পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বৃষ্টির সঙ্গে যানজট নগরীতে

নিম্নচাপের প্রভাবে দিনভর বর্ষণে ভিজেছে রাজধানী, বৃষ্টির সঙ্গে যানজটে নাকাল হতে হয়েছে নগরবাসীকে। বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে সোমবার সকাল থেকে চলতে থাকা যানজট বিকালে তীব্র রূপ নেয়; অনেককে ইফতার সারতে হয় পথেই।

সারাদিন গাড়ি না পেয়ে কিংবা গাড়ি পেয়েও যানজেটে পড়ে অনেকেই সময়মতো পৌঁছতে পারেননি গন্তব্যে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপান্তরিত হয়ে ইতোমধ্যে তা স্থলভাগে উঠে এসেছে। এর প্রভাবে রোববার রাত থেকে প্রায় গোটা দেশে শুরু হয় বৃষ্টিপাত।

রাজধানীতে সকালের অফিসযাত্রার সময়ের যানজট বৃষ্টির কারণে রাস্তায় পানি জমে ব্যাপক আকার ধারণ করে।
গুলিস্তান থেকে ফার্মগেইট পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা সময় লাগার কথাও জানান অনেকে। যানজটের কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিকালে বৃষ্টিতে ভিজেই হেঁটে বাড়ির পথ ধরতে দেখা যায় অনেককে।

মিরপুর, শান্তিনগর, তেজগাঁও, কাকরাইল, মগবাজার, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিকালে তীব্র যানজট লেগেছিল, যা ইফতারের পরেও দেখা যায়।

বৃষ্টির মধ্যেই বিকেল ৪টায় শ্যামলী যেতে ফার্মগেইটে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কামরুল হাসান; প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গাড়িতে উঠতে পারেননি তিনি।

কামরুল বলেন, “বৃষ্টির জন্য বাসের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছি না। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর এসে যাবে এমন অবস্থা হয়েছে।”
রাস্তার পাশে জমে থাকা পানি দেখিয়ে সেজন্য যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে হাত ইশারায় দেখান তিনি।
তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা মোটর সাইকেল চালক আল লতিফ বলেন, “একদিকে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় পানি, অন্যদিকে রাস্তার বাজে অবস্থা। এই কারণে খুব রিস্ক নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।”
বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় মিরপুর এলাকায়; ১০ নম্বর গোলচত্ত্বর এলাকার সড়কের বড় অংশ ডুবে থাকতে দেখা যায়।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুরের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “এমনিতে ইফতারের আগে-আগে এ এলাকায় তীব্র যানজট হয়। তার মধ্যে আজকে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় সেটা আরও বেড়েছে।”

আগারগাঁও ও শান্তিনগর প্রভৃতি এলাকার সড়কও পানির নিচে চলে যায়, পানির কারণে রাস্তায় দুয়েকটি গাড়ি থেমে যেতেও দেখা গেছে সেখানে।
খামারবাড়ি থেকে আগারগাঁও, আগারগাঁও থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত লিংক রোডের একটা অংশেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

তালতলা থেকে শাহবাগগামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, “বৃষ্টির কারণে রাস্তায় দুই পাশেই প্রায় অর্ধেকজুড়ে পানি জমে গেছে। যানজটও বাড়ছে আগের তুলনায়। গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় অপেক্ষা করেও যেতে পারছি না।”

ইন্দিরা রোড, পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার বিভিন্ন সড়ক একেবারে পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে।
পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা আদনান ফয়সাল ডটকমকে বলেন, “কিছুদিন আগে এখানকার বিভিন্ন সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করার কাজ হয়। তখন ভাবছিলাম, এবার হয়ত জলাবদ্ধতা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি আগের মতোই।”
সকালের যানজটের চিত্র ফুটে ওঠে গুলিস্তান থেকে ফার্মগেইটগামী চাকরিজীবী মো. সেলিমের কথায়।
তিনি বলেন, “সকাল ৮টার দিকে বাসে উঠি, কিন্তু ঠিক সময় অফিসে পৌঁছতে পারলাম না।”

পুরো পথে যানজটে পড়ে কারওয়ান বাজার চার রাস্তার মোড়ের সিগনাল পার হতে সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে বলে জানান সেলিম।

বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয় বলে জানান শাহবাগে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মশিউর রহমান।

তিনি সকালে বলেছিলেন, “রাস্তায় পানির কারণে আউট গোয়িংয়ে (বহির্গমন) বাজে অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলে বিকালে যানজট আরও তীব্র হতে পারে।”
তার কথাই ঠিক হয় বিকাল বেলায়।

পানির কারণে শান্তিনগর, রূপসি বাংলা মোড়, মতিঝিল, মগবাজার ও মৌচাকের রাস্তাও যানজট হয়।

রামপুরা থেকে গুলিস্তান আসতে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি সময় লেগেছে জানিয়ে সাইদুর রহমান জিদনি নামে এক ব্যক্তি বলেন, মৌচাক বাজারে অনেক দোকানেই পানি উঠতে দেখেছেন তিনি।

উত্তরা থেকে মহাখালী রাস্তার প্রায় পুরোটাই যানজটের কবলে পড়ে দিনভর। এপথে কাওলা থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত রাস্তায় পানি জমে যায়।
পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) মো. সালাউদ্দিন বলেন, সেতু ভবনের সামনে, আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে ও কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের সামনের রাস্তায় পানি থাকায় মহাখালীর দিকে গাড়ি ধীর গতিতে আসছে।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন বলেন, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকার পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় অনেক ‘ইমপ্রুভ’ করেছে।

“মূলত শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক ও রাজারবাগ এলাকাকে ঘিরে সিটি করপোরেশনের একটি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। কিন্তু ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের কারণে এবছর কাজ শেষ করা যায়নি। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা আরও কমে যাবে।”
নিজে সোমবার শান্তিনগর হয়ে ইস্কাটনে এসেছেন জানিয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, “পরিস্থিতি আগের মতো নাজুক নয়। ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে কিছু পানি জমেছে। এগুলো ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

Posted in জাতীয়, সারা দেশ | Comments Off on বৃষ্টির সঙ্গে যানজট নগরীতে

প্রধানমন্ত্রীর সফরে সুইডেনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লফভ্যানের আমন্ত্রণে আগামী ১৫ এ ১৬ জুন সুইডেন দ্বিপাক্ষিক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও গভীর ও প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। এটাই হবে বাংলাদেশের কোনও সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সুইডেন সফর।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরররাষ্ট্র এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, ‘সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক ও একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। তিনি সুইডেনের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করবেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সুইডিশ কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তিনি বাংলাদেশ সুইডেন বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে অংশ নেবেন। ৪৭ সদস্যদের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী দলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুইডেন সফরে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সফরের ফলে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিনিয়োগে অধিকতর গতিশীলতা আনয়ন, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাস ও সহিংস উগ্রবাদ নিরোধসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও গভীর ও প্রসারিত হবে।’

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা আগামী ১৩ জুন মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী সুইডেনে যাওয়ার পথে লন্ডনে যাত্রাবিরতি করবেন। ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Posted in আন্তর্জাতিক, জাতীয়, লাইফস্টাইল | Comments Off on প্রধানমন্ত্রীর সফরে সুইডেনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চলতি মাসেই দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি জুনেই পিলারের ওপর বসানো হবে স্প্যান (দুই পিলারের সঙ্গে সংযোগ অবকাঠামো)। আর তখনই দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম। তবে কবে নাগাদ স্প্যান বসবে, তা এখনও ঠিক করা হয়নি। চেষ্টা চলছে চলতি জুন মাসের যেকোনও দিন বসানোর। বিষয়টি নির্ভর করছে আবহাওয়া, নদীর গতি প্রকৃতির ওপর। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমরা দিনরাত কাজ করছি। এতে কোনও গাফিলতি নেই। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে আছি।’

জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম জানান, ‘দ্বিস্তর বিশিষ্ট পদ্মা সেতুর স্প্যানের ওপর বসানোর জন্য স্ল্যাব নির্মাণের কাজ গত দুই সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। মোট তিন হাজার স্ল্যাব বসানো হবে। এই স্ল্যাবের ওপর বিটুমিন দেওয়া হবে। এটির ওপর দিয়েই যানবাহন চলবে। পদ্মা নদীতে আরও অপেক্ষা করছে ৪ হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রেন। যেটির কাজ হবে স্প্যানগুলোকে দুই পিলারের ওপর বসিয়ে দেওয়া। চলতি মাসে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হলেই পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি সবাই দেখতে পাবেন।’ তিনি জানান, ‘মে পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ ৪২ শতাংশ শেষ হলেও মূল কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। রোজার ঈদের সময় কাজের গতি হয়তো সামান্য কিছুটা কমবে, কারণ শ্রমিকরা অনেকেই বাড়ি যাবেন। তবে তা যেন কোনোভাবেই বেশি সময় না নেয়, এ জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।’

প্রকল্প দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা থেকে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি পর্যন্ত দৈর্ঘ সাড়ে ১০ কিলোমিটারের বেশি অংশে অ্যাপ্রোচ সড়ক, ৫টি সংযোগ সেতু, ৮টি আন্ডারপাস ও ২০টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ শতকরা হিসেবে ৯৫ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ১০০ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া-২-এর কাজ ১০০ শতাংশ, নদীশাসন কাজ ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আরএডিপি বরাদ্দের ৪৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগামী অর্থবছর (২০১৭-১৮) এ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫২৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, ‘এ পর্যন্ত ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও এর অগ্রগতি বোঝা যায় না। কারণ, প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজই হয়েছে পাইলিংয়ের কাজ। যা মাটির নিচে। পুরো সেতুতে ৪০টি স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ২০টি প্রস্তুত রয়েছে। যার একটিও বসানো হয়নি। যে সুপার স্ট্র্যাকচারগুলো তৈরি হয়েছে, তা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্যানেল করে রাখা আছে। ২০ টি স্প্যানের মধ্যে প্রকল্প সাইডের মাওয়া প্রান্তে আছে ৭টি, বাকি ১৩টি এখনও চীন থেকে আনা হয়নি। স্প্যানগুলো চীনের চিন হোয়াং ডক থেকে জাহাজে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সেখান থেকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের পর মাওয়ায় এসে পৌঁছাতে মোট সময় লাগে ২৮ দিন। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্থান সংকুলানের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হয়। তাই তৈরি স্প্যানগুলো এখনও চীনে আছে। বসানোর কাজ শুরু হলে পর্যায়ক্রমে আনা হবে।’

Vision ad on bangla Tribune
চলতি মাসেই দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু
শফিকুল ইসলাম০৯:৫৭, জুন ১১, ২০১৭

পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ চলছে, ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি জুনেই পিলারের ওপর বসানো হবে স্প্যান (দুই পিলারের সঙ্গে সংযোগ অবকাঠামো)। আর তখনই দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম। তবে কবে নাগাদ স্প্যান বসবে, তা এখনও ঠিক করা হয়নি। চেষ্টা চলছে চলতি জুন মাসের যেকোনও দিন বসানোর। বিষয়টি নির্ভর করছে আবহাওয়া, নদীর গতি প্রকৃতির ওপর। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমরা দিনরাত কাজ করছি। এতে কোনও গাফিলতি নেই। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে আছি।’

জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম জানান, ‘দ্বিস্তর বিশিষ্ট পদ্মা সেতুর স্প্যানের ওপর বসানোর জন্য স্ল্যাব নির্মাণের কাজ গত দুই সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। মোট তিন হাজার স্ল্যাব বসানো হবে। এই স্ল্যাবের ওপর বিটুমিন দেওয়া হবে। এটির ওপর দিয়েই যানবাহন চলবে। পদ্মা নদীতে আরও অপেক্ষা করছে ৪ হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রেন। যেটির কাজ হবে স্প্যানগুলোকে দুই পিলারের ওপর বসিয়ে দেওয়া। চলতি মাসে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হলেই পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি সবাই দেখতে পাবেন।’ তিনি জানান, ‘মে পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ ৪২ শতাংশ শেষ হলেও মূল কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। রোজার ঈদের সময় কাজের গতি হয়তো সামান্য কিছুটা কমবে, কারণ শ্রমিকরা অনেকেই বাড়ি যাবেন। তবে তা যেন কোনোভাবেই বেশি সময় না নেয়, এ জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।’

প্রকল্প দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা থেকে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি পর্যন্ত দৈর্ঘ সাড়ে ১০ কিলোমিটারের বেশি অংশে অ্যাপ্রোচ সড়ক, ৫টি সংযোগ সেতু, ৮টি আন্ডারপাস ও ২০টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

শরীয়তপুরে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক, ছবি: শরীয়তপুর প্রতিনিধি

চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ শতকরা হিসেবে ৯৫ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ১০০ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া-২-এর কাজ ১০০ শতাংশ, নদীশাসন কাজ ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আরএডিপি বরাদ্দের ৪৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগামী অর্থবছর (২০১৭-১৮) এ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫২৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, ‘এ পর্যন্ত ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও এর অগ্রগতি বোঝা যায় না। কারণ, প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজই হয়েছে পাইলিংয়ের কাজ। যা মাটির নিচে। পুরো সেতুতে ৪০টি স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ২০টি প্রস্তুত রয়েছে। যার একটিও বসানো হয়নি। যে সুপার স্ট্র্যাকচারগুলো তৈরি হয়েছে, তা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্যানেল করে রাখা আছে। ২০ টি স্প্যানের মধ্যে প্রকল্প সাইডের মাওয়া প্রান্তে আছে ৭টি, বাকি ১৩টি এখনও চীন থেকে আনা হয়নি। স্প্যানগুলো চীনের চিন হোয়াং ডক থেকে জাহাজে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সেখান থেকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের পর মাওয়ায় এসে পৌঁছাতে মোট সময় লাগে ২৮ দিন। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্থান সংকুলানের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হয়। তাই তৈরি স্প্যানগুলো এখনও চীনে আছে। বসানোর কাজ শুরু হলে পর্যায়ক্রমে আনা হবে।’

পদ্মা সেতুর পিলারের কাজ চলছে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর কাজের গতি বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হ্যামার আনার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে যে দু’টি হ্যামার দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ হচ্ছে, এগুলোর ক্ষমতা যথাক্রমে ২ হাজার ৪০০ ও ২ হাজার কিলোজুল। আর নতুন যে বিশাল আকৃতির হ্যামারটি জুন মাসের ১০ তারিখে সেতুর পাইলিংয়ের কাজে যুক্ত করা হবে, তার ক্ষমতা ৩ হাজার কিলোজুল। এতে দ্রুত গতিতে পদ্মা সেতুতে পাইলিংয়ের কাজ করা যাবে।

এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি সিএম তানজিল হাসানকে দেওয়ান আবদুল কাদের জানান, ‘গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত পদ্মা সেতুর কাজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ শতাংশ। কিন্তু কাজ হয়েছে ৪২ দশমিক পাঁচ শূন্য শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়ার কারণে কাজের গতি বাড়াতে হবে, যদি ঠিক সময়ে কাজটি সম্পন্ন করতে চাই। সেই লক্ষ্যে একটি নতুন হ্যামার আনা হবে। আর এখন যেখানে ৬টি কপার ড্রামে কাজ চলছে, তার পরিবর্তে ১৩টি প্লাটফরমে কাজ করা হবে। তখন কাজের অগ্রগতি হবে।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া প্রান্তে ১ দশমিক ছয় সাত কিলোমিটার মেইন রোড ও দুই কিলোমিটার লিংক রোডের কাজ গত বছরের জুলাই মাসে শেষ হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ১০ দশমিক পাঁচ সাত কিলোমিটার (প্রায়) মেইন রোড, ৩ কিলোমিটার লিংক রোড, ১২ কিলোমিটার সার্ভিস রোড ও ৬ কিলোমিটার ফেরি শিফটিং রোডের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। নির্বাহী প্রকৌশলী ( অ্যাপ্রোচ রোড) সৈয়দ রজব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘গত ডিসেম্বর মাসেই অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হলেও গত পাঁচ মাসে ধীর গতিতে বাকি ১৩ শতাংশ কাজ করতে হয়েছে। কারণ মাটি সেটলম্যান্টের ব্যাপার আছে। এছাড়া, সেতুর দুই প্রান্তে থানা তৈরির কাজও করে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে প্রকৌশলী দেওয়ান কাদের আরও জানান, ‘এই সেতু প্রকল্পে দেশি-বিদেশি মিলে প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। তবে এই সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করে। প্রায় ৮শ বিদেশি শ্রমিকের মধ্যে চীনাদের সংখ্যাই বেশি। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ শ্রমিকসহ প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ম্যানেজম্যান্ট লেভেলের কর্মকর্তা রয়েছেন।’

সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।।

Posted in জাতীয়, সারা দেশ | Comments Off on চলতি মাসেই দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

মনিটরিং ও জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে: ওবায়দুল কাদের

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে মনিটরিং, পর্যবেক্ষণ ও জরিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। বিভিন্ন জরিপে জনগণের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। আর যারা জরিপে গ্রহণযোগ্য নয় তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

শনিবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে যানবাহনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘মহাসড়কে চাঁদাবাজি হচ্ছে, চাঁদাবাজির একটি সিন্ডিকেট আছে। শুধু পুলিশকে দায়ী করলে হবে না। এর সঙ্গে কয়েকটি মহল জড়িত। রাজনৈতিক, প্রশাসন ও পুলিশের লোকজন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেবে। চাঁদাবাজি দূর করতে হবে।’

মওদুদ আহমেদের বাড়ির উচ্ছেদ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক আইনমন্ত্রী যদি আদালতের রায় না মানেন তাহলে দেশের মানুষ কী করে আইনের শাসন আশা করবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশে আইনের শাসন থাকবে এটা কী করে বিশ্বাস করি। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে। তাদের কাপড় পরারও সময় দেওয়া হয়নি। তিনি (মওদুদ) এক কাপড়ে ফুটপাতে যাবেন কেন, তার ঢাকা শহরেও তিনটি বাড়ি আছে। বিদেশেও বাড়ি আছে।’

এসময় কুমিল্লার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. গোলামুর রহমান, সড়ক ও জনপদ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ সাইফ উদ্দিনসহ হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Posted in জাতীয়, রাজনীতি | Comments Off on মনিটরিং ও জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে: ওবায়দুল কাদের

এনআইডি ছাড়া বিসিএসে আবেদন নয়

জাতীয় পরিচিতি নম্বর (এনআইডি) ছাড়া কেউ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ৩৮তম বিসিএস থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক।

বৃহস্পতিবার পিএসসির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘আমরা আজ একটি বৈঠকে বিসিএস পরীক্ষায় কিছু পরিবর্তনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিসিএসের অনলাইন আবেদনে এতদিন শুধু স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানা, সব সনদের রোল নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম, রেজাল্টসহ অন্যান্য কিছু তথ্য চাওয়া হতো। এবার থেকে ন্যাশনাল আইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নম্বরও চাওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘৩৮তম বিসিএসের অনলাইনে আবেদন করতে বাধ্যতামূলকভাবে এনআইডি নম্বর লাগবে। একটা সিম কিনতে যদি এনআইডি লাগে, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে যদি এনআইডি লাগে, তো বিসিএস পরীক্ষা দিতে কেন আইডি নম্বর চাইব না?’

পিএসসির চেয়ারম্যান জানান, ২ হাজার ১০০ পদে নিয়োগ দিতে এ মাসেই ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ৩৮তম বিসিএস থেকেই পরীক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

লিখিত পরীক্ষায় ৯০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়াবলীর মধ্যে আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

Posted in জাতীয় | Comments Off on এনআইডি ছাড়া বিসিএসে আবেদন নয়

‘তিন কন্যা’কে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘তিন কন্যা’ টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং রূপা হককে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উইংয় একথা জানিয়েছে।  

বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ এবারের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। এ নিয়ে তিনি টানা দুই বার নির্বাচিত হলেন। এছাড়া রূপা দ্বিতীয়বারের এবং রুশনারা তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছেন। টিউলিপ বিজয়ী হয়েছেন লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে, রুশনারা বিজয়ী হয়েছেন বেথনাল গ্রিন এন্ড বো আসন থেকে এবং রূপা বিজয়ী হয়েছেন লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে। আগের বারও তারা একই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। অনেকে তাদেরকে ‘তিন কন্যা’ হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন।

২০১৫ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে  জয়ী হয়েছিলেন টিউলিপ, রুশনারা ও রূপা। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীর সংখ্যা আরও তিনজন বেড়ে ১৪ জন হয়। এদের মধ্যে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেবার পার্টি থেকে, একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি থেকে এবং ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Posted in আন্তর্জাতিক, জাতীয়, রাজনীতি | Comments Off on ‘তিন কন্যা’কে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য যারা

নেতাকর্মীদের কাছে ভালো ইমেজ রয়েছে, রাজনীতিক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত, সংগঠক হিসেবে দক্ষ, সততা, নিষ্ঠা ও শিক্ষিত, এমন যোগ্যতা রয়েছে যাদের, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব যোগ্যতা সম্পন্ন নেতাদের সারাদেশ থেকে বাছাই করে তালিকা করা শুরু করেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা এই তালিকা ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে এসব গুণাবলী যাদের রয়েছে, তারাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। দলীয় সভাপতি মনে করেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। এখানে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ-কারিশমাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই উল্লিখিত যোগ্যতা ও গুণাবলী যাদের রয়েছে, তাদের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে নেত্রীর নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও হিসাবনিকাশ শুরু হয়ে গেছে। কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, কে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য, এসব বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। নিয়মিত এগুলো নিয়ে স্ট্যাডি করছেন প্রধানমন্ত্রী এমন তথ্যও জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র। অন্য দুটি সূত্র জানায়, সভাপতি শেখ হাসিনা এবার দুইশ আসনে এমন প্রার্থী দিতে চান, যারা মনোনয়ন পাওয়া মানেই তাদের বিজয় নিশ্চিত। এ ধরনের প্রার্থী খুঁজে বের করতে কাজ করছেন তিনি। আর তাদের মধ্যে অবশ্যই উল্লিখিত গুণাবলী থাকতে হবে বলে ঘনিষ্ঠদের অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে ২০১৪ সালে মনোনয়ন পাওয়া অনেক এমপির কপাল পুড়তে পারে। সর্বশেষ সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘এবার কাউকে পাস করানোর দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না। এবার যার যার জয় সে-ই ছিনিয়ে আনতে হবে।’ এজন্যে এমপিদের এলাকায় যেতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যার অবস্থা বেগতিক তার অবস্থা ভালো করার জন্যেও নির্দেশ দেন।

এর সঙ্গে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা থাকা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জানাগেছে, সর্বশেষ দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অনেকে এমপি হয়েছেন, যাদের নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা নেই। নির্বাচন না করেই এমপি হয়েছেন। এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে নির্বাচন না করেও এমপি হওয়ার পর ভালো করেছেন, এমন এমপিদের বাদ না দেওয়ারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের কাছে ভালো ইমেজ রয়েছে, রাজনীতিক হিসেবে স্থানীয়ভাবে এলাকায় সুপরিচিত, সংগঠক হিসেবে দক্ষ, সর্বোপরি শিক্ষা-সততা ও নিষ্ঠাবান এমন গুণসমৃদ্ধ প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সারাদেশ থেকে তিনি প্রার্থী তুলেও এনেছেন। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তুলে আনা এ তালিকা নিয়ে কাজও করছেন তিনি।’ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ইমেজসম্পন্ন প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনোনয়ন কাকে দেবেন বিষয়টি একেবারেই সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। তবে গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ, সৎ, আদর্শের রাজনীতির ক্ষেত্রে অবিচল নেতারাই মনোনয়ন পাবেন। শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে ডিটারমাইন্ড।’

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েই বিজয় নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। এর জন্যে এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে অনেক যাছাই-বাছাই করে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কাকে মনোনয়ন দেবেন, কাকে দেবেন না, তা নিয়ে তিনি কাজ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নেতাকর্মীদের কাছে ভালো ইমেজ রয়েছে, রাজনীতিক হিসেবে এলাকায় পরিচিত, সংগঠক হিসাবে দক্ষ ও নিষ্ঠাবান নেতাদের দিকে ঝুঁকবেন শেখ হাসিনা।’

Posted in জাতীয়, রাজনীতি, সারা দেশ | Comments Off on শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য যারা

আ.লীগ হ্যাট্রিক করবে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ আগামী (একাদশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হয়ে সরকার গঠনে হ্যাট্রিক করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এছাড়া ওই নির্বাচনে বিএনপির হ্যাট্রিক পরাজয় হবে।’

বুধবার সকালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনের হুমকি দিয়ে মাঠে না নামায় এবং হাওর ও দক্ষিণ উপকূলের  দুর্যোগ-দুর্বিপাকে জনগণের পাশে না দাঁড়ানোয় জনগণের আস্থা হারিয়েছে বিএনপি। এ কারণেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হ্যাট্রিক বিজয় এবং বিএনপির হ্যাট্রিক পরাজয় হবে।’

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Posted in জাতীয়, রাজনীতি | Comments Off on আ.লীগ হ্যাট্রিক করবে: ওবায়দুল কাদের

‘হঠাৎ শুনি আমরা দুই বোন এতিম হয়ে গেছি’

‘আমি ও রেহানা ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ৩১ জুলাই জার্মানি পৌঁছাই। এরপর ১৫ দিনের মাথায় হঠাৎ শুনি আমরা দুই বোন এতিম হয়ে গেছি। নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে গেছি।’

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এ কে এম শাহজাহান কামালের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও পরর্বতীতে দেশে ফেরা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শাহজাহান কামাল প্রশ্ন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় প্রবেশে কোনও ধরনের বাধা পেয়েছিলেন কিনা।

দুই বোনের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনি মোশতাক ও তার দোসর জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড চালায়। এরপর হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়। জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। আমি ও রেহানা দেশে ফিরতে চাইলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। রেহানার পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তা জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বর্ধিত করা হয়নি। ওই পাসপোর্টও ফেরত দেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৫-১৯৮১ সাল পর্যন্ত আমাদের বিদেশেই থাকতে হয়। খুনি জিয়া আমাকে ও আমার বোনকে দেশে আসতে দেয়নি। আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে আমি দেশে ফিরে আসি। ওই সময় জিয়াউর রহমান আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী বাহিনী সব বাধা উপেক্ষা করে আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘দেশে ফিরে ধানমান্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে গেলে আমাকে ওই বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি। বাবা-মা, ভাইয়ের জন্য একটু দোয়া করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পুলিশি প্রহরা ও গেটে তালা দিয়ে আমার পথ রুদ্ধ করা হয়। আমি রাস্তার উপরই বসে পড়ি এবং আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া পড়ি। ১৯৮১ সালের ১২ জুন পর্যন্ত ওই বাড়িতে আওয়ামী লীগের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’

রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবাই অবাধে চলাচলের অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘দেশে ফেরার পরে আমাকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১২ জুন হঠাৎ করে ১ ঘণ্টার নোটিশে বাড়িটি আমাকে তাড়াহুড়ো করে হস্তান্তর করা হয়। খুনি, ষড়যন্ত্রকারীরা জনমানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কাজেই অধিকার ক্ষুণ্নের দিক থেকে আমি ও আমার বোন ব্যতিক্রম ছিলাম না।’

সূত্র : বাংলাট্রি্বিউন।

Posted in Uncategorized, জাতীয়, রাজনীতি, সারা দেশ | Comments Off on ‘হঠাৎ শুনি আমরা দুই বোন এতিম হয়ে গেছি’

৬ দফা দিবস: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

পরে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী হিসাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন শেখ হাসিনা।

শিক্ষা ও উন্নয়নসহ কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার বাঙালির স্বায়ত্ত্বশাসন চেয়ে ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ওই ছয় দফাই পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করে বলে অনেকে মনে করেন।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ছয় দফা উত্থাপন করার পর তা বাস্তবায়নের দাবিতে ৭ জুন হরতালের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ।

তখনকার পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সেই হরতালে ছাত্র-জনতা সেদিন অভূতপূর্ব সাড়া দেয়। ঢাকার তেজগাঁও ও নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের মিছিলে গুলি চলে, নিহত হন বেশ কয়েকজন।

সেদিন সন্ধ্যায় কারফিউ দিয়ে হাজার হাজার বাঙালিকে গ্রেপ্তার করা হলেও ৬ দফার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সেই পথ ধরে ১৯৭১ সালে নয় মাস যুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে বিশ্বের মানচিত্রে।

ছয় দফা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Posted in জাতীয়, রাজনীতি | Comments Off on ৬ দফা দিবস: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud