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
ঘাগড়া ও মানিকছড়ির মধ্যবর্তী স্থানের রাস্তাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাতছড়ি নামক স্থানে ১০০ মিটার রাস্তা সম্পূর্ণ দেবে যাওয়ায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন পাহাড় কেটে বিকল্প রাস্তা তৈরি করছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে মাঝারি ধরনের যান চলাচলের জন্য উপযোগী হবে। এছাড়া বান্দরবনের চিম্বুক-রুমা সড়কের এখন পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা যোগাযোগের উপযোগী করা হয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাঙামাটি বান্দরবনে ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করার সময় তাদের ওপর পাহাড় ধসে পড়ায় ২ কর্মকর্তাসহ ৫ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
অনলাইন পত্রিকাগুলোকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোতে আনতে তৈরি করা জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা সোমবার (১৯ জুন) মন্ত্রিসভায় উঠছে। এখানে প্রস্তাবিত খসড়াটি অনুমোদনের পর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট আকারে প্রকাশ হলেই তা কার্যকর হবে। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত জাতীয় সম্প্রচার কমিশনই অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনা করবে। জারি করা বিধি-বিধান যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কিনা তাও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এই কমিশন।
সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সংবাদ ও প্রকাশিত বা প্রচারিত অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ছয় মাস বা এক বছর পরপর প্রতিবেদন নেবে কমিশন। পরবর্তীতে তা পেশ করা হবে সরকারের কাছে। যে কোনও অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনও করবেন তারা।
জানা গেছে, নীতিমালা পরিপন্থী তথ্য প্রকাশ এবং দেশের বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পেলে সংশ্লিষ্ট অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে কমিশন। স্বপ্রণোদিতভাবেও তারা এই কাজ করতে পারবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবে সরকারকে।
এছাড়া কমিশন আইনের বাস্তবায়ন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বিধিবিধান প্রণয়নের জন্য অংশীজনদের পরামর্শ নেবে। অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের (সরকার) জন্য একটি অনুসরণীয় নিয়মকানুনও তৈরি করবে কমিশন।
প্রস্তাবিত নীতিমালা চূড়ান্ত করার সময় নতুন কোনও বিষয় যোগ করা কিংবা পরিবর্তন আনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাল (সোমবার) মন্ত্রিসভায় ওঠার পর সবকিছুই জনতে পারবেন।’
তবে এর আগে কয়েক দফায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মুক্তচিন্তার স্বাধীনতা দিতেই অনলাইন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হবে। এজন্যই অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা করা হচ্ছে।’
তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সংবাদপত্রের জন্য ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যক্ট থাকলেও অনলাইন পত্রিকা পরিচালনার জন্য দেশে কোনও আইন, নীতিমালা ও অধ্যাদেশ নেই। সে কারণে নীতিমালা জরুরি। ২০১২ সালে সরকার একটি খসড়া তৈরি করলেও তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সম্প্রতি নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে বলেও গণমাধ্যমকে জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, অনলাইন গণমাধ্যমকে নিবন্ধন দিতে ইতোমধ্যেই তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করছে সরকার। তদন্ত শেষ হলে নিবন্ধন দেবে তথ্য মন্ত্রণালয়।
নীতিমালায় আরও যা থাকছে
অনলাইন গণমাধ্যমের খসড়া নীতিমালার তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধর ইতিহাস সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। সব ধর্মের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই সংবাদ পরিবেশনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে। তবে কৌতুক বা পরিহাস করার জন্য আঞ্চলিকতা রাখা যাবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ধারাকে তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকেও তুলে ধরতে হবে সংবাদে।
অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত বা সম্প্রচারে কোনও প্রকার অসঙ্গতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেওয়া যাবে না। সব তথ্য-উপাত্তে উভয় পক্ষের যুক্তি যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে হবে।
সরকার অনুমোদিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, তথ্য-উপাত্ত স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে প্রচার বা প্রকাশ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার প্রধানের ভাষণ, জরুরি আবহাওয়া বার্তা, স্বাস্থ্য বার্তা, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, সরকারের জারিকৃত প্রেসনোট, সরকার অনুমোদিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রভাষাকে যোগ্য মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তথ্য পাঠ, প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই বাংলা প্রমিত বানান বা উচ্চারণের মান শিথিল করা যাবে না।
অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়েজ বোর্ডের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর বেতন-ভাতা দিতে হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা আবশ্যকীয়।
বিজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে— রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিদেশি কূটনীতিক ও জাতীয় বীরদের অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। তবে গণসচেতনতা ও সমাজসংস্কারমূলক বিজ্ঞাপনে দেশের স্বনামধন্য নাগরিকদের সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ভাষা, দৃশ্য কিংবা নির্দেশনা কোনও ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অনুভূতির প্রতি পীড়াদায়ক হতে পারবে না। তবে ধর্মীয় অনুভূতিকে আহত করে না, এমন ধর্মীয় চিত্র প্রকাশ বা প্রদর্শন করা যেতে পারে।
সব তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার করার ক্ষেত্রে দ্য সেন্সরশিপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট-১৯৬৩, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬, কপিরাইট, ট্রেডমার্কস, প্যাটেন্টস-ডিজাইন ও জিআই আইনসহ অন্যান্য মেধাসম্পদ আইন বা দেশের প্রচলিত আইন ও তার অধীন বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে বা জাতীয় নীতিমালার পরিপন্থী কোনও তথ্য উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সম্প্রচার করা যাবে না।