May 7, 2026
বিনোদন প্রতিবেদক: চলচ্চিত্রের রাজপটে অন্যতম প্রতিভাবান পরিচালক জহির রায়হানের ৮০তম জন্মদিন বুধবার (আজ)। সব পরিসরের চলচ্চিত্রে অবদান রাখা এ মানুষটির জন্ম ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে। জহির রায়হানের আসল নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। ডাকনাম জাফর।
চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে; ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে। তিনি ‘যে নদী মরুপথে’তেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাকে ‘এ দেশ তোমার আমার’-এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। জহির এ ছবির নামসংগীত রচনা করেছিলেন।
১৯৬১ সালে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’ নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র ‘বাহানা’ মুক্তি দেন। জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আন্দোলনটি তার ওপর যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, এর ছাপ দেখতে পাওয়া যায় তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেওয়া’তে।
‘জীবন থেকে নেওয়া’ ছবির দৃশ্য
Caption
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন।
কলকাতায় ‘জীবন থেকে নেওয়া’র বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এবং চলচ্চিত্রটি দেখে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা এবং ঋত্বিক ঘটকসহ অনেকে ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জহির রায়হান নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রগুলো দেশ বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। প্রামান্যচিত্রগুলো হলো- ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘বার্থ অব নেশন’, ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ এবং ‘ইনোসেন্ট জিনিয়াস’।
তিনি পরিচালনা করেছেন ‘সোনার কাজল’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘জ্বলতে সুরাজকে নিচে’র মতো ছবি। তার পরিচালনায় অসমাপ্ত ছবি ‘লেট দেয়ার বি লাইট’।
পরিচালনার পাশাপাশি ছবি প্রযোজনাতে তাকে পাওয়া গেছে। তার প্রযোজনায় নির্মিত হয় ‘মনের মতো বউ’, ‘জুলেখা’, ‘দুই ভাই’, ‘সংসার’, ‘শেষ পর্যন্ত’ এবং ‘প্রতিশোধ’।
১৯৬৫ সালে তিনি ‘কাঁচের দেয়াল’ ছবির জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসরকারি পুরস্কার ‘নিগার পুরস্কার’ পান। শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ছবিটি ৫টি শাখায় পুরস্কার পায়। ১৯৭২ সালে রাশিয়ার তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘স্টপ জেনোসাইড’ বিশেষ পুরস্কার লাভ করে।
পশ্চিম পাকিস্থানের ভীত নড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার কাজ এদেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে মিরপুর থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াত স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার সকালে দিল্লি পৌঁছানোর পরই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভবনে যান এবং সমবেদনা জানান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে।

বুধবার ভোর ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ছোট বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি পৌঁছান। দিল্লির স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। বিকেলেই শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরবেন।
মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লির সামরিক হাসপাতালে মারা যান শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগে ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৯৪০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।
বিশ্বের সবচেয়ে সুখী জুটি তারা। সম্প্রতি সবচেয়ে ধনী জুটির খেতাবও তারা জয় করে নিয়েছেন। এবার সেই ধন আরো বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ এলো মার্কিন পপতারকা টেইলর সুইফট ও কেলভিন হ্যারিসের সামনে।
একটি ফটোশুটের জন্য পেয়েছেন এক কোটি ডলারের প্রস্তাব। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা! এই টাকা পেতে বিখ্যাত ইতালিয়ান ব্যান্ড ‘আরমানি’র প্রচারণার জন্য আন্ডারওয়্যার পরে ফটোশুট করতে হবে তাদের।
আরমানির সঙ্গে নিজের চুক্তি থাকায় স্কটিশ গায়ক-প্রযোজক হ্যারিস কাজটা আগে বেশ কয়েকবারই করেছেন। কিন্তু নিজের ‘গুড গার্ল’ ইমেজ ভেঙে এমন পোশাকে পোজ দিতে টেইলর রাজি হবেন কি না সেটা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
এর আগে ২০০৯ সালে ডেভিড ও ভিক্টোরিয়া বেকহামের প্রায় একই রকম ফটোশুট প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণায় বেশ কাজে দিয়েছিল। আরমানি কর্তৃপক্ষ তাই উঠেপড়ে লেগেছে টেইলর ও হ্যারিসকে রাজি করাতে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হ্যারিসের হাত ঘুরে প্রস্তাবটি আছে টেইলরের টেবিলে। তিনি রাজি হলেই আসবে ৮০ কোটি টাকার চেক। আর খুব শিগগির এই যুগলকে দেখা যাবে আরমানির আন্ডারওয়্যারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার ভোর ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
ছোট বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি পৌঁছানোর কথা। বিমানবন্দর থেকে তাঁর সরাসরি ভারতের রাষ্ট্রপতির ভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে। আজ নয়াদিল্লির স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। বিকেলেই শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরবেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে নয়াদিল্লির সেনা হাসপাতালে মারা যান শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ভারতের ফার্স্ট লেডিকে। এর পর থেকে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন তিনি।
১৯৪০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শুভ্রা মুখোপাধ্যায়। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ স্বামী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে এসে নড়াইলে পৈতৃক বাড়িতে যান তিনি।
শুভ্রার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
খুলনা: পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে যাওয়া মালবাহী ট্রেনের একটি বগি খুলনার দৌলতপুর স্টেশনে প্রবেশের মুখে লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আজ বুধবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের সহকারী চালক হেদায়েত হোসেন জানান, ভোরে ধীরগতিতে মালবাহী ট্রেনটি ৩ নম্বর লাইন দিয়ে প্রবেশের মুখে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। বগিটি দ্বিতীয় লাইনের ওপর গিয়ে পড়ায় দুটি লাইনেই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি জানান, একটি বগির আটটি চাকা এবং অন্য একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। তবে কী কারণে এই লাইনচ্যুতির ঘটনা, তা তিনি জানাতে পারেননি।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা থেকে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ট্রেন পৌঁছেছে। বগি উদ্ধারে আরো চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের চালক আশরাফ হোসেন।
এদিকে, বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় সকালে কপোতাক্ষ, মহানন্দা, চিত্রা, কমিউটার, রূপসা আন্তনগর ট্রেন খুলনা থেকে ছেড়ে যেতে পারেনি। খুলনায় প্রবেশের অপেক্ষায় আছে চারটি ট্রেন।
গ্যালাক্সি নোট ৫ এবং গ্যালাক্সি এস৬ এজ প্লাস বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়ার দিন দুয়েক পরই দুই ডিসপ্লে সমৃদ্ধ একটি ফ্লিপ স্মার্টফোন বাজারে এনেছে স্যামসাং। তবে স্মার্টফোনটি প্রাথমিক অবস্থায় শুধুমাত্র চীনের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
G9198 মডেলের স্মার্টফোনটির বড় আকর্ষণ হলো এর ডুয়েল ডিসপ্লে। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮০৮ চিপসেট। এতে আছে দুটি ৩.৯ ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে যার রেজুলেশন ১২৮০x৭৬৮ পিক্সেল। এছাড়া আছে ২ জিবি র্যাম, ১৬ জিবি স্টোরেজ।
G9818
স্মার্টফোনটিতে আরও আছে ১৬ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। এছাড়া আছে হার্ট রেট সেন্সর, ডুয়েল সিম, ২,০২০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি।
চীনের বাইরের অন্য কোন দেশের বাজারে স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিক প্রবীর সিকদার গ্রেপ্তার হওয়ার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা। বিশ্লেষকরা বলছেন ‘আইনে থাকা এই ধারার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যে কারো উপরে দমন পীড়ন চালানো সম্ভব’। এই আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে এরই মধ্যে আন্দোলনে নেমেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

২০০৬ সালে প্রণীত তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সংশোধন আনা হয় ২০১৩ সালে। সে বছরের ৮ই অক্টোবর সংসদে সংশোধীত আকারে পাশ হওয়ার পরও অব্যাহত ছিলো এর সমালোচনা। আইসিটি আইনের কিছু ধারা মত প্রকাশ অধিকারের হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করে হিউম্যান রাইটস এক বিবৃতি দিয়ে তখন দাবি করেছিলো, ‘মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগকে আমলে না নিয়ে শাস্তির পরিমাণ আরও কঠিনতর করা হয়েছে। সংশোধিত এ আইনে পুলিশকে সরাসরি মামলা করার ও পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।’
আর এর শিকার হয়েছেন শহীদ পরিবারের সন্তান প্রবীর সিকদার- এমন দাবি করছেন তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামা সমর্থকেরা।
কী আছে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায়
আইসিটি আইনের ৫৭(১) এর যে ধারায় এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাতে বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ৷’
আর ৫৭ (২) ধারা মোতাবেক, ‘কোন ব্যক্তি উপ ধারা(১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দশ বৎসর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন’।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আইনটি অস্পষ্টতার দোষে দুষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যরিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আইসিটি আইন এর মধ্যে মূলত ধারাটিতে ৭টি বড় ধরনের অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা যায়। এগুলো হল, মিথ্যা ও অশ্লীল, নীতিভ্রষ্টতা, মানহানি, আইনশৃংখলার অবনতি, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি’।
ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় মনে করেন, ‘ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচারের কথা বলা হচ্ছে যা হবে মিথ্যা বা অশ্লীল। কিন্তু সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নীতি বা নৈতিকতার কথা বলা থাকলেও কোন কোন বিষয়বস্তুকে অশ্লীল বা মিথ্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে তা এই ধারায় সুস্পষ্ট করা হয়নি। এক্ষেত্রে এ আইনটি সুনির্দিষ্টতার অভাবের কারণে দুষ্ট’।
একারণেই এই আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে মনে করেন তিনি। প্রবীরের আটক/গ্রেপ্তারকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময়। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাহীন হযে যিনি ফেসবুকে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন, তাকে নিরাপত্তা না দিয়ে বরং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেয়া মামলায় প্রবীর সিকদারকে আটক করা অস্বাভাবিক।’ মামলার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। প্রিয়.কম এর কাছে তার মন্তব্য, ‘অভিযোগে বর্ণিত ফেসবুক স্টাটাসে মামলার বাদি কিভাবে সংক্ষুদ্ধ হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। মানহানি ঘটলে মন্ত্রীর ঘটেছে।
মামলা করলে তিনি বা তার আইনগত প্রতিনিধিত্বকারি মামলা করতে পারেন। এমনকি তার আইনজীবিও মামলা করতে পারেনা। সেখানে এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল কীভাবে সংক্ষুদ্ধ হলেন তা স্পষ্ট নয়।’ এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং বিশিষ্ট ব্লগার ফাহমিদুল হক বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সারা পৃথিবীতেই শাসকদের ভীত করে তুলেছে। মানুষ যুথবদ্ধভাবে কথা বলা শুরু করলেই অপশাসনের বিরুদ্ধে কন্ঠস্বর জোরালো হয়ে ওঠে। তাতেই ভীত হয় শাসক’।
তথ্য প্রযুক্তি আ্ইনের ৫৭(১) ধারাকে কালো আইন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা না দিয়ে এই আইনে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে আটকের ঘটনা উদ্বেগজনক।’
সাংবাদিক প্রবীরের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ‘জীবনহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তার জন্য মন্ত্রীকে দায়ী করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন প্রবীর সিকদার। এভাবে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে মন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
স্ট্যাটাসে প্রবীর লিখেছিলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন : ১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের, ৩. ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।’
সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে ৫৭ ধারা সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘৫৭ ধারাটি আইনটিতে এক প্রকার গোঁজামিলের ধারা। মূলত এ ধারাটি সংবাদপত্র ও নাগরিকের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে, যা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যে অনুচ্ছেদে, দেশের সব নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫৭ ধারা যদি প্রচলিত থাকে তাহলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে অপছন্দের যে কাউকে দমন-পীড়ন চালানো যাবে। এমনিতেই মানুষ আতংকে রয়েছে। আর এই আতংকে থাকলে আর যাই হোক চিন্তার স্বাধীনতা থাকে না।’ সুত্র…প্রিয় ডট কম
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জাকির হোসেন (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার জগতি বিআইডিসি রেলবাজারের পাশে একটি বাগানে এ ঘটনা ঘটে। জাকির মিরপুর উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের রাজ্জাক ড্রাইভারের ছেলে।

তাঁর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধের পর একটি দেশী বন্দুক, দুটি ধারালো হাঁসুয়া ও তিনটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির উল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, একটি সন্ত্রাসী দল নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জগতি বিআইডিসি বাজারের পাশে বন বিভাগের বাগানে গোপন বৈঠক করছে।
এর ভিত্তিতে ডিবির একটি দল সেখানে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। আধা ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন জাকির হোসেন। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। সাব্বির জানান, জাকিরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে পুলিশ সদস্য উজ্জ্বল হোসেন, কনক রেজা, সরোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান ও সুজন আহত হন।
তাঁরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, জাকির যুবলীগকর্মী সবুজ হত্যা মামলা ছাড়াও জাসদ নেতা পাঞ্জের হত্যা মামলার আসামি। তিনি সন্ত্রাসী দুলাল বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড।
নিউজ ডেস্ক: মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ও মাগুরায় ছাত্রলীগের বর্তমান এবং সাবেক দুই নেতা পুলিশ ও র্যা বের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। দুজনেরই স্বজনেরা বলেছেন, তাঁদের ধরে নিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নাটক সাজানো হয়েছে। এরপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, তাঁরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মেনে নেবেন না। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে।

রাজধানীর হাজারীবাগে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে র্যা বের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া (২৮)। রাজা মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি ছিলেন আরজু মিয়া। আরজুর মাথার ডানে-বাঁয়ে তিনটি ও বুকের বাঁ থেকে ডান পর্যন্ত সারি ধরে আরও তিনটি গুলির ছিদ্র পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবি, সন্ধ্যায় তাঁকে ধরে নিয়ে ভোরে হত্যা করেছে র্যা ব।
আর মাগুরায় ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে মায়ের জঠরে শিশু গুলিবিদ্ধ ও একজন বৃদ্ধ নিহত হওয়ার মামলার তিন নম্বর আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আজিবর শেখ (৩৪) সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরার পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। আজিবর মাগুরা পৌর ছাত্রলীগের আগের কমিটির নেতা ছিলেন, এরপরে আর কোনো পদ পাননি। নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সোমবার বিকেলে আজিবরকে শালিখা থানা এলাকা থেকে ধরে এনে সদর থানা এলাকায় হত্যা করা হয়েছে।
কিছুদিন ধরে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় একাধিক খুনোখুনির ঘটনা ঘটেছে। বাড্ডায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিন নেতা হত্যা, জাতীয় শোক দিবসের দিন কুষ্টিয়ায় এক যুবলীগ নেতা হত্যা, চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঁদার দাবিতে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রীদের ওপর যুবলীগের হামলা, হাজারীবাগে ছাত্রলীগ নেতার এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগে মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের এ ধরনের অপরাধ প্রবণতায় ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে দলের শীর্ষ পর্যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এক অনির্ধারিত আলোচনায়ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপরাধী দলের হলেও ন্যূনতম কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না বলে জানিয়ে দেন।
এরপরেই দুটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটল। এর আগে এই সরকারের আমলে অনেকগুলো বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটলেও দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া প াওয়া যায়নি। কিন্তু নিজ দলের দুই নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা প্রকাশ্যে এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে।
হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়েছে। এর সভাপতি ইলিয়াসুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক হামিদ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, আরজু মিয়াকে সামান্য অজুহাতে র্যা বের কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা আরও বলেছেন, মেধাবী ছাত্রলীগ নেতা আরজু মিয়ার নামে কোনো থানায় কোনো মামলা ছিল না। ফলে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চেয়েছেন।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, ‘অকালমৃত্যু কারও কাম্য নয়। শিশুহত্যার ঘটনায় আমরা শোকাহত। কিন্তু আগে-পরে আমরা যেটা দেখেছি, সে গণপিটুনির শিকার। চুরির অপরাধে সাধারণ আমজনতা তাকে গণপিটুনি দিয়েছে। দোষ পড়েছে ছাত্রলীগ নেতার ওপর। তারপরও সে যদি দোষী হয়ে থাকে, তবে তদন্তের মাধ্যমে যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া উচিত। আমরাও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতাম। কিন্তু বিচারবহির্ভূত এই হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
তবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘এটা র্যা বের অতি বাড়াবাড়ি। রাজা গণধোলাইতে নিহত হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলব না।’
আর ছাত্রলীগসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অপরাধে জড়িয়ে পড়াসহ সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। খুব দ্রুত এই প্রবণতা কমে যাবে। ইতিমধ্যেই তারা বার্তা পেয়ে গেছে।’ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগকে নেতা নয়, কর্মী উৎপাদনের কারখানা হতে হবে। কেউ খারাপ কাজ করলে দল তাকে ছাড় দেবে না।’
এদিকে, আরজু মিয়ার নিহত হওয়ার খবর শুনে গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানাসহ এক থেকে দেড় শ নেতা-কর্মী মর্গে আসেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে গেলে কয়েকজন খেপে ওঠেন। তাঁরা সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোদের কারণেই আমাদের ভাইকে মরতে হলো।’
নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার সময় সিকদার মেডিকেল কলেজের পেছনে বড়াইখালী এলাকায় র্যা ব-২ সাতমসজিদ ক্যাম্পের একটি দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান আরজু। তাঁর মাথায়, বুকে-পিঠে সাতটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। সৌজন্য….প্রথম অালাে
ডেস্ক রিপাের্ট : ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে দুদিন আগে বিধ্বস্ত বিমানের ৫৪ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ওই ৫৪ জনের লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিমানটি ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
খবরে বলা হয়, উদ্ধারকারী দল মঙ্গলবার ধ্বংসস্থলে পৌঁছতে পেরেছে, যদিও আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা স্তিমিত হয়ে রয়েছে।
ত্রিগানা এয়ারের বিমানটি রবিবার ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে পাপুয়ার পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।
উদ্ধারদলের প্রধান বামব্যাং সিলিস্টিও এএফপিকে বলেছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এবং পুরোই ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেএ বারাতা ৫৪ লাশের সন্ধান পাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে এও বলেছেন, আবহাওয়া খুব খারাপ হওয়ায় আমরা ওই লাশগুলো সরিয়ে নিতে পারছি না।
বিধ্বস্ত বিমানের আরোহীদের মধ্যে ৪৯ জন যাত্রী ও পাঁচ ক্রু ছিলেন।