May 7, 2026
সিলেট প্রতিনিধি: রাজন হত্যা মামলার ৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালত। এছাড়া তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চার্জশিট থেকে অব্যহতি চাওয়া দু’জনকে অব্যহতি দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক শাহেদুল করিম। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজন হত্যার মামলার চার্জশিটের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে চার্জশিট গৃহীত এবং এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুল আহাদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৬ আগস্ট রাজন হত্যা মামলার চার্জশিট (নং-৮১) ওই আদালতে দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ডিবি) সুরঞ্জিত তালুকদার।
স্বাস্থ্য ডেস্ক: যে নারীরা সপ্তাহে অন্তত দুবার ইনস্ট্যান্ট নুডলস খান, তাঁরা বেশ বড় রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক দাবি করেছেন, এই নারীরা রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।
কোরিয়ান ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভে নামে এই পরিসংখ্যানে ১০ হাজার ৭১১ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ওপর গবেষণা করা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখতে পান, যেসব নারীরা সপ্তাহে দুদিনের বেশি ইনস্ট্যান্ট নুডলস খেয়েছেন তাঁদের মেটাবলিক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি ৬৮ শতাংশ বেশি থাকে। একই ঘটনা পুরুষের সঙ্গে ঘটে না।
মেটাবলিক সিন্ড্রোম হলো বেশ কিছু সমস্যার সম্মিলিত অবস্থা। যেখানে ডায়াবেটিক ও হৃদরোগের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেই সঙ্গে কোমরে অত্যধিক চর্বিও জমা হয়।
নিউট্রিশন জার্নালে গবেষকরা বলছেন, ইনস্ট্যান্ট নুডলস গ্রহণ করার কারণে নারীর মেটাবলিক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্যভাবে বলতে গেলে, সপ্তাহে একজন নারী কতটুকু ভাত, মাছ বা সবজি খাচ্ছেন কিংবা মাংস বা ভাজা খাবার খাচ্ছেন তার ওপরে নয় বরং তিনি সপ্তাহে দুবারের বেশি ইনস্ট্যান্ট নুডলস খাচ্ছেন কি না তার ওপর নির্ভর করছে তাঁর স্বাস্থ্যঝুঁকির সমস্যা।
তবে এই প্রভাবটা কেন শুধু নারীদের ওপরেই দেখা যায়, পুরুষের ওপরে নয় সে বিষয়টি এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
এসব তথ্য পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করে পাওয়া গেছে। তাই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ফ্রাংক হু মনে করেন, এটা এ কারণে হতে পারে যে নারীরা কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও লবণের বিষয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। তাই প্রভাবটাও তাদের ওপর বেশি পড়ে।
তাহলে কতটুকু পরিমাণ ইনস্ট্যান্ট নুডলস খাওয়া যেতে পারে, সে প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক টাইমসকে অধ্যাপক ফ্র্যাংক বলেন, ‘মাসে একবার বা দুবার খেলে সমস্যা হবে না। তবে সপ্তাহে কয়েকবার খেলে অবশ্যই সমস্যা হবে।’
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালি এলাকায় ‘জমি দখলকারী ও ভূমিহীনদের’ সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। জেলার কালীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর মনির হোসেন দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তি হলেন কাজলাকাশিবাটি গ্রামের আশরাফ মীর (৪৮) ও ইসহাক গাজী (৩৫)। অন্যদিকে, ভূমিহীনদের অভিযোগ তাঁদের নেতা মনিরুল ইসলাম, নূর ইসলাম, রেজাউলসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
চিংড়াখালির ভূমিহীন নেতা রেজাউল, স্বপন, ছোট খোকন, খায়রুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ বছর সেখানকার খাসজমিতে ৩২০টি ভূমিহীন পরিবারের সহস্রাধিক সদস্য বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন ধরে কালীগঞ্জের কাজলাকাশিবাটির আশরাফ মীর ও তাঁর ছেলে হোসেন মীর এ জমি দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
ভূমিহীন লোকজন ও পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে আশরাফ মীরের নেতৃত্বে ৫০/৬০ সশস্ত্র লোক বাড়িঘরে আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় পরপর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। আতঙ্কিত হয়ে লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় আহত হন ভূমিহীন ফিরোজ, গফুর, মনিসহ বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া আরো কয়েকজন নিখোঁজ হন।
স্থানীয় লোকজন জানান, কয়েকজন লোক আশরাফ মীর, তাঁর সহযোগী ইসহাক ও আবুবকরকে অস্ত্র ও বোমাসহ ধরে ফেলে। তাঁরা তাদের পিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে কালীগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়ার পর আশরাফ ও ইসহাকের মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল্লাহ জানান, তিনি একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে রয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অঅসিফ সুফিয়ান অর্নব: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের আসন্ন পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে পরিদর্শক দল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)। মূলত, সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচক্ষে দেখতেই সেখানে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি।
শনিবার বিসিবি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী ক্রিকেট দলের সফরকে কেন্দ্র করে বিসিবি নিরাপত্তা কমিটির প্রধান হোসেন ইমামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাবে পাকিস্তানে।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে(পিসিবি) আগামীকাল(রবিবার) চিঠি পাঠাবো। সেখানে আমাদের নিরাপত্তা দলের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, আগস্ট ৩১ থেকে সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ পর্যন্ত পাকিস্তানে সফর করবে বাংলাদেশ নারী দল। সেখানে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে সালমা-শুকতারাদের।
কোর্ট প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন আপিল বিভাগেও খারিজ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস শিক্ষার্থীরাই দেশে উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে বড় এই বিদ্যাপিঠে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। ২৬ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা লিভ টু আপিলের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সোমবার তা খারিজ করে দেয়।
এদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ চেয়ে আদালতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষে আপিল বিভাগে শুনানি করেন আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এ এফ এম মেসবাহ উদ্দিন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।
আদেশের পর মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “আপিল বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।” আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, “অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এখতিয়ার আছে সিদ্ধান্ত সংশোধন ও পরিবর্তন করার। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে হাই কোর্ট আমাদের রিট আবেদন খারিজ করেছিল। আগের দুই বছরের শিক্ষার্থীরাও যাতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য আমরা লিভ টু আপিল করেছিলাম। আপিল বিভাগ সেটিও খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ থাকছে না।”
এইচএসসি উত্তীর্ণরা এতোদিন টানা দুইবার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেলেও গতবছর তা সীমিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতেই কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গতবছর ১৪ অক্টোবর ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শুধু ওই বছর এইচএসসিতে উত্তীর্ণরাই অংশ নিতে পারবে; পুরনোরা নয়।
ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সে সময় টানা কয়েক দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেন। এরপর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছু ২৬ শিক্ষার্থীর অভিভাবক। তাদের আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে গত ১৬ মার্চ হাই কোর্ট রুল দেয়। দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ বাতিল কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেইসঙ্গে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের মত ভর্তির সুযোগ রেখে নতুন করে সিদ্ধান্ত কেন দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়।
ওই রুলের ওপর শুনানি শেষে ৮ জুলাই হাই কোর্ট তা খারিজ করে রায় দেয়। দেশে উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় হাজার ৫৮২ আসনের বিপরীতে গতবছর পরীক্ষা দেন তিন লাখ এক হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী। আবেদনকারীপক্ষ এর বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে গেলে ২৯ জুলাই বিচারক বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ আবেদনটি শুনলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই শেষ বিচারে বৈধতা পেল।
ঢাবিতে ভর্তি হতে সুযোগ একবারই: চূড়ান্ত রায় প্রকাশ
কোর্ট প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন আপিল বিভাগেও খারিজ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস শিক্ষার্থীরাই দেশে উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে বড় এই বিদ্যাপিঠে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। ২৬ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা লিভ টু আপিলের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সোমবার তা খারিজ করে দেয়।
এদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ চেয়ে আদালতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষে আপিল বিভাগে শুনানি করেন আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এ এফ এম মেসবাহ উদ্দিন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।
আদেশের পর মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “আপিল বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।” আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, “অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এখতিয়ার আছে সিদ্ধান্ত সংশোধন ও পরিবর্তন করার। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে হাই কোর্ট আমাদের রিট আবেদন খারিজ করেছিল। আগের দুই বছরের শিক্ষার্থীরাও যাতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য আমরা লিভ টু আপিল করেছিলাম। আপিল বিভাগ সেটিও খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ থাকছে না।”
এইচএসসি উত্তীর্ণরা এতোদিন টানা দুইবার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেলেও গতবছর তা সীমিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতেই কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গতবছর ১৪ অক্টোবর ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শুধু ওই বছর এইচএসসিতে উত্তীর্ণরাই অংশ নিতে পারবে; পুরনোরা নয়।
ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সে সময় টানা কয়েক দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেন। এরপর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছু ২৬ শিক্ষার্থীর অভিভাবক। তাদের আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে গত ১৬ মার্চ হাই কোর্ট রুল দেয়। দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ বাতিল কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেইসঙ্গে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের মত ভর্তির সুযোগ রেখে নতুন করে সিদ্ধান্ত কেন দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়।
ওই রুলের ওপর শুনানি শেষে ৮ জুলাই হাই কোর্ট তা খারিজ করে রায় দেয়। দেশে উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় হাজার ৫৮২ আসনের বিপরীতে গতবছর পরীক্ষা দেন তিন লাখ এক হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী। আবেদনকারীপক্ষ এর বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে গেলে ২৯ জুলাই বিচারক বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ আবেদনটি শুনলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই শেষ বিচারে বৈধতা পেল।
নিউজ ডেস্ক: সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার (ইজিবাইক) ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল করছে। কখনো কখনো পুলিশের অভিযানের মুখে এগুলোর চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকছে। তবে অভিযান থেমে গেলে পরিস্থিতি ফিরছে আগের অবস্থায়।
এতে দেশের ২২টি মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে সরকার-ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আদৌ টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যেসব মহাসড়কে এখনই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ঢাকার সঙ্গে পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে অতি গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কও।
দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের ২২টি মহাসড়কে থ্রি হুইলার, অটোরিকশা, অটোটেম্পো ও অযান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৭ আগস্ট সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। এর আগে ১ আগস্ট থেকে দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার ১০০ কিলোমিটার এলাকা ও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কে কুমিল্লার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় অটোরিকশা চলাচল করছে।
গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ উভয় মহাসড়কের সাতটি এলাকা ঘুরে ওই দৃশ্য দেখা যায়। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ও সুয়াগাজী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার, আদর্শ সদর উপজেলার নন্দনপুর, আলেখারচর ও ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা এবং বুড়িচং উপজেলার সাহেববাজার এলাকায় মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলতে দেখা গেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটর লাগানো রিকশা। দেখা গেছে, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি আদায় করতেও। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ফটক, উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় দেখা গেল যাত্রী ওঠানামা করতে। তবে আগের চেয়ে এ ধরনের যানবাহন ছিল তুলনামূলক কম।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে সুয়াগাজী এলাকা পর্যন্ত অটোরিকশা চালান সদর দক্ষিণ উপজেলার কলুইন গ্রামের আবদুল মালেক (৪৮)। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য করে গাড়ি চালাতে হয়। ধরা পড়লে জরিমানার সঙ্গে রয়েছে মারধর। তাই পুলিশকে সন্তুষ্ট করে গাড়ি নিয়ে রোডে নামি।’ তাঁর ক্ষোভ, ‘সেতুমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে। অথচ ওই মহাসড়কে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে।’
মিয়াবাজার এলাকায় কথা হয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শামুকসার গ্রামের মো. মাসুদের (৩২) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা কিনেছি। এক লাখ টাকা নিজের ছিল। বাকি টাকা সুদ ও কর্জ করে এনেছি। এখন ওই টাকা ওঠানো দায় হয়ে পড়েছে। পুলিশকে টাকা দিয়ে ফাঁক-ফোকরের মধ্যে চালাই।’
মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল অব্যাহত থাকা ও চালকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে পূর্বাঞ্চল মহাসড়ক পুলিশের কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম দাবি করেন, ‘মহাসড়কে হঠাৎ করে দু-একটি অটোরিকশা চলাচল করে। এগুলো হয়তো রোগী আনা-নেওয়া করছে। মাঝে মাঝে আমরাও কিছু চলতে দেখি। তখন এদের ধরে জরিমানা ও মামলা দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে অটোরিকশা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে অবাধেই চলছে থ্রি হুইলার অটোরিকশা ও অটোটেম্পো। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর কয়েক দিন এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চললেও এখন তেমন কোনো অভিযান নেই বললেই চলে।
শুরুর দিকে মহাসড়ক পুলিশ ও গাজীপুর জেলা প্রশাসন অভিযানে নামে। তখন কয়েক দিন জরিমানা ও চালকদের আটক করা হয়। এতে এসব যানবাহনের চলাচল সে সময় অনেকটা কমে যায়। অবস্থা এখন আগের মতো। গতকাল সকালেও এ দুই মহাসড়কে অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে।
তবে গাজীপুরের পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান সরকার বলেন, ‘মহাসড়কে সিএনজি না চলায় দুর্ঘটনা অনেক কমে গেছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে আবার সিএনজি দেখা যাচ্ছে।’
কোনাবাড়ী মহাসড়ক পুলিশের পরিদর্শক আবু দাউদ বলেন, কিছু অটোরিকশা এখনো চলাচল করছে। তবে সেগুলো যাতে না চলে, সে জন্য চন্দ্রা ত্রিমোড় ও আনসার একাডেমির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের ৬০ কিলোমিটারের মতো অংশে অটোরিকশা চলাচল পুলিশি অভিযানে সাময়িক বন্ধ থাকলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অটোরিকশাচালক জানান, নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁয়ে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশায় যাতায়াত করে।
সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, পুলিশ নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ফিডার রোডগুলো দিয়ে অটোরিকশা মহাসড়কে উঠে পড়ে। গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়লে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে আসবে। সুত্র….প্রথম আলাে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএসে নারীর যোগদান নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। এর পেছনে কারণটা কী? কীভাবে নারীদের প্রলুব্ধ করে দলে ভেড়াচ্ছে আইএস! সেখানে গিয়ে নারীরা করছেনই বা কী?
এসব প্রশ্ন সামনে রেখে এ ব্যাপারে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন। প্রতিবেদনে নারীর ক্ষেত্রে আইএসের দ্বৈতনীতি অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।
প্রথমত, আইএস নারীকে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে। তারা নারীদের বিক্রি করে, পুরস্কার হিসেবে যোদ্ধাদের উপহার দেয়।
ইরাকের মসুল থেকে পাওয়া ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, জঙ্গিরা ইয়াজিদি মেয়েদের নিয়ে দরদাম করছে। ওই মেয়েদের অনেকে ছিল অপরিণত বয়সের।
এখনো আইএসের হাতে প্রায় দুই হাজার ইয়াজিদি নারী জিম্মি রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অল্প কিছু নারী পালাতে পেরেছেন। সম্প্রতি পালিয়ে আসা একজনের ভাষ্য, আইএস তাঁদের বিক্রির জন্য রাখত। দলে দলে যোদ্ধারা তাঁদের কিনতে আসত। কোনো কাকুতি-মিনতিতেই কিছু হতো না।
এ গেল একদিকের কথা। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থান থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে যেসব মুসলিম নারী আসেন, তাঁদের নিয়ে আইএসের বড় ধরনের পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে তাদের কথিত ‘খেলাফত রাষ্ট্র’ গড়ে তোলা।
কিংস কলেজ লন্ডনের ইসলামিক স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ ক্যাথেরিন ব্রাউনের ভাষ্য, তারা (আইএস) চায় নারীরা তাদের সংগঠনে যোগ দিক। তারা নারীদের তাদের নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। তারা নাগরিক চায়।
এই বিশেষজ্ঞের ভাষ্যমতে, কৌতূহলী ব্যাপার হলো, সবাই আইএসের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে কথা বলে। কিন্তু এর বিপরীতে তারা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা একটি নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে চায়। তারা খুব করে চায়, ওই কাল্পনিক রাজনীতির অংশ হিসেবে নারীরা যোগ দিক।
জিহাদিদের মনোভাব সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি থাকা আল-কায়েদার সাবেক সদস্য আইমেন দীনের বিশ্বাস, নারীদের প্রতি আইএসের দৃষ্টিভঙ্গি আল-কায়েদা বা তালেবানের চেয়ে অনেক ভিন্ন। ভিত্তিসহ একটি স্থায়ী সমাজ গড়তে চায় আইএস। ইসলামিক স্টেটের জন্য পরিবার গড়তে তারা ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্য এশিয়াসহ সমগ্র মুসলিম সমাজ থেকে নারী সদস্য টানছে।
আইএসের খেলাফতে আসার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন ভাষায় আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই ডাকে নারীদের সাড়া দেওয়ার হার বাড়ছে।
আইমেন দীনের ভাষ্য, এখানে এক ধরনের ভাববিলাসী উপাদান আছে। তবে আইএসে নারীর জীবন সুখের নয়, একটা দুর্বিষহ জীবন।
তালেবান বা আল-কায়েদার থেকে ব্যতিক্রম হলো, আইএস তাদের দলে যোগ দেওয়া অনেক পশ্চিমা নারীদের সামাজিক গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নরওয়ের গবেষক মাহ-রুখ আলী আইএসে নারী ও প্রচারণা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তাঁর ধারণা, অনলাইনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া আইএসের একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ কৌশল। তালেবান ও আল-কায়েদার চেয়ে আইএস নারীদের অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে।
মাহ-রুখ আলী বলেন, প্রতিদিন টুইটারে আইএসের পক্ষে প্রায় এক লাখ টুইট পোস্ট হয়। এর মধ্যে অনেক টুইটই পশ্চিমা সমাজ থেকে আইএসে যোগ দেওয়া নারীদের কাছ থেকে আসে বলে প্রতীয়মান হয়।
আইমেন দীনের ভাষ্য, নারীরা আইএসের অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাদীক্ষার কাজ, খাজনা সংগ্রহ। ইসলামিক স্টেটের টিকে থাকার জন্য নারী অপরিহার্য।
ঢাকা: জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হবে। রিভিউ আবেদনে ফাঁসির রায় পুনর্বহালের আরজি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সাঈদীর আপিল মামলার চূড়ান্ত রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদ- কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এটি এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর্যায়ে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ রিভিউ আবেদন করতে পারবেন রাষ্ট্র ও আসামি-উভয়পক্ষ। রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, রিভিউ করবে রাষ্ট্রপক্ষ। এ রিভিউ আবেদনে ফাঁসির রায় পুনর্বহাল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নিউজ ডেস্ক : সংসদ সদস্যপদ রক্ষার জন্য আর আইনি লড়াই করবেন না সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। নিজেই সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এ জন্য স্পিকারের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেবেন। রোববার সকালে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানি শেষে লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনে শুনানি স্থগিত চেয়ে লতিফ সিদ্দিকীর করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে নির্বাচন কমিশনে যেতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ১১টার দিকে ইসির শুনানিতে হাজির হন তিনি।
শুনানি শুরু হলে লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনকে বলেন, তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। তাই শুনানির আর প্রয়োজন নেই। এরপর নির্বাচন কমিশন দুই সপ্তাহের জন্য এ বিষয়ের সকল কার্যক্রম স্থগিত করেন।
ইসি থেকে বেরিয়ে লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেহেতু আমার নেত্রী চান না আমি সংসদে থাকি তাই আমি নিজেই পদত্যাগ করব। এ নিয়ে আর শুনানির প্রয়োজন নেই বলে আমি কমিশনকে বলে এসেছি।’ হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে তাঁর মন্তব্য খণ্ডিত ভাবে এসেছে বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী।
দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের পর লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন কমিশনের চিঠি দেওয়া হয়। এ জন্যই বিষয়টি নিয়ে শুনানির জন্য ইসিতে আজ তাঁকে ডাকা হয়। দলের পক্ষ থেকে শুনানিতে অংশ নিতে সেখানে আসেন দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদসহ পাঁচ কমিশনারই উপস্থিত ছিলেন।
ইসির এই শুনানির এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে লতিফ সিদ্দিকী রিট করলে গত বৃহস্পতিবার তা খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে ওই দিনই লতিফ সিদ্দিকী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল নিয়ে চেম্বার আদালতে যান। চেম্বার আদালত আজ শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে হজ ও তাবলীগ জামায়াত নিয়ে কটূক্তি করায় লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্ব যায়। একই সঙ্গে নিজ দল আওয়ামী লীগ থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন। দল থেকে বহিষ্কারের পর লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা মীমাংসার জন্য গত ১৩ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিনােদন ডেস্ক: জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নির্ঝর। স্টেজ, অ্যালবাম, টিভি অনুষ্ঠান ও লাইভ নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। প্লেব্যাকও করছেন নিয়মিত। বর্তমানে আসছে ঈদের জন্য বেশ কিছু গানে কন্ঠ দিচ্ছেন । সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ সংগীত তারকা। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা, বর্তমানে সংগীতের অবস্থা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন নির্ঝর। গানের কি অবস্থা? কি কাজ করছেন?
ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েই সময় যাচ্ছে। প্রতিদিনই কোন না কোন রেকর্ডিং, স্টেজ কিংবা টিভি অনুষ্ঠানের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছি। তাই অবসর তেমন একটা মেলে না। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দিয়েছি। পাশাপাশি কয়েকটি ঈদের অ্যালবামেও গান গাইছি।
ঈদমুখী ব্যস্ততাটাই বেশি তাহলে?
সাধারণ ব্যস্ততার সঙ্গে ঈদ এলেই বাড়তি কাজের চাপ শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতাতেই কাজগুলো হচ্ছে। এখন বেশিরভাগ ঈদের অ্যালবামের গানই গাইছি। গানগুলো নিয়ে আমি আশাবাদী। এছাড়া ঈদের কয়েকটি টিভি অনুষ্ঠানেরও শুটিং করেছি। ২৬শে আগস্ট বাংলাভিশনে লাইভ করবো। এখানে নজরুল সংগীতই গাইবো। ঈদেও দু-একটি চ্যানেলের লাইভে গান গাওয়ার কথা রয়েছে।
মাঝে মধ্যেই আপনাকে নজরুল সংগীত গাইতে দেখা যায়। বিশেষ কোন কারণ আছে?
আমি ছোটবেলা থেকেই নজরুল সংগীত করে আসছি। অনেক জাতীয় পুরস্কারও আমি সে সময় পেয়েছি নজরুলগীতি গেয়ে। পরবর্তীতে আধুনিক গানে ব্যস্ত হওয়ার ফলে নজরুল সংগীতটা ঐভাবে শ্রোতাদের কাছে পৌছেনি। তবে আমাার ভালবাসা জুড়ে আছে নজরুলের গান। এখন সময় সুযোগ মিললে আমি নজরুলের গান করে থাকি। নজরুলসংগীত গাওয়ার সুযোগ মিস করতে চাই না। ২৬ তারিখের লাইভের জন্যও প্রিয় নজরুলগীতিগুলো নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
নজরুলের গান নিয়ে একটি অ্যালবামও তো করছেন?
হ্যা, অ্যালবাম করবো। তবে এখনও কাজ শুরু করিনি। খুব আস্তে-ধীরেই এর কাজ করবো। এখনই না। এটা আসলে আমার সপ্নের একটি প্রজেক্ট। তাই সময় নিয়ে করতে চাই। আমি আগেই বলেছি নজরুলের গান নিয়ে করা অ্যালবামটি ২০১৭ সালে প্রকাশ করবো। এখনও সেই সিদ্ধান্তের মধ্যেই আছি।
নতুন একক অ্যালবাম নিয়ে কিছু ভেবেছেন?
নতুন একক অ্যালবাম নিয়ে কথাবার্তা চলছে। অনেকে অনেক প্রস্তাব দিচ্ছেন অ্যালবামের। তবে এখনও পরিকল্পনা করিনি আমি। ২০১২ সালে সিডি চয়েজের ব্যানারে ‘সপ্নমুখী’ অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলাম। সে অ্যালবামের আরাধনাসহ বেশি কিছু গান শ্রোতারা অনেক পছন্দ করেছেন। কিন্তু ৩ বছর পার হলেও ঐ অ্যালবামটির জন্য সম্মানির দিক থেকে আমি কিছুই পাইনি।
সম্মানি কেন পাননি?
অ্যালবামটি আমি রয়্যালিটিতে প্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত ‘সপ্নমুখী’ অ্যালবাম থেকে কোন রয়্যালিটি পাইনি আমি। অথচ অ্যালবাম তৈরি করেছিলাম ৮ লাখ টাকা দিয়ে। তার পুরোটাই কোম্পানি ভোগ করেছে। অ্যালবামের ‘আরাধনা’ গানটি কিন্তু বেশ শ্রোতাপ্রিয় একটি গান। এর ভিডিওটিও দর্শক পছন্দ করেছেন অনেক। পুরো অ্যালবামে শ্রোতাদের সাড়া অনেক পেয়েছি, কিন্তু কোম্পানির সাড়া পাইনি। অডিও কোম্পানিগুলো আসলে শিল্পীদের মূল্যায়ন করতে রাজী নয়। অথচ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এই কঠিন সময়ে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ আমাদের সবারই করা দরকার। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।
আপনার দৃষ্টিতে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এখন কেমন?
এখনও অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা অনিশ্চিত। কারণ এখান থেকে উত্তরণের কোন উদ্যোগই চোখে পড়ছে না, সমাধানতো দূরে থাক। আসলে অডিও ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে সবার সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। কিন্তু সেটা হবে কিনা আমার জানা নেই। তারপরও সামনে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটবে বলেই আশা রাখি। কারণ আশা নিয়েই মানুষ বাঁচে। হয়তো কোন না কোন সমাধান আসবে। কারণ সেটা না হলে পুরোপুরি ধ্বংসের দিকেই চলে যাবে অডিও ইন্ডাস্ট্রি।