পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সমালোচনায় সুরঞ্জিত

522ae56d46e47-Suranjitস্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে হাউজ অব কমন্সে আলোচনা করায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কি হয়েছে তা ব্রিটিশ সরকার আমাদের সরকারকে বলবে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে সেখানে বলতে পারে। কিন্তু পার্লামেন্ট টু পার্লমেন্ট এভাবে সমালোচনা করতে পারে না। এটা পৃথিবীর কোথাও নেই। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সুরঞ্জিত।
তিনি বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে এ পার্ল?ামেন্ট তৈরি করেছি। বাংলাদেশে কি হয়েছে, যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে? আমরা হাউজ অব কমন্সকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি। এক পার্লামেন্টের আরেক পার্লামেন্টের মধ্যে সর্ম্পক হবে শ্রদ্ধাশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ। হাউজ অব কমন্সকে আমরা মাদার অব পার্লামেন্ট বলে থাকি। কিন্তু ১৭ জুন হাউজ অব কমন্সের চেম্বারে আইন প্রণয়ন ছাড়া ওয়েস্ট মিনিস্টারের ৩০ নম্বর বৈঠকে একটা রঙ ব্রিফিং হোল্ড করে কতগুলো ভুল ইস্যু নিয়ে আলোচনা করলো। এক রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেক রাষ্ট্রের একটা সম্পর্ক আছে। সেখানে কিছু পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু এভাবে এক পার্লামেন্ট আরেক পার্লামেন্টের বিষয় নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলতে পারে না।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে সুরঞ্চিত বলেন, আপনি কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সভাপতি। তাই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি বিষয়টি তুলবেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার এবং আইনের শাসন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। মূলত এ বিষয় নিয়েই সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সমালোচনা করেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সমালোচনা করে সুরঞ্জিত বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর তো একটা টু শব্দও করেনি। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইনডেমনিটি জারি করে হত্যার বিচার বন্ধ করে দেন তাতেও কোনো কথা বলেনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। জিয়াউর রহমান হ্যা-না ভোট দিয়ে ৯৮ শতাংশ ভোট কাস্টিং দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করলো। কই তখন তো কিছু বলেনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট?
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কি হয়েছে? যদি কিছু হয়ে থাকে তা হলে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে সেখানে বলতে পারেন। কিন্তু এভাবে পার্লামেন্ট টু পার্লমেন্ট বলতে পারে না। আমারা হাউজ অব কমন্সকে মাদার অব দি পার্লামেন্ট বলি। আমরা হাউজ অব কমন্সকে রেসপেক্ট করি। এতে পার্লামেন্টের ডিগনিটি নষ্ট হয়। আমাদের মানবাধিকার কমিশন শ্রেষ্ঠ কমিশন। আমাদের দুদক রয়েছে তারা তাদের নিজস্ব মতাদর্শে চলে। এখন মন্ত্রী এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সরকারের অনুমতি লাগে না। আগে সরকারের অনুমতি নিয়ে মামলা করতে হতো। আমাদের সরকারের স্বচ্ছতার জন্য অনেক মন্ত্রী-এমপির পদত্যাগের নজির রয়েছে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে। ৫৫/৫৬ হাজার কোটি টাকা যদি খেলাপি ঋণ হয়, তা হলে আলাপি ঋণ কত? আলাপি ঋণ মানে যেগুলোর কোনো হদিস নেই। হলমার্ক গেল, সোনালী, রুপালী ব্যাংকের ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা গেছে। বেসিক ব্যাংক তো বেসিক হয়ে গেছে। এসব খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারলে বাজেট দিয়ে কি হবে?
অর্থমন্ত্রীকে খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থ আদালতে মামলা করার আহŸান করেন সুরঞ্জিত। একই সঙ্গে ব্যাংকিং কমিশন করে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিও করেন তিনি। সুরঞ্জিম সেন গুপ্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান। মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে মন্ত্রীরা অনেকে অনেক কথা বলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি অনুগত। আমি নির্বাচন করতে পারব কি পারব না। এই সিদ্ধান্ত সংসদ দিতে পারে না। এজন্য নির্বাচন কমিশন, উচ্চ আদাল ও সংবিধান রয়েছে। মন্ত্রীদের কথা বলার সময় সর্তক হয়ে কথা বলা উচিত। মন্ত্রীরা যে যে দলেরই থাকেন আপনাদের আলাদা আলাদা এজেন্ডা থাকতে পারে। এবং আপনারা যা ইচ্ছে বলতে পারেন। কিন্তু এমন কিছু বলবেন না যেন আমাদের বিব্রত হতে না হয়। যেহেতু আপনারা মন্ত্রী আপনাদের বক্তব্যের দায় প্রধানমন্ত্রীর উপর বর্তায়। খালেদা জিয়ার বিচারে কি হবে। ২১ আগষ্ট, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তার কি শাস্তি হবে সেটা আদালত বুঝবে।
উল্লেখ্য শনিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আগামি নির্বাচনে খালেদা জিয়া বাদ এবং তার (খালেদার) আদালতের বারান্দায় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করায় এসব কথা বলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সমালোচনায় সুরঞ্জিত

নারী নেত্রীদের ‘শোপিস’ বলে আখ্যায়িত করলেন এরশাদ

hussain-mohammod-ershad-jatiyo-partyস্টাফ রিপোর্টার : নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে এর আগে জাতীয় সংসদে একাধিকবার দাবি জানালেও ‘নিজেরা যে ক্ষমতাহীন’ তা মানতে নারাজ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা। এ কারণেই গতকাল সোমবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন তাদেরকে ‘শোপিস’ বলে আখ্যায়িত করলেন তখন চিৎকার করে সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ জানালেন তারা। আর তখন বরাবরের মতোই পুরুষ সদস্যরা মুচকি হাসি নিয়ে বসে ছিলেন নিজ আসনে। এরশাদ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন। আর এ মন্তব্য করে তাৎক্ষণিকভাবে নারী সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় সংসদে সভাপতির আসনে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদও অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এরশাদ তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেন,আমরা কথায় কথায় বলি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, সংসদ উপনেতা নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, কিন্তু এরা শোপিস। এরা কিন্তু শোপিস। বাইরে কিন্তু এই অবস্থা নেই। বাইরে নারীরা অসহায়। তিনি এ মন্তব্য শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিক থেকে নারী সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। তবে তাতেও থেমে যাননি এরশাদ। তিনি তার বক্তব্য ফের বলেন, ‘বাইরে কিন্তু নারীরা অসহায়। মনে আছে ২১ ফেব্রæয়ারিতে রাতের বেলার কথা। নারীরা শহিদ মিনারে থাকেন না, যায় না। কোনো নারী সেখানে যায় না। কেননা ভয়ে যায় না। আমি যদি ভুল কোনো কথা বলে থাকি তা হলে উথড্রো করলাম। কথা হলো মধ্যরাতে নারীরা সেখানে যেতে ভয় পায়। কেন ভয় পায়?’
তখনও নারী সদস্যরা এর প্রতিবাদ করতে থাকলে এরশাদ তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বসুন মাননীয় সদস্য বসুন, নিরবতা পালন করুণ। পহেলা বৈশাখের কথা মনে আছে? আমি ছিলাম না। এদেশের সংস্কৃতি, সবাই মিলে আনন্দ করা। সেখানে যা হয়েছিল তা নিয়ে কি বিচার হয়েছে? ভিডিওতে যার যার ছবি এসেছিল তাদের বিচার হয়নি। আমার সময়ে একটি নারীকে অ্যাসিড ছোড়া হয়েছিল, তাকে আমি ফাঁসি দিয়েছিলাম। যে কারণে অ্যাসিড ছোড়া কমেও গিয়েছিল।’
এরশাদের বক্তব্য শেষ হলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন,নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাননীয় সদস্য যেসব অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন সেগুলো এক্সপাঞ্জ করা হলো।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on নারী নেত্রীদের ‘শোপিস’ বলে আখ্যায়িত করলেন এরশাদ

এরশাদের জন্য ক্ষমা চাইলেন রওশন

tmpphpP91zhcস্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নারী সংসদ সদস্যদের ‘শোপিস’ আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেয়ায় ক্ষমা চাইলেন তার সহধর্মীনি ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে শুরুতেই তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং নারী সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি তার (স্বামীর নাম মুখে না নিয়ে কিছুটা লাজুকভাব নিয়ে) বক্তব্যে আন্তরিকভাবেই দুঃখিত। হয়তো তার শব্দ চয়নটি ঠিক ছিল না। আমি এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
বিরোধী দলীয় নেতার এ বক্তব্যে টেবিল চাপড়িয়ে সাধুবাদ জানান নারী সংসদ সদস্যরা। আর পাশের চেয়ারে বসা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তখন মুচকি হাসছিলেন।
প্রসঙ্গত, এরশাদ কিছুক্ষণ আগে জাতীয় সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সকল নারী সদস্যদের ‘শোপিস’ বলে আখ্যায়িত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান উপস্থিত নারী সদস্যরা। পরবর্তীতে স্পিকার এরশাদের বক্তব্যের অসংসদীয় শব্দগুলো ‘এক্সপাঞ্জ’ করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘নারীরা আসলেই পিছিয়ে। যদি কোনো নারীর ৩০ শতাংশ সম্পত্তি থাকে, তার ২৯ শতাংশ পৈত্রিক ও বাকি ১ শতাংশ অর্জন। তবে এখন মেয়েরা চাকরি, ব্যবসা করে নিজেদের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করতে সক্ষম হচ্ছে।’ রওশন তার অনান্য দাবির সঙ্গে ‘নারীদের জন্য পৃথক ব্যাকিং ব্যবস্থা চালু’ করার দাবি জানান।
এছাড়া একাত্তরে নির্যাতিত নারীদের ‘বিরাঙ্গনা’র বদলে মুক্তিযোদ্ধা নামে ডাকার আহŸান জানান। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রওশন এ বিষয়ে বলেন, ‘তারা তো মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হয়েছেন। তাদেরকে কেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ডাকা হয় না; তাদের পাশ থেকে ‘বিরাঙ্গনা’ শব্দটি উঠিয়ে ফেলতে হবে। ওই সময় নির্যাতিত মা-বোনদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ডাকতে হবে। এবং মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ-সুবিধাও তাদের দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on এরশাদের জন্য ক্ষমা চাইলেন রওশন

এ বাজেট আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণের পথ সুগম করবে

23-06-15-PM_Parliament-1স্টাফ রিপোর্টার : আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট জ্বালাও পোড়াও না চালালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৩% অর্জন সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।তিনি সোমবার সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ বাজেট জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণের পথ সুগম করবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।শত প্রতিকুলতার মাঝেও ভোট দিয়ে এ সরকারকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণ এ সরকারকে নির্বাচিত না করলে এ বাজেট উপস্থাপন সম্ভব হতো না।সপ্তমবারের মতো বাজেট উপস্থাপন করায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তার এ বাজেট বাংলাদেশকে প্রতি পদে পদে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে বাংলাদেশকে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে বাঙালি জাতিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আজ আর কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফর তথ্যমতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১ বছরের ব্যবধানে ৫৮তম স্থান থেকে ১৪ ধাপ এগিয়ে এখন ৪৪তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অর্থনৈতিকভাবে তারা স্বাবল¤ি\^তার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রয় ক্ষমতার যে সমতা ভিত্তিতে বাংলাদেশ ২০১৩ সালের ৩৬তম অবস্থান থেকে তিন ধাপ এগিয়ে ২০১৫ সালে ৩৩তম অবস্থানে এসেছে। বাংলাদেশ স্বাবল¤ি\^তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলেই এবার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১শ? কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে পেরেছে। ৬ বছরে বাজেটের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।তিনি বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। বিগত অর্থবছরে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য, লাগাতার ৩ মাস হরতাল-অবরোধের পরেও সরকার বাজেটের ৯৫.৬৭ ভাগ বাস্তবায়ন করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের কল্যাণের জন্য এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জনগণের সেবা এবং জনগণের জন্য কাজ করাই হচ্ছে এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য। আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। সে প্রত্যাশা পূরণই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করে, তখন দেশে বিনিয়োগ বাড়ে, অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, গরীব মানুষের উন্নয়ন হয়। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে।তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশের মানুষের জীবনে দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসে। ২১ বছর মানুষ অনেক কষ্ট করেছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন মানুষ বুঝতে পারে, জনগণের জন্য সরকার কাজ করে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল স্বর্ণ যুগ। পরবর্তী ৭ বছর দেশের মানুষের জীবনে আবারও অমানিষার অন্ধকার নেমে আসে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের আর্থ-সামাজিক সূচকে বর্তমান সরকার সাফল্য অর্জন করেছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালে ছিল ৪০ শতাংশ, ২০১৫ সালে তা ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অতি দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অতি দারিদ্র্যদের সরকার বিনামূল্যে খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও গত ৫ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং এ বছর তা ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতি এখন ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশে রয়েছে। চলতি বছরে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়াবে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ দশমিক ৭ বছরে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে এবং মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন হয়েছে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মানুষের পুষ্টি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার মাছ, মাংস ও ডিমসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার উৎপাদন বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে বর্তমানে দেশের ৭০ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বর্তমানে ১৩ হাজার ৭২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এরপরও সোলার, পারমাণবিক ও কয়লা ভিত্তিক বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠায় নেপাল ও ভুটান থেকে পানি বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ সৃষ্টি রয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সমালোচকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব অনেক। ফলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের ওপর কোন বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। এ ক্ষেত্রে তিনি দিনাজপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত দিনাজপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না হয়, তাহলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি কিভাবে করবে। বাংলাদেশের উন্নতি অনেকের সহ্য হয় না বলেই তারা এ ধরনের সমালোচনা করেন।তিনি বলেন, বর্তমান কৃষকবান্ধক সরকার কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের বিভিন্ন উপকরণে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদনমুখী হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শেষ হবে এবং আরো ১৩টি বৃহৎ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় ১৬ হাজার ৪৩৮ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। এসব ক্লিনিকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। মাতৃমৃত্যু প্রতিহাজারে ১ দশমিক ৭ জন এবং শিশুমৃত্যু ৩৩ জনে নেমে এসেছে।তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ২৭ লাখ ২২ হাজার ৫শ? জন বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও বয়স্ক মানুষ ৪শ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছে। ৪ লাখ প্রতিবন্ধী বর্তমানে ভাতা পাচ্ছে। এ হার ৬ লাখে উন্নীত করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ১০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। ৪ হাজার ৫৪৭টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে মানুষকে তথ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ১২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ মোবাইল সিম ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ৪ কোটি ৫৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। কৃষি খাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। সারাদেশে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে হোয়াইট ওয়াশ করার পর ভারতের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেট সিরিজ জয় করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে শিগগিরই সম্মাননা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। যুব সমাজকে শেয়ারবাজার সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সার রোগীদের ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে সকল শুল্ক কর প্রত্যাহার, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফির ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৭ দশমিক ৫-এ আনা, ইউনানী ও ভেষজর ওষুধের মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহার, পোল্ট্রি শিল্পের আয়ের প্রথম ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত কর মওকুফ করে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ ও ৩০ লাখের অধিক অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার প্রস্তাব করেন। রফতানি আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ০ দশমিক ৬০ শতাংশ করার সুপারিশ করেন। মাছ চাষের ওপর অর্জিত আয়ের প্রথম ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত কর মওকুফ করে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ ও ৩০ লাখের অধিক অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার প্রস্তাব করেন।

Posted in জতীয় সংসদ, জাতীয় | Comments Off on এ বাজেট আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণের পথ সুগম করবে

বিড়ালের স্মরণে শোকসভা!

Tama_bg_216794216ফিচার ডেস্ক : জাপানে রেলওয়ের প্রতীকী ‘সুপার স্টেশনমাস্টার’ খেতাবপ্রাপ্ত লক্ষ্মীবিড়াল ‘তমা’-কে বিদায় জানিয়েছে জাপানের রেলওয়ে ও স্থানীয় শহরবাসী। রোববার রেলওয়ে স্টেশন কিশিতে কিংবদন্তি বিড়াল ‘তমা’র স্মরণে শোকসভার আয়োজন করা হয়। এ সময় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কিশি স্টেশন এলাকার স্থানীয়দের শোকাচ্ছন্ন দেখা যায়।
সামান্য বিড়াল থেকে দেবীর আসন এবং সেখান থেকে জাপানের রেলওয়ের প্রতীকী ‘সুপার স্টেশন মাস্টার’ খেতাবপ্রাপ্ত ‘তমা’ ২২ জুন (সোমবার) মারা যায়। এ সময় তার বয়স হয়েছিল ১৬ বছর। তার খ্যাতি স্থানীয় থেকে জাতীয় এবং জাতীয় পর্যায় থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
যাত্রীরা ট্রেনের টিকিট কাটতে স্টেশনে আসলে তাদের স্বাগত এবং এবং যারা স্টেশন ছেড়ে যেতেন তাদের বিদায় সংবর্ধনা দিতো তমা।

এক মাস সাইনাসে আক্রান্ত থাকার পর সোমবার প্রাণী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ‘তমা’। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর খবরে জাপানের রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশন কিশি শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রাদেশিক গভর্নর শোকবার্তা পাঠান। স্থানীয়রা ফুল হাতে ‘তমা’কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে স্টেশনে জড়ো হন।
শুধুমাত্র ‘তমা’র কারণেই স্থানীয় অর্থনীতিতে ৮.৯ মিলিয়ন ডলার (১.১ বিলিয়ন ইয়েন) যুক্ত হয়। তাকে দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সেই অখ্যাত রেলওয়ে স্টেশন কিশিতে আসতেন। এতে করে রেলওয়ের ওই স্থানীয় রুটে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যায়। তমার কারণেই, দেশবিদেশের ৫৫ হাজারের বেশি পর্যটক কিশি স্টেশনে বেড়াতে এসেছেন। এতে করে স্থানীয় মন্দা অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার হয়। স্থানীয় শহরবাসীর আর্থিক উন্নয়ন ঘটে।

২০০৭ সাল থেকে ‘তমা’ কিশি রেলওয়ে স্টেশনের সামনের একটি বেদিতে রেলওয়ের পোশাক, টুপি ও ব্যাচ পরে রেলযাত্রীদের স্বাগত জানাতো। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট নয়বছর সুপার স্টেশনমাস্টারের দায়িত্ব পালন করে তমা।

tama_749772100 (1)এদিকে, ‘তমা’র মৃত্যুতে আয়োজিত শোকসভা উপলক্ষে রোববার স্থানীয় কিশি রেলওয়ে স্টেশন শিন্ত ধর্মাবলম্বীদের আচার অনুযায়ী সাজানো হয়। এই ধর্মাবলম্বীদের অনেক ধরনের দেবদেবী আছে। এমনকী প্রাণীরাও দেবতা কিংবা দেবী হিসেবে বিবেচিত।
শোকসভায় ওয়াকামা ইলেকট্রিক রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট মিটসানুবু কোজিমা ‘তমা’কে শেষশ্রদ্ধা জানান। সেই সঙ্গে ‘তমা’র অর্জনকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

এ সময় তিনি জানান, আগামী মাস থেকে অন্য একটি বিড়াল ‘তমা’র স্থলাভিষিক্ত হবে।
তিনি বলেন, কিশি স্টেশনে যাত্রীরা তেমন একটা আসতেন না এবং এটি একটি অখ্যাত স্টেশন ছিল, যার নাম কেউ জানতেন না। কিন্তু ‘তমা’র কারণে এ স্টেশনের নাম দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। তার কারণে কিশিগাওয়া শহরের অর্থনীতির মোড় ঘুরে যায়।

তিনি আরো বলেন, ‘তমা’ আসলেই তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে।

‘তমা’কে স্মরণ করে ওয়াকামা ইলেকট্রিক রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট মিটসানুবু কোজিমা বলেন, ‘তমা’র দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় অর্থনীতিতে ৮.৯ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। এটা পুরোপুরি ‘তমা’র অর্জন; যা আগে ছিল না।
তিনি বলেন, মারা যাওয়ার আগের দিন ‘তমা’কে তিনি দেখতে গিয়েছিলেন। তাকে দেখে তমা তার কাছে এসে পায়ে নখ দিয়ে ঘষে ঘষে আদর করেছে। যখন তিনি ‘তমা’কে একটা চুমু দিতে বলেন, তখন সে তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়েছিল।

এ সময় তিনি ‘তমা’কে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে বলেন যাতে খুব দ্রুত তার দায়িত্ব পালনের ১০ বছর উদযাপন করা যায়। তার কথা শুনে তমা শুধু স্বভাবসুলভভাবে বলেছিল- মিউ।
‘তমা’ প্রতীকী ‘স্টেশন মাস্টার’ থেকে তার দায়িত্ব পালন করা শুরু করে। এরপর সে ‘সুপার স্টেশন মাস্টার’ পদে উন্নীত হয়। এরপর রোববার থেকে তাকে ‘মহামান্য আধাত্মিক স্টেশনমাস্টার’ পদে উন্নীত করা হয়। যদিও তার এই দায়িত্ব পালন শুধুমাত্রই প্রতীকী।

japan_station_cat_tama_899064273রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী জুলাই মাস থেকে ‘নিটিমা’ নামে আরেকটি বিড়াল স্টেশনমাস্টারের দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমানে এটি ‘শিক্ষানবিশী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে তমা
জাপানের কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়ায় ‘তমা’র মৃত্যু ও শোকসভার খবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় স্থান করে নিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা অ্যাসিয়েটেড প্রেস (এপি) প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে- ‘ক্যাট স্টেশনমাস্টার তমা: মনর্ড ইন জাপান, এলিভেডেট অ্যাজ গডেস।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘ইউএসএ টুডে’ শিরোনাম লিখেছে- জাপান মর্ন পাসিং অব ‘গডেস’ স্টেশনমাস্টার ক্যাট।

apan_station_cat_tama_789085901‘তমা’র মৃত্যুর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন তার অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছিল- ‘তমা দ্য ক্যাট, জাপানস কিউটেস্ট স্টেশনমাস্টার, হ্যাজ ডায়েড।
ব্রিটেনের দ্য ডেইলি মেইলও ‘তমা’কে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের বড় বড় সংবাদমাধ্যম সুপার স্টেশনমাস্টার ‘তমা’কে নিয়ে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

Posted in আন্তর্জাতিক | Comments Off on বিড়ালের স্মরণে শোকসভা!

বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ

images (4)বাংলাদেশ হইতে শেষপর্যন্ত বেসরকারিভাবে বৎসরে ৫ লক্ষ শ্রমিক নেওয়ার আশ্বাস দিল মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বর্তমানে মালয়েশিয়া সফরে রহিয়াছেন। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাহার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হইয়াছে। এই বৈঠক সূত্রেই মালয়েশিয়ার এই আগ্রহের কথা জানা গিয়াছে। ইহাতে মালয়েশিয়ার তিনটি অঞ্চলে আগামী তিন বৎসরে প্রায় ১৫ লক্ষ শ্রমিক যাইতে পারিবে। তাহাদের তিন বৎসরের ভিসা দেওয়া হইবে এবং পরবর্তীতে এক বৎসর ভিসা নবায়ন করা যাইবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হইলে তাহা মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানির অগ্রগতিতে হইবে এক মাইলফলক। বিদেশ গমনেচ্ছুকদের মধ্যে বর্তমানে যে অস্থিরতা বিরাজ করিতেছে তাহাও বহুলাংশে দূর হইবে। এই বিষয়ে ঈদের পর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হইবে বলিয়া জানা যায়।
উল্লেখ্য যে, এই ধরনের আশ্বাসের মাধ্যমে আসলে জিটুজি বা গভর্ণমেন্ট টু গভর্ণমেন্ট কর্মী পাঠাইবার উদ্যোগ মাঠে মারা গেল। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ দেশ মালয়েশিয়ায় নানা অভিযোগে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ হইয়া যায়। দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতার পর ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে এই জিটুজি বা সরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার চুক্তি করা হয়। ইহার পর মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার লোক নিবন্ধন করেন। কিন্তু দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, গত তিন বৎসরে মাত্র সাড়ে সাত হাজার কর্মী নেয় দেশটি। অথচ একই সময়ে ছাত্র ও পর্যটক হিসাবে সেখানে গিয়াছেন অন্তত এক লক্ষ লোক। আর বঙ্গোপসাগর দিয়া সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন দেড় লক্ষ লোক। সমপ্রতি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের গণকবর আবিষ্কার হইয়াছে এবং এই নিয়া আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও কম হইচই হয় নাই। প্রকৃতপক্ষে জিটুজি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ব্যর্থতার কারণেই এই উদভূত ও অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছে বলিয়া বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। ইহার পরই বাংলাদেশ সরকার আবার বেসরকারিভাবে লোক নেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করে। এই প্রক্রিয়া আসলে বিজনেস টু বিজনেস বা বিটুবি নামে পরিচিত।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের পর বাংলাদেশের জনশক্তির সবচাইতে বড় বাজার হইল মালয়েশিয়া। কিন্তু অভিবাসন ব্যয় কমানো ও নানা রকম প্রতারণা বন্ধ করিতেই জিটুজি বা সরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন হইতেই বেসরকারি উদ্যোক্তা ও এজেন্সিগুলি প্রমাদ গুনিতে থাকে। কেননা ইহাতে তাহাদের চাকুরী ও কর্মসংস্থানের ওপর আঘাত আসে। তাহাদের অস্তিত্বই পড়ে হুমকির মুখে। অন্যদিকে সরকারিভাবে লোক পাঠানোয় কালক্ষেপণ ও পর্যাপ্ত লোক পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত অনেক কর্মীও শেষপর্যন্ত হতাশ হইয়া পড়ে। তাহারা অবৈধভাবে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়া বিমান ও সমুদ্র পথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাহাদের অনেকের চেষ্টাই শেষপর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং দুঃখজনকভাবে অনেকেই পতিত হয় মৃত্যুমুখে। এখন বেসরকারিভাবে আবার এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হইলে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানি গতিশীল হইবে। সেই আশায় অনেকে নূতন করিয়া স্বপ্ন দেখিতে শুরু করিয়াছেন। তবে আগের অভিযোগগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারিলে এবং নিয়োগকর্তা বিমানভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বহন করিবার ফলে সার্বিক খরচ কমিয়া গেলে বেসরকারি খাতে শ্রমশক্তি রপ্তানিই লাভ ও সুবিধাজনক হইবে। ইহা অস্বীকার করিলে চলিবে না যে, শ্রমশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগই আমাদের প্রধান ভরসা। এক্ষেত্রে তাহাদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু কতিপয় অসাধু এজেন্সির জন্য সকলকে শাস্তি প্রদান কাম্য নহে। যাই হউক, বিটুবি বা বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের এই চিন্তাভাবনাকে আমরা স্বাগত জানাই।

Posted in নির্বাচিত কলাম | Comments Off on বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ

আমরা ওপরে উঠছি, না নিচে নামছি?

898900a287882928a211bac2bd129148-3হাজারো বৈপরীত্য ও স্ববিরোধিতায় আকীর্ণ বাংলাদেশ। একই বাংলাদেশে দুই বিপরীতধর্মী পাচার আমাদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এবং এই কাÐটি তখনই ঘটছে, যখন ‘শোষণমুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠায় অবিচল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। বিএনপি বা জাতীয় পার্টির আমলে এমনটি হলে আমরা তাদের শোষকশ্রেণির প্রতিভূ ও স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী বলে আচ্ছা করে গাল দিতাম। এখন কী বলব?
মাস খানেক আগে সমুদ্রপথে হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের পাচার হওয়ার ঘটনা নিয়ে কেবল দেশের ভেতরে নয়, বহির্বিশ্বেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে অধিকাংশ পাচার হওয়া মানুষ রোহিঙ্গা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছিল। পরবর্তী সময়ে সরকার কিছুটা নড়েচড়ে বসলেও পাচার হয়ে যাওয়া সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। অনেকে ফিরে এসেছেন, অনেকে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকে হারিয়ে গেছেন চিরতরে।
মালয়েশিয়া থেকে সদ্য ফিরে আসা সিরাজগঞ্জের আল আমিন সরকার নামের একজন যে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, তা মর্মস্পর্শী। তিনি বলেছেন, ট্রলারে ওঠার পর থেকে থাইল্যান্ডে পৌঁছানো পর্যন্ত দুই মাসে অসুস্থ হওয়ার কারণে সাগরে ফেলে দেওয়া হয় ৭০ জনকে। শুধু পানি খেতে চাওয়ার অপরাধে একজনকে চোখের নিমেষে গলা কেটে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে তাঁকে স্থানীয় দুই দালাল নিয়ে গিয়েছিল। টেকনাফ থেকে ৪৭০ জনকে নিয়ে ট্রলার যাত্রা শুরু করলেও কতজন ফিরেছেন, জানা যায়নি।
এই যে দালালদের খপ্পরে পড়ে হাজার হাজার তরুণ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন; তাঁরা কি জানেন না সেখানে জীবন কতটা অনিশ্চিত ও যন্ত্রণাকাতর? জানেন। কিন্তু তাঁরা নিরুপায়। বিদেশে গিয়ে তাঁরা অমানুষিক পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত অপমান ও লাঞ্ছনা সহ্য করেন। তারপরও তাঁরা দুর্গম মরু কিংবা তরঙ্গসংকুল সমুদ্রপথে পাড়ি জমান। দেশে কর্মসংস্থান নেই। সামাজিক ব্যবসায় নাম লেখাবেন, সেই পুঁজি বা শিক্ষাও নেই।
ইদানীং বাংলাদেশে আরেক ধরনের পাচার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অর্থ বা সম্পদ পাচার। ইংরেজিতে বলে ক্যাপিটাল ফ্লাইট। মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাচার হয় কাজ না পেয়ে, জীবন ধারণের সংস্থান করতে না পেরে। আর অর্থ পাচার হয় আরও উন্নত, আরও নিশ্চিত, আরও সুখী জীবনের আশায়। সেটি তাঁরাই পারেন, যাঁরা বৈধ-অবৈধ পথে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। কিন্তু সেই সম্পদ কেন তাঁরা দেশে না রেখে বিদেশে রাখছেন? দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে বিনিয়োগ করছেন? একজন ব্যাংকার কাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষককে প্রশ্নটি করেছিলাম। জবাবে তিনি বললেন, পুঁজির পাচার বিশ্বব্যাপী প্রবণতা হলেও সেই সব দেশে গিয়ে তা পুঞ্জীভূত হয়, যেসব দেশে রাজনৈতিক স্থিতি আছে, সামাজিক সহনশীলতা আছে, যেসব দেশে আইনের শাসন সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আইন যেখানে আওয়ামী লগি-বিএনপি বিচার করে না। এক সম্প্রদায় আরেক সম্প্রদায়ের ওপর চড়াও হয় না। সেই সব দেশে রাজনৈতিক কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের বারোটা বাজানো হয় না। আর সেই সব দেশ থেকেই পুঁজি পাচার হয়, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা লেগে থাকে, যেখানে বিনিয়োগ করতে নানা রকম আইনি বাধার পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতি-মাস্তানি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই সব দেশ থেকে অধিক পুঁজি পাচার হয়, যেখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভঙ্গুর। এর সব কটি উপসর্গই বাংলাদেশে বিদ্যমান। তদুপরি আছে অবকাঠামোগত সমস্যা, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জমির সমস্যা। আছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
পৃথিবীর দুই শ্রেণির মানুষের প্রকৃত অর্থে কোনো দেশ নেই। প্রথম শ্রেণি হলো অতি ধনবান; তাঁদের জন্য সব দেশের দরজা খোলা। নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করলে একজন ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী চাইলে পৃথিবীর যেকোনো দেশের পারমানেন্ট রেসিডেন্ট বা নাগরিক হতে পারবেন। হচ্ছেনও অনেকে।
রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। দুই দলের শীর্ষ নেত্রীর মধ্যে কথাবার্তাও হয় না (১৯১৩ সালের অক্টোবরে তাঁদের মধ্যকার শেষ টেলিফোন সংলাপটির কথা স্মরণ করুন)। কিন্তু বিদেশে বিনিয়োগ কিংবা অর্থ পাচারে দুই দলের মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা কানাডায় বাড়ি (ম্যানশন) কিনেছেন। আরেক নেতা, যিনি বর্তমানে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ করেছেন। আওয়ামী লীগের আরও অনেকে তো বিদেশে বিনিয়োগ করছেন।ৃ বিএনপি সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রী সিঙ্গাপুরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর ছেলে শ্রীলঙ্কায় বেসরকারি বন্দর নির্মাণেও বিনিয়োগ করেছেন। বিএনপি আমলের আরেক মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন। (ডেইলি স্টার, ২২ জুন ২০১৫)। আর এই যে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে, তার সব হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকে নেই। কেননা, বেশির ভাগ অর্থই যাচ্ছে অবৈধ উপায়ে, হুন্ডির মাধ্যমে।
সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বিদেশিদের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাবেন, আর সরকারের ও দলের কেউ কেউ বিদেশে বিনিয়োগ করবেন, বাড়ি কিনবেন—এটি আত্মপ্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। বিদেশে অর্থ পাচার ও বিনিয়োগকারীর তালিকায় আরও আছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। আছেন সাবেক আমলারা।
আমাদের অর্থনৈতিক নীতির লক্ষ্যই হলো কতিপয়ের হাতে পুঁজি ও সম্পদ পুঞ্জীভূত করা। লাখ লাখ মানুষকে ন্যূনতম মৌলিক অধিকার তথা খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে ধনীকে আরও ধনী করার সুযোগ দেওয়া। ধনবানদের দল বিএনপি-জাতীয় পার্টি তো এই নীতি নেবেই। কিন্তু ‘গরিবের দল’ আওয়ামী লীগও ব্যতিক্রম কিছু করেনি। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া যেসব কল্যাণমুখী কর্মসূচি নিয়েছিলেন, গরিব মানুষের জন্য নিরাপত্তার জাল তৈরি করেছিলেন, তা এখন দলীয় নেতা-কর্মীদের আখের গোছানো কিংবা বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মনে হচ্ছে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশটির ওপর গরিষ্ঠসংখ্যক দরিদ্র মানুষের কোনো হক নেই।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে সুইজারল্যান্ডে ৪ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে; ২০১৩ সালে যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা, ২০১২ সালে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।
গেøাবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি জানাচ্ছে, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল—এই ১০ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট পাচার হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পাচার হয়েছে ২০০৬ সালে ২০ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, এরপর ২০০৭ সালে ১৯ হাজার কোটি টাকা, ২০১০ সালে পাচারের পরিমাণ কমে ৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকা হলেও ২০১২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। গত বছর সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে অন্যান্য দেশেও। এই ধারা চলতে থাকলে অর্থ পাচারেও আওয়ামী লীগ বিএপির আমলকে ছাড়িয়ে যাবে।
গেøাবাল ফিন্যান্স ইন্টেগ্রিটি যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, যখন দেশে মোটামুটি রাজনৈতিক স্থিতি থাকে, তখন বিদেশে অর্থ পাচার কমে যায়। আবার যখন অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের পরিমাণ বাড়ে। একই সঙ্গে কমে যায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগও।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনবিষয়ক আঙ্কটাডের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ৫ শতাংশ। আগের বছর ছিল ১৬০ কোটি, চলতি বছর ১৫৩ কোটি ডলার। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী বলেছেন, আঙ্কটাডের এ তথ্য ঠিক নয়। তাঁর দাবি, বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার। তাঁর কথা যদি সত্যও ধরে নিই, ১৬ কোটি মানুষের কিংবা বছরে ৩ লাখ কোটি টাকা বাজেটের দেশে ২০০ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কি আত্মপ্রসাদ লাভের সুযোগ আছে? প্রতিবেশী মিয়ানমারে যদি ৮০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়ে থাকে, নেপালে ও পাকিস্তানেও যদি বিনিয়োগ বেড়ে থাকে, বাংলাদেশে কমার কারণ কী? নিশ্চয়ই আমাদের নীতি, পরিকল্পনা ও উদ্যোগে ঘটাতি আছে। বর্তমান বিনিয়োগ বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর লন্ডন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যে লাখ লাখ টাকা খরচ করে রোড শো করল, তাতে কী লাভ হলো? বিনিয়োগ বোর্ডের এই অবিমৃশ্যকারী কর্মকাÐের সমালোচনা কেবল বিরোধী দলই করছে না, ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফও একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। পেশাদার, দক্ষ, পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের নিয়ে বিনিয়োগ বোর্ড ঢেলে সাজাতে হবে।
তাইরে-নাইরে করে যাঁরা সাড়ে ছয় বছর পার করেছেন, তাঁরা কবে ঢেলে সাজাবেন? আর এই অব্যবস্থা ও অদক্ষতা কেবল বিনিয়োগ বোর্ডে নয়, ব্যাংক-বিমাসহ প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে। দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে অনেক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও কারখানা মুখ থুবড়ে পড়েছে। কেবল প্রবাসী শ্রমিকদের উচ্চ রেমিট্যান্স কিংবা তৈরি পোশাক রপ্তানির নগদ টাকা কোনো দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত দিতে পারে না। আমাদের নেতা-নেত্রীরা যতই উন্নয়নের গল্প শোনান না কেন, সত্যিকার উন্নয়ন থেকে আমরা অনেক দূরে আছি।
বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লুটপাট কিংবা দেশের অর্থ ও সম্পদ বিদেশে পাচার হওয়ার ঘটনায় আমাদের মনে এই প্রশ্নটি বড় করে দেখা দেয় যে দেশের অর্থনীতি কি সত্যি সত্যি এগোচ্ছে? আমরা কি ওপরে উঠছি, না নিচে নামছি? বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে যে সক্ষমতা ও সুশাসন প্রয়োজন, তা কি আমরা অর্জন করতে পেরেছি।

Posted in নির্বাচিত কলাম | Comments Off on আমরা ওপরে উঠছি, না নিচে নামছি?

মাথা ঘোরাকে অবহেলা করবেন না

helth_71913ডেস্ক রিপোর্ট : মাথা ঘোরার সমস্যাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়৷ কিন্তু কেন এ সমস্যাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত এবং এ সমস্যা হলে কী কী হতে পারে? কী করেই বা এর প্রতিকার সম্ভব? এ সবেরই উত্তর দিয়েছেন একজন বিশেষজ্ঞ, জেনে নিন৷
মাথা ঘুরছে?
হঠাৎ করে মাথা ঘুরে গেলে কী করবেন? মাথা ঘুরছে মনে হলেই কোথাও বসে পড়তে হবে অথবা হাত দিয়ে কিছু একটা ধরতে হবে৷ তা না হলে পড়ে গিয়ে সমস্যা আরো জটিল হতে পারে৷ এমনটা হলে বসে জোরে জোরে নিঃস্বাস নিন৷ আর মাথা ঘোরা অব্যাহত থাকলে ডাক্তারের কাছে যান৷ এ কথা বলেন নাক, কান গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মিশায়েল বোনডর্ফ৷
হৃদপিণ্ডের বেশি উঠা-নামা
মাথা ঘোরাটাকে মস্তিষ্কের বিপদসংকেত হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে নানাভাবে প্রকাশ ঘটায়৷ কারো ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডের বেশি উঠা-নাম, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, আবার কারো কারো হয়ত চোখের সমস্যা, অর্থাৎ অস্পষ্ট দেখা, মাথাব্যথা, বমি বা বমিভাবও হয়ে থাকে৷
এর কারণ কী কী?
অনেক সময় উঁচুতে উঠলেও অনেকের মাথা ঘোরে কিংবা খুব তাড়াতাড়ি হাঁটলে বা দৌড়ালে এ সমস্যা হয়৷ এ রকম বিশেষ পরিস্থিতিতে এমনটা হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে স্বাভাবিক বলে ভাবা হয়ে থাকে৷ তবে এর পেছনে কিন্তু কানের ভারসাম্যে সমস্যা, মস্তিষ্ক বা কার্ডিওভাসকুলারের অসুবিধার মতো কারণও থাকতে পারে

আর কোনো কারণ?
‘মাইগ্রেন’ অথবা মস্তিষ্কে সঠিকভাবে রক্তচলাচলের সমস্যা থেকেও এমনটা হতে পারে৷ ‘‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাথা ঘোরার সাথে মানসিক ভারসাম্য জড়িত’’ – একথা বলেন বিশেষজ্ঞরা৷ মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ব্যাপারগুলোর সাথে আবহওয়ার একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে৷ বিশেষ করে হঠাৎ করে তাপমাত্রার উঠা-নামায়ও এ সমস্যা হতে পারে৷
কাদের বেশি হয়?
বিশেষজ্ঞ মিশায়েল বোনডর্ফ জানান, ‘‘বয়স বাড়ার সাথে মাথার সমস্যা বাড়তেও পারে, বিশেষ করে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সি নারীদের ক্ষেত্রে৷ ক্ষেত্র বিশেষে মাথা ঘোরার ধরণও ভিন্ন হয়ে থাকে৷ কখনো হঠাৎ করে ঘূর্ণিপাক আবার কখনো একনাগাড়ে ক’দিনও থাকতে পারে মাথা ঘোরার সমস্যা৷
কী করণীয়? কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
প্রথমে বাড়ির ডাক্তার বা ‘হাউসফিজিশিয়ান’-এর সাথে কথা বলতে হবে৷ তখন তিনিই হয়ত নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাবেন৷ অথবা অবস্থা বুঝে পাঠাতে পারেন নিউরোলজিস্ট বা অন্য কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে৷ তবে উচ্চ রক্তচাপ, নাড়ি পরীক্ষার পাশাপাশি চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছেও যেতে হতে পারে৷
জরুরি পরিস্থিতি
মাথা ঘোরা বা ব্যথা হতেই পারে, তবে একেবারে হঠাৎ করে যদি মাথা ঘোরে, কথা অস্পষ্ট বা পক্ষাঘাত হয়, তাহলে স্ট্রোকের মতো কঠিন রোগ এড়াতে অবশ্যই সাথে সাথে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ –ডিডব্লিউ

Posted in স্বাস্থ্য | Comments Off on মাথা ঘোরাকে অবহেলা করবেন না

আপনি ভিডিও কলে কথা বলছেন তো? সাবধান!

iPhone-4-Camsex2-500x544ডেস্ক রিপোর্ট : ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে বলতে প্রেমিক প্রেমিকা হারিয়ে যাচ্ছেন অজানা দেশের গল্পে। কানে ফোন রেখে রাত থেকে কখন যে সকাল হলো কেউ টেরও পেল না।
কিন্তু এই দূরভাষ যন্ত্রেই আর মন ভরছে না। অগত্যা দূরকে কাছে টানতে নিতে হলো প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সাহায্য। কথা বলতে বলতে দেখা যাবে ওপর প্রান্তে থাকা মানুষটিকেও। মানুষটি কি করছে, কি পরে আছে। কি খাচ্ছে। সবই এ প্রান্তে বসে দেখা যাবে। এই প্রযুক্তির নাম ভিডিও কলিং।
এই ভিডিও কলিংয়ের গেরোয় ফাঁস হয়ে যাচ্ছে প্রেমযুগলের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত। এটি এক ধরনের সাইবার ক্রাইম। আর এই অপরাধের পেছনে রয়েছে ‘ওয়েব ক্যাম হ্যাকিং’ গ্রুপ।
স্কাইপ, ভিডিও কলিংয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের অপরাধের মাত্রা সর্বাধিক। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে তা ইন্টারনেটে আপলোড করে দেয় এই হ্যাকিং গ্রুপ। যা সরাসরি ভাবে অথবা পরোক্ষভাবে ‘পর্ন’ এর মত ব্যাবহার হয়ে থাকে।
তবে এমনও দেখা গেছে, প্রেম যুগলের সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর রাগ-ক্ষোভ থেকেই নিজেদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পাবলিক করে দেন তাঁরা। এমন হবার ফলে ব্যাক্তিগত মুহূর্ত হঠাৎই বেয়াব্রু হয়ে যায়। সম্মানহানির আশংকায় অনেক তরুণ-তরুণীই এই ধরনের ঘটনার পর আত্মহত্যার মত কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এবার থেকে তাই সাবধান থাকুন। ওয়েব ক্যামে ভিডিও কলের সময় সতর্ক থাকুন নিজে। কি কথা বলবেন, কি করবেন আর কি করবেন না সে বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করুন।

Posted in তথ্যপ্রযুক্তি | Comments Off on আপনি ভিডিও কলে কথা বলছেন তো? সাবধান!

স্কুলছাত্রীকে চার বন্ধু মিলে ধর্ষণ

47706_00কুমিল্লা প্রতিনিধি : জেলার মুরাদনগরে এক স্কুলছাত্রীকে দুইদিন ঘরে আটকে রেখে চার বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার বিকেলে ধর্ষিতাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে আটক করা যায়নি।
ধর্ষিতা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় মামলা করেছেন।
মামলার বিবরণ ও ছাত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে মুরাদনগর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে রুস্তম। এরই সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রুস্তম ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। পরে রুস্তম এবং একই গ্রামের তার বন্ধু খাইরুল, রুবেল, নাইম তাকে পীর কাশিমপুর গ্রামে নিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রেখে দুইদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে।
স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্করকে খবর দিলে তিনি গ্রাম পুলিশ নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষকরা পালিয়ে যান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুরাদনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল ভট্ট জানান, ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

Posted in সারা দেশ | Comments Off on স্কুলছাত্রীকে চার বন্ধু মিলে ধর্ষণ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud