May 8, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : নায়ার সুলতানা ওরফে লোপা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন নিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগে উঠেছে।
মামলার ভুয়া বাদী সাজিয়ে আদালতে আসামির পক্ষে জামিনের সুপারিশ করা হয়েছে। আর নিহত নায়ার সুলতানার দুই সন্তান সম্পর্কে ভুল তথ্যও।
এসব বিষয় উল্লেখ করে আসামির জামিন বাতিল করে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার জন্য আবেদন করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আর বাদীপক্ষের আইনজীবীও এসব বিষয় আদালতকে অবহিত করে জামিন বাতিলের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত বছর ১৬ অক্টোবর রাতে গুলশান ১ নম্বরের ১২৬ নম্বর রোডে নিজ ফ্ল্যাট থেকে নায়ার সুলতানার লাশ উদ্ধার করে গুলশান থানার পুলিশ। লাশটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত ছিল। পুলিশ সুরতহালে উল্লেখ করে, নায়ারের দুই পায়ের হাঁটু খাটের সঙ্গে লাগানো, অর্ধ বসা অবস্থায়। গলার ডান দিকে কালো দাগ ও বাঁ হাতের গিরায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তখন নিহতের পরিবার অভিযোগ করে, নায়ারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করেছেন স্বামী আলী আমিন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই গুলশান থানার পুলিশ আলী আমিনকে গ্রেপ্তার করে। নায়ারের মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে আলী আমিন ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর গত বছর ১৭ অক্টোবর গুলশান থানার পুলিশ আলী আমিনকে ঢাকার মহানগর মুখ্য হাকিম (সিএমএম) আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত আলী আমিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে গত নভেম্বরে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আলী আমিনের জামিনের আবেদন করা হলে দায়রা জজ জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সুত্র জানায়, জামিনের শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, নায়ার সুলতানা খুন হননি, আত্মহত্যা করেছেন। আসামির দুটি ছেলে আছে, যাদের বয়স যথাক্রমে দুই ও ছয় বছর। তাদের মা মারা যাওয়ায় ও বাবা জেলহাজতে থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। মামলার বাদিনী আসামির শাশুড়ি রাজিয়া সুলতানা এ অবস্থা বুঝতে পেরে ঢাকার মুখ্য হাকিম আদালতে (সিএমএম) হাজির হয়ে আসামিকে জামিন দিলে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য যথাযথ বলে মন্তব্য করে আদালত আলী আমিনের জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতে আমার ও আমার মেয়ের সন্তানদের ব্যাপারে ভুল তথ্য দিয়ে আসামি জামিন নিয়েছেন। আমি কখনো সিএমএম আদালতে গিয়ে আসামির জামিনের পক্ষে বলিনি। আর আমার মেয়ের দুই ছেলে নয়, আছে দুই মেয়ে, যাদের বয়স ৬ ও ১০। আসলে আসামিপক্ষ অন্য কোনো নারীকে বাদী সাজিয়ে এ কাজ করেছে।’
আর আমার ব্যাপারে আদালতে এমন ভুয়া তথ্য দিয়ে আসামির জামিন নেওয়ার কথা শুনে আমি সত্যিই হতবাক। আমি আইনজীবীর মাধ্যমে এ ঘটনা আদালতকে অবহিত করে জামিন বাতিল চেয়েছি। অন্যদিকে প্রথমে মামলাটি থানা-পুলিশের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছিল। আরও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমি মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করি। এরপর গত ১৭ মে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।গত ২ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উত্তরা ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) উত্তম কুমার বিশ্বাস সিএমএম আদালতে আসামির জামিন বাতিল করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে সিআইডি কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটি নায়ার সুলতানার নামে। ফ্ল্যাট বুঝে না দেওয়ায় আসামিরা গত ১৬ অক্টোবর বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে নায়ারকে হত্যা করে। পরে আলী আমিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে মামলার ২ নম্বর ও ৩ নম্বর আসামি যোগসাজশ করে বিজ্ঞ আদালতে ভুয়া মহিলাকে মামলার বাদী সাজিয়ে উপস্থাপন করে।’
এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সিআইডি কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করার নির্দেশ দেন। সোমবার পর্যন্ত আসামিপক্ষের কেউ এ নির্দেশ পালন করেননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আর আসামি আলী আমিনের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। গত ২ জুন জামিন বাতিলের আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল। বাদীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি এ মামলা দেখছি। অভিযোগ সম্পর্কে তো আগে শুনিনি। আমি নথি দেখে বলতে পারব।’
এদিকে, গত বছর ১২ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ নায়ারের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে নায়ারের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করা হয়। পরে এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নায়ারের পরিবার আদালতে পুনঃময়নাতদন্তের আবেদন করা হয়।
আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্ত করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার কারণ ও ধরন শনাক্ত করা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। আর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
বিনোদন ডেস্ক : ‘সকাল থেকে পরীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। শুটিং সেটের সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। এমনকি সিনেমার সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলছে। কারো কোনো কথায় কান দিচ্ছে না সে। দুপুরের পরে এর মাত্রা আরো বেড়ে যায়।’ রাইজিংবিডিকে এমনটাই বলেন আমার প্রেম আমার প্রিয়া সিনেমার পরিচালক শামীমুল ইসলাম শামীম।
চিত্রনায়িকা পরীরমনির এমন আচরণ করতে হয়েছে এ সিনেমার একটি দৃশ্যের প্রয়োজনে। ১৫ জুন সকালে হোতা পাড়ার খতিব বাড়িতে এমন দৃশ্যের দৃশ্যায়ন করা হয়েছে। এতে অংশ নেন পরীমনি, মিশা সওদাগরসহ আরো অনেকে।
এ প্রসঙ্গে শামীমুল ইসলাম শামীম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পরীমনির অভিনয় দেখে শুটিং সেটের সবাই অবাক। এমনকি মিশা ভাইও। তবে কি পরীমনি পাগল হয়েছে! দেখতে সত্যিকারের পাগল মনে হচ্ছে।’
সিনেমার দৃশ্য প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘সিনেমার একটি দৃশ্যে জ্বীন পরীর উপর ভর করে। এর পরেই পরীর পাগলামি শুরু হয়। আজ এই দৃশ্যেরেই শুটিং করছি।’
এ সিনেমায় পরীমনির বিপরীতে অভিনয় করছেন আরজু কায়েস। এ ছাড়াও রয়েছেন মিশা সওদাগর, আলীরাজ ও রেবেকা প্রমুখ। ওয়ান স্টার ইন্টারন্যাশনাল মুভিজের ব্যানারে মোজাম্মেল হক খানের প্রযোজনায় এ সিনেমায় গান থাকছে মোট ছয়টি। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু।
স্টাফ রিপোর্টার : লন্ডনে নাগরিক সংবর্ধনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার স্থানীয় সময় বিকালে এই নাগরিক সংবর্ধনায় ভৌগলিক অবস্থার কারণে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় ভৌগলিক অবস্থার যে গুরুত্ব রয়েছে, সে গুরুত্ব কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নতি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
দারিদ্র্যকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন শত্রু হিসাবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “শুধু নিজেদের কথা নয়। প্রতিবেশীদের কথাও ভাবতে হবে।”
ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য শেখ হাসিনাকে দেশের বাইরে এই নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
লন্ডনের পার্ক লেইন শেরাটনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে টিউলিপ সিদ্দিকসহ উপস্থিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়।
পরে শেখ হাসিনা ইলফোর্ড সাউথে লেবার এমপি মাইক গ্যাপস, কার্ডিফ সেন্ট্রালের লেবার এমপি জো স্টেভেনস, ইলফোর্ড নর্থের লেবার এমপি অয়েস স্ট্রিটিং, সাটোন ও কিমের কনজারভেটিভ এমপি পল স্কালি রক্ষণশীল দলের এমপি পল স্কালির হাতে ফুলের তোড়া ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইংরেজি সংস্করণ তুলে দেন।
সবশেষে শেখ হাসিনা তার ভাগনি টিউলিপের হাতের ফুলের তোড়া ও বই তুলে দিয়ে কপালে চুমু খান।
অভিনন্দনে সিক্ত হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরা তাদের কথাও বলেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকা ও সব সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাইক গ্যাপস ১৯৯৫ সালে পিটার শ্যোরকে বাংলাদেশ সফরের যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি তখন গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন। আপনি অনেকদূর পথ পেড়িয়ে এসেছেন।”
পিতার চাকরির সুবাদে মিয়ানমারে থাকার কথা উল্লেখ করে পল স্কালি বলেন, “আমি শুটকি খেতে পছন্দ করি।”
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় শেখ হাসিনার উদ্যোগের প্রশংসাও করেন রক্ষণশীল দলের এই সংসদ সদস্য।
“জয় বাংলা” বলে নিজের বক্তব্য শেখ করেন স্কালি।
আর সালাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করে বাংলাদেশ সফরের আশা প্রকাশ করেন অয়েস ট্রিটিং। তিনিও জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করেন।
সব শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে টিউলিপ বলেন, “আসলে কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি, নিজের খালার হাত থেকে ফুল পাব।”
উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী বলেন, “আপনারা দোয়া করেছেন। আপনাদের সাপোর্ট ছাড়া আমি ব্রিটিশ এমপি হতে পারতাম না।”
রুশনারা আলী ও রূপা হকের সদস্য হওয়ার কথা উল্লেখ করে টিউলিপ বলেন, “আমি খুব গর্বিত বাঙালি তিনজন এমপি হয়েছে।”
আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনার ভাগনি বলেন, “প্রথমে সিলেটে যাব। তারপর, ঢাকায়।”
এক হাজার ভোটে জয়ী হওয়ার কথাও বলেন টিউলিপ।
তিনি বলেন, “আমার এলাকায় এক হাজার বাঙালি ভোট রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে মানপত্র তুলে দেন কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী। এসময়, তিনি শেখ হাসিনার মাথায় হাত রাখেন।
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে আবদুল গাফফার চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যখনই বিপদ দেখেছি, সব সময় ওনার লেখনি সাহস জুগিয়েছে।”
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “মাঝে মধ্যে কষ্ট দিয়েছে। সেটাও ভালো। সেটা থেকে আমরা সতর্ক হওয়ার সুযোগ পেয়েছি।”
মঞ্চে বসে থাকা গাফফার চৌধুরী এসময় মিটমিট করে হাসছিলেন।
শেখ হাসিনা বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বলেন, “এতো প্রশংসা পাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই। আমার পরিচয়, আমি জাতির পিতার কন্যা।”
“আমার বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করাই আমার লক্ষ্য।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক বাঁধা আসবে। সেই প্রতিকূলতা ঠেলেই এগিয়ে যেতে হবে।”
শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে আরও বলেন, “ বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমার মিলে আমরা যৌথভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছি।
তিন কোটি মেট্রিক টনের বেশি অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্পের পর নেপালে দশ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠানোর কথাও বলেন।
তিনি বলেন, “নেপালের প্রয়োজন হলে আমরা এক লাখ মেট্রিক টন চাল পাঠানোর কথা বলেছি। আমরা এই সক্ষমতা অর্জন করেছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, “ভুটান, নেপাল, ভারত আর আমরা মিলে সহযোগিতার কথা বলেছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে শুরুতেই যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা শেখ হাসিনার হাতে ফুল তুলে দেন।
স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আগের মতো প্রাণ খুলে কথা বলতে না পারার আক্ষেপ ফুটে উঠল মো. আবদুল হামিদের কথায়।
সোমবার রাজধানীতে ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৫’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন নিজেই এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে আবদুল হামিদ বলেন, “আমার একটি লিখিত বক্তব্য আছে। স্পিকার থাকার সময় স্বাধীন-ফ্রিস্টাইলে বক্তব্য দিতাম। এখন অনেকটা বন্দি জীবনের মতোই…।
“কথা-বার্তা হিসাব করে বলতে হয়। সাংঘাতিক…ফাউল না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হয়।”
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই জোরে হাততালি দিয়ে হেসে ওঠে।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি লিখিত বক্তব্যের বাইরে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে ভিডিও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পেরিয়ে আসা আবদুল হামিদ আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন আবদুল হামিদ
এর আগে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর স্বভাবজাত হাস্যরস দিয়ে সংসদ মাতিয়ে তুলে বেশ জনপ্রিয়তা পান।
১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্ম নেয়া আবদুল হামিদ কৈশোরেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করেই এখন তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে।
রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খেদ প্রকাশ করেন আবদুল হামিদ।
মেয়াদের এক বছর পূর্তিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ইচ্ছা করলেই অনেক কিছুই করতে পারি না। আর ইচ্ছা করতেও তো অনেক সমস্যা।
“আসলে বেশি পলিটিক্যাল মানুষের জন্য, মানে গ্রাসরুটে রাজনীতি করা মানুষের জন্য এ জায়গাটা সব সময় আরামদায়ক হবে বলে মনে হয় না।”
নিউজ ডেস্ক : জর্জিয়ায় রাজধানী তিবলিসিতে প্রচণ্ড এক বন্যায় কমপক্ষে ১০ জন মানুষের সলিল সমাধি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে রাজধানীর চিড়িয়াখানাও।
জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতির ভেতর শহরের একটি চিড়িয়াখানা থেকে বিভিন্ন পশু পালিয়ে যায়। এসব পশুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে শহরের বাসিন্দাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। ঘরের বাইরে না বেরোতে বলা হয়েছে স্থানীয় নাগরিকদের।
বন্যার পানির তোড়ে চিড়িয়াখানার খাঁচা ভেঙে যাওয়ার পর বেশ কিছু বাঘ, সিংহ, ভালুক এবং নেকড়ে নিখোঁজ রয়েছে।
তিনটি পশুর মৃতদেহ চিড়িয়াখানার ভেতরে পাওয়া গেছে।
তিবলিসির রাস্তায় বিশাল আকৃতির একটি জলহস্তী দাঁড়িয়ে, একটি প্রমাণ সাইজের ভাল্লুক একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে বন্যার পানি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। একটি রাস্তায় সাঁতরে বেড়াচ্ছে বিরাট এক কুমির।
বন্যায় উপদ্রুত শহরে তোলা এইসব ছবি দেখে মনে হবে—এটি যেন বাস্তবের কোনো জুরাসিক পার্ক।
শহরের চিড়িয়াখানা ভেসে মারা গেছে সিংহসহ বেশ কিছু প্রাণী।
খাঁচা বা বেড়া ডিঙ্গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে বাঘ, সিংহ, নেকড়ে, ভল্লুক, কুমিরসহ আরো প্রাণী।
কর্তৃপক্ষ নগরবাসীকে সাবধান করছেন, তরা যেন বাইরে বের না হন।
তিবলিসির মেয়র ডাভিট নারমানিয়া বলছেন, এখনও চিড়িয়াখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়া অনেক পশু খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেছেন, কিছু জন্তুকে ধরা গেছে, কিন্তু এখনও অনেকগুলো নিখোঁজ। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।
জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি গারিবাসভিলিও রাজধানীর বাসিন্দাদের আপাতত ঘরের ভেতর থাকার অনুরোধ করেছেন।
তিবলিসির ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী ভের স্বাভাবিক সময়ে নেহাতই একটি খালের মত।
কিন্তু ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় নদীর পানি উপচে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এসময় শহরের চিড়িয়াখানায় হু হু করে ঢুকে পড়ে বন্যার পানি।
বেরিয়ে যাওয়া বেশ কিছু পশুকে গুলি করে হয় মারা হয়েছে, না হয় ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে অচেতন করে ধরা হয়েছে।
তবে এখনও কত পশু বাইরে রয়ে গেছে, তা স্পষ্ট করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বলেছেন, বন্ধুত্ব ভালো কিন্তু দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়। বন্ধুত্ব হতে হবে সমানে সমানে, না হলে তা হবে দাসত্ব। এ সময় সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যমুনা সেতু দিয়ে যেতে বাংলাদেশের জনগণকে টোল দিতে হয়। কিন্তু অন্য অনেক দেশ সেতু ব্যবহার করে টাকা-পয়সা দেবে না, কিছু দেবে না। হেভি হেভি গাড়ি যাবে, টোল দেবে না। এ রাস্তা কি লোড নিতে পারবে? তিনি আরও বলেন, যাতায়াতে বাধা দিচ্ছি না। কিন্তু টাকা দিয়ে যাবে।’
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার বিরোধিতা করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, বিদ্যুৎ দরকার। কিন্তু রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হলে সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি অন্য কোনো জায়গায় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশে যে শাসন চলছে তা বাকশালও নয়। দেশে রাজতন্ত্র ও এক পরিবারের শাসন চলছে। দেশের মানুষ ভাত পাক বা না পাক, ওই পরিবারের নিরাপত্তা থাকতেই হবে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় দেশ দিন দিন খারাপের দিকে যাবে।
গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রবিবার রাত ৮টায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (ময়মনসিংহ) সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় খালেদা জিয়া এ সব কথা বলেন।
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জুডিশিয়াল পুলিশ, র্যাব বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ছাড়া চললে সাধারণ জনগণ তাদের গণধোলাই দিয়ে চ্যাপ্টা করে দিবে তাই তাদের জনগণকে এত ভয়।
পুলিশের সমালোচনা করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশ এখন সরকারের চেয়েও বড় হয়ে গেছে। তারা এখন বড় সরকার। পুলিশ বলে, তারাই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। তাই গুম-খুন অত্যাচার করছে। কিন্তু পুলিশ র্যাব দিয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় যায় না।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সরকার অন্যায়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্বাচিত মেয়রদের বরখাস্ত করছে। কিন্তু তারা এটা করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে কোর্টের রায় আমাদের পক্ষে আসার কথা। কিন্তু কোর্টও নিরপেক্ষতা রাখছে না। আমরা চাচ্ছি সুবিচার, তা পাচ্ছি না।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা ছিল। কিন্তু সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, এ সরকারের অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তারা তদন্ত করছে না। তদন্ত করলে চোর ধরা পড়বে।
এ সময় দলীয় আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেদের মতভেদ ভুলে দলের স্বার্থে কাজ করুন। যে যাই বলুক দল সুসংগঠিত রয়েছে। অতীতে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল এবং যারা দলের জন্য কাজ করেছে তাদের এবার মূল্যায়ন করা হবে।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম।
বিনোদন ডেস্ক : অনলাইনে ভক্তদের ভোটে ভারতের দক্ষিণের অভিনেত্রীদের মধ্যে সেরা আবেদনময়ীর খেতাব পেয়েছেন শ্রিয়া সারান। সিনেমাবিষয়ক জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বলিউড লাইফ ডটকম আয়োজিত এক জরিপে দক্ষিণের ‘হট’ নায়িকাদের দৌড়ে ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে সবার ওপরে আছেন শ্রিয়া।

বলিউড লাইফ ডটকম সম্প্রতি অনলাইন ভোটের আয়োজন করেছিল, দক্ষিণের সাত সুন্দরী অভিনেত্রী- শ্রুতি হাসান, শ্রিয়া সারান, তামান্না, তৃষা, নয়নতারা, আনুশকা শেঠী ও সামান্থার মধ্যে সবচেয়ে হট অভিনেত্রী কে তাই নিয়ে।
দুই সপ্তাহব্যাপী ভোটিং শেষে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন শ্রিয়া। আর শ্রিয়া ঝড়ে উড়ে গেছেন প্রত্যেকেই। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে শ্রুতি হাসান, কিন্তু শ্রুতির প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৬ শতাংশ। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে আনুশকা শেঠী ও চতুর্থ অবস্থানে নয়ন তারার ভোটের পরিমান ৩ শতাংশ। ২ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চম অবস্থানে তামান্না। শেষ দুজন– তৃষা ও সামান্থার প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশ।
বলিউড লাইফ ডটকমের মতে, আকর্ষণীয় সুন্দরী শ্রিয়া যে দক্ষিণের দর্শকদের হৃদয়ে পাকাপাকি জায়গা করে নিতে পেরেছেন সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
ফিচার ডেস্ক : মানবদেহে প্রথম রক্তদানের সফল প্রয়োগ ঘটানো হয়েছিল ভেড়ার রক্ত দিয়ে। আর তা করেছিলেন ফরাসি বিজ্ঞানী ডাঃ জ্যঁ ব্যাপ্তিস্তে ডেনিস। ১৬৬৭সালে তিনি এক আহত কিশোরের দেহে ১২ আউন্স ভেড়ার রক্ত দিয়ে রক্তদানের সফল সূচনা ঘটান।
সালেই ফ্রান্সে মানবদেহে প্রাণীর রক্ত প্রয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রিয়ান জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেনার রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করার পর ১৯০২ সালে রক্তদান নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অবশ্য রক্ত নিয়ে বিজ্ঞানিদের চিন্তাভাবনা শুরু আরো অনেক আগে। ১৬১৬ সালে ইংরেজ চিকিৎসক ডা. উইলিয়াম হার্ভের গবেষণার মাধ্যমে মানুষ প্রথম জানতে পারে যে, মানবদেহের অভ্যন্তরে রক্ত প্রবাহিত হয়। ১৬৫৭ সালে উইলিয়াম হার্ভে আবিষ্কৃত যন্ত্র ব্যবহার করে জন্তুর দেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে তরল পদার্থ প্রবেশ করান স্যার ক্রিস্টোফার রেন।
১৬৬৬ সালে ডা. রিচার্ড লোয়ার সফলভাবে প্রথমবারের মতো একটি কুকুরের দেহ থেকে আরেকটি কুকুরের দেহে রক্ত সঞ্চালনের পরীক্ষা চালান। অবশ্য এর পরে পশুর দেহ থেকে মানবদেহে রক্ত পরিসঞ্চালন করতে গিয়ে চিকিৎসকদের হাতে প্রাণ হারান অনেক মানুষ। ১৬৭৮ সালে রক্ত পরিসঞ্চালনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেন পোপ।
১৮১৮ সালে ডা. জেমস ব্লান্ডেল নামে একজন ইংরেজ ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্যে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা দিয়ে সফলভাবে একজন সুস্থ মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের দেহে রক্ত পরিসঞ্চালন করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়। তিনিই প্রথম বলেন যে, একজন মানুষের শরীরে কেবল আরেকজন মানুষের রক্তই দেয়া যাবে।
১৯০১ সালে ডা. কার্ল ল্যান্ডস্টেনার দেখান, মানুষের রক্তের প্রধানত ৪ টি গ্রুপ রয়েছে, অ, ই, অই এবং ঙ. প্রথমবারের মতো মানুষ বুঝলো যে, এতো ধরে তাদের ভুলটা ঠিক কোথায় হচ্ছিলো। এরপর ১৯০২ সালে রক্তদান নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়
১৯১৪-১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের এ সময়টায় যুদ্ধাহত হাজার হাজার মানুষকে বাঁচাতে অনেক রক্তের প্রয়োজন হয়েছিলো। আর তখনই মানুষ আবিষ্কার করলো দুটো বিষয়। এক. রক্তদাতার শরীর থেকে বের করে নেওয়ার পর ঐ রক্তকে জমাট বাঁধার হাত থেকে রক্ষা করা যায় যদি তাতে সোডিয়াম সাইট্রেট মেশানো হয়। দুই. অন্য আরও অনেক জিনিসের মতো রক্তকেও ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করা যায়।
১৯১৬ সালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সংরক্ষিত রক্তকে আরেকজনের দেহে প্রবেশ করানো হয়। এই ধারণা থেকেই ফ্রান্সে বিশ্বের প্রথম ব্লাড ব্যাংকের সূচনা করেন একজন আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা ও মেডিকেল গবেষক অসওয়াল্ড হোপ রবার্টসন।
১৯২১ সালে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে বৃটিশ রেডক্রসের সদস্যরা সবাই একযোগে রক্ত দেন। সূচিত হয় বিশ্বের প্রথম স্বেচ্ছা রক্তদানের দৃষ্টান্ত। ১৯২৫ সালে রক্ত পরিসঞ্চালন নিয়ে গবেষণার জন্যে মস্কোতে ড. আলেক্সান্ডার বগদানভের নেতৃত্বে একটি ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৭ সালে আমেরিকার শিকাগোর কুক কাউন্টি হাসপাতালে বিশ্বের প্রথম ব্লাড ব্যাংক স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশে স্বেচ্ছা রক্তদানের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭২ সালে। দেশের প্রবীণ রক্তসঞ্চালনবিদ প্রফেসর ডা. মুজিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ১৯৭২ সালের ১০ জুন জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম নিজ রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ রেডক্রস (পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি) শুরু করে তার ব্লাড ব্যাংক কার্যক্রম।
স্টাফ রিপোর্টার : এবার বর্ষা যেন একটু আগেই জানান দিয়েছে নিজেকে। গরমের দাপটকে দমাতে স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে। বৃষ্টিতো ক’দিন ধরেই হচ্ছে। নদীতে পানি উপচেপড়া। কোথাও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে। আকাশেও মেঘের ঘনঘটা। ঝুম ঝুম বৃষ্টি ঝরছে বর্ষার আগাম সংকেত হয়ে।
এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে, এসো করো স্নান নবধারাজলে…। আজ পয়লা আষাঢ়। রূপময় ঋতু বর্ষার প্রথম দিন। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বর্ষা ঋতুর শুরুটা হবে আজ। আনুষ্ঠানিক ঋতু বর্ষার শুরু। বর্ষাকাল চলবে শ্রাবণের শেষ দিনটি পর্যন্ত। বাংলায় আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষা ঋতু।
চিরকালই আষাঢ সাজে নানা রুপে। বৃষ্টিরধারায় নবতর জীবন আসে পুষ্প-বৃক্ষে, পত্রপল্লবে, নতুন প্রাণের সঞ্চার করে প্রকৃতির অবয়বে। নতুন সুরের বার্তা নিয়ে সবুজের সমারোহে আগমন বর্ষার। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশও ছেয়ে… আসে বৃষ্টিরও সুবাস ও বাতাসও বেয়ে…’ কিংবা ‘ঐ আসে ঐ ঘন গৌরবে নবযৌবন বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা…’ কিংবা ‘এমনও দিনে তারে বলা যায়, এমনও ঘনঘোর বরষায়…’।
বর্ষার সতেজ বাতাসে জুঁই, কামিনি, বেলি, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা আরো কত ফুলের সুবাস। লেবু পাতার বনেও যেন অন্য আয়োজন। উপচেপড়া পুকুরে রঙিন হয়ে ফোঁটে পদ্ম, সে কেবলই বর্ষাকে পাওয়ার জন্য। কেয়ার বনেও কেতকীর মাতামাতি। আহা কত না মধুর এই বরষা।
এ সময় জলীয় বাষ্পবাহী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় বর্ষায়। তাই চারপাশের পরিবেশ বদলে যায়। আসুন আমরা আজ মনটাকে ধুয়ে ফেলি প্রতীকী বর্ষার জলে। ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল’-এর ভুবনভুলানো হাসি মনে ধারণ করি ।
কী গ্রাম, কী নগর সর্বত্রই বর্ষার আগমনী বার্তা দেয় কদম। যেন একই কথার জানান দিতে পেখম মেলে ময়ূর। বৃষ্টির জল গায়ে নিয়ে নৃত্য করে। বর্ষায় প্রকৃতির এমন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে নজরুল লিখেছেন-
রিম্ঝিম্ রিম্ঝিম্ ঘন দেয়া বরষে
কাজরি নাচিয়া চল, পুর-নারী হরষে
কদম তমাল ডালে দোলনা দোলে
কুহু পাপিয়া ময়ূর বোলে,
মনের বনের মুকুল খোলে
নট-শ্যাম সুন্দর মেঘ পরশে…।
বর্ষায় নিজের চিত্তচাঞ্চল্যের কথা জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন-
মন মোর মেঘের সঙ্গী,
উড়ে চলে দিগ্ দিগন্তের পানে
নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণবর্ষণ সঙ্গীতে
রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম…।
রিমঝিম এ বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে কাটে বাঙালীর শৈশব। স্কুলে যেতে যেতে কিংবা ফেরার পথে দুরন্ত কিশোরী আনন্দে গায়ে মাখে বৃষ্টির ফোটা। তুমুল বৃষ্টিতে গাঁয়ের ছেলেরা নেমে পড়ে ফুটবল নিয়ে। বর্ষার এই রূপ কখনো কি ভোলা যায়? বর্ষার সবই উপভোগ্য। আবার ভারি বর্ষণে, পাহাড়ী ঢলে গ্রামের পর গ্রাম যে ভাসিয়ে নেয় সেও বর্ষা! বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ তাই আতঙ্কে পার করে বর্ষা। একই কারণে সারা বছরের অর্জন ফসল তলিয়ে যায়। শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়।
সুখ স্মৃতিগুলো মনে রেখেই প্রতিবছর বর্ষাকে বরণ করে নেয় বাঙালি। বিশেষ করে শহরে নগরে হরেক আয়োজনে চলে বর্ষা বন্দনা। প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানীতে আজ বর্ষাবরণে নানা আয়োজন রয়েছে। বর্ষার রাগীনিতে বর্ষাকে বরণ করে নেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলা আজ সকাল থেকেই মেতে উঠবে বর্ষাবরণ উৎসবে।
বর্ষাবরণে আয়োজন করছে সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গানের দলগুলোও। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আজ ভোর সাতটায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে আয়োজন করছে বর্ষা উৎসব। এতে থাকছে দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের সঙ্গীত, নৃত্য, বাঁশি ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আয়োজন। আছে বর্ষা সংলাপ। এছাড়াও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে রয়েছে বর্ষাবরণ উৎসব। কবিতা, গান ও নাচের মাধ্যমে বর্ষাকে বরণ করবেন তারা। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও সারাদিন নানা আয়োজনে গাইবে বর্ষার গান। বর্ষা নিয়ে থাকবে আলোচনা-স্মৃতিচারণ।
দেশের নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে বর্ষাকে নিয়ে নানা মিথ। কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় বর্ষাকে বরণ করে ভিন্ন মাত্রায়। প্রতিবছর তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মাসব্যাপী বর্ষাবরণ উৎসবের আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা এ বর্ষা বরণ উৎসবে যোগ দেয়।
হঠাৎ বর্ষা যেমন আনন্দের, তেমনি হঠাৎ বিষাদে ভরিয়ে তোলারও। বন্যা তার ভয়ংকর রূপটির নাম। তবুও বর্ষা বাঙালী জীবনে নতুনের আবাহন। সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাঙলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকেই উন্মেষ ঘটে সারা বছরের খাদ্য-শস্য-বীজের।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপাল পর্যটনপ্রধান একটি দেশ। এপ্রিলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয় নেপালের কাঠামান্ডুতে অবস্থিত অধিকাংশ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও নিদর্শন। প্রায় দুই মাস দর্শনার্থী ও পর্যটকরা এসব স্থাপনা ও নিদর্শন পরিদর্শন করতে পারেনি।
অবশেষে এসব স্থাপনা সবার জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থাপনা খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে কাঠমান্ডুর স্থাপনা ঘিরে।
যেসব স্থাপনা খুলে দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক দুর্বার স্কয়ার। ভূমিকম্পে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিবিসি অনলাইনের এক খবরে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থাপনা ও নিদর্শন খুলে দেওয়া নিয়ে নিরাপত্তা ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো। কিন্তু নেপালের গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থাপনাগুলোতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
নেপালের সরকারের তথ্য মতে, এপ্রিলের ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে ৮ হাজার ৬০০ মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। তবে কাঠমান্ডুতে অবকাঠামো পুনর্নিমাণ করা হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে।
ভূমিকম্পের পর ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা বলেন, কাঠমান্ডুতে যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তা ‘ব্যাপক ও অপূরণীয়’। ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করতে একটি দল পাঠায় এই সংস্থা, যে দলটি এখনো পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
১১ জুন এক বিবৃতিতে স্থাপনাগুলো খুলে দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে নেপাল সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় ইউনেস্কো। এ ছাড়া স্থাপনাগুলোয় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনেরও আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নেপালের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। পর্যটকরা যথাযথ নির্দেশনা পাবেন। স্থাপনার অবকাঠামো পর্যটকদের জন্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।
নেপালে সংরক্ষিত সাতটি স্থাপনা (ভাস্কর্য) হলো- কাঠমান্ডু, পাটান ও ভাকতাপুরের দুর্বার স্কয়ার, দুটি বৌদ্ধ স্তুূপা- স্বয়ম্ভূনাথ ও বৌদ্ধনাথ এবং দুটি হিন্দু মন্দির পশুপতিনাথ ও চাঙগু নারায়ণ। এসব স্থাপনা দর্শনে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক আসেন।