May 7, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবানে দেশের ‘সবচেয়ে উঁচু’ সড়কসহ তিনটি সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবন থেকে বিআইডব্লিউটিসির একটি জাহাজ ও দুটি ফেরিরও উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের জন্য তার সরকারের ‘ঈদ উপহার’।
এসব প্রকল্পের মধ্যে বান্দরবানের থানচি থেকে আলীকদম পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তৈরি এ সড়কটি দেশের সবচেয়ে উঁচুতে বলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে জানান।
সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব দিক দিয়েই মানুষের উন্নয়ন ‘তরান্বিত হবে’ বলে ভিডিও কনফারেন্সে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের স্কুল কলেজগুলোকে আবাসিক করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল ও কলেজ করারও ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংস রাজনীতির অবসানে ১৯৯৬ সালে শান্তিচুক্তির পর থেকে সেখানকার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার ‘ব্যাপক’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট শান্তি চুক্তির বিরোধিতা ও পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আলীকদম যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার মেজর জেনারেল শফিকুল রহমান, সড়ক পরিবহন মন্ত্রাণলালয়ের যুগ্ন সচিব শফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল ওহাব, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার নকিব আহম্মদ চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রমান।
উদ্বোধন করা অন্য প্রকল্পগুলো হলো- রংপুর বিভাগে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের মহাসড়ক, ঢাকার আশুলিয়া-বিরুলিয়া সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক ও একটি সেতু।
রংপুরের মহাসড়ক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রংপুর সবসময়ই অবহেলিত ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই মঙ্গা দূর হয়েছে।”
সরকার ‘উন্নয়ন করেছে বলেই’ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ পর্যায় থেকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
সবশেষে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি মধুমতি’ এবং ‘ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা রো রো ফেরি’ ও ‘কুসুমকলি’ ফেরির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
নৌপথে স্বল্প খরচে যাত্রী ও পণ্য পরবিহনের সুযোগ থাকায় এ পথকে জনপ্রিয় করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা নৌপথকে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছি।”
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ পোড়ানোর কথাও এসময় তিনি মনে করিয়ে দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “এভাবে যদি বাস, ট্রেন, লঞ্চ না পোড়ানো হতো, তাহলে মানুষ আরো ভালোভাবে (ঈদে) বাড়ি ফিরতে পারত।”