May 7, 2026
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়তে যাচ্ছে। কারণ গত দু’বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি সুবিধা কার্যকর ছিল না। ফলে মার্কিন আমদানিকারকদের বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে শুল্ক দিতে হয়েছে। এখন অন্য দেশগুলো জিএসপির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি করবে। তাছাড়া মার্কিন আমদানিকারকরা গত দু’বছরে পরিশোধিত শুল্কও ফেরত পেতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পণ্যের সাথে স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশী পণ্য। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি হয়েছে ৫৭৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫৫৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স¤প্রতি স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল ১২৭ দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি কর্মসূচি নবায়ন করেছে। আগামী মাস থেকে ওসব দেশ থেকে পণ্য নিতে মার্কিন আমদানিকারকরা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবেন। তাছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোকে বিশেষ আইনের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধাও ১০ বছর বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসন শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় যথাযথ অগ্রগতি না হওয়ার অজুহাতে ২০১৩ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের জন্য জিএসপি স্থগিত করে। আর তার পরের মাসেই শেষ হয় জিএসপি কর্মসূচির মেয়াদ। তারপর এ কর্মসূচি নবায়ন করতে দু’বছর সময় লাগল। জিএসপি নবায়নের সময় বাংলাদেশের স্থগিত থাকা সুবিধা ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আর হয়নি।
সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যালোচনার পর তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কার্যত নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে ইউএসটিআরের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি। আগামী শুনানি কবে হবে এ বিষয়ে নিশ্চুপ ইউএসটিআর। জিএসপি নবায়নের সময় বাংলাদেশের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করা বৈষম্যমূলক আচরণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তির (টিকফা) আগামী বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। কারণ আফ্রিকার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে আলাদা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাচ্ছে। বাণিজ্য উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ওসব দেশকে রক্ষায় আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (আগোয়া) নামে আইন করেছিল ক্লিনটন প্রশাসন। ২০০০ সালে ২ অক্টোবর কার্যকর হওয়া ১৫ বছর মেয়াদি ওই আইন এবছর শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে তা ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, আগোয়াভুক্ত দেশগুলোর শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর কারণে বাংলাদেশের রফতানিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর আগামী পাঁচ বছরে সাব সাহারান দেশগুলো পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো ২০২০ সালের মধ্যে আফ্রিকা থেকে আমদানি বর্তমানের ১০ গুণ করতে চায়। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে আফ্রিকার সাব-সাহারান দেশগুলো পোশাক রফতানিতে এ খাতের এক নম্বর রফতানিকারক চীনের সমক্ষতা অর্জন করবে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মোট রফতানি আয়ের ২০ শতাংশের বেশি আয় আসে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (ওটেক্স) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগীদের কাছে ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থান হারিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান এখন ষষ্ঠ। চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মেক্সিকো রয়েছে বাংলাদেশের আগে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি না পাওয়া প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম জানান, এতোগুলো দেশ একসাথে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। কারণ অনেক দেশই এখন কমবেশি পোশাক রফতানি করে। অন্য দেশগুলোর জিএসপি নবায়নের পর বাংলাদেশের এ সুবিধা পুনরুদ্ধারে সরকারের পক্ষ থেকে জোর লবিং প্রয়োজন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক যাতে জিএসপির আওতায় রাখে সে বিষয়েও সরকারের ভূমিকা জোরালো হতে হবে।
আর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ডায়লগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা না পাওয়ায় খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ জিএসপি পাওয়া দেশগুলোর রফতানি পণ্য আর বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের মধ্যে মিল কম। অনেক দেশেরই রফতানি তালিকায় তৈরি পোশাক নেই। তবে স্থগিত হওয়ার আগে যেসব পণ্য মার্কিন জিএসপি সুবিধা পেত, সেসব পণ্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
অন্যদিকে ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে জিএসপি স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, সিরামিক, চা, ফার্নিচার, সবজি, তামাক জাতীয় পণ্য, খেলার সরঞ্জাম, রান্নাঘরের সামগ্রী, গলফ সামগ্রী, চশমা, লবণ, পাথর, সিমেন্ট, জাহাজসহ রফতানি তালিকার ছোটখাটো আরও কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা পেত। ওসব পণ্য রফতানিতে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। কোনোটির বেড়েছে, কমেছে কোনোটির। তবে সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি কিছুটা বেড়েছে।
তবে প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির পরিচালক ইউসুফ আশরাফ জানান- জিএসপি নবায়নের ফলে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে প্লাস্টিক পণ্য রফতানি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। গত দু’বছর কোনো দেশের জন্য মার্কিন জিএসপি ছিল না। ফলে বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত থাকলেও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা ছিল। এখন জিএসপি নবায়ন করায় যেখানে অন্য দেশ শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে, সেখানে বাংলাদেশকে গুনতে হবে ১৫ শতাংশ শুল্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জানান- মার্কিন জিএসপি নবায়ন হয়েছে বলে শোনা গেছে। বাংলাদেশেরও জিএসপি ফেরত পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
স্টাফ রিপোর্টার : খালেদা জিয়ার দ্রæত বিচার সম্পন্ন করতে প্রকাশ্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। ঈদের পরে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তার বিচার শেষ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, প্রকাশ্য ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার দায় থেকে যদি খালেদা জিয়া নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তবে রাজনীতি করবেন, আর না পারলে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়ে কারাগারে যাবেন। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মির্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের কাছে আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়, খালেদা জিয়াও নয়। তিনি সা¤প্রতিককালে আগুন দিয়ে দেড় শতাধিক মানুষকে পুড়িয়ে মারার নের্তৃত্ব দিয়েছেন। ৯৩ দিনের এই আগুন সন্ত্রাসের জন্য ও মানুষ পুড়িয়ে মারার দায়ে খালেদা জিয়া অভিযুক্ত। তার নামে মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষ হয়েছে। কয়েকটির অভিযোগপত্র(চার্জশিট) দাখিলও হয়েছে। আলোচনা সভায় জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম স্বপন, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের তরফ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সব গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পরও সে নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হয়েছে দেশের ৫০ ভাগ গার্মেন্টস কারখানা। পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে সরকারের এ বিশেষ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। ফেডারেশন বলছে, শ্রম আইন অনুযায়ী মাসের প্রথম সাত কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের কথা বলা থাকলেও সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ১০ জুলাই পর্যন্ত গার্মেন্টস মালিকদের সময় বেঁধে দেন। কিন্তু ১০ জুলাই পার হয়ে গেলেও দেশের ৫০ ভাগ কারখানাই বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী উৎসব-ভাতা ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা দিলেও তা শ্রমিকরা নির্দিষ্ট সময়ে পাবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কিত সবাই। ঈদের আর ক’দিন মাত্র বাকি থাকলেও প্রাপ্য বেতন না পাওয়া নিয়ে রাজধানীর মালিবাগের আরএম ফ্যাশন গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিক পলি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের বেতন এখনও দেওয়া হয়নি। বলছে ১৩ জুলাই বেতন দেবে। বোনাসের কথা এখনও কইতে পারি না। তবে মালিক বলছে, ১৩ তারিখে বেতনের সঙ্গেই বোনাস দেবে’। ঢাকার কারখানাগুলোর মতো বেতন পরিশোধে ব্যর্থ নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোও। সেখানকার হাশেম টেক্সটাইলের শ্রমিকরা ১১ তারিখ পর্যন্ত বেতন পাননি বলে জানিয়েছেন এক শ্রমিক। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি বলেন, ‘মালিক তো মাসের শুরু থেকেই বেতন আজ দেবে- কাল দেবে বলে টালবাহানা করছেন। ১১ তারিখ চলে যাচ্ছে। কবে বেতন দেবে? ঈদের কেনাকাটা আর করা যাবে বলে মনে হয় না’। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন’র সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের দাবি ছিল, যেন ২০ রোজার মধ্যে বেতন-বোনাস দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার মালিকদের কথা মতো ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিলো। মালিকরা ১০ জুলাইয়েও বেতন দেয়নি। প্রায় ৫০ ভাগ কারখানা শ্রমিকদের মজুরি দেয়নি এখনও। ঈদের আগে বেতন-বোনাস না হলে শ্রমিকরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। টেক্সটাইল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন’র সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, সরকার মালিকদের কথা রাখলেও মালিকরা সরকারের কথা রাখলেন না। ১০ জুলাই পর্যন্ত অনেক কারখানারই শ্রমিকরা বেতন পাননি। বোনাস তো অনেক দূরের কথা, এই শ্রমিকরা কীভাবে ঈদের কেনাকাটা করবেন সে বিষয়ে যেন কোনো মাথা ব্যথাই নেই কারখানা মালিকদের। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে শ্রমিকরা চুপ করে থাকবে না। নির্দিষ্ট সময়ে অনেক কারখানাই শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. আতিকুল ইসলামও। তবে ৫০ ভাগ কারখানাই যে এ ব্যর্থতা দেখিয়েছে তা মানতে নারাজ তিনি। বিজিএমইএ সভাপতি বাংলানিউজকে বলেন, কারখানাগুলোকে তো আর আমরা ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেইনি। সব কারখানার আর্থিক অবস্থা এক নয়। অনেক কারখানা তাদের শ্রমিকদের বেতন দিয়েছে। তবে, কিছু কারখানা এখনো তাদের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, ৮৫ ভাগ কারখানাই তাদের শ্রমিকদের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে। বাকি কারখানাগুলোও শিগগির শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করবে এবং ঈদের আগেই।
বরিশাল প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে নৌ দুর্ঘটনা অনেক কমেছে বলে দাবি করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। গতকাল শনিবার বরিশাল নৌবন্দর পরিদর্শনে এসে গত বছরগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই দাবি করেন তিনি। শাজাহান খান বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সময় বছরে সর্বোচ্চ ৩১টি এবং সর্বনিম্ন ২০টি লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে। “এর বিপরীতে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের আমলে বছরে সর্বোচ্চ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬টি এবং সর্বনিম্ন ৫টি।” চলতি বছরে দুটি লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় নৌদুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ মন্ত্রণালয়, বিআইডবিøউটিএ, বিআইডবিøউটিসি, জেলা প্রশাসন ও আইন শৃক্সখলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নৌযানগুলো বহন করছে স্বীকার করেন তিনি। তবে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে না উঠতে সবার প্রতি তার আহ্বান।
গাজীপুর প্রতিনিধি : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আসন্ন ঈদে যাত্রীসেবার লক্ষ্যে বিআরটিসির অতিরিক্ত ৫০৬টি বাসের মাধ্যমে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এ ছাড়া আপদকালীন হিসাবে আরো ৫০টি বাস মজুদ রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই জনগণকে ঈদে বাড়ি যাওয়া ও ফিরে আসার পথে দুর্ভোগ পোহাতে দেওয়া হবে না এ পণ নিয়ে ঈদ উপলক্ষে সড়ক বিভাগের সব কর্মকর্তা রাস্তায় থাকবে। রাস্তায় চাঁদাবাজি নিরসনে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এজন্য র্যাব-পুলিশ কাজ করছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে গাজীপুরে চেরাগআলী এলাকায় ঢাকা-ময়মসিংহ মহাসড়ক পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব তিনি কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংগঠনিক পর্যায়ে কিছু সমস্যা থাকতে পারে, যেহেতু আওয়ামী লীগ বড় দল, বড় পরিবার। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধ। আমাদের সরকারও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ, এখানে কোনো প্রকার বিভেদ, কোন্দল, দ্ব›দ্ব কেউ লক্ষ্য করেনি।’
এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আফতাব হোসেন খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল, গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বঞ্চিত নারী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য সকলকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষ্যে সকল কাজ করা সম্ভব নয়। তাই বঞ্চিত নারী ও শিশুদের পাশে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে দাঁড়াতে হবে, তাদের সহযোগিতা করতে হবে। এটা শুধু মন্ত্রণালয়ের একার কাজ নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘নারী ও শিশু সবার আগে, বিপদে-দুর্যোগে প্রাধান্য পাবে।’ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বঞ্চিত নারী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমাদের দেশের নারী জনগোষ্ঠী এখনো বঞ্চিত। তাদেরকে শিক্ষা, সামজিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন ও নারী উন্নয়ন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও শিশুদের উন্নয়নে সরকার সর্বদা নিবেদিত এবং বেশকিছু সাফল্য অর্জন করেছে। এই জন্য সবাইকে সঠিক ভাবে কাজ করতে হবে, তা না হলে আমরা কাক্সিখত লক্ষে পৌঁছতে পারবো না। তিনি বলেন, ভিজিএফ কার্ড এর মাধ্যমে সরকার খাবার, টিন প্রদানের মাধ্যমে বাসস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছানো হয়েছে। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ সময়ে সমাজে নারী নির্যাতন রোধে ও জন্ম নিয়োন্ত্রণে মসজিদের ঈমামদের এগিয়ে আসার আহবান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের কারনেই বাংলাদেশ আজ নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলন, যে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করেন। একই সাথে পরিবার পরিকল্পনা, জনসংখ্যা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং বাল্য বিয়ে, কিশোরীর স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০১৫ এর প্রতিপাদ্যকে স্বার্থক ও এ বিষয়ে সকলকে সচেতন করার লক্ষে সারা দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে সেবা কেন্দ্রগুলোর করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়।
সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীরা ক্লাসের মধ্যেই বসে পর্ন ছবি দেখার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ণ পরে গেছে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে। জানা গেছে, গত শুক্রবার কোবাইয়ে সাই বাবা কলোনির একটি সিবিএসই স্কুলের সাতজন ছাত্রী ক্লাস চলাকালীন মোবাইলে ব্লু ফিল্ম দেখছিল।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্ন সিনেমা ও মাদকাসক্তি, এই দুটিই এই প্রজন্মের ছেলেমেয়ের মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ছোট বয়সেই হাতে মোবাইল এসে যাওয়া এই বিপদকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর এই সত্যটা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন যখন তাঁদের মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ক্লাসে শিক্ষক থাকাকালীনই মোবাইলে পর্ন সিনেমা দেখতে গিয়ে ধরা পড়ল। কোয়েম্বাটুরের সাই বাবা কলোনিতে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এই ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গেছে, ক্লাস নেওয়ার সময়ে শেষ বেঞ্চে কিছু অসংলগ্ন আচরণ লক্ষ্য করেন শিক্ষক। সেখানে গিয়ে ধরতেই ওই ছাত্রীর কাছে পাওয়া যায় একটি মোবাইল। সেটা ঘেঁটে দেখা যায় তাতে নানা যৌন উত্তেজক ভিডিও রয়েছে। ঘটনার পরই সময় নষ্ট না করে ওই শিক্ষক স্কুলের প্রিন্সিপালকে তা জানালে ডেকে পাঠানো হয় ছাত্রীর অভিভাবককে।
এরপর পুরো ঘটনা জেনে ও মেয়ের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন ছাত্রীর বাবা-মা। এদিকে এর সাথে সাতদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় ছাত্রীটিকে।
স্পাের্টস ডেস্ক : বিশ্বের এক নম্বর প্রমীলা টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামসের ভাণ্ডারে জম পড়ল আরও একটি শিরোপা। ঐতিহ্যবাহী উইম্বলডন টেনিসের শিরোপাও জিতে নিয়েছেন এই মার্কিন তারকা। শনিবার ফাইনালে স্পেনের গার্বাইন মুগুরুজাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন সেরেনা। ফলে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ফরাসি ওপেনের পর চলতি বছর তৃতীয় গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপাটিও জিতে নিলেন এই মার্কিন টেনিস সম্রাজ্ঞী।
উইম্বলডনে এটি সেরেনার ষষ্ঠ শিরোপা। আর সব মিলিয়ে এটি তার ২১তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপা। আর একটি মেজর শিরোপা জিততে পারলেই জার্মানির সাবেক তারকা স্টেফি গ্রাফের ২২ গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতে পারবেন সেরেনা। সেই সুযোগও পাচ্ছেন চলতি বছর ইউএস ওপেন টেনিসে।
ক্যারিয়ারে এই প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ডস্ল্যাম আসরে খেলতে নেমেছিলেন মুগুরুজা। এরপর আবার সেরেনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপেক্ষ খেলাটা তার জন্য নিঃসন্দেহে কঠিন চাপের বিষয়। এরপরও সেরেনাকে শক্ত চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা। তবে সেরেনাকে আটকাতে তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ অব্দি ৬-৪, ৬-৪ সরাসরি সেটে ম্যাচ জিতে নিয়েছেন সেরেনা।
এ নিয়ে টানা ৪টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম (গত বছর ইউএস ওপেন দিয়ে শুরু) আসরের শিরোপা জিতলেন সেরেনা উইলিয়ামস। ফলে শনিবার অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাবের সেন্টার কোর্টে পূর্ণ হলো ‘সেরেনা স্ল্যাম’; টেনিস বিশ্বের ৪টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম আসরেই একক কোনো খেলোয়াড়ের টানা বিজয়ী হওয়ার গল্প।
ঢাকা: মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এসেছিলেন মাশরাফি বাহিনীকে উৎসাহ দিতে। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ থেকে পার্থক্য এখন একটাই। অথচ, আগে তিনি স্টেডিয়ামে আসতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ দিতে। এখন যে, স্বাগতিক ক্রিকেটার আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানীতে! এমনই এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একটি জয়ের খোঁজে মাশরাফি বাহিনী। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে রোববার বিকালে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই সেই কাংখিত জয়টি পেতে চায় টাইগাররা।
টি২০ সিরিজ হরের পর প্রথম ওয়ানডেতেও হেরেছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজে টিকে থাকতে হলে রোববার দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচমহ ঘরের মাঠে টানা চার ম্যাচে হার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে এখনও কেউই দাঁড়াতে পারছে না। তবে মাশরাফিদের বিশ্বাস, ব্যাটিংটা ভালো হলেই জয়ে ফেরা সম্ভব। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরু হবে বেলা ৩ টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও গাজী টিভি।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের ভয়ে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়েও সফল হতে পারছে না স্বাগতিকরা। তবে মাশরাফিদের ওপর বাড়তি চাপের কারণে, মরা উইকেটেও সফল হচ্ছেন প্রোটিয়া সিমাররা। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে অভিষিক্ত কাগিসো রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৬০ রানে অলআউট হয়ে আট উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।
প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলা দ্বিতীয় ম্যাচেও রাবাদার কাছে আরেকটি ভালো পারফরম্যান্স আশা করছেন।
প্রোটিয়াদের লক্ষ্য এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলা। তবে এখনও আত্মবিশ্বাস হারায়নি টাইগারা। রোববার দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজে ফিরতে প্রস্তত স্বাগতিকরা।
ব্যাটিংয়ে দারুণ ছন্দে থাকা তামিম-মুফিকরা হঠাৎ করেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেছেন। আট ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নেমেও স্কোর বড় করতে পারছে না। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ের মধ্যেই কিছুটা সমস্য দেখছেন মাশরাফি।
শনিবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ক্রিকেটারদের নিয়ে আলাদা করে আলোচনায় বসেছিলেন। সে আলোচনায় বাজে সময় কাটিয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। অবশ্য বৈঠকের কারণে বাংলাদেশের অনুশীলনও শুরু হয়েছে প্রায় দেড় ঘন্টা পরে। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের পায়ের পূরোনো ব্যথা বেড়েছে। দু’দিন ধরে তিনি ক্রাচের সাহায্যে হাঁটছেন। শনিবার অনুশীলনে তাই টাইগারদের ঠিক মতো সময়ও দিতে পারেননি কোচ।
কিন্তু তার আগেই টিম ম্যানেজম্যান্টের আলোচনায় ব্যাটসম্যানদের কানে একটা বার্তাই দিয়েছেন, রানে ফিরতে হবে। ব্যাটিংদের ব্যর্থতার বোলারদের ব্যর্থতা এখনও চোখে পড়েনি। টফঅর্ডারে তামিম ইকবাল টানা চার ম্যাচে রান পাননি। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার দুর্দান্ত শুরু করেও ইনিংস লম্বা করতে পারছেন না। আগের ম্যাচে রাবাদার হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন শুন্য রানে।
বিশেষ করে লিটন কুমার দাসও এখনও আস্থার পরিচয় দিতে পারেননি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ইনজুরি থেকে ফিরে আউট হয়েছেন শুন্য রানে। মুশফিক সর্বশেষ ১৩ ইনিংসে কোনো হাফঞ্চেুরির দেখা পাননি। রান নেই সাব্বিরের ব্যাটেও।
২০১১ সালের পর প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথমবার ২০০’র নীচে আউট হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের উইকেটেও খুব বেশি পরিবর্তন আসছে না। শনিবার নাসির হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় না খুব বেশি কোনো সমস্যা আছে। ব্যাটিংটা ভালো করতে পারলেই আমরা দক্ষিণ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পেতে পারি।’
অপরদিকে সফরকারীরা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায়। তাই তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের অপেক্ষায় না থেকে রোববার মিরপুর ২-০তে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য হাশিম আমলাদের। ডেল স্টেইনদের ছাড়াই তরুণ বোলাররা স্বাগতিকদের উল্টো চাপে রেখেছে। ২০ বছর বয়সী কাগিসো রাবাদা প্রথম ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৬টি উইকেট। অপর পেসার কাইল অ্যাবট হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তার ওপর স্পিনার ইমরান তাহির ও জেপি ডুমিনিকেও ভালো মতো খেলতে পারছেন না তামিম-সাব্বিররা। শনিবার দক্ষিন আফ্রিকার মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলার বলেন, ‘আমরা শেষ ম্যাচের জন্য আর অপেক্ষা করতে চাই না। দ্বিতীয় ম্যাচে জিতেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চাই।’
সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ : তামিমম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস/ এনামুল হক বিজয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, , মাশরাফিবিন মর্তুজা (অধিনায়ক),মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, জুবায়ের হোসেন/রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
মেহেদী হাসান বাবু: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ১১ জুলাই প্রকাশিত হলো এ সময়ের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বেলাল খানের দ্বিতীয় একক অডিও অ্যালবাম ‘আর একটিবার’। এ উপলক্ষে বাংলামটর একটি রেস্টুরেন্টে লেজার ভিশনের আয়োজনে মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পীকে শুভাশিষ জানিয়ে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, শহীদুল্লাহ ফরায়জী, জুলফিকার রাসেল, বিশিষ্ট
সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, বসুধা বিল্ডার্স লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জাব্বার খান, ও কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান, কনা, পুজা, লিজা, সাবরিনা সাবা, উপমা, লুৎফর হাসান, জুয়েল এবং সঙ্গীত পরিচালক পংকজ, প্রিতম হাসান, ইমন চৌধূরীসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেজার ভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, সঙ্গীতাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বত করেন লেজার ভিশনের চেয়ারম্যান এ.কে.এম. আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অ্যালবামের দু’টি গানের ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। উল্লেখ্য, অ্যালবামটি বেলাল খানের দ্বিতীয় একক অডিও অ্যালবাম। অ্যালবামটির গানের কথা লিখেছেন জুলফিকার রাসেল, জাহিদ আকবর, রবিউল ইসলাম জীবন, মাহমুদ জুয়েল, সমেশ্বর অলি, ইকবাল খন্দকার, জীবন মাহমুদ ও আবদুল কাদের মুন্না। সবকটি গানের সুর করেছেন
শিল্পী নিজেই এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মুশফিক লিটু, ইমন চৌধুরী, জেকে, প্রিতম হাসান। অ্যালবামটিতে বেলাল খানের সাথে সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবরিনা সাবা ও উপমা। অ্যালবামটিতে মোট ৯টি গান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হলো একটা বিকেল, বাজী, আর একটিবার, নিশি করি ভোর, মেঘলা দুপুর ইত্যাদি, অ্যালবামটি প্রসঙ্গে শিল্পী বেলাল খান বলেন অ্যালবামটির সবকটি গানই খুবই ভালো হয়েছে। আশা করি শ্রোতারা
এবারের ঈদে আমার অ্যালবামটি ভালোভাবে গ্রহণ করবে বলে আমি আশাবাদি।