May 1, 2026
নিউজ ডেস্ক: সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার (ইজিবাইক) ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল করছে। কখনো কখনো পুলিশের অভিযানের মুখে এগুলোর চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকছে। তবে অভিযান থেমে গেলে পরিস্থিতি ফিরছে আগের অবস্থায়।
এতে দেশের ২২টি মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে সরকার-ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আদৌ টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যেসব মহাসড়কে এখনই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ঢাকার সঙ্গে পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে অতি গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কও।
দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের ২২টি মহাসড়কে থ্রি হুইলার, অটোরিকশা, অটোটেম্পো ও অযান্ত্রিক যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৭ আগস্ট সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি। এর আগে ১ আগস্ট থেকে দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার ১০০ কিলোমিটার এলাকা ও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কে কুমিল্লার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় অটোরিকশা চলাচল করছে।
গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ উভয় মহাসড়কের সাতটি এলাকা ঘুরে ওই দৃশ্য দেখা যায়। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ও সুয়াগাজী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার, আদর্শ সদর উপজেলার নন্দনপুর, আলেখারচর ও ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা এবং বুড়িচং উপজেলার সাহেববাজার এলাকায় মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলতে দেখা গেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটর লাগানো রিকশা। দেখা গেছে, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি আদায় করতেও। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ফটক, উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় দেখা গেল যাত্রী ওঠানামা করতে। তবে আগের চেয়ে এ ধরনের যানবাহন ছিল তুলনামূলক কম।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে সুয়াগাজী এলাকা পর্যন্ত অটোরিকশা চালান সদর দক্ষিণ উপজেলার কলুইন গ্রামের আবদুল মালেক (৪৮)। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য করে গাড়ি চালাতে হয়। ধরা পড়লে জরিমানার সঙ্গে রয়েছে মারধর। তাই পুলিশকে সন্তুষ্ট করে গাড়ি নিয়ে রোডে নামি।’ তাঁর ক্ষোভ, ‘সেতুমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে। অথচ ওই মহাসড়কে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে।’
মিয়াবাজার এলাকায় কথা হয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শামুকসার গ্রামের মো. মাসুদের (৩২) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা কিনেছি। এক লাখ টাকা নিজের ছিল। বাকি টাকা সুদ ও কর্জ করে এনেছি। এখন ওই টাকা ওঠানো দায় হয়ে পড়েছে। পুলিশকে টাকা দিয়ে ফাঁক-ফোকরের মধ্যে চালাই।’
মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল অব্যাহত থাকা ও চালকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে পূর্বাঞ্চল মহাসড়ক পুলিশের কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম দাবি করেন, ‘মহাসড়কে হঠাৎ করে দু-একটি অটোরিকশা চলাচল করে। এগুলো হয়তো রোগী আনা-নেওয়া করছে। মাঝে মাঝে আমরাও কিছু চলতে দেখি। তখন এদের ধরে জরিমানা ও মামলা দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে অটোরিকশা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে অবাধেই চলছে থ্রি হুইলার অটোরিকশা ও অটোটেম্পো। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর কয়েক দিন এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চললেও এখন তেমন কোনো অভিযান নেই বললেই চলে।
শুরুর দিকে মহাসড়ক পুলিশ ও গাজীপুর জেলা প্রশাসন অভিযানে নামে। তখন কয়েক দিন জরিমানা ও চালকদের আটক করা হয়। এতে এসব যানবাহনের চলাচল সে সময় অনেকটা কমে যায়। অবস্থা এখন আগের মতো। গতকাল সকালেও এ দুই মহাসড়কে অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে।
তবে গাজীপুরের পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান সরকার বলেন, ‘মহাসড়কে সিএনজি না চলায় দুর্ঘটনা অনেক কমে গেছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে আবার সিএনজি দেখা যাচ্ছে।’
কোনাবাড়ী মহাসড়ক পুলিশের পরিদর্শক আবু দাউদ বলেন, কিছু অটোরিকশা এখনো চলাচল করছে। তবে সেগুলো যাতে না চলে, সে জন্য চন্দ্রা ত্রিমোড় ও আনসার একাডেমির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের ৬০ কিলোমিটারের মতো অংশে অটোরিকশা চলাচল পুলিশি অভিযানে সাময়িক বন্ধ থাকলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অটোরিকশাচালক জানান, নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁয়ে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরা সিএনজি অটোরিকশায় যাতায়াত করে।
সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, পুলিশ নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ফিডার রোডগুলো দিয়ে অটোরিকশা মহাসড়কে উঠে পড়ে। গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়লে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে আসবে। সুত্র….প্রথম আলাে