May 7, 2026
এম এ মানিক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ কার্ড পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও কার্ড পাঠিয়ে তাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম ও আসাদুল করীম শাহিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে খালেদার ঈদ কার্ড পৌঁছে দেন।
কার্ডটি গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের দপ্তর উপ কমিটির সহ-সম্পাদক সেকান্দর আলী। এর আগে সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাযার্লয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা কার্ড পৌঁছে দেন। খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার সেটি গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন দেশের প্রধান দুই দলের নেত্রীর মধ্যে সাক্ষাৎ না হলেও ঈদ কিংবা নববর্ষে তারা কার্ড পাঠিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবানে দেশের ‘সবচেয়ে উঁচু’ সড়কসহ তিনটি সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবন থেকে বিআইডব্লিউটিসির একটি জাহাজ ও দুটি ফেরিরও উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের জন্য তার সরকারের ‘ঈদ উপহার’।
এসব প্রকল্পের মধ্যে বান্দরবানের থানচি থেকে আলীকদম পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তৈরি এ সড়কটি দেশের সবচেয়ে উঁচুতে বলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে জানান।
সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব দিক দিয়েই মানুষের উন্নয়ন ‘তরান্বিত হবে’ বলে ভিডিও কনফারেন্সে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের স্কুল কলেজগুলোকে আবাসিক করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল ও কলেজ করারও ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংস রাজনীতির অবসানে ১৯৯৬ সালে শান্তিচুক্তির পর থেকে সেখানকার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার ‘ব্যাপক’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট শান্তি চুক্তির বিরোধিতা ও পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আলীকদম যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার মেজর জেনারেল শফিকুল রহমান, সড়ক পরিবহন মন্ত্রাণলালয়ের যুগ্ন সচিব শফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল ওহাব, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার নকিব আহম্মদ চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রমান।
উদ্বোধন করা অন্য প্রকল্পগুলো হলো- রংপুর বিভাগে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের মহাসড়ক, ঢাকার আশুলিয়া-বিরুলিয়া সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক ও একটি সেতু।
রংপুরের মহাসড়ক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রংপুর সবসময়ই অবহেলিত ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই মঙ্গা দূর হয়েছে।”
সরকার ‘উন্নয়ন করেছে বলেই’ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ পর্যায় থেকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
সবশেষে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি মধুমতি’ এবং ‘ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা রো রো ফেরি’ ও ‘কুসুমকলি’ ফেরির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
নৌপথে স্বল্প খরচে যাত্রী ও পণ্য পরবিহনের সুযোগ থাকায় এ পথকে জনপ্রিয় করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা নৌপথকে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছি।”
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ পোড়ানোর কথাও এসময় তিনি মনে করিয়ে দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “এভাবে যদি বাস, ট্রেন, লঞ্চ না পোড়ানো হতো, তাহলে মানুষ আরো ভালোভাবে (ঈদে) বাড়ি ফিরতে পারত।”
নিউজ ডেস্ক: শিশু রাজন হত্যার মূলহোতা কামরুল ইসলাম সৌদি আরব পালিয়ে গিয়েও রেহাই পায়নি। জেদ্দার স্থানীয় আরবদের সহযোগিতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আটক করেছে এই ঘাতককে। তাকে আটক করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবে। দেখুন তাকে আটকের ভিডিওচিত্র-
আইসিসের কাণ্ড। তারা ঈদের নামাজ নিষিদ্ধ করেছে ইরাকের মসুলে। বলেছে, ‘ঈদের নামাজের সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। উপবাসের পর খাওয়া-দাওয়ার আর দল বেঁধে প্রার্থনার উৎসব এক কাফেররাই করতো। পুরোনো কালের মুসলিমরা ঈদের নামাজ পড়তো না।’ মসুলের কারও অধিকার নেই ঈদের নামাজ পড়ার। কেউ যদি নামাজ পড়তে যায়, তাদের নাকি মেরে ফেলা হবে। এই ইরাকে বসে-বসে কী কাণ্ডই না করেছে আইসিসের সশস্ত্র লোকগুলো! বুলডোজার দিয়ে, ডিনামাইট দিয়ে, কুড়োল দিয়ে, শাবল দিয়ে ভেঙেছে মুসলমানের মাজারগুলো, শিয়াদের মসজিদগুলো, হাজার বছরের পুরোনো শিল্পকর্ম, মিউজিয়াম।
আইসিস কি একসময় নামাজ জিনিসটাকেই নিষিদ্ধ করবে? কারণ নামাজটা তো ইসলাম আসার আগে বিধর্মীরা পড়তো! ইহুদিদের আর কপ্টিক ক্রিশ্চানদের প্রার্থনা রুকু সেজদাসহ নামাজের মতোই। আইসিস তো মাজার, এমনকি কাবা শরিফ, রওজা শরিফ সব ভেঙে ফেলার কথাও বলছে। এগুলোও নাকি একধরণের মূর্তি পুজো। অনেকে মনে করে, ১৪০০ বছর আগের খাঁটি ইসলাম ধর্মকেই আইসিস অবিকৃত অবস্থায় পালন করছে। আইসিস সেনারা, অনেককে বলতে শুনেছি, পয়গম্বরের যোগ্য উত্তরসুরি।
আইসিস তৈরি হওয়া সহজ, আইসিসের বিপরীত আদর্শে মানুষকে দিক্ষিত করা সহজ নয়। আইসিসের আদর্শে খুন ধর্ষণ লুটতরাজ আর ভায়োলেন্স। আইসিসের বিপরীত আদর্শে আছে শান্তি। শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কোনওকালেই কোনও গোষ্ঠীতেই সহজ ছিল না, সহজ নয়।
বিধর্মীদের সংস্কৃতি যদি আইসিস ইসলাম থেকে বাদ দিতে শুরু করে, তাহলে শেষ অবধি কী থাকবে অবশিষ্ট ইসলামে? আইসিস তো এও বলতে পারে, এখন থেকে শুয়োর খাওয়া হালাল, কারণ আরবদেশে শুয়োর খাওয়া হারাম ছিল বিধর্মীদের মধ্যে। এখন থেকে খৎনা করা হারাম, কারণ বিধর্মীরা অর্থাৎ ইহুদিরা খৎনা করতো। কাফেরদের, বিধর্মীদের, অমুসলিমদের, অবিশ্বাসীদের গল্প আদম হাওয়ার গল্প। ইসলাম শুরু হওয়ার হাজার বছর আগেই এই গল্প লেখা হয়েছে। তাহলে এই গল্পটিকেও আনৈসলামিক বলে বাদ দেওয়া যায়? এভাবে নুহ নবীর গল্প, আবিল কাবিলের গল্প, এবং আরও অনেক গল্পকে ইসলামের গল্প নয় বলে সরিয়ে রাখতে হয়। ওসব গল্প ইসলামের অনেক আগের, তাহলে ওসবও ডিলিট করে দিতে হয়। বাহাত্তর জন হুরি এবং হাতে গোনা কিছু গল্প ছাড়া সবই তো প্রায় হয় পেগানদের, নয় ইহুদি নাছারাদের গল্প। ইসলাম শুধু অন্য সংস্কৃতি থেকে নয়, ধর্মও গ্রহণ করেছে অন্য ধর্ম থেকে। সব ধারগুলো আজ ফেরত দিলে কি ইসলাম আর ইসলাম থাকবে? আইসিস যদি এভাবে চলতে থাকে যেভাবে চলছে, তাহলে খুব শীঘ্র ইসলাম বলে সম্ভবত কিছুরই আর অস্তিত্ব থাকবে না।
একবিংশ শতাব্দীতে সপ্তম শতাব্দীর সংস্কৃতি আনতে চাওয়া কি বুদ্ধির কথা! মানুষ পেছনে যাবে নাকি সামনে এগোবে! বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এগোচ্ছে হয়তো সামনে, কিন্তু সংস্কৃতিতে পেছোচ্ছে। আরবের ধর্মীয় সংস্কৃতি গ্রাস করে নিচ্ছে বাংলার বাঙালি সংস্কৃতি। মানুষ আর কতটা পেছোবে! পিছু হঠতে হঠতে দেয়ালে ঢুকে গেছে পিঠ। যখন নারীর স্বাধীনতা পাওয়ার কথা, মানবাধিকার লঙ্ঘন না হওয়ার কথা, দারিদ্র ঘুচে যাওয়ার কথা, যখন সবারই বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কথা, যখন মানুষের আরও মানবিক হওয়ার কথা, আলোকিত হওয়ার কথা, তখন লোক ধর্ম ধর্ম করে মাতম করছে, ফিরতে চাইছে অন্ধকার যুগে। আইসিস ছাড়াও অন্ধকারের উপাসনা করার লোক আরও আছে।
ভাবছি মসুলের মানুষের কথা। ঈদের নামাজ পড়তে গেলে তাদের আজ খুন হয়ে যেতে হবে। ধর্মকর্ম করার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। আমি নিজে ধর্মে বিশ্বাস করি না, কিন্তু মানুষের ধর্মে বিশ্বাস করার অধিকারের জন্য আমি লড়ি। মসুলের মানুষ যদি ঈদের নামাজ পড়তে চায়, তবে সেই অধিকার তাদের থাকা উচিত। একই রকম কারও কারও যদি ধর্মে বিশ্বাস না করতে ইচ্ছে হয়, ধর্মের সমালোচনা করতে ইচ্ছে হয়, সেই অধিকারও তাদের থাকা উচিত। কিন্তু জোর করে ধর্মকর্ম করতে বাধা দেওয়া আর ধর্মের সমালোচনা করতে বাধা দেওয়া—দুটোরই বিরুদ্ধে আমি। স্বাধীনতায় বিশ্বাস করলে বাক স্বাধীনতা আর ধর্ম বিশ্বাসের স্বাধীনতা দুটোতেই বিশ্বাস করতে হয়। স্বাধীনতায় আমি গভীরভাবে এবং বড় অকপটভাবে বিশ্বাস করি। স্বাধীনতাহীন জীবন বড় দুঃসহ।
মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবীর এত সহস্র কোটি মুসলিম আইসিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা কেন করে না? কেন অনেকে সব জেনেশুনে আইসিসে যোগ দেয়? আইসিসের আদর্শে তবে কি তারা সত্যিই বিশ্বাস করে নাকি মানুষের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করার আর ধারলো ছোরা দিয়ে মানুষের মুণ্ডু কাটার আনন্দ তারা উপভোগ করতে চায়, নাকি অল্প বয়সী মেয়েদের অবাধে ধর্ষণ করার আর অগুনতি যৌন দাসীকে ভোগ করার মজা পেতে চায়? এছাড়া যে আইসিস নামাজ নিষিদ্ধ করে, যে আইসিস মসজিদ গুঁড়ো করে, ইউনুস নবীর কবর ভাঙে, কাবা ভেঙে ফেলার স্বপ্ন দেখে, ইসলামের এতকালের পবিত্র সৌধ যারা উড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের প্রতি মুসলিম যুব সমাজের এত কেন আকর্ষণ?
আইসিসকে দমানোর চেষ্টা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের বড় শক্তি সৌদী আরব নিজেকে বাঁচানোর স্বার্থেই আইসিসকে নিশ্চিহ্ন করবে। আবার সৌদি আরবের ভেতরের অনেক খাঁটি ইসলামপন্থীদের টাকায় আইসিস শক্তশালী হতে থাকবে। আর আমরা দূর থেকে দেখতে থাকবো খেলা। নিরীহ মানুষ বলি হতে থাকবে আর আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলতে থাকবো আর অপেক্ষা করতে থাকবো মানুষের শুভবুদ্ধির। শুভবুদ্ধি সবার উদয় হয় না, হবেও না। কিন্তু আমাদের অপেক্ষা ফুরোবে না।
অপেক্ষা ছাড়া নিরীহ মানুষের আছেই বা কী।
তবে এই কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, এক আইসিস গেলে আরও আইসিস আসবে। আইসিস তাদের নৃশংসতা দেখিয়েছে পৃথিবীকে। এই নৃশংসার চর্চা আরও বহুকাল চলবে, যতদিন না মানুষ ধর্মকে গৌণ করতে পারে আর মানবতাকে মূখ্য করতে পারে। মানবতাকে মূখ্য করার শিক্ষাটা ধর্মশিক্ষার বাইরের শিক্ষা, সভ্যতার, সমতার, সমানাধিকারের শিক্ষা। আইসিস তৈরি হওয়া সহজ, আইসিসের বিপরীত আদর্শে মানুষকে দিক্ষিত করা সহজ নয়। আইসিসের আদর্শে খুন ধর্ষণ লুটতরাজ আর ভায়োলেন্স। আইসিসের বিপরীত আদর্শে আছে শান্তি। শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কোনওকালেই কোনও
গোষ্ঠীতেই সহজ ছিল না, সহজ নয়।
এই কঠিন কাজটিই আমাদের করতে হবে।
সূত্র: বাংলা টিভিউন
বিনোদন ডেস্ক : নারী অঙ্গে কত না রুপ! আর যে অভিনেত্রী তার তো নিজেকে নানা রুপে উপস্থাপন করতে হয়! সেক্ষেত্রে অভিনেত্রী নিজেকে যত রকমভাবে মেলে ধরতে পারেন ততোই যেন তার খ্যাতি, স্বীকৃতি। বলিউডের উদীয়মান অভিনেত্রীদের তালিকায় থাকা রাধিকাও সেটা জানেন ভালো করে। নিজের নামকে তারকাদের তালিকায় ওপরে দিকে টেনে তুলতে একই সঙ্গে তিনি অভিনয় করেছেন দুটি ভিন্ন রুপে দুই সিনেমায়।
এর একটিতে তাকে পাওয়া যাবে কামনার প্রতিমূর্তি রুপে। আর একটি তিনি চিরায়ত প্রেমের মূর্তি। দুটি ভিন্ন স্বাদের ছবিতে আলাদা-আলাদা চরিত্রে এবার রাধিকা আপ্তে। সম্প্রতি রাধিকার আগামী দুই সিনেমা সুজয় ঘোষের অহল্যা ও কেতন মেহেতার মানঝি- দ্য মাউটেন্ট ম্যান-এর ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে।
দেখুন : অহল্যা সিনেমার ট্রেইলার
রহস্যের মোড়কে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অহল্যার ট্রেইলারে সাসপেন্স বজায় রেখেছেন পরিচালক। রাধিকা ছাড়াও এখানে রয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, টোটা চৌধুরী। টোটাকে এখানে পুলিশের চরিত্রের অভিনয় করতে দেখা যাবে। যে পাথর রহস্যের সমাধান করতে আসে রাধিকার বাড়ি। এটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের কোনো সিনেমা নয়, শর্ট ফিল্ম।
দেখুন : মানঝি সিনেমার ট্রেইলার
অন্যদিকে মানঝি, এক প্রেমের কাহিনি। ‘যব তাক তোরেগা নেহি তব তাক ছোড়েগা নেহি’ হ্যাঁ এই প্রেমের এতটাই জোর যে পাহাড় ভেঙে সমতল করার ক্ষমতা রাখে। এই চলচ্চিত্রে রাধিকার বিপরীতে দেখা যাবে নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিকে। নাওয়াজই সেই মাউন্টেন ম্যান যে পাহাড় ভেঙে আত্রি ও ওয়াজির গঞ্জের মধ্যে একটি রাস্তা তৈরি করে। কিন্তু কেন? তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সিনেমা মুক্তির দিন পর্যন্ত। এই সিনেমার গল্প রূপকথার মতো শোনালেও তা কিন্তু সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি।
আব্দুর রাজ্জাক : প্রায় সময় দেখা যায় শোবিজের তারকারা বিয়ে নিয়ে কোনো এক অজানা কারণে লুকোচুরি খেলেন, খেলতে ভালোবাসেন। এই ঘটনা শোবিজের রঙিন দুনিয়ায় একেবারেই প্রাচীন। তবে নতুন করে চোখে পড়ার মতো একটি বিষয় হলো, আজকাল আমাদের অনেক তারকারাই বিয়ে করে চিরবিদায় জানাচ্ছেন মিডিয়াভুবনকে। আর এক্ষেত্রে নারীরাই উল্লেখ্য। মান-মর্যাদা, সামাজিক স্ট্যাটাসের তোয়াক্কা না করে টাকার কুমির কিংবা বিত্তশালীদের গলায় মালা দিয়ে অনেক নারী তারকারা ত্যাগ করেছেন জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা আর কাট-অ্যাকশানের হাঁক ডাক। এ নিয়ে শোবিজে বিস্তর গবেষণা চলে প্রতিদিন। বিয়ে করেই কেন মিডিয়া ছেড়ে দেন কিছু তারকা? এসব যুক্তিতর্কে বারবার উঠে আসে তারকাদের ছোটলোকি মন, অকৃতজ্ঞ স্বভাব আর মিডিয়া-দর্শকদের সঙ্গে নীরব প্রতারণার বৈশিষ্ট। কেননা, তারকারা খ্যাতি পান মিডিয়ার জন্য, দর্শকদের জন্যই। হয়তো তারা নিজেদের মেধার বাহাদুরি করতে চাইবেন। কিন্তু এটা এক বাক্যে তাদের মানতে হবে, প্রচারণা না থাকলে, দর্শকদের কাছে না পৌঁছালে সুপ্ত মেধার কোনো মূল্য নেই। তাই সবাই আজকাল প্রকাশ্যেই বলাবলি করেন, এইসব তারকারা মূলত আসেন নাম-যশ কামিয়ে টাকাওয়ালা বরের সন্ধাণ করতেই। আর যখন সেটি পেয়ে যান তখন আর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবেন না। চলুন দেখে নেই বিয়ে করে শোবিজকে বিদায় জানানো তারকাদের নামগুলো।
সারিকা
২০০৬ সালে একটি মোবাইল কোম্পানির মডেল হয়ে শোবিজে অভিষেক ঘটে মডেল ও অভিনেত্রী সারিকার। এর চার বছর পর আশুতোষ সুজনের ‘ক্যামেলিয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেন। তবে অমিতাভ রেজার পরিচালনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে ২০০৮ এর দিকে মিডিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দেন সারিকা। তারপর বাকিটা ইতিহাস। পত্রিকার বিনোদন পাতায়, টেলিভিশন, পর্দায়, বিলবোর্ডে এবং সাধারণ মানুষের মনে অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে মডেলিংয়ে পেয়েছিলেন একচেটিয়া জনপ্রিয়তা। একজন আদর্শ বউ হয়ে উঠার স্বপ্ন নিয়ে সেই লোভনীয় ক্যারিয়ারকে তিনি ‘গুডবাই’ বলে দিলেন বিয়ের পর! হ্যাঁ, সবাই অবাক হয়েছিলো সারিকার এই সিদ্ধান্তে।
গেল বছরের ১২ অগাস্ট, মঙ্গলবার এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে সাত বছরের বন্ধু মাহিম করিমের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন সারিকা। পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারের বাসিন্দা মাহিম পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
উল্লেখ্য, সারিকা অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে মোহন খানের ‘রাধা তুমি কার’, এস এ হক অলিকের ‘গেন্দুচোরা ও প্রেমকাহিনী’, হিমেল আশরাফের ‘প্রেমের বেদনা’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘আহা বালিকা’ ও ‘বিকেলে সোনা রোদ’, সাইফ চন্দনের ‘একটু বোকামি অনেকটা পাগলামী’ ইত্যাদি।
আফসান আরা বিন্দু
লাক্স-চ্যানেল আইয়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি। আর এই প্রতিযোগিতা মিডিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে বিন্দুকে। পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদের গল্প এবং তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রটি দিয়েই মিডিয়ায় অভিষেক ঘটেছিল তার। এছাড়াও বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও নাটকের অভিনয় দিয়ে তিনি খুব সহজেই পৌঁছে যান দর্শকদের অন্তরে। দ্রæতই পরিণত হন শোবিজের চাহিদা সম্পন্ন একজন শিল্পীতে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও তিনি বাজিমাত করেন নতুন মুখ হিসেবে। ‘পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’ ও ‘জাগো’ ছবির মাধ্যমে বিন্দু নিজেকে প্রমাণ করেছেন বড়পর্দায়। সর্বশেষ চলতি বছরেই মুক্তি পাওয়া ‘এই তো প্রেম’ নামের আরেকটি ছবিতে শাকিবের বিপরীতে কাজ করে তিনি অনেক সম্ভাবনার জন্ম দেন। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি, সব সম্ভাবনার ইতি বিন্দু নিজেই টেনে দিলেন নিজের উড়ন্ত ক্যারিয়ারের।
সম্প্রতি বিয়ে করেছেন এই লাক্স তারকা। পাত্র আসিফ সালাহউদ্দিন মালিক। তিনি আসিফ অ্যাপারেলস লিমিডেটের কর্ণধার। কুমিল্লার ছেলে আসিফ রাজধানীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেই আসিফের জীবন সঙ্গী হয়েই বিন্দু ঘোষণা দিলেন, আর কাজ করবেন না শোবিজে। এই সিদ্ধান্তের কোনো নড়চড় হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেন বিন্দু। তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে আসলে একসঙ্গে দু’টি বিষয় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এখন থেকে নিজেকে পুরোপুরিভাবে পরিবারের কাজে নিয়োজিত করতে চাই।’ তবে এতদিন যাদের জন্য তিনি আজকের বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন সেইসব দর্শকরা তাকে মিস করলে কী করবেন- জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিন্দু।
সাহারা
অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে চলচ্চিত্রের আঙিনায় পা রেখেছিলেন লাস্যময়ী নায়িকা সাহারা। ২০০৩ সালে অভিষেক হয় তার। অনেক পরিশ্রম করে ঢাকার চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক তারকার সঙ্গে জুটি বাঁধলেও তার সফল চলচ্চিত্রগুলোর নায়ক শাকিব খান। সব মিলিয়ে ৫০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তারমধ্যে বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ তার অভিনীত সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্র। এতেও তার বিপরীতে ছিলেন শাকিব খান। সর্বশেষ গেল বছরের শুরুর দিকে মুক্তি পায় সাহারা অভিনীত ‘তোকে ভালোবাসতেই হবে’ চলচ্চিত্রটি।
এরপর তাকে আর মিডিয়ায় দেখা যায়নি। তখন থেকেই গুঞ্জন উঠেছিলো তবে কী অভিনয় ছাড়ছেন সাহারা। খোঁজ নিতেই জানা গেলো কোনো এক প্রযোজকের সাথে প্রেম করছেন তিনি। সেই প্রেমিকের ইচ্ছেতেই অভিনয় করছেন না। আর গেল ৮ মে, শুক্রবার জানা গেলো সেই প্রেমিকের নামটাও। তিনি ‘ঢাকা টু বোম্বে’ ছবির প্রযোজক মাহবুবুর রহমান মনি। ওইদিন তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সাহারা। আর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানেই মিডিয়া ত্যাগের ঘোষণা দিলেন। এখন থেকে আর দর্শকদের মনোরঞ্জন নয়; সংসার সামলাবেন সাহারা।
শায়না আমিন
বদরুল আনাম সৌদের ‘ক্রস কানেকশন’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় পা রাখেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শায়না আমিন। এরপর বেশ কিছু বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজ করেন। ‘গুড়া মশলা’, ‘রমজানের ইফতার`’, ‘রেক্সনা’র বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়ে তিনি দারুণ প্রশংসিতও হন। পাশাপাশি আবু আল সাঈদের ‘প্রেমের অঙ্ক’, ‘এলমি নো’, ধারাবাহিক ‘লোকালয়`’, আরিফ খানের ‘মন উচাটন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে অল্পদিনেই তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।
সেই সুবাদে নাম লিখান চলচ্চিত্রের রুপালী পর্দায়। ২০১১ সালে কাজ করেন ‘মেহেরজান’ নামেরি একটি চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায়। প্রেম ও মুক্তিযদ্ধের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবিটি নিয়ে বিতর্ক হলেও প্রশংসিত হয় শায়নার অভিনয়। ২০১২ সালে মুক্তি পায় শায়নার দ্বিতীয় ছব ‘পিতা’। এটিও ছিলো মুক্তিযুদ্ধের গল্প নির্ভর চলচ্চিত্র। আর চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারী মুক্তি পাওয়া নার্গিস আক্তার পরিচালিত বাণিজ্যিক ছবি ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ মুক্তির পর নির্মাতারা যখন শায়নাকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তখনই বিয়ে করে সংসারী হবার ইচ্ছে নিয়ে দেশ ছাড়েন শায়না। লন্ডনে গিয়ে মাসুদ রানা নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে বিয়ে করেছেন তিনি। সেখানেই পেতেছেন সুখের সংসার। প্রায় ৪ মাস হয়ে গেল দেশে ফিরছেন না। শোনা যাচ্ছে শোবিজে আর কাজ করার ইচ্ছে নেই শায়নার। অবশ্য তার দ্বিতীয় স্বামী রানারই আপত্তি। তিনি চান না শায়না অভিনয় করুক।
লামিয়া
ভিট চ্যানেল আই টপ মডেল ২০১৪’র প্রথম রানার্সআপ হয়েই তার রঙিন জীবনে পদার্পণ। তারপর কাজ করেছেন নাটকে। তিনি সাদিয়া ইসলাম লামিয়া। সম্প্রতি সায়মন তারিক পরিচালিত ‘মাটির পরী’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। এটি এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে। কিন্তু ক্যারিয়ারে নতুন পালক যোগ হবার আগেই সব কিছুর ইতি টানলেন লামিয়া। গেল মে মাসেই বিয়ে করে, বিয়ের অনুষ্ঠানেই সাংবাদিকদের কাছে ঘোষণা দিলেন ‘শোবিজে আর কাজ করব না’। এসময় লামিয়া বলেন, ‘এখন সংসার নিয়ে থাকতে চাই। তাই অভিনয়ে আপতত আমাকে দেখা যাবে না।’ তবে ভবিষ্যতে কবে নাগাদ দেখা যাবে সে বিষয়েও কিছু বলেননি লামিয়া। তার নীরবতাই বলে দিয়ে যায়, মিডিয়া থেকে নিজের নামটি মুছে দিতেই চলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গেল ১৪ মে মিরপুরের একটি অভিজাত রেঁস্তোারায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় লামিয়ার। তার বর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নৃত্য পরিচালক তানজিল আলম।
এই উল্লেখ করা পাঁচ তারকা ছাড়াও চলচ্চিত্রাভিনেত্রী রেসি, জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা, কণ্ঠতারকা সোনিয়াসহ আরো অনেক তারকাই বিয়ে করে মিডিয়া ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছেন যারা বিয়েটাও করেছেন লুকিয়ে। তবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের শিল্পী সঙ্কট; বিশেষ করে মেধাহীন শিল্পের এই বাজারে মিডিয়া ছেড়ে দেয়া এইসব সফল ও জনপ্রিয় তারকাদের শূন্যস্থান সহজে পূরণ হবে না। তাদের যেমন মিস করবে ভক্ত-দর্শকেরা, ঠিক তেমনি তাদের অভাবে ভুগবে আমাদের শোবিজ। তাই আর কোনো নতুন তারকা যেন এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত না নেন, সেই শুভকামনা রইল।
বিনােদন ডেস্ক: আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করে ঝড় তুললেন বলিউডের সুপারমডেল সোফিয়া হায়াত ! বরাবরের মত এবারও মন্তব্য করেছেন বলিউডের এক জনপ্রিয় তারকাকে নিয়ে। আর সেই তারকা হলেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশন !
সম্প্রতি তিনি হৃতিক রোশনকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে চেয়ে তার মনের ইচ্ছার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। আর তার পর থেকেই সোফিয়ার এমন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলে দিয়েছেন হৃতিক ভক্তরা।
সম্প্রতি সোফিয়া এক সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়েছেন ”আমি হৃতিক রোশনকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে চাই”। তবে শুধুমাত্র হৃতিকই নন, আরও অনেক তারকাকেই পোশাকহীন অবস্থায় দেখতে চান তিনি। সেই লিস্টে রয়েছেন হলিউড তারকা ব্র্যাডলি কুপার ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও !
হৃতিক ভক্তরা দাবী করেছেন সোফিয়া মানসিকভাবে অসুস্থ ! তাই বলিউড থেকে তাকে বিতাড়িত করা হোক। দেখা যাক হৃতিক ভক্তদের এমন জোরালো ক্ষুদ্ধ ভূমিকায় শেষ পর্যন্ত কি অবস্থা হয় সোফিয়ার। উল্লেখ্য, এর আগে নিজের স্নানের দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়েও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি।
ঢাকা: গত বুধবার (৮ জুলাই) সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চোর সন্দেহে নির্মম নির্যাতনে করে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে। এরপর ঘাতকরা ২৮ মিনিটের সেই হত্যা দৃশ্য ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আলোচনার ঝড় ওঠে। সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও প্রতিবাদ জানালেন। তিনি তার ফেইসবুক ফ্যান পেইজে ‘say no to child abuse’ লেখা প্ল্যাকার্ডের একটি ছবি আপলোড করেন।

সেই সাথে তিনি বাংলা ও ইরেজিতে এ ঘটনার প্রতিবাদে লেখেন, ‘There can never be a worse crime than abusing an innocent child to death. Say no to child abuse!’
“একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার মতো বড় অপরাধ মনে হয় আর নেই। শিশু নির্যাতনকে না বলুন!”
নিহত শিশুর বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে। তার বাবা শেখ আজিজুর রহমান একজন মাইক্রোবাসচালক। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে রাজনই বড়। পরিবারের খরচ চালাতে রাজন সবজি বিক্রি করত।
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে আসামি মুহিত আলমের পর তার স্ত্রীকেও আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় শেখপাড়া এলাকায় মুহিতের বাড়ি থেকে স্ত্রী লিপি বেগমকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় আরও তথ্য উদঘাটন করতে জিজ্ঞাসাবাদের লিপি বেগমকে আটক করা হয়েছে।”
গত বুধবার রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করার সময় মুহিতকে পুলিশে দেয় জনতা। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানালে তাতে সায় দেন সিলেটের মহানগর হাকিম ফারহানা ইয়াসমিন। গত বুধবার সকালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ১৩ বছরের রাজনকে। নির্যাতনের ভিডিও নির্যাতনকারীরা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করে। এই ঘটনায় আসামিদের মধ্যে শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মুহিত (৩৫) ছাড়াও রয়েছেন তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)।
আসামিদের মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে ইসমাইল হোসেন আবলুছ (২২) নামে একজনকে সোমবার আটক করেছে পুলিশ। কামরুল, আলী ও ময়না পলাতক। সৌদি আরব প্রবাসী কামরুল সে দেশে ফিরে গেছেন বলে গ্রামবাসীর ধারণা।
এই নির্যাতনে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেছেন, রাজনকে নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ।
রহমত উল্লাহ নিজেই এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
“গত রাত থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে,” বলেছেন তিনি।
নিউজ ডেস্ক: সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে (১৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন আসামি কামরুল হাসানকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় সোমবার তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভি।
গত ৮ জুলাই সকালে সিলেট শহরতলির কুমারগাঁওয়ে ‘চোর সন্দেহে’ নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শিশু রাজনকে। পরে লাশ গুম করার সময় স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে আটক করে কামরুলের ভাই মুহিত আলমকে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
রাজন হত্যার ঘটনায় মুহিত, তার ভাই কামরুল ইসলাম, আলী হায়দার ও স্থানীয় চৌকিদার ময়না মিয়া লালকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়।
জানা গেছে, মামলার আসামি সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের কামরুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি প্রবাসী। কিছুদিনের জন্য দেশে এসেছিলেন তিনি। রাজনকে পিটিয়ে হত্যার একদিন পরই আবার সৌদি আরব চলে যান তিনি।