March 13, 2026
ইসলাম ডেস্কঃ ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়ায় মানুষ কত কিছুই না করছেন। আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ অমান্য করে বিপথগামী হচ্ছেন। এটা সন্দেহাতীত যে, মৃত্যুপরবর্তী রোজ কিয়ামতে হাশরের ময়দানে শুধু হযরত ইব্রাহিম (রা.) ব্যতীত প্রতিটি মানুষকে খালি পাও, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে এবং বেহেশত ও দোযখের চূড়ান্ত ফায়সালা হবে।
হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি এক দাওয়াতে নবী করীম (সা.)-এর সাথে ছিলাম। তিনি এরশাদ করেন, আমি কিয়ামতের দিন সকলের সর্দার হব। সে কঠিন দিনে কষ্ট সাইতে না পেরে মানুষ অস্থির হয়ে যাবে এবং কার দ্বারা সুপারিশ করলে আল্লাহ্ কবুল করবেন সে রূপ লোক তালাশ করতে থাকবে।
অতপর অন্যান্য নবীগণের নিকট হতে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষে সমস্ত লোক হুজুর (সা.)-এর কাছে এসে বলবে আপনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, আমাদের কষ্ট তো আপনি দেখেছেন, এখন দরবারে এলাহীতে আমাদেও জন্য সুপারিশ করুন যাতে আমাদেরকে পরিত্রাণ দেয়া হয়।
নবীজী (সা.) বলেন, আমি তখন আল্লাহ্র আরশের নিচে এসে সিজদায় পড়ে কান্নাকাটি করতে থাকব। অতপর আল্লাহ্ও তরফ থেকে বলা হবে, আপনি মাথা উঠান এবং ফরিয়াদ পেশ করুন। আপনার ফরিয়াদ কবুল করা হবে।
হুজুর (সা.) তখন মাথা উঠাবেন এবং বলবেন, হে প্রভু! তুমি আমার উম্মতগণকে ক্ষমা কর। আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, হে আমার প্রিয় নবী! আমার বেগোনাহ বান্দাদেরকে বেহেশতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করান। এতদ্ব্যতীত অন্য দরজা দিয়েও ইচ্ছে করলে ঢুকাতে পারেন।
সে বিচারে একমাত্র যিনি সুপারিশ করতে পারবেন তিনি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)। হযরত আউফ বি মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার কাছে আল্লাহ্ তা’য়ালার কাছে থেকে এক দূত এসে জানালেন যে, আল্লাহ্ তা’য়ালা আমাকে দুটি প্রস্তাব দিয়ে পাঠিয়েছেন। এ দুটির মধ্যে থেকে যেকোনো একটি গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তাব দুটি হলো আমার অর্ধেক উম্মতকে বিনা হিসেবে বেহেশতে দেয়া হবে অথবা আমি যেকোনো উম্মতের জন্য আমার ইচ্ছেমত সুপারিশ করতে পারব। আমি সুপারিশ করার ক্ষমতাটাকেই গ্রহণ করেছি। কাজেই অমি মুশরিক ব্যতীত সকলের জন্য শাফায়াত করব।
হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন যে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ তা’য়ালা সকল নবীগণকেই একটি বিশেষ ক্ষামতা দিয়েছেন। তা এটাই যে, তাঁদের একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করা হবে। সকল নবীই প্রয়োজন মোতাবেক এক একটি জিনিস চেয়ে নিয়েছেন এবং তারা সকলেই পার্থিব জিনিস চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের নবীজী এরশাদ করেছেন, ‘আমি এ সুযোগ পৃথিবীতে গ্রহণ করিনি। রোজ হাশরে আমি আমার প্রাপ্য আদায় করব এবং তা হবে আমার উম্মতের নাজাতের জন্য সুপারিশ করা।’
১। হাশরের ময়দানে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে অতি শিগগিরই হিসাব-নিকাশের কাজ শুরু করার জন্য সকল নবীগণের কাছে যেতে শুরু করবে। কিন্তু সকলেই অপরাগতা প্রকাশ করার পর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কাছে উপস্থিত হবে এবং তিনি পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতির জন্য সুপারিশ করবেন।
২। দ্বিতীয় সুপারিশ হবে প্রথম দরজার মু’মিনগণকে হিসাব-নিকাশ ছাড়াই বেহেশতে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার জন্য। এটাও শেষ নবীই (সা.) করবেন।
৩। তৃতীয় সুপারিশ হবে যারা স্বীয় অপকর্মের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত হয়ে পড়েছে তাদেরকে ক্ষামা করে দেয়ার জন্য। এ সুপারিশ নবীজী করবেন। এতদ্ব্যতীত ওলামা, শুহাদা এবং অন্যান্য মু’মুমিনগণও করবেন।
৪। চতুর্থ সুপারিশ হবে ঐ সকল গোনাহগারদের জন্য যাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করা হয়েছে তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য আরজ পেশ করা হবে। আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং ফেরেশতাগণ এজন্য সুপারিশ করবেন।
৫। পঞ্চম সুপারিশ করা হবে যাদেরকে বেহেশতে দাখিল করা হয়েছে তাদের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়ার জন্য।
ইসলাম ডেস্ক :
১. প্রশ্ন : বাসর রাতে নববধু কিভাবে সজ্জিত হবে?
উত্তর : নববধু মেহেদি ব্যবহার করবে, অলংকার পরবে এবং সধ্যমত শরীয়ত সম্মত উপায়ে সেজেগুজে উত্তম পোশাক-পরিচ্ছেদে সজ্জিত হবে। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)
২. প্রশ্ন : বাসর ঘরে প্রবেশ করে কোন নামাজ পড়বে কি না?
উত্তর : পুরুষ বাসর ঘরে প্রবেশ করতঃ নববধুকে সহ দুই রাকআত (শুকরানা) নামায পড়বে। (দেখুন- শিরআতুল ইসলাম, আহকামুল ইসলাম)
৩. প্রশ্ন : নামায পড়ার পর কি করবে?
উত্তর : অতঃপর স্ত্রীর কপালের উপরিস্থিত চুল ধরে বিসমিল্লাহ বলে এই দুআ পাঠ করা সুন্নাত-(বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা যুবিলাত আলাইহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি হা ওয়া শাররি মা যুবিলাত আলাইহি) (দেখুন- ইমাদাদুল ফাতওয়া, আহকামুল ইসলাম)
৪. প্রশ্ন : বাসর ঘরে ঢুকে নামায ও দোয়া পড়ার পর আর কোন আমল আছে কি না?
উত্তর : বিভিন্ন ইসলামী কিতাবে বাসরঘরে ঢুকে উপরোক্ত আমলগুলো করতে বলা হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মত নিজেরা পরিচিত হতে থাকবে। তবে প্রথমে স্বামী মহর বিষয়ক আলোচনা করে নিবে। তা পূর্ণ আদায় না করে থাকলে স্ত্রী থেকে সময় চেয়ে নিবে। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম)
৫. প্রশ্ন : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্বপ্রথম কি করতে হবে?
উত্তর : সংগম শুরু করার পূর্বে সর্ব প্রথম নিয়ত সহীহ করে নেয়া; অর্থাৎ, এই নিয়ত করা যে, এই হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূর্ণ করার দ্বারা হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তৃপ্তি লাভ হবে এবং তার দ্বারা কষ্ট সহিষ্ণু হওয়া যাবে, ছওয়াব হাছেল হবে এবং সন্তান লাভ হবে। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী, আহকামুল ইসলাম)
৬. প্রশ্ন : অনেকে বলে বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা অনুচিত, কথাটি ঠিক কি না?
উত্তর : না, এধরণের কথা ঠিক নয়, এ সময় যে কোন উপভোগের জন্য স্বামী-স্ত্রী পূর্ণ স্বাধীন। তারা সন্তুষ্টচিত্তে যে কোন কাজ করতে পারে। তবে অবশ্যই প্রথমরাত হিসেবে একে অপরের চাহিদার প্রতি লক্ষ রাখা উচিত। (সূত্র- আহকামুল ইসলাম, আহমাকে জিন্দেগী)
৭. প্রশ্ন : সংগমের শুরুতে কোন দোয়া পড়তে হবে?
উত্তর : সংগমের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে কার্য শুরু করা। তারপর শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া। উভয়টিকে একত্রে এভাবে বলা যায়- বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা। অর্থ : আমি আল্লাহর নাম নিয়ে এই কাজ আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ, শয়তানকে আমাদের থেকে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদের দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)
৮. প্রশ্ন : সংগমের বিশেষ কিছু আদব ও বিধি-নিষেধ জানতে চাই?
উত্তর : সংগমের কিছু আদব ও নিয়ম নিন্মরূপ- কোন শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত না হওয়া, পর্দা ঘেরা স্থানে সংগম করা, সংগম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার (চুম্বন, স্তন মর্দন ইত্যাদি) করবে। বীর্য, যৌনাঙ্গের রস ইত্যাদি মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় রাখা, সংগম অবস্থায় বেশী কথা না বলা, বীর্যের ও স্ত্রীর যৌনাঙ্গের প্রতি দৃষ্টি না করা, সংগম শেষে পেশাব করে নেয়া, এক সংগমের পর পুনর্বার সংগমে লিপ্ত হতে চাইলে যৌনাঙ্গ এবং হাত ধুয়ে নিতে হবে, বীর্যপাতের পরই স্বামীর নেমে না যাওয়া বরং স্ত্রীর উপর অপেক্ষা করা, যেন স্ত্রীও তার খাহেশ পূর্ণ মাত্রায় মিটিয়ে নিতে পারে, সংগমের পর অন্ততঃ বিছুক্ষণ ঘুমানো উত্তম, জুমুআর দিনে সংগম করা মুস্তাহাব, সংগমের বিষয় কারও নিকট প্রকাশ করা নেষেধ, এটা একদিকে নির্লজ্জতা, অন্যদিকে স্বামী/স্ত্রীর হক নষ্ট করা, সংগম অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে নজর না দেয়া, তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি দয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)
৯. প্রশ্ন : কোন কোন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংগম করা যাবে না?
উত্তর : নিম্নোক্ত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংগম করা যাবে না। স্ত্রীর মাসিক বা প্রসবকালীন স্রাব চলা কালে। এতেকাফ অবস্থায়। রোজার দিনের বেলায়। এহরাম অবস্থায়। স্ত্রীর পিছনের রাস্তা দ্বারা। (দেখুন- স্বামী-স্ত্রীর মধুর মিলন, আহকামে জিন্দেগী)
১০. প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীর যোনীর দিকে নজর দেয়া যাবে কি না
উত্তর : সংগম অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে নজর না দেয়া। তবে হযরত ইবনে ওমর (রা.) সংগম, অবস্থায় স্ত্রী-যোনীর দিকে দৃষ্টি দয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন। (সূত্র – শরহুন নুকায়া ও হিদায়া)
১১. প্রশ্ন : বীর্যপাতের সময় কোন দোয়া পড়বে?
উত্তর : বীর্যপাতের সময় নিম্নোক্ত দুআটি পড়বে- বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা তাজআল লিশ্শাইতানি ফিমা রাযাকতানী নাসীবান। অর্থ : হে আল্লাহ, যে সন্তান তুমি আমাদেরকে দান করবে তার মধ্যে শয়তানের কোন অংশ রেখ না। (দেখুন- আহকামে জিন্দেগী)
১২. প্রশ্ন : সংগম অবস্থায় স্ত্রীর যোনী স্বামী চোষতে পারবে কি না? এবং স্বামীর লিঙ্গ স্ত্রী চোষতে পারবে কি না?
উত্তর : সংগম অবস্থায় স্বামী স্ত্রী একে অপরের লজ্জাস্থানকে চোষা এবং মুখে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ, এবং মাকরুহ ও গুনাহের কাজ। এটা কুকুর, গরু, বকরী ইত্যাদি প্রানীর স্বভাবের মত। তাই এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। চিন্তা করে দেখুন যে মুখে পবিত্র কালিীমা পড়া হল, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয়, দরুদ শরীফ পড়া হয়, তাকে এমন নিকৃষ্ট কজে ব্যবহার করতে মন কিভাবে চায়। তাই এ কাজ মুমিনের কাজ হতে পারে না। (দেখুন- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ও ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, আহকামে জিন্দেগী)
১৩. প্রশ্ন : দাঁড়িয়ে সহবাস করা যাবে কি না?
উত্তর : হ্যাঁ, দাঁড়িয়েও সহবাস করা যাবে। যারা বলে দাঁড়িয়ে সহবাস করা যায় না তাদের কথা ঠিক নয়। তাই ঐ কথায় কান দেয়া যাবে না। (দেখুন- ইতহাফুস সাদাতিল মাত্তাকীন, আল কাউসার, আহকামে জিন্দেগী)
গ্রন্থনা ও সম্পাদনায় : মাওলানা মিরাজ রহমান ( প্রিয়.কম)
ঢাকা: রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। বিশেষ করে ইফতারের সময়। কারণ ইফতারের সময়টা হলো বিনয় ও ধৈর্য্য ধারণের চরম মুহূর্ত। তাই ইফতার করার পর এ দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত-
ذهب الظمأ وابتلت العروق وثبت الأجر إن شاء الله
অর্থ: পিপাসা নিবারণ হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কার নির্ধারিত হলো। -বর্ণনায়: আবু দাউদ
ইফতারির সময়টা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার একটা সুযোগ। এ সময়টা যেন বৃথা না যায় এদিকে খেয়াল রেখে সময়টাকে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। দোয়া কবুলের এ চমৎকার সময় সম্পর্কে আল্লাহ নিজে ওয়াদা করেছেন। তাই ইফতারের সময় অন্তর দিয়ে দোয়া-প্রার্থনা করা এবং যা কিছু দোয়া কবুলের অন্তরায় তা থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। যেমন- হারাম বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত খাদ্য গ্রহণ। আল্লাহ বলেছেন-
وا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ ي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُ وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّ
অর্থ: আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো নিকটেই। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দেই। সুতরাং তারা আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক যাতে তারা ঠিক পথে চলতে পারে। (সূরা আল-বাকারা: ১৮৬)
ইফতারের আগে যখন আজান হয় তার পরের সময়টাও দোয়া কবুলের সময়। হাদিসে এসেছে প্রতি আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া কবুল হয়।
মুফতি আমজাদ হোসাইন
পবিত্র রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি রুকনের অন্যতম একটি। যার রয়েছে অসংখ্য-অগণিত ফজিলত। এই ফজিলত পাওয়ার জন্য প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতির। দুনিয়াবি কোনো কাজ সম্পাদন করতে হলে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করি। যার পূর্ব প্রস্তুতি বেশি থাকবে তার কাজ পূর্ণরূপে সম্পাদিত হবে। যার প্রস্তুতি কম থাকবে বা একেবারেই থাকবে না তার কাজ পূর্ণরূপে সম্পাদিত হবে না এবং তার মাকসুদও পুরা হবে না। এমনটিই স্বাভাবিক। রমজানের রোজার ফজিলত যেহেতু অপরিসীম, তাই তার পূর্ব প্রস্তুতিরও একান্ত প্রয়োজন। ২ জুন পবিত্র লাইলাতুল বরাতে ইবাদত ও পরের দিন রোজা রাখার মাধ্যমে রমজানের ইবাদতের রিহার্সেল হয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন পূর্ণ প্রস্তুতির। পবিত্র রমজানের রোজা সম্পর্কে কোরআনে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, হে ইমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারা : ১৮৩) আলোচ্য আয়াতে সিয়াম-সাধনার বিধান বর্ণনা করার পর বান্দাকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, রোজা শুধু তোমাদের ওপরই ফরজ করা হয়নি। বরং তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপরও ফরজ ছিল। যাতে করে তোমাদের কাছে রোজা রাখার বিধানটি সহজ মনে হয় এবং নতুন কোনো বিধান নয় তাও পরিষ্কার হয়। আয়াতের শেষাংশে রোজার ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাকওয়া বা পরহেজগারির শক্তি অর্জন করার ব্যাপারে সিয়াম-সাধনার ভূমিকা বর্ণনাতীত। তাকওয়া বা পরহেজগারিতা অর্জিত হয় আত্দশুদ্ধির মাধ্যমে। মুসলিম শরিফের এক হাদিসে এসেছে, রসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মানুষের ভিতরে একটি ক্ষুদ্রতম গোশতের টুকরা আছে, যদি এই ক্ষুদ্রতম টুকরাটি ঠিক থাকে তাহলে পুরো শরীর ঠিক থাকে। আর এই ক্ষুদ্রতম টুকরা যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। এই ক্ষুদ্রতম টুকরাটির নাম কলব বা অন্তর’। মিশকাত শরিফের ৫১৪৭নং হাদিস, ‘হজরত হোজাইফাতুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের অন্তরে ফিতনাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করে, যেমন- অাঁশ একটির পর আরেকটি বিছানো হয়ে থাকে এবং যে অন্তরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে তা প্রবেশ করে তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে (ফিতনা) স্থান দেয় না। তাতে একটি সাদা দাগ পড়ে। ফলে মানুষের অন্তরসমূহ পৃথক দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এক প্রকারের অন্তর হলো, মর্মর পাথরের মতো শ্বেত, যাকে আসমান ও জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত অর্থাৎ কেয়ামত পর্যন্ত কোনো ফিতনাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হলো কয়লার মতো কালো। যেমন- উপুড় হওয়া পাত্রের মতো, যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো জানার এবং মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখে না। ফলে কেবল তাই গ্রহণ করে, যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা হয়।’ বস্তুত গুনাহ বা অন্যায় একটি ময়লা বা কালো দাগের মতো। কাপড়ে কোনো দাগ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। অন্যথায় ময়লা পড়তে পড়তে এক সময় জমাট বেঁধে যায়। তখন তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পবিত্র রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতে অন্তর হবে ইমানের নূরে নূরান্বিত। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের আগে রোজা রাখার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা।
ইসলাম ডেস্ক :
মানুষের জীবনের দু’টি অধ্যায়, একটি দুনিয়ার জীবন অপরটি আখেরাতের জীবন। দুনিয়ার জীবনে যা আমল করবে তার প্রতিদান আখেরাতের জীবনে পাবে। যে দুনিয়ায় ভালো কাজ করবে, সে আখেরাতে এর উত্তম প্রতিদান পাবে, আর যে মন্দ কাজ করবে সেও এর বদলা পাবে।
আমরা জানি, মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার আমল করার কোনো ক্ষমতা থাকে না। তার সব আমল থেকে যায়। কিন্তু এমন কিছু আমল রয়েছে যেগুলো দুনিয়ার জীবনে করলে মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তি কবরেও সে আমলের সওয়াব পেতে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে হয়েছে, আমিই তো মৃতকে জীবিত করি, আর লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা পিছনে রেখে যায়। আর প্রতিটি বস্তুকেই আমি সুষ্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করে রেখেছি। -সূরা ইয়াসিন : ১২
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩টি আমল বন্ধ হয় না- ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. এমন জ্ঞান (ইলম)- যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় ও ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দোয়া করে।– সহিহ মুসলিম : ৪৩১০
যেসব আমলের সাওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকবে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :
জ্ঞান শিক্ষা দেয়া : এমন ইলম (জ্ঞান) শিক্ষা দেয়া যা মানুষের জন্য উপকারী এবং কল্যাণকর। যে ইলম মানুষকে হেদায়েতের দিকে নিয়ে যায়। মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয় এবং জান্নাতের পথে চলতে নির্দেশ করে। এ ধরনের ইলম শিক্ষা দেয়ার কারণে মৃত ব্যক্তি কবরে এর সওয়াব পাবেন। কোরআন, হাদিস, তাওহিদ, আথেরাত, হালাল-হারাম, বিভিন্ন মাসয়ালা-মাসায়েল শিক্ষা দেয়া, মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান শিক্ষা দেয়া এবং দুনিয়া পরিচালনা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দেয়া এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে মানুষকে কোনো ইলম শিক্ষা দিবে, সে ওই ইলম অনুযায়ী আমলকারীর সমতুল্য প্রতিদান পাবে; অথচ আমলকারীর প্রতিদানে কোন কমতি হবে না।- ইবনে মাজা
সু-সন্তান রেখে যাওয়া : সু-সন্তান বলতে ঈমানদার সন্তান রেখে যাওয়া। যারা মাতা-পিতা বেঁচে থাকা অবস্থায় তাদের অনুগত যেমনটি ছিল, তাদের মৃত্যুর পরও তারা মাতা-পিতার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আবু উমামাতা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর ৪টি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে- ১. যে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিল তার সওয়াব, ২. ভালো কাজ চালু করার ফলে তাকে যারা অনুসরণ করল তার সওয়াব, ৩. যে ব্যক্তি এমন সদকা করলো, যা প্রবাহমান থাকে তার সওয়াব, ও ৪. এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া- যে তার জন্য দোয়া করে। -মুসনাদ আহমাদ : ২২২৪৭
মসজিদ নির্মাণ ও কোরআনে কারিম বিতরণ করা : কোরআনে কারিমে মসজিদকে হেদায়েতের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ তৈরি করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করবেন। -সহিহ মুসলিম : ১২১৮
অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি কোরআনে কারিম কোনো মসজিদ, মাদরাসা বা কোনো প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করে, ওয়াকফ করে এবং সেগুলো পড়ে তবে তার সওয়াবের একটি অংশ সে পাবে। অন্য এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর কবরে ৭টি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে- ১. যে ইলম শিক্ষা দিল, ২. যে পানি প্রবাহিত করল, ৩. কূপ খনন করল, ৪. খেজুর গাছ লাগালো (গাছ রোপন), ৫. মসজিদ তৈরি করল, ৬. কোরআনে কারিম বিতরণ করল ও ৭. এমন নেক সন্তান রেখে গেল- যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। -মুসনাদুল বাজ্জার :৭২৮৯
গাছ লাগানো : হজরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি কোনো বৃক্ষরোপণ করে, আর তা থেকে কোনো ফল ব্যক্তি খায় তবে সেটি তার জন্য সদকা, কোনো হিংস্র প্রাণী খেলেও তা তার জন্য সদকা, যদি কেউ চুরি করে খায় তাও তার জন্য সদকা, কোনো পাখিও খায় তাও তার জন্য সেটি সদকা। এমনকি যদি কেউ তা কেটে ফেলে তাও সেটি তার জন্য সদকা। -সহিহ মুসলিম : ৪০৫০
এছাড়া অভাবগ্রস্তদের জন্য ঘর তৈরি করে দেয়া, খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করা, সীমান্ত রক্ষা করা, প্রবাহিত পানির ব্যবস্থা করা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়া দ্বীনী কিতাবাদী রচনা করা।
মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকার বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে মানুষকে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের সওয়াব থেকে কোনো কমতি হবে না। -সহিহ মুসলিম : ৬৯৮০
ইসলাম ডেস্ক : মানুষ হিসেবে আমরা সমাজে বাস করি। সমাজ ছাড়া মানুষের জীবন অচল। জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং জীবিকা নির্বাহের তাগিদে প্রাচীন যুগ থেকে সমাজব্যবস্থা চালু হলেও কালক্রমে সমাজের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়ে চলছে। তাই মানুষ এখন একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র চায়। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষ একটি সুখী সমৃদ্ধ সমাজ প্রত্যাশী। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সমাজ চাইলেই তো আর হবে না, এ জন্য সমাজে বসবাসরত সবাইকেই কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। এটাই ইসলামে বিধান ও শরিয়তের হুকুম। সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক দায়-দায়িত্বের অর্ন্তভুক্ত একটি দায়িত্ব ও বিধান হলো, পরস্পরে সম্মান প্রদর্শন। এ প্রসঙ্গে হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যারা বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করে না, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ একটি সুন্দর সমাজ গঠনে এ গুণটি সবার মেনে চলা উচিত।
একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে উপরোল্লিখিত হাদিসের আলোকে আমাদের আচরণ পরিশূদ্ধ হওয়া দরকার। হাল সময়ে দেখা দেখা যায়, আমাদের সমাজ নানাভাগে বিভাজিত হয়ে আছে। ফলে হিংসা-বিদ্বেষ, দলাদলি, খুন-খারাবী লেগেই আছে। অবস্থার এমন অবনতি হয়েছে যে, নিজ দলের, নিজ ধর্মের লোক না হলে তাকে সালাম বা শুভেচ্ছা জানাতেও আমরা কুণ্ঠাবোধ করি। কিন্তু নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী যদি আমরা জীবন-যাপন করতাম তাহলে বিভাজনের এক ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে আমরা রক্ষা পেতাম। নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী যদি আমরা বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করতাম, তাহলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে হিংসা-বিদ্বেষ, খুন-খারাবী অনেকাংশে কমে যেতো। বয়সে যেই বড় হোক না কেন আমি তাকে সম্মান করবো। তিনি যদি অমুসলিম হন, যদি বিরোধী দলের নেতাকর্মী হন অথবা সমাজের দুর্বল শ্রেণীর কোনো লোক হন। মোট কথা, তিনি যেই হোন না কেন, আমার বয়সের বড় হলেই আমি তাকে সম্মান করবো, সালাম দেবো, তার প্রতি সৌজন্যতা দেখাবো। আর আমার চেয়ে বয়সে ছোট হলে তাকে স্নেহ করবো, ভালো উপদেশ দেবো।
এভাবে যদি আমরা পরস্পরে আমাদের আচার-আচরণ ও ব্যবহারকে সংশোধন করে নেই, তাহলে সমাজের অশান্তিময় পরিবেশ কেটে যাবে, একটি সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। আমাদের সমাজে শিক্ষার হার পূর্বের তুলনায় বেশ বেড়েছে, অর্থনৈতিকভাবে আমরা আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ হয়েছি। কিন্তু আমাদের আচার-আচরণে উন্নতি হয়নি। যার কারণে এক ধরনের ভীতি ও অস্থিরতার মধ্যে জীবন-যাপন করতে হয়। এমতাবস্থায় নিজেদের স্বার্থেই আমাদের আচরণ সংশোধন করতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধগুলো আঁকড়ে ধরতে হবে। তবেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশের মানুষ এমনি একটি সুন্দর সমাজের জন্য অপেক্ষা করছে। বস্তুত যারা সুন্দর সমাজ চান, জীবনের নিরাপত্তা চান, শান্তিময় সমাজ কামনা করেন- তিনি মুসলিম অথবা অমুসলিম হন, নারী বা পুরুষ হন, শিক্ষিত বা নিরক্ষর হন, ধনী বা দরিদ্র হন সবাই সামাজিক মূল্যবোধের এই উপলব্ধি হৃদয়ঙ্গম করে নিজ নিজ জীবনে বাস্তবায়িত করতে পারি- তাহলেই একটি সুন্দর, শান্তিময় সমাজ আমরা গড়ে তুলতে পারবো- ইনশাআল্লাহ।
‘আল্লাহুম্মা আমিন…আমাদের শান্তি দাও’
সিলেট: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শবে বরাত। মঙ্গলবার সারারাত ইবাদত বন্দেগির মধ্যে কাটিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। মসজিদে মসজিদে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থনায় কাটিয়েছেন অনেকেই। ‘আল্লাহুম্মা আমিন…আমাদের শান্তি দাও। আল্লাহুম্মা আমিন… আমরা শান্তি চাই। এ দেশের মানুষ শান্তি চায়। আমাদের শান্তি দাও হে আল্লাহ…’ এমনই কথা উচ্চারিত হয় সবার প্রার্থনায়।
ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায় প্রতিবছরই দিনটি পালন করে। নানা আয়োজন আর আনুষ্ঠানিকতাও থাকে দিনটি ঘিরে।
নিরাপত্তা বলয়: পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সিলেট নগরীর মাজারগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ রাতে মাজারগুলোতে বিপুল লোকের সমাগম হওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছিল।
বাহারি রুটি-হালুয়া: শবে বরাতে নগরীর হোটেলগুলোতে সুজি, ছোলা-বুট, গাজর, ময়দা, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়ার হালুয়াসহ অনেক পদের হালুয়া তৈরি করা হয়। সঙ্গে ছিল বড় বড় রুটি।
শাহজালাল মাজার রোডের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আল-কবির বলেন, ‘শবে বরাত উপলক্ষে নগরে রুটি-হালুয়া খাওয়া এবং তা বিলি করার প্রচলন আছে, যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।’
আরেক ব্যবসায়ী সোহেল ইসলাম বলেন, ‘শবে বরাতের দিন বিকেল থেকেই ভিক্ষুকদের খাবার বিতরণ করা হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী আটা বা ময়দার রুটি বিলি করা হয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।’
টুপি আতরের দোকানে ভিড়: শবে বরাত উপলক্ষে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল নগরীর টুপি-আতর বিক্রেতাদের দোকানে। এ দিনটি যাতে ভালোভাবে আদায় করতে পারে তাই টুপি কিনতে ব্যস্ত নগরবাসীর অনেকেই ছুটে আসে নগরীর দোকানগুলোতে। এমনকি রাত ১১টার পর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আশপাশের এলাকায় রাস্তায় বসে ভ্রাম্যমান টুপি, আতর, মমবাতি ও আগরবাতির দোকান।
টুপি বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, শবে বরাতের দিন যত টুপি বিক্রি করেন, একমাসেও অনেকসময় ততো বিক্রি করা সম্ভব হয় না। টুপির পাশাপাশি আতর আর তসবির বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
এছাড়ও নগরীর মাজার ও মসজিদগুলোর সামনের রাস্তার পাশের ভ্রাম্যমান চটপটি ও ফুচকার দোকানগুলোতেও ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বাসায় হরেক রকম খাবার খাওয়ার পরও অনেকেই ফুচকা চটপটির লোভ সামলাতে পারেননি।
ঝলমলে আলোর নগরী: সন্ধ্যার পর থেকেই নজর কাড়ে ঝলমলে আলোর উজ্জ্বলতা। নগরীর বিভিন্ন দোকান সাজানো হয় রঙিন আলোর বাতি দিয়ে। নজরকাড়া এসব আলোর ছোঁয়া দেখা গেছে নগরীর বিভিন্ন মাজারগুলোতেও। শবে বরাত উপলক্ষে এমন বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
মাজার- মসজিদে উপচেপড়া ভিড়: সিলেট নগরীর রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকলেও উল্টো চিত্র দেখা গেল মাজার ও মসজিদগুলোতে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটে এসেছেন মাজারভক্তরা। তারা ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.), তার ভাগ্নে হযরত শাহ পরান (রহ.), সিলেটের প্রথম মুসলমান হযরত বোরহানউদ্দিন (রহ.) সহ অন্যান্য ওলি-আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করছেন।
জানা গেছে, শবে বরাতে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা লাভের উদ্দেশে মাজার ও কবরস্থানে মানুষের ভিড় শুরু হয় মঙ্গলবার সকাল থেকেই। কাছের মানুষটির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মুক্তির জন্য দোয়া করেন স্বজনরা। সিলেট নগরীর মাজার ও কবরস্থানগুলোতে বিভিন্ন বয়েসী স্বজনদের যেতে দেখা গেছে সারাদিনই। এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে আসেন অনেকেই।
শবে বরাতের রাতে নগরীর হযরত শাহাজালাল (রহ.), হযরত শাহপরান (রহ.), হযরত শাহ তৈয়ব সয়লা (রহ.), হযরত হাফিজ বুলবুল (রহ.), হযরত মানিক পীর (রহ.), হযরত শাহ সুন্দর (রহ.) ও হযরত বোরহান উদ্দিনের মাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.) এর মাজারে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সন্ধ্যার পর থেকেই মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইবাদত করতে দলে দলে মাজারে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা।
হযরত শাহজালাল মাজার জিয়ারত করতে কুমিল্লা থেকে আসেন আজমত আলী। তিনি বলেন, ‘মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছি। শাহজালাল-শাহপরান (রহ.) এর উসিলায় আল্লাহ যাদি আমাকে মাফ করে দেন তা হলে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাব। তাই বাবার মাজারে এসেছি।’
নগরীর কাজিটুলার বাসিন্দা সোহেল হোসেন তার ভাই ও ভাতিজাকে নিয়ে শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন রাত ১০টায়। এ সময় মাজারের পাশে দাঁড়িয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সোহেলের ভাতিজা রাকিব বলেন, ‘আমরা পরিবারের সকলের জন্য দোয়া করতে প্রতিবছর শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত করি।’
ভিক্ষুকদের উপস্থিতি: দিনটিকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে বেড়েছিল ভিক্ষুকদের উপস্থিতি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভিক্ষুকরা বেশি ভিক্ষা পাওয়ার আশায় এখানে এসে ভিড় জমায়। নগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও মাজারের পাশে তাদের ভিক্ষার ঝুলি বিছিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।
বিশেষ এ দিন উপলক্ষে অন্যান্য দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভিক্ষা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ভিক্ষুক আজগর আলী। তিনি বলেন, ‘সিলেটি মানুষের মন নরম। চাইলেই টাকা দেয়।’
ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে ভিক্ষা করতে এসেছেন মো. সুজন মিয়া। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, অধিক ভিক্ষা পাওয়ার আশায় তিনি গত বুধবার সিলেটে এসেছেন। তিনি ৩ দিনে প্রায় ৫ হাজার টাকা ভিক্ষা করেছেন। তবে আজ বুধবার তিনি আবার ঢাকা ফিরে যাবেন বলে জানান।
কেন ঢাকা ছেড়ে সিলেটে ভিক্ষা করতে আসেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিলেটের রাস্তা-ঘাট বড় বড়। কিন্তু ঢাকার রাস্তাগুলো অনেক ছোট। ভিক্ষা করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। আর সিলেটের মানুষের টাকা বেশি এবং তাদের মন নরম। চাইলে ফেরায় না।’
আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শবে বরাত: ‘আল্লাহুম্মা আমিন…আমাদের শান্তি দাও। আল্লাহুম্মা আমিন… আমরা শান্তি চাই। এ দেশের মানুষ শান্তি চায়। আমাদের শান্তি দাও হে আল্লাহ…’ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেট শাহজালাল (রহ.) এর মাজার মসজিদে আখেরি মুনাজাতে এমনই প্রার্থনা উচ্চারিত হয় সবার মুখে। সৃষ্টি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশের। মুসুল্লিরা আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ যেন প্রভুর কাছে নিজেকে সঁপে দেয়ার অনন্য দৃশ্য। জীবনের সব অন্যায় ও মন্দ কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে মুসুল্লিরা ভালো পথে চলার অঙ্গীকার করেন আল্লাহর কাছে।
মুনাজাতে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা আসশাদ আহমদ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, ‘আমাদের এই দেশটাকে কবুল করে নাও খোদা। দেশের মানুষের মাঝে শান্তি এনে দাও। সকল প্রকার বিপদ থেকে আমাদের মুক্ত রাখো।’
একই রকম কান্নার দৃশ্য দেখা যায় সিলেটের প্রতিটি মসজিদ ও মাজারেও।
হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা,) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা,) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহতায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতিত সবাইকে ক্ষমা করে দেন। -ইবনে হিব্বান, হাদিস- ৫৬৬৫
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত আলা ইবনুল হারিছ (রহ.) থেকে বর্ণিত, উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে, আমার আশঙ্কা হলো- তার হয়তো ইন্তেকাল হয়ে গেছে। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বলেছেন, ও হুমায়রা! তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। নবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। তিনি তখন বললেন, এটা হলো- অর্ধ শাবানের রাত। (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহতায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি প্রদান করেন, ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। -শুআবুল ঈমান অধ্যায়, বায়হাকি- ৩/৩৮২,৩৮৩
এ রাতকে অন্য সব সাধারণ রাতের মতো মনে করা এবং এ রাতের ফজিলতের ব্যাপারে যত হাদিস এসেছে তার সবগুলোকে ‘মওজু’, ‘যয়িফ’- দূর্বল মনে করা যেমন ভুল; তেমনি এ রাতকে শবেকদরের মতো বা তার চেয়েও বেশি ফজিলতপূর্ণ মনে করাও একটি ভিত্তিহীন ধারণা। শবেবরাত নিয়ে বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি কোনোটিই উচিত নয়। যতটুকু ফজিলত প্রমাণিত এ রাতকে ততটুকুই গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং এ কেন্দ্রিক সকল রসম-রেওয়াজ পরিহার করা উচিত।
শবেবরাতে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মোমিন-মুসলমানরা বিভিন্ন আমল করে থাকেন। আলেমরা শবেবরাতে যে সব আমলের কথা বিশেষভাবে বলেছেন, সেগুলো হলো—
নফল নামাজ : শবেবরাতের অন্যতম আমল হলো নফল নামাজ আদায় করা। তবে শবেবরাতের নফল নামাজের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। অন্য সময়ের মতোই নফল নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে যত রাকাত ইচ্ছা এবং যে কোনো সূরা দ্বারা আদায় করতে পারবেন।
কোরআন তেলাওয়াত : শবেবরাতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা। হাদিসে বলা হয়েছে কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে সর্বোত্তম জিকির। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, লোহায় পানি লাগলে যেমন মরিচা পড়ে, তেমনি গুনাহ করতে করতে মানুষের অন্তরে কালো কাল দাগ পড়ে যায়। নবী (সা.)-এর এ উক্তি শ্রবণ করে সাহাবাদের মধ্য থেকে একজন আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। কীভাবে অন্তরের সে দাগগুলো বিদূরিত করা হবে? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, মৃত্যুকে খুব বেশি করে স্মরণ করা আর কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করা। এছাড়া কোরআন শরিফ তেলাওয়াতের সওয়াবও অসীম।
তওবা-ইস্তেগফার : শবেবরাতে জীবনের কৃত গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, নফসের প্রলোভনে ও শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কোনো বান্দাহ গোনাহের কাজ করে ফেলার পর যদি আল্লাহর দরবারে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। ফলে সে এরূপ হয়ে যায়, যেন সে আদৌ কোনো পাপ করেনি। পবিত্র এ রাতে তাই আমাদের বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার পড়তে হবে।
কবর জিয়ারত : কবরস্থানে গিয়ে মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করা এবং তাদের পরকালীন কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং এ আমল করেছেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে আমরা পাই যে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) শবেবরাতে জান্নাতুল বাকি নামক কবরস্থানে তাশরিফ নিয়ে মৃতদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেছেন।
হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) ও হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তারা উভয় বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যদি এমন কোনো ব্যক্তি মৃতের কবরের পাশে উপস্থিত হয় (যার সঙ্গে মৃতের জীবিত থাকা অবস্থায় পরিচয় ছিল) এবং তাকে সালাম জানায় তাহলে মৃত ব্যক্তি তখনও তাকে চিনতে পারে এবং তার সালামের উত্তর দিয়ে থাকে। এমনকি দুনিয়ায় তার সঙ্গে পরিচয় না থেকে থাকলেও তার এ জিয়ারতে মৃত সন্তুষ্ট হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মুফতি মো. আব্দুল্লাহ-এর গবেষণার বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়েছিল মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় জায়েজ নয়। এ ফতোয়া দেয়ার পর দেশের আলেম ওলামাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় অবস্থান বদল করেছে ইফা। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে ওই ফতোয়া ফাউন্ডেশনের নয়। এটি মুফতি আবদুল্লাহ’র ব্যক্তিগত মত। এ বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে ইফার পক্ষ থেকে।
আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পত্রিকায় মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া বা না পড়ার বিষয়ে যে ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বক্তব্য নয়। এটা হয়তো তার ব্যক্তিগত (মুফতি আবদুল্লাহ) মতামত। এ বিষযে ব্যাপক পর্যালোচনা ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য দেশের প্রখ্যাত ও বিজ্ঞ আলেম, মুফতি, মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণকে নিয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্ণরস-এর সভায় অনুমোদিত হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অতি শীঘ্র তা জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করা হবে।
ইসলাম ডেস্ক : হযরত ইবরাহীম আঃ কে যখন আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য নমরুদ ৮ মাইলপরিমান জায়গা আগুন জ্বালালো , তখন একটা নতুন সমস্যা দেখা দিল।
আগুনের উত্তাপ এতই বেশি ছিল যে তার কাছে পৌছানো যাচ্ছিল না। তাই একটা চরক বানানো হল যার মাধ্যমে ইবরাহীম (আঃ) কে ছুড়ে আগুনে নিক্ষেপ করা যায়।
কিন্তু রহমতের ফেরেশতা রা চরকের একপাশে ভর করে থাকায় চরক ঘুরানো যাচ্ছিল না।
তখন শয়তান নমরুদকে কুবুদ্ধি দিল কিছু নগ্ন মেয়ে(পতিতা) এনে চরকের সামনে বসিয়ে দিতে, কারন এ অবস্থায় ফেরেশতারা থাকতে পারবে না। তাই করা হল এবং ফেরেশতারা চলে গেল, ইবরাহীম (আঃ) কে আগুনে নিক্ষেপ করতে তারা সক্ষম হলেন।
পরবর্তিতে ঐ মেয়েগুলোকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দান করা হল এবং তাদের মাথায় তীলক পরানো হল। যেটা এখন আমাদের কাছে টিপ নামে পরিচিত।
অতএব যারা বলে— মহিলাদের সৌন্দর্য সব জায়গায় এবং এই দোহাই দিয়ে টিপ কে নিজেদের জন্য বৈধ মনে করেন, তারা যুগযুগ ধরে নিজেদের কোন পরিচয় বহন করছেন তা একবার ভেবে দেখবেন ?
পতিতার পরিচয় বোঝানোর জন্য যে টিপ ব্যবহার করা হত, তা আজ আমাদের উপমহাদেশে ফ্যাশন! ওহে! মুসলিম নারীরা, এই সত্য কথাটা জানার পর ও কি আপনি আপনাদের কপালে টিপ পড়বেন??
সূত্রঃ
* তাফসীরে মা-রেফুল কুরআন, হযরত ইবরাহিম (আঃ) মূলগ্রন্থ।
* তাবারী, তারীখ, ১খ, ১২৩-১২৪; ছালাবী
* আদি গ্রন্থ, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠাঃ ৮১, আদি ইসলামী ইতিহাস
* ইবনে কাসীর
আমাদের আরো একটি ফ্যান পেজে লাইক দিতে পারেন, যারা চাকুরী চান এবং তা বেকারদের কাজে আসতে পারে।