May 6, 2026
ঢাকা: বিদেশি হত্যার রহস্য শিগগিরই উন্মোচন কবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশি হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছি। আমাদের সর্বস্তরের নিরাপত্তা বাহিনী এ ব্যাপারে কাজ করছে।’ রোববার সকালে গাজীপুরের শফিপুরে আনসার একাডেমিতে ৩৩তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
দেশে কতজন বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে আছেন জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সঠিক তালিকা সরকারের কাছে নেই। তবে দেশে প্রায় দুই লাখ ১৪ হাজার ৭০০ বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। অনেকে শিক্ষারত আছেন। এ ছাড়া দেশের কারাগারে প্রায় এক হাজার বিদেশি রয়েছেন। সাজার মেয়াদ শেষ হলেও তারা বাড়ি যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ’
এর আগে মন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন। তিনি সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশহগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জসিম উদ্দিনসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৩৩তম বিসিএস আনসার ব্যাচের ১৮ জন সহকারী পরিচালক ১৫ মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ ও মাস্টার্স ইন হিউম্যান সিকিউরিটি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশান ২-এর ৯০ নম্বর সড়কের মাথায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ইতালীয় নাগরিক চেসারে তাবেলাকে গুলি করে। এরপর তাঁকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত এই ইতালীয় নাগরিক আইসিসিও নামের নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পাঁচদিনের মাথায় রংপুর সদরের মাহীগঞ্জ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে জাপানের নাগরিক হোশি কুনিও নিহত হন।
ঢাকা: শিশুদের ওপর নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব কষ্ট হয় আমার দেখলে। অনেক সময় অনেক শিশুকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় কাজের জন্য। সেই শিশুদেরও লেখাপড়ার অধিকার রয়েছে। অমনি তাদের মারা, অত্যাচার করা। মানুষ এইভাবে এত নির্দয় হয় কীভাবে, আমি এটা ভেবে পাই না। কোনোভাবেই শিশুদের ওপর নির্যাতন মেনে নেওয়া যাবে না। এটা বন্ধ করতে হবে। শিশুদের দিয়ে কোনো ঝুঁকি পূর্ণ কাজ করানো যাবে না। শিশুদের কাজ পড়াশোনা করা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে অনেক হিসেব এসেছে। ৩৪ লাখ শিশু নাকি ঢাকার রাস্তায় ঘোরে। এখানে আমাদের মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আছে। এই দুই মন্ত্রণালয়কে আমি নির্দেশ দিচ্ছি একটি শিশুও রাস্তায় ঘুরবে না। একটা শিশুও এভাবে মানবেতর জীবনযাপন করবে না।’
পরীক্ষা ছাড়া প্রথম শ্রেণিতে শিশুদের ভর্তি করানোর বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা স্কুলে ভর্তি হতে গেলে ছাপানো প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করতে হবে, তা নয়। যে এলাকায় যে বসবাস করে, সে এলাকায় ভর্তি হওয়া তাদের অধিকার। সরাসরি তাদের আগে ভর্তি করিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু, সমাজকল্যাণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্যই এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটা যেন সমন্বয় করা হয়। তারা যেন লক্ষ্য রাখেন, কাজগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কি না। তারা যদি লেখাপড়া শিখে ছাপানো প্রশ্নপত্র পড়ে পরীক্ষা দিয়ে উত্তর দিয়ে স্কুলে ভর্তি হতে পারে, তাহলে আর স্কুল কি শেখাবে? প্রাক-প্রাইমারি বা প্রাইমারি তাদের কি শেখাবে? পড়াশোনা মানে একগাদা বই চাপিয়ে দেওয়া নয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য আজকাল আমাদের দেশে, যেমন এই ঢাকা শহরে দেখি এত ফ্ল্যাট বাড়ি হয়েছে তাদের খেলাধুলার জায়গা রাখা হয় না। এই ফ্ল্যাট বাড়িতে থেকে বাচ্চারা ওই ফার্মের মুরগির বাচ্চার মতো মানুষ হচ্ছে। আমি সব সময় বলতাম, আপনারা অন্তত বাচ্চাদের জন্য খেলার জায়গাটা রাখবেন। বাচ্চারা যাতে খেলাধুলা করতে পারে, তাদের হাত-পা ছড়াতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের লেখাপড়া শেখাতে পাঠানো মানে এক গাদা বইয়ের বোঝা কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে তাদের সারাক্ষণ পড় পড় এর ওপরে রাখা। এটা কিন্তু কখনো গ্রহণযোগ্য না। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলব, কাউকে সারাক্ষণ পড় পড় বললে, তাহলে পড়া থেকে তার মনটা উঠে যায়। আমি আমার ছোট বেলার কথা বলতে পারি, যখনই বলত—এই পড়তে বস, তখনই আর পড়তে ইচ্ছে করত না। কিন্তু মানুষ যদি উৎসাহিত করে এই পড়াটা তোমার দায়িত্ব পড়তে হবে। এই পড়াটা শেষ করতে পারলেই তুমি খেলতে পারবে। তখন কিন্তু সময় লাগে না। খুব তাড়াতাড়ি পড়াশোনা শেষ করে খেলা যায়।’
শিশুদের জন্য প্রতিটি স্কুলে খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়টা ছিল খালের ওপারে। পুল পার হয়ে স্কুলে যেতে হতো। আমার আব্বা জেলখানায় বছরের পর বছর। আমার দাদি সব সময় আমাদের ব্যাপারে চিন্তা করতেন। সোজা বলে দিলেন, পুল পার হয়ে স্কুলে যাওয়া লাগবে না। ঘরে বসে পড়বি। ঘরে মাস্টার, পণ্ডিত, আরবি পড়ার শিক্ষক ছিল। কাজেই আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। দাদিদের মনে তো এই দুশ্চিন্তাটা থাকে। আমি তো এখন দাদি হয়েছি, নানি হয়েছি কাজেই আমার এই দুশ্চিন্তা শিশুদের নিয়ে আছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্ম থেকে হয়তো অনেকের শারীরিক সমস্যা থাকে। এটা তাদের অপরাধ না। এই ধরনের শিশুদের সঙ্গে তোমরা আদর, যত্ন, বন্ধু সুলভ ও সহানুভূতিশীল আচরণ করবে। তাদের নিয়ে হাসি ঠাট্টা কখনো করবে না। বাবা-মায়েদের বলব, তারা যেন শিশুদের সেভাবে শিক্ষা দেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম প্রমুখ।
মক্কা: সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত বাংলাদেশি হাজির সংখ্যা আরো ১০ জন বেড়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট ৬১ জন বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এ কে এম শহীদুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানান, এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ১০০ জন বাংলাদেশি।

এদিকে, নিহত কিছু হাজির মরদেহ চিহ্ণিত করে তাদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মক্কাতেই দাফন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হজ মিশন। কনস্যুলেট ও মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের কর্মকর্তারা বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, পদদলিতের ঘটনায় এখনো ১১৬ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের স্বজনদের মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে মৃতদেহ সনাক্ত করতে সহায়তার জন্য ১০৭ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ফোন করা যাবে ০০৯৬৬-(০)১২৫৪১৩৯৮০ এই নম্বরে। এছাড়া হাজিদের পরিচয় জানতে ই-মেইল করা যাবে [email protected] এই ঠিকানায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুজদালিফা থেকে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপের জন্য মিনায় যাওয়ার সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
মক্কা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের এ ঘটনায় নিহত ১১০০ হাজির ছবি প্রকাশ করে সৌদি আরব। চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষ মক্কায় হজ পালন করতে যান।
ঢাকা: কিছু দিন পরপর ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলেছে টার্গেট কিলিং। এর সর্বশেষ শিকার বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খিজির খান। পুলিশ খুনের অনুমান ছাড়া গতকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এর আগে ব্লগার অভিজিৎ রায়, সিলেটের ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু, নিলাদ্রি, গোপীবাগের ভিন্নমতের নেতা লুৎফর রহমানসহ তার ৬ অনুসারী, চ্যানেল আইয়ের ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন। গোয়েন্দারা বলছেন, এসব হত্যাকা- একইসূত্রে গাঁথা। ভিন্ন মতালম্বী লুৎফর রহমান হত্যাকা-ের সঙ্গে যারা জড়িত সেই গ্রুপই এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে।
বাড্ডা থানার ওসি এমএ জলিল বলেন, ‘ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকা-। নিহত খিজির খান পীর-দরবেশ ভক্ত। তিনি নিজেও বাংলাদেশ খানকা শরিফের প্রধান। সেহেতু এই অনুসারীদের যারা দেখতে পারে না বা ইসলামের শত্রু মনে করে সেই গোষ্ঠীই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের হয়নি। তারপরও খুনিদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান চালাচ্ছি।’
খিরিজ খানের বাড়ির কাজের বুয়া আমেনা বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর পরই ৪/৫ জন লোক খানকা শরিফের ভেতরে প্রবেশ করে স্যারকে ধরে ফেলে। এ সময় আমি বাথরুম পরিষ্কার করছিলাম। আমি সেটি দেখে বের হয়ে ভাবি গো বলে চিৎকার দিই। এরপর তারা আমার হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ওয়াশরুমের একটু সামনে শুইয়ে রাখে। দীর্ঘক্ষণ আমেনা বেগম দোতলা থেকে তিন তলা না যাওয়ায় সন্দেহ হয় খিজির খানের স্ত্রী রুবি বেগমের। এসময় তিনি ও আরেক কাজের মেয়ে কিশোরী সাফিয়াকে সঙ্গে করে তিন তলা থেকে দুই তলায় খানকা শরিফে নেমে আসেন। এসময় ঘাতকরা সালাম দিয়ে তাদেরও হাত, মুখ চোখ বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে স্যারকে তারা আমার গায়ের ওপর দিয়েই ওযু খানার জায়গা নিয়ে গিয়ে জবাই করে।’ আমেনা বেগম আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় আমার চোখ বাঁধা অবস্থায় শুয়ে থাকলেও মনে হলো আমার গায়ের ওপর দিয়েই স্যারকে নিয়ে যাওয়া হলো।’ কিশোরী সাফিয়াও বলেন, ‘আমরা যখন স্যারের খানকায় প্রবেশ করি তখন তারা সালাম দেয় এবং আমাকে ও আন্টিকে বেঁধে ফেলে।’
পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ৮/১০ জনের একটি দল নিচের গোডাউন ভাড়ার কথা বলে তারা প্রথমে বাসায় প্রবেশ করে। এর আগে তারা সোমবার বাসায় এসে গোডাউন ভাড়ার জন্য ৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে যায়। বাসায় প্রবেশের পর তারা কয়েকটি গ্রুপ ভাগ হয়ে যায়। একটি গ্রুপ খানকা শরিফে প্রবেশ করে অন্য একটি গ্রুপ তিনতলায় পরিবারের অন্য সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর তারা ঠা-া মাথায় জবাই করে হত্যা করে। হত্যার পর গ্রুপটি সময় নিয়ে দু’একজন করে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়।
নিহত খিরিজ খানের ছোট ছেলে আশরাফুল আলম আহমদ বলেন, ‘সন্ধ্যার পর যখন লোকগুলো আসছিল সেই সময় আমার সঙ্গে তাদের দেখাও হয়। ওই সময় তারা বলে হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। সুতরাং আমি আর তাদের সঙ্গে কোনও কথা না বলে বাইরে চলে যাই।’ তিনি বলেন, ‘বাবার কাছে অনেক লোকই আসতো। বাইরে দারোয়ানকে হুজুরের সঙ্গে দেখা করার কথা বললে কেউ আটকাতো না।’ তিনি আরও বলেন, তার কোনও শত্রু ছিল না। এছাড়া পীর আওয়ালিয়াদের মাজারে যেতেন মাহফিল করতেন।
এদিকে, গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কাজের দুই বুয়াসহ বাকিরা সবাই বলেছেন, আল্লাহু আকবর বলে তারা জবাই করেছে। পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা সবাই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, জবাইয়ের সময় তারা সবাই আল্লাহু আকবর শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এছাড়া ঘাতকদের মধ্যে ২/৩ জনের বয়স ২৫ এর নিচে আর ৪/৫ জনের বয়স ৩০ এর উপরে। পরনে পায়জামা পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও টি শার্ট ছিল। হত্যাকা-ের পর থেকে খিরিজ খানের আত্মীয় স্বজন সহকর্মী থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা সেখানে আসেন। নির্মম হত্যাকা-ের ঘটনায় শোকে বিবহব্বল হয়ে পড়েন সবাই। মঙ্গলবার নিহত খিজির খানের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাসায় পৌঁছালে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। আত্মীয় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। মহানগর আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কালোব্যাজ ধারণ করে নির্মম হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
ওয়াশিংটনে গবেষণা সংস্থা হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিজ বলেছেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদীরা রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে। ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশে সমপ্রতি দুজন বিদেশী নাগরিককে গুলি করে হত্যা, তার আগে ব্লগারদের হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে সাক্ষাৎকারটি নেন রোকেয়া হায়দার।
বাংলাদেশে চলতি বছরের শুরুতে এবং গত বছর ব্লগার লেখকদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গত সপ্তাহেই দেশের দুই প্রান্তে দুজন বিদেশী নাগরিক- ঢাকায় একজন ইতালিয়ান ও রংপুরে একজন জাপানিকে উগ্রপন্থিরা গুলি করে মেরে ফেলেছে। এবং আইসিস এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে। বর্তমান ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে তার বিশ্লেষণ কি? এই প্রশ্নের জবাবে লিসা কার্টিজ বলেন- বাংলাদেশে একটা হুমকি দানা বেঁধে উঠছে। এবং আমি মনে করি যে, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে বর্তমানে যে ধরনের মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে সেটাই এর মূল কারণ। এবং উগ্রবাদীরা সেই পরিস্থিতির এবং রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে।
আইসিসের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সে বিষয়ে তার ধারণা কি?
তিনি বলেন, আমি মনে করি এই মুহূর্তে সঠিকভাবে এটা বলা সম্ভব নয় যে আইসিসের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি নেই। স্থানীয় মানুষজন আইসিসের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছে কিনা, অথবা আইসিস সে দেশে কোনভাবে কাজ শুরু করেছে কিনা তাও বলা যায় না। তবে এই আশঙ্কা রয়েছে যে বাংলাদেশে উগ্রবাদ বেড়ে চলেছে এবং সরকারকে অবশ্যই তার মোকাবিলা করতে হবে। এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই তদন্ত কাজে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে, এবং এক্ষেত্রে বাইরের একটা যোগাযোগ থাকতে পারে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত।
শুধু কি রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলেই উগ্রবাদ বেড়ে চলেছে, নাকি বাইরের কোন প্রভাব এর কারণ? হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো কার্টিজের বক্তব্য, আমি মনে করি ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা এবং আইসিস উভয়েই হয়তো শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি রক্ষণশীলদের ক্ষোভের মধ্যে একটা সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামির মতো দলের ক্ষুব্ধ মনোভাব তাদের মতো বাইরের দলকে বাংলাদেশে প্রবেশে সম্ভবত একটা সুযোগ করে দিচ্ছে। এই হামলা দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদা ও আইসিসের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতারও প্রতিফলন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, উগ্রবাদ দমনে যে কোন যৌথ প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে। তিনি সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে ইসলামিক স্টেটকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে তাদের কাছে সকল ব্যবস্থা রয়েছে। লিসা কার্টিজ মনে করেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানের এই হামলা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। বাংলাদেশ অবশ্যই সেই ২০০৫ সালে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের জেএমবির মতো উগ্রবাদী গ্রুপ যারা একই সঙ্গে পরপর কয়েক শ’ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, তার মোকাবিলা করতে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। তবে আমি মনে করি কোন রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া পূর্ণ তদন্ত করতে হবে। কারা এর সঙ্গে জড়িত। কারা তাদের উৎসাহ যোগাচ্ছে। কার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। সুষ্ঠুভাবে সবকিছু অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ জানতে পারবে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কি করতে হবে।
লিসা কার্টিজ আরও বলেন, ‘আমি অবশ্যই উল্লেখ করবো যে বাংলাদেশ একটি মধ্যপন্থি মুসলিম গণতান্ত্রিক দেশ। অন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে অধিক সংখ্যায় মহিলারা যোগ দিচ্ছেন। তাই আমি অবশ্যই মনে করি যে বাংলাদেশ তার চলতি সমস্যা, হুমকি কাটিয়ে উঠতে পারবে, তার সেই সঙ্গতি আছে। তবে সরকারকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রেখে অনুসন্ধান কাজ চালাতে হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে এসব হামলার কারণ তদন্ত করে দেখতে হবে।
বিনােদন ডেস্ক: ‘অ্যালোন’ ছবির প্রধান আকর্ষণই ছিলেন বিপাশা বসু আর করণ সিং গ্রোভার। শিগগিরই সিক্যুয়েল হতে যাচ্ছে ভূষণ প্যাটেলের ‘অ্যালোন’ ছবিটির। কথাবার্তাও প্রায় পাকা হওয়ার পথে। এখন চলছে অভিনয়শিল্পী চূড়ান্ত করার কাজ। করণের সঙ্গে এ ছবিতে বিপাশারই থাকার কথা ছিল। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, বিপাশা নাকি বাদ পড়ছেন ‘অ্যালোন’ সিক্যুয়েল থেকে। তাহলে কী করণ একা হচ্ছেন? নাকি বিপাশা! ‘অ্যালোন’ দিয়েই কাছাকাছি এসেছিলেন তাঁরা; আর এবারে অ্যালোনের সিক্যুয়েলই বোধ হয় করণের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বিপাশাকে! তবে কী আবারও একা হচ্ছেন বিপাশা!
বলিউডের ‘অ্যালোন’ ছবি দিয়েই দুজনের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার শুরু। এ ছবিতেই বিপাশা বসু প্রথম জুটি বেঁধেছিলেন মডেল-অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে। ‘অ্যালোন’ ছবিতে করণ-বিপাশার আবেগঘন দৃশ্যে সাবলীল অভিনয় দেখে অনেকেই সেসময় মন্তব্য করেছিলেন, ‘অ্যালোন’ দিয়েই বোধ হয় এবার নিঃসঙ্গতা কাটতে যাচ্ছে বিপাশার। এর পর নানা অনুষ্ঠানে, নানা আয়োজনে দুজনকে একসঙ্গেই দেখা গেছে সব সময়। বিপাশা যেন অনেকটা আগলেই রেখেছিলেন করণকে।
এদিকে, করণ সিং গ্রোভার আর বিপাশাকে নিয়ে নানা আলোচনার শেষে বলিউডে এক ধরনের নিশ্চিতিও এসেছিল। যাক তাহলে এবারে থিতু হচ্ছেন তাঁরা। বিপাশার ঘনিষ্ঠ অনেকেই, যারা তাঁর দীর্ঘ একাকিত্বের যন্ত্রণার বিষয়টিকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন; হাঁপ ছেড়েছিলেন খানিক। যাক, বন্ধুর ভালোবাসা, সাহস আর শক্তি নিয়ে কেউ অন্তত আছেন বিপাশার পাশে। কিন্তু এ সময়েই এমন খবর।
এই তো মাত্র কিছুদিন আগেই এক টুইট বার্তায় বিপাশা লিখেছিলেন, ‘সত্যিকারের বন্ধু এমনই একজন; যে তোমার হৃদয় স্পর্শ করে, হাত বাড়িয়ে দেয়।’
বিপাশা এরপর করণ সিং গ্রোভারকে ‘কেএসজি’ সম্বোধন করে ধন্যবাদও দিয়েছিলেন। কিন্তু এ অসময়ে এমন খবরে বলিউডের অনেকেই বিপাশাকে নিয়ে আবারও খানিক চিন্তিতই হয়ে পড়েছেন।বিপাশা বসু
‘অ্যালোন’-এর পর আর কোনো নতুন ছবিতেই দেখা যায়নি বিপাশাকে। নতুন ছবি বলতে একমাত্র অ্যালোনের সিক্যুয়েলেই বিপাশাকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। তিনি আছেন, এমনটাই ধরে নিয়েছিল সবাই। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, এ ছবিতেই নেই বিপাশা বসু। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—বিপাশার ‘ভালো বন্ধু’ করণ সিং গ্রোভার কী বিপাশাকে ছাড়াই এ ছবিতে অভিনয়ে রাজি হবেন? যে মানুষটি সব সময় বিপাশার পাশে পাশেই ছিলেন, সেই তিনিই কী এবারে শুধু ছবির জন্য বিপাশাকে ছাড়াই একা পথ চলবেন?
বাঙালি বংশোদ্ভূত বলিউডের তারকা অভিনেত্রী বিপাশা বসু জন আব্রাহামের বিচ্ছেদের যন্ত্রণা একটু সামলে উঠেছিলেন। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমগুলোর এই কানাঘুষা।
যদিও এর আগে ‘সিঙ্গল’ বিপাশাকে জড়িয়ে অনেকেরই নাম জড়ানো হয়েছিল। বিপাশার নামের সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল ব্রিটিশ অভিনেতা জশ হার্নেট থেকে শহীদ কাপুরেরও। কিন্তু করণ সিং গ্রোভার যেন বিপাশার ছায়াসঙ্গী হয়েই তাঁর পাশে ছিলেন।
করণ আছেন সব সময়, বিপাশার পাশেই আছেন করণ সিং গ্রোভার। হয়তো থাকবেনও। বিপাশার শুভাকাঙ্ক্ষীরা এমনটাই আশা করছেন যে!
নোয়াখালী প্রতিনিধি : চাটখিল উপজেলার দশঘরিয়া বাজারে এক ব্যাবসায়ীর দোকানে ডাকাতি-কালে দোকানের কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে গেছে ডাকাত দল। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চাটখিল উপজেলার দশঘরিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারে বইছে শোকের মাতন । এই বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলেই জানতে পারবো বিষয়টি কি ঘটেছে ।

নিহত যুবক নজরুল দীর্ঘ ৭ বছর ধরে সেই দোকানে কাজ করছে, সে দোকানে একা ছিল। গভীর রাতে দোকানের তালা ভেঙ্গে দোকানে ঢুকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময়ে হয়তো কর্মচারি নজরুল ডাকাতদের চিনে ফেলায় হাত পা বেঁধে গলা কেটে করে হত্যা করে লাশ টয়লেটে রেখে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাটখিল সরকারি হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা: দুই বিদেশি নাগরিক দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা এবং এরপর উৎকণ্ঠার জের ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৬৮টি কারাগারে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিশেষত যেসব কারাগারে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বন্দী আছেন, সেসব কারাগারে নিরাপত্তা দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। এমনকি এসব বন্দীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স্বজন ছাড়া অন্য কাউকে দেখা করার সুযোগও দেয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানান, কারাগারে সব সময়ই জোরদার নিরাপত্তা থাকে। এরপরও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিবেচনায় দায়িত্বরত সবাইকে আরো বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কারা কর্মকর্তারা জানান, ইতালি ও জাপানের নাগরিক হত্যার ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার দিকে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। এ কারণে কারাবন্দি জঙ্গিরা যাতে কারাভ্যন্তরে বসে কোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা যাতে না চালাতে পারে বা কোনো পরিকল্পনার ছক কষতে না পারে সেজন্য তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি কারাগারের বাইরে পুলিশ ও র্যাবের টহল বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কারাগারগুলোতে বন্দিদের নিরাপত্তা রক্ষায় জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার ও কারারক্ষীরা অতি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশের ৬৮টি কারাগারে সাড়ে ৪শ’ জঙ্গি বন্দী রয়েছে। ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা বন্দী রয়েছে কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগারে। এর বাইরে সবচেয়ে বেশি জঙ্গি বন্দী রয়েছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই কারাগারে জেলার শাহাদত হোসেন জানান, এখানে বন্দিদের মধ্যে ২৪ জন জেএমবি সদস্য। অন্য কারাগারগুলোর কোনো কোনোটিতে সর্বোচ্চ ১০ জন জঙ্গি বন্দী রয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম বলেন, ‘জঙ্গিদের দিকে আমাদের সবসময়ই বেশি সতর্কতা থাকে। আর এখানে বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কম, চার থেকে পাঁচজন।’
কারা সূত্র জানায়, কারাগারে বসে জঙ্গিরা যাতে কোনো হামলা-নাশকতার পরিকল্পনা করতে না পারে সেজন্য তাদের সঙ্গে স্বজনদের দেখার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মা-বাবা, সহোদর ভাই-বোন ও স্ত্রী-সন্তান ছাড়া অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন দেখা করার সুযোগ পাচ্ছে না। এমনকি ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ক্ষেত্রেও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সৌজন্য…. বাংলামেইল
নিউজ ডেস্ক: বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পঞ্চম পুঁজিবাজার মেলা শুরু হচ্ছে। মূলত পুঁজিবাজার সম্পর্কিত নানা তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বিশেষজ্ঞও অংশ নেবেন। মেলায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এর কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএসই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি উল মারুফ মতিন।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালি উল মারুফ মতিন বলেন, ‘এবারের মেলার উত্সবে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে সিএসইর ২০ বছর পূর্তি। দুই দশকের সফল পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবারের মেলায় সেমিনার, র্যাফেল ড্রসহ বাড়তি অনেক কিছু যোগ করা হয়েছে।’
এসময় বিনিয়োগকারীদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোসহ তাদেরকে শেয়ার বাজার সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলতেই এ মেলায় আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সূত্র: সময় টিভি
ঢাকা: মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের পরীক্ষার ফলাফল বাতিল ও পুন:পরীক্ষার দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্র জোট এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের ডাকে সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট চলছে। বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাতে ছাত্র ধর্মঘট পালনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় পুলিশের সতর্ক অবস্থানও লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে জোটের নেতাকর্মীরা। দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলছে ধর্মঘট। আজ দুপুরের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জোটের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাবিব রুমন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে যে আন্দোলন চলে আসছে এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চারদফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো ছিল- লাগাতার প্রশ্নফাঁস বন্ধ, ফাঁসকৃত প্রশ্নে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যতনের বিচার করা। দাবি পূরণের আল্টিমেটাম ছিল ৬ অক্টোবর।
কিন্তু এর মধ্যে দাবি পূরণ না করায় আগামীকাল সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে।’ উল্লেখ্য, চলতি বছর মেডিকেল ও ডেন্টাল পরীক্ষায় ব্যাপক প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর পরই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে নেওয়া পরীক্ষার ফল বাতিলসহ পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।