May 7, 2026
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার শিশু সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। অমানুষিক নির্যাতনের সময় মাথায় আঘাতের ফলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। শিশু রাজনের শরীরে ৬৪টি জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের ওই প্রতিবেদনটি পুলিশের কাছে পৌঁছে। সিলেট মেট্রোপলিটনের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে (১৩) চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে রাজন মারা গেলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয় মুহিত আলম।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে এসএমপি’র জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় মুহিত আলম (৩২) ও তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়াকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে।
এদিকে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইসমাঈল হোসেন আবলু (৩২) নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জালালাবাদ থানা এলাকার লামাকাজি মিরেরগাঁও থেকে সোমবার ভোরে ইসমাঈলকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ইসমাইল শিশু রাজন হত্যার আসামি মুহিত আলমের তালতো ভাই।
সিলেট প্রতিনিধি: ‘পানির লাগি আমার সন্তানে ছটফট করছিলো। মৃত্যুর আগে এক ফুটা পানিও তারে খাওয়াইছে না তারা। অরা কাফির, অরা মুনাফিক। আমার নিরীহ পোলাডারে যেলাখান (যেভাবে) মারছে, আমিও তারা হকলর (সকলের) ফাঁসি চাই। আমি প্রধানমন্ত্রী’র কাছে সন্তান হত্যার বিচার চাই’।
সন্তানহারা রাজনের মা রুবনা বেগম সাথে সাক্ষাতকালে এভাবেই বিলাপ করতে থাকেন। তার বুক ফাঁটা আর্তনাদে উপস্থিত সকলেই অশ্রুসিক্ত হন। সন্তানের বিছানায় লুটিয়ে পড়ে বিলাপ করে বলেন, ‘কি দোষ ছিলো আমার পোলার।তারা আমার পোলারে নির্মম নির্যাতন কইরা মারলো’।
রুবনা বেগম বলেন, ‘আমার পোলারে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অত্যাচারের পর মাইরা ফালাইছে খুনিরা। আমার ছেলেরে তো আর ফিরৎ পামু না। কিন্তু তার হত্যাকারীর শাস্তি চাই। আমার মতো আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়।‘ এজন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটাইছে, সেই ভিডিও দেইখ্যা জ্ঞান হারাইয়া ফেলি।’ এ কথা বলার পর তিনি আবারও সন্তানের বিছানায় লুটিয়ে পড়েন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাদেয়ালী ভাইয়ারপাড় গ্রামের বাড়িতে কথা হয় রুবনা বেগমের সাথে।
গত বুধবার সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চোর সন্দেহে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ওইদিন দুপুরেই একটি মাইক্রোবাসযোগে (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-০৫১৬) তার মরদেহ গুম করার চেষ্টা হয়। এ সময় শহরতলীর কুমারগাঁও এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় খুনিদের অন্যতম মুহিত আলমকে আটক করে জালালাবাদ থানা পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুহিত আলমের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেটের মহানগর হাকিম আদালত-২’র বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন।
এর আগে, আটক হওয়ার পর পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে রাজন হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন মুহিত। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়।
নিজস্ব প্রতিবেদক : খালেদা জিয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। আর সেই খালেদার সন্ত্রাসে উজ্জীবিত হয়েই সিলেটের কিশোর সামিউলকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ আওয়ামী প্রজন্মলীগ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা ও তার পুত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক রয়েছে। খালেদা জিয়ার হুকুমেই ঘুমন্ত মানুষকে পেট্রলবোমায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব সমাজে লক্ষণীয়।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ফখরুলের জামিন চান কি না সন্দেহ আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অস্থায়ী সদস্যদের নিয়ে যে বৈঠক হলো সেখানে উনি (খালেদা) ভাঙনের সুর দিয়েছেন। তাদেরকে বলেছেন, আপনারা শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে মন্ত্রী হন। লজ্জা থাকলে তাদের (বিএনপি নেতাদের) বিএনপি ছেড়ে দেওয়া উচিত। খালেদা জিয়া চাইছেন, ২১ আগস্ট তারেক জিয়ার সঙ্গে যারা গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন, তাদের পাশে রাখতে।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হজ নিয়ে আপনি রাজনীতি করবেন না। ওমরা পালনের নামে সৌদি আরবে গিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়াই ছিল আপনার উদ্দেশ্য। সে ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে।
নারাণগঞ্জ জেলা শাখার প্রজন্মলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান দুর্জয় প্রমুখ।
বিনোদন ডেস্ক : সামিউল আলম রাজন। সিলেট মহানগরীর কুমারগাঁওয়ে ১৩ বছরের কিশোর। ৮ জুলাই বুধবার তাকে হত্যা করে গুম করার সময় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। রাজনকে হত্যার আগে একটি দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়। এ সময় পানির জন্য আকুতি জানালেও রাজনকে এক ফোটা পানি দেয়নি নির্যাতনকারীরা।
লাশ উদ্ধারের পর এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন মাধ্যমে। আর প্রতিবাদের ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনায় মর্মাহত হয়ে প্রতিবাদে ফেসবুকে ফুসে উঠেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।
এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন- ‘রাজন ভাইয়াটা আমার..। বারো আউলিয়া যেই মাটিতে শুয়ে আছে সেই মাটিতে কিভাবে ওই মানুষরূপি জানোয়ারগুলো দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি জানি না … সারা সিলেটবাসী এবং আমরা সবাই হয়ত অন্ধ হয়ে গেছি…।
ভাইয়া আমার, তুমি প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে , তীব্র পিপাসা নিয়ে চলে গেছ ঠিকই কিন্তু আমাদের দিয়ে গেছ প্রিয়জনের কবর খোড়ার মতো কষ্ট (কারণ তোমাকে বাঁচাতে পারিনি) আর বানিয়ে গেছ চরম পিপাসার্ত (কারণ তোমাকে যারা মৃত্যুর সময় একটু পানি খেতে দেয়নি তাদের মৃত্যু না দেখে আমাদের তৃষ্ণা যাবে না)। তুমি যেখানেই থাক ভালো থেক। আর এটা মনে করে শান্তি পেয় যে, এই দুনিয়াটা তোমার যোগ্য ছিল না। ফি আমানিল্লাহ।’
জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আক্ষেপ করে লিখেছেন- ‘কেন আমি আজকে ফেসবুকে ঢুকতে গেলাম? আর কেনই বা এই বিভৎস ঘটনা জানলাম ? হয়তো এই ঘটনার বিচার হবে, অপরাধীর শাস্তিও হবে । কিন্তু যে কালি মনে লেগেছে, এটা মুছবে কেমনে?’
জনপ্রিয় উপস্থাপক আবদুন নূর তুষার লিখেছেন- ‘রাজন এর বয়স মাত্র ১৩ । তার পক্ষে কি একটা আস্ত রিকশা ভ্যান চুরি করা সম্ভব? এই বয়সে এমন নিষ্পাপ চেহারার ফোলা ফোলা গাল এর একটি শিশুর হয়তো ঘুড়ি ওড়ানোর কথা, রিকশার টায়ার কাঠি দিয়ে ঘোরানোর কথা , লাফ দেবার কথা পুকুরে, অন্যের গাছ থেকে একটা দুটো আম বা পেয়ারা পাড়ার কথা। স্কুলে যাবার কথা, মাত্র বড় হচ্ছে, তাই গলাটা ভেঙ্গে পুরুষ হবার মাঝপথে লাজুক সময় পার করার কথা।
একদল পাষন্ড, নরাধম, বিকৃত মস্তিষ্ক নরকের কীট তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
মোবাইল ফোন দিয়ে এই নির্মম, অমানবিক বিভৎস অত্যাচার এর দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এই নির্মমতা আমি চোখে দেখার শক্তি অর্জন করি নাই। আমি কেবল স্থির দৃশ্য গুলি দেখে আতংকিত, ভীত এবং অপরাধীদের প্রতি ঘৃণায় নিমজ্জিত হয়েছি, চোখ ভাসিয়ে কেঁদেছি।
যখন এই পশুরও অধম, বেজন্মাগুলি রাজনকে অত্যাচার করছিল, কি ভেবেছিল সে? তার মায়াভরা চোখ দুটি দেখেও সামান্য দয়া হয়নি এই নরকের জ্বালানীগুলির। খবরে পড়লাম, সামান্য পানি চেয়েছিল রাজন। তাকে নিজের ঘাম খেতে বলেছে এই অত্যাচারী কীটানুকীটগুলি।
এই রমজান মাসে, সংযমের মাসে নাকি শয়তানেরও লজ্জা হয় অন্যায়ে। আর এই নির্দয়, নিষ্ঠুর, বিকৃতমস্তিষ্ক সাইকোপ্যাথদের হাতে ঠান্ডা মাথায় নিহত হয়েছে রাজন। রাজন গরীবের ছেলে, রাজন এর জীবন তাই বলে মূল্যহীন হতে পারে না। রাজন তো আমার সন্তান, আমার পুত্র, আমার আত্মীয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেট জয়ে উদ্বেল আনন্দের একটি দিনে আমি কেবলি কেঁদেছি। এই কান্না অপারগতার, অক্ষমতার, অসহায়ত্বের। এই কান্না নিজের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি অবিশ্বাসের। রাজনের হত্যার বিচার না হলে, কেবল চুপ করে থাকার জন্য আমাদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , আপনার কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই। দেশে কত অপরাধীর কত রকম শাস্তিই না হয়। নাহয় দেশ থেকে কয়েকটি নরাধম এর বিচার হোক দ্রুততম সময়ে। আপনি নির্দেশ দিন। প্রতিটি অপরাধী বন্দী হোক।
আমরা দেখি এই কীটস্য কীটগুলির মৃত্যুদন্ড হোক রাজপথে। দেশে কত ক্রসফায়ার, কত এনকাউন্টার। অন্তত একটিবার আমি “বিচার ছাড়া বিচারে” সমর্থন দিতে চাই। ক্রসফায়ার চাই, এনকাউন্টার চাই। কে কি চায় জানি না, আমি চাই রাজনের হত্যাকারীদের মৃত্যু নিশ্চিত হোক, তাদের লাশ গলে পচে শকুনের খাবার হোক।
এই শিশু হত্যা শুধু নয়, এই হত্যাকান্ডটি যেভাবে তারা ছড়িয়ে দিয়েছে ভিডিও করে, একই ভাবে তাদের বিচারের দৃশ্যও ছড়িয়ে দেয়া হোক। প্রতিটি অত্যাচারী জানুক, সাবধান হোক, অত্যাচারের পথ থেকে সরে আসুক। সবাই জানুক দেশের প্রতিটি শিশু মূল্যবান, সুরক্ষিত।
রাজনের মৃত্যু আমাদের সকলকে অপরাধী করে দেয় যদিনা আমরা তার হত্যার বিচার নিশ্চিত না করি। আর কিছু নয়, কেবল চোখের বদলে চোখ চাই, রক্তের বদলে রক্ত চাই। রাজনের হত্যাকারীদের মৃত্যুদন্ড চাই। আজ ১৩-৭-২০১৫ শাহবাগে সকলে একত্রিত হবে বিকাল চারটায়। সময়ক্ষেপন নয়, কালবিলম্ব নয়। রাজন হত্যার বিচার চাই। বাংলাদেশ মানুষের দেশ, ইতরের নয়। এই দেশ কোন মৃত্যু উপত্যকা নয়।
প্রিয় রাজন, ক্ষমা করে দিও এই নপুংসক সমাজকে, ক্ষমা করে দিও এই অক্ষমতাকে। আমরা তোমার জন্য একটি নিরাপদ দেশ দিতে পারি নাই। এই অপারগতার দায়মোচন সম্ভব নয়। আমরা আর কোন রাজনকে এভাবে মরতে দেবো না। তোমাকে যারা কষ্ট দিয়ে, যন্ত্রনা দিয়ে জীবন কেড়ে নিয়েছে, আমরা তাদের মৃত্যুদন্ড চাই।
অভিনেতা সোয়েভ ইসলাম লিখেছেন, ‘রাজন আমাদের সাবাইকে ক্ষমা করে দিও ভাই।’ কণ্ঠশিল্পী সাবরিনা হক সাবা লিখেছেন- ‘আর কত কিছু এভাবে মুখ বুঝে সহ্য করে যাব? সবাই কী ভুলে গেছে আমরা কোরবানীর পশু না। আমরা মানুষ। যাদের মুখ ফুটে কথা বলার শক্তি আল্লাহ দিয়েছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে। তবুও চুপ কেন সবাই? তিব্র নিন্দা জানাই প্রশাসনকে!’
গাড়িওয়াল খ্যাত নির্মাতা আশরাফ শিশির লিখেছেন- ‘শিশু রাজনকে এভাবে বর্বরোচিতভাবে হত্যাকারীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
জনপ্রিয় নাট্যকার মাসুম রেজা লিখেছেন- ‘আমি মরি যাইরাম, আমারে কেউ বাঁচাওরে বা.. আকুতি করো না রাজন। তুমি মারা গেছো.. চোখ খোলার চেষ্টা করো না তুমি মারা গেছো..। যে তোমাকে বাঁচাতে পারতো তার নাম মানবতা.. তোমার আগেই সে খুন হয়ে গেছে..। দুঃখ পেওনা যে দেশ ছেড়ে তুমি চলে গেছো সে দেশ কখনই তোমার ছিলো না..। তোমার বাবা মন্ত্রী না আমলা না.. রাজনীতিবিদ না.. এই দেশ তবে তোমার কিভাবে? তুমি মনিরের চেয়ে আরো ক’টা দিন বেশী বেঁচে গেলে এই নিয়ে খুশী থেকো..। তোমার জন্যে বিচার চাইবো কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি অন্ধ..? তোমাকে হত্যার চিত্র কী তিনি দেখেননি? তিনি কি মানুষ নন? মানুষ হলে কেন তিনিও আমাদের মতো চিৎকার করে বলবেন না.. রাজনের হত্যাকারী নরপশুদের রেহাই নাই..।’
আবৃত্তিকর্মী জোবায়দা লাবনী তার ফেসবুকে লিখেছেন- ‘সারারাত ঘুমুতে পারিনি ঠিকঠাক। ঘুমুতে গেলেই কেবল আর্তনাদ শুনেছি – ও মাইগো ও মাইগো। দু চোখে বারবার ভেসে উঠছিল বারবার আশায় বুকবাঁধা আতংকগ্রস্ত, যন্ত্রণাক্লিষ্ট একটি মুখের ছবি- এই বুঝি তাকে ছেড়ে দিবে। এই বুঝি শেষ হবে পাশবিকতার। অবশেষে মৃত্যুতেই হলো তার সকল যন্ত্রণার অবসান!! হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে, ক্যাম্পাসে মাঠে বাজারে বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বিভৎস গন্ধ দিয়েছে ছড়িয়ে, তাদের জন্য কোনো শাস্তিই যেন আজ যথার্থ মনে হচ্ছে না। তবু দাবী একটাই- বিচার চাই।’
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত এক সিরিজ সমতায় ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
১২ জুলাই রোববার এক বার্তায় খালেদা জিয়া ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কোচিং স্টাফ, ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষক এবং দর্শকদেরও অভিনন্দন জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে দুর্দান্ত জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১২ জুলাই রোববার এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাশাপাশি দলের ম্যানেজার, কোচ, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং খেলোয়াড়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগামীতেও বিজয়ের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ উপলক্ষে অভ্যন্তরীণ সব রুটে ভাড়া উল্টো কমিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে হ্রাসকৃত ভাড়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রা করা যাবে।
এ সময় পর্যন্ত ঢাকা থেকে যে কোন অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে সময় ভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা হ্রাসকৃত ভাড়ায় ভ্রমণ করা যাবে। একইভাবে যেকোন গন্তব্য থেকে ঢাকা আসতে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া কমানো হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় আগামী ১৫ জুলাই যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরে ‘বিশেষ-অতিরিক্ত’ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া, লন্ডন থেকে আসা সিলেট-ঢাকা বিজি-৬০৭ ফ্লাইট-এ প্রতি শনিবার ট্যাক্সসহ মাত্র ২০০০ টাকা এবং মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিবার বিজি-৬০৫ ফ্লাইট-এ ট্যাক্সসহ মাত্র ২৫০০টাকায় ভ্রমণ করা যাবে।
বিমান বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০৭ থেকে ২০১৫; আট বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরেকটি ক্রিকেটীয় জয়ের স্বাদ পেযেছে বাংলাদেশ। রবিবার সফরকারীদের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের বিশাল জয় সঙ্গী হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশের। সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দক্ষ হাতে জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সিরিজে ১-১ সমতায়ও ফিরেছে স্বাগতিকরা। সেই সঙ্গে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেলেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৬২ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা; বাংলাদেশের বোলারদের আগুনে বোলিংয়ের আঘাত সামলাতে না পেরে। জবাবে তামিম ইকবাল, লিটন দাশ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেট তিনটি হারালেও ইনিংসের ২২.৪ ওভার বাকি থাকতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অখ্যাত কাগিসো রাবাদার বলে বোল্ড আউট হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। রবিবার সেই রাবাদার বলেই আবার স্ট্যাম্প হারিয়েছেন তিনি। সঙ্গে পতন ঘটেছে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের। এরপর লিটন দাশ খানিকটা ঝলক দেখাতে শুরু করেছিলেন। তারও স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেছেন দু’দিন আগেই অভিষেক ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নেওয়া রাবাদা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৬৩ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমেছে বাংলাদেশ। ইনিংস ওপেন করেছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ২৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান। প্রাথমকি বিপর্যয় সামলে সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলকে টেনে নিচ্ছেন কাঙ্খিত জয়ের ঠিকানায়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয় হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন সৌম্য; ব্যাট করছেন ৬৬ রানে। মাহমুদউল্লাহ ব্যাট করছেন ৩৯ রানে। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ২৯ রান।
এর আগে রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রবিবার গর্জে উঠেছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অতিথি দক্ষিণ আফ্রিকাকে কোণঠাসা অবস্থায় ফেলে দিয়েছে মাশরাফিবাহিনী। টস জিতে ম্যাচে আগে ব্যাটিং করতে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকানরা। তবে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ছত্রখান হয়ে গিয়েছে হাশিম আমলার দলের ব্যাটিং লাইন। মুস্তাফিজ-নাসির-রুবেল-মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বোলিং জাদুতে শেষ অব্দি ৪৬ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরতে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ১৬৩ রান। ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও স্পিনার নাসির হোসেন। এ ছাড়া পেসার রুবেল হোসেন ২টি এবং অধিনায়ক মাশরাফি ও অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা। খেলতে নেমে দলীয় ১৬ রানের মধ্যে প্রথম উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ আউট হয়েছেন ওপেনার ডি কোক (২)। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার সুযোগ পাননি আরেক ওপেনার হাশিম আমলা। ব্যক্তিগত ২২ রানে পেসার রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দলীয় ৪৫ রানে আউট হন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটল দাস, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
দক্ষিণ আফ্রিকা দল : হাশিম আমলা (অধিনায়ক), ডি কোক, ডু প্লেসিস, রোসোউ, ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, বেহারডিয়েন, মোরিস, অ্যাবোট, রাবাদা ও ইমরান তাহির।
নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার ধর্মপ্রাণ মুসলিম ক্রিকেটার হাশিম আমলা। হাশিম আমলা একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবং মাঝে মাঝে মিডিয়াম পেস বোলিং করে থাকেন। ধর্মপ্রাণ মুসলিম ক্রিকেটার হাশিম আমলা সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে রোযা রাখা অবস্থায় ক্রিকেট খেলছেন।
২.মইন আলী

মইন আলী পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত একজন ইংরেজ ক্রিকেটার। তিনি একজন বা-হাতি ব্যাটসম্যান এবং অফ স্পিন বোলার। সম্প্রতি মইন আলী অ্যাশেজ সিরিজের কার্ডিফ টেস্ট রোযা রাখা অবস্থায় ক্রিকেট খেলেছেন । কার্ডিফ টেস্টে মইন আলী প্রথম ইংনিসে ৭৭ রান করেছেন ও দ্বিতীয় ইংনিসে ১৫ রান করেছেন এবং বোলিংয়ে প্রথম ইংনিসে ২ উইকেট ও দ্বিতীয় ইংনিসে ৩ উইকেট নিয়েছেন ।
৩. শহীদ আফ্রিদিঃ
পাকিস্তানি ধর্মপ্রাণ মুসলিম ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি। সম্প্রতি শহীদ আফ্রিদি রোযা রেখে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে(সিপিএল)খেলছেন।
৪. ইউনুস খানঃ
ইউনুস খান একজন পাকিস্তানী ক্রিকেটার এবং পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। ইউনুস খান একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সম্প্রতি ইউনুস খান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ রোযা রেখে খেলেছেন ।
৫. ফাওয়াদ আহমেদঃ
ফাওয়াদ আহমেদ একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার । ফাওয়াদ আহমেদ একজন লেগস্পিনার বোলার । অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা মুসলিম ক্রীড়া ব্যক্তিত্বও নির্বাচিত হয়েছিলেন ক্রিকেটার ফাওয়াদ আহমেদ । ফাওয়াদ আহমেদও রোযা রাখা অবস্থায় ক্রিকেট খেলেন ।
সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জালালাবাদ থানার ওসি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পৈশাচিক এই ঘটনার বিচার দাবিতে, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার চুরির অভিযোগে শেখ মোহাম্মদ সামিউল নামে ১৩ বছরের ওই কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয় কয়েকজন।
অভিযোগ চুরির। সবজি বিক্রেতা সামিউল আলম রাজনকে খুঁটির সাথে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকার কয়েকজন। এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে ওই কিশোর।
বেদম মারে রাজনের আর্ত চিৎকারেও মন গলেনি পাষন্ডদের। মৃত্যুর আগে পানি চেয়েছিল। নরপিশাচরা তাকে বলেছে ঘাম খেতে। মৃত্যুর পর রাজনের মরদেহ গুমেরও চেষ্টা হয়। কিন্তু ধরা পড়ে যায়। এরপর ফুঁসে ওঠে স্থানীয় জনগণ। হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তারা।
এদিকে সন্তানকে হারিয়ে শোকাতুর রাজনের বাবা মা। জানান, তাদের সন্তানের প্রতিবন্ধিতা ছিলো। হত্যার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চান তারা।
নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লাশ গুম করার সময় হাতেনাতে মুহিত নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।