May 1, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের জন্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ খুব সহজ হবে না বলে ভোটের দুই বছর আগে থেকেই সেই বাধা পেরোতে কৌশল নিয়ে কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
প্রয়োজনে জোট সম্প্রসারণের আভাস দিয়ে তিনি বলছেন, নির্বাচনে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগের কৌশলগত পরিবর্তন হতে পারে। তবে ‘শেকড়’ থেকে তারা কখনও সরবেন না।
এছাড়া দলীয় কোন্দল নিরসন, প্রার্থী মনোনয়নের জন্য একাধিক জরিপ, তৃণমূলের মতামত গ্রহণ এবং সমালোচিত সংসদ সদস্যদের শুদ্ধ হতে সময় বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে হিসেবে রেখে এসব কৌশল নিলেও ভোটে আসতে দলটির দেওয়া শর্তের বিষয়ে অনমনীয় আওয়ামী লীগ।
ওবায়দুল কাদেরের ভাষায়, “এই সব আস্কারা দিলে দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে ভোটে নারাজ বিএনপি জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আড়াই বছরের মাথায় ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আসেন ওবায়দুল কাদের।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা-ঘাটে উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তাদের কাজ নিয়ে জবাবদিহি ও জনগণের বক্তব্য শোনায় আলোচিত কাদের এরইমধ্যে দেশের অনেক এলাকায় দলীয় সভায় অংশ নিয়েছেন।
সেই অভিজ্ঞতা এবং দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সেতুভবনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।
নির্বাচনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদের মধ্যে কার কী অবস্থা তা নিয়ে জরিপ হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সংস্থা, এর মধ্যে বেসরকারি সংস্থাও আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে একটি, পেশাজীবীদের পক্ষ থেকেও একটা জরিপ চলছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার জরিপ তো আছেই।
শুধু জরিপ নয়, দলীয় পর্যায়েও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্লোজলি মনিটর’ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
“ময়মনসিংহ-বরিশাল ছাড়া সব কটিতে প্রতিনিধি সভা করা হয়েছে। আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছি, আগামী দিনের প্রার্থীদের নিয়ে চিন্তাভাবনা প্রকাশ করছে, এর মধ্য দিয়ে তাদের মতামত জানতে পারছি।
“নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে একটা চয়েস দেওয়া হবে প্রার্থী বাছাইয়ে, এখন তৃণমূলে প্রার্থী বাছাইয়ের নিয়ম আছে তিনজন পর্যন্ত নাম পাঠাতে পারে, যেটা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তৃণমূলের একটি পছন্দ থাকবে। সেই চয়েসটাও জরিপের সাথে মিলিয়ে প্রার্থীবাছাই করে মনোনোয়ন দেওয়া হবে।”