May 7, 2026
ঢাকা: টার্গেট আহামরি নয়, ১৬৩ রান। কিন্তু সেই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ২৪ রানেই ২টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপের ‘নায়ক’ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ওপেনার সৌম্য সরকার সেই চাপ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের কল্যাণে জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। ১২.৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৯ রান। সৈৗম্য সরকার ২৪ ও মাহমুদউল্লাহ ১৭ রানে ক্রিজে আছেন।
রোববার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যাটিংয়ে শুরু ভালো না হলেও টস জিতে দিনের শুরুটা ভালোই হয়েছিল হাশিম আমলার দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে মাঠে বল গড়ানোর পরপরই পুরনো দৃশ্যপট গেল পাল্টে। মুস্তাফিজ-মাশরাফিদের বল খেলতে যেন বেশ কষ্টই হচ্ছিল দুই ওপেনার হাশিম আমলা ও কুইন্টেন ডি ককের। যার ধারাবাহিকতায় প্রথমজন ফিরলেন দলীয় ৪৫ রানে, তারও আগে দলীয় ১৬ রানে দ্বিতীয়জন।
দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরানোয় ভূমিকা ছিল দুই পেসার রুবেল ও মুস্তাফিজুরের। ছন্দের ধারাবাহিকতায় এরপর আসল স্পিনারদের পালা। দলীয় ৫৯ ও ৭৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরা রুশো ও মিলারের শিকার হয়ে দাঁড়ান নাসির ও মাহমুদউল্লাহ। আর এই ৪ উইকেটের পতনই দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর চাপের আস্তরণ ফেলে দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপে পঞ্চম আঘাত হানেন নাসির। নিজের দ্বিতীয় উইকেট লাভের মাধ্যমে এই অলরাউন্ডার সাজঘরে ফেরান ফেফ ডু প্লেসিসকে। ৩২তম ওভারে দলীয় ১০০ রানের মাথায় মুস্তাফিজুরের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন জেপি ডুমিনিও।
শেষ দিকে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন প্রোটিয়া লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। কিছুটা মারমুখো হয়েই মুস্তাফিজ-নাসিরদের ওপর ব্যাট চালাতে থাকেন বেহারডিন-অ্যাবটরা। কিন্তু প্রোটিয়া শিবিরে আবার আঘাত হানেন মুস্তাফিজ ও নাসির। দুজনই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। মাশরাফির নিয়ন্ত্রিত বোলিং ইনিংসের ইতির দিকে বেশ ভুগিয়েছে সফরকারীদের লোয়ার অর্ডারকে। মাশরাফির ডেলিভারিতে ইমরান তাহিরের উড়িয়ে মারা বল বাউন্ডারি লাইনের খুব কাছে দাঁড়িয়ে থাকা নাসির তালুবন্দি করলে ৪ ওভার বাকি থাকতেই ১৬২ রানেই থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ ৪১ রান এসেছে ডু প্লেসিসের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া ফারহান বেহারডিন ৩৬ ও অধিনায়ক হাশিম আমলা ২২ রান করেছেন।
এদিকে, প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। এ ম্যাচে জিততে পারলে সিরিজে সমতায় ফিরবে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকা দলে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন পেসার রুবেল হোসেন।
বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, লিটন দাস, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, রুবেল হোসেন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ : হাশিম আমলা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডু প্লেসিস, রিলে রুশো, জেপি ডুমিনি, ডেভিড মিলার, ফারহান বেহারডিন, কাগিসো রাবাদা, ইমরান তাহির, কাইল অ্যাবোট ও ক্রিস মরিস।
বিনােদন ডেস্ক: ঈদ-উল-ফিতরে মুক্তি পাচ্ছে না শাকিব খান ও পরীমনি অভিনীত ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ সিনেমাটি। সিনেমার পরিচালক এস এ হক অলিক নিশ্চিত করেছেন, সিনেমাটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। অলিক বলছেন, “সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ মুহূর্তে সিনেমাটি ভারতের একটি স্টুডিও ল্যাবে রয়েছে। ল্যাব থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে সিনেমাটির কারিগরী দিকগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব না। আমিও ভাবলাম তাড়াহুড়ো করব না। সিনেমাটি ১০০% পারফেক্ট করে তবেই মুক্তি দেব।”
রিয়াজ-পূর্নিমা জুটির ‘হৃদয়ের কথা’ এবং ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’র মতো সিনেমার এই পরিচালক বলছিলেন, ঈদের পরই ভারতে গিয়ে তিনি সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ করবেন। তারপর ভালো একটি সময়ে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করবেন।
এদিকে ঈদে সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে না বলে মন কিছুটা খারাপ হলেও হতাশ হননি পরী, “সিনেমাটি নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমরা সিনেমাটির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারিনি। আমি চাই না, আমার এই দারুণ সিনেমাটি অসম্পূর্ন অবস্থাতেই মুক্তি পাক। সিনেমাটির কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ হলে তবেই মুক্তি পাক। আমি হতাশ হইনি মোটেও।”
এবার ঈদ-উল-ফিতরে তাই অপু বিশ্বাস ও মাহিয়া মাহির সঙ্গে টক্কর দেওয়া হচ্ছে না পরীমনির। তবে ঈদ-উল-আযহায় তার কোনো একটি সিনেমা মুক্তি পেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন।
সিনেমার নায়ক শাকিব খানের বরাত দিয়ে পরিচালক অলিক গ্লিটজকে বলেছেন, “সিনেমাটি নিয়ে শাকিবেরও প্রত্যাশা ছিল। সে যখন শুনলো, সিনেমাটি আসছে না ঈদে, খুব মন খারাপই করেছে সে।”
‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ সিনেমাটিতে শাকিব খান ও পরীমনি ছাড়া বিশেষ অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে ববি হককে। এ চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল অপু বিশ্বাসের। কিন্তু তিনি রাজি হননি।
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে দর্শনার্থী প্রবেশ ও এর শৌচাগার ব্যাবহারে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার বড় সরকারী হাসপাতালগুলোকে এর আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলছেন, প্রবেশ ফি হিসেবে একশ থেকে দুইশ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ হতে পারে। রোগীর সাথে দুজন এটেনডেন্ট ছাড়া অন্য দর্শনার্থীদের এই ফি দিতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং আইন কানুন খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মি. নাসিম।
ঢাকা এবং মফস্বল শহরগুলোতেও যে একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যে রোগীকে দেখতেই হবে, সেটা হতে পারে না। প্রয়োজনে একটা ওয়েটিং রুম করে দেবো, সেখানে এসে খোঁজ নেবে। বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অহেতুক দর্শনার্থীরা আসার কারণে চিকিৎসার পরিবেশও ব্যহত হয়।
এছাড়াও শৌচাগার ব্যবহারেও ফি আদায় করা হলে শৌচারগুলো আরো পরিষ্কার থাকবে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ঢাকা: রাজধানী ঢাকার যান চলাচলব্যবস্থা প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া এ থেকে উত্তরণের পথ নেই। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা এমনটাই মনে করেন। রাজধানীর দুই মেয়রও জানালেন, এ সমস্যা সমাধানে তাঁদের সরাসরি তেমন কিছু করার ক্ষমতা নেই।

দুই মেয়রের মতে, রাজধানীতে এমনিতেই রাস্তার ধারণক্ষমতার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অযান্ত্রিক যানের অবাধ বিচরণ, যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখল, পরিকল্পনাহীন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, শহরের ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচল, চালক ও পথচারীদের নিয়ম না মানার সংস্কৃতি। আরও আছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিকল্পনাহীন ব্যবস্থাপনা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অসহ্য যানজটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে রাজধানীর জীবনযাত্রা।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের মতে, ঢাকার ট্রাফিক-ব্যবস্থা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই যানজট সমস্যার স্বল্পমেয়াদি কোনো সমাধান নেই। দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত ও এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যার কিছুটা সমাধান সম্ভব। তারই অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা গণপরিবহন-ব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।
এক হিসাবে দেখা গেছে, রাজধানীতে যানজটের কারণে বছরে ক্ষতি প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। দেড় কোটি মানুষের ‘মেগাসিটি’ ঢাকায় জনসংখ্যার সঙ্গে বাড়ছে যানবাহন। বাড়ছে না শুধু রাস্তা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি শহরের রাস্তার পরিমাণ হওয়া উচিত মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ। অথচ ঢাকায় এই পরিমাণ মাত্র ৭-৮ শতাংশ। এর একটি বড় অংশ আবার পার্কিং ও হকারদের দখলে।
ট্রাফিক বিভাগের হিসাবে, রাজধানীতে যে পরিমাণ রাস্তা আছে তাতে তিন লাখের মতো গাড়ি চলতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাজধানীতে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা প্রায় নয় লাখ। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। অথচ ২০০৯ পর্যন্ত রাজধানীতে মোটরযানের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখের কিছু বেশি। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগরে ৭৯ হাজার লাইসেন্সধারী রিকশার বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ রিকশা চলছে বলে ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, রাজধানীতে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি (প্রাইভেট কার)। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৯টি কার চলাচল করে। অথচ গণপরিবহন হিসেবে বিবেচিত বাসের সংখ্যা ২২ হাজার ৮১৪ এবং মিনিবাসের সংখ্যা ৯ হাজার ৯৯৫।
এ অবস্থায় পরিবেশবান্ধব যান হিসেবে বাইসাইকেলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাংলাদেশের বাইসাইকেল ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, বাংলাদেশে কয়েক বছরে সাইকেল বিক্রি ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে সাইকেল চলাচলে সুবিধার জন্য আলাদা লেন করার কথা ভাবছে না ট্রাফিক বিভাগ। ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাইকেলের লেন হলে তো ভালোই হয়। তবে আমাদের এখানে তো রাস্তাই নেই, সাইকেলের লেন কীভাবে করবেন?’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক সারোয়ার জাহান বলেন, যানজট কমাতে হলে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির সংখ্যা কমাতে হবে। আর তা করতে হলে গণপরিবহন বাড়ানোরও বিকল্প নেই।
যানজটের কারণ হিসেবে অনেকে দায়ী করেন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা ও গাফিলতিকে। কিন্তু ট্রাফিক বিভাগের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া কোনোভাবেই ট্রাফিক-ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তারা ঢাকার বুকে অনেকটা ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার হয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগের সূত্রমতে, সোয়া তিন হাজার ট্রাফিক সদস্যের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ কনস্টেবল তিন পালায় দিনরাত কাজ করেন ঢাকা শহরের প্রায় ৬০০ ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে। প্রথম পালায় প্রতিদিন ভোর ছয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত কাজ করেন ১ হাজার ৩৫০ জন কনস্টেবল। বিকেলের পালার কাজ বেলা দুইটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকেন ১ হাজার ৪০০ কনস্টেবল। এ ছাড়া ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রাত ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত ১৫০ জন ট্রাফিক কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ছুটির কারণে মোট জনবলের মাত্র ৮০ ভাগ সদস্যকে প্রতিদিন কাজে পাওয়া যায়। সেই হিসাবে প্রতিদিন একেক পালায় ৯৫০ জন ট্রাফিক কনস্টেবল ঢাকার ৬০০ পয়েন্টে কাজ করেন। অর্থাৎ প্রতিটি পয়েন্ট দুজনেরও কম ট্রাফিক কনস্টেবল ঢাকার রাজপথ সামাল দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া ট্রাফিক সার্জেন্টের ৩৫০টি পদ শূন্য রয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের মতে, শুধু ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ালে যানজটের সমস্যা সমাধান হবে না। এতে হয়তো ট্রাফিক সদস্যদের ওপর চাপ কমবে। চাপ সামলাতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদ সারওয়ার জাহান বলেন, মেট্রোরেল বাস্তবায়ন হলে যানজট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার না দিলে ছোট গাড়ির সংখ্যা আরও বাড়াবে। যানজট নিরসনে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখবে না। এ ছাড়া সড়কে পার্কিং বন্ধ করা, গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তবে পুলিশের কর্মকর্তারা ট্রাফিক বিভাগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব কর্মকর্তা বলেন, ট্রাফিক বিভাগের নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন তাঁরা কাজ বুঝে ওঠার আগেই বদলি হয়ে যান। ফলে নীতিনির্ধারণে সমস্যা থেকেই যায়।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সমন্বয় করে আধুনিক সিগন্যাল-পদ্ধতি, বাস বে ও বাস স্টপেজ সংখ্যা বাড়ানো, আন্ডারপাস ও পদচারী-সেতু স্থাপন, গণপরিবহন বাড়িয়ে ছোট গাড়ি কমানো, বহুতল ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর) মেয়র আনিসুল হক তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে গণপরিবহন-ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার, সড়ক সংস্কার ও ফুটপাত প্রশস্ত করে গাছ লাগানো, পথচারীদের জন্য জেব্রা ক্রসিংসহ আরও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘ঢাকায় গাড়ি বেশি, রাস্তা কম। এটাই যানজটের অনেক বড় কারণ। এ ক্ষেত্রে মেয়রের সরাসরি কিছু করার ক্ষমতা নেই।
তবে আমার এখতিয়ারের মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’ তেজগাঁও থেকে ট্রাক টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়া, কারওয়ান বাজার থেকে কাঁচাবাজার সরানো, আমিন বাজারে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করা, মোহাম্মদপুরের বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো এক বছরের মধ্যে সুরাহা করা গেলে যানজট কমার ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনও তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে যানজট নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কার ক্ষমতা কী, সেটার কথা চিন্তা না করে সবাইকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
যানজটের কারণ
* রাস্তার ধারণক্ষমতার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কয়েক গুণ
* অযান্ত্রিক যানবাহনের অবাধ বিচরণ
* ৭৯ হাজার লাইসেন্সধারী রিকশার বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ রিকশার চলাচল
* যেখানে সেখানে পার্কিং এবং ফুটপাত ও রাস্তা দখল
* সেকেলে ট্রাফিক ব্যবস্থা
* অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিকল্পনাহীন ব্যবস্থাপনা
* অতিরিক্ত ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির উপস্থিতি
* অপর্যাপ্ত গণপরিবহন
* শহরের ভেতরে থাকা বাস টার্মিনাল
* রেলক্রসিংয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা
* ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা ও গাফিলতি
* প্রভাবশালীদের গাড়ির চলাচলে নিয়ম না মানার সংস্কৃতি
যানজটের প্রতিকার
* গণপরিবহনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া
* ব্যক্তিগত গাড়ির পরিমাণ কমানো
* ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
* বাস বে ও বাস স্টপেজ সংখ্যা বাড়ানো
* আন্ডারপাস ও পদচারী-সেতু স্থাপন
* অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা
* ট্রাফিক বিভাগের দক্ষতা বাড়ানো
* মেট্রোরেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন
* ভিআইপি চলাচলের নামে রাস্তা বন্ধ না রাখা
* প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
* রাজধানী থেকে শিল্পকারখানা সরিয়ে নেওয়া
প্রথম আলাে
ডেস্ক রিপোর্ট : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিউজ ফিড নিজের মতো করে সাজানোর কিছু নতুন উপায় এনেছে ফেসবুক। এ ক্ষেত্রে নিউজ ফিডে অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য দূর করে সহজেই নিউজ ফিড মনের মতো সাজানোর কয়েকটি উপায় জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
প্রতিবার লগইন করার পর আপনি বন্ধুতালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ও বিভিন্ন পেজের মধ্যে কাকে নিউজ ফিডের ওপরে দেখতে চান, তা ঠিক করে নিতে পারবেন। নতুন টুলে ফেসবুকের বিরক্তিকর কোনো পোস্ট বারবার যেমন দেখতে হবে না তেমন অপ্রয়োজনীয় তথ্যও দূর করা যাবে।
এ জন্য প্রতিবার লগইন করার পর ”following” বা ”see first”-এ ক্লিক করতে হবে। এতে আপনি যাকে প্রথমে দেখতে চান ”see first”-এ ক্লিক করে রাখলে তাকেই আগে নিউজফিডে পাবেন।
ফেসবুকের সফটওয়্যার নিউজ ফিডে আপনাকে কোন বিষয়টি উপস্থাপন করবে তা জানবে বহু বিষয় বিবেচনা করে। এ ক্ষেত্রে কোন কোন বন্ধুর সঙ্গে আপনার ভালো আদান-প্রদান রয়েছে (যেমন আপনি তার ছবি বা পোস্টে লাইক বা কমেন্ট করেন কি না) ইত্যাদি বিবেচনা করে। আর এ ধারায় নতুন করে যোগ হলো কয়েকটি টুল।
বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় ফেসবুক নতুন টুলের কথা জানায়।
ফিচার ডেস্ক : কখনও ভেবে দেখেছেন কী আপনার নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনযাত্রা আপনার যৌন জীবনের কতটা ক্ষতি করছে। জাঙ্ক ফুড থেকে আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি ক্ষয় হচ্ছে। অন্দরে দুর্বল হয়ে পড়ছে পুরুষের শরীর।
এই ঘাটতি পূরণের জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ। যৌন শক্তি তো আমাদের শরীরেরই অংশ। যদি শরীর সঠিক পুষ্টি না পায় তবে যৌন শক্তির সঠিক বিকাশ সম্ভব হয় না। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক, ঘরোয়া উপায়েই কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়।
যৌন দুর্বলতার সমাধানে প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করুন।
প্রতিদিন সকালে না পারেন সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন একটি করে ডিম সিদ্ধ খান। দুধ একটি আদর্শ সুষম খাবার। প্রতিদিন দুধ পান করুন। প্রতিদিন নিয়ম মেনে হালকা ব্যায়াম করবেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান। উপরোক্ত নিয়ম মেনে চললে যৌন দুর্বলতার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করা যায়। আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, পেট সব সময় পরিষ্কার রাখবেন।
স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যশোরে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাথাপিছু ১০ কেজি চাল দেয়ার নিয়ম হলেও দেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি। এর বাইরে চৌগাছার এক ইউপি চেয়ারম্যান ১৬০ বস্তা চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোকজ করেছেন। সূত্র মতে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যশোরের ৮টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভায় গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ভিজিএফের ৩ হাজার ৯ দশামিক ৮৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে সরকার। জুন মাসের শেষের দিকে জনপ্রতিনিধিরা এ চাল বিতরণ শুরু করেন। বর্তমানে বিতরণ কার্যক্রম চলামান রয়েছে। কিন্তু গরীবের এই চাল আত্মসাতে লিপ্ত রয়েছেন ‘অবস্থাসম্পন্ন গরীব’ জনপ্রতিনিধিরা। তারা খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে পরিষদে না নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। এমন একটি অভিযোগ করেছেন চৌগাছার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি মেম্বার গোলাম মোস্তফা। তিনি তার পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৮ মেট্রিক টন বা ১৬০ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রথমে তদন্ত করেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা ইয়ারুল হক। তিনি জানান, ‘চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ১৬০ বস্তা চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করলেও ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ে যাননি। কোথায় আছে সেটাও জানাননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনি অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানাসহ কর্মকর্তারা সরজমিন ওই ইউনিয়ন পরিষদে যান। তারাও বরাদ্দকৃত চালের মধ্য থেকে ১৬০ বস্তা চাল কম দেখতে পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনকে কারণ দর্শানো নোটিশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানা বলেন, ‘চেয়ারম্যান খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করলেও তদন্তে তারা পরিষদের গোডাউনে চাল কম পেয়েছেন। এজন্য তাকে দুই দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে দুই দিন পার হলে তিনি জবাব দেননি। জবাব না দিলে বা সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দলের নেতা আলাউদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক। মেম্বাররা হেয় করতে এই কাহিনি করছেন।’
এদিকে, জেলার ৯১ ইউনিয়নে দুস্থদের মধ্যে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭১৬ কার্ডে ২ হাজার ৭১৭ দশমিক ১৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা পুরোটা পাচ্ছে না গরীবরা। মাথাপিছু তাদের ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্যও করতে পারছে না ভুক্তভোগীরা। চৌগাছার ফুলসর ইউনিয়নে বালতি মেপে এবার চাল বিতরণ শুরু করা হয়। দাঁড়িপাল্লায় না মেপে ওই চাল বিতরণ করায় মাথাপিছু দেড় কেজি কম পান দরিদ্ররা। এতে ক্ষুব্ধ লোকজন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেমিম উদ্দিন খানকে বিষয়টি অবহিত করেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়। তখন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআও) সরজমিনে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন। ওই কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ইউপি মেম্বার জিয়াউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সলুয়া বাজারে যান। সেখান থেকে ১০ কেজি চাল ধরে এমন একটি বালতি কিনে দেন।
শুধু সেখানে নয়, শার্শার ডিহি, লক্ষণপুর, নিজামপুর, বাঘারপাড়া রায়পুর, সদর উপজেলার হৈবতপুর, চুড়ামনকাটি, রামনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে যায় সেখানেও বালতিতে চাল ওজন করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল পাচ্ছেন গরীবরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে শার্শার এক চেয়ারম্যান বলেন, ‘তারা মেট্রিক টন হিসেবে চাল পান। আর বিতরণ করেন খুচরা। তাই চাল মেকাপ দেওয়া যায় না। এজন্য কম দিয়ে মেকাপ দেন। এ ছাড়া খাদ্য গুদাম থেকে চাল পরিষদে আনতে কোনো ভাড়া দেওয়া হয় না। তাই চাল সামান্য কম দিয়ে পরে বিক্রি করে ভাড়ার টাকা তুলতে হয়।’
ঝিনাইদাহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের জিন্নাহ নগর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন-মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন বিশ্বাসের ছেলে আবদুর রশিদ (৪৫) ও আবদুল মমিনের ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৫)। আহত আবদুর রশিদ ভারতের নদীয়া জেলার সত্যিনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে মহেশপুর থানার ওসি শাহীদুল ইসলাম শাহীন জানিয়েছেন এবং তরিকুল ইসলাম জীবননগরের কোনো একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে তার বোন সুন্দরী খাতুন নিশ্চিত করেছেন।
তরিকুল ইসলামের বোন সুন্দরী খাতুন জানান, তার চাচা আবদুল মমিন ও ভাই তরিকুল ইসলাম অন্যান্যের সঙ্গে শুক্রবার রাতে ভারত সীমান্তে গরু আনতে যায়। শনিবার ভোরের দিকে ভারত সীমান্ত থেকে গরু আনতে গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সে সময় তরিকুল ইসলাম আহত হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে প্রবেশ করে এবং আবদুর রশিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ভারত সীমান্তে পড়ে থাকে।
আব্দুর রশিদের বড় ভাই আবদুল মমিন জানান, তার ছেলে তরিকুল ইসলামের পিঠে গুলি লেগেছে তাই তিনি ডাক্তারের কাছে গেছেন। ভাই আবদুর রশিদ ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে শুনেছি। মহেশপুর থানার ওসি শাহীদুল ইসলাম শাহীন জানান, বিএসএফের গুলিতে আহত আবদুর রশিদ ভারতের নদীয়া জেলার সত্যিনগর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।
রাজশাহী প্রতিনিধি : স্ত্রীর ওপর রাগ করে আদনান হোসেন (৬) নামে একমাত্র শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় নির্দয়ভাবে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে পাষÐ বাবা। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ভোরের দিকে পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের চক দর্শনপাড়া গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। রাজশাহীর পবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোনোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাÐের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক জসিম উদ্দিন পুলিশকে জানিয়েছে বিদেশ যাওয়ার জন্য কিছুদিন আগে তার স্ত্রীর বড়ভাইকে আড়াই লাখ টাকা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে তার বিদেশ যাওয়া হয়নি। পরে জসিম উদ্দিন ওই টাকার জন্য স্ত্রী এবং তার ভাইকে চাপ দেন। কিন্তু টাকা দিতে দেরি হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় তার ছেলে আদনান বাবার মায়া ছাড়তে না পেরে তার কাছেই থেকে যায়। কিন্তু শনিবার ভোরে হঠাৎ স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এ কাÐ ঘটান।
রাজশাহীর পবা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, ঘাতক বাবা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাÐের কথা স্বীকার করেছে। এজন্য দুপুরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় নিহতের মা সাকিরা বেগম থানায় বাদী হয়ে মামলা করবেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার : বড়দের জন্য দুঃসংবাদ! ঈদের সালামি দিতে এবার পকেট ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। নতুন টাকার দাম বেড়েছে। ছোটদের প্রতিও অনুরোধ তারা যেন মুরব্বিদের প্রতি একটু সদয় হও। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের চেয়ে অনেক বেশি নতুন টাকা ঈদের আগে ছাড়লেও টাকা নিতে গেলে একটু ঘাম ঝরাতেই হয়। প্রচÐ ভিড়, দীর্ঘ লাইন, তারপর অকস্মাৎ কাউন্টারে টাকা ফুরিয়ে যাওয়াসহ বেশ কিছু ঝক্কি-ঝামেলা তো রয়েছেই। যে কারণেই অনেকে রাস্তায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে নতুন টাকা কেনেন।
সমপরিমাণ টাকার চেয়ে কিছু টাকা বাড়তি দিয়েই পাওয়া যায় নতুন টাকা। এর জন্য ঢাকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বটতলা ও গুলিস্তান জায়গা দুটি বেশ জনপ্রিয়। তবে রমজানের আগে বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এবার নতুন টাকার দামও বেড়েছে কিছুটা। ২, ৫, ১০ ও ২০ টাকার বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে গত বছরের চেয়ে বেশি দরে। প্রতি বান্ডেলে থাকে একশটি নোট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে টাকা বিক্রেতাদের একজন আলেয়া বেগম। গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি টাকা বিক্রি করছিলেন। তাকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, ক্রেতাদের ভিড়, টাকা যেমন দেদারসে বিক্রি করছেন তেমনি কেনার জন্যও ছটফট করছেন। কারণ নিমিষেই ফুরিয়ে আসছে হাতের টাকা।
এ বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, ২ টাকার প্রতি বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা বেশি দরে, ৫ ও ১০ টাকার প্রতি বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা বেশিতে, ২০ টাকার বান্ডেলে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, ৫০ টাকার বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা বেশিতে। আর গত রমজানের ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ২ টাকার বান্ডেল ৩৫-৫০ টাকা বেশিতে, ৫ টাকার বান্ডেল ৫৫-৭০ টাকায়, ১০ টাকার বান্ডেল ৯০-১১০ টাকায়, ২০ টাকার বান্ডেল ১৪০-১৬০ টাকা বেশিতে এবং ৫০ টাকার নোটের বান্ডিল বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩০ টাকা বেশিতে।
শামসুল হক নামের এক ক্রেতা জানালেন, সময় বাঁচাতে ও ভিড় এড়াতেই বাইরে থেকে টাকা কিনছেন তিনি। বাইরে টাকা বিক্রি যাতে না হয় সেজন্য প্রতি ঈদের আগেই আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এখানে পুলিশ নিজে বরং বিক্রেতাদের সহায়তা করে- এমন অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিএমডি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আসলে আমাদের সচেতনতা বাড়ানো নিয়ে কাজ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। কারণ আমরা প্রতিটা ঈদের আগেই আইনশৃক্সখলা বহিনীর কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিই। রাস্তায় যাতে টাকা বিক্রি না হয় সে জন্য ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ করা হয় এ চিঠিতে। কিন্তু ফলাফল বরাবরেই মতই; অপরিবর্তনশীল।’
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঈদ উপলক্ষে নতুন ২২ কোটি টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ে একটি ভিআইপিসহ মোট তিনটি কাউন্টারে নতুন নোট বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২০টি শাখার মাধ্যমে নতুন নোট ও কয়েন বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১২টি শাখায় ১ থেকে ৫০ টাকার নোট ও কয়েন এবং বাকি ৮টি শাখায় ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বিতরণ করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ নতুন টাকা নিতে পারেন ৯ হাজার ৫০০ টাকা।