May 7, 2026
বাংলাদেশে বর্তমানে মাদকাসক্তি পরিস্থিতি ভয়াবহ। মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে তরুণ যুবসমাজের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও। রাজধানীর নামি-দামি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রাস্তায় বেড়ে ওঠা শিশুরাও ঝুঁকছে মাদকে।
মাদক ব্যবসা এখন সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু কেরানীগঞ্জেই মাদক ব্যবসার জেরে এক বছরে খুন হয়েছে ৪০ জন। তাছাড়া সর্বনাশা মাদক ইয়াবায় ছেয়ে গেছে সারাদেশ। প্রতি বছর ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে হাজার কোটি টাকারও বেশি। মিয়ানমারের সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে অবাধে প্রবেশ করছে ইয়াবা। ইয়াবা ছাড়াও মাদকের বাজারের প্রধান নেশার উপকরণ হচ্ছে ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় ট্যাবলেট এবং চেতনানাশক ইনজেকশন। আর এগুলো এতটাই সহজলভ্য ঢাকা শহরের অলিগলি শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত তা ছড়িয়ে পড়েছে। হাত বাড়ালেই হাতের কাছে পাওয়া যায় মাদক।
‘দেশে প্রায় ৫০ লাখ ছেলেমেয়ে মাদকাসক্ত’পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, দেশের ১৩ থেকে ৩২ বছর বয়সী প্রায় ৫০ লাখ ছেলেমেয়ে মাদকাসক্ত। আধুনিক বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন তিনি। শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ কোর্ট চত্বরে মাদক ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান ডিআইজি।
শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে এই মাদক নির্মূল সম্ভব নয় উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, এটা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে শুধু সীমান্ত এলাকার মাদকপাচার বন্ধ হলে চলবে না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, পুলিশের পাশাপাশি সুধীমহল ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সচেতন হতে হবে সবাইকে।
মাদক প্রতিরোধে সমাজ ও পরিবারকে সচেতন হতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোহিত কামাল। তিনি বলেছেন, পরিবারের খোঁজখবর না নেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষিত ছেলেমেয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এটা অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা জানেও না। ছেলেমেয়েরা এমনভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে যে মাদকের জন্য পরিবারের লোকজনকে হত্যা করতেও দ্বিধা করে না। তাই মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে পরিবার ও দেশকে রক্ষা করতে হলে আগে দরকার পরিবারের সচেতনতা।
ডা. অরূপ রতন চৌধুরী আরো বলেন, সিগারেট দিয়ে নেশা শুরু হলেও মাদকের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে শুরু হয়। বেশির ভাগই শুরু হয় বন্ধুবান্ধবের সাহচর্যে। মূলত মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়েই কিশোর-তরুণরা ব্যাপকভাবে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা কাজে তাদের ব্যবহার করতে থাকে। মাদকের এই নেশার জালে একবার জড়িয়ে পড়লে কেউ আর সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে মাদকসেবিরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে কিশোর সন্ত্রাসীর ক্রমবর্ধমান দাপটের যে তথ্য সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে এর মূল কারণ সম্ভবত নিহিত রয়েছে এখানেই। দেশের সর্বত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা, গুলি বা ছুরিকাঘাতে হত্যা করা কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার আধিক্যের পেছনেও মাদকাসক্তির ভূমিকা অন্যতম।
পুলিশ আন্তরিক হলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ওপেন হাউজ’ডে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা। জয়দেবপুর থানায় ওপেন হাউজ’ডে অনুষ্ঠানে বক্তারা এমন মন্তব্য করেন।
৪ এপ্রিল আপত্তিকর অবস্থায় মাদক সেবনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ছেলে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের মেয়েসহ পাঁচজনকে আটক করেছে প্রক্টরিয়াল টিম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের মেয়ে আছে। তবে আটক কারোরই নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।
৩ এপ্রিল মাদক সেবন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র বেশি বেশি নির্মাণ করা হবে সেই সঙ্গে মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চলচ্চিত্রকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার ও তৎপর হতে আহ্বান জানাচ্ছেন তেমনিভাবে মন্ত্রণালয়গুলোও যেন তৎপর নয়।
আমাদের সমাজে কিন্তু মাদকাসক্ত ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনেক ঘটনাই ঘটেছে যেমন ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট মসাদকাসক্ত ঐশীর খুন করেছিল বাবা-মাকে। এই খুন নিয়ে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, আবার কিছুদিন না যেতেই গত ২২ মার্চ পঞ্চগড়ে মা-বাবাকে হত্যা করল মঞ্জুরুল হাসান নামে এক মাদকাসক্ত ছেলে। নেশার টাকা না পেয়ে পঞ্চগড় জেলা সদরে বাবা-মাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত ছেলে। হয়ত আরো অনেক পরিবারে এমন ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে, হয়তবা আমরা তা সংবাদপত্রে দেখি না সুতরাং মাদকাসক্তির কারণে এভাবে লোমহর্ষক ঘটনা একটির পর একটি ঘটতেই থাকবে যদি না আমরা এর বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নিতে না পারি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৩, বাংলাদেশে গত ছয় বছরে মাদক হিসেবে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে ৭৭ গুণ (সাত হাজার ৬২১ শতাংশ)। তবে অন্যান্য মাদক যেমন ফেনসিডিল ও হেরোইনের ব্যবহার কিছুটা কমেছে। গাঁজার ব্যবহার সামান্য বেড়েছে। ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে ৭৭ গুণ। অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশে মাদক সেবনে বছরে ব্যয় হয় প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। দেশে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মাদক সেবন করছে। কোনো কোনো বেসরকারি সংস্থার মতে তা ৮০ লাখেরও বেশি। মোট মাদকসেবির ৫০ ভাগেরও বেশি ইয়াবা ব্যবহার করছে।
অপরাজয়ী বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদ বানু জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ পথশিশু রয়েছে, যারা কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাদকদ্রব্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই মধ্য ও উচ্চবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সী ছেলেমেয়ে।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই কোন না কোনভাবে মাদক সেবন করে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট এবং ৮ শতাংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা করে থাকে। ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পট রয়েছে, যেখানে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ঢাকা বিভাগে মাদকাসক্ত শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ ছেলে এবং ১৭ শতাংশ মেয়ে। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েশিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন জানায়, মাদকাসক্ত ৮০ শতাংশ পথশিশু মাত্র সাত বছরের মধ্যে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গবেষণা জরিপের মাধ্যমে জানা গেছে, মাদকাসক্ত শিশুদের ড্রাগ গ্রহণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৪৪ শতাংশ পথশিশু, পিকেটিংয়ে জড়িত ৩৫ শতাংশ, ছিনতাইয়ে ১২ শতাংশ, মানবপাচার সহায়তা কাজে ১১ শতাংশ, দুর্র্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী হিসেবে ৫ শতাংশ ও অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ। এ ছাড়া বোমাবাজিসহ অন্যান্য সহিংস কর্মকা-ে জড়িত ১৬ শতাংশ পথশিশু।
পবিত্র হজ আসন্ন। হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সৌদি আরবে যাওয়া শুরু করেছেন। সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাদশাহ আবদুল আজিজ
ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে (কেএআইএ) বিমান অবতরণের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। কেএআইএ’র পরিচালক আবদুল হামিদ আবাল আরিই জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৪৬৯টি বিমানে ১ লাখেরও বেশি হজযাত্রী হজ টার্মিনালে পৌঁছেছেন। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সারার প্রক্রিয়াকে বেশ দ্রুততর করেছে। আগে যেখানে ইমিগ্রেশনসহ বিমানবন্দরের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সারতে ৩ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হতো, এখন সেখানে প্রয়োজন হবে ৪৫ মিনিট। সার্বক্ষণিকভাবে চালু রয়েছে হজ টার্মিনালের জয়েন্ট অপারেশন্স কক্ষটি। ফলে, এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না পবিত্র হজব্রত পালনে যাওয়া হাজীদের। এ খবর দয়েছে অনলাইন সৌদি গ্যাজেট। আবদুল হামিদ বলেন, আশা করা হচ্ছে দুল যিলহজের শুরুতে ফ্লাইটের সংখ্যা অনেক বাড়বে এবং হজ টার্মিনালে প্রতি ঘণ্টায় ৬টি করে বিমান অবতরণ করবে। দ্য জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) হাজীদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে একত্রিত বা অঙ্গীভূত করেছে হজ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তারা নতুন এক্যবদ্ধ ব্যবস্থাপনার আওতায় কাজ করছে। অন্যান্য আরও সংস্থা এবং বিভাগও এই ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে। এদিকে হজ মন্ত্রণালয়ের ই-পোর্টাল সার্ভিস হাজীদের জন্য গত ১৬ই আগস্ট চালু হয়েছিল। পোর্টালটি আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকবে। সৌদি আরবের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য হজের জন্য নিবন্ধনের এ কার্যক্রম চালু থাকবে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে বলা হচ্ছে, হাজীদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে এবং বিভিন্ন হজ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য নিবন্ধনের প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে ইলেক্ট্রনিক পোর্টালটি। মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট সংখ্যক হজ প্রচারণা ও হজের সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছে। হজ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে হাজীরা তাদের পছন্দের ও যথাযথ প্যাকেজ ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে পারবেন। ওই সূত্রে বলা হয়েছে, হজের জন্য নিজেদের পছন্দের সুবিধা ও সেবাসমূহ বেছে নেয়ার জন্য একটি ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন তাদের সাহার্য্য করবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়ার অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। আজ রোববার সকাল সোয়া আটটার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রলীগের নেতারা হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে আজ সকাল নয়টা থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার কর্মসূচি দেন আন্দোলনরত শিক্ষকদের একাংশ। অন্যদিকে সকাল সাতটা থেকেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যানারে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন সেখানে।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপাচার্য তাঁর কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা তাঁকে ঢুকতে বাধা দেন। তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে কার্যালয়ে ঢুকতে সহায়তা করেন। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের একাংশের নেতা ও ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ শামসুল আলম বলেন, ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ড. ইয়াসমিন হকসহ কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে। ছাত্রলীগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায়ের দাবি, ছাত্রলীগ কোনো হামলার ঘটনা ঘটায়নি। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকদের পৃথক কর্মসূচি চলছে। উপাচার্য ভেতরে যেতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা বাধা দেন এবং ধাক্কা দিয়ে তাঁকে ফেলে দেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকিয়ে দেয় মাত্র। উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, ‘আজ একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য যাওয়ার পথে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা আমাকে বাধা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর ঘটেনি।’
কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ১২ এপ্রিল থেকে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। আবার এই আন্দোলনকে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকার-সমর্থক শিক্ষকদের একটি অংশ ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তার চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেন। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষকদের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন করছে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
সিলেট প্রতিনিধি:
হঠাৎ করেই রাস্তায় নেমে এলেন নায়িকা নাবিলা। তাও আবার হাজার লোকের ভিড়ের মাঝে! পান্থপথ, সায়েন্সল্যাব শাহবাগে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। রাস্তায় কি করছেন? ‘জ্যাম খুঁজছি!’-বললেন নাবিলা। জ্যামের পড়লে সবাই যেখানে রাগে মাথার চুল ছিঁড়ে সেখানে কিনা জ্যাম খুজছেন নাবিলা। আসল ঘটনা জানা গেল একটু পর।
অমিতাভ রেজার আয়নাবাজি সিনেমার শুটিং হ্ওয়ার কথা রাস্তায়। তিনি ঢাকা শহরের জ্যামকে ফ্রেমবন্দি করতে চান। এই কারণেই এক জ্যাম খোঁজাখুজি। কিন্তু নাবিলা বললেন, ‘প্রত্যেকদিনই ওই পয়েন্টগুলো জ্যাম লেগেই থাকে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সেদিন তেমন জ্যামই ছিলনা। আমরা রাস্তায় বেড়িয়েছি আর জ্যাম উধাও হয়ে গেছে!’
ঘন্টার পর ঘন্টা তারা আয়নাবাজি টিম অপেক্ষা করেছে জ্যামের আশায়। একবার একটু জ্যাম পড়তেই ক্যামেরা রেডি করা হলো। নাবিলা শর্ট দিতে যাবেন ঠিক সেই সময়ই সিগনাল ছেড়ে দিল! এমন নানা ঘটনায় ভরপুর ছিল আয়নাবাজীর রোববারের শুটিং। আজ সোমবার নির্মাতা অমিতাভ রেজা ‘আয়ানবাজী’ করতে গেছেন কাশিমপুর কারাগারে।
‘আয়নাবাজি’তে নাবিলা ছাড়াও অভিনয় করছেন চঞ্চল চৌধুরী, ইফফাত তৃষা। গাউসুল আলম শাওন, হীরা চৌধুরী, সোহেলসহ অনেকে। কনটেন্ট ম্যাটারস লিমিটেড প্রযোজিত ও হাফ স্টপ ডাউন লিমিটেডের নির্মিতব্য ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন গাউসুল আলম শাওন। সংলাপ লিখেছেন অনম বিশ্বাস ও আদনান আদীব খান। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন রাশেদ জামান।
বিনোদন ডেস্ক
বান্দরবানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মির মধ্যে গোলাগুলির পর ঐ এলাকায় বিজিবি ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, আরাকান আর্মির সদস্যরা বিজিবির একটি টহল দলের ওপর গুলি ছুড়লে পাল্টা গুলি চালানো হয়।
তারপর প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলি হয়েছে।
সে সময় বিজিবির সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও যোগ দেয়।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকেও ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড়মোদকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিজিবির একটি দল নদীপথে টহলে বেরিয়েছিল।
হঠাৎ পাহাড় থেকে তাদের ওপর গুলি চালায় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি।
সংগঠনটি সেখানে বিজিবির একটি ক্যাম্পেও গুলি চালায়।
তখন বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়।
চারটি ঘোড়া জব্দ করার সাথে আরাকান আর্মির হঠাৎ এই আক্রমণের ঘটনার একটা যোগসূত্র থাকতে পারে।
এতে বিজিবির সাথে সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও যোগ দেয়।
সকাল পৌনে নয়টা থেকে বিকেল পৌনে তিনটা পর্যন্ত প্রায় চয় ঘণ্টা সময় ধরে গোলাগুলির পর বিজিবি এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, “আমরা গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরেছিলাম যে, আরাকান আর্মি কোথাও থেকে কিছু অ্যারাবিয়ান ঘোড়া কোনভাবে ঐ এলাকায় এনেছে এবং আমাদের বিজিবি এধরণের দশটি অ্যারাবিয়ান ঘোড়া জব্দ করে। ছয়টা ঘোড়া বড়মোদক এলাকা থেকে এবং থানচি থেকে চারটি ঘোড়া জব্দ করা হয়।এরসাথে আরাকান আর্মির হঠাৎ এই আক্রমণের ঘটনার একটা যোগসূত্র থাকতে পারে বলে আমি মনে করছি।”
বিজিবির কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে আরাকান আর্মির আক্রমণের শুরুতেই বিজিবির নায়েক জাকির গুলিবিদ্ধ হন।
তাকে চট্টগ্রামে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিজিবির এই সদস্য আশংকা মুক্ত বলে বাহিনীটি বলেছে।
বিজিবির মহাপরিচালক জেনারেল আহমেদ বলেছেন, গোলাগুলির সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়ে তাদেরও ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী সহযোগিতা করতে চেয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।
ঐ এলাকায় বিজিবি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকাগুলোতে এখন কয়েকদিন ধরে অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
ওদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীদের এই সংঘর্ষের কথা নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
বিবিসি বার্মিজ বিভাগের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা টু মিয়াট নাই।
তিনি তাদের ঘোড়া ধরে আনার বিষয়কেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিবিসি বাংলা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের ২য় তলা থেকে বোমা সাদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। ডা. দেবেশের কক্ষ থেকে এই বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে এই ঘটনার পর ডা. দেবেশকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ভীতি প্রকাশ পেতে দেখে যাচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ডিবি পুলিশের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট বোমা উদ্ধারের পর ঐ কক্ষটি সিলগালা করে দিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডা. দেবেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
নিউজ ডেস্ক:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ জামিন স্থগিত করে। তবে এই সময়ের মধ্যে দুদককে লিভ টু আপিল করতে বলেছে সর্বোচ্চ আদালত। উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে খন্দকার মোশাররফ আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। বিএনপির সিনিয়র এ নেতার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষও একটি আবেদন করেছিল, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৪ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা মুদ্রা পাচার মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পাচার করেছিল বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর তিনি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও আপিল বিভাগ পরে তা বাতিল করে। গতবছর ১২ই মার্চ গুলশানের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এম এ মানিক:
জাতীয় পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান, প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদের নামাজে জানাজা শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়ও তার আরেকটি জানাজা হবে। কাজী জাফর আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী গোলাম মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তাকে কোথায় দাফন করা হবে সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় গুলশানের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হন কাজী জাফর। তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ ইন্তেকাল (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন) করেছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত সহকারী কামরুজ্জামান রনি এ তথ্য জানান।
কামরুজ্জামান রনি বলেন, কর্মিসভায় অংশ নিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে কাজী জাফরের কুমিল্লা যাওয়ার কথা ছিল। সকাল পৌনে সাতটার দিকে তাঁর সাড়া না পেয়ে তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
পরিবারের বরাত দিয়ে কাজী জাফরের ব্যক্তিগত সহকারী বলেন, ৭৬ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ডায়াবেটিস ও কিডনিসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাজী জাফরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেওয়া নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে ২০১৩ সালের শেষ দিকে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে কাজী জাফরকে বহিষ্কার করেন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। এরশাদকে পাল্টা বহিষ্কারের ঘোষণা দেন কাজী জাফর। এরপর থেকে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান তিনি।
একইভাবে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে নতুন দল জাতীয় পার্টি (জা-মো) গঠন করেন কাজী জাফর। তখনো দল থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। বছর খানেক পর আবারও দলে ফেরেন।
নানা কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত কাজী জাফর।
ষাটের দশকের শুরুতে তিনি অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তী সময় যুক্ত হন শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে।
১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টঙ্গী অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী শ্রমিকনেতা হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলনে শ্রমিকদের সংগঠিত করার ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা ছিল।
মাওপন্থী নেতা কাজী জাফর এক সময় সঙ্গী হন জিয়াউর রহমানের। সামরিক শাসককে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার খাতিরে তল্পিবাহক রাজনৈতিক দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি গড়েন তিনি। পরে জিয়াউর রহমান ইউনাইটেড ফ্রন্ট গঠন করলে ছিটকে পড়েন কাজী জাফর।
১৯৮৫ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে সাত দলভুক্ত ইউপিপির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় কাজী জাফর এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘স্বৈরাচারী এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।’ টেনেহিঁচড়ে এরশাদকে ক্ষমতা থেকে নামানোরও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে সুনামগঞ্জ বিএনপির নেতা ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরী এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিলে ‘এরশাদের গোয়ালে আরেকটি রাম ছাগল যোগ দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন কাজী জাফর। ওই বক্তব্যের পরদিনই সেই ‘গোয়ালে’ই যোগ দেন কাজী জাফর।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পর একসময় কাজী জাফরকে প্রধানমন্ত্রী করেন এরশাদ। ১২ আগস্ট ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
১৯৮৮ সালে বন্যার্ত মানুষের জন্য বিদেশ থেকে আসা কোটি কোটি টাকার চিনি বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কাজী জাফরের বিরুদ্ধে। মন্ত্রী থাকার সময়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের দায়ে ১৯৯৯ সালে ১৫ বছরের সাজা হয়েছিল তাঁর।
নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর কারাবন্দী থাকা অবস্থায় জামিন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন কাজী জাফর। পরবর্তী সময় সেখানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পাওয়ায় সে দেশের গণমাধ্যমের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল অস্ট্রেলীয় সরকার। শরণার্থী হয়ে পাক্ষিক ৩৭০ ডলার ভাতাও পেতেন তিনি। সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কাজী জাফর আহমদ কীভাবে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিলেন, সে রহস্য খুঁজে দেখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছিলেন কাজী জাফর। মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে সরিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে একত্র করার দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেয়ার বাজার: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে উভয় বাজারে ধীর গতি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে মূল্য সূচকেও। সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক ঘণ্টায় লেনদেন হয়েছে মাত্র ৮৬ কোটি টাকা। আর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় কমেছে ৫ পয়েন্ট। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এক ঘণ্টায় লেনদেন হয়েছে মাত্র ৬ কোটি টাকা। আর সিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় কমেছে ৬ পয়েন্ট।
বরাবরের মতো এদিন লেনদেনের শুরুতে ডিএসইতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। লেনদেনের প্রথম ৩ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় বাড়ে ১ পয়েন্ট। এরপর বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ২ পয়েন্ট। বেলা ১১টায় বাড়ে ৫ পয়েন্ট। ১১টা ১০ মিনিটে বাড়ে ৮ পয়েন্ট। ১১টা ২০ মিনিটে বাড়ে ২ পয়েন্ট।
এরপর নিম্নমুখী হয়ে পড়ে মূল্য সূচক। বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট পড়ে যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিকে ডিএসই ৩০ মূল্য সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১০ কোটি ১১ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৬২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। কমেছে ১৬৫টি এবং অপরিবর্তীত আছে ৫৫টি। লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) ডিএসইতে শীর্ষ দম কোম্পানির তালিকায় রয়েছে- এসপিসিএল, ইসলামী ব্যাংক, কাশেম ড্রাইসেল, অ্যাপেক্স ফুডস, স্কয়ার ফার্মা, আরএসআরএম স্টিল, ইউনাইটেড পাওয়ার, অ্যাপেক্স ট্যানারী, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও আলহাজ টেক্সটাইল।
অপর শেয়ার বাজার সিএসইতে সিএসইএক্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৫২টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। কমেছে ৬৯টি এবং অপরিবর্তীত আছে ৪১টির দাম।