May 26, 2026
নিরাপত্তা প্রোটোকল ভেঙে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুইডেনের স্টকহোমে এ দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিক।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি হোটেলে আসার আগেই সড়কের উল্টোপাশে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন প্রবাসী বাঙালিরা। গাড়ি থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা।
এরপরই নিরাপত্তা বলয় ভেঙে প্রায় দৌঁড়ে সড়ক পার হয়ে তাঁদের কাছে ছুটে যান বঙ্গবন্ধু কন্যা। এসময় সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শেখ হাসিনা। জানতে চান তাদের নানা সুবিধা-অসুবিধার কথা। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় মুগ্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশ…
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে প্রোটকল ভেঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশল বিনিময়। ভিডিও কারটেসিঃ Mamunur Rashid
Posted by Zunaid Ahmed Palak on Friday, June 16, 2017
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফ্যান লোফভেনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত তিন দিনের দ্বিপাক্ষিক সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার সকাল সাড়ে ন’টার কিছু আগে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে।
বিমান বন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর আগে সুইডেনে সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল ৬টার পর লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
সুইডেনে তিনদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও, বৈঠক করেছেন সেদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইডেনে তিনদিনের সরকারি সফর শেষে আজ শুক্রবার (১৬ জুন) লন্ডন হয়ে ঢাকার উদ্দেশে স্টকহোম ত্যাগ করেছেন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে লন্ডনের উদ্দেশে সুইডেনের অরল্যান্ড বিমান বন্দর থেকে ছেড়ে যায়।
সুইডেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারোয়ার বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এটি ছিল সুইডেনে বাংলাদেশের কোনও সরকার প্রধানের প্রথমবারের মতো দ্বি-পাক্ষিক সরকারি সফর।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরকালে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। এই বৈঠকের আগে একই স্থানে উভয় নেতা একান্তে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভোজসভায় যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী রয়্যাল প্যালেসের অডিয়েন্স হলে সুইডেনের রাজা ষোড়শ গুস্তাভ এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তিনি সুইডিশ পার্লামেন্ট পরিদর্শন করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার টোবিয়াস বিলস্টর্মের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সুইডেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাবেলা লোভিন এবং বিচার ও অভিবাসন মন্ত্রী মর্গান জোহানসন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গ্র্যান্ড হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাদা সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-সুইডেন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ফোরামের একটি বিজনেস ডায়ালগে অংশ নেন এবং প্রবাসীদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সফরকালে এইচ এন্ড এম কার্ল-জোহান পেরসন এর সিইও এবং ইনভেস্টর জ্যাকব ওয়ালেনবার্গ এর প্রেসিডেন্ট, ইনভেস্টর মার্কুস ওয়ালেনবার্গ এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং এবিবি সুইডেন জোহান সডারস্টর্ম এর সিইও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সূত্র- বাসস।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের আমন্ত্রণে তিন দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে দেশটির রাজধানী স্টকহোম যাওয়ার পথে মঙ্গলবার (১৩ জুন) বিকালে লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-০০১) ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম লন্ডন থেকে ফোনে বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। লন্ডনে ২৪ ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে শেখ হাসিনা বুধবার (১৪ জুন) বিকালে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে স্টকহোমের উদ্দেশ্যে লন্ডন ত্যাগ করবেন।
বাংলাদেশের কোনও সরকারপ্রধানের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটিতে এটি হবে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। এই সফরে শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭ সদস্যের ব্যবসায়ীসহ একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
সফরে প্রধানমন্ত্রী সুইডেনের পার্লামেন্ট পরিদর্শন করবেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তোবিয়াস বিলসট্রোমের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ভোজসভার আগে শেখ হাসিনা রয়্যাল ক্যাসলে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্লের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
প্র
ধানমন্ত্রী ১৫ জুন সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং ১৬ জুন বাংলাদেশ-সুইডেন বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের বৈঠকে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এইচ অ্যান্ড এম-এর সিইও কার্ল-যোহান পার্সন, ইনভেস্টরের প্রেসিডেন্ট জ্যাকোব ওয়ালেমবার্গ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মারকাস ওয়ালেনবার্গ এবং এবিবি সুইডেনের জন সোডারস্টর্মের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন দিনের সুইডেন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শনিবার (১৭ জুন) লন্ডন হয়ে দেশে ফিরবেন।
সূত্র : বাসস।
এ মাসের শেষেই ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ লাইন,রোজা থেকে সারাদিন অপেক্ষার হেনস্তা ও টিকিট বিক্রেতাদের কালোবাজারি ঠেকাতে, সরাসরি কাউন্টারে টিকিট বিক্রির পাশাপাশি এবার বেশ কিছু বাস কোম্পানি অনলাইনেও তাদের টিকিট বিক্রি করছে। কিন্তু মিলছে কি সেই স্বপ্নের টিকিট? বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দাবি, চাহিদার মাত্র ১০ থেকে ৩০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে ছেড়েছে বাস কোম্পানিগুলো। আর বাস মালিকরা বলছেন, সম্পূর্ণ অনলাইন সার্ভিস চালু করতে প্রয়োজন আরও অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
দেশ ট্রাভেলস,ন্যাশনাল ট্রাভেলস,এস আর ট্রাভেলস,নাবিল ট্রাভেলস,টিআর ট্রাভেলসসহ অনেক কোম্পানিই টিকিট বিক্রির জন্য নির্ভর করছে অনলাইনের ওপর । এছাড়া ট্রেনের টিকিটের শতকরা পঁচিশ ভাগ বরাদ্দ রয়েছে অনলাইনে বিক্রির জন্য। তবে যেসব ব্যক্তি নির্বিঘ্নে অনলাইনে টিকিট পেয়েছেন, তারা স্বস্তির কথা বলছেন।
তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের এই যুগে ঘরে বসে বাস কিংবা ট্রেনের টিকিট কাটা খুবই জনপ্রিয় একটি বিষয়। ঈদে মানুষের গ্রামে যাত্রাকে সহজ করতে সহজ ডট কম,বাস বিডি ডট কম-এর মতো ওয়েবসাইট বিভিন্ন বাস কোম্পানির টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার চেয়ে ঘরে বসে টিকিট কাটতে চান অনেকেই। কিন্তু চাইলেই তো হবে না। বাংলাদেশের মতো দেশে অনলাইনে টিকিট কাটা একদিকে যেমন জনপ্রিয়, অন্যদিকে অনেকের কাছে ভোগান্তির কারণ।
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার মিষ্টি। গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য তিনি টিকিট কিনেছেন বাস বিডি ডটকম থেকে। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে সহজেই বাড়ি যাবার টিকিট পেয়ে গেলাম। এই বৃষ্টির মধ্যে বাইরে যেয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হলো না। তবে অনলাইনে টিকিট কাটা নিয়ে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সিদ্ধান্তহীনতা ও অনিশ্চয়তা কাজ করে। আর এর জন্য চাই সঠিক মনিটরিং এবং নিশ্চয়তা।’
অ
নলাইনে টিকিট বিক্রির জনপ্রিয় ওয়েবসাইট সহজ ডট কম এর অপারেশন ম্যানেজার তোফায়েল আহমেদ মজুমদার জানান, এবার ঈদে প্রায় ৪৫টি বাস সার্ভিস আমাদের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করছে। বাস কোম্পানিগুলো অনলাইনে যত বেশি টিকিট দেবে গ্রাহকদের জন্য তত ভালো হবে। বাইরে লাইনে না দাঁড়িয়ে থেকে অনলাইনে টিকিট কেনাটা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে মোট টিকিটের মাত্র ১০ থেকে ৩০ ভাগ টিকিট আমাদের দেওয়া হয়। অনলাইনে আরও বেশি টিকিট বিক্রির সুযোগ থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক কমে যেত। আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী সেবা দিতে পারছি না। আমাদের যে সক্ষমতা এবং যে পরিমাণ চাহিদা, তার খুব কমই আমরা পূরণ করতে পারছি।’
সক্ষমতা থাকার পরও কেন অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না প্রশ্নে বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মারুফ তালুকদার ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সবার অবকাঠামো আছে এমন না,এটা সক্ষমতার ব্যাপার। আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার ডেভেলপমেন্টের ইতিহাস যদি খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন প্রথমে ছিল হাতে লেখা টিকিট । তারপর আসলো কম্পিউটারাইজড প্রিন্ট করা টিকিট, আর এখন অনলাইন আসছে । আস্তে আস্তে সবাই অনলাইনের দিকে ঝুকছে। সংখ্যা বাড়ছে। এটাতো আর হুট করে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশের সকল কোম্পানি একই দিনে অনলাইনে আসবে সে আশা করাও ঠিক না। আবার সবাই অনলাইনে টিকিট করে স্বস্তি বোধ করেন এমনও না।’
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন মুন্না। তিনি অনলাইনে টিকিট কাটা নিয়ে ভোগান্তির কথা জানালেন। মুন্না আজকের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি সকাল ৭ টায় সহজ ডট কম থেকে গাইবান্ধা যাবার একটি টিকিট কিনি। টিকিট কনফার্ম হবার পর আমি প্রিন্টও দিয়েছি। এর ৩০ মিনিট পর সহজ ডটকম-এর অফিস থেকে কল দিয়ে আমাকে জানানো হয়, আমি যে বাসের টিকিট ক্রয় করেছি সেই বাসটি বাতিল করা হয়েছে। বিকালের মধ্যে আমি আমার টাকা ফেরত পেয়ে যাবো। কিন্তু আমার টিকিটের তাহলে কী হবে। টিকিট কোথায় পাবো? ’
হানিফ, সোহাগ কিংবা শ্যামলীর মতো বড় বড় বাস কোম্পানিগুলো টিকিট বিক্রির জন্য প্রচলিত পদ্ধতিই অবলম্বন করছে। তাদের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কাউন্টার থেকেই। অন্যদিকে ট্রেনের টিকিটের মোট ২৫ শতাংশ বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। এছাড়া মোট টিকিটের পাঁচ শতাংশ ভিআইপিদের জন্য এবং আরও পাঁচ শতাংশ রেলের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিদিন সরাসরি এবং অনলাইনে ট্রেনের মোট ২২ হাজার ১২২ টি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার শিতাংশু চক্রবর্তী এসব তথ্য জানিয়েছেন ।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
সুইডেনে তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফর উপলক্ষে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরাফ সিদ্দিকী বিটু বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এই সফর করছেন। বাংলাদেশের কোনও সরকার প্রধানের এটিই হবে প্রথম সুইডেনে দ্বিপক্ষীয় সফর। লন্ডন হয়ে প্রধানমন্ত্রী সুইডেন যাবেন। তিন দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৭ জুন লন্ডন হয়ে দেশে ফিরে আসবেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী একটি ব্যবসায়ী দলসহ ৪৭ সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গত সোমবার জানিয়েছিলেন, ‘এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে করবেন।’
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে আজ স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ফ্লাইটটির অবতরণের কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাউনাইন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। লন্ডনে ২৪ ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর শেখ হাসিনা ১৪ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টা ১৫ মিনিটে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। একই দিন স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে স্টকহোম অরিয়ান্দা বিমানবন্দরে ফ্লাইটটির অবতরণের কথা রয়েছে।
সুইডেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে একটি সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে গ্র্যান্ড হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সুইডেনে সফরকালে এই হোটেলেই তিনি অবস্থান করবেন। ১৫ জুন প্রধানমন্ত্রী সুইডিশ পার্লামেন্টে যাবেন এবং পার্লামেন্টের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার টোবিয়াস বিলস্ট্রমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে শেখ হাসিনা রয়্যাল ক্যাসল-এ সুইডিশ রাজা ষোড়শ কার্লের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে ১৫ জুন দুপুরে তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে তিনি সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেবেন।
সুইডিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাবেলা লেভিন এবং বিচার ও অভিবাসন মন্ত্রী মরগান জোহানসন শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী ১৫ জুন সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আগামী ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-সুইডেন ব্যবসা ও বিনিয়োগ ফোরামে যোগদান করবেন। তিনি এইচ অ্যান্ড এম কার্ল-জোহান পার্সন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট অব ইনভেস্টর জ্যাকব ওয়ালেনবার্গ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্কাস ওয়ালেনবার্গ এবং এবিবি সুইডেন এর সিইও জোহান সোডারস্টর্মের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
গত ১১ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘সফরকালে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক শেষে বাংলাদেশ-সুইডেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে একটি যৌথ ইশতেহার অথবা ঘোষণাপত্র সই হতে পারে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে সুইডেন-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (এসবিবিসি) এবং নর্ডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এনসিসিআই, ঢাকা) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও সেই হতে পারে।’
তিনি আরও জানান, ‘এই সফর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এজেন্ডা ২০৩০) অর্জন ও দুই দেশের মধ্যে অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করবে।’