May 25, 2026
তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিবেশী এই দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
সিরিসেনা শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে টাইগার গেটে তাকে স্বাগত জানান হাসিনা। ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে।
দুই নেতা প্রথমে একান্ত বৈঠকে অংশ নেন। তারপর দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলি হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। শেষে করবীতে দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।
এর মধ্যে দুই দেশের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসাবিহীন চলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবী করুনানায়েকে।
এছাড়া অর্থনৈতিক ও কৃষি খাতে সহযোগিতা, উচ্চ শিক্ষা, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে, পররাষ্ট্র সেবা বিষয়ক ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বিস’ ও শ্রীলঙ্কার এলকেআইআইআরএসএস’র মধ্যে এবং রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র, দুদেশের মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান, সংবাদ সংস্থা এবং চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলঙ্কা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাকি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সাক্ষরিত হয়।
দুই পক্ষই আশা করছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের এই সফর পারস্পারিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র আট কোটি মার্কিন ডলার। এই বাজার আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট : তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
প্রতিবেশী এই দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে একটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।
সিরিসেনা শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে টাইগার গেটে তাকে স্বাগত জানান হাসিনা। ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে।
দুই নেতা প্রথমে একান্ত বৈঠকে অংশ নেন। দুই দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসাবিহীন চলাচলের বিষয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে দুই দেশের।
এছাড়া উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, অর্থনৈতিক ও কৃষি খাতে সহযোগিতা, উচ্চ শিক্ষা, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে, পররাষ্ট্র সেবা বিষয়ক ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বিস’ ও শ্রীলঙ্কার এলকেআইআইআরএসএস’র মধ্যে এবং রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র, দুদেশের মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান, সংবাদ সংস্থা এবং চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলঙ্কা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাকি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো হবে।
দুই পক্ষই আশা করছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের এই সফর পারস্পারিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হবে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেদিন
বলেছিলেন, “বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র আট কোটি মার্কিন ডলার। এই বাজার আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।”
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়েও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আলোচনা হবে বলে সেদিন জানান শাহরিয়ার।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। সেখানে তার সম্মানে দেওয়া এক ভোজেও অংশ নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে থাকবেন।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
এই সফরে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা থাকছেন ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে। তার সফর উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশে এটা তার প্রথম সফর হলেও এর আগে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ঢাকা ঘুরে গেছেন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।
বৃহস্পতিবার ঢাকা পৌঁছানোর পর বিকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট।
পরে তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জাদুঘরে তাকে স্বাগত জানান বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
এই সফরে ৭৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রয়েছে। শনিবার ঢাকা ছাড়ার আগে একটি বাণিজ্য সংলাপে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সূত্র : বিডিনিউজ২৪।
ডেস্ক রিপোর্ট : ভ্যাট আইন স্থগিত করায় রাজস্ব আদায়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ভ্যাট স্থগিত করায় ২০ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হবে।’ বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভ্যাট আইন স্থগিত করা হয়েছে। এতে কিন্তু ক্ষতি হয়েছে। এখন সেটা আমাদের যেভাবে হোক ব্যবস্থা করতে হবে। হয় ব্যাংকের লোন নিতে হবে, নয় তো আমাদের উন্নয়ন বাজেট কাটছাট করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট আইন স্থগিত করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন, এতে রাজস্ব ক্ষতি হবে না। ক্ষতি কিন্তু হয়েছে। কারণ ভ্যাট ধরে আর মোবাইল ফোন থেকে কী আয় হবে সেটা ধরেই কিন্তু বাজেট করা হয়েছে। তবে আমরা দেখবো কোথায় কীভাবে এটা অ্যাডজাস্ট করা যায়।’
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যদি আয়কর দেন, তাহলে সেটা দেশের উন্নয়নের কাজে লাগবে। ওই রাস্তাঘাট তৈরি হবে, মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারবো, ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারবো। সব দিক থেকে কিন্তু মানুষ উপকৃত হবে। কাজেই সামান্য একটু ট্যাক্স দিলেই মানুষ অনেকগুলো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বাজেটের ঘাটতিও পূরণ হবে। দেশটারও উন্নতি হবে।’
বাজেট নিয়ে সংসদ সস্যদের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে সংসদ নেতা বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা যে নিজেদের মতামত দিতে পারে, তার প্রমাণ এই সংসদ। তারা স্বাধীনভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। মত প্রকাশের যে স্বাধীনতা রয়েছে তা প্রমাণিত সত্য। সরকার দলের সদস্যরাই সব থেকে বেশি অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন। সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাদের সমালোচনায় অর্থমন্ত্রী বাজেটে বেশকিছু সংশোধনী এনেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। মন্দা সত্ত্বেও আমরা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পেরেছি। অর্থনীতিকে গতিশীল করেছি। বাজেট বৃদ্ধি করেছি। এত বড় বাজেট কোনদিনও দেওয়া হয়নি। আমরা তেল মাথায় তেল নয়, উন্নয়ন যেন হতদরিদ্রদের মাঝে পৌঁছে সেইভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এজন্য আজ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে বিস্ময়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে এক লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছি। অথচ অনেক পত্রিকায় উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যয় হয়নি বলে শতাংশ হিসেব করে বড় বড় হেডলাইন করেছেন। তারা হয়তো দেখেনি কত কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট ছিলো আর কত কোটি টাকা বাস্তবায়ন হয়েছে। এবারও আমরা উন্নয়ন কর্মসূচিতে এক লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা রেখেছি। আরা ইনশাল্লাহ এটা পূরণ করতে পারবো। এতে আমাদের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।’
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজ নিজ এলাকায় যেসব প্রকল্প রয়েছে সেগুলির যেন যথাযথ উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয় সেদিনে নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলে আমরা বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পারব।’
খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। কোথাও ভেজাল প্রমাণ হলে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তির বিধান করা হচ্ছে, এটা চলমান রয়েছে। ফরমালিন বন্ধের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আগের মতো এখন ফরমালিন ব্যবহার হয় না। আপনারা নিশ্চিন্তে আম খেতে পারেন। ভেজাল খাই আর যা খাই আমাদের আয়ুষ্কাল কিন্তু বেড়ে গেছে। খাদ্য নিরাপত্তা দিতে পেরেছি বলেই আয়ুষ্কাল বেড়েছে।’
লবণ আমদানি প্রসঙ্গে রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় লবণের উৎপাদন কম হয়েছে। সামনে কোরবানির ঈদ রয়েছে। এটাকে মাথায় রেখে লবণ আমদানি করা হয়েছে। যাতে কোরবানির সময় চামড়া সংরক্ষণে কোনও সমস্যা না হয়।’
বৃষ্টিতে রাজধানীতে পানি জমার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডিতে এক সময় ধান হতো, সেখানে বিল ছিলো। বিল ভরাট করে বসুন্ধরা সিটি করা হয়েছে। মতিঝিল নাম আছে কিন্তু সেখাকার ঝিলটা আর নেই। ধোলাইখাল বন্ধ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার এগুলো বন্ধ করেনি। জিয়াউর রহমান-এরশাদ এগুলো বন্ধ করেছেন। পান্থপথ খাল আর শান্তিনগর খাল বন্ধ করেছেন এরশাদ। সচিবালয়ে বৃষ্টি নামলেই দেখি হাঁটু পানি। সেই পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে পানি জমতো সেটাও নিষ্কাষণের ব্যবস্থা করেছি। এখন আমার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ হচ্ছে যেখানেই যা হোক না কেন সেখানে জলাধার রাখতে হবে। একটা সরকার এলে সব কিছু পরিবর্তন করে ফেলে বলেই এই সমস্যা হয়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘জলাধার সংরক্ষণ আইন আমি করে দিয়েছিলাম এবং জলাধার সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছি। তার জন্য বিশেষত ভূমিখেকো যারা, যারা পত্রিকার মালিক, যারা টেলিভিশনের মালিক তারা তো এর বিরুদ্ধে বহু কিছু লিখে-টিখে আমার প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানকে চোর বানাতো। যেহেতু আমরা ড্যাপ করলাম, তার জন্য কতরকম কথা। নিজেরা চুরি করে যে, এত বড়লোক সে নিউজ নেই।’
জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ আজ বিশ্বব্যাপী দেখা গেছে। এই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি অবস্থান নিয়েছে। জঙ্গিদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে যাচ্ছি। এজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বহুমুখী পরিকল্পনা নিচ্ছি। দুর্নীতি রোধ করা দেশের মানুষের উন্নতি করা এবং শান্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া এগুলো করবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’
সামনাসামনি উত্তর না দিলে মজা থাকবে না
এইচএম এরশাদের নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেব নেই। তিনি কিছু কথা বলেছিলেন, আমি লিখেও রেখেছিলাম। তার উত্তর দেবো, এখন এখানে তিনি নেই। সামনাসামনি না বললে তো উত্তর দিয়ে কোনও মজাই থাকবে না। কাজেই ওটা রেখে দিলাম, সেদিন সামনে পাবো সেদিন তাকে সামনে রেখে বলবো।’
ডেস্ক রিপোর্ট : মেট্রোরেল প্রকল্পের লাইন নির্মাণের কাজের কারণে বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুর ও আশপাশের এলাকাজুড়ে ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এলাকাগুলো হচ্ছে মিরপুর-১০ এর পূর্ব ও পশ্চিম পাশ, আগারগাঁও রোড, মনিপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, বড়বাগ, আগারগাঁও, সেনপাড়া, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত থেকে ভাষানটেক, উত্তর কাফরুল, তালতলা, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মিরপুর-১, মিরপুর-২, মিরপুর-৬, মিরপুর-৭, আহমদনগর, পাইকপাড়া, শিয়ালবাড়ি, রূপনগর, আরামবাগ, ইস্টার্ন হাউজিং, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এবং আশপাশের এলাকা।
বুধবার তিতাস গ্যাসের জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজের জন্য মিরপুর ও আগারগাঁও এলাকায় গ্যাসের লাইন শিপমেন্ট করা হবে। সে কারণে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
ডেস্ক রিপোর্ট : আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারায় খুবই নগণ্য সংখ্যক গ্রেফতার হয়েছে বলে দাবি করলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বুধবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারায় অনেক সাংবাদিক নিগৃহীত হচ্ছে এমন তথ্য সঠিক নয়। বাংলাদেশে দুই হাজার ৮০০টির বেশি পত্রপত্রিকা এবং ১ হাজার ৮০০টির বেশি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১০ জন করে সাংবাদিক থাকলে কত হাজার সাংবাদিক কাজ করছে তা বোঝা যায়। সংখ্যার তুলনায় খুবই নগণ্য অর্থাৎ দু’একজন সাংবাদিক এই আইনে গ্রেফতার হয়েছে। আর তারা আদালতে যাওয়ার দুই-একদিনের মধ্যে জামিনও পেয়েছে।’
দেশের ১৬ কোটি মানুষের নিরাপত্তার জন্য এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দণ্ডবিধি ৫৭ এবং ৫৬ ধারাটি গণমাধ্যম বা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে করা হয়নি। এটি একটি সাধারণ দণ্ডবিধি। বর্তমান সরকার যাত্রা শুরুর আগেই আইনটি করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিকদের জন্য তা করা হয়নি। এই আইনটি করা হয়েছে ১৬ কোটি মানুষের জন্য। যে কোনও নাগরিক সামাজিক গণমাধ্যম যেমন ফেসবুক ও টুইটারে যদি অন্যের চরিত্রহনন করে পোস্ট দেন তাহলে তাকে এই আইনের আওতায় আনা হবে।’
ডিজিটাইটেশনের ফলে গণমাধ্যমের প্রসার ও বিকাশ ঘটেছে জানিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পরিধি বেড়েছে। কেউ যদি অপব্যবহার,
চরিত্রহনন, নিন্দা, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে ধর্মীয় বিভাজন বা বিদ্বেষ তৈরি করে সেখানে এই আইনটি প্রয়োগ হয়। অনলাইন বা সামাজিক গণমাধ্যমে এমন কাজে লিপ্ত হলে সেক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ হয়। সাংবাদিকদের বেলায় শুধু প্রয়োগ হয় এটি, এমন তথ্য সঠিক নয়।’
হাসানুল হক ইনু জানান, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা, নারীর সম্মান, শিশু নিরাপত্তা, রাষ্ট্র ও ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আচার অনুষ্ঠান নিরাপত্তা বিধানের জন্য আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম হলেই কেবল আইনটি প্রয়োগ করা হয়।
আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারার মামলা জামিন অযোগ্য তথ্যটি সঠিক নয় উল্লেখ করে ইনু বলেন, ‘এটাকে অজামিনযোগ্য বলে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এই আইনে যারা গ্রেফতার হয় তারা কিন্তু একটা পর্যায়ে জামিনযোগ্য। এই আইনে যারা গ্রেফতার হয়েছে তার সবাই জামিন পেয়েছেন। নিম্ন আদালতে না পেলেও উচ্চ আদালতে ঠিকই জামিন মিলছে।’
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে ৩০-এর অধিক আইন রয়েছে সেগুলো জামিনযোগ্য নয়। কিন্তু প্রতিটি জায়গাতেই উচ্চ আদালতে গেলে বিচারকরা যদি মনে করেন তাহলে জামিন দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের ওপর এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখা হয় বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী। কোনও জায়গায় এই আইনের বরখেলাপ বা হয়রানির ঘটনা হলে সেখানে তথ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ করে বলেও জানান তিনি। তার কথায়, ‘কোনও মিথ্যাচার হয়ে থাকলে বিচারকরা তা পর্যবেক্ষণ করে আসামিকে জামিন দিচ্ছেন।’
ডিজিটাল নিরাপত্তায় সরকার নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। সেটি আসার পরে আইনমন্ত্রী ও সরকার বিচার বিশ্লেষণ করে দেখবে ৫৭ ধারার আইনটি রাখা দরকার আছে কিনা। তবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আইনটি মানবাধিকারবিরোধী বলে মনে করি না। বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে এতদিনে এটি উচ্চ আদালতে গেলেই বাতিল হয়ে যেত। আজ পর্যন্ত কেউ উচ্চ আদালতে গিয়ে আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রমাণ করতে পারেনি।’
সূত্র : বাংলাাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : দেশ ও দেশের জনগণের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ক্ষমতা আমার কাছে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নয়।মানুষের কল্যাণের জন্য যেকোনও অবস্থা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।আমি রাষ্ট্রপতির মেয়ে ছিলোম,মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম, নিজেও ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী। নিজের ভাগ্য কী করে গড়ব সেই চিন্তা কখনও করিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তরের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো।
তিনি ও তার বোন শেখ রেহানার সন্তানেরা কখনও এটা—সেটা চেয়ে বিরক্ত করেন না মন্তব্য করে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি। আমি ও আমার বোনের ৫টি ছেলে মেয়ে, তাদেরকে একটা কথা বলে দিয়েছি। লেখাপড়া শিখেছো, ওইটুকুই তোমাদের সম্পদ। তারাও প্রতিটি কাজে আমাদের সহায়তা করছে। কখনও বিরক্ত করে না, এই ব্যবসা দিতে হবে, সেই ব্যবসা দিতে হবে। এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। এই ধরনের বিরক্ত কখনোই তারা করেনি। বরং আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ, অটিজমের জন্য কাজ করা। দলের ডাটা সেন্টারটাকে গড়ে তোলা। দেশের উন্নয়নমূলক অনেক কাজেই তারা সাহায্য করছে। ছোট বোনের মেয়ে টিউলিপ এই নিয়ে দুবার লন্ডনে এমপি নির্বাচিত হয়েছে।
ক্ষমতাকে মানুষকে সেবা করার সুযোগ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, সেবক হিসেবে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগটা পাচ্ছি। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বার বার নির্বাচিত করে দেশের মানুষকে সেবা করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে মানুষ যখন শান্তির মুখ দেখতে শুরু করেছে, দেশের সম্ভাবনার স্বর্ণ দুয়ার খুলে গেছে ঠিক তখনই জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি ও আমার ছোট বোন একদিনেই নিঃস্ব রিক্ত হয়ে যাই। এই শোক ও ব্যথা সহ্য করা যায় না। তবে এই শোক ও আঘাত আমি ও আমার বোনের ভেতরে শক্তি যুগিয়েছে।মানুষের ভালোবাসার পরশ থেকে শক্তি পেয়েছি। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছি।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বিদেশে থাকার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ৫টি বছর রিফুজি (শরণার্থী) হিসেবে বিদেশের মাটিতে আমাদের থাকতে হয়েছে। রিফুজি হিসেবে অন্য দেশে থাকা এটা যে কতটা বেদনাদায়ক ও কষ্টকর আমরা তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি।
তিনি বলেন, একটি বৈরী পরিবেশে আমি দেশে ফিরে আসি। আমার চলার পথ কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলো না। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই উৎরাই ও বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আমাকে এগুতে হয়েছিল।সত্য ও সততার পথে থাকলে যে কোনও বাধাই অতিক্রম করা যায়। দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে হবে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই হবে—এই অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি যাত্রা শুরু করি। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি, ভয় পাইনি। একটা আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি তো কোনও অন্যায় করিনি। এদেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে সাহায্য করবে। দেশের মানুষও নিশ্চয় বুঝতে পারবে।
এর আগে ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পির প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জনগণকে এগিয়ে চলার শক্তি যোগাচ্ছে। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় লাল সবুজের নিশানা নিয়ে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজকের ১৬ কোটি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে। আত্মসম্মানবোধ নিয়ে আমাদেরকে বায়ান্নো ও একাত্তরে অর্জিত গৌরবের পথ ধরে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জনগণকে সরকারের কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতায় সরকার বদ্ধপরিকর।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে চীন হতে সাবমেরিন কেনার তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন হতে সাবমেরিন ক্রয় বাংলাদেশের একটি জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক একটি সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে কোনও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে না বলে বিশ্বাস করি।
সরকার দলের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে দেশে আইনশৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটেছে এবং দেশের জনগণ সুফল পেতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং অনুকরণীয় দৃষ্টিান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ উদ্ভুত সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে পুলিশের আলাদা উপযোগী ইউনিট গঠন করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাতে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে আমাদের সমন্বিত কার্যক্রম আগামি দিনগুলোতে অব্যাহত থাকবে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান, ভাবমূর্তি ও অবস্থান আরও উন্নত ও সুদৃঢ় হবে।
আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে (১৫ জুন পর্যন্ত) বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।
সূত্র : বাংলাাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের তিনবারের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে বন্দর নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা।
মঙ্গলবার ‘বাকলিয়া উন্নয়ন জনকল্যাণ সমিতি’ নামে নবগঠিত এক সংগঠন আয়োজিত এক সভায় নওফেলকে চট্টগ্রাম-৯ আসন (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত নগর আওয়ামী লীগের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
নওফেল বলছেন, দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে সাংগঠনিক দায়িত্ব হিসেবে ‘নৌকার পক্ষে’ প্রচারের অংশ হিসেবে তার এই কার্যক্রম। আর দলীয় সভানেত্রী মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করার আগ্রহও তার আছে।
নগরীর কে বি কনভেনশন হলে ওই সভাস্থলের ভেতরে বাইরে ছিল নওফেলের ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। নৌকা মার্কাসহ দলীয় সভানেত্রীর ছবিও দেখা গেছে ব্যানারে।
জনকল্যাণ সমিতির আয়োজনে সভা হলেও বিকেল ৪টা থেকেই নগরীর বাকলিয়া এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসেন।
নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাহমুদ, ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিসহ ‘মহিউদ্দিনের অনুসারী’ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
সভায় ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে’ কায়সার মাহমুদ এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা আগামী নির্বাচনে নওফেলকে ওই আসনের প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানান।
বাকলিয়া উন্নয়ন জনকল্যাণ সমিতির ব্যানারে এক সভা থেকে নওফেলকে ভোটে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
বাকলিয়া উন্নয়ন জনকল্যাণ সমিতির ব্যানারে এক সভা থেকে নওফেলকে ভোটে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সদস্য সচিব ও পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জনগণ যদি বলে সেটা ‘জনগণের চাহিদা’।
“আমরা বাকলিয়ার উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছিলাম অনেক দিন ধরে। আজ শুরু করলাম। অন্য নেতাদের সাথেও বসব।”
এক প্রশ্নের জবাবে হারুন-অর-রশিদ বলেন, কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনভাগের এক ভাগ ভোট আমাদের। তবুও অনেক সঙ্কট। উনি (নওফেল) যদি এমপি হন আমাদের চাহিদার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেন তিনিই নির্বাচন করবেন।”
এর আগে সভায় হারুন-অর-রশিদ বলেন, অতীতে অনেক মন্ত্রী-এমপি বাকলিয়ার ভোট নিয়ে বাকলিয়াবাসীর সাথে ‘প্রতারণা’ করেছেন।
নওফেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে শহরাঞ্চলে প্রচার চালাতে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যেহেতু তিনি স্থানীয়, তাই বাকলিয়া থেকেই কাজ শুরু করেছেন; এরপর যাবেন টাঙ্গাইল।
“বাকলিয়ার সমস্যা গণমাধ্যমে বারবার এসেছে। তাদের ক্ষোভ-চাহিদা জানতে চেয়েছি, যাতে কেন্দ্র ও প্রশাসনকে জানাতে পারি।”
মনোনয়ন পেলে চট্টগ্রাম-৯ আসনে নির্বাচনে আগ্রহী কি না জানতে চাইলে নওফেল বলেন, “দলের মনোনয়ন বোর্ড ও জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেবেন। যদি আমাকে দেন অবশ্যই করব। অন্য কাউকে দিলেও তার জন্য সর্বাত্মক কাজ করব। জননেত্রী দলের নেতাদের উৎসাহ দিচ্ছেন নির্বাচনের জন্য। মানুষের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে বলেছেন।”
মনোনয়ন পেলে বাবার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগাবেন জানতে চাইলে নওফেল বলেন, “তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। উনার যেমন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আছে, তেমনি নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতিসহ অনেকেরই অভিজ্ঞতা আছে। সবার সহযোগিতা নিয়ে নৌকার জন্য কাজ করব। ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার বিজয়ই একমাত্র লক্ষ্য।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সপরিবারে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। (নওফেলের ফেইসবুক থেকে নেওয়া ছবি)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সপরিবারে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। (নওফেলের ফেইসবুক থেকে নেওয়া ছবি)
১৯৮৩ সালের ২৬ জুন চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী নওফেল ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাবা মহিউদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে স্নাতক করে আসা নওফেলকে তখনই প্রথম রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হতে দেখা যায়।
২০১০ সালেই বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতিবিদ হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম সিটির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ২০১৫ সালের ২০ মার্চ গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নওফেলও উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভায় চট্টগ্রাম নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে তিনবারের মেয়র মহিউদ্দিন নিজে প্রার্থিতা থেকে সরে আসেন।
গণভবনের ওই বৈঠকের আগে একান্ত আলাপে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে ছেলে নওফেলের কাছে জানতে চেয়েছিলেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিনই তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘পরবর্তীতে’ নওফেলকে মূল্যায়ন করা হবে।
গত বছর অক্টোবরে দলের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান নওফেল।
সূত্র : বিডিনিউজ২৪।
ডেস্ক রিপোর্ট : সংলাপের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসিতে নিবন্ধিত ৪০টি দলের নির্ধারিত ঠিকানায় যোগাযোগ করে নিয়মিত সাড়া না পাওয়ায় এ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি।
ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বুধবার সব দলের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়ে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে একজনের নাম, ফোন নম্বর ও যোগাযোগের ঠিকানা চেয়েছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেসব তথ্য ইসি সচিবালয়ের পাঠাতে বলা হয়েছে।
ওই চিঠিতে বলা হয়, “তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করার প্রয়োজনে আপনার দলের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে (সভাপতি/প্রেসিডেন্ট/আমির/আহ্বায়ক/চেয়ারম্যান অথবা সমপর্যায়ের পদাধিকারী এবং সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব/সেক্রেটারি জেনারেল অথবা সমপর্যায়ের পদাধিকারীর মধ্য থেকে যে কোনো একজন) একজনের নাম, ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর, ফ্যাক্স নম্বর, ই-মেইল ও পত্র যোগাযোগের ঠিকানা সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।”
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, আইন সংস্কারসহ অন্তত সাতটি বিষয়ে আগামী ৩১ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
কিন্তু সব দলের হালনাগাদ তথ্য কমিশনের কাছে না থাকায় চিঠি দিয়ে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ খোঁজার এই উদ্যোগ।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে এসব দলের নির্ধারিত ঠিকানায় চিঠি দিয়ে তারা সাড়া পাননি। কয়েকটি দল আগের ঠিকানা বাদ দিয়ে এখন দলের চেয়ারম্যানের বাসার ঠিকানা ব্যবহার করছে।
এছাড়া সব দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটি বহাল রয়েছে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
দলগুলো নিবন্ধনের শর্ত ঠিকভাবে পালন করছে তাও দেখা দরকার বলে কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ইসির কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগ্রহী নতুন দলের কাছে নিবন্ধনের আবেদন চাওয়া হবে অক্টোবরে। পাশাপাশি নিবন্ধতি ৪০টি দল শর্তগুলো মেনে চলছে কি না তা নিরীক্ষা করা হবে।
ইসির ‘নিবন্ধন যাচাই কমিটি’ এ বিষয়ে কাজ করবে বলে কমিশনের একজন উপ সচিব জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে পুরনো দলগুলোর অবস্থা যাচাই করা হবে।
২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা।
এনপিপির হালনাগাদ তথ্য চেয়ে চিঠি
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নিবন্ধনের শর্ত পূরণের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য চেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে রোববার চিঠি দিয়েছে ইসি।
ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, নিবন্ধন বিধির ৯ ধারা অনুসারে নিবন্ধনের শর্ত প্রতিপালন সম্পর্কে কমিশনকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী শর্ত পূরণের হালনাগাদ তথ্য ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসিকে জানাতে হবে।
নিবন্ধন বিধিমালার ৯ ধারা অনুযায়ী, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নতুন কমিটির সদস্যদের তালিকা ও সভার কার্যবিবরণী কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন সময়ে সময়ে যেসব তথ্য-দলিল চাইবে তা দেওয়ার পাশাপাশি যেসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবে তা দিতে হবে।
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর ২০০৮ সালে এনপিপি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।
সূত্র : বিডিনিউজ২৪।
ডেস্ক রিপোর্ট : ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। আইভরি কোস্টের অর্থনৈতিক রাজধানী আবিদজানে চলমান ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৪তম সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওআইসিতে বাংলাদেশের সক্রিয়, গঠনমূলক ভূমিকা ও ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত এসেছে।
আবিদজানে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৪তম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। আইভরিকোস্টের প্রেসিডেন্ট আলাসানে ওয়াতারা সোমবার এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনে ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তাব দিলে সদস্য দেশগুলোয় পূর্ণ-সমর্থন জানায়। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর ঢাকায় এ সম্মেলন আবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ ওআইসি ট্রয়কা’র অংশ এবং আগামী তিন বছরের ওআইসি’র ৮ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য হলো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বাংলাদেশের জনগণকে এ সম্মান দেওয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ওপর পুনরায় আস্থা রাখার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
বিপুলসংখ্যক সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র, বিভিন্ন ওআইসি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা ৪৪তম সম্মেলনে অংশ নেন।
সম্মেলনে চলতি বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সংহতিপূর্ণ বিশ্বে তারুণ্য, শান্তি ও উন্নয়ন’।
সম্মেলনে তারুণ্যের বৃহত্তর ভূমিকা ও অংশগ্রহণে শান্তি, উন্নয়ন ও ইসলামি সংহতির গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে ইসলামি বিশ্বের সংহতি, ঐক্য ও মতভেদ দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এক বিবৃতি দেন। তিনি মুসলিম বিশ্বের অঢেল সম্পদের সদ্ব্যবহার ও দ্রুততর উন্নয়নের পথ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন অনেক সমস্যার সমাধান করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহত্তর আন্তঃওআইসি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরামর্শ দেন এবং বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত একটি ইসলামিক কমন মার্কেটের গন্তব্যে পৌঁছার লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ও এফটিএ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম প্র্যাকটিস বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থা দমন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাফল্যের কাহিনী বিনিময়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ওআইসি’র পিআর গোলাম মসি প্রমুখ। সূত্র: বাসস
ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘ভারি বর্ষণের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের ১৩টি জেলার ৪৫টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
বুধবার (১২ জুলাই) সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিলেট, মৌলভীবাজার ও উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে চার হাজার মেট্রিক টন চাল, এক কোটি নয় লাখ টাকা ও নয়টি আইটেম সমৃদ্ধ সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর বাইরে গত মার্চ মাসে আগাম বন্যায় ফসলহানির কারণে সিলেট অঞ্চলের জেলাসমূহে তিন লাখ ৮০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছে।’
মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার খোলা আকাশের নিচে, উঁচু বাঁধে ও রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজনকে দ্রুততার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের টিউবওয়েল উঁচু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহের জন্যও বলা হয়েছে।’
উত্তরাঞ্চলের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়নি। সেখানে কেবল পানি আসতে শুরু করেছে। তবে প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, শরিয়তপুর, চাঁদপুর এবং ভোলা জেলা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব জেলার প্রশাসনকে সর্তক থাকার নির্দেশ দেওয়া আছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, ‘অনেকে ত্রাণ পাচ্ছে না -এমন ঢালাও অভিযোগ মানা হবে না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে জানান, আমরা ব্যবস্থা নেব।’ বাজেটে ত্রাণের কোনও ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন ত্রাণমন্ত্রী ও সচিব। জামালপুর থেকে শুরু পরিদর্শন শুরু হবে।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।