May 25, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গোলাম মোস্তফাকে দেখতে যান। গোলাম মোস্তফা শহীদ শেখ কামালের সহধর্মিনী সুলতানা কামালের বড় ভাই। তিনি শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছেন।
প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে গোলাম মোস্তফার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. সুরাইয়া বেগম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. জুলফিকার লেনিন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
পদ্মার দুই পাড়জুড়ে (মাওয়া ও জাজিরা) চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ। রোদ, বৃষ্টি ও ঢেউয়ে সঙ্গে লড়াই করে দেশি-বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই মহাযজ্ঞ। তদারকিতে যুক্ত রয়েছে সেনা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকেই এই সেতু দৃশ্যমান করতে স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি। টেকনিক্যাল কাজগুলো শেষ না হওয়ায়, চলতি মাসেও সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সেতু সংশ্লিষ্টরা। তবে আগস্টের মধ্যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করতে দুই পিলারের মধ্যে স্প্যান বসানোর জন্য তোড়জোড় চলছে। তবে দিন-ক্ষণ ঠিক না হলেও আগস্টের যেকোনও দিন আনুষ্ঠানিকভাবে স্প্যান বসানোর কাজ উদ্বোধন করার প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকেই জাজিরা পয়েন্টে স্থাপিত দু’টি পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু করবেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমুহূর্তে সেতু নির্মাণের কাজ তাদরকি করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সময় পেলেই ছুটে যাচ্ছেন পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায়। কথা বলছেন, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকদের সঙ্গে। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি কাজের।
সংশ্লিষ্ট সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, পদ্মার অন্যপ্রান্ত জাজিরা পয়েন্টে চলছে পাইল ড্রাইভ, মাওয়া পারে ট্রাস ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে স্টিলের কাঠামো ও স্প্যান জোড়া দেওয়ার কাজ। পিলারের ওপরে গাড়ি চলাচলের জন্য বসানো হবে এই স্প্যানগুলো। দেখা গেছে, মাওয়া চৌরাস্তার দক্ষিণে বিস্তৃত প্রকল্প এলাকার ট্রান্স ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে প্রায় তিন হাজার টনের একেকটি স্প্যান তৈরির কাজ।
সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে এখন কাজ চলছে ১৬টির। পিলার বসবে পাইলের ওপর এবং মোট পাইল ২৪০টি। এর মধ্যে ২৮টি পাইলের কাজ পুরোপুরি এবং ৫৭টির কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। এসব পিলারের ওপর বসানো হবে স্প্যান। স্প্যানের ওপর ঢালাই দিয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, জাজিরায় ৩৭ নম্বর পিলারের নিচে রড বেঁধে ক্যাপ লাগানো শুরু হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ৩৭ নম্বর থেকে শুরু হবে স্প্যান বসানোর কাজ। তা একে একে পাতা হবে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত। সেখানে শুরু হয়েছে কংক্রিট ফেলার কাজ। ৩৮ নম্বর পিলারে ক্যাপ লাগানোর কাজও শুরু হয়েছে। ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত ক্যাপ লাগানো শেষ হলেই এসব পিলারের ওপর বসানো শুরু হবে স্প্যান। নির্মাণাধীন পিলারগুলোর ওপর প্রথম দফায় কমপক্ষে পাঁচটি স্প্যান (স্টিলের কাঠামো) বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
এখন পর্যন্ত চীন থেকে আটটি স্প্যানের আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি মাওয়ায় এসেছে। এর মধ্যে ছয়টি স্প্যান তৈরি করা হয়েছে। এর বাইরেও আরও দু’টি স্প্যান তৈরি হচ্ছে। চীন থেকে আরও ২০টি স্প্যানের যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ আসছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে এগুলোর একটি চালান মাওয়ায় আসবে নৌপথে। গত মাসেও এসেছে চালান।
জানা গেছে, মাওয়ায় এরই মধ্যে চার লেনের সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজ শেষ হয়ে গেছে। জাজিরায় শেষ হয়েছে চার লেনের সংযোগ সড়কের কাজ, টোল প্লাজা নির্মাণও শেষের দিকে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৪৪ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিও গড়ে ৪৪ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘গত বছর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে স্প্যানের মূল কাঠামো ও সংযোজক সরঞ্জামাদি চীনের সিংহোয়াংদাওয়ের কারখানা থেকে প্রকল্প এলাকায় আসতে থাকে। মংলা বন্দর থেকে বার্জে চাঁদপুর হয়ে প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। স্প্যানের মূল কাঠামো জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্প্যান।’ তিনি আরও জানান, ‘প্রতিটি স্প্যান ১৫০ মিটার দীর্ঘ। স্প্যানগুলোর ওপর কংক্রিটের সমতলের সড়কের ওপর চলবে যানবাহন। প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত পরীক্ষাগারে ওজন সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা শেষে স্প্যানগুলো বসানো হবে। প্রতিটি স্প্যানের গড় ওজন ২ হাজার ৯০০ টন।’
পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমন কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মা অন্যতম। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু প্রকল্প অংশে পদ্মা আরও তীব্র খরস্রোতা। গত ৩০ জুনের মধ্যে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে তীব্র স্রোতের কারণে খুঁটি বসানোর কাজ শেষ করা যায়নি।
প্রকৌশলীরা জানান, নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন নিয়ে জটিলতা রয়েই গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোত। এসব প্রতিকূলতা জয় করে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে। জাজিরা অংশে সব পিলারের পাইলিংয়ের মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। আমি নিজে বিষয়টি দেখভাল করছি। প্রতি সপ্তাহেই আমি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সেতু নির্মাণের অগ্রগতির খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই বিশ্ববাসীর সামনে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সময়-সুযোগ মিলে গেলে সেতুতে প্রথম স্প্যান বসানোর কাজটি প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে শুরু করতে পারেন।’
ডেস্ক রিপোর্ট : পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহামুদ বলেছেন, ‘নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হবে। এখন আর কোনও মানুষকে গৃহহারা হতে হবে না। ভোলায় নদী ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভাঙন রোধে ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ভেলা সদরের ইলিশা-রাজাপুর রক্ষা প্রকল্প কাজ পরিদর্শনের সময় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী মেঘনা, এ নদীর ভাঙন প্রবণতা বেশি। আমরা এ নদী শাসনের জন্য কাজ করছি। কারণ বর্তমান সরকারের সামর্থ্য রয়েছে। এদেশ এখন আর গরিব দেশ হিসেবে পরিচিত নয়।
ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরোয়ার মাস্টারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম বীরবিক্রম।
সভা শেষে মন্ত্রী নৌযান যোগে ইলিশা হয়ে রাজাপুর পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে ম
ন্ত্রী ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় যোগদানের কথা রয়েছে মন্ত্রীর।
ডেস্ক রিপোর্ট : খুব শিগগিরই এডিস মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া রোগ থেকে মুক্ত হবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।এমন আশা ব্যক্ত করেছেন ডিএসসিসি’র মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টায় চিকুনগুনিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’
মঙ্গলবার পুরনো ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মেয়র বলেন, ‘আজ আমাদের ৫৭টি ওয়ার্ডেই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই।’
সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমি বলেছি, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে আসবে। এজন্য প্রতিটি সংস্থার প্রত্যেককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। মশা উৎপাদনের স্থানগুলো ধ্বংস করতে হবে। সবার চেষ্টায় দ্রুতই চিকুনগুনিয়া মুক্ত হবে এই ঢাকা।’
জনসচেতনতামূলক র্যালিতে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সালেহ ভুইয়াসহ লক্ষ্মীবাজার ও আশেপাশের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট : মাওয়া প্রান্তে পাইলিংয়ের জটিলতা কাটাতে পদ্মা সেতুর নকশায় আনা হচ্ছে পরিবর্তন। পাইলের দৈর্ঘ্য কমিয়ে সংখ্যা বাড়ানোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এখন।
এতে প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন পদ্মাসেতু বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান জামিলুর রেজা চৌধুরী। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনার কথা স্বীকার করছে সেতু কর্তৃপক্ষও।
আমাজনের পর বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মা। প্রতি বর্ষায় পলি জমে বদলাচ্ছে এর গতি-প্রকৃতি। নদীর তলদেশে দেখা দিচ্ছে পরিবর্তন। মাটির ধরন ও স্রোত বিবেচনায় শুরুতে পাইলের গভীরতা ১২২ মিটার ঠিক করা হয়েছিল।
কিন্তু মাওয়া পাড়ে মাটির স্তরে পরিবর্তনে বালুর জায়গায় মিলছে কাঁদামাটি। তাই মাওয়ায় পাইলের গভীরতা কমিয়ে সংখ্যা বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
দেড় বছরে সোয়া ৬ কিলোমিটার দ্বিতল সেতু তৈরিতে পদ্মার দু’পাড়ে এখন বিশাল কর্মযজ্ঞ। ১০ হাজার বিদেশিসহ অসংখ্য শ্রমিক কাজ করছেন দিনরাত। তবে এরপরেও নির্ধারিত পরিকল্পনা থেকে ১০ ভাগ পিছিয়ে প্রকল্পের কাজ।
পদ্মার এ গতি-প্রকৃতি চীনা ঠিকাদারের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। তাই আনা হয়েছে জার্মান বিশেষজ্ঞ। তবে এরপরেও প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান। তবে এখনো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে আশাবাদী প্রকল্প পরিচালক।
অবশ্য তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ১শ বছর দীর্ঘস্থায়ী সেতুর গুণগত মানে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।-তথ্যসূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি
ডেস্ক রিপোর্ট : কেন্দ্র থেকে এখন আর কোনও প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে না। স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে স্থানীয় সরকারের চাহিদাকে। প্রকল্প তৈরির পর পাঠাতে হবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এবং চট্টগ্রামের এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্দেশনায় বলেন, ‘স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করে পাঠাতে হবে।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা তাদের নির্বাচনি এলাকায় অনেক প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিচ্ছেন। এসব প্রকল্প একনেকেও অনুমোদন করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এসব প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রকল্পের কোনও সুফল জনগণ পাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা গেছে—যেকোনও এক রাস্তার মাঝখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, অথচ এর সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি জনসাধারণের কোনও কাজে আসছে না। বছরের পর বছর ওই সেতুটি সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। এক সময় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি বরাদ্দের অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয় না।
পরিকল্পনা বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সেতুর প্রয়োজনই নেই যে এলাকায়, সেই এলাকার স্থানীয় এমপি বা মন্ত্রীরা ব্যক্তিগত আগ্রহে এ ধরনের প্রকল্পে অনুমোদন নিচ্ছেন। এসব প্রকল্প সম্পর্কে ওই এমপি বা মন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষও কিছু জানেন না।
এছাড়া কোনও এলাকায় একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাস্তার মাঝখানে একটি খালের ওপর সেতু নির্মাণের কোনও প্রকল্প নেই। এতে নির্মিত রাস্তাটি ব্যবহার হচ্ছে না। কোনও এলাকায় সেতু থাকলেও তার ১০০ গজ দূরেই হয়তো আরেকটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বড় কোনও নেতার আগ্রহে এসব প্রকল্প তৈরি করা হয়। কখনও এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হয়তো এমপি বা স্থানীয় অন্য কোনও নেতার।
পরিকল্পনা বিভাগের এসব কর্মকর্তা মনে করেন, আর্থিক সুবিধা পেতেই স্থানীয় সংসদ সদস্য বা নেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো এ ধরনের প্রকল্প তৈরি করছেন। আশ্চর্যের বিষয়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ বা জেলা পরিষদ কর্মকর্তারাও এসব প্রকল্পের বিষয়ে জানেন না।
এ ধরনের জটিলতা এড়াতেই এ ধরনের প্রকল্প তৈরির সময় স্থানীয় চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা সম্বলিত প্রকল্প না হলে সেসব প্রকল্প একনেকে উত্থাপন না করারও সিদ্ধান্তও নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক একনেক সভায় বলেছেন, ‘স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে তৈরি না হলে কোনও প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না। কমিশন দেওয়া নেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনও প্রকল্প নয়। একইসঙ্গে প্রকল্প অনুমোদন হবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না বা জনগণের কল্যাণে আসবে না। এমন ঘটনা সহ্য করা হবে না।’ জনসাধারণের প্রয়োজনে আসবে এমন প্রকল্প কেউ পাঠালে তা একনেকে অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব আমার বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কাকে দেবো, কাকে দেবো না; কে কাজ পেলো আর কে কাজ পেলো না; কাজের বিপরীতে কমিশন কে কতো পেলো, আর কে পেলো না…এ সমস্ত অনিয়ম দুর্নীতি আমার সময়ে চলবে না।’
প্রধানমন্ত্রী ওই সময় আরও বলেন, ‘অনেক কাজ আছে যা স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনের করার কথা। কিন্তু প্রকল্প তৈরি হচ্ছে না। সে কারণে ২০১৫ সালে আমি বলে যাওয়ার পরেও ২০১৭ সালে ওই প্রকল্প তৈরি হয়নি।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘জটিলতা এড়াতেই স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন এবং প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি না হলে, অনেক প্রকল্প অপ্রয়োজনীয় হওয়া সত্বেও তা অনুমোদন হচ্ছে। পরে তা জনসাধারণের কাজে আসেনি।
সূত্র : বাংরাট্রিবিউন।
ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের দ্বিতীয় চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ২৭ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভিয়েতনাম থেকে আসা জাহাজ ‘এমভি প্যাক্স’ সোমবার সকালে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।
“আগের চালানে আসা ২০ হাজার মেট্রিক টন চালের খালাস চলছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা দ্রুতই নতুন চালানের চাল খালাস শুরু করব।”
বাংলাদেশ সরকারি পর্যায়ে ভিয়েতনাম থেকে যে আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করছে, তার মধ্যে দুই চালানে মোট ৪৭ হাজার মেট্রিক টন দেশে পৌঁছাল।
চালের তৃতীয় চালানটি আগামী ২২ জুলাই দেশে পৌঁছাতে পারে বরে আশা করছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
হাওরে অকাল বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরকারি গুদামের মজুদ কমে আসার প্রেক্ষাপেটে সরকার সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ৯০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় এই আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৪ জুন দরপত্র ছাড়াই সরকারি পর্যায়ে এই চাল আমদানির অনুমতি দেয়।
এর মধ্যে প্রতি মেট্রিক টন ৪৭০ মার্কিন ডলার দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কিনতে খরচ পড়ছে ১৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানিতে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি ভিনাফুড টু এই চালের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে সরবরাহ করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘শুধু শহরে বসবাসকারী লোকজনের জন্য আমাদের উন্নয়ন নয়। আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের,একেবারে তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বাজেট প্রণয়ন করি। সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২১ ও ১৪২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সব উন্নয়নে সব থেকে বেশি অবদান রেখে যাচ্ছে আমাদের কৃষি। আমরা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছি। স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়া করে কেউ কৃষি কাজ করতে চায় না। আমি মনে কারি লেখাপড়া করেও সে কাজ করা যায়। এতে অসম্মানের কিছু নেই। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর আল্লাহর রহমতে মানুষ মঙ্গার কথা ভুলে গেছে।’
তিনি বলেন,‘আমাদের লোক সংখ্যা বাড়ছে ঠিক। খাদ্য নিরাপত্তা আমরা দিতে পারবো। কারণ আমরা নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ‘৯৬ সালে ক্ষমতা আসার পর শুনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বিএডিসিকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বলে সেটাকে বন্ধ করে দিতে বললো। আমি বললাম এটা বন্ধ হবে না। শুধু বেসরকারি উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকলে হবে না। কারণ তারা ভালো বীজ দেবে কিনা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমাদের খাদ্যভাস পরিবর্তন করা দরকার। আমরা শস্যের বহুমুখীকরণ এবং বাণিজ্যিকরণের চেষ্টা করছি। কারণ শুধু ধান উৎপাদন নয়, পাশাপাশি অন্যান্য ফসল উৎপাদনে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। জলজ প্রাণীর দিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’
তিনি বলেন,‘৭ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে আর ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হয়। তাই আমরা ই-কৃষি সার্ভিস চালু করে দিয়েছি। কৃষি তথ্য সেবা আমরা চালু করেছি।’
কৃষিখাতে সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দুধের উৎপাদন বেড়েছে। মাংস উৎপাদন আমরা বৃদ্ধি করেছি। শুধু দেশের চাহিদা মেটানো না, আমরা যেন বিদেশে রফতানি করতে পারি সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। আলু উৎপাদনে পৃথিবীর সপ্তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে আমরা তৃতীয় অবস্থানে। তাছাড়া বিভিন্ন নতুন নতুন ধরনের ফল গবেষণা করে আমরা উৎপাদন করছি।’
সরকার গৃহীত ১০০টি শিল্পাঞ্চলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রক্রিয়াজাত করা,সংরক্ষণ করা এবং বাজারজাত করার ব্যবস্থা রেখেই কিন্তু আমরা এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি।’
তিনি বলেন,‘আমাদের দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবাই চাকরি করছে। তাই কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। খাবার প্রক্রিয়াজাত করা থাকলে বিশেষ করে সুবিধা হবে গৃহিণীদের। কারণ আমাদের ছেলেরা তো একটু অলস হয়। এখন থেকে আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো। আসুন সবাই মিলে কাজ করি। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : আশুলিয়ায় একটি বাড়ি ঘেরাও করে গ্রেফতার করা চার ব্যক্তি সারোয়ার-তামিম গ্রুপের জঙ্গি বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বাড়িটির মালিক ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার মধ্যরাত থেকে এই অভিযান চালানো হয়। বাড়ির ভেতর অবিস্ফোরিত কিছু এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস আছে এবং র্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ভেতরে কাজ করছে। অভিযান এখনও শেষ হয়নি বলেও জানান তিনি।
রবিবার (১৬ জুলাই) বেলা ২টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মুফতি মাহমুদ খান। তিনি জানান, এই আস্তানা থেকে গ্রেফতার হওয়া চার জন হলো- মোজাম্মেল, ইরফানুল, রাশেদুল ও আলমগীর। মোজাম্মেল তাদের দলনেতা।
তিনি জানান, ‘বাড়ির মালিক ইব্রাহিমই জানিয়েছিল, তার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের চলাফেরা সন্দেহজনক। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। শনিবার রাত ১টায় বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। রাত ৩টার দিকে জঙ্গিরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে র্যাব বিভিন্নভাবে তাদের আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা করে। মাইকিং করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। ওয়ার্নিং শট দেওয়া হয়। এই সময় একজন বের হয়ে আসে। সে বের হয়ে জানায় ভেতরে আরও তিনজন আছে। তার মাধ্যমে আলোচনা করে বাকিদের বের করা হয়।’ র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, এরা মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় ও গার্মেন্টকর্মী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নেয়। তবে ভাড়া নেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কোনও ডকুমেন্ট জমা দেয়নি। পরে জমা দেওয়ার কথা বলে বাসায় ওঠে।
মুফতি মাহমুদ খান আরও বলেন, ‘এপ্রিলের শেষ দিকে তামিম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে সে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছিল। আশুলিয়ায় এই অভিযানের সময় ওইসব তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। এভাবেই আমরা নিশ্চিত হই এরা সারোয়ার-তামিম গ্রুপের।’
অভিযান এখনও শেষ হয়নি জানিয়ে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘জঙ্গিদর গ্রেফতারের পর র্যাবের ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ভেতরে কাজ করছে। অবিস্ফোরিত অবস্থায় বেশকিছু এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস পাওয়া গেছে।’
গ্রেফতারকৃত চারজন কোন মাপের জঙ্গি, আর কোনও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কিনা তা পরে জানা যাবে বলেও উল্লেখ করেন মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘আমরা মিনিমান ফোর্স ক্রিয়েট করে জঙ্গিদের জীবিত অবস্থায় সারেন্ডার করতে বাধ্য করেছি। যাতে এদের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যায়। এজন্যই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা হচ্ছিলো। ওয়ার্নিং দেওয়ার কারণেই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এটা একটা ফলোআপ অভিযান ছিল।’
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : আশুলিয়ায় র্যাবের ঘেরাও করে রাখা বাড়ির ভেতর থেকে চার ব্যক্তি বের হয়ে এসেছেন। তারা ‘আত্মসমর্পণ’ করছে বলে দাবি করেছে র্যাব। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, যারা আত্মসমর্পণ করেছে তারা জঙ্গি।
রবিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে তারা বের হতে শুরু করে। বেলা ১টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে চারজনই বের হয়ে আসেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকেও বাড়ির পাশ থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়।
র্যাব ৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবদুল হাকিম বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানা থেকে চারজনকেই রক্তপাতহীনভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি সব তথ্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানানো হবে। কোনও বিস্ফোরক আছে কিনা তাও জানানো হবে।’
গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের পরিচয় জানাননি মেজর আবদুল হাকিম। তিনি জানান, ‘ওই আস্তানায় কী কী আছে তাও তল্লাশি করা হচ্ছে। এছাড়া বাড়ির মালিক ইব্রাহিমকে আগেই হেফাজতে নিয়েছে র্যাব।’
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, ‘আস্তানার ভেতর কয়েকজন জঙ্গি আছে। তারা ভেতর থেকে র্যাবের দিকে গুলি, বোমা ও বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য ছুড়ে মেরেছে। র্যাব তাদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। আত্মসমর্পণ না করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
শনিবার দিনগত রাত ১টার দিকে চৌরাপাড়া এলাকায় আধাপাকা একটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘেরাও করে র্যাব। রবিবার (১৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িটির ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার কারণে আশেপাশের লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা র্যাব ঘেরাও করে রেখেছে।
ঘটনাস্থলের পাশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মাহবুবুল আলম তার টিম নিয়ে অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, আজাদ নামের এক ব্যক্তি গার্মেন্ট শ্রমিক পরিচয়ে দুই মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নেয়। বাড়ির মালিক ইব্রাহিমকে আটক করা হয়েছে।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।