May 2, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : মন্ত্রীসভায় রদবদল হতে পারে আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এছাড়া উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে তা ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে বনানীর সেতু ভবনে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর নিজের এরিয়া। এখানে আমাদের কারো কিছু বলার নেই। কাকে তিনি রাখবেন, কাকে বাদ দেবেন অথবা এ মুহূর্তে তিনি একটা রদবদল করবেন কিনা। তবে একটা রদবদল হয়তো হতে পারে। তবে কোন সময় হবে, কি হবে আমি ঠিক জানি না। তবে উপ-প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি স্রেফ গুজব। এটার কোন বাস্তবতা নেই। আমি বলবো, একেবারেই এটা একটা ভিত্তিহীন মিথ্যে কথা।’
পদ্মার দুই পাড়জুড়ে (মাওয়া ও জাজিরা) চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ। রোদ, বৃষ্টি ও ঢেউয়ে সঙ্গে লড়াই করে দেশি-বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই মহাযজ্ঞ। তদারকিতে যুক্ত রয়েছে সেনা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকেই এই সেতু দৃশ্যমান করতে স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি। টেকনিক্যাল কাজগুলো শেষ না হওয়ায়, চলতি মাসেও সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সেতু সংশ্লিষ্টরা। তবে আগস্টের মধ্যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করতে দুই পিলারের মধ্যে স্প্যান বসানোর জন্য তোড়জোড় চলছে। তবে দিন-ক্ষণ ঠিক না হলেও আগস্টের যেকোনও দিন আনুষ্ঠানিকভাবে স্প্যান বসানোর কাজ উদ্বোধন করার প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকেই জাজিরা পয়েন্টে স্থাপিত দু’টি পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু করবেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমুহূর্তে সেতু নির্মাণের কাজ তাদরকি করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সময় পেলেই ছুটে যাচ্ছেন পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায়। কথা বলছেন, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকদের সঙ্গে। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি কাজের।
সংশ্লিষ্ট সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, পদ্মার অন্যপ্রান্ত জাজিরা পয়েন্টে চলছে পাইল ড্রাইভ, মাওয়া পারে ট্রাস ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে স্টিলের কাঠামো ও স্প্যান জোড়া দেওয়ার কাজ। পিলারের ওপরে গাড়ি চলাচলের জন্য বসানো হবে এই স্প্যানগুলো। দেখা গেছে, মাওয়া চৌরাস্তার দক্ষিণে বিস্তৃত প্রকল্প এলাকার ট্রান্স ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে প্রায় তিন হাজার টনের একেকটি স্প্যান তৈরির কাজ।
সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে এখন কাজ চলছে ১৬টির। পিলার বসবে পাইলের ওপর এবং মোট পাইল ২৪০টি। এর মধ্যে ২৮টি পাইলের কাজ পুরোপুরি এবং ৫৭টির কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। এসব পিলারের ওপর বসানো হবে স্প্যান। স্প্যানের ওপর ঢালাই দিয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, জাজিরায় ৩৭ নম্বর পিলারের নিচে রড বেঁধে ক্যাপ লাগানো শুরু হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ৩৭ নম্বর থেকে শুরু হবে স্প্যান বসানোর কাজ। তা একে একে পাতা হবে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত। সেখানে শুরু হয়েছে কংক্রিট ফেলার কাজ। ৩৮ নম্বর পিলারে ক্যাপ লাগানোর কাজও শুরু হয়েছে। ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত ক্যাপ লাগানো শেষ হলেই এসব পিলারের ওপর বসানো শুরু হবে স্প্যান। নির্মাণাধীন পিলারগুলোর ওপর প্রথম দফায় কমপক্ষে পাঁচটি স্প্যান (স্টিলের কাঠামো) বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
এখন পর্যন্ত চীন থেকে আটটি স্প্যানের আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি মাওয়ায় এসেছে। এর মধ্যে ছয়টি স্প্যান তৈরি করা হয়েছে। এর বাইরেও আরও দু’টি স্প্যান তৈরি হচ্ছে। চীন থেকে আরও ২০টি স্প্যানের যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ আসছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে এগুলোর একটি চালান মাওয়ায় আসবে নৌপথে। গত মাসেও এসেছে চালান।
জানা গেছে, মাওয়ায় এরই মধ্যে চার লেনের সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজ শেষ হয়ে গেছে। জাজিরায় শেষ হয়েছে চার লেনের সংযোগ সড়কের কাজ, টোল প্লাজা নির্মাণও শেষের দিকে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৪৪ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিও গড়ে ৪৪ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘গত বছর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে স্প্যানের মূল কাঠামো ও সংযোজক সরঞ্জামাদি চীনের সিংহোয়াংদাওয়ের কারখানা থেকে প্রকল্প এলাকায় আসতে থাকে। মংলা বন্দর থেকে বার্জে চাঁদপুর হয়ে প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। স্প্যানের মূল কাঠামো জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্প্যান।’ তিনি আরও জানান, ‘প্রতিটি স্প্যান ১৫০ মিটার দীর্ঘ। স্প্যানগুলোর ওপর কংক্রিটের সমতলের সড়কের ওপর চলবে যানবাহন। প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত পরীক্ষাগারে ওজন সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা শেষে স্প্যানগুলো বসানো হবে। প্রতিটি স্প্যানের গড় ওজন ২ হাজার ৯০০ টন।’
পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমন কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মা অন্যতম। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু প্রকল্প অংশে পদ্মা আরও তীব্র খরস্রোতা। গত ৩০ জুনের মধ্যে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে তীব্র স্রোতের কারণে খুঁটি বসানোর কাজ শেষ করা যায়নি।
প্রকৌশলীরা জানান, নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন নিয়ে জটিলতা রয়েই গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোত। এসব প্রতিকূলতা জয় করে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে। জাজিরা অংশে সব পিলারের পাইলিংয়ের মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। আমি নিজে বিষয়টি দেখভাল করছি। প্রতি সপ্তাহেই আমি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সেতু নির্মাণের অগ্রগতির খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই বিশ্ববাসীর সামনে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সময়-সুযোগ মিলে গেলে সেতুতে প্রথম স্প্যান বসানোর কাজটি প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে শুরু করতে পারেন।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে অতি উৎসাহী না হতে সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রোডম্যাপ ইসির বিষয়। এই রোডম্যাপ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আপনারা কোনও মন্তব্য করবেন না।’ সোমবার সচিবালয়ে
মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রোডম্যাপ নিয়ে মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা যেন একেক জন একেক ধরনের বক্তব্য না দেন, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং তাদের মাধ্যমে দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা দেখতে হবে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। কাজেই আগে থেকে এ বিষয়টি নিয়ে কোনও ধরনের মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের আগাম বা অতিরিক্ত কোনও মন্তব্য না করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী জানান।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, খালেদা জিয়া দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দিয়ে সংঘাত-অশান্তির ষড়যন্ত্র করছে।
রোববার বিকাল ৪ টায় সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর জাসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়ার এজেন্ডা নির্বাচন নয়, তার আসল উদ্দেশ্য অসাংবিধানিক অস্বাভাবিক সরকার আনা। সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করে সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করাই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির প্রধান জাতীয় কর্তব্য।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র-নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীরা যেমন হালাল না, তেমনই আগুন সন্ত্রাসীরাও হালাল না। তিনি বলেন, প্রয়াত নেতা জাফর সাজ্জাদ খিচ্চু রাজনীতিতে সততা ও সাহসের যে পরিচয় দিয়েছেন তা অনুকরণীয়। তিনি আমৃত্যু শ্রমিক-গরীব-মেহনতি মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছেন।
মহানগর জাসদের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. হাবিবুর রহমান শওকত, সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, আফজাল হোসেন খান জকি, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর জাসদের সভাপতি শফি উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর পূর্ব জাসদের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নুরুন্নবী, মাহবুবা আখতার লিপি, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের সভাপতি মাইনুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সভাপতি ইদ্রিস ব্যাপারী, ঢাকা মহানগর পূর্ব জাসদের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহ আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সাধারণ সম্পাদক মাইনুর রহমান, শ্রমিক নেতা কাজী সিদ্দিকুর রহমান ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম সুমন প্রমুখ।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় একটি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক কথা বলেন।
কাদের বলেন, বার বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত এখনও চলছে।
তিনি বলেন, বিএনপির শত্রু আওয়ামী লীগ না। তাদের এখন প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা। তাকে হঠাতে পারলেই বিএনপির শান্তি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে ইংগিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। বিদেশে বসে শেখ হাসিনাকে হঠানোর ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, আমীনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
ডেস্ক রিপোর্ট : উচ্চ আদালতের বিচারক সংকট সমাধানের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট বৃহস্পতিবারের (২১ জুলাই) মধ্যে চূড়ান্ত হবে।’ রবিবার (১৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।
তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
চলতি বছরের ২৯ মে বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে ২ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তার আগেও আপিল শুনানিতে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে দফায় দফায় সময় নেয় সরকারপক্ষ। গত মাসে শেষবারের মতো আবারও সময় পায় রাষ্ট্রপক্ষ।
এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। এর আগে ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। ১২ দফার মধ্যে ইতিমধ্যে কয়েক দফা বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এ জন্য বারবার আদেশ দিতে হয়েছে আপিল বিভাগকে। এমনকি, ২০০৪ সালে আদালত অবমাননার মামলাও করতে হয়েছে বাদীপক্ষকে। এরপর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোট। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।
ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাস্তবসম্মত ও সুন্দর রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘আশা করি আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। তারা গত নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আমরা অংশ নিয়ে সরকার গঠন করে ৫ বছর পার করছি। আশা করি, বিএনপি আর ভুল করবে না। জেনেশুনে আগুনে ঝাঁপ দেবে না।’ রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যে সহায়ক সরকারের কথা বলছে, এটি সংবিধানে নেই। সংবিধানপরিপন্থী কেউ কিছু প্রস্তাব করলে, তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সংবিধানবিরোধী কোনও প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করব না।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন যথাসময়েই হবে। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি নেবে না, তা তাদের বিষয়। ২০০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলাম। ওই সরকার এখন তার ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছে। আমার মনে হয় না বিএনপি এর পরেও আগুনে ঝাঁপ দেবে। আমার মনে হয়, তারা অতীতের মতো ভুল করবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে ইবিএম চালু করবে কি করবে না, তা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে এ বিষয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’
ডেস্ক রিপোর্ট : নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম ‘দানব’ বলায় নাছিমের সমলোচনা করেছেন নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদের মুখে এমন ভাষা শোভা পায় না। মানুষ কিভাবে দানব হয়? তা জানা নেই।’ এসময় মন্ত্রীর চোখ পানিতে ভিজে ওঠে। ছলছল চোখে আবেগজড়িত কণ্ঠে বক্তব্য শেষ করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
রবিবার (১৬ জুলাই) সকালে মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ফুলের বাগান ও আইসিটি ল্যাব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠকে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে দানব বলেছিলেন বলে তার অভিযোগ।
শাজাহান খান তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘যখন কেউ মাঠে থাকে না, তখন শাজাহান খান মাঠে থাকে।’ বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন তিনিই প্রতিহত করেছেন বলেও দাবি করেন নৌমন্ত্রী।
শাজাহান খান বলেন, ‘যুবক-যুবতীদের ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করে আইএস বানাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের বলা হয়, আত্মঘাতী বোমায় নিহত হলে জান্নাতে যাবে। আমি বলছি—এমন কথা কোরআন হাদিসের কোথায়ও উল্লেখ নেই।’
অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরুল হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ছোট ভাই মাদারীপুর পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ।
সূত্র :
ডেস্ক রিপোর্ট : আরেকটি ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে আগামী নির্বাচনকে ভাল করা চেষ্টা করা হচ্ছে।’
রোববার দুপুরে ‘শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার দিবস ও শিক্ষক নির্যাতন’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনার আয়োজন করে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে যেতে পারেন না।
“এক-এগারোর সরকারের যারা সহযোগী ছিল, তারা এখনো আমাদের আশপাশে আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু ভুলতে পারি না। তাদের চিহ্নিত করে রাখতে হবে, ভুলা যাবে না ‘”, বলেন খালিদ মাহমুদ।
শিক্ষকদের কল্যাণে নেওয়া সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।’
২০০৭ সালের এই দিনের স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘সেদিন বিনা ওয়ারেন্টে দানবীয় কায়দায় শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জনগণের তুমুল প্রতিবাদে তৎকালীন সরকার তাঁকে ছাড়তে বাধ্য হয়।’
সূত্র : এনটিভি
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘শুধু শহরে বসবাসকারী লোকজনের জন্য আমাদের উন্নয়ন নয়। আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের,একেবারে তৃণমূলের মানুষের উন্নয়ন। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বাজেট প্রণয়ন করি। সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২১ ও ১৪২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সব উন্নয়নে সব থেকে বেশি অবদান রেখে যাচ্ছে আমাদের কৃষি। আমরা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছি। স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়া করে কেউ কৃষি কাজ করতে চায় না। আমি মনে কারি লেখাপড়া করেও সে কাজ করা যায়। এতে অসম্মানের কিছু নেই। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর আল্লাহর রহমতে মানুষ মঙ্গার কথা ভুলে গেছে।’
তিনি বলেন,‘আমাদের লোক সংখ্যা বাড়ছে ঠিক। খাদ্য নিরাপত্তা আমরা দিতে পারবো। কারণ আমরা নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ‘৯৬ সালে ক্ষমতা আসার পর শুনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বিএডিসিকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বলে সেটাকে বন্ধ করে দিতে বললো। আমি বললাম এটা বন্ধ হবে না। শুধু বেসরকারি উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকলে হবে না। কারণ তারা ভালো বীজ দেবে কিনা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমাদের খাদ্যভাস পরিবর্তন করা দরকার। আমরা শস্যের বহুমুখীকরণ এবং বাণিজ্যিকরণের চেষ্টা করছি। কারণ শুধু ধান উৎপাদন নয়, পাশাপাশি অন্যান্য ফসল উৎপাদনে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। জলজ প্রাণীর দিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’
তিনি বলেন,‘৭ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে আর ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হয়। তাই আমরা ই-কৃষি সার্ভিস চালু করে দিয়েছি। কৃষি তথ্য সেবা আমরা চালু করেছি।’
কৃষিখাতে সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দুধের উৎপাদন বেড়েছে। মাংস উৎপাদন আমরা বৃদ্ধি করেছি। শুধু দেশের চাহিদা মেটানো না, আমরা যেন বিদেশে রফতানি করতে পারি সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। আলু উৎপাদনে পৃথিবীর সপ্তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে আমরা তৃতীয় অবস্থানে। তাছাড়া বিভিন্ন নতুন নতুন ধরনের ফল গবেষণা করে আমরা উৎপাদন করছি।’
সরকার গৃহীত ১০০টি শিল্পাঞ্চলের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যগুলো প্রক্রিয়াজাত করা,সংরক্ষণ করা এবং বাজারজাত করার ব্যবস্থা রেখেই কিন্তু আমরা এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি।’
তিনি বলেন,‘আমাদের দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবাই চাকরি করছে। তাই কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। খাবার প্রক্রিয়াজাত করা থাকলে বিশেষ করে সুবিধা হবে গৃহিণীদের। কারণ আমাদের ছেলেরা তো একটু অলস হয়। এখন থেকে আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো। আসুন সবাই মিলে কাজ করি। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।