April 30, 2026
বিনোদন প্রতিবেদক: চলচ্চিত্রের রাজপটে অন্যতম প্রতিভাবান পরিচালক জহির রায়হানের ৮০তম জন্মদিন বুধবার (আজ)। সব পরিসরের চলচ্চিত্রে অবদান রাখা এ মানুষটির জন্ম ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার ধলিয়া ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে। জহির রায়হানের আসল নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। ডাকনাম জাফর।
চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে; ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে। তিনি ‘যে নদী মরুপথে’তেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাকে ‘এ দেশ তোমার আমার’-এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান। জহির এ ছবির নামসংগীত রচনা করেছিলেন।
১৯৬১ সালে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’ নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র ‘বাহানা’ মুক্তি দেন। জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আন্দোলনটি তার ওপর যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, এর ছাপ দেখতে পাওয়া যায় তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেওয়া’তে।
‘জীবন থেকে নেওয়া’ ছবির দৃশ্য
Caption
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন।
কলকাতায় ‘জীবন থেকে নেওয়া’র বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এবং চলচ্চিত্রটি দেখে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা এবং ঋত্বিক ঘটকসহ অনেকে ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জহির রায়হান নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রগুলো দেশ বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। প্রামান্যচিত্রগুলো হলো- ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘বার্থ অব নেশন’, ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ এবং ‘ইনোসেন্ট জিনিয়াস’।
তিনি পরিচালনা করেছেন ‘সোনার কাজল’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘জ্বলতে সুরাজকে নিচে’র মতো ছবি। তার পরিচালনায় অসমাপ্ত ছবি ‘লেট দেয়ার বি লাইট’।
পরিচালনার পাশাপাশি ছবি প্রযোজনাতে তাকে পাওয়া গেছে। তার প্রযোজনায় নির্মিত হয় ‘মনের মতো বউ’, ‘জুলেখা’, ‘দুই ভাই’, ‘সংসার’, ‘শেষ পর্যন্ত’ এবং ‘প্রতিশোধ’।
১৯৬৫ সালে তিনি ‘কাঁচের দেয়াল’ ছবির জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসরকারি পুরস্কার ‘নিগার পুরস্কার’ পান। শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ছবিটি ৫টি শাখায় পুরস্কার পায়। ১৯৭২ সালে রাশিয়ার তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘স্টপ জেনোসাইড’ বিশেষ পুরস্কার লাভ করে।
পশ্চিম পাকিস্থানের ভীত নড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার কাজ এদেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে মিরপুর থেকে তিনি নিখোঁজ হন।