পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করল স্ত্রী

36065_0স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছিলেন আবু জাফর (৪৫)। উপার্জিত আয়ে রাজধানীতে নির্মাণ করেন বহুতল ভবন। শুরু করেন ব্যবসাও। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভালই কাটছিল তার সময়। একদিন খবর ছড়ায়, হালিমা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন জাফর। শুরু হয় তার সংসারের অশান্তি। এরপর একদিন তাঁর স্ত্রী নূরজাহান আক্তার খবর পান, প্রেমিকাকে গোপনে বিয়েও করেছেন জাফর। এরপর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন প্রথম স্ত্রী। সম্পত্তি নিজের নামে দলিল করে দিতে চাপ দেন জাফরকে। কৌশলে দ্বিতীয় স্ত্রী হালিমাকে তালাকও দেওয়ান তিনি। তবে জাফর ফের বিয়ে করেন ওই নারীকে। এ নিয়ে চলছিল টানাপোড়ান। এমন অবস্থায় খুন হলেন জাফর। সোমবার ভোরে নিজের বাড়ির সিঁড়িতে পাওয়া যায় জাফরের গলা কাটা দেহ। এ সময় স্ত্রী-সন্তানেরা ঘরেই ছিলেন। তবে প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাÐের ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেননি তারা। দিনভর পুলিশের তদন্ত আর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে খুলছে রহস্যজট। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম স্ত্রী নূরজাহানই তাঁর স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এরপর ঘরের বাইরে ফেলে রাখেন লাশ। সোমবারই নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর কদমতলী থানার রায়েরবাগের মেরাজনগরে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডটি ঘটেছে। সোমবার নিহতের বড় ভাই সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তদন্তকারীরা বলছেন, এই হত্যাকান্ডে নূরজাহানের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই দম্পতির ছেলে সাইফুল ইসলামকেও (১৯) আটক করেছে পুলিশ।
কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরশেদ আলী সোমবার রাতে বলেন, ‘এই হত্যাকাÐের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। স্ত্রীই তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ বাইরের সিঁড়িতে ফেলে রেখেছেন। আসামি স্বীকার করেছেন। আশা করছি, আদালতেও স্বীকারোক্তি দিবেন। বাসার রান্নাঘর থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকালে জাফরের স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী নূরজাহান আক্তার বলেন,ছয় তলা বাড়িটির তৃতীয় তলার তারা থাকেন। ভোরে সেহরির পর নামাযের জন্য বের হন জাফর। এ সময় বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তিনতলার সিঁড়ির কাছে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। পরে পাঁচতলার এক ভাড়াটিয়া সিঁড়িতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় সন্তানদের নিয়ে নূরজাহান ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেন। মায়ের মতো একইভাবে ঘটনার বর্ণনা দেন জাফরের বড় ছেলে ও স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলাম। দুপুরে কদমতলী থানা পুলিশ নূরজাহান ও সাইফুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে হত্যামামলার বাদী সিদ্দিকুর রহমান জানান, তার ভাইয়ের প্রথমপক্ষে দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। জাফর ১৪ বছর সিঙ্গাপুর ছিলেন। ছয় বছর আগে প্রবাসজীবন থেকে ফিরে মেরাজনগরে বি-বøকে ছয়তলা বাড়ি নিমার্ণ করেন জাফর। ওই এলাকায় তার আরও একটি টিনসেট বাড়ি আছে। বিদেশ থেকে ফিরে বাসার কাছে মেয়ের নামে-‘নুসরাত জেনারেল স্টোর’ একটি মুদি দোকান দেন তিনি। এ সময় হালিমা বেগম নামে এক প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে জাফরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক বছর আগে হালিমাকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। ছয় মাস আগে খবরটি জানাজানি হলে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। হালিমাও আগে বিবাহিতা ছিলেন। তার প্রথম স্বামী আবদুল লতিফ প্রবাসী। প্রথম স্ত্রী নূরজাহান ও সেই স্বামী লতিফের চাপের মুখে এক পর্যায় হালিমাকে তালাক দেন জাফর। এক মাস আগে আবার তারা বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী হালিমা মেরাজ নগরের আরেকটি বাসায় থাকেন।
সিদ্দিক আরও জানান, দ্বিতীয় দফায় বিয়ের আগে ও পরে সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ দেয় নূরজাহান। এ কারণে হত্যাকাÐের পর থেকেই তিনি নূরজাহানকে সন্দেহ করেন। তবে মামলার এজাহারে আসামি অজ্ঞাত রাখেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় আসামির ব্যাপারে কদমতলী থানার ওসি আবদুস সালাম মিয়া বলেন, ‘ঘটনার পর বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করে আমরা মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।
পরিদর্শক আরশেদ আলী বলেন, রোববার দিবাগত রাতে সেহরির আগেও নূরজাহান ও জাফরের ঝগড়া হয়। সেহরির পর জাফর ঘুমিয়ে পড়েন। তখন ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে তার গলায় আঘাত করা হয়। এরপর নিথর দেহটি বাসার বাইরে সিঁড়িতে ফেলে রাখেন নূরজাহান। তবে হত্যাকাÐের ব্যাপারটি তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে টের পায়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাÐের সময় নূরজাহানের সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বজনরা জানান, নিহত জাফর চাঁদপুরের হাজিগঞ্জের হানিফ খলিফার ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মদ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নিহত আবু জাফর স্থানীয় যুবদল কর্মী ছিলেন। কদমতলী থানার নাশকতার মামলায় তাকে দু’বার গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। স¤প্রতি তিনি জামিনে বের হন।

Posted in সারা দেশ | Comments Off on স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করল স্ত্রী

সৌদিতে নারীশ্রমিক পাঠাতে পারছে না সরকার!

pori-moni-bangladeshi-model-actress-image-photoস্টাফ রিপোর্টার : প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী সৌদি আরবে নারীশ্রমিক পাঠাতে পারছে না সরকার। রমজানের আগে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে কমপক্ষে ২০ হাজার নারীশ্রমিক পাঠানোর কথা বলা হলেও এ পর্যন্ত সেখানে পাঠানো গেছে মাত্র ২৪৭ জন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত এক মাসে বিনামূল্যে সৌদি আরবে যাওয়া নারীশ্রমিকের এই সংখ্যা দেখে হতাশ অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে যেতে পাসপোর্ট করা ছাড়া বাকি সব খরচ দেবে সৌদি নিয়োগ কর্তা। গত মে মাসে ৩০ হাজার ভিসাও দেয় সৌদি সরকার। এরপর নারীশ্রমিক সংগ্রহে নামে সরকার। শ্রমিক সংগ্রহে নাম নিবন্ধনের বিজ্ঞাপন দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু সাড়া মিলছে না নারীদের কাছ থেকে। গত ফেব্রæয়ারিতে সরকারের আহŸানে সাড়া দেয় মাত্র তিনহাজার নারী। এরপর জেলায় জেলায় অভিবাসন মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানেও আশানুরূপ ফল আসেনি। এদিকে একশ’ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নারীশ্রমিক পাঠানোর কথা থাকলেও শ্রমিকদের সংগ্রহ, বাছাই ও পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় ১১৫টি রিত্রæটিং এজেন্সিকে। এসব এজেন্সি প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুইশ’ কর্মী পাঠাতে পারবে। কিন্তু তাদের কেউই এখন পর্যন্ত কোটা পূরণ করতে পারেনি। তালিকাভুক্ত এজেন্সির একটি বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশনের কর্ণধার মোহাম্মদ হাসান বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে মাইকিং করে নারীকর্মী সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছি। তবে এখন বিভিন্ন দেশে নারীকর্মী যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। এজন্য হয়তো তেমন সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে বায়রা সভাপতি আবুল বাশার জানান, যে সংখ্যক নারী পাঠানোর কথা ছিল, সে অনুযায়ী নারীকর্মী পাওয়া যায় নি সত্য। তবে সংখ্যায় কম হলেও কিছু নারীকে পাঠানো গেছে। তালিকাভুক্ত রিত্রæটিং এজেন্সিগুলো কর্মী সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
তবে প্রত্যেকের কোটা পূরণে বেশ দেরি হবে বলে মনে করছেন এই বায়রা নেতা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে নারী নিপীড়নের কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে আসে। এ ছাড়া একটি মহল অকারণে নেগেটিভ ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব কারণে প্রত্যাশার চেয়ে নারীদের কাছ থেকে কম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন রিক্রুটিং এজিন্স মালিক মোহাম্মদ হাসান। তিনি বলেন, একটা সময়ে হয়তো পরিস্থিতি খারাপ ছিল। কিন্তু এখন সরকার বলছে, ক‚টনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এনভারনমেন্ট ভালো করা হয়েছে। আমরাও সরকারের প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী নারী কর্মীদের সে বিষয়ে আশ্বস্ত করতে পারছি।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলেও এখন নির্যাতন রোধে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের যৌথ কমিটি করা হয়েছে। নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই কমিটির মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সৌদি আরবকে দেওয়া প্রতিশ্রæতি রক্ষায় নারীশ্রমিক সংগ্রহে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বারবার মন্ত্রণালয় থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
২০০৮ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম এই শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। নানা ক‚টনৈতিক তৎপরতায় দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর গত ২০ এপ্রিল দেশটিতে বাংলাদেশি নারীশ্রমিক নেয়ার কথা জানায় সৌদি সরকার।
তবে এই মুহূর্তে গৃহস্থালি কাজের জন্যে শুধু নারীশ্রমিক নিতে আগ্রহী তারা। তবে নারীশ্রমিকদের সৌদি আরব যেতে কিছুটা দেরি হবে। কারণ, সরকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঠানোর আগে নারীশ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তবে সৌদি সরকারের দাবি, বাংলাদেশ সরকার ইচ্ছে করেই নারীশ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় দেরি করছে।

Posted in ব্যবসা-অর্থনীতি | Comments Off on সৌদিতে নারীশ্রমিক পাঠাতে পারছে না সরকার!

বাড়ছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা

1381180239._23414স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে নগরে থেকেও নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত হয়ে বসবাসরত মানুষের সংখ্যা ১৭ বছরে আট লাখ বেড়েছে। বস্তিবাসী ও ভাসমান লোক গণনায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চালানো শুমারির ফলাফলে এই চিত্র দেখা গেছে। সম্প্রতি এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ছিল তৃতীয় ‘বস্তি শুমারি ও ভাসমান লোক গণনা’ জরিপ। এর আগে ১৯৯৭ সালে একই ধরনের জরিপ চালানো হয়েছিল।
প্রকাশিত শুমারির ফলাফলে দেখা যায়, সারাদেশে ২২ লাখ ৩২ হাজার লোক বস্তিতে বাস করেন। এর মধ্যে প্রায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার পুরুষ, ১০ লাখ ৮৬ হাজার নারী এবং ১ হাজার ৮৫২ জন হিজড়া।
১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় বস্তি শুমারিতে বস্তিবাসীর সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৫৮ জন। সে হিসাবে ১৭ বছরে দেশে বস্তিতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৬ জন।
নদী ভাঙনসহ নানা কারণে জীবিকার সন্ধানে সারাদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসে নগরে, যাদের বড় একটি অংশ বস্তিতে আশ্রয় নেয়। বস্তিতে গাদাগাদি করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে হয়। এই জরিপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাফর আহাম্মদ খান বস্তির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, এক রুমে খানার ৫ বা ততোধিক লোক একসঙ্গে বাস করে, সরকারি বা আধা সরকারি জমিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছোট ঘর, টং, ছই, টিনের ঘর, আধাপাকা ভবন বা জরাজীর্ণ দালানে বসবাসকারী মানুষকেই বস্তিবাসী হিসেবে গণনা করা হয়েছে।

www.somoyerkonthosor.com

www.somoyerkonthosor.com

শুমারি থেকে প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরার সময় জাফরের সঙ্গে বিবিএস সচিব কানিজ ফাতেমা ও বিবিএস মহা-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২ মে এক সপ্তাহ ধরে বস্তিতে শুমারি পরিচালনা করে বিবিএস। ১৯৯৭ সালের আগে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম বস্তি শুমারি হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০ লাখ ৬২ হাজার ২৮৪ জন লোক বস্তিতে বাস করেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম, এ বিভাগে আছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬ জন।
খুলনায় ১ লাখ ৭২ হাজার ২১৯ জন, রাজশাহীতে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৬ জন, রংপুরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন, সিলেট বিভাগে ৯১ হাজার ৬৩০ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৪৯ হাজার ৪০১ জন লোক বস্তিতে বাস করেন। বস্তিবাসীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৭ ভাগ ভাড়া দিয়ে থাকেন। ২৭ দশমিক ২৫ ভাগ মালিক এবং ৬ দশমিক ৯৯ ভাগ থাকেন ভাড়া ছাড়া।
বস্তিবাসীর মধ্যে ৮৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদ্যুতের সুবিধা পান বলে বিবিএসের শুমারিতে উঠে এসেছে। কেরোসিন দিয়ে আলো ব্যবহার করেন ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন।
বস্তিতে বসবাসকারীদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ টিউবওয়েলের এবং ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ কলের পানি পান করেন। মোট বস্তিবাসীর ৪২ দশমিক ১৯ ভাগ অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার করেন বলে শুমারিতে উঠে এসেছে। ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করেন। ২১ দশমিক ১০ ভাগ টিনের টয়লেট এবং ৮ দশমিক ৬৩ ভাগ ঝুলন্ত ও কাঁচা টয়লেট ব্যবহার করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বস্তিবাসীদের ৫০ দশমিক ৯৬ ভাগ নগরে আসেন চাকরির সন্ধানে। দারিদ্র্যের কারণে আসেন ২৮ দশমিক ৭৬ ভাগ। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে আসার হার ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক জাফর আহাম্মদ বলেন, সারাদেশের বস্তিবাসীর মধ্যে গড়ে ৩৩ দশমিক ২৬ শতাংশ লোকের অক্ষরজ্ঞান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন লোক রয়েছে বরিশালে। ওই বিভাগের ৪৯ শতাংশ বস্তিবাসীর অক্ষরজ্ঞান রয়েছে। এরপর রয়েছে রংপুরে ৪৩ শতাংশ। খুলনা বিভাগের বস্তিবাসীর মধ্যে অক্ষরজ্ঞান রয়েছে ৩৮ দশমিক ৫৪ শতাংশের। চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৪ দশমিক ৮১ শতাংশ, ঢাকা বিভাগের ৩০ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগের ২৬ দশমিক ১১ শতাংশ বস্তিবাসী অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন।
সারাদেশের বস্তিবাসীর মধ্যে ৮৪ দশমিক শূন্য ৭ ভাগ ভূমিহীন, ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ জমির মালিক। বস্তিবাসীর মধ্যে ৯২ দশমিক ৬৬ শতাংশ মুসলিম, ৬ দশমিক ৭৩ ভাগ হিন্দু রয়েছে।
Rain1বস্তিতে বসবাসকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ গৃহবধূ। ১৩ দশমিক ৩৩ ভাগ ছাত্র, গার্মেন্টসকর্মী ১৩ দশমিক ১৮ ভাগ, ব্যবসায়ী ৭ দশমিক ৫৮ ভাগ, রিকশাচালক ৬ দশমিক ৯২ ভাগ, চাকরিজীবী ৬ দশমিক ৭১ ভাগ এবং ৬ দশমিক ৪১ ভাগ গৃহকর্মী।
২৯ শতাংশ ধূমপায়ী
বাংলাদেশের ২৯ দশমিক ৫৮ ভাগ মানুষ ধূমপান করেন। এর মধ্যে ৩৮ দশমিক ৬৫ ভাগ পুরুষ এবং ২০ দশমিক ৪৪ ভাগ নারী।
বিবিএসের ‘হেলথ এÐ মরবিডিক স্ট্যাটাস সার্ভে ২০১৪’ শীর্ষক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়। ‘বস্তি শুমারি ও ভাসমান লোক গণনা’ শুমারির পাশাপাশি এই জরিপ চালানো হয়।
প্রকল্প পরিচালক জাফর আহাম্মদ বলেন, দেশের ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ লোক মদ পান করে। গাঁজা সেবন করে শূন্য দশমিক ৩১ ভাগ মানুষ। শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ লোক ফেনসিডিল পান করে। হেরোইন ও ইয়াবাসেবী শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

Posted in জাতীয় | Comments Off on বাড়ছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা

জালনোট শনাক্তে এফবিসিসিআই’র ২শ’মেশিন বিতরণ

download (3)স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ঈদ সামনে রেখে জাল নোটের বিস্তার রুখতে ব্যবসায়ীদের মাঝে ২শ’ জালনোট শনাক্তকারী মেশিন বিতরণ করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি (এফবিসিসিআই)। রাজধানীর এফবিসিসিআই ভবনে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এসব মেশিন। মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, সরকার প্রতি বছরই জালনোট শনাক্ত করার জন্য নানা উদ্যোগ নেন। কিন্তু জালনোটের সাথে জড়িত চক্রটি খুব শক্তিশালী হওয়ায় সরকার এর প্রভাব কমাতে পারছে না। তা এই মেশিনগুলো মার্কেটের ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যেন প্রয়োজনে যেকোনো সময় তারা সন্দেহজনক টাকা পরীক্ষা করতে পারেন।
এফবিসিসিআই এর সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, এসব মেশিনের দাম দেড় হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা নিজেরাই এ মেশিনটি কিনতে পারেন। ব্যবসায়ীদের হাতে জালনোট ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে এ সময় প্রশাসনের প্রতি আহŸান জানান তিনি। জালনোট শনাক্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সময় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. আবুল কাশেম।

Posted in ব্যবসা-অর্থনীতি | Comments Off on জালনোট শনাক্তে এফবিসিসিআই’র ২শ’মেশিন বিতরণ

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ইস্যু গঠন ১৪ জুলাই

1420456889স্টাফ রিপোর্টার : সোনালী ব্যাংকে ড্যান্ডি ডাইংয়ের ৪৫ কোটি টাকা ঋণখেলাপি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ইস্যু গঠনের জন্য ১৪ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার অর্থঋণ আদালত-১ এর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস এ দিন ধার্য করেন। গতকাল এই মামলার ইস্যু গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা সমনের জবাব দিতে না পারায় তার আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেজবাহ সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ইস্যু গঠনের জন্য ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেন।
এর আগে আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ায় ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক অংশীদারিত্ব মামলায় তার মা খালেদা জিয়া, স্ত্রী শার্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে বিবাদী করার জন্য ২০১৫ সালের ৮ মার্চ আদালতে আবেদন করে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ ঢাকার অর্থঋণ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোকসানা আরা হ্যাপী এ মামলায় তাদের বিবাদী করেন।
চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে মারা যান।
এ মামলায় অন্য বিবাদীরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার মামা প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের ছেলে শামস ইস্কান্দার ও সাফিন ইস্কান্দার, মেয়ে সুমাইয়া ইস্কান্দার ও স্ত্রী বেগম নাসরিন আহমেদ, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন (অন্য মামলায় বর্তমানে কারাগারে), মামুনের স্ত্রী শাহীনা ইয়াসমিন, কাজি গালিব আহমেদ, মিসেস শামসুন নাহার, মাসুদ হাসান। আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রæয়ারি বিবাদীরা ড্যান্ডি ডাইংয়ের পক্ষে সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। এরপর ওই বছরের ৯ মে সোনালী ব্যাংক বিবাদীদের আবেদনে উল্লেখ করা ঋণ মঞ্জুর করে। ২০০১ সালের ১৬ অক্টোবর বিবাদীদের আবেদনক্রমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাদের সুদ মওকুফ করে। পরবর্তীতে বিবাদীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক আবারও ঋণ পুনঃতফসিলীকরণও করে দেয়। কিন্তু বিবাদীরা ঋণ পরিশোধ না করে বারবার কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
২০১০ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য বিবাদীদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ঋণ পরিশোধ করেননি। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণখেলাপীর অভিযোগে ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখার সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ইস্যু গঠন ১৪ জুলাই

ব্যাংক জালিয়াতরা ছাড় পাবে না

1416844510স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বরাদ্দের বিরুদ্ধে আটজন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন। আনা ছাঁটাই প্রস্তাবে জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র আটজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন। তাদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা-বিশ্বাস অর্জন খুব জরুরি। যখন আস্থার ঘাটতি দেখা যায়, তখনই সমস্যা হয়। সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আগে কেউ স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারেনি। কিন্তু আমরা ছাড় দেইনি। মামলা করেছি, জড়িতদের জেলে নিয়েছি, বিচারের মুখোমুখি করেছি। এরা কেউ ছাড় পাবে না।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের উপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনাকালে একথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সোনালী ব্যাংকের ঘটনায় একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জেলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, উনি জেলেই মারা গেছেন। আরেকজন এমডি জেলে রয়েছেন। জালিয়াতির আসামিদের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়, আর যে ঋণ দেয়- তারা সমান দায়ী।
বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ওই পর্ষদ বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুসন্ধান রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্টলোকেরা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দের বিরুদ্ধে ছাঁটাই প্রস্তাবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হলো। কারা টাকা লুটপাট করলো তাদের নামটা অন্তত পত্রিকায় দেন। দুর্নীতিবাজ মানুষ নামের অমানুষগুলোর একটা বিচার করেন। এভাবে শুধু বলে লাভ কি?
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, জালিয়াতির কথা বললেই অর্থমন্ত্রী বলেন আমার হাত অত বড় না। জালিয়াত চক্রের হাত অনেক বড়। তা হলে আপনি হাত বড় করেন না কেনো? এভাবে তারা ছাড় পেয়ে গেলে বাজেট পাস করে লাভ হবে কি?
এরআগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খাতে ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব উপদেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো অদ্ভুত উপদেশ। সংসদ সদস্যরা ভুল পরামর্শ দিয়েছেন। তাই এ মন্ত্রণালয়ের টাকা কমাতে পারছি না। আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার বৈষম্যের পরিত্রাণ চাই। এজন্য ২০১০ সালে ৬২ শতাংশ বেতন-ভাতা বাড়িয়েছি। আগামি কয়েক মাসের মধ্যে যে বেতন দিতে যাচ্ছি, তাতে আর জনপ্রশাসনে অসন্তোষ থাকবে না। মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করে। বেসরকারি খাতের সমান বেতন সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো দিনই হয় না।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on ব্যাংক জালিয়াতরা ছাড় পাবে না

৩৬৪ আইন ব্রিটিশ ভারত পাকিস্তান আমলের

ANISU-01-1425546081স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলে প্রণীত প্রায় ৩৬৪টি আইন এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রযোজ্য সব আইনকে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে জারি করা ষধংি ঈড়হঃরহঁধহপব ঊহভড়ৎপবসবহঃ ড়ৎফবৎ দিয়ে একই তারিখে জারি করা চৎড়পষধসধঃরড়হ ড়ভ ওহফবঢ়বহফবহপব এর বিধান সাপেক্ষে অব্যাহত রাখা হয়।
পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে অব্যাহত থাকা ওই আইনগুলোকে হেফাজত করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পূর্বে ত?ৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রচলিত ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলে প্রণীত প্রায় ৩৬৪ আইন এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রণীত ইধহমষধফবংয খধংি ( জবারংরড়হ ধহফ উবপষধৎধঃরড়হ) অপঃ,১৯৭৩ (অপঃ ঘড়ারর ১৯৭৩) প্রণয়নের মাধ্যমে স্বাধীনতাপূর্ব আইনগুলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও অভিযোজন করে বহাল রাখা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনগুলো এ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন। কোনো মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আইনকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখীকরণের জন্য সুর্নিদিষ্ট আকারে প্রস্তাব পাঠানো হলে এ মন্ত্রণালয় থেকে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে এ মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন একটি স্বাধীন আইন কমিশন আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা নতুন আইন প্রণয়ণের জন্য সুপারিশ করতে পারে। আইন কমিশন আইন সম্পর্কে গবেষণা করে সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন আইন আধুনিকায়ন, বাস্তবমুখী করার জন্য সংশোধন ও প্রণয়ন করা হয়।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on ৩৬৪ আইন ব্রিটিশ ভারত পাকিস্তান আমলের

বাসের অগ্রিম টিকিট ৩ জুলাই

ghore_18390স্টাফ রিপোর্টার : ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামি ৩ জুলাই থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সোমবার রাতে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গাবতলী কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ১০ জুলাই এবং ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামি ৯ জুলাই থেকে।
বাস মালিকরা ১২ রমযান থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে আগ্রহী ছিলেন। তবে ১২ রমযান গতকাল মঙ্গলবার হওয়ায় তা পেছানো হয়। এ ক্ষেত্রে ৩ জুলাই শুক্রবার থেকে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৬০টির বেশি রুটে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গাবতলী, কল্যাণপুর ও শ্যামলীর বিভিন্ন কাউন্টার থেকে পরিবহন সার্ভিসগুলো এ টিকিট বিক্রি করবে। তবে গতবারের মতো সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে কোনো অগ্রিম টিকিট দেওয়া হবে না।
বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘৩ জুলাই অর্থাৎ ১৫ রমযান সকাল থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। তবে কোনো কোম্পানি আগ্রহী থাকলে আগেও টিকিট বিক্রি শুরু করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত যে ভাড়া আছে, তা-ই নেয়া হবে। এর চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হবে না। যদি কেউ বেশি ভাড়া নেয়, তা হলে সমিতির পক্ষ থেকে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করবে ১০ জুলাই থেকে। শীঘ্রই এ বিষয়ে বৈঠক করে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ ছাড়া ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে ৯ থেকে ১৩ জুলাই। ৯ জুলাই বিক্রি হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকিট, ১০ জুলাই বিক্রি ১৪ জুলাইয়ের, ১১ জুলাই ১৫ জুলাইয়ের, ১২ জুলাই ১৬ জুলাইয়ের ও ১৩ জুলাই বিক্রি হবে ১৭ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকিট। ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে এই অগ্রিম টিকিট অগ্রিম বিক্রি হবে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, একজন যাত্রী চারটির অধিক টিকিট কিনতে পারবে না। এ ছাড়া বিক্রীত টিকিট ফেরত নেয়া হবে না। পাশাপাশি ঈদ পরবর্তী ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামি ১৬ জুলাই থেকে। ওইদিন বিক্রি হবে ২০ জুলাইয়ের টিকিট, ১৭ জুলাই ২১ জুলাইয়ের, ১৮ জুলাই ২২ জুলাইয়ের, ১৯ জুলাই ২৩ জুলাইয়ের ও ২০ জুলাই ২৪ জুলাইয়ের ফিরতি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে। রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন হতে বিশেষ ব্যবস্থায় ফিরতি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে।

Posted in জাতীয় | Comments Off on বাসের অগ্রিম টিকিট ৩ জুলাই

ঈদকে সামনে রেখে অবাধে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল

lunchস্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশে শত শত ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীবাহী লঞ্চল চলাচল করছে। অর্থের বিনিময়ে এসব লঞ্চকে ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটের মাধ্যমে চলাচলের সুযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপুর্ণ ওসব লঞ্চে নেই দক্ষ ও যোগ্য চালকও। ফলে বর্ষাকালে নৌদুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। মূলত সমুদ্রপরিবহন অধিদফতর ও বিআইডবিøউটিএ-এর এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাই অর্থের বিনিময়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানকে কাগুজে বৈধতা দিয়ে যাত্রীদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জনবল সঙ্কটের দোহাই দিয়ে দুর্নীতিবাজ ওসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে বর্তমানে ৫ শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। তার মধ্যে অধিকাংশই অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ১০ হাজার থেকে লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়াররা ঝুঁকিপূর্ণ এসব লঞ্চের ফিটনেস সনদ দিচ্ছে। আর ওই সদন অনুযায়ী রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিøউটিএ) ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। এখানেও বড় অংকের টাকা লেনদেন হচ্ছে। মূলত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী লঞ্চ মালিকদের অনৈতিক কাজের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চগুলো চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকারি হিসাবে ১৯৭৬ সাল থেকে চলতি জুন পর্যন্ত গত ৪০ বছরে দেশে ৫৬৭টি বড় নৌ দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৫ জন। আর নিখোঁজ হয়েছে আরো প্রায় ৫শ জন। তাছাড়া আহত হয়েছে প্রায় ৪৬২ জন। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে দেশে নৌদুর্ঘটনা ও তাতে হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাব থেকে অনেক বেশি। এসব নৌদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছেই দুর্নীতিবাজ চক্রের অসাধু কর্মকাÐ।
সূত্র জানায়, দেশে সংঘটিত বড় বড় নৌদুর্ঘটনার পর পরই সরকারের তরফ থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ওসব কমিটির প্রতিবেদনে আনফিট লঞ্চ চলাচল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে। একই সাথে বেরিয়ে আসে চালকের অদক্ষতা ও অযোগ্যতার তথ্যও। কিন্তু স্বল্পসময়ের মধ্যেই ওসব ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। নামকাওয়াস্তে জেল-জরিমানার সম্মুখীন হন লঞ্চ মালিক ও চালক। আর দায়ী সরকারি কর্মকর্তারা থাকেন বহাল-তবিয়তে। ফলে কিছুদিনের মধ্যে নৌপথে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। পুনরায় শুরু হয় ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল। আর এসব নৌদুর্ঘটনায় বলির পাঠা হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। সরকারি হিসাবে দেশজুড়ে ছোট-বড় যাত্রীবাহী লঞ্চের সংখ্যা সাত শতাধিক। তারমধ্যে পাঁচশতাধিকই লঞ্চই ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর গত ১৫ বছরে লঞ্চ দুর্ঘটনার ধরন ও কারণ পর্যালোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চিহ্নিত করেছে। সে হিসাবে ৭০ শতাংশের বেশি লঞ্চই ত্রæটিযুক্ত। তারমধ্যে সানকেন ডেক (লঞ্চের নিচের ডেক নদীর পানির লেভেল বরাবর অথবা নিচে থাকে) বিশিষ্ট আড়াইশ লঞ্চ অতি ঝুঁকিপূর্ণ। আর এক ইঞ্জিনচালিত দুই বা আড়াই তলা বিশিষ্ট লঞ্চ রয়েছে দু’শতাধিক। যা ত্রæটিযুক্ত লঞ্চ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ধরনের নৌযানগুলো ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, রাঙ্গামাটি, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশে এবার বর্ষা মৌসুমে দেশে ঈদ উদযাপিত হবে। ইতিমধ্যে ঈদকে ঘিরে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বাড়তি ট্রিপের আয়োজন সম্পন্ন করছে। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে ভাঙা লঞ্চ। বাইরের দিকে নতুন রংয়ের আঁচড় পড়ছে। সামনের অংশ সাজানো হচ্ছে নতুন ফার্নিচার দিয়ে। একই সাথে গুছিয়ে আনা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রও সংগ্রহও। গত বছরও একইভাবে ত্রæটিপূর্ণ নৌযানগুলোকে সাজিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। সেবার ঈদের পর (৪ আগস্ট) মাওয়ার পদ্মায় আনফিট লঞ্চ এমএল পিনাক-৬ ডুবে ১১০ যাত্রীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হয়।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচলের বিষয়টি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্বীকার করে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যা-প) সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহাবুব উদ্দীন আহমদ বীর বিক্রম জানান, স্বল্প দূরত্বের পথগুলোতে ছোট লঞ্চগুলো চলাচল করছে। ওসব রুটে যে সংখ্যক যাত্রী ও যে পরিমাণ মাল বহন করা হয়, আর্থিক বিবেচনায় তা লাভজনক নয়। তবুও জনস্বার্থে মালিকদের বড় লঞ্চ তৈরিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাদের বলা হয়েছে ছোট লঞ্চের বিপরীতে বড় লঞ্চ প্রতিস্থাপনের সুযোগ দেয়া হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশাসনের সামনে অবৈধ স্পিড বোট, ট্রলার ও ফিশিংবোটে যাত্রী বহন করা হয়। এতে লঞ্চের যাত্রী কমে যাচ্ছে। মালিকেরা বড় লঞ্চ নামানো লাভজনক মনে করছেন না।
অন্যদিকে বিরূপ আবহাওয়ায় সানকেন ডেক বিশিষ্ট আড়াইশ লঞ্চ অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০-৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে যাত্রীবাহী এসব নৌযানগুলোর বেশিরভাগই ৭০-এর দশকে কাঠের লঞ্চ হিসেবে তৈরি করা হয়। পরে তা স্টিল বডিতে রূপান্তর করা হয়। নৌযানের উপরের অংশের তুলনায় ড্রাফট খুবই কম, দোতলা হওয়ার কারণে পানির ওপরের অংশে ওজন বেশি থাকে। ফলে অল্প ধাক্কা বা উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে তা উল্টে যায়। এসব লঞ্চের কেবিন ও নিচের ডেকের যাত্রীরা বের হতে পারেন না। ফলে প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। পদ্মার শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার মতো গুরুত্ব পয়েন্টে চলাচল করছে ছোট ছোট শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ। এছাড়াও আরিচা-নগরবাড়ি, নরসিংদী-নবীনগর, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ-চাঁদপুর, বরিশাল-ভোলা ও ঝালকাঠি, খুলনা-পিরোজপুর এবং ভৈরব-সাচনা রুটে এসব লঞ্চ চলাচল করছে। ২০১৪ সালে পদ্মায় এমভি পিনাক ডুবে ১১০ জন যাত্রীর মৃত্যু ও অনেকে নিখোঁজ হন। একই বছর পটুয়াখালীর রামনাবাদ নদীতে এমভি সাথিল-১ লঞ্চ ডুবে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ দুটি সানকেন ডেক বিশিষ্ট ছোট লঞ্চ। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় মাঝারি ও বড় আকারের লঞ্চও রয়েছে। এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট দুই বা আড়াই তলার দুই শতাধিক লঞ্চ রয়েছে। এগুলোর দৈর্ঘ্য ৩১-৫০ মিটার। এর অধিকাংশ ২০০৬ সালের আগে তৈরি। ওই সময় বিআইডবিøউটিএ জাহাজের ডিজাইন অনুমোদন করেছে। একই ডিজাইনে নাম পরিবর্তন করে একাধিক লঞ্চ তৈরি করা হয়। এসব লঞ্চের ড্রাফটের তুলনায় উপরিভাগের ওজন বেশি এবং এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট হওয়ায় ঝড়ো হাওয়ায় অথবা অল্প ধাক্কায় সহজে ডুবে যায়। এগুলো ঢাকা-শরীয়তপুর, ঢাকা-বরিশাল, পাতারহাট এবং ঢাকা-মতলব, ইছলী ও চাঁদপুর রুটে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালীসহ অন্য রুটগুলোতে চলাচলকারী অনেক বড় লঞ্চে ডিজাইনবহির্ভূত অবকাঠামো ও কেবিন আছে । এসব অবকাঠামো জাহাজকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে- দেশজুড়ে চলমান লঞ্চগুলোর বেশিরভাগই আনফিট। এগুলোয় কোনো না কোনো ত্রæটি রয়েছেই। বিভিন্ন সার্ভেতে তা ধরাও পড়ছে। তবুও এসব লঞ্চকে ফিটনেস সনদ দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি লঞ্চ বছরে একবার ফিটনেস পরীক্ষা করার কথা। বছরব্যাপী ফিটনেস বজায় থাকছে কিনা তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ডিজি শিপিংয়ের পরিদর্শকদের। কিন্তু দেশের ৯ হাজার ৮৫২টি রেজিস্ট্রিকৃত নৌযানের জন্য মাত্র ৪ জন সার্ভেয়ার ও ৪ জন পরিদর্শক রয়েছেন। সর্বনিæ ১০ হাজার থেকে লাখ টাকার বিনিময়ে অফিসে বসেই ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছেন সার্ভেয়াররা। ফলে আনফিট লঞ্চ সহজেই অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি অদক্ষ ও অযোগ্যদের হাতে তুলে দেয়া হয় লঞ্চ পরিচালনার দায়িত্ব। এ কারণে দুর্ঘটনার হারও বাড়ছে। ৩০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চালক হিসেবে সনদ দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে পাটুরিয়ার পদ্মায় ডুবে যাওয়া এমভি মোস্তফা লঞ্চের দুর্ঘটনার জন্য চালকের অদক্ষতাকে দায়ী করা হয়। দিন-দুপুরে এ দুর্ঘটনায় ৮১ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর আগে গত বছর মুন্সীগঞ্জের রসুলপুরে মেঘনা নদীতে এমভি মিরাজ-৪ লঞ্চ ডুবে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার জন্য লঞ্চচালক রফিকুল ইসলামকে দায়ী করা হয়েছে।
সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর এম জাকিউর রহমান ভূঁইয়া ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচলে অনুমোদন প্রসঙ্গে বলেন, অনেক ছোট ছোট লঞ্চ চলাচল করছে সত্য। এগুলোর কাঠামোও ভালো নয়। হঠাৎ করে এসব লঞ্চ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এগুলো স্বল্প দূরত্বের নৌপথে চলাচল করছে। ওই পথে বড় আকারের লঞ্চ নেই। বিকল্প ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এসব লঞ্চ বন্ধ করলে যাত্রী চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কিছু লঞ্চ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

Posted in জাতীয় | Comments Off on ঈদকে সামনে রেখে অবাধে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল

সাক্ষ্য বাতিলে খালেদার আবেদন খারিজ

1420456889স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বাদী ও ১নং সাক্ষী হারুন-অর-রশীদের সাক্ষ্য বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। এ আবেদনের ওপর চারদিন শুনানি করে ২৫ জুন রায়ের জন্য গতকাল দিন ধার্য করেন আদালত।
আদালতে খালেদার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মাদ আলী, বারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। তাদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন প্রমুখ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, দুদুকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
আসামির অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য না নেয়ার আবেদনের পরেও আদালত হারুনের সাক্ষ্য নেয়ায়, তা বাতিল চেয়ে গত ১৪জুন আবেদন করেন খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ওই আবেদনের ওপর সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার পরপর চার দিন শুনানি করা হয়।
এর আগে গত ২৫ মে হারুনের সাক্ষ্য বাতিল চেয়ে বিশেষ জজ আদালতে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বিশেষ জজ আদালতে ওই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর খারিজাদেশের বিরুদ্ধে খালেদা হাইকোর্টে আসেন ১৪ জুন।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on সাক্ষ্য বাতিলে খালেদার আবেদন খারিজ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud